Saturday 5th of December 2020 03:05:01 PM

সিলেট প্রতিনিধিঃ  বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সিলেটে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হানের মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করছে পিবিআই।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় আখালিয়ার নবাবি মসজিদ কবরস্থানে আসে পিবিআই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কবর খোড়া চলছিলো। আখালি এলাকায় প্রচুর মানুষ ভিড় করেছেন, পুনঃময়নাতদন্ত শেষে তাকে আবার কবরে সমাহিত করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন। ৬টা ৪০ মিনিটের সময় গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী।

মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।এ নিয়ে সারা দেশে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া পালিয়ে আছে।
রায়হানের স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলার সুষ্ট তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিআইবিকে।

সিলেট নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. আবদুল গফ্ফারের চেম্বারে সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন। সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। এক শিশু সন্তানের পিতা রায়হান। এক দেড় বছরের মধ্যে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে চলে যাবার কথা ছিলো তার। রায়হানের আমেরিকা প্রবাসী বোন আবেদন করেছিলেন তার পক্ষে। রায়হানের সকল স্বপ্ন চোরাবালিতে মিলিয়ে গেল। তার মৃত্যুর রহস্য বের করা পুলিশের অবশ্য কর্তব্য। দেশবাসী জানতে চাই এর মূল কারণ।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরের কোন এক সময়ে রায়হান পৃথিবীর মায়া ছিন্ন করে চলে গেছেন পরপারে। পরিবারের অভিযোগ ছিনতাইকারী বানিয়ে রায়হানকে পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করেছে।

অন্যদিকে রায়হানের মৃত্যুর পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ভিন্ন কথা। তারা বলেছে- ছিনতাইকালে নগরীর কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। কোনটি সত্য এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তোলার পর তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

নগরীর ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও রায়হানের প্রতিবেশি মখলিছুর রহমান কামরান দৈনিক সিলেট পত্রিকার প্রতিবেদককে জানান, রায়হান তার এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। সে নিজেও অত্যন্ত ভদ্র স্বভাবের ছেলে। তিনি পুলিশের দাবীকে অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। পুলিশ বলছে সকাল ৭ টায় সে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে অথচ রায়হান বন্দবাজার পুলিশ ফাঁড়ি হতে পুলিশের নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছে ভোর ৪টার সময়।

এসময় টাকা নিয়ে এসে তাকে বাঁচাবার জন্য তার পরিবারকে আবেদন জানায়। তিনি বলেন গণপিটুনীতে কেউ মারা গেলে তার শরীর, হাত এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকে। রায়হানের সে রকম কোন চিহ্ন নেই। রায়হানের আঙ্গুলের নখ উঠানো এবং হাটুর নিচে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তিনি বলেন পুলিশ নিরপরাধ এই যুবককে হত্যা করে নাটক সাজিয়েছে।

রায়হানের মা সালমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কর্মস্থল চিকিৎসকের চেম্বার থেকে ফিরতে দেরি দেখে শনিবার রাত ১০টায় রায়হানের মোবাইলে ফোন দেন মা ও স্ত্রী। কিন্তু ফোন বন্ধ পান। ভোর ৪টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে কল দিয়ে রায়হান জানায় পুলিশ তাকে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে এসেছে। এখন তার কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করছে। টাকা দিলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিবে।

এ কথা শুনে রায়হানের মা তার চাচাকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ রোববার ফজরের সময় টাকা নিয়ে ভাতিজা রায়হানকে ছাড়িয়ে আনতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যান।

এসময় সাদা পোষাকে ফাঁড়িতে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আপনার ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা। ৪ হাজার টাকা কেন নিয়ে এসেছেন। আপনি চলে যান, রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে এবং যে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও ফাঁড়িতে নেই। আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল ৯টার দিকে আসেন। আসলেই তাকে নিয়ে যেতে পারবেন। তাকে আমরা কোর্টে চালান করবো না। ’

এ কথা শুনার পর রায়হানের চাচা বাসায় চলে যান এবং পরে সকাল ৯টার দিকে টাকা নিয়ে আবারও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান।

এসময় পুলিশ সদস্যরা জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকাল ৭টার দিকে রায়হানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ খবরে হাবিবুল্লাহ তৎক্ষণাৎ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রায়হানের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

রায়হানের বাবা নেই এক ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে রায়হান সবার বড়। রায়হান ছিলেন বিবাহিত এবং এক শিশু সস্তানের জনক।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস এবং নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা পরিচালক) করা হয়েছে। শনিবার রাতে মাদ্রাসার মজলিসে শূরার বৈঠকে তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেল গঠন করা হয়।এখন বলা যেতে পারে শেষ পর্যন্ত জুনায়েদ বাবুনগরীই কি তাহলে হতে যাচ্ছে  হেফাজতের আমীর ?
সদ্য মারা যাওয়া আল্লামা শফীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বাবুনগরীর সঙ্গে এক পর্যায়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয় আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানী ও তার অনুসারীদের। গত ১৭ জুন জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তাকে সাধারণ শিক্ষক হিসেবে রাখা হয়। এতদিন অনেকটা কোণঠাসা ছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হন মাদ্রাসাটির ৩৪ বছরের মহাপরিচালক আল্লামা শফী। পরদিন আন্দোলনের মুখে তিনিও পদত্যাগ করেন। এর একদিন পরই তিনি ইন্তেকাল করেন।
আল্লামা শফীর ইন্তেকালে বাবুনগরীর অনুসারীরা হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনেকটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। হেফজাতে ইসলামের সভাপতির দায়িত্বও বাবুনগরী পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার পর কিছুদিন কারাভোগ করেন তিনি। এরপর সরকারের সঙ্গে আল্লামা শফীর ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও বাবুনগরী ছিলেন বিরোধী অবস্থানে। এজন্য তাদের মধ্যে কিছুটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

মিনহাজ তানভীরঃ হেফাজতে ইসলামের আমির, হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি ইন্তেকাল করেছেন । আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সংবাদ মাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানী। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আজ শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
জানা যায়, হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকালে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেডিকেল বোর্ডে বসেন।

কওমী মাদ্রাসার শীর্ষ এ আলেমের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বিকালে তাকে ঢাকার আজগর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষ কওমী আলেম আল্লামা আহমদ শফীর শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ। ১০৫ বছর বয়সী এ প্রবীণ আলেম ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

গত কয়েক মাসে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিলে একাধিকবার চট্টগ্রাম ও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।
শাহ আহমদ শফী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে ১৯১৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা) এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষালাভ করেন। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সদ্য তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মান জনক দায়িত্ব থেকে অবসর প্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য আজীবন তিনি প্রিয় নবীর শানে পবিত্র মিলাদ ও কিয়াম (দঃ) এর বিরোধিতা করে গেছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc