নবীগঞ্জ কৃষকদের মুখে হাসি,ভালো ফলন ও নির্বিঘ্নে ধান কাটা শেষ

0
136
নবীগঞ্জ কৃষকদের মুখে হাসি,ভালো ফলন ও নির্বিঘ্নে ধান কাটা শেষ
নবীগঞ্জ কৃষকদের মুখে হাসি,ভালো ফলন ও নির্বিঘ্নে ধান কাটা শেষ


নূরুজ্জামান ফারুকী,নবীগঞ্জ,হবিগঞ্জঃ নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরে শেষ হয়েছে বোরো ধান কাটা। কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা উপেক্ষা করে ও নানা উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে শেষ হলো ধান কাটা এখন চলছে শুকানো।

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে হাওরে ৫ হাজার ৫৬৫ হেক্টর,সমতলে ১২ হাজার ৭২০ হেক্টর। এছাড়া অনাবাদি জমিতে ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল থেকে বোরো ধান কাটা উৎসব শুরু হয়। প্রথম দিকে ধান কাটায় শ্রমিক-সংকট দেখা দেয় পরে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরে শ্রমিকদের স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়।

অপরদিকে কৃষকের ধান নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ বছর ১৫টি আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে পৌঁছে দেয় সরকার। নতুন পুরাতন মিলিয়ে ৪২ টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ধান কাটায় ছিল সার্বক্ষণিক। এর মধ্যে নবীগঞ্জের মকার হাওরের গোঁজাখাইড় অংশে ৫টি, শেরপুর অংশে ৭ টি, ঘুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরের নবীগঞ্জ অংশে ১৩ টি, আগনা হাওরে ৩ টি, হওলাগর হাওরে ৭ টি, গজনাইপুরে ২ টি ও প্রত্যন্ত বড়ভাকৈর পশ্চিমে ২ টি মেশিন ধান কাটছে।

ফলে অন্যন্য বছর থেকে এ বছরের বৈশাখ মাসে কম সময়ে আধুনিক ধান কাটার মেশিন কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে হাওর অঞ্চলে প্রায় শতভাগ ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষকরা। কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারায় খুশি হাওর পাড়ের কৃষকরা। হাওরের পাশাপাশি সমতলে আবাদকৃত বোরো ধান প্রায় ৫০ শতাংশ কর্তন করা হয়েছে।

এবছর বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষমাএা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। আব্দুল মন্নান নামে এক কৃষক আমার এ প্রতিনিধিকে জানান, যেখানে আমাদের বৈশাখ মাসের ধান ঘরে তুলতে এক মাস বা তারও অধিক সময়ে লেগে যেত সেখানে আধুনিক ধান কাটার মেশিনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে আমরা ইতিমধ্যে ধান ঘরে তুলতে পেরেছি, এই ‘জাদু’র মেশিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও ছড়িয়ে দিলে কৃষকরা আরও উপকৃত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। করগাঁও ইউনিয়নের মেশিন মালিক বিশ্বজিৎ দাশের সাথে কথা বলে জানা যায়-৭০% ভর্তুকিমূল্যে মেশিন পেয়ে হাওরের মানুষের ধান কেটে দিচ্ছি। লেবার দিয়ে ধান কেটে মাড়াই করতে বিঘাপ্রতি তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হলেও মেশিন দিয়ে কেটে দিচ্ছি পনেরশো থেকে আঠারশো টাকায়। হাওরে ধান কেটেই বিশ দিনে মেশিনের প্রায় অর্ধেক দাম উঠে গেছে। এখন উঁচু জমিতে চলে যাবো। মেশিন দিয়ে যারা ধান কাটাচ্ছেন তাদেরও বিঘাপ্রতি কমে এক হাজার টাকা বেঁচে যাচ্ছে। আধুনিক কৃষিতে এ যন্ত্র বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি মনে করছেন। নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এ.কে.এম মাকসুদুল আলম বলেন, এ বছর নবীগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ৫৫৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিলো।

ইতিমধ্যে প্রায় শতভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই কৃষকের পাশে ছিলাম। সরকারি বীজ সহায়তায় হাইব্রিড ধানের আবাদ বাড়ায় এবার ধানের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি শুরু হতে দেরী হওয়ায় কৃষক নিশ্চিন্তে হাওড়ের ধান কাটতে পেরেছে। এ বছর কম্বাইন হারভেস্টারগুলো চমৎকার সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য-ইতিমধ্যে সরকারি ভাবে কৃষকের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বোরো ধান ক্রয় করা শুরু করেছে বর্তমান সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here