নবীগঞ্জে নির্বাচনী রাতে সহিংসতায় গুরুতর আহত-৩

    0
    13

    নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্য রাতে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত বিএনপি কর্মী সফিক মিয়া (২২) এর ভুড়ি বেরিয়ে গেছে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সে চরগাঁও গ্রামের মন্নাফ মিয়ার পুত্র। এ ছাড়া একই গ্রামের জব্বার মিয়ার পুত্র মিজান মিয়া (৩৫), নুর ইসলামের পুত্র নাহিদ মিয়া এবং সুজাপুর গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা জাহেদ রুবেল সহ আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মধ্যরাত সোয়া ১ টার দিকে গয়াহরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকট। বিএনপি ও আওয়ামীলীগ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে। নবীগঞ্জ পৌর এলাকার সর্বত্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমতমে অবস্থা বিরাজ করছে।

    এ ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেল এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মুকিত চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গয়াহরি গ্রামে তিনি অবস্থান করছিলেন। এ সময় তারা খবর পান গয়া হরি প্রাইমারী বিদ্যালয়ের নিকট বিএনপির প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁর কর্মী সমর্থকরা আওয়ামীলীগ প্রার্থী রাহেল চৌধুরীর উপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাংচুর করেছে।

    এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। অপর দিকে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী জানান, তিনি গয়াহরি গ্রামে রবিন্দ্র দাশ মেলাইর বাড়িতে গতকাল রাতে সংক্রান্তির দাওয়াতের যান। সেখান থেকে ফেরার সময় ওই বাড়ীর সন্নিকটে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেল এর ভাই  শায়েল চৌধুরীর সাথে দেখা হয়। এ সময় তাঁর সাথে কুশল বিনিময় চলাকালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী রাহেল চৌধুরী সেখানে পৌছায়। এ সময় রাহেল উত্তেজিত হয়ে ছাবির আহমেদ চৌধুরীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাঁর দিকে তেরে আসে তিনি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হয়।

    এ সময় তাঁর সমর্থক সফিক মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তাঁর পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যায়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় রাহেল তাঁর প্রাইভেকারটি নিজেই ভাংচুর করেছে। এ সময় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছালে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হট্টোগোলে প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এদিকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ, র‌্যাব সহ আইনশৃংখলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।