এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মো. কায়সার গ্রেপ্তার

    0
    9
    এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মো. কায়সার গ্রেপ্তার
    এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মো. কায়সার গ্রেপ্তার

    ঢাকা, ১৭ মে : মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এরশাদ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মো. কায়সারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কায়সারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
    গত বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনাল-২ সৈয়দ মো. কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া একাত্তর সালে তার নেতৃত্বে কায়সার বাহিনী গড়ে তোলা হয় বলেও জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে যুদ্ধাপরাধ টুাইব্যুনালের নির্দেশের পরদিনই সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বেসরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।
    গত বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরসহ কয়েকটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, কায়সারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অসুস্থতার কারণে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
    তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার জন্য হবিগঞ্জে কায়সার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন এই ব্যক্তি। এক সময়ের মুসলিম লীগ নেতা সৈয়দ কায়সার জিয়াউর রহমানের আমলে বিএনপিতে যোগ দেন। এইচ এম এরশাদের সময়ে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
    এর আগে কায়সারকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়ে গত বুধবার প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ট্রাইব্যুনালে বলেন, যখনি আসামি কায়সারের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ এগিয়ে যাচ্ছে, তখনি সে ও তার পরিবার সাক্ষীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদান করছে। এতে তদন্ত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদাতা অনেককেই এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কায়সারকে গ্রেপ্তার করার আবেদন করেন প্রসিকিউটর। রানা দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, কায়সার যেন অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে না পারেন, তা-ও তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করার আরেকটি প্রধান কারণ।
    তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা ট্রাইব্যুনালে বলেন, তদন্ত কাজ পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকাজ শেষ হয়ে যেতে পারে।কায়সারের গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, অভিযুক্তের পরিবার নানাভাবে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করতে চাচ্ছে।এরপর ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, প্রসিকিউশনের আবেদন বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সৈয়দ মো.কায়সারকে গ্রেপ্তার করতে দ্রুত পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হল।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here