বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের বাণী

    0
    6

    আমারসিলেট24ডটকম,১০জানুয়ারীঃআজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি শুক্রবার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে সুখি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দল-মত-নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের মহান নেতা সেদিন সবাইকে “সোনার বাংলা” গড়ার ডাক দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আশা করি, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা সে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো। তিনি আরো বলেন, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। কৃতজ্ঞ জাতির সাথে আমিও স্বরণীয় এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাকে স্মরণ করি।রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী অনন্যসাধারণ নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের এদিনে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন, জীবন মৃত্যুর কঠিন চ্যালেঞ্জের ভয়ংকর অধ্যায় পার হয়ে সারা জীবনের স্বপ্ন, সাধনা ও নেতৃত্বের ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান নেতার প্রত্যাবর্তন সকল স্তরের জনগণকেই সীমাহীন আনন্দে উদ্বেলিত করে।রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাংলার এ অবিসংবাদিত নেতা আবেগপ্লাবিত কণ্ঠে বলেছিলেন, যে তার সারা জীবনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমরা যতোদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত থাকবো, ততোদিন আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে।

    এদিকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এবং সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসুন সকলে মিলে জাতির পিতার “সোনার বাংলা” প্রতিষ্ঠা করি। যেখানে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ থাকবে না, সকলের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার থাকবে অবারিত। শেখ হাসিনা একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কোন অপশক্তি যাতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
    শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এদিন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের এ রায়কে উপেক্ষা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে। শুরু হয় প্রহসন। বাঙালির উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। বাঙালি জাতির চূড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যে জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিন্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। জাতির পিতা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে পাকিন্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এ নিভৃত কারাগারে তিনি অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হন। প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে তিনি মৃত্যুর প্রহর গোনেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি বাঙালির জয়গান গেয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। পরাজিত পাকিন্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় । জাতির পিতা ১৯৭২’র ১০ জানুয়ারি বাংলার মাটিতে প্রত্যাবর্তন করে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। বাঙালি জাতি ফিরে পায় জাতির পিতাকে। বাঙালির বিজয় পূর্ণতা লাভ করে।
    শেখ হাসিনা বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি’র সদস্য হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে অতি অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়। বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখলকারীরা গণতন্ত্র হত্যা করে। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে। রুদ্ধ করে দেয় প্রগতি ও উন্নয়নের ধারা। অনেক সংগ্রাম আর ত্যাগ-তিতীক্ষার বিনিময়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করে জনগণের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here