মৌলভীবাজারে জাতীয় পতাকা মিছিলে জামাতের অংশগ্রহন

    0
    25

    আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার: বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন মৌলভীবাজার জেলা শাখার আয়োজনে জাতীয় পতাকা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। সমাবেশে দেখা যায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা মুক্তাদির ইসলাম পতাকা নিয়ে দাড়িয়ে আছে । এ নিয়ে শহর জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড় । সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের অনেক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিজয়ের মাসের প্রথম দিনেই জামাতের নেতা নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করা ঠিক হয় নি ।আমরা অনেক বার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক ও সভাপতিকে বলেছি জামাতের নেতা মুক্তাদির ইসলামের কথা, তারা আমাদের কথা না শুনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কমিটিতেও সদস্য হিসাবে রেখেছে মুক্তাদির ইসলাম কে। জেলার কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধারা বলেন বিজয় মাসের প্রথম দিনে জামাত নেতা এনে সমাবেশ করাটা উচিৎ হয়নি।

    জামাতের নেতা ও সদ্যরা বিভিন্ন নামে বেনামে সামাজিক সংগঠনে বানিয়ে তারা সদস্য হয়ে তাদের গা পরিস্কার করতে চায় আর এই সুযোগ গুলো করে দেয় সমাজের কিছু নামদারি মানুষ।

    সূত্র বলছে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াত-শিবির ছিল দৃশ্যমান। মৌলভীবাজার ঝটিকা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাদের নাশকতামূলক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সেই সময় মুক্তাদির ইসলামের নেতৃত্বে চলে এসব আন্দোলন । কিন্তু হঠাৎ ‘উধাও’ জামায়াত নেতা মুক্তাদির ইসলাম । এখন আর কোথাও দেখা যায় না। প্রকাশ্যে নেই রাজপথের কোনো জামাত কর্মসূচিতে। এখন দেখা যায় সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন ব্যানারের পাশে।

    এবিষয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এডভোকেট কিশোরী পদ দেব শ্যামল বলেন যখন কমিটি করা হয় তখন আমি অসুস্থ ছিলাম জামাত নেতা মুক্তাদির ইসলাম কি ভাবে কমিটিতে স্থান পায় সেটা আমি জানিনা। যদি স্বাধীনতা বিরোধী এই কমিটিতে থাকে তা হলে আমি থাকব না।

    ১ ডিসেম্বর রবিবার সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সমাবেশ অনুষ্টিত হয় । সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট কিশোরী পদ দেব শ্যামলের স ালনায় ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনে সভাপতি বকশি ইকবাল আহমদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, জাতীয় পতাকা মিছিলের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযুদ্ধা, আজিজুর রহমান।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন অসাম্প্রদায়িকতা,সম্প্রীতি ও মুক্তিযুন্ধের অঙ্গীকার।শোষণ- বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, জঙ্গিবাদ দূর্নীতি প্রতিরোধ ও সর্বস্তরে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা।

    সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গন থেকে জাতীয় পতাকা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে শেষ হয়।