বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাবের অগ্রভাগে

    0
    26

    আমারসিলেট 24ডটকম ,২৫সেপ্টেম্বর  : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমাদের সকল সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হতে হবে একটি টেকসই বিশ্ব- এমন এক বিশ্ব, যেখানে প্রত্যেক মানুষ ও সকল জীবের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং আমাদের সন্তান ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর আবাস গড়ে তোলা । বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন রোধের দ্বারা বিশ্বের টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখতে ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচি এবং ২০২০ সালের পরেও একটি আইনী কাঠামোর বিষয়ে সম্মত সিদ্ধান্ত নিতে অবশ্যই দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আমাদের এ বিশ্বের স্থায়ীত্বের জন্য সাধারণ লক্ষ্যসমূহ অর্জনে অবশ্যই এ দুটি বিষয়ের স্বীকৃতি এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রদর্শন ও আন্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।
    মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নেতৃত্বদানকারীদের সংলাপ শীর্ষপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম দূরদর্শিতার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী । এ ফোরাম টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক কমিশনের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, সম্পদ এবং আন্ত:সহযোগিতা রূপরেখা তৈরিতে রিও প্লাস ২০-এর ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে গঠিত হয়।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচির সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক এ তিন স্তম্ভের ওপর গুরুত্বারোপে বাধ্য। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ টেকসই উন্নয়ন বাংলাদেশের জাতীয় অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতার সামনের সারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাবের অগ্রভাগে রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এমনিতেই এক ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। দেশটিতে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে সমুদ্রের উচ্চতা এক মিটার বেড়ে যাবে।

    এতে দেশটির এক-পঞ্চমাংশ তলিয়ে যাবে এবং ৩ কোটি মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে উদ্বাস্তু হবে। তাদের জীবনে নেমে আসবে দূর্বিসহ অবস্থা।
    শেখ হাসিনা বলেন, এসব চ্যালেঞ্জের মুখে গভীর উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নে ওপেন ওয়ার্কিং গ্রুপে সদা সক্রিয় রয়েছে। বাংলাদেশ ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচিতে জাতীয়ভাবে গৃহীত লক্ষ্যসমূহের এক সুপারিশমালা জাতিসংঘে পেশ করতে এজন্য তাগিদ বোধ করেছে। তিনি বলেন, এ ফোরামকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে স্বল্পোন্নত, অতি স্বল্পোন্নত ও এসআইডিএসের বিশেষ প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়া উচিৎ। এসব গ্রুপের অধিকাংশ দেশ এমডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।
    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাপ্ত সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, স্থানীয় নেতৃত্ব, নিজস্ব সক্ষমতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এমডিজির কিছু লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমাদের ওই অভিজ্ঞতা ও অঙ্গীকার টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে উন্নত দেশসমূহের জিএনপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং জিএনপির শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অফিসিয়াল ডেভলপমেন্ট এসিসট্যান্স (ওডিএ) হিসাবে স্বল্পোন্নত দেশ এবং অন্যান্য বঞ্চিত গ্রুপগুলোকে উন্নয়নের জন্য যোগান দেয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির হস্তান্তর গুরুত্বপূর্ণ।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এসব দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আনছে। তারা এসব চ্যালেঞ্জ সঙ্গে নিয়েই পরস্পরের কাছাকাছি হয়ে বিশ্বকে ছোট করে আনছে। প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পদের প্রাচুর্য এখন আমাদের হাতে, তথাপি সময়ের নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখে এ ফোরামকে যথাযথ কর্মসূচি প্রণয়নের সঠিক সুযোগ নিতে হবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here