অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত

    0
    8

    আমারসিলেটটোয়েন্টিফোর,০৮ সেপ্টেম্বর  : সর্বস্ব হারানোর মুখে এবার মরনকামড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোর সর্বাত্মক দাবি ও উচ্চ আদালতের রায়ের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে যুদ্ধাপরাধী এ দলটি এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর এজন্য বরাবরের মতোই নিজেদের সর্বশেষ কৌশলটিই আবারো তারা ব্যবহারের কথা ভাবছে। সেটা হচ্ছে- সর্বোচ্চ সহিংসতা আর হিংস্রতা। এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট- হয় সরকার পতন না হয় সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া। আর তারা সেটা করতে চায় আগামী ২৭ অক্টোবর বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে না পরলেও অন্তর্বর্তীকালীন সময় আওয়ামী লীগের হাতে যখন পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে না তখন তারা এ মরণকামড় দিতে পারে বলেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছে

    গত ২৮ ফেব্র“য়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে জামায়ত যে সহিংসতা শুরু করেছে- তাতে তাদের তিনটি লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। জনজীবন ব্যাহত করা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়া এবং সারাদেশে চরম অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, জামায়াতের সা¤প্রতিক সহিংসতাকে সামাজিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বা স্বতঃস্ফূর্ত কিছু বলা যাবে না। বরং এর পেছনে দেখা গেছে সতর্ক পরিকল্পনার ছাপ। হামলার লক্ষ্যবস্তুও বাছাই করা হয়েছে খুবই সতর্ক ও পরিকল্পিতভাবে।
    পর্যবেক্ষকদের মতে, সহিংসতা চালিয়ে সারাদেশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে বিপর্যস্ত করে জেলাগুলোর ওপর ঢাকার নিয়ন্ত্রণ ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে জামায়াত। হরতালে রেল যোগাযোগ তেমন একটা ব্যাহত হয় না বলে রেলপথকে বেছে নেয়া হয় হামলার অন্যতম লক্ষ্য হিসাবে। পাশাপাশি সড়কপথেও চলে নাশকতা। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা; যোগাযোগ কাঠামো ভেঙে দিয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলা।
    পর্যবেক্ষকরা জানান, জামায়াতের মহাপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার হাতিয়ার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর ওপর পরিকল্পিতভাবে সহিংস আক্রমণ চালায় জামায়াত। পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনা পুলিশের প্রতিরোধের সম্ভাবনাকেই উস্কে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। অবশ্য জামায়াত বিষয়টিকে আমলে নেয়নি বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। আর সে কারণেই গত ঈদের পর ১৩-১৪ আগস্ট টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে রণপ্রস্তুতি নিয়েও কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here