অনিয়ম দূর্নিতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকায় নির্মিত

    0
    17

    জৈন্তাপুর সাবষ্টেশনের দেওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে

    আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫আগস্ট,রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঘুষ দূর্নীতির অপর নাম হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। হর হামেশা চলছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি, যেন দেখার কেউ নেই। নতুন সাব ষ্টেশন স্থাপন হলেও ১ বৎসরের মধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে প্রতিরক্ষা দেওয়াল।
    ১৯৮৩ ইং সনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জৈন্তাপুর উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরন ও সরবরাহ শুরু করে। সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় বিদ্যুৎ নির্ভর কলকার খানা সহ পাথর ক্রাশিং জোন গড়ে উঠে। লাগামহীন ভাবে বিদ্যুৎ বিতরনের ফলে গ্রাহকরা লো-ভেল্টেজ সমস্যায় পড়তে হয় জৈন্তাপুরবাসীকে।

    বিদ্যুতের দূর্ভোগ নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের দারস্থ হন উপজেলাবাসী। দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সনের শেষ দিকে সংসদ সদস্য প্রচেষ্ঠায় জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরীঘাট এলাকায় জাইকার অর্থায়নে সাবষ্টেশন নির্মানের কাজ শুরু হয়। তৎকালীন জৈন্তাপুর উপজেলা আবাসিক নিজের ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে এসি রুমের মার প্যাচে ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জটিলতা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে কাজ ফেলে চলে যায় জাইকা।

    বিদ্যুতের ভোগান্তি নিয়ে ২০১৬ সনের মে মাসের শেষ সাপ্তাহে সিলেটের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পর তড়ি গড়ি করে আবাসিক প্রকৌশলী জৈন্তাপুরের তত্তাবধানে ধীর গতিতে শুরু হয় সাব ষ্টেশন নির্মাণ কাজ। কিন্তু আবাসিক প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সাবষ্টেশনের কাজ থাকার ফলে নতুন নতুন সার্ভিস ব্যাকার স্থাপন না করে পুরাতন জংধরা, রিকন্ডিশন সার্ভিস ব্যাকার ও ট্রান্সফরমার, নিম্ন মানের রড় সিমেন্ট ব্যবহার করে সাব ষ্টেশন স্থাপন কাজ করেন। সচেতন মহল প্রশ্ন কোটি কোটি টাকা সাভাড় করতে সাবষ্টেশন নতুন স্থাপন হলেও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে রিকন্ডিশন।

    নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ইট রড় সিমেন্ট ব্যবহার করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবাসিক প্রকৌশলী জৈন্তাপুর একাধিক কর্মচারী বিষয়টি জানিয়ে বলেন- যে কোন সময় এই ষ্টেশনের দেওয়াল সহ বেকার স্থাপনের যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে পড়বে এবং এই ষ্টেশন নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের করা হচ্ছে। সে সময় নির্মাণ কাজে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকরা বলেন বিদ্যুৎ বিতরন কর্তৃপক্ষের আবাসিক প্রকৌশলীর নির্দেশনা মোতাবেক রিকন্ডিশন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সাবষ্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। তাই চালু হওয়ার পরেও গোলাযোগ দেখা দিতে পারে।

    এছাড়া যেখানে পিলার স্থাপন করা হয়েছে তাও নিম্ন মানের। স্থাপনের আগেই পিলার গুলোতে দেখা দিয়েছে ফাটল। সেই ফাটল পিলার এর উপর স্থাপন করা হচ্ছে এসকল যন্ত্রপাতি। তারা আরও জানান এই ষ্টেশনে কোন অবস্থায় পুরাতন জংধরা যন্ত্রপাতি, এবং নিম্ন মানের ইট বালু ব্যবহারের নির্দেশনা নাই। কিন্তু আমরা যা পাচ্ছি তা দিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আর ষ্টেশন চালু হওয়ার পর সার্ভিস ব্যাকার গুলো বিকল হলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে এবং ভোগান্তি শিকার হবে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

    তৎকালীন আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ উদ্দিন পারভেজ এর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাছাড়া সরাসরি আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে থাকে পাওয়া যায়নি। গত ১২আগষ্ট বৃষ্টিপাত হলে ষ্টেশনের পশ্চিম দিকের পুরো দেওয়াল ধষে পড়ায় ষ্টেশনটি ঝুকি পূর্ণ হয়ে উঠে।
    এবিষয়ে জানতে বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বাবলু দেওয়াল ধর্ষের পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিবেদককে জানান- অতি বৃষ্টির ফলে ষ্টেশনের পশ্চিম দিকের দেওয়ালটি ভেঙ্গে পড়েছে।

    তিনি আরও বলেন ষ্টেশনের নির্ধারীত জায়গা ছাড়া পশ্চিম পাশ্বে অতিরিক্ত কোন জায়গা নেই। তাই নতুন করে দেওয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে ক্ষতি গ্রস্থ অংশ মেরামত করা হয়েছে। ফলে ষ্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহে আর কোন সমস্যা হবে না। নির্মাণ কাজে অনিয়ম দূর্নিতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

     

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here