হিলি স্থলবন্দরে রপ্তানি খাতে আয় হয়েছে ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার

    0
    12

    হিলি (দিনাজপুর), ০২ জুন : বাণিজ্য ভিত্তিক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানী খাতেই শুধু বছরে কোটি কোটি ডলার আয় করা সম্ভব। কিন্তু, কাগজীয় জটিলতা ও সুযোগ সুবিধার অভাবে কিছুটা হলেও ঝিমিয়ে পড়েছে এখানকার রপ্তানি কার্যক্রম। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
    ১৯৮৬ সাল থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানী- রপ্তানী বাণিজ্য শুরু হয়। বন্দরের গতি বৃদ্ধি ও সরকারের রাজস্ব বাড়াতে ২০০৭ সালে এটিকে বে-সরকারী খাতে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমদানী খাতে এর গতি বৃদ্ধি পেলেও কাগজীয় জটিলতা ও সুযোগ সুবিধার অভাবে রপ্তানী খাত কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে।
    চলতি বছরের গেল ১১ মাসে চিটাগুড়, প্লাস্টিক ঝুড়ি, ঝুট কাপড়, তুষের তেল, সিমেন্ট, পানির পাম্প ভারতে রপ্তানি করে ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যা দেশীয় টাকায় ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সমান।
    এদিকে পণ্য রপ্তানিতে স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হয়রানির কথা দৃঢতার সাথে বললেন, হিলি কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানী কারক গ্র“পের আহ্বায়ক হারুন-উর-রশিদ। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে আমরা যদি কোন পণ্য আমদানি করি তখন কোন ঝামেলা আমাদেরকে পোহাতে হয় না। মুহূর্তের মধ্যেই আমরা পণ্য আমদানি করতে পারি। পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য সামগ্রী রপ্তানিতে বেগ পেতে হয় না। তবে স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি দ্রুত সম্পাদন করে দেন তাহলে এই বন্দর দিয়ে রপ্তানি বেড়ে যাবে। সরকারও পাবে বৈদেশিক মুদ্রা।
    স্থানীয় রপ্তানিকারক আমিনুল ইসলাম আমিনার ও কার্তিক দাস অভিযোগ করে বললেন, শুধু বাংলাদেশেই নয় ভারতেও পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকারে পড়তে হয়। ভারতে পণ্য সরবরাহ করে খালি ট্রাক ফেরত পেতে মাঝে মাঝেই ওপার সীমান্তের পার্কিং জটিলতার কারণে ট্রাকগুলো ফেরত আনতে বিলম্ব ঘটে। ফলে ট্রাকপ্রতি গচ্চা দিতে হয় অতিরিক্ত ডিটেনশন চার্জ। বন্দরটি পণ্য আমদানী নির্ভর হলেও রপ্তানি খাতের এই সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি বন্দরের রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন। তাতে রপ্তানী খাতে গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে এমন দাবি রেখে বললেন, হলি কাস্টমস সিএন্ড এফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম আজাদ। চলতি অর্থবছরের ইতিবাচক সাফল্যের কথা স্বীকার করে কাস্টমস সহকারী কমিশনার হুমায়ুন আখতার বললেন- গেল ১১ মাসে তারা রপ্তানি খাত থেকেই আয় করেছেন ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার মার্কিন ডলার। তাতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, বন্দরের রাস্তাঘাট, অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসার ঘটানো হলে ৩ গুনেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এ বন্দর দিয়ে রাজস্ব আয় করা সম্ভব। তাতে বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যাবে। সরকারও পাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here