Sunday 6th of December 2020 12:00:46 AM

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন। তাকে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রধান ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন।

বুধবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন বলেন বলেন, ‘আশা করছি আগামীকাল তাকে আমরা ছাড়পত্র দেবো। তবে তাকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে সিআরপিতে (পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজড) যাওয়ার জন্য লিখে দেবো।

ইউএনও ওয়াহিদা কতটা সুস্থ হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের সাপোর্ট ছাড়াই তিনি নিজে নিজেই হাঁটতে পারছেন। তার আর কোনো সমস্যা নেই, হাত পায়ের শক্তি প্রায় নরমালের কাছাকাছি। তবে বাড়িতে বা সিআরপিতে গিয়ে থেরাপি নিলে বাকিটা ঠিক হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা। ভেতরে ঢুকে ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুরে ও পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমান তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আমাদের সময়

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এই প্রথম উপজেলা পর্যায়ে চুনারুঘাটে চালু হতে যাচ্ছে ভার্চুয়াল হাসপাতাল। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চুনারুঘাট উপজেলায় আজ পর্যন্ত ৬ জন করোনা শনাক্ত রোগী পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একজন ডাক্তার এবং একজন স্বাস্থ্য কর্মী ও রয়েছেন। এই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে লকডাউন অবস্থায় আছে। হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ কামরুল হাসান এর নির্দেশনায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এনজিও আশা এবং ইসলামিক মিশনের সর্বমোট ৮ জন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সমন্বয়ে চালু হতে যাচ্ছে ভার্চুয়াল হাসপাতাল। ভার্চুয়াল হাসপাতালের পেইজে দেওয়া মোবাইল নাম্বারে কল করে অথবা প্রয়োজনে মেসেঞ্জারে অথবা হোয়াটস অ্যাপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একজন রোগী ২৪ ঘন্টা তার যে কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যার সমাধান পেতে পারেন একদম বিনামূল্যে।

জহিরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিজ উদ্যোগে সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ডিজিটাল ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার, গ্লাভস্,পিপিই, অবৈতনিক কর্মচারীদের জন্য নগদ অর্থ প্রদান।

শ্রীমঙ্গল দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগে সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঔষুধ ব্যবসায়ীর সভাপতি সৈয়দ মনসুরুল হক নিজ উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডিজিটাল ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার,গ্লাভস্,পিপিই, অবৈতনিক কর্মচারীদের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেন।

আজ ১৯ এপ্রিল (রবিবার) সকালে সেফটি সামগ্রী গুলি গ্রহণ করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো.সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী,আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আবু নাহিদ।

এর আগে তিনি শহরের গুহ রোডে অবস্থিত কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ও পোস্ট অফিস রোডে অবস্থিত প্রাইভেট পলি ক্লিনিক এর এ্যাম্বুলেন্স চালকদের পিপিই প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জগৎজ্যোতি ধর শুভ্র,সাংগঠনিক সম্পাদক আবু কাউছার লাভলু,স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহবায়ক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আল হারামাইন হাসপাতালের উদ্যোগে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে গরীব ও অসহায় মানুষদের জন্য দিনব্যাপী বিনামুল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১ টায় শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে বিনামুল্যের এ মেডিকেল ক্যাম্প  উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ ও অনুমিত হিসাব সস্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব ড. মোঃ আব্দুস শহীদ।

শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় ও ক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আল হারামাইন হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ এর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ অলিউর  রহমান, পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডাঃ এম ফয়েজ আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা. নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান আশিক, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দছ ছালেক দুলাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাখাওয়াৎ হোসেন, দি মৌলভীভাজার চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর পরিচালক আব্দুর রহিম রিপন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ইসমাইল মাহমুদ ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী ।

সিলেট আল হারামাইন হাসপাতালের রিজিওনাল অফিসার (মার্কেটিং) সুফিয়ান আহমদ জানান, সকাল ১১ টা থেকে দিনব্যাপী আল হারামাইন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্ববধানে বিনামুল্যে এ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং তা ছাড়াও বিনামুল্যে ঔষুধ প্রদান করা হয়।

এস এম সুলতান খান চুনারুঘাট থেকেঃ  চুনারুঘাট হাসপাতালে বাদিনী স্ত্রীর স্বজনদের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নুর বানু (৫০) নামের বাদিনীর ফুফু আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সদর ইউনিয়নের মধ্যনরপতি গ্রামে যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে সকালে চুনারুঘাট হাসপাতালে ভর্তি হন একই গ্রামের রমিজ আলীর কন্যা পুতুল বেগম( ২২)। বিষয়টি জানার পর আহত পুতুলকে দেখতে হাসপাতালে যান তার ফুফু নুর বানুসহ স্বজনরা।
পুতুল হাসপাতালে ভতির খবর জানতে পেরে তার স্বামী পারভেজুর রহমান রনি হাসপাতালে উপস্থিত হন। তখন পুতুলের স্বজনদের সাথে নির্যাতনের বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ড হয়। এক পর্যায়ে রনি তার ফুফু শাশুড়ি নুর বানুকে কিল ঘুষি মারলে নাক পাটিয়ে দেয় এতে তিনি রক্তাক্ত আহত হন ।
হামলার ঘটনায় হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হামলাকারী যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার এস আই সামিউল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হামলাকারী স্বামী পারভেজুর রহমান রনি (২৫) কে আটক করে থানায় নিয়ে যান। রনি সিলেটের ছাতক উপজেলার ছাদিকুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায় বিয়ের পর থেকেই রনি নরপতি গ্রামেই বসবাস করছে। এদিকে আহত নুর বানু (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতলে ভর্তি রয়েছে। আহত নুরবানু সদর ইউনিয়নের মধ্য নরপতি গ্রামের মৃত আঃ ছত্তার মিয়ার স্ত্রী। আহত নুর বানু জানান রনি তার ভাইজি পুতুলকে বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য মানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে আসছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে স্বামী। এঘটনায় গৃহবধূ পুতুলকে  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ খবর শুনে তিনি তাকে হাসপাতালে দেখতে যান, পুতুল কেন হাসপাতাল ভর্তি হল এনিয়ে পুতুলকে চর তাপ্পর মারে স্বামী রনি তখন ফুফু বাধা দিলে রনি হামলা করে এসময় ফুফু মারাত্মক জখম হন। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে হামলা আমরা কেহ নিরাপদ নয়, এ হামলার সঠিক বিচার চান রোগীরা।
আটক রনির স্ত্রী জানায় তার স্বামী টাকার জন্য প্রায় সময় তাকে নির্যাতন করে এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এঘটনায় তিনি মামলা করবেন। আরএমও মোমিন উদ্দিন চৌধুরী জানান হাসপাতালে হামলার খবর শুনে সাথে সাথ পুলিশ পাটিয়েছি। পুলিশ জানায় তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে তবে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এখন থেকে চট্টগ্রামেই মিলবে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের বহুল প্রত্যাশার ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হল  শনিবার সকাল ১০টা থেকে। এ হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন বিশ্বের খ্যাতনামা কার্ডিয়াক সার্জন, ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ডা. দেবী শেঠী।এখন থেকে চট্টগ্রামেই মিলবে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা।
নগরীর পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের পাশে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। এর হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসা থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম ডা. দেবী শেঠীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এই বিভাগের নাম দেয়া হয়েছে ইম্পেরিয়াল-নারায়ণা কার্ডিয়াক বিভাগ। ইতোমধ্যে ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা কার্ডিয়াক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের একটি টিম চট্টগ্রামে পৌঁছে গেছেন। ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক দেবী শেঠী ‘কর্ণাটক রত্ন’ পুরস্কারও পেয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নানা পুরস্কারে ভূষিত এই চিকিৎসক ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের হৃদযন্ত্রে সার্জারি করেছেন। মাত্র নয়দিন বয়সী এক শিশুর হৃদপিণ্ডে অস্ত্রোপচার করে তিনি আলোচিত হন। গরিব এবং দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়েও প্রখ্যাত এই চিকিৎসক ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে দেবী শেঠীর হাসপাতালে যান। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কষ্ট লাঘবে চট্টগ্রামেই যাতে হৃদরোগের বিশ্বমানের চিকিৎসা হয় সেজন্য ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. দেবী শেঠীকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন। দেবী শেঠীর সাথে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। যাতে এই হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের যাবতীয় দায়দায়িত্ব ডা. দেবী শেঠীর ওপর অর্পণ করা হয়। তিনি ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা কার্ডিয়াক সেন্টারের প্রধান সার্জন ছাড়াও নার্স এবং আয়া থেকে শুরু করে পুরো টিমই চট্টগ্রামে পাঠান। জানা গেছে, এখানে কার্ডিয়াক বিভাগের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষাও ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা কার্ডিয়াক সেন্টারের মতোই পরিচালিত হবে। হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যাঙ্গালুরুর চিকিৎসাই পাওয়া যাবে ইম্পেরিয়ালে।
আজ সকালে বিশেষ একটি ফ্লাইটে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম আসবেন ডা. দেবী শেঠী। সাথে তাঁর বড় পুত্র বিরেন শেঠীসহ হাসপাতালের একটি টিমও থাকছে। দুপুরে ডা. দেবী শেঠী ব্যাঙ্গালুরু ফিরে গেলেও তাঁর টিম থেকে যাবে চট্টগ্রামে।
চট্টগ্রামের মানুষ বহুদিন ধরে এ হাসপাতাল চালুর অপেক্ষা করছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লেখালেখি হয়েছে। অবশেষে হাসপাতালটি কার্যক্রম চালু করায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, চট্টগ্রামে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার যেই আশা মানুষ বহুদিন ধরে করছিলেন আজ থেকে তা হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি অনেক বড় একটি ব্যাপার।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান ও চিটাগাং আই ইনফারমারি এন্ড ট্রেনিং কমপ্লেঙ (সিইআইটিসি) এর ম্যানেজিং ট্রাস্ট্রি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেছেন, শুধু চট্টগ্রামেরই নয়, দেশের চিকিৎসা সেবায় ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল আগামী অন্তত ১৫ বছর এগিয়ে থাকবে। প্রায় ৯০০ কোটি টাকার এই হাসপাতালে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশ্বের সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের এই হাসপাতালে শুধু ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর চিকিৎসাই নয়, ইউরোপ এবং সিঙ্গাপুরের সমমানের স্বাস্থ্যসেবাও মিলবে। ট্রাস্ট পরিচালিত এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের মানুষের আর্থিক বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দেশের শীর্ষ হাসপাতালগুলোর চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, আমাদের বহুদিনের চেষ্টা ছিল বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল গড়ে তোলা। গত ১০ বছর ধরে চেষ্টার ফসল আজকের ইম্পেরিয়াল। তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য নয়, চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই কিছু মহৎ হৃদয়ের মানুষ এই হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। যারা লাভের চিন্তা না করেই এই হাসপাতালের জন্য টাকা দিয়েছেন।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড মেম্বার ও সিইআইটিসি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ মালেক বলেন, আমরা বহুদিন ধরে চট্টগ্রামে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার অভাব বোধ করছিলাম। এখানে উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ায় প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষ প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ বিশ্বের নানা দেশে ছুটতেন। যেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকারও হতে হয়। আমরা মানুষের এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে চেয়েছি। আমরা চট্টগ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছি। এই হাসপাতালের মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রামের অসুস্থ মানুষ এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য কাজ করবো।
এম এ মালেক বলেন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল একেবারে নীরবে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় একটি বিপ্লব সাধন করেছে। এখানকার মানুষ আজ থেকে মানুষ সেই বিপ্লবেরই সুফল পাবেন।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ডিরেক্টর (স্ট্র্যাটেজিক কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন বলেন, সাত একর জমির মধ্যে ৫টি ভবন নিয়ে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গায় এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের নার্সেস এবং টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই হাসপাতালের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি বিখ্যাত স্থাপত্য সংস্থা এই হাসপাতালের মূল নকশা প্রণয়ন করে। একটি ইউরোপিয়ান কনস্যালটেন্ট গ্রুপ নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নে প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি এবং বায়োমেডিকেল বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে।
রিয়াজ হোসেন জানান, যে কোনো ধরনের ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ, রোগীদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা-এই তিনটি জিনিসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রয়েছে উন্নতমানের সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্‌ ইত্যাদি সম্বলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার; আছে ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনস্যালটেন্ট রুম সম্বলিত বহির্বিভাগ এবং আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন ৬৪টি ক্রিটিকাল কেয়ার বেড; নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং ৮টি পেডিয়াট্রিক আই সি ইউ। রোগী ও তার সাথে আগত স্বজনদের জন্য হাসপাতাল পরিধির মাঝে থাকার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত আছে। হাসপাতালে ৮৮টি সিঙ্গেল, ৭৬টি ডাবল কেবিন, ৮টি পেডিয়াট্রিক আই সি ইউ, রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য ৪০টি রুম এবং ২৭১ জন থাকার ডরমেটরি রয়েছে বলে জানান রিয়াজ হোসেন।দৈনিক আজাদি

রাজধানীর বনানীর এফ এ টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রাজধানীর সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, সব হাসপাতালকে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব খরচ সরকার বহন করবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসার খরচ পরবর্তীতে সরকার প্রদান করবে।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্স ও কাছাকাছি বক্ষ্যব্যাধী হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো কাজ করছে সরকারি নির্দেশনায়।

তিনি আরো বলেন, ঢামেকের বার্ন ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় হাসপাতাল সেবার মূল কাজ করতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে প্তস্তুত রাখা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কুর্মিটোলায় ১ জন মৃত ও ৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন বলেও জানান সত্যকাম চক্রবর্তী।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩মে,বিক্রমজিত বর্ধন,নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরের নিশিকান্ত দাশ। জন্ম থেকে  দু-চোখ অন্ধ। রাস্তাঘাটে গান গেয়ে ভিক্ষা ভিত্তি করে কোন রকমে তার দৈনন্দিন খোড়াক মেটাতেন। নিশির পরিবার তাকে তাদের বোঝা মনে করতেন। অন্ধ নিশির গানের খবর পায় বিএনসবি চক্ষু হাসপাতাল কর্তপক্ষ। এর পর নিশির খোঁজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লোক লাগান।

এক সময় বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল খোজে পায় নিশিকে। নিয়ে আসেন মাতারকাপনস্থ তাদের এই হাসপাতালে। হাসপাতালের ডাক্তাররা গভীর যতœসহকারে নিশির দু’চোখ অপারেশন করেন। আর অপারেশনের পর জন্মান্ধ নিশি দুনিয়ার আলো দেখে আনন্দে আত্মহারা। আর নিশির চোখের আলো ফিরিয়ে দিয়ে বিএনএসবি হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক, ডাক্তার স্টাফদেরও আনন্দের শেষ নেই। আর এই আনন্দে বিএনএসবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশির পরিবর্তী জীবনের পথ পর্দশক হিসেবে তাকে বিএনএসবিতেই চাকুরী দেন। বর্তমানে নিশি চাকুরী করছে বিএনএসবির একটি অঙ্গ প্রতিষ্টান নবীগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে।

এভাবে মৌলভীবাজারের মাতারকাপন বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এতদ অঞ্চলের বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। দৃষ্টি হারিয়ে যারা কর্মক্ষম তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে কর্মপযোগী করে দিচ্ছে এ হাসপাতালটি।  ঘুছেছে তাদের বেকারত্ব ও অন্যের উপর ভর করে চলা। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও তরান্বিত করেছে।  আর এই কারনে প্রতিষ্টানটি এখন সিলেট বিভাগের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত হয়েছে। তিল তিল করে স্বমহিমায় প্রতিষ্টানটি অতিক্রম করেছে ৩৫টি বছর।

১৯৮৩ সালে ৩.২১ একর জমির উপর বিদেশী দুটি সংস্থার অর্থায়নে গড়ে উঠে এই হাসপাতালটি। এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্টার পর থেকেই সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা ছাড়াও ব্রাম্মনবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলার রোগীরা এই হাসপাতালে এসে তাদের চোখের সেবা নিয়ে থাকেন। আর যত দিন অতিবাহিত হয় ততই এর পরিধিও বাড়ে, বাড়ে এর রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে বছরে এর সেবা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দুই লক্ষের উপরে। যার মধ্যে অধিকাংশ রোগীই চোখে ছানি পড়া নিয়ে আসেন। যাদের ৭০ ভাগই রোগীকেই বিনামুল্যে চোখে ল্যান্স সংযুক্ত করে দেয়া হয় বলে জানালেন, প্রতিষ্ঠানটির অবৈতনীক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোসাহিদ আহমেদ চুন্নু।

তিনি জানান, তারা শুধু এই হাসপাতালে নয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দূরবর্তী বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রত্যেক মাসেই আই ক্যাম্প করে সরজমিনে চক্ষু সেবা দিয়ে থাকেন। সেখানে ছানি পড়া রোগী পেলে তাদের বিএনএসবি- তে এনে চোখ অপারেশন করে ভালো করে দেন।

শুধু বয়স্ক নয় সম্প্রতি শিশুবান্ধব করে বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে চালু করা হয়েছে শিশু ওয়ার্ড। সেখানেও প্রতিদিন দুইশ‘র উপরে  শিশু রোগীকে তাদের চোখের সেবা দেয়া হচ্ছে। আর বৃহত্তর সিলেট বিভাগে শিশুদের জন্য এটাই একমাত্র শিশুবান্ধব চক্ষু হাসপাতাল। যেখানে অনেক ক্ষেত্রে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু রোগীকে পাঠানো হয়।

আর এখানে রোগীদের সেবা দেয়া হয়ে থাকে পরম ¯েœহে এবং ভালোবাসায়। যারা চিকিৎসা নেন তাদের কাছের আত্মীয়ের মতো অত্যন্ত যতœ করেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অনান্য সংশ্লিষ্টরা। এখানে একজন রোগী বিনামুল্যে চিকিৎসা নিলেও রোগীকে এবং তার সাথের একজনকে দুপুরের খাবার রাতের খাবার ও সকালের নাস্তা ফ্রি দেয়া হয়। আর একজন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েই তাদের দ্বায়িত্ব শেষ করেনা। তারা প্রতি রোগীকেই ফলোআপ করেন। অপারেশন করা রোগীকে অপারেশনের এক সাপ্তাহ পর এবং তারও এক মাস পর পর্যন্ত রোগীকে পর্যবেক্ষনে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ হাসপাতালে চক্ষু ডাক্তার আছেন ১২ জন। আর সব মিলিয়ে স্টাপ আছেন ১২৮জন। এর বাহিরে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ চুন্নু ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে এম এ মুনিম বেতন ছড়া  প্রতিদিনই অফিস করেন।

প্রতিষ্ঠানটি বিদেশী সংগঠন আন্দেরী হিলপি ও ওরবিস এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত হলেও এর বিশাল ব্যায়ভারের জন্য বৃত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান এর পরিচালনা পরিষদ। তাদের এ আহবানে সারা দিয়ে সম্প্রতি ডাচ্ বাংলা ব্যাংক বেশ কিছু চোখে ছানি পড়া রোগীর দ্বায়িত্ব নিয়ে রোগী প্রতি ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করছেন। এর ফলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানের বেশ কিছু অন্ধরোগী ফিরে পাচ্ছে তাদের চোখের আলো।

সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রতিষ্টানটির বাৎসরিক ব্যায় হয় প্রায় ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এই বিশাল ব্যায় নির্বাহনের জন্য আরো সাহায্য প্রয়োজন। তিনি বৃত্তবানদের কাছে আহবান রাখেন তাদের যাকাত ফান্ডসহ সাধ্যমতো সহায়তা করে প্রতিষ্টানটিকে টিকিয়ে রাখার।

এদিকে এখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আর্থিক ভাবে লাভবানের চেয়ে  মানষিক তৃপ্তিই হচ্ছে বড় বলে জানান, এ প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট ডা: আলামিন। তিনি জানান, এখানে রোগী আসেন অন্ধ হয়ে আর ফিরে যান দৃষ্টি নিয়ে। সুস্থ হয়ে রোগী যখন মনের আনন্দে তাদের জড়িয়ে ধরেন তখন মনে হয় যেন এটাই স্বর্গের সূখ। তিনি জানান, রোগী অনেক সময় বাপ বলে ডাকে। যা মনের মধ্যে অন্যরকম এক তৃপ্তি এনে দেয়। তিনি জানান, এখানে চাকুরী করায় এলাকার মানুষ মুল্যায়নও করেন বেশ। যে কারনে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন।

আর প্রতিষ্ঠানের অপর কনাসালটেন্ট ডা: আমিনুল জানান, এ হাসপাতালটি সিলেট বিভাগের অন্যতম চক্ষু হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসার মান অনেক ভালো। এখানে রয়েছে গ্লুকুমা ডিপার্টমেন্ট। যদি কোন কারনে রোগীর চোখের পেশার বেড়ে যায় তাহলে এই ডিপার্টমেন্ট থেকে তা সারানো হয়। তিনি জানান, কাছা কাছি সময়ে এখানে সংযুক্ত হচ্ছে রেটিনা ভিট্রোরেটিনা ডিপার্টমেন্ট । এ বিভাগে চিকিৎসার জন্য রোগীকে ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু সিলেট বিভাগের গরিব রোগীর পক্ষে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয় না, যা তারা সরাসরি এখান থেকেই এ চিকিৎসা নিতে পারবেন।

বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো: এহসানুল মান্নান মামুন জানান, এই হাসপাতালটি বিগত তিন দশক ধরে সিলেট বিভাগের প্রতন্ত অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের বিনামুল্যে সেবা প্রদান করে আসছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যখন সুস্থ হয়ে ফিরে যান তখন রোগীদের আনন্দ ও চোখের ভাষা চিকিৎসা সেবায় সম্পৃক্তদের আবেগাফ্লুত করে। যা দেখে তিনিও মনের মধ্যে অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব করেন। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্টানে চাকুরী করায় তিনি মানুষকে সেবা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটাই তার জীবনের একটি বড় পাওয়া।

এ প্রতিষ্টানে গরিব কোন রোগীর কাছ থেকেই টাকা নেয়া হয় না। যাদের টাকা দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে শুধু তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা গরিবের জন্য ব্যয় করা হয়। তিনি জানান, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্টান। এখানে শুধু চক্ষু চিকিৎসা দিয়েই প্রতিষ্টানটি ক্ষান্ত থাকছেনা। এখান থেকে বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরহিত ও জনপ্রতিনিধিদের এনে চোখের প্রাথমিক পরিচর্যার বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্কুলে গিয়ে ছাত্রছাত্রিদের এ বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। একই সাথে তাদের চোখ পরীক্ষা করে যাদের দৃষ্টি ত্রুটি পাওয়া যায় তাদের চশমা ও ঔষধ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের অপটমেট্রিষ্ট আব্দুল বাতেন বলেন, হাসপাতালটির পরিচ্ছনতা যে কারো নজর কারে। এর পরিচন্নতা রোগীর মনের মধ্যে বেশ প্রভাব ফেলে। পুরো হাসপাতালটি সব সময় ঝকঝকে করে রাখা হয়। বেশ কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী দিনে অনেকবার তা পরিষ্কার করেন। তাছাড়া কোন রোগীর সাথে ডাক্তার থেকে শুরু করে কোন স্টাপই বিরক্তির সুরে কথা বলেন না। তাদের আন্তরিক আচরণ রোগীকে মুহিত করেন।

কথা হয় এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাওয়া নিশিকান্ত দাশের সাথে। নিশি জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি তার কাছে ভগবানের মতো। তিনি কোনদিন ভাবেননি পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেন আর চাকুরী করার স্বপ্ন দেখার তো প্রশ্নই উঠেনা। বিএনএসবি কর্তৃপক্ষ তাকে খোঁজে এনে চোখ অপারেশন করে ভালো করেছেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানেই তাকে চাকুরী দিয়েছেন। এখন তার চাকুরীর বেতন দিয়েই নিশির সংসার চলে।

আর ওরবিস ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক সদ্য প্রতিষ্টিত শিশু বিভাগটি প্রতিষ্টার পর সিলেট বিভাগের প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা এখান থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।  শিশু বিভাগটি সাজানো হয়েছে সম্পন্ন শিশু বান্ধব করে। শিশু বিভাগে রাখা হয়েছে শিশুদের বিভিন্ন রাইডসও। যা শিশুদের বিনোদনের খোড়াক যোগায়। এ ব্যাপারে শিশু চক্ষু চিকিৎসক ডা: সাজেদা খানম জানান, এই বিভাগ চালু হওয়ার পর এখান থেকে বহু শিশুর চোখের ছানি অপারেশন করা  হয়েছে। বিশেষ করে বহু শিশুর টেরা চোখ ভালো করা হয়েছে।

প্রতিদিনিই এখান থেকে প্রায় অর্ধশত রোগী অপারেশনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। আর তারা পরনির্ভরতার গ্লানি মুছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখছেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc