ওবামা ১৫ মিনিট কথা বললেন রুহানির সাথে

    0
    21

    আমারসিলেট 24ডটকম ,২৮সেপ্টেম্বর  : ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শিয়া প্রধান মুসলিম দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এমনিতেই নাজুক।
    এরই মধ্যেই সিরিয়া সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ার পর ইরানি প্রেসিডেন্টকে ওবামা টেলিফোন করলেন, যা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে চলমান তিক্ত সম্পর্ক অবসানের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতার প্রকাশ বলে মনে করছেন বিজ্ঞ জনেরা।
    ওবামা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে  সূত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ওবামার সঙ্গে টেলিফোন সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রুহানি। এরপর দ্রুততার সঙ্গে হোয়াইট হাউসই ফোন করার ব্যবস্থা করে।রুহানিকে ফোন করেন ওবামা এবং তারা ১৫ মিনিট কথা বলেন।

    ইরানের পরমাণু সঙ্কট নিয়ে ওবামা বলে আসছিলেন, পরমাণু বোমা তৈরি থেকে তেহরানকে বিরত রাখতে সম্ভাব্য সব কিছুই করবেন তিনি এবং তা আলোচনা থেকে শুরু করে সামরিক অভিযান পর্যন্ত হতে পারে।হোয়াইট হাউসে ওবামা সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটানোর ওপর আলোচনায় জোর দেয়া হয়েছে।

    বারাক ওবামা জানিয়েছেন, তিনি এবং রুহানি ইরানের নিউক্লিয়ার কর্মসূচী নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে দ্রুত কাজ করার জন্য নিজ নিজ পক্ষকে প্রস্তুত করছেন। পশ্চিমা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বিষয় নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান বারাক ওবামা।ওবামা বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে এবং যেখানে সাফল্যের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই, সেখানে আমরা ব্যাপকভিত্তিক একটি সমাধানে পৌঁছতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।এবং ফল অর্থপূর্ণ হবে বলেই মনে হচ্ছে, স্বচ্ছ ও যাচাই করা যাবে, এমন উপায় বের করা যাবে, এতে ইরানের বিরুদ্ধে বিরাজমান ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বলয় থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে,

    ওবামার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে রুহানি তার টুইটারে লিখেছেন কথোপকথনের শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য শুভ কামনা করেছেন এবং উত্তরে ওবামা বলেছেন “ধন্যবাদ- খোদা হাফেজ”।রুহানি আরো জানিয়েছেন, নিউক্লিয়ার ইস্যু নিয়ে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছোনোর বিষয়ে দুটি মানুষের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে এ কথোপকথনে।

    দুই নেতার এই কথোপকথনের বিষয়ে আটলান্টিক সেন্টারের সাউথ এশিয়া সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো ইয়াসমিন আলিম বলেন, টেলিফোন সংলাপটি একটি মাইলফলক।শান্তিপূর্ণে উপায়ে পরমাণু সঙ্কট নিরসনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে এতে।জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলার সময়ই নিউ ইয়র্কে ইরানের মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। কিন্তু এ মুহূর্তে এ ধরনের বৈঠকের জন্য ইরান প্রস্তুত নয় বলে প্রস্তাবটি এড়িয়ে যায়।হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা মনে করেন, তেহরানের কট্টরপন্থীদের নাখোশ না করতেই রুহানি প্রস্তুত নয় বলে প্রস্তাবটি এড়িয়ে যায়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here