‘মোরা’র আঘাতে কক্সবাজার-রাঙামাটি-ভোলায় ছয়জনের মৃত্যু

    0
    33

    আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০মে,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ভোলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাছচাপায় চারজন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন এবং মায়ের কোল থেকে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়ের সময় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় গাছের নিচে চাপা পড়ে রহমত উল্লাহ ও সায়রা খাতুন নামের দুজন নিহত হন। এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে মরিয়ম বেগম নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
    চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মোরার প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় রাঙামাটি শহরে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন।

    রাঙামাটি সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আবু তৈয়ব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ভোলায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মায়ের কোল থেকে কাদাপানিতে পড়ে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে কলাতলী গ্রামের মনির বাজারের পাশের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন সালাউদ্দিন ও তাঁর পরিবার। এ সময় মায়ের কোল থেকে কাদাপানিতে পড়ে রাশেদ নামের এক বছর বয়সী এক শিশু মারা যায়।

    ‘মোরা’ সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?

    ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ঘণ্টায় একশো কিলোমিটারের বেশি গতিবেগ নিয়ে উপকূল অতিক্রম করার পর স্থলভাগে এসে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে রাঙ্গামাটি ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যে ঝড়ো হাওয়া বইছে তা আরও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা। এর প্রভাবে সারাদেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমেই উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে এটি আরো দুর্বল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    মংলা ও পায়রা সমুনদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে আজ রাত নয়টা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে পরবর্তীতে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    কতটা শক্তি নিয়ে আঘাত করলো ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’?

    মঙ্গলবার ভোর ছয়টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। কক্সবাজারে আঘাত হানার সময় বাতাসে এর গতিবেগ শুরুতে কম থাকলেও পরে সেই গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১১৪ কিলোমিটার।

    তবে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় পতেঙ্গায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার।

    সেন্টমার্টিন্সে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার এবং টেকনাফে ঘন্টায় ১১৫ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার সময় গতিবেগ কখনো বেড়েছে বা কমেছে।

    টেকনাফে সাড়ে চারটায় বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১০৯ কিলোমিটার থাকলেও ভোর সোয়া পাঁচটায় গতিবেগ ছিল ১৩৫ কিলোমিটার।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here