জুড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাতকারী
ইউপি সদস্য আবারো প্রার্থী !

0
52

বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে ভাতা আত্মসাতের মামলায় জেল খাটা মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ৭নং ফুলতলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মাহবুবুল আলম রওশন আবারও মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ‌
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হওয়ার পর আত্মসাতের  অর্থ ফেরত চেয়ে  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ এইচ মহসিন রেজা তাঁকে চিঠি ইস্যু করেন। ভাতা আত্মসাতকারী সেই রওশন আসছে ২৯ ডিসেম্বর ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
তদন্তে ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে মৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলনের প্রমান পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করেন। এরপর  তিনি আত্নসাতের মামলায় কারাভোগ করেছেন। এ মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিলেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত কাগজ জাল জালিয়াতি করে সে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ও  ভাতা আত্মসাত করে আসছে অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত  প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রওশন এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ প্রদান করেন।
জানা গেছে- কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার ভুয়া সন্তান সেজে জুড়ী উপজেলার ৭নং ফুলতলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য রওশন ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় কালেঙ্গা গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার ছেলে মোঃ কামাল মিয়া বাদী হয়ে বিগত -২০২১ সালের ২৯ মার্চ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মৌলভীবাজার মামলা নং-( সি.আর-৩৮/২০২১ ) দায়ের করেন। এরপর থেকেই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধার সন্তান মোঃ কামাল মিয়াকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধমকি অব্যাহত রাখেন। ৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার স্ত্রী আজিরুন বেগম। আজিরুন বেগম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দাবীদার রওশন একজন প্রতারক, মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ। তার বীর মুক্তিযুদ্ধা স্বামী ২; পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তান রেখে ২০০৬ সালের ১১ ডিসেম্বর  কালেঙ্গা গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৭ সালের জুলাই মাস হতে নিয়মিত স্বামীর উত্তরাধীকারী সূত্রে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। 
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ভাতা বন্ধ থাকার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার স্বামীর ভূয়া সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছেন রওশন।
আজিরুন বেগম জানান, ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর রওশন জালিয়াতি করে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আত্মসাৎ করেছে। গত ২ মাস ধরে আমরা আবারোও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছি।  রওশনের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার হলে আমরা বকেয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবো বলে ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহবুবুল আলম রওশন বলেন,  আমি হাইকোর্টে বিষয়টি নিয়ে একটি রিট করেছি। ‌ফুলতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, আমি বিষটি জেনে তাকে বলেছি এটা সমাধান করার জন্য। জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রতন অধিকারী বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা। তবে খোজ নিয়ে বিষয়টি জানবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here