ট্রাকে বোমা নিক্ষেপঃ৯গরুসহ অগ্নিদগ্ধ ট্রাকচালক হেলপার

    0
    7

    “জামাত-শিবিরের তাণ্ডবের এ ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে দেখতে আসা শতশত মানুষ রাজনীতির এ সহিংসতাকে ৭১-র নারকীয় ঘটনাকে হার মানিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন”

    আমারসিলেট24ডটকম,২৪ডিসেম্বরঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় চলন্ত একটি গরুবাহী ট্রাকে পেট্রল বোমা নিক্ষেপর করেছে জামাত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় ট্রাকে আগুন ধরে যায়। এমতাবস্থায় আগুন লাগা ওই ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পাশের ফার্ণিচারের দোকানে ঢুকে পড়লে আগুনের লেলিহান শিখা ফাণিচারের দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এক এক করে পুড়ে যায় তিনটি ফার্ণিচার কারখানা, ৮টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, লাগোয়া ফৌজদারহাট রেল কলোনীর ৩টি বসতঘর। অগ্নিসংযোগকালে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় ওই ট্রাকের ৯টি গরু এবং অগ্নিদগ্ধ হন ট্রাকচালক ও হেলপার। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আজ মঙ্গলবার ভোররাত ৪টায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই তাণ্ডব ঘটায় বলে জানা যায়।

    কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওমর ফারুকের সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট টানা আট ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে এ আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামাত-শিবিরের তাণ্ডবের এ ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে দেখতে আসা শতশত মানুষ রাজনীতির এ সহিংসতাকে ৭১-র নারকীয় ঘটনাকে হার মানিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

    একটি সুত্র থেকে জানা যায়, ১৮দলীয় জোটের ৫ম দফা অবরোধের শেষ দিন মঙ্গলবারে ভোররাত ৪টায় জামাত-শিবিরকর্মীরা চলন্ত একটি গরুবাহী ট্রাকে পেট্রল বোমা ছুঁড়লে এ ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়। পুড়ে যাওয়ায় ফার্ণিচার দোকানগুলোর মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউনুচ চৌধুরীর ১টি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই নিজাম চৌধুরীর ১টি ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন ছাবেরীর ১টিসহ ফৌজদারহাট সিণ্ডিকেটের ফার্ণিচারের কারখানা ও শো-রুমসহ ৮টি  ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদিকে এসব ঘটনার পরে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ইফতেখার হাসানের সূত্রে  জানা যায়, এ ঘটনার পরে আমাদের যৌথ বাহিনীর ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নাশকতার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নাশকতার ঘটনাগুলোর সার্বক্ষণিক নজরে রেখেছেন ডিআইজি নওশের আলী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একে এম হাফিজ আখতার।

    এদিকে মহাসড়কে যৌথ বাহিনীর টহল অব্যাহত থাকার পরও একের পর এক নাশকতামূলক ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে জামাত-শিবিরকে দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। এ প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায়ী মোজান্মেল হোসেন, লোকমান হোসেন, মোস্তাকিম হাকিম এবং শিল্পপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা দিদারুল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here