রাজধানীতে গুলি টিয়ারসেল গ্রেনেড ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া : আটক ৬

    0
    28

    ঢাকা, ০৫ মে : রাজধানীর পল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজত কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ছে পুলিশ। আকাশে টহল দিচ্ছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। এর আগে ধাওয়া দিয়ে পুলিশকে মতিঝিলে থেকে সরিয়ে দেয় হেফাজতের কর্মীরা। মতিঝিল থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত রোড ডিভাইডারের অনেক গাছ উপড়ে ফেলে তারা।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসান এসে শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়া কর্মীদের সরে যেতে বলতে তারা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেয়।
    রাজধানীর সেগুন বাগিচার তোপখানা রোডে হেফাজতের মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে। এ প্রসঙ্গে রমনা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হেফাজতের আড়ালে মিছিলটি ছিল জামায়াত শিবিরের। নাশকতা চালানো হতে পারে এ জন্য মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। তবে গুলির কথা অস্বীকার করেন ওই কর্মকর্তা।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রেস ক্লাব এর উল্টো দিকে বিএমএ ভবনের গলি থেকে একটি মিছিল বের হয়ে পল্টনের দিকে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ শটগানের গুলি ছুঁড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয় । ওই মিছিল থেকে অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তারা।
    এদিকে পল্টনে এবং বায়তুল মোকাররমের আশপাশে জড়ো হচ্ছে হেফাজত কর্মীরা। যাত্রাবাড়ীর ব্যারিকেড ডিঙিয়ে মতিঝিলে এসে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীদের একটি অংশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এসে অবস্থান নিয়েছে। ওদিকে পোস্তাগোলায় অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরাও পুলিশি ব্যারিকেড ডিঙিয়ে পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকার দিকে আসছে।
    এর আগে যাত্রাবাড়ীর ব্যারিকেড ডিঙোনোর পর গুলিস্তান পার্কের বাধা পেরিয়ে আসে হেফাজতের মিছিল। তবে কড়া পুলিশি ব্যারিকেডে পল্টন ময়দান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় ভিড়তে না পেরে তারা অবস্থান নেয় মতিঝিল শাপলা চত্বরে। এর ফলে মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া গুলিস্তান পার্কের মাঝের রাস্তায় কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে পিছু হটে পুলিশ। এরপর হেফাজত কর্মীরা পল্টনের দিকে এগুতে শুরু করলে পুলিশি বাধার মুখে মতিঝিলের দিকে চলে যায়।
    এর আগে সকাল সাড়ে ন’টার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরা যাত্রাবাড়ী পয়েন্ট অতিক্রম করে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়নি। লাঠি মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে সায়েদাবাদ পেরিয়ে পল্টনের দিকে এগুতে থাকে হেফাজত কর্মীরা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পোস্তাগোলা পয়েন্টের কর্মীরাও পল্টনের দিকে রওয়ানা হয়।

     

    হেফাজতের অবরোধে বিচ্ছিন্ন রাজধানী

    ঢাকা, ০৫মে : বিতর্কিত ১৩ দফা দাবিতে হেফাজত ইসলামীর অবরোধ কর্মকসূচিতে রাজধানী ঢাকা সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ রবিবার ভোরে ফজরের নামাজের পরপরই রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথগুলোয় লাঠি হাতে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে হেফাজত কর্মীরা। তাদের ঠেকাতে বিভিন্ন স্থান ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশও। ফলে রাজধানীর ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না কোন যানবাহন। কাউকে গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছেন না হেফাজত কর্মীরা। দেশের অন্য জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। যাত্রাবাড়ীর ব্যারিকেড ডিঙিয়ে পল্টনের দিকে আসছে হেফাজত কর্মীরা। আজ ভোর ৬টা থেকে রাজধানীর ৬টি পয়েন্টে অবরোধ করে রেখেছে হেফাজত। এর ফলে ওই এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। হেফাজতের কর্মীরা সকাল ৭টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজ মোড়ে র‌্যাবের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এছাড়া ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে। কর্মসূচির কারণে অভ্যন্তরীণ সব রুটে যান চলাচল কমে গেছে। এছাড়া আন্তনগর বাস ট্রাক ঢাকার রাস্তায় প্রবেশ করতে পারছে না।

    যাত্রাবাড়ীর ব্যারিকেড ডিঙিয়ে পল্টনের দিকে আসছে হেফাজত কর্মীরা। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয়া হেফাজত কর্মীরা যাত্রাবাড়ী পয়েন্ট অতিক্রম করে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়নি। লাঠি মিছিল নিয়ে সায়েদাবাদ পেরিয়ে পল্টনের দিকে এগুতে থাকে হেফাজত কর্মীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, উপরের নির্দেশে ভেতরে যাচ্ছি। পল্টন পর্যন্ত যাবো। তবে ঢাকায় প্রবেশের আর কোন পথেই এমন ঘটনা ঘটেনি। ওই সব স্থানে পুলিশি বাধায় রাস্তায় বসেই বিক্ষোভ করছেন হেফাজত কর্মীরা।

    ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হেফাজতের কর্মীরা সকাল ৭টার দিকে কাঁচপুর ব্রিজ মোড়ে র‌্যাবের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে। তবে পুলিশি বাধায় ঢাকা প্রবেশের ৬টি পথে হেফাজত কর্মীরা বসে পড়ায় রাজধানীতে কোন গাড়ি ঢুকতে বা বেরুতে পারছে না। এছা যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা, পোস্তগোলা, পুরান ঢাকার বাবুবাজার সেতু, টঙ্গী-আবদুল্লাপুর এবং গাবতলী-আমিনবাজারের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে হেফাজত কর্মীরা।

    সকাল ৭টার দিকে হেফাজত কর্মীরা র‌্যাবের একটি গাড়ি আটকালে গাড়িতে থাকা র‌্যাবের এক কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। ফলে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। এতে গাড়ির সামান্য ক্ষতি হয়। এদিকে কাঁচপুর, চিটাগাং রোডে হাজার হাজার হেফাজত কর্মী রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। এ এলাকায় মুফতি আরাফাত, মহিউদ্দীন, সাঈদুর রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজন কর্মী নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
    হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সব রুটে যান চলাচল কমে গেছে। এছাড়া আন্তনগর বাস-ট্রাক ঢাকার রাস্তায় প্রবেশ করতে পারছে না। আজ রবিবার ভোর ৬টা থেকে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর ৬টি পয়েন্টে অবরোধ করে রেখেছে হেফাজত। এগুলো হলো যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর, যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা, পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতু, পুরান ঢাকার বাবুবাজার সেতু, উত্তরা থেকে টঙ্গী-আবদুল্লাপুর পর্যন্ত এবং গাবতলী-আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত। জানা গেছে, ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, কাঁচপুর ও পোস্তগোলা ব্রিজ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন হেফাজত কর্মীরা। এর ফলে ওই এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।এদিকে গাবতলী এলাকায় ভোর থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হেফাজতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গাবতলী, আমিনবাজার, টেকনিকেল মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে এসব এলাকা থেকে কোনো যানবাহন শহরের ভেতরে বা বাইরে ছেড়ে যায়নি এবং শহরের অন্য কোনো স্থান থেকে এখানে যানবাহন আসতেও পারেনি। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচল। পুলিশি বাধার কারণে বাবুবাজার ব্রিজের ওপারেই অবস্থান নিয়েছেন হেফাজত কর্মীরা। ফলে তারা সেখানেই অবস্থান নিয়ে কেরাণীগঞ্জ থেকে ঢাকায় প্রবেশে এবং ঢাকা থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছেন যানবাহনগুলোকে। তবে এ এলাকায় কিছু কিছু মিনিবাস লেগুনা ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

    নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে জামায়াত-শিবির স্টাইলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে হেফাজতর নেতাকর্মীদের। ১৩ দফা মেনে নাও, নইলে গদি ছেড়ে দাও, লেগেছে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে স-তে সুরঞ্জিত তুই চোর তুই চোর, নাস্তিকদের সরকার মানি না মানবো না, ক্ষমতা আসতে হলে ১৩ দফা মেনে নাও’ ইত্যাদি রাজনৈতিক ও সরকার বিরোধ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
    আজ রবিবার সকালে বাবু বাজার ব্রিজে ঢাকা অবরোধ কর্মূসচি চলাকালে হেফাজত নেতাকর্মীদের এসব রাজনৈতিক স্লোগান শুনে আশে পাশে লোকজনের মধ্যে এক ধরনের কৌতুহল তৈরি হয়। অনেককেই বলতে শোনা যায়, হেফাজত না অরাজনৈতিক সংগঠন। এখন দেখছি তারা জামায়াত-শিবিরের স্টাইলে স্লোগান দিচ্ছে। অনেকও এও বলতে শোনা যায়, শনিবার মতিঝিলে বিএনপি জামায়াতের মহাসমাবেশে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা এসব স্লোগান দেয়। হেফাজতের এসব স্লোগান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন দেখা যায়। এছাড়া একটা একটা নাস্তিক ধর ধইরে ধইরে জবাই কর, ই- ইমরান তুই রাজাকার তুই রাজাকার, শাহবাগের আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, বাশের লাঠি তৈরি কর নাস্তিকদের খতম কর এ রকম আক্রমণাত্বক স্লোগান দিতে দেখা গেছে। 
    এছাড়াও বিএনপি জামায়াতের মূখপাত্র দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার পক্ষেও স্লোগানও দেয় তারা। সকাল ৬টা থেকে পুরান ঢাকা বাবুবাজার ব্রিজের নিচে হাজার হাজার কর্মীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বৃষ্টি আসলেও তারা অবস্থান থেকে সরে আসেন নি।
    এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি পড়ে শুনিয়ে বলেন, এর অধিকাংশ দাবিই পূরণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও হচ্ছে। এ অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেকে অন্তঃসারশূন্য আখ্যায়িত করে গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের নেতারা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। হেফাজত ইসলামের নেতারা বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে ‘ধর্মীয়’ বললেও এ গোষ্ঠী রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুতর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা হেফাজতের কঠোর সমালোচনা করেছেন। যদিও শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃশ্যত তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনটির সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলিতে সংহতি প্রকাশ করেছে। ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। নির্বাচনের বছরে মাদরাসাভিত্তিক সংগঠনটির রাজনৈতিক তৎপরতা ভোটের সাধারণ সমীকরণে প্রভাব তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া শনিবার সরকারকে নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়ায় হেফাজতের অবরোধ নিয়ে রাজনীতিতে কৌতুহলের পাশাপাশি উৎকণ্ঠারও সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতের এসব দাবি-দাওয়াকে নারী অগ্রগতির পথে প্রাচীর হিসেবে দেখছেন দেশের প্রধান প্রধান নারী সংগঠনগুলো। নারী-পুরুষের অবাধ প্রকাশ্য বিচরণ বন্ধের যে দাবি হেফাজত তুলেছে, তার বিরুদ্ধে ৯ মে নারী সমাবেশের ডাক দিয়েছে প্রধান প্রধান নারী সংগঠনগুলো। বামপন্থী দলগুলো বলছে, হেফাজতের এসব দাবি দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাবে।
    ১৩ দফা দাবিতে ৬ এপ্রিলের লং মার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশে করে কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠনটি হেফাজত ইসলাম। সেখানে থেকে তারা সরকারকে ১ মাসের আল্টিমেটাম দেয়। এর মধ্য দাবি মেনে না নেয়া হলে ৫ মে ঢাকা অবেরাধের ডাক দেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে আজ রবিবার রাজধানী ৬টি প্রবেশ পথে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে তারা। এছাড়া বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যদিও পুলিশ প্রশাসন সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।

     

    শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি পেল হেফাজত

    ঢাকা, ০৫মে : অবরোধ করে ঢাকা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হেফাজত ঢাকার কেন্দ্রস্থল মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে। আজ রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পাঁচ শর্তে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, হেফাজতকে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। হেফাজত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজের পর রাস্তায় সমাবেশে করার অনুমতি চাইলেও গতকাল শনিবার তার অনুমতি পায়নি। এরই মধ্যে শাপলা চত্বরে এসে জড়ো হয়েছে হেফাজতকর্মীরা।
    এদিকে আজ রবিবার ঢাকা অবরোধের ঘোষণা দিয়ে এদিন ভোর ৬টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এতে আন্তনগর ও ঢাকার অভ্যন্তরে সব রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধস্থলে থাকা হেফাজতের নেতাকর্মীরা অবশ্য পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হলেও ঢাকায় সমাবেশ করার হুমকি দিচ্ছিলেন। প্রয়োজনে দুই-তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও কথা জানান হেফাজতকর্মীরা। অনেক স্থানে তারা অবরোধস্থল থেকে অনেকটা পথ মিছিল করে এগিয়ে আসেন। বিতর্কিত’১৩ দফা দাবিতে সরকারকে হেফাজত ইসলামীর অবরোধে সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী। আজ ভোরে ফজরের নামাজের পরপরই ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতকর্মীরা টঙ্গী ব্রিজ, যাত্রাবাড়ির কাজলা, ডেমরা, বাবুবাজার ব্রিজ, পোস্তগোলা ব্রিজ, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের আমিনবাজার ও গাবতলীতে অবস্থান নেয়। তাদের ঢাকার কেন্দ্রে আসা ঠেকাতে বিভিন্ন স্থান ব্যারিকেডও দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে যাত্রাবাড়ি থেকে সায়েদাবাদ এবং আবদুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এগোয় হেফাজতকর্মীরা। শাপলা চত্বরে অনুমতি পাওয়ার পর ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরাও।

    রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে হেফাজতের কয়েকশ নেতাকর্মী পল্টন মোড় হয়ে শাহবাগের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
    পল্টন মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশের সার্জেন্ট তৌহিদ জানান, আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেফাজতের কয়েকশ নেতাকর্মী বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে শাহবাগের দিকে যেতে চান। পুলিশ তাদের পল্টন মোড়ে বাধা দেয়। তারা বাধা উপেক্ষা করে শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৪০টি রাবার বুলেট ও কয়েকটি টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা সেখান থেকে সরে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অবস্থান নেন। পল্টন মোড়ে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতের কয়েকশ নেতাকর্মী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। তখন তারা মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ের দিক আসেন। এ সময় ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

     

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here