প্রথম আলোর ক্ষমা প্রার্থনা

    0
    9

    অসাবধানতাবশত লেখাটি মুদ্রণের জন্য প্রথম আলো আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং পাঠকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। ঢাকা : ১৪ এপ্রিল ২০১৩ তারিখের প্রথম আলোর বাংলা নববর্ষের ক্রোড়পত্রে হাসনাত আবদুল হাই রচিত ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ শীর্ষক ছোটগল্পে ব্যক্ত মতামত এই পত্রিকার নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। prothom alo logo

    এ লেখাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। একই সঙ্গে ক্ষমাও চেয়েছে । ইতিমধ্যে লেখাটি অনলাইন সংস্করণ ও ই-পেপার থেকেও অপসারণ করা হয়েছে।  —সম্পাদক

    পহেলা বৈশাখে বিশেষ ক্রোড়পত্রে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের নারী নেত্রীদের চরিত্র হনন করে লেখা হাসনাত আবদুল হাইয়ের ছোটগল্প ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ ছাপে প্রথম আলো। পরদিন (সোমবার) অনলাইন সংস্করণ থেকে লেখাটি মুছে ফেলেছে। এ নিয়ে ফেসকুস, ব্লগসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তীব্র ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।দেশ-বিদেশ থেকে কবি, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিকসহ সাধারণ বিবেকমান মানুষেরা সবাই প্রথম আলো ও লেখকের নারীবিদ্বেষী ভূমিকার সমালোচনায় মুখর হন। দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রথম আলোর দায়িত্বজ্ঞান, দায়বদ্ধতা, শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ ইত্যাদি প্রসঙ্গে দৈনিকটির অবস্থানকে নানা প্রশ্নে বিদ্ধ করেছেন তারা।ক্ষমা প্রার্থনা করে সম্পাদকের (মতিউর রহমান) বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, “১৪ এপ্রিল ২০১৩ তারিখের প্রথম আলোর বাংলা নববর্ষের ক্রোড়পত্রে হাসনাত আবদুল হাই রচিত ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ শীর্ষক ছোটগল্পে ব্যক্ত মতামত এই পত্রিকার নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অসাবধানতাবশত লেখাটি মুদ্রণের জন্য প্রথম আলো আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং পাঠকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা এ লেখাটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। ইতিমধ্যে লেখাটি অনলাইন সংস্করণ ও ই-পেপার থেকেও অপসারণ করা হয়েছে।”এরপর দৈনিকটির এই অবস্থানকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও সমালোচনার তীর ছোড়া  থেমে থাকেনি।

    মানবতীর্থের বিপরীতে তারা চিনেছিলেন দানবকুণ্ড। হাসনাত আব্দুল হাইয়ের এই আত্মপ্রকাশ এভিলের, শিল্পীর নয়। মনের গভীরের বামবিদ্বেষ, গরিববিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষের সঙ্গে মিশিয়েছেন আমলাসুলভ অহংকার, বিকারগ্রস্ত রুচি আর অসৎ অভিপ্রায়। তাঁকে মধ্যপন্থী জানতাম, কিন্তু শাহবাগের প্রতি এতটা প্রতিহিংসাপ্রবণ ভাবতে পারিনি। নিয়ত করেই এই অন্যায় তিনি করেছেন, তিনি নিয়তের দোষী।”তিনি বলেন, “এইসব ছেলেমেয়েদের শাস্তি দিতে হেফাজতে ইসলাম দাবি তুলেছে। আপনি (হাসনাত আবদুল হাই) একটা হেফাজতি গল্পই লিখতে পেরেছেন। হেফাজতে ইসলামের তের দফার ৪ ও ৫ নং দফার কাহিনীরূপ দিয়েছেন। সেখানে বলা আছে, ‘ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্জ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।’ হেফাজতের নারীনীতি আপনার নারীদর্শন। নারীর মধ্যে আপনি দেখেছেন আপনার যাবতীয় হীনতা আর দীনতা। জীবনসায়াহ্নে এটাই আপনার আত্মপরিহাস।”

     

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here