রানা প্লাজায় যেসব পশ্চিমা কোম্পানির পোশাক তৈরি হতো

    0
    12

    ঢাকা, ২৭ এপ্রিল: সাভারের রানা পস্নাজায় যেসব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ছিল সেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বেশ কয়েকটি নামি কোম্পানির জন্য পোশাক তৈরি হতো। ভবন ধসের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি স্বীকার করেছে, ভবনের ফ্যাক্টরিগুলো তারা ব্যবহার করত।
    এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চিলডেন’স পেস্নস, বেনেটন, ক্যাটো ফ্যাশনস, ম্যাঙ্গো, ব্রিটেনের প্রাইমার্ক, কানাডার লোব্ল-এর মতো বিখ্যাত ব্যান্ডগুলো। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াল-মার্টের নামও এসেছে।
    ব্রিটিশ খুচরা বিক্রেতা প্রাইমার্ক স্বীকার করেছে, তারা ভবনের দ্বিতীয় ফ্লোর ব্যবহার করত। এই মর্মান্ত্মিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রাইমার্ক।
    জো ফ্রেস ব্যান্ডের পোশাক বিক্রিকারী কানাডীয় কোম্পানি লোব্ল জানায়, একটি ফ্যাক্টরিতে ‘কিছু সংখ্যক’ জো ফ্রেস ব্যান্ডের পোশাক তৈরি করা হতো।
    এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, “ভবন ধসের ঘটনায় আমরা খুবই দুঃখিত।”
    রানা পস্নাজার ফ্যাক্টরিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার বিষয়ে নথিপত্র পাওয়া গেলেও বেনেটনের মতো কিছু কোম্পানি অস্বীকার করেছে।
    রানা পস্নাজায় থাকা নিউ ওয়েভ বটমস, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস, ফ্যান্টম ট্যাক ও ইথার টেঙ্টাইল লিমিটেড তাদের ওয়েবসাইটে এসব কোম্পানির কথা জানিয়েছে।
    নিউ ওয়েভ তাদের ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান প্রধান খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলোকে তারা পোশাক সরবরাহ করত।

    ইথার দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিক্রেতা ওয়াল-মার্টকে তারা পোশাক সরবরাহ করত। তবে ওয়াল-মার্ট ইথারের এ দাবি প্রত্যাখান করেছে।
    একটি আন্ত্মর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্ত্মুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শন না করা পর্যন্ত্ম ফ্যাক্টরি মালিকদের ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখতে বলেছিলেন তিনি ও তার কর্মকর্তারা।
    তিনি জোড় দিয়ে বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম ফ্যাক্টরি না খুলতে।
    পশ্চিমা ক্রেতাদের চাপের কারণেই মালিকরা শ্রমিকদের কারখানায় ঢুকতে বাধ্য করতে পারে বলে ধারণা ডারা ও’রম্নরকে নামে এক মার্কিন বিশেষজ্ঞের। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, দেয়ালে ফাটল দেখার পরও ফ্যাক্টরি ব্যবস্থাপকরা ভেবেছিল কাজ না করা ঝুঁকির হবে কেননা সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় খুচরা বিক্রেতাকারীদের পণ্য সরবরাহ করতে হবে।
    তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা ক্রেতারা খুবই কম অর্থ দেয় যার কারণে এসব ফ্যাক্টরি তাদের অগ্নিনিরাপত্তা আর ভবন নিরাপত্তার বিষয়টিকে তেমন গুরম্নত্ব দেয় না।
    তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রানা পস্নাজার ভবন ধসের ঘটনাটি পোশাক খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ফের সামনে এনেছে। পোশাক খাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের যে অগ্রাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত জিএসপি সুবিধা পায় তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশের শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।
    ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বাংলাদেশকে জিএসপি সুযোগ দেওয়া অব্যাহত রাখার কথা জানালেও বৃহস্পতিবার বলেছেন, সাম্প্রতিক বিপর্যয় চলমান (জিএসপি নিয়ে) বিতর্কে প্রভাব ফেলবে। এটি একটি মর্মান্ত্মিক দিন এবং দুঃখের দিন।
    ক্যালভিন ক্লেইন ও টমি হিলফিগারের মূল কোম্পানি পিভিএইচ ও জার্মানির খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি টিচিবো বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়ন ও অগ্নিনিরাপত্তা প্রচেষ্টায় অর্থ সহায়তা দেওয়া সংক্রান্ত্ম একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ওয়ালমার্ট ওই চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিন্তু গত জানুয়ারিতে কোম্পানিটি তাদের পোশাক সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে দ্রত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি সংশোধনের আহ্বান জানায় এবং ঘোষণা দেয়, অননুমোদিত বা অনিরাপদ ফ্যাক্টরিগুলোর সঙ্গে তারা চুক্তি বাতিল করবে।
    তবে দুই সপ্তাহ আগে ওয়াল-মার্ট বাংলাদেশে দুই হাজার ফ্যাক্টরি ব্যবস্থাপককে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে ১৮ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here