Saturday 5th of December 2020 12:09:48 AM

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোলে পুটখালী সীমান্তে ৫০ হাজার ইউএস ডলারসহ আক্তারুল ইসলাম (৩০) নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোল পুটখালী খোলসী বাজার থেকে পুটখালী বিওপির সদস্যরা এ ডলারসহ তাকে আটক করেন। আটক আক্তারুল ইসলাম পুটখালী পশ্চিম পাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। এসময়ে বিজিবি সদস্যরা আক্তারুলের ব্যবহৃত মটররসাইকেল আটক করেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র খুলনা- ২১ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সোহেল আহম্মেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে শনিবার পুটখালীর খোলসী বাজারে অভিযান চালিয়ে আক্তারুলকে আটক করা হয়। পরে তার দেহে তল্লাশী চালিয়ে ৫০ হাজার আমেরিকান ডলার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ডলারের বাংলাদেশী মুদ্রা মান ৪২ লাখ টাকা। আটককৃতের নামে অর্থপাচারের মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪জুনঃ     জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রশাসনে ৬ লাখ ১৩ হাজার ১৫৫টি পদ সৃষ্টি সৃজন করা হয়েছে। আরও ৫২ হাজার ৭৯টি পদ সৃজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে আওয়ামী লীগের সাংসদ মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সংরক্ষিত আসনের সাংসদ জাহান আরা বেগম সুরমার প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুলিশে ৭৯ হাজার ২৪৯টি, সেনাবাহিনীর রামু ও লেবুখালীর ডিভিশনের জন্য ২৬ হাজার ৩৮৬টি পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৬ লাখ ১১ হাজার ১৮৪টি পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত নয় বছরে বিসিএসের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৮১ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩৬তম বিসিএসে ২ হাজার ৩২৩ জন নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এ সময় নন-ক্যাডার পদে ৭ হাজার ৪৮৫ জন পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। সরাসরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ২০ হাজার ৫১৩ জন নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২১জানুয়ারী,নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে ভবানীপুর বাজার সংলগ্নে একটি ব্রিজের অভাবে যুগ যুগ ধরে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি মাত্র নৌকার মাধ্যমে পারাপার হয়ে আসছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এ ব্রিজটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অনেক আবেদন নিবেদনও করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এ পথে যাতায়াত করতে শিক্ষার্থীসহ সর্ব স্তরের জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার রায়পুর গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের ভবানীপুর বাজার সংলগ্নে রায়পুর গ্রামবাসীর যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে কৃষক Ñশ্রমিক, কমলমতি স্কুল শিক্ষার্থী সহ হাজার হাজার মানুষ। রায়পুর, ডাঙ্গাপাড়া, ভবানীপুরসহ বেশ কয়েকটা গ্রামের লোকজনকে পারাপার হতে হয় একটি মাত্র নৌকার মাধ্যমে। রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর জিএসউচ্চ বিদ্যালয়, ইক্বরা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা এন্ড নুরানী স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার জন্য এ পথ ব্যবহার করতে হয় যা কমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও একটি ব্রিজের অভাবে রায়পুর গ্রামবাসীর স্বপ্ন যেন থমকে আছে। একটি ব্রিজের অভাবে নানা সমস্যায় জর্জরিত এ গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রা। সকাল হলে দীর্ঘ লাইন ধরে ঘাটে নৌকার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। হাট-বাজার, অফিস, স্কুল-কলেজে যাওয়া রায়পুরবাসীর কাছে বিড়ম্বনা মনে হয়। এ পথ কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী না হওয়ায় এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজভাবে বাজারজাত করতে পারে না। ফলে তারা বি ত হয় ন্যাায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে। এলাকা বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মানের। এখানে ব্রিজ নির্মান হলে এলাকাবাসীর এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। ছাত্র ছাত্রী সহ এলাকার সকল সাধারণ জনগন পাবে যোগাযোগের সুফল।
এ বিষয়ে রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আক্কাছ আলী জানান, রায়পুরসহ আশে পাশের গ্রাবাসীর স্বাধীনতার ৪৫ বছরের একটিই স্বপ্ন একটি ব্রিজের। রায়পুর গ্রামে শুধু একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে গ্রামের ছেলে-মিয়েকে হাইস্কুল-কলেজে পড়তে ও চিকিৎসার জন্য গ্রামবাসীকে আত্রাই সদরে যেতে নদী পার হতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
এ ব্যাপারে ১নং শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, এ সমস্যা শুধু কালিকাপুর ইউনিয়নবাসীর নয় এ সমস্যা আমার শাহাগোলা ইউনিয়নের সকল স্তরের জনগনেরও। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে। নৌকার পরিবর্তে একটি ব্রিজ নির্মাণ রায়পুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এ গ্রামে পাল, ঘোষ, নমশূদ্রসহ বিভিন্ন দলিত পরিবার রয়েছে। যোগাযোগের সু-ব্যবস্থা না থাকায় তারা আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে শুধু দলিত পরিবার নয় রায়পুর গ্রামবাসীসহ আশেপাশের গ্রামগুলোর সর্বস্তরের লোকজনের লালিত স্বপ্ন পুরণ হবে।
রায়পুর গ্রামবাসীর যোগাযোগের সমস্যাকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ সুলতানা পারভিন বলেন, আমাদের এ গ্রামে হাসপাতাল ক্লিনিক এমনকি ভালো মানের কোন ডাক্তারও নেই। গ্রামে মধ্য রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা গর্ভবতীদের নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়, এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবী আমাদের দীর্ঘ দিনের। এ দাবী কেউ বাস্তবায়িত করেনি। যার জন্য এলাকা বাসীকে চরম দূভোগ পোহাতে হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে কালীকাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল হক নাদিমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, একটি ব্রিজ না থাকায় রায়পুর গ্রামবাসীর শুধু সমস্যায় নয় মহাসমস্যায় পরিণত হয়েছে। ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের সমস্যা ছিলো। অনেকটা সমাধান হয়েছে। এখন রায়পুর গ্রামবাসীর একটাই দুঃখ একটি ব্রিজ। সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছি। খুব শিগগিরিই একটি আনন্দ সংবাদ পাবো বলে আশা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, শাহাগোলা ইাউনিয়নের পার্শ্ববর্তী কালিকাপুর ইউনিয়নের রায়পুর ব্রিজটি জনগুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি জুন-জুলাই মাসের দিকে এই ব্রিজের কাজ শুরু হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩নভেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ  ইরান ও ইরাকের উত্তর সীমান্তে আঘাত হানা ভূমিকম্পে অন্তত ১৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ।

ইরানের স্থানীয় সময় রোববার রাত নয়টা ৫ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এর মূলকেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩.৯ কিলোমিটার গভীরে। ভূমকম্পটি মূল আঘাত হেনেছে ইরাকের আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে। ওই অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পে সেদেশের কেরমানশাহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই প্রদেশে ১০০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ‘সারপোল জাহহাব’ শহরে ৬৮ জন, ‘কাসরে শিরিন’ শহরে ৩৮ জন এবং কেরমানশাহ শহরে দুই জন প্রাণ হারিয়েছে।

ওদিকে, ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,  দেশটির সুলাইমানিয়া প্রদেশে অন্তত ৩০ জন নিহত ও কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছে।এ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ইরানেই আহত হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভূমিকম্প কবলিত এলাকাগুলোতে জোরেসোরে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররেজা রাহমানি ফাজলিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব ও বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, কুর্দি সরকার-শাসিত সুলাইমানিয়া শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে হালাবজার কাছে ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব অনেক হলেও সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাগদাদের ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। অনেকে একে প্রথমে বিস্ফোরণ বলে মনে করলেও কম্পন এক মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় পরে একে ভূমিকম্প বলে বুঝতে পারে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটার শক হয়েছে এবং ইরানের কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, ইলাম, খুজিস্তান, হামেদান, পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব আজারবাইজান, লোরেস্তান, তেহরান, কাজভিন, যানজান ও কোম প্রদেশ থেকে তা অনুভূত হয়।

ইরানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে কেরমানশাহ প্রদেশে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, গ্রাম এলাকার কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।সুত্রঃপার্সটুডে

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৫সেপ্টেম্বর,মিজানুর রহমান,সৌদি আরব থেকেঃ পবিত্র হজ পালন শেষে ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সব হাজি দেশে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছে হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আজ এক বুলেটিন বার্তায় জানায়, আজ পর্যন্ত ৬০ হাজার ১৫২ জন হজযাত্রী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন। এবারের হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন সৌদি আরব গেছেন।
এর মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের ১৩৫ হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন।সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্যে আরো জানা যায়, এ পর্যন্ত গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স ১৭২ ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮০টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স ৯২টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে বলে হজ অফিস সূত্রে জানা যায়।
মোট ৩৭০টি হজ ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ১৯১টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স ১৭৯টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
এ বছর সৌদি আরবে মৃত বাংলাদেশের ১৩৫ জন হজযাত্রীর মধ্যে ২৯ জন মহিলা রয়েছেন। বাংলাদেশের হজযাত্রীর মধ্যে মক্কায় ১০২ জন, মদিনায় ১৫ জন, জেদ্দায় দুজন ও মিনায় ১৬ জন ইন্তেকাল করেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২১সেপ্টেম্বর,আলী হোসেন রাজন,মৌলভীবাজার:  মৌলভীবাজারে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে মহা ধুমধামে শুরু হবে ব্যতিক্রমী ত্রিনয়নী ও লাল দুর্গাপূজা। মৌলভীবাজারে মোট ৯শত ১১টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলা শহরের সৈয়ারপুর শ্মশানঘাটের শিববাড়িতে এক হাজার হাতের মূর্তির নিয়ে ত্রিনয়নী পূজা এবং রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন লাল দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
পূজা উপলক্ষে মন্ডপ গুলো সেজেছে নানা সাজে। কোনো কোনো মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। চলছে রঙের কাজ। ভক্তদের অভ্যর্থনা জানাতে বাহারি সাজের গেট আর তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে প্রতিটি মন্ডপের সামনে।
মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ৯শত ১১টি মন্ডপে এবারের পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এরমধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৮৩টি,, রাজনগর উপজেলায় ৭৫টি, শ্রীমঙ্গলে ১৬৬টি, কমলগঞ্জে ১৪৪টি, কুলাউড়ায় ১২১টি, জুড়ীতে ৬৫টি এবং বড়লেখা উপজেলায় ১৫৭টি।
মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুরের শ্মশানঘাট এলাকায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এক হাজার হাতরে মূর্তি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ত্রিনয়নী পূজার।

ত্রিনয়নী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীকান্ত সুত্র ধর.জানান, এই প্রথম এক হাজার হাতের বিশিষ্ট দুর্গা প্রতিমা। সত্য যুগ ও ত্রেতাযুগের কাহীনি অবলম্বনে প্রায় ১০০শত দেব-দেবীর পুজার আয়োজন করা হয়েছে। এবার পূজা দেখতে লক্ষাধিক ভক্ত-অনুরাগীর আগমন ঘটবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সবকিছুই অনুকূলে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জেলা পূজা উদযাপন কমিটিও ব্যস্ত রয়েছে প্রতিটি উপজেলা থেকে গ্রামের পূজা মান্ডপগুলোর তদারকিতে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ রায় মুন্না জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী সংঘ এবং মন্দিরগুলোতে পূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা চলাকালে দর্শনার্থী ও ভক্তদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে প্রতিটি অ লে উদযাপন কমিটির সঙ্গে প্রতিনিয়িত মতবিনিময় চলছে।

এ ছাড়াও প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমন্বিতভাবে সফল অয়োজনে সচেষ্ট রয়েছেন তারা।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শাহ্ জালাল জানান, শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্তরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে রাজনগরের পাঁচগাঁও ও জেলা শহরের ত্রিনয়নীর মতো বড় অয়োজনকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠিতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠিকতা। এ পূজা চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবছর মা দুর্গা নৌকায় চড়ে পৃথিবীতে আসবেন। আবার কৈলাশে ফিরে যাবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫আগস্ট,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ     যশোরের বেনাপোল রেলস্টেশন এলাকা থেকে হুন্ডির ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাসহ শ্রী সুব্রত কুমার দত্ত (৩৫)কে আটক করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে হুন্ডির টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। আটক সুব্রত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃ নগর গ্রামের মৃত শচিন দত্তের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আরিফুল হক বিষয়টি নিশ্চত করে জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি কালো ব্যাগসহ সুব্রতকে আটক করা হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশী করে উদ্ধার করা হয় ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা হুন্ডির ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
আটক সুব্রতকে ও উদ্ধারকৃত ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বেনাপোল পৌর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ২ হাজার ৪’শ ৪৭

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩জুলাই,এম ওসমান, বেনাপোলঃ  সারাদেশের তুলনায় ভাল ফলাফল করলেও যশোর বোর্ড এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে গতবছরের চেয়ে পিছিয়েছে। এবছর যশোর বোর্ডে ৯৫ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৭ হাজার ২ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০২। গতবছর এই বোর্ড ৮৩ দশমিক ৪২ ভাগ পাসের হার নিয়ে দেশসেরা হয়েছিল। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিও কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪’শ ৪৭ জন পরীক্ষার্থী। এ সংখ্যা গতবছর ছিল ৪ হাজার ৫’শ ৮৬জনে। রবিবার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কম হলো কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, নির্ভরযোগ্য নম্বর প্রদান কর্মসূচির আওতায় এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল, যার যে নম্বর প্রাপ্ত, সে যেন সেই নম্বর পায়। অর্থাৎ পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীর যেন যথাযথ মূল্যায়ন হয়। এই মান যাচাই নিশ্চিত করার জন্য খাতা বণ্টনের আগে প্রধান পরীক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর খাতা যথাযথ মূল্যায়নের কারণে ফলাফল একটু খারাপ হলেও শিক্ষার গুণগত মান বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। #

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৮জুলাই,মিজানুর রহমান সৌদি আরব থেকেঃ সৌদি আরবে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের ‘সাধারণ ক্ষমা’র মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরতে আউট পাস নিয়েছেন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট বিভাগের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় মেয়াদে ৩০ দিনের জন্য সাধারণ ক্ষমার সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো। এতে নতুন করে রোববার পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৩১৭ জন আউট পাস নিয়েছেন।

এর মধ্যে রিয়াদ দূতাবাস থেকে ১ হাজার ১৬৭ জন ও জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে ১ হাজার ১৫০ জন বাংলাদেশি আউট পাস সংগ্রহ করেন।এর আগে প্রথম দফায় তিন মাসের সাধারণ ক্ষমার আওতায় মোট ৩৬ হাজার ৬৯৪ জন বাংলাদেশি আউট পাস নেন। এর মধ্যে রিয়াদ দূতাবাস থেকে ১৯ হাজার ৮৩৩ জন এবং জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে ১৬ হাজার ৮৩১ জন সৌদি ছাড়ার সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিতে আউট পাস সংগ্রহ করেন। প্রথম দফার তিন মাসের সাধারণ ক্ষমার সুযোগ শেষ হয় গত ২৫ জুন।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তারা মনে করছেন, ২৫ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি নেবেন। এদিকে অবৈধভাবে সৌদিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের দ্রুত আউট পাস সংগ্রহ করে দেশে ফেরার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
নির্ধারিত সময়ের পর অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হলে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ‘বিশেষ বার্তা’ পাঠিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
সৌদি অভিবাসন মন্ত্রী মেজর জেনারেল সুলাইমান আল ইয়াহইয়ার বরাত দিয়ে সেখানকার সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধ অধিবাসীরা আটক হলে অপরাধভেদে সর্বোচ্চ এক লাখ  রিয়াল জরিমানা এবং দুই বছর জেল হতে পারে। সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে থাকা শ্রমিকদেরকে সৌদি আরব ত্যাগ করে পুনরায় বৈধভাবে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫জুন,ডেস্ক নিউজঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, “দেশের পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিকায়ন ও গতিশীল করার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীতে ৭৫ হাজার ৩০৬টি (পুলিশ ও নন-পুলিশ) নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।”

বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য বেগম সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নতুন পদের মধ্যে চলতি মেয়াদে ৪২ হাজার ২০৪টি এবং পূর্ববর্তী মেয়াদে ৩৩ হাজার ১০২টি সৃজন করা হয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, “এসব পদ সৃজনের মাধ্যমে পুলিশের বিদ্যমান বিভিন্ন ইউনিটের কাঠামো সংস্কারসহ ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, বিশেষায়িত সিকিউরিটি ও প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ২টি র্যাব ব্যাটালিয়ন, রংপুর ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং আরআরএফ রংপুর গঠন, ৩৩টি নতুন থানা, ৮১টি নতুন তদন্ত কেন্দ্র এবং ১টি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “পুলিশকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৯টি জীপ, ৮৭টি পিকআপ, ২০৪টি মোটরসাইকেল, ৫টি মাইক্রোবাস, ৫টি প্রিজনার্স ভ্যান, ১টি ডগ ভ্যান, ৩টি পেট্রোল বোট, ৩টি পোর্টেবল ফোল্ডিং বোট, ৫টি স্পীড বোট, ১টি ওয়াটার বাইকসহ বিভিন্ন প্রকারের মোট ৩৭১টি যানবাহন ক্রয় করা হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫১টি জীপ, ১টি কার, ৩০৬টি পিকআপ, ১৪টি মাইক্রোবাস, ১৩টি বাস, ৬৫টি ট্রাক, ৮টি এ্যাম্বুলেন্স, ৭৮২টি মোটরসাইকেল, ৩৬টি প্রিজনার্স ভ্যান, ২টি ডগ ভ্যান, ৩টি পেট্রোল বোট, ৩টি পোর্টেবল ফোল্ডিং বোট, ১৪টি স্পীড বোট ও ৬টি কান্ট্রি বোটসহ বিভিন্ন প্রকারের মোট ১ হাজার ৩১৫টি যানবাহন ক্রয়ের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” সুত্র-বাসস

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৪জুন,সাইফুল ইসলাম রোবায়েতঃ রাসুলে করিম (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: হে জনতা, (রমজান) আলীশান মাস। মাসটি বরকতময়ও। এ মাসে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম একটি রাত রয়েছে।

এ মাসে আল্লাহ রোজা ফরজ করেছেন এবং রাতগুলোতে জেগে ইবাদত-বন্দেগী করা ঐচ্ছিক করেছেন। এ মাসে কেউ কোনো ভালো কাজ করে (আল্লাহ ও রাসুলের) নৈকট্য পেতে চাইলে, সে যেনো অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করলো এবং কেউ একটি ফরজ আদায় করলে, সে যেনো অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায় করলো! এটি সবুরের মাস।

আর সবুরের প্রতিদান হচ্ছে, বেহেশত। এটি দান-খয়রাতের মাস। এটি ঈমানদারদের রিজিক বাড়ার মাস। কেউ এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে, তার জন্যে গুণাহ-মাফ, দোযখ থেকে তার গর্দানের সুরক্ষা এবং তার (ঐ রোজাদারের) সমান সওয়াব রয়েছে। আর এতে তার (ঐ রোজাদারের) সওয়াবও কমবে না।

হালাল খাবার ও পানীয় দিয়ে কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে, ফেরেশতারা সারা রমজান মাস ধরে তার জন্যে দোয়া করতে থাকবে এবং কদরের রাতে জিবরাঈলও তার জন্যে দোয়া এবং তার সঙ্গে মুসাফাহা করবে।

ফলে, তার হৃদয় নরম হয়ে যাবে এবং তার চোখের পানিও বেড়ে যাবে। আমরা (সাহাবীগণ) আরয করলাম: ওগো আল্লাহর রাসূল, রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো কিছু তো পাচ্ছি না? তিনি ফরমালেন: কেউ কোনো রোজাদারকে একটু মাঠা বা একটি খেজুর কিংবা একটু পানি দিয়ে ইফতার করালেও আল্লাহ তাকে এ সওয়াব দেবেন। আর কেউ কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে ইফতার করালে বা পানি খাওয়ালে, আল্লাহ তাকে আমার হাউয থেকে এমন শরবত খাওয়াবেন যে, বেহেশতে যাওয়ার আগে সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না।

এ মাসের প্রথমে রহমত, মাঝে মাগফিরাত ও শেষে দোযখ থেকে মুক্তি (-র ব্যবস্থা) রয়েছে। এ মাসে কেউ তার অধীনদের বোঝা হালকা করলে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং দোযখ থেকে রক্ষা করবেন। তোমরা এ মাসে চারটি নেক-কাজ বেশি বেশি করে করবে।

দু’টি দিয়ে তোমাদের প্রভুকে খুশি করতে পারবে। আর দু’টি ছাড়া তোমাদের উপায় নেই। যে দু’টি দিয়ে তোমাদের প্রভুকে খুশি করতে পারবে – ওগুলো হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাক্ষ্য দেয়া এবং তাঁর কাছে তোমাদের গুণাহের জন্যে মাফ চাওয়া। আর যে দু’টি ছাড়া তোমাদের উপায় নেই – সেগুলো হলো, আল্লাহর কাছে বেহেশত চাবে এবং দোযখ থেকে পানাহ চাবে। (ইবনে খুঝাইমা, তাবারানী, ইবনে হিব্বান ও বায়হাকী)

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০মে,শিমুল তরফদার,নিজস্ব প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া বনে এবার ২৫ হাজার ফলজ বৃক্ষচারা রুপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে লাউয়াছড়া বনের বাঘমারা এলাকায় এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর এর সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আশরাফুল ইসলাম। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, মেজর আসিফ বুলবুল, সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান, লন্ডন প্রবাসী খায়রুল ইসলাম, সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী ও বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য বাপন প্রমূখ।
এসময়  বন বিভাগের লাউয়াছড়ার বাঘমারা ক্যাম্পে এক আলোচনা সভায় বৃক্ষ রোপন ও পরিচর্যার নিয়ম ও উপকারীতার উপর গুরুত্ব আরোপকরে প্রধান অতিথি  বক্তব্যদেন।
বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার জানান, লাউয়াছড়া বনের বাঘমারা, ডরমেটরি ও লেইকের চার পাশে প্রায় ৫ একর জমিতে তারা ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপন করে দিবেন। যার মধ্যে বেশি ভাগই পশুপাখির খাবার উপযোগী ফলজ বৃক্ষ থাকবে।একই সাথে তিনি শ্রীমঙ্গল সেক্টর ও সেক্টরের অধিন ৪৬ বিজিবিকে লাউয়াছড়ার গাছ রক্ষায় বিশেষ নজরদারীর নির্দেশদেন। একই সাথে বনবিভাগকেও সহায়তার আশ্বাসদেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৮মে,আব্দুর রহমান শাহীনঃমৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জুড়ী নদীর বাঁধ ভেঙে পড়ায় প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছর আগে বাঁধে ভাঙন দেখা দিলেও তা মেরামত না করায় এ অবস্থা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুন মাসে সাগরনাল ইউনিয়নের বরইতলি গ্রামে জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে ভাঙনকবলিত স্থানটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, গত রবিবার ও সোমবার বেশ বৃষ্টিপাত হয়। এ কারণে উজান থেকে নামে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি বেড়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাঁধের ভাঙনকবলিত অংশসহ কাছাকাছি আরও দুটি স্থানের ৩০ ফুট জায়গা ভেঙে সেখান দিয়ে পানি ঢুকে বরইতলি এবং পার্শ্ববর্তী গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের মন্ত্রীগাঁও গ্রাম প্লাবিত হয়।সরেজমিনে বিকেল চারটার দিকে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। পানির তোড়ে সমাই-বরইতলি পাকা সড়কে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয় লোকজন মাটি ফেলে তা ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। পানিবন্দী লোকজন কলাগাছের তৈরি ভেলায় চলাচল করছেন। বরইতলি গ্রামের বাসিন্দা নূরুজ্জামান শাহী বলেন, ১৪ বিঘা জায়গাজুড়ে তাঁর মাছের খামার ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সব মাছ ভেসে চলে গেছে।

মন্ত্রীগাঁও গ্রামের আলকুম আলী, মনাই মিয়া ও বরইতলির ইউছুফ আলী বলেন, তাঁদের আউশ ধানের হালিচারা তলিয়ে গেছে। সাগরনাল ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরফ উদ্দিন বলেন, বরইতলি ও মন্ত্রীগাঁওয়ের অন্তত এক হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। ৫০ থেকে ৬০টি খামারের মাছ ভেসে গেছে। এ ছাড়া আউশ ধানের হালিচারা ও সবজিখেত নষ্ট হয়েছে।

ইউপি সদস্য ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আগের ভাঙন মেরামতের বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একাধিকবার লিখিত দাবি জানানো হয়। উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন বাঁধের তিনটি স্থান ভেঙে গেল। বৃষ্টি হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরী সন্ধ্যায় বলেন, তিনিসহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি বিকেলে বাঁধের ভাঙনকবলিত স্থানগুলো সরেজমিনে দেখে এসেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। পাউবোর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বাঁধ মেরামতের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে আগামী অর্থবছরে বাঁধটি মেরামতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুতে সপ্তহে সরবরাহ থাকে না ১০ ঘন্টা, ভোগান্তিতে পড়বে স্থানান্তরিত গ্রাহকরা

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৯এপ্রিল, রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট)প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলাকে পূনাঙ্গ ভাবে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসায় নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকা, ট্রান্সমিটার পরিবর্তনে বিলম্ব, লো-ভেল্টেজ সহ নানান ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে আবাসিক প্রকৌশলী জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ সরবরাহর কেন্দ্রের ১০ হাজারের অধিক গ্রাহকদের যে কোন মুহুর্তে পল্লী বিদ্যুতের কাছে স্থানান্তর হবে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানাযায়- বিগত ৬মাস পূর্বে আবাসিক প্রকৌশলী জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ সরবরাহর কেন্দ্রের বটেশ্বর হতে জাফলং মামার দোকান পর্যন্ত সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর আওতাভূক্ত করা হয়েছে। যাহা আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পক্রিয়াধীন বলে একটি বিশ্বস্তসূত্র জানায়। সূত্র আরও জানায় ইতোমধ্যে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে পল্লী বিদ্যুৎ হস্তান্তর করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিক ভাবে আগামী সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসের মধ্যে জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং মামার দোকান এরিয়াকে কে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলার সচেতন মহল দাবী ১৯৮৩ সালে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের প্রায় ২শতাধিক গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরন বিভাগ যাত্রা শুরু করে।

পরবর্তীতে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১০হাজারের অধিক সংখ্যাক বিদ্যুৎ গ্রাহক তৈরী করা হয়েছে। এমনকি পিডিপি’র বিদ্যুৎ থাকায় ক্রমান্বয়ে বৈধ ভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং মামার দোকান এরিয়ায় গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ষ্টোন ক্রশিং প্লান্ট। দিন দিন পিডিবি’র গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে পিডিপির গ্রাহকের কথা বিবেচনা করে এবং জৈন্তাবাসীর দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফসল হিসাবে গত ১৫-১৬ অর্থ বৎসরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় প্রায় ৪শত কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সাব ষ্টেশন চালু করা সহ লাইন উন্নয়ন ও সম্প্রসারন করা হয়।

ফলে জৈন্তাপুর উপজেলার ১০হাজারের অধিক গ্রাহক লো-ভোল্টজ সমস্যা সহ নানান অসুবিধা হতে পরিত্রান পায় সেই সাথে জৈন্তাপুর সরবরাহ কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকার প্রতিমাসে ১কোটি টাকার উপরে রেভিনিউ আদায় করে আসছে। এছাড়া পিডিপির অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মোট বিদ্যুৎ বিতরন সরবরাহ মূল্যের শতকরা ১%এর নিচে বিল বকেয়া থাকে না। যাহা বাংলাদেশের অন্য কোন সরবরাহ কেন্দ্রে নেই। ১৯৮৩সাল হতে জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র দিন দিন লাভজনক হয়ে উঠেছে এবং নিরবিচ্ছিন্ন গ্রাহকসেবা দিয়ে আসছে। অতি সম্প্রতি একটি চক্রের কৌশল অবলম্বন করে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে যায়। যর ফলে ১০হাজারের অধিক গ্রাহকরা মারাত্বক ভোগান্তির শিকার হবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুত ব্যবহারকারী লামনীগ্রাম, বাউরভাগ মল্লিফৌদ, বাউরভাগ কান্দি, বাউরভাগ কাটাখাল, ভিত্রিখেল, আসামপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, ডিবিরহাওর, কেন্দ্রি কাঠালবাড়ী সহ অন্যান্য গ্রামের গ্রাহকরা জানান- পল্লী বিদ্যুৎ এ অ লে সরবরাহ চালু করলে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। তারা চলতি মৌসুমের সপ্তাহে ১০ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সরবরাহ পাননি। কোন কোন ক্ষেত্রে মাস ১৫দিন অতিক্রম করতে হয়। এছাড়া নানা করতে বিদ্যুৎ লাইন বিকল হলে কয়েক মাস সময় নিয়ে তারা বিদ্যুতের আলো হতে বি ত থাকতে হয়। কোন কারনে ট্রান্সফরমার বিকল হলে গ্রামবাসীর অর্থায়নে পূর্নস্থাপন করতে সময় লাগে ১হতে ২মাস। এছাড়া উৎকোচ বিড়ম্বনা লেগেই আছে।

এবিষয়ে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানায়- সারাাদেশে সিটি কর্পোরেশন ব্যতিত অন্যান্য আ লগুলো পল্লী বিদুতের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তারই লক্ষ্যে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্থান্তরের পর পর পিডিপি’র গ্রাহকরা ফুঁসে উঠে যার পরিপ্্েরক্ষিতে জৈন্তাপুর উপজেলার সরবরাহ ষ্টেশনটি হস্থান্তরে বিলম্ব করা হচ্ছে। সুত্রটি আরও জানায় জৈন্তাপুর উপজেলার লামনীগ্রাম, বাউরভাগ মল্লিফৌদ, বাউরভাগ কান্দি, বাউরভাগ কাটাখাল, ভিত্রিখেল, আসামপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, ডিবিরহাওর, কেন্দ্রি কাঠালবাড়ীতে পল্লী বিদ্যুৎ চালুর পর হতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যার রয়েছে। নতুন করে পিডিপি’র ১০ হাজারের অধিক গ্রাহক সংযুক্ত করা হলে গোটা উপজেলায় ভোগান্তি হবেই। তাই এখনই গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধ না হলে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় মধ্যে থাকতে হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানায়- পল্লী বিদ্যুতের আওতায় জৈন্তাপুর উপজেলাকে নেওয়া হয়েছে। তবে খুব শিঘ্রই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর হতে পারে বলে জানান। তিনি আরও জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করে প্রতি মাসে ১কোটি টাকার উপরে রেভিনিউ জমা করছে এবং সরবরাহের শতকরা ১% নিচে বকেয়া থাকে না।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৫এপ্রিল,জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া,সুনামগঞ্জ থেকেঃ অক্লান্ত কর্মপ্রচেষ্টা ব্যর্থ করে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার এই হাওরটিও শেষ পর্যন্ত তলিয়ে গেল। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পাগনার হাওরের ফসল বাঁধ রক্ষায় সব চেষ্টাই করেছিলেন হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক। সোমবার ভোর ৫টার দিকে হাওরের উরারবন্দ বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরটি। এটি ছিল জেলার সর্বশেষ সুরক্ষিত হাওর। এ হাওরে জামালগঞ্জসহ জেলার দিরাই উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি উপজেলার অনেক কৃষকদের বোরো জমি রয়েছে।

জানা গেছে, হাওরের ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল রক্ষায় প্রায় একমাস ধরে শেষ লড়াই করে আসছিলেন এলাকার কৃষক। তবে হাওরের এত বড় দুর্যোগে এ পর্যন্ত পাউবোর কোন কর্মকর্তা বাঁধে উকিও দেননি বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সামছুল আলম তালুকদার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বাঁধরক্ষা কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই জেলার একমাত্র সুরক্ষিত হাওরটিও রক্ষা করা গেল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসুণ কুমার চক্রবর্তী ও কৃষি অফিসার ড.শাফায়াত আহমদ সিদ্দিকী বলেন, রবিবার থেকে বাঁধরক্ষা কাজে ১৭৪ জন শ্রমিক ও ৫০ জন পাহাড়াদার নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রশাসনের নজরদারিও রাখা হয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সোমবার ভোরে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

পাউবো অফিস জানায়,জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩টি করে পৃথক পৃথক কার্যাদেশ পায় সুনামগঞ্জের মেসার্স নূর ট্রেডিং। উক্ত ফার্মের অনুকূলে বরাদ্ধ হয় ১৪২.৯৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ৪০% বিল আগাম প্রদান করা হয়েছে। তারা চেষ্টা করেছে বাঁধের কাজ সুচারুরুপে সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু বাঁধের উচ্চতার চাইতে পানির উচ্চতা বেশী হওয়ায় বাঁধটি আর ঠিকেনি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান,জামালগঞ্জ উপজেলার জোয়ালভাঙ্গা হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১১৭ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ গোলাম আহাদ,ডাকুয়ার হাওরের ডুবন্ত বাধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১১৮ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন একই পরিষদের সদস্যা মোছাঃ সোহেনা বেগম,শনির হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১১৯ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা মনেছা বেগম, ১২০ নং পিআইসির সভাপতি একই পরিষদের মেম্বার মোঃ খোকন মিয়া, ১৩৭ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার প্রণয় কান্তি রায়,পাগনার হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১২৯ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার গোলাম হোসেন, ১৩০ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুনাসিন্ধু তালুকদার, ১৩১ নং পিআইসির সভাপতি একই পরিষদের মেম্বার আলী আহমদ, ১৩২ নং পিআইসির সভাপতি সদস্যা আক্তার বানু, ১৩৩ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন মেম্বার অজিত সরকার, ১৩৪ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার মোশাররফ হোসেন, ১৩৫ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার আসাদ আলী,১৩৬ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া,মহালিয়া হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১২১ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার,হালির হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১২২ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার কামরুল ইসলাম,১২৩ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ মনু মিয়া, ১২৪ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন একই পরিষদের মেম্বার সুফিয়ান,১২৫ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার মশিউর রহমান, ১২৬ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার আব্দূল হাশিম, ১২৭ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জালাল উদ্দিন, ১২৮ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ মনোয়ার হোসেন শাহ, ২৪১ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা রাসেদা আক্তার, ২৪২ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন একই পরিষদের মেম্বার অজিত রায় প্রমুখ। এরা নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কেউই কোন বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ হরেনি। জামালগঞ্জের স্থানীয় সরকারী ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ কোন হাওরেই বাঁধের কাজ করেনি ঠিকাদার-ভাগীদার,পিআইসি ও তাদের লোকজন। উল্লেখ্য, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬৩৪ কোটি টাকা। ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৬৮ কোটি টাকা ৮০ লাখ টাকার বাঁধের কাজ চলছিল। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এবং ৪৮কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। কৃষকদের অভিযোগ, পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসির ও ঠিকাদারের কাজ সময়মত শেষ হয়নি,আবার কোথাও বাঁধের কাজ শুরু করাই হয়নি।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc