Saturday 31st of October 2020 04:52:35 PM

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে- যা অনাকাঙ্খিত। বর্তমানে পিক আওয়ারে ৯০০০ মেগাওয়াট চাহিদা হলেও গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগছে। তবুও কেন লোড শেডিং হবে?

সোমবার রাজধানীর বারিধারার নিজ বাসভবন থেকে  বিদ্যুৎ বিভাগ এবং এর অধীনস্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ‘নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা’ সংক্রান্ত  সভায় প্রতিমন্ত্রী এমন প্রশ্ন তুলেছেন।

সভায় তিনি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে দ্রুততার সঙ্গে গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বলেন। রোস্টার করে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন তিনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন, আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.), পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন এবং দপ্তর ও কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালরা ভার্চ্যুয়াল এই সভায় অংশ নেন। সভায় মহামারীর সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, চলমান প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান, বিভিন্ন সময়ে করা চুক্তিসমূহ ও এর আওতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নসরুল হামিদ বলেন, আগামীতে ঝড়-বৃষ্টি হবে, সচেতন থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমান পেক্ষাপট বিবেচনা করে  বিদ্যমান প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স নামক কোম্পানি গঠনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যৌথ বিনিয়োগে এরূপ কোম্পানি হলে আমাদের সক্ষমতা অনেক বাড়তো এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হতো না। তিনি এ সময় গ্রিড সাব-স্টেশনগুলো নিয়মিত মেরামতের নির্দেশ দেন।

বিনোদন ডেস্ক :বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে গিয়ে ইত্যাদি ধারণের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নান্দনিক দৃশ্যাবলীতে সাজানো কিশোরগঞ্জের হাওড়ের মাঝখানে দ্বীপের মত ভেসে থাকা মিঠামইনের হামিদ পল্লীতে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের অসাধারণ নৈসর্গিক দৃশ্যের সাথে সংগতি রেখে সাজানো মঞ্চে ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। ইত্যাদির ধারণ উপলক্ষে ভাটির দেশ কিশোরগঞ্জে ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর, করিমগঞ্জ, ইটনা, অষ্টগ্রাম, ভৈরব, নিকলী, কটিয়াদী, হোসেনপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত নৌকা-ট্রলারে করে হাজার হাজার মানুষ আসতে থাকেন হামিদ পল্লীতে। হাওড়ের মাঝখানে ছোট্ট এই পল্লীটির চারিদিকে হাজার হাজার নৌকা-ট্রলারের সারি এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করেছিল।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় দুপুর ২টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন। বিকেলের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। আমন্ত্রিত দর্শক ছাড়াও হাজার হাজার মানুষ হাওড়ের পাড়ে দাঁড়িয়ে, নৌকা ও ট্রলারের ছাদে বসে ইত্যাদির ধারণ উপভোগ করেন। হাওড়ের মাঝখানে এ যেন জনসমুদ্র। এত দুর্গম অঞ্চলে অনুষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানস্থলে প্রায় লক্ষাধিক দর্শক সমাগম হয়েছিল।
বাংলাদেশের যখন যে স্থানে ইত্যাদি ধারণ করা হয় সেই স্থানটির বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করেই মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। ফলে দর্শকরা যেমন ঐ স্থানটি সম্পর্কে জানতে পারেন, তেমনি নিত্য-নতুন লোকেশনের কারণে প্রতিবারই মঞ্চ নির্মাণেও আসে বৈচিত্র্য। এবারও হাওড় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরে জলে ও ডাঙ্গায় শতাধিক নৌকা রেখে নির্মাণ করা হয় নান্দনিক মঞ্চ। সব সময় রাতের আলোকিত মঞ্চে ইত্যাদি ধারণ করা হলেও এই স্থানের নৈসর্গিক রূপ রাতের বেলায় দেখানো সম্ভব নয় বলে এবার দিনের আলোর পড়ন্ত আভায় ইত্যাদির ধারণ শুরু হয়।
ফাগুন অডিও ভিশনের একজন মুখপাত্র জানান, তিন দশক পেরিয়ে চার দশকে পদার্পণ করেছে ইত্যাদি। সাধারণ মানুষের সমর্থন, সহযোগিতা, ভালোবাসার কারণেই ইত্যাদি এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পেরেছে। আমরাও সব সময় বলি ইত্যাদি সব বয়সের, সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান।
কারণ একটি শিশুও যেমন ইত্যাদি দেখে, তেমনি তার দাদুও দেখেন। ইত্যাদিতে আমরা সবার কথা বলতে চেষ্টা করি। কারণ দেশ গড়ায় সবার অবদান রয়েছে। আর তাই আমরা ইত্যাদিকে নিয়ে যাই গ্রামে-গঞ্জে, সাধারণ মানুষের কাছে। দর্শকরা সময় বের করে আমাদের অনুষ্ঠান দেখতে বসেন। আমরাও তাদের সেই সময়ের মূল্য দিতে চেষ্টা করি।
স্টুডিওর বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠান ধারণের এই ধারণাটিকে এখন অনেকেই গ্রহণ করেছেন। ফলে টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণেও বৈচিত্র্য এসেছে। এবারে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হাওড় অঞ্চলে ধারণকৃত অনুষ্ঠানটি বিষয় বৈচিত্র্য, স্থান নির্বাচন সবদিক থেকেই হয়েছে ব্যতিক্রমী ও উপভোগ্য।
গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির এই মিঠামইনের পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত হবে ০৪ অক্টোবর, শুক্রবার-রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর।
ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস্ লিমিটেড।

নাজমুল সুমন: ওয়েলস বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ইউকে ও বৃটেনের কার্ডিফের  ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট তথা শহীদ মিনার কমিটির নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আলহাজ্জ আব্দুল হামিদ মহোদয় এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় মিলিত  হয়েছেন।

বৃটেনের বাংলাদেশের হাইকমিশনার হ্যার এক্সেলেন্সি মিসেস সাইদা মুনা তাসনিম এর ব্যাস্থাপনায় ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর  সার্বিক সহযোগিতায় গত ২৫ মে  লন্ডনের হোটেলে অবস্থানকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রতির সাথে মতবিনিময় সভার শুরুতেই  বৃটেনের কার্ডিফের ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট তথা শহীদ মিনার কমিটির জেনারেল সেক্রেটারী ওয়েলসের কমিউনিটি সংগঠক সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর কার্ডিফের ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্ট কমিটির ওয়েলস থেকে আগত প্রতিনিধিদলকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরে ওয়েলস থেকে আগত  প্রতিনিধিরা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও শহীদ মিনার ছবি সম্মলিত স্মারক এবং ওয়েলস যুবলীগের প্রকাশনা ওয়েলসের ইতিহাসের প্রথম স্মারক গ্রন্থ  হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু ম্যাগাজিন প্রদান করেন।

উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বৃটেনের বাংলাদেশের হাইকমিশনার হ্যার এক্সেলেন্সি মিসেস সাইদা মুনা তাসনিম, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি মনুমেন্টের লাইফ মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি নইম উদ্দিন রিয়াজ, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও মনুমেন্ট  ফাউন্ডার ট্রাষ্টি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী,  কার্ডিফ কাউন্টি কাউন্সিলার দিলওয়ার আলী, মনুমেন্ট তথা শহীদ মিনার কমিটির ডেপুটি চেয়ার সাবেক কাউন্সিলার মোহাম্মদ সেরুল ইসলাম, শহীদ মিনার কমিটির ট্রেজারার আনহার মিয়া, নিউপোট আওয়ামী লীগের সভাপতি  মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ, ওয়েলস বিসিএর প্রেসিডেন্ট ও মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি আব্দুল লতিফ কয়সর উল্লাহ, ওয়েলস বিসিএর সাবেক ট্রেজারার মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি মোহাম্মদ মুজিব, মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি আলহাজ্ব আসাদ মিয়া, মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি আব্দুস সালাম বুলবুল. মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি শফিক মিয়া ও মনুমেন্টের ফাউন্ডার ট্রাষ্টি শামীম আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মনুমেন্ট ফাউন্ডার ট্রাস্ট কমিটির সেক্রেটারি  মোহাম্মদ  মকিস মনসুর শহীদ মিনার প্রতিষ্টার বিভিন্ন পটভূমি তুলে ধরেন এবং মানণীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে এই মহতি প্রজেক্ট বাস্তবায়নে প্রায় ৬৬ হাজার পাউন্ড অনুদান দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও জাতির জনকের কন্যা শেখ রেহেনার প্রতি  কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ মহোদয় বৃটেনের কার্ডিফে বাঙালীরা এরকম একটি চমৎকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করায় আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ সহ প্রজেক্টের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে দীর্ঘ ১৩ বছরের অক্লান্ত পরিস্রমে ও কমিউনিটির প্রচেষ্টায় বৃটেনের ওয়েলসের  ইতিহাসে কার্ডিফ শহরের এই প্রথম শহীদ মিনারটি আজ দৃশ্যমান. গত ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে ওয়েলসবাসী নব ইতিহাসের সূচনা করেছে।

অষ্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ “কিশোরগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান,ভাঁটি অঞ্চলের “ভাঁটির রত্ন” বলে খ্যাত,প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা গণ মানুষের প্রিয় হামিদ ভাই দেশের মহান রাষ্ট্রপতি  আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে দেশপ্রেম ও সততা থাকতে হবে। যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবা করতে পারে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে হলে শিক্ষকদেরকেও পড়াশোনা করতে হবে। বেশি বেশি জানতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে, তারা আলোকিত হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলে বলেন, বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। এখানে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। সে অনুযায়ী পড়াশোনা করতে হবে। এ প্রতিযোগিতা শুধু দেশের ভিতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিঠামইনে তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে ভালোভাবে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফল ছাড়া কোনো কাজ করা যাবে না। যেনতেনভাবে পাস করলেই চলবে না। শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে চীনে, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, তৃতীয় অবস্থানে ভারত আর বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখের উপরে বলে তিনি জানান। তাই সরকারের উচিত দেশে কর্মসংস্থানে পরিবেশ সৃষ্টি করা। সরকার তা করে যাচ্ছে।

হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক নূরুর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আমির হোসেন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, মিঠামইন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সহিদ ভুঁইয়া, হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র বৈষ্ণব, মিঠামইন সদর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ কামাল প্রমুখ।

এর আগে দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি মিঠামইন বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়।

“ডিসিদের প্রতি মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু করার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ”

ডেস্ক নিউজঃ  রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মো. আবদুল হামিদ সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রতি মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু করার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বাদ দিয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে দেশের সব বিভাগ ও জেলার প্রশাসনিক প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বাদ দিয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিন।’

রাষ্ট্রপতি তাদের সত্যিকারের ‘জনসেবক’ হিসেবে দেশ ও জনগণের সেবা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘জনগণ যাতে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

দুর্নীতি সমাজ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ডিসিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে সচেতন করে তোলার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ডিসিদের তাদের কোনো কর্মকাণ্ডে সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন।

উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিষয়ে নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পরবর্তী এক বছরের জন্য কাজে অগ্রাধিকার ও দিক-নির্দেশনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশকে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে মাঠপর্যায়ে প্রশাসকদের জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেন।

কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে সরকারের বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনগণের প্রতিটি টাকার যাতে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে পরিচালিত সরকারের সব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিসিদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেন। তিনি গ্রামপর্যায়ে জনকল্যাণমুখী ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইজড করতে জেলা প্রশাসকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে জেলা প্রশাসকদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সব অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে সরকারি কর্মকর্তাসহ দেশবাসীর ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি ডিসিদের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতে ডিসিদের বেশ কিছু দিক-নির্দেশনাও দেন।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকার ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।সূত্র:বাসস।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ  রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন  সাত বারের নির্বাচিত “ভাঁটির রত্ন” আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি, দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিচারক, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সিনিয়র রাজনীতিক, কূটনীতিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৩ সলের ১৪ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ  মোঃ জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন আবদুল হামিদ। একই বছরের ২২ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত এবং ২৪ এপ্রিল শপথগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ।

পাঁচ বছর আগে দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদ।

উল্লেখ্য প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে সাতবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল, অষ্টগ্রাম,ইটনা,মিঠামইন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১ফেব্রুয়ারিঃ   বর্তমান রাষ্টপতি ভাঁটির রত্ন আলহাজ্জ মোঃ আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে আবারো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে।বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির সংসদীয় বোর্ডের সভা শেষে এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
পার্লামেন্টরি বোর্ডের সভায় রাষ্ট্রপতি পদে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর নাম প্রস্তাব করেন ওবায়দুল কাদের। সমর্থন করেন তোফায়েল আহমেদ। বিকল্প কোন প্রস্তাব না আসায় আবদুল হামিদের নাম চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় কোনো প্রার্থীর নাম আসেনি। জাতীয় স্বার্থে তাকে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোট গণনাও হবে প্রকাশ্যে। এরপরই নির্বাচিত হবেন দেশের একুশতম রাষ্ট্রপতি। তবে, একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
২০১৩ সালের ২৪ শে এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. আবদুল হামিদ। তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬ডিসেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব;আসুন-মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি, দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেই সমৃদ্ধ আগামীর পথে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি আলহাজ্জ মোঃ আব্দুল হামিদ একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তারই আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় বলে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ  আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আজ বিনম্র চিত্তে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অপরিসীম ত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিজয়ের এই মহান দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যারা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, জাতি তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

আরো ১০ হাজার টন ত্রাণ দেয়া হবে -এরদোগান

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ   প্রেসিডেন্ট আলহাজ্জ মোঃ আবদুল হামিদ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগে এবং ওআইসি’র মতো সংগঠনগুলোর সহায়তায় একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় ওআইসি সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এরদোগানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে আবদুল হামিদ বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠির জন্য জাতিসংঘ অথবা ওআইসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তোলা যেতে পারে।’
প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। এই জনস্রোত ঘন জনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও পরিবেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে এবং পূর্বপুরুষের ভূমিতে তাদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগে তুরস্কের নেতার পাশাপাশি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে সম্প্রতি তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের জন্য এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গারা বিগত কয়েক বছর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া চলমান সহিংসতায় প্রায় ৩ লাখ শরণার্থী নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রেসিডেন্ট ওআইসি সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন,তুরস্ক ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় বাংলাদেশে এক হাজার টন মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছে। তিনি অবিলম্বে আরো ১০ হাজার টন ত্রাণ সাহায্য পাঠাবেন বলে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টকে আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য অন্যান্য দেশগুলোও যেন সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে পারে সে জন্য ইস্তাম্বুল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান এরদোগান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীতে দ্রুত এই অগ্রগতির ফলে সমাজে কাজকর্ম ও যোগাযোগ বৃদ্ধি, সময় ও দূরত্বের প্রতিবন্ধকতা দূর এবং গতি ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জাতি বদলে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনে অন্যের প্রতিযোগিতাও হতে পারে। প্রেসিডেন্ট হামিদ মনে করেন, ‘পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক উদ্ভাবন কাউকে পেছনে ফেলে দেয় এবং বিভাজন সৃষ্টি করে কাউকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বিজ্ঞানসম্মত জীবনের আলোকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতে একসময়ে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতো, যার সুফল একদিন তারা ভোগ করেছে, সেই ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি ওআইসি দেশসমূহকে গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন এবং এই কাজে নিবেদিতচিত্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জীবনের সকল ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবনগুলো প্রয়োগ ও দ্রুত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে হারানো নেতৃত্ব অর্জন করতে হবে। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের সহযোগিতা উম্মাহকে আরো বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল করবে এবং বিশ্বে মুসলমানদের ভাবমর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি বলেন, ওআইসি দেশসমূহকে যুগপৎভাবে অবশ্যই উন্নত দেশের অগ্রগতির সঙ্গে মুসলিম গবেষক, বিজ্ঞানীদের যুক্ত করতে হবে এবং সামিল হতে হবে। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নে পরিবর্তনের খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ওআইসি’র প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্র নির্বাচন, ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সুবিধা নেয়ার জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন- ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিজ্ঞানভিত্তিক জীবনযাপনে সুবিধা প্রদান করেছে, যা দেশের উদীয়মান ওষুধ শিল্প ও বিকল্প ওষুধ তৈরি এবং সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণের মতো হাই-টেক শিল্পে অগ্রগতির মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হামিদ বলেন, বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত ও জলবায়ু সহনীয় জাতের শস্য, পাট ও মহিষের জীন মানচিত্র উদ্ভাবন, মহাকাশ ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আস্তানা বিজ্ঞান সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নজরবায়েভ, ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ আল ওসাইমীন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও ওআইসিভুক্ত প্রায় ২০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ওআইসি সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওআইসি’র সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর বারংবার অত্যাচারের ফলে তাদের অস্তিত্ব যেমন হুমকির মুখে পড়ছে এবং তেমনি বাংলাদেশকে বিপুল সংখ্যক অসহায় রোহিঙ্গার বোঝা বহনের মতো মারাত্মক সঙ্কটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গতকাল কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় প্যালেস অব ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র প্রথম ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন’-এ ভাষণ দানকালে তিনি একথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, নিজ দেশের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমি আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই রোহিঙ্গারা উপর্যুপরি নির্মমতা ও বাস্তুচ্যূতির শিকার। প্রেসিডেন্ট বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর ‘সরাসরি বিরূপ প্রভাব’ সৃষ্টি করেছে। রাখাইন রাজ্যে তাদেরকে নির্মমভাবে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ফলে প্রাণ রক্ষার্থে পার্শ্ববর্তী দেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মিয়ানমারের এই সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কাজাকস্তানের রাজধানীতে এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলনে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মুসলিম বিশ্বকে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জগতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। সূত্র-বাসস।

তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সংগ্রহ অভিযানঃ গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য দেশব্যাপী সহায়তা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট। ‘বি অ্যা লাইফ ফর রাখাইন স্টেট’ শিরোনামে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার কথা গত শুক্রবার ঘোষণা করা হয়।

সংস্থার প্রেসিডেন্ট কারীম কিনিক বলেন, যারা এখনো রাখাইনে অবস্থান করছেন আর যারা বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছেন তাদের সবার জন্য সুপেয় পানি, ওষুধ, খাবার এবং তাঁবু প্রয়োজন। রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ তাদের প্রয়োজন নিরুপণ এবং সহায়তার পদ্ধতি বের করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি ২০১২ সাল থেকে রাখাইনের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করছে এবং সেখানে তাদের একটি শাখাও রয়েছে।

“সুনামগঞ্জের মানুষের কান্না শুরু হলে আমার এলাকায় ও কান্নার প্রস্তুতি নিতে হয়,আপনাদের সুনামগঞ্জ আর আমার কিশোরগঞ্জ এর মধ্যে  মিল আছেঃরাষ্ট্রপতি এডভোকেট আলহাজ্জ মোঃ আব্দুল হামিদ”

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৮এপ্রিল,জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মানুষের কান্না শুরু হলে আমার এলাকায় কান্নার প্রস্তুতি নিতে হয়। কারন এখান কার সব হাওর ডুবে যাওয়া পর আমার এলাকায় কিশোরগঞ্জে সব পানি গিয়ে গড়িয়ে পরে। আপনাদের সুনামগঞ্জ আর আমার কিশোরগঞ্জের ইটনা,মিটামইন,অষ্টগ্রাম, হাওর এলাকার সাথে মিল আছে। আমি আপনাদের কাছে সু-দিনে আসতে চেয়ে ছিলাম। দূ-র্দিনে নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে ওই সময়ে সুনামগঞ্জ এসেছিলাম। দেশ স্বাধীন করেই ঘরে ফিরেছি। সেই স্মৃতিময় স্থানে বারবার আসার চেষ্ঠা করেও তা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন,এবার কারো দাওয়াতে নয়,নিজের তাগিদে  দুর্যোগকালীন সময়েই সেই দিনের মত দূ-সময়েই আসলাম। সেই দিনও দেশ স্বাধীন করেছি পিচপা হয় নি। এবারও পিচপা হবো না কিছু একটা করব হাওরবাসীর জন্য। আবারও আসব তবে এমন দূর্যোগের সময় নয় আনন্দের দিনে আসতে চাই। আমার ৭৪বছরের জীবনে চৈত্রমাসে ভয়াবহ অকাল বন্যা দেখিনি। ইনশাহআল্লাহ সকলের সক্রিয় সহযোগিতা নিয়ে এই মহাদুর্যোগেরও মোকাবেলা করবো। আমি প্রধান মন্ত্রীকে বলেছি শহরের পাশা পাশি হাওর এলাকায় শিল্প-কলকারখানা করার জন্য যাতে করে হাওরবাসী কিছু করে খেতে পারে। এই দূর্যোগে হাওরবাসীর জন্য কিছু করার জন্য বলব, না হলে হাওরবাসী শহর মুখি হবে।

সুনামগঞ্জ আর কিশোরগঞ্জ এক ও অভিন্ন হাওরের জনপদ। এখানে কান্না শুরু হলে কিশোরগঞ্জ গিয়ে শেষ হয়। কারণ উজান থেকে হানা দেয়া পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি সুনামগঞ্জ গড়িয়ে কিশোরগঞ্জ যায়। এতে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। এখন হাওর ও বোরো ফসল বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগে নদী খনন করতেই হবে। নদী খনন ব্যতিত হাওরকে বাঁচানোর কোন বিকল্প নেই। সোমবার রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ,মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ।

সভা পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় সুধীজনদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন,সুনামগঞ্জের জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন দুর্নীতির বিপক্ষে সেখানে হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি কিভাবে হয় আমি তা ভেবে পাচ্ছি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মাটি কাছনে ছবি তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ মনে করলে হবে না। এতে নিজের সু-খ্যাতি আর প্রচার দিলেন। আর হাওরবাসীর যা হবার হউক তা চলবে না। আপনারা সবাই দূর্নীতির কথা বললেন। ফেইসবুক,মিটিং,মিছিলে দুর্নীতি বিরোধী না হয়ে বাস্তবে কথায় ও কাজে নিজেদেরকে দুর্নীতি বিরোধী প্রমাণ করতে হবে। শিশু না কাদঁলে মা ও দুধ দেয় না তেমনি দাবী আদায়ের জন্য সময় মত সঠিক ভাবে কাঁদতে ও বলতে হবে।

সংসদ সদস্যদের উদ্যোশে কওে বলেন,আগামী ২মে হাওরাঞ্চলের দুর্যোগ নিয়ে স্বশরীলে সংসদে কথা বলতে হবে। না কাদঁলে দাবী আদায় হয় না।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি,মুহিবুর রহমান মানিক এমপি,মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি,ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি,অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী এমপি,পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি,রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি,সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোছাঃ নাজমানারা খানম,ডিআইজি কামরুল আহসান,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল,জেলা পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান,অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতিক,সাবেক অধ্যক্ষ প্রপেসর পরির্মল কান্তি দে,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম,সাবেক এমপি ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ,দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী,মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ,মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান,সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক এডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু,দৈনিক সুনামকন্ঠ সম্পাদক বিজন সেন রায়,দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার সম্পাদক পংকজ দে ও মানবাধিকারকর্মী সাংবাদিক আল-হেলাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সচিব সম্পদ বড়ুয়া,প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীনসহ গণভবনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন এলাকা থেকে লোফ্লাইং ফ্লাইটে তিনি অকালে তলিয়ে যাওয়া হাওর পরিদর্শন করে নেত্রকোণা আসেন। সেখান থেকে তিনি আবারও লোফ্লাইং করে সুনামগঞ্জের পশ্চিমা লের তলিয়ে যাওয়া হাওর দেখে দুপুর আড়াইটায় সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন হেলিপ্যাডে অবস্থান করেন। সেখান থেকে সরাসরি সার্কিট হাউসে চলে আসেন রাষ্ট্রপতি। বিকেল ৬টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য যাদুঘর পরিদর্শন করেন। এর সময় তিনি ৫ম রত্ন মরমী কবির প্রতিকৃতিসহ সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য যাদুঘর পরিদর্শন কালে যাদুঘরে সংরক্ষিত মরমী কবি রাধারমন,হাছন রাজা,বাউল কামাল পাশা,দুর্বিণ শাহ ও শাহ আব্দুল করিমের ছবি ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি। পরে রাত সাড়ে ৮টায় শিল্পকলা একাডেমি ভবনে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সোমবার রাতে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন রাষ্ট্রপতি।মঙ্গলবার হ্যালিকপ্টার যোগে আবার হাওর পরিদর্শন শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

উল্লেখ্য,জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এ সময় পবিত্র কোরআন তেলায়াত করেন মাওলানা তাজুল ইসলাম,পবিত্র গীতা পাঠ করেন,নেজারতডেপুটি কালেক্টর অঞ্জন দাস,পবিত্র বাইবেল পাঠ করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শুভন রামসা,পবিত্র তৃপিটক পাঠ করেন নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট সম্রাটখীসা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc