কমলগঞ্জে তরুণী মৃত্যুতে গুড নেইবারস’র বিরুদ্ধে মামলা

    0
    41

    কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আর্ন্তজাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুড নেইবারস বাংলাদেশের কর্মী লিজা আক্তারের(২১) মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিজার মা আলেমা বেগম বাদী হয়ে গত ২৪ আগষ্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমল আদালত,মৌলভীবাজারে মামলা দায়ের করেন।(মামলা নং ৩২৫/১৯ইং,তারিখঃ ২৪-১০-১৯ইং)। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,তার মেয়ে লিজা আক্তার বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুড নেইবারস এর মৌলভীবাজার সিডিপির এসএস সার্পোটার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে বিগত ২১ জুলাই ২০১৯ইং তারিখে প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদকসহ অন্যান্য সহকর্মীদের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে।খোঁজ নিয়ে ও মামলাসূত্রে জানা যায়,এদিন বিকাল তিনটায় অফিসের কাজে লিজা পূর্ব কোনাগাঁও যায়।

    রিকশা বা সিএনজিযোগে যাওয়ার সূযোগ থাকলেও প্রজেক্ট ম্যানেজারের নিদের্শে সে অনিচ্ছা স্বত্তেও একটি মোটর বাইকে চড়ে সেখানে যেতে বাধ্য হয় এবং অফিসের নির্দেশেই ফখরুল ইসলাম শাকিল (২২),পিতাঃ মৃত মর্তুজ আলী,সাং জালালপুর নামে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন একজন অদক্ষ সহকর্মী মোটর বাইকটি চালনায় ছিলো।লিজার সাথে বিভিন্ন সময়ে যে ঝগড়া বিবাদ ও অশোভন আচরণ করতো। তার মোটর বাইকে যেতে আপত্তি জানালে জন বৃগেন মল্লিক (৪০) ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদক জোর পূর্ব্বক ধমক দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ মোটর বাইকে যেতে বাধ্য করেন। পূর্ব কোনাগাঁও যাওয়ার পথে শাকিল বেপরোয়া গতিতে মোটর বাইক চালালে লিজা চিৎকার করে বাধা দেয়।কিন্ত সে লিজার আর্ত চিৎকারে কোন ভ্রুক্ষেপ না করে দ্রুত গতিতে মোটর বাইক চালানো অবস্থায় পিছন দিকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার উদ্দেম্যে মাটিতে ফেলে দিলে সে মাটিতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।

    স্থানীয় পথচারীরা তাকে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে সেখান থেকে সাথে সাথে মৌলভীবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। লিজার মা জানান, আমার মেয়েকে নিয়ে পাগল প্রায় থাকা কালীন জন ব্রিগেন মল্লিক ও জীবন্ত হাগিদক আমার ছেলে ওবায়েদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দূর্ঘনা জনিত মৃত্যু বলিয়া ভূল বুঝাইয়া আমার মেয়ের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া দাফন করানোর ব্যবস্থা করায়। আমরা আমার মেয়ের দাফন শেষে কয়েকদিনপর অফিসে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারি। তখন ঢাকায় সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইনুদ্দিন মাইনুল হেড অফিসে খবর দিয়ে নেন এবং তিনি এ হত্যা কান্ড নিয়ে আমাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কোন প্রকারের অভিযোগ না করতে হুমকি দেন ।

    এ বিষয়ে আমি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমল আদালত,মৌলভীবাজারে মামলা দায়ের করি।(মামলা নং ৩২৫/১৯ইং,তারিখঃ ২৪-১০-১৯ইং)। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে। পূণরায় ময়না তদন্তের পর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।