Thursday 22nd of October 2020 03:34:41 AM

পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার) রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সোমবার রাতের সংঘর্ষে এক কর্নেল এবং দুই সেনা নিহত হয়েছে।

ভারতীয় সেনা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সোমবার রাতে সংঘর্ষে তিনজন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১৭ জন গুরুতর আহত হন। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু ও খোলা আকাশের নীচে আহত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তাঁদের মৃত্যু হয়। এছাড়া, ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এএনআই আরও জানিয়েছে, প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী ওই সংঘর্ষে চীনা সোবাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা বাহিনীর অন্তত ৪৩ জন নিহত নয়তো গুরুতর আহত হয়েছে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ কোনও হতাহতের কথা স্বীকার করেনি।

সোমবারের রাতের সংঘর্ষ সম্পর্কে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গালওয়ান কোনও গোলাগুলি হয়নি। দুই দেশের সেনারা একে অপরকে পাথর, রড, পেরেক দেওয়া ডাণ্ডা ইত্যাদি দিয়ে আক্রমণ করেছিল। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ।

ওই ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার সরকারের উচ্চপর্যায় দফায় দফায় বৈঠক হয়।

তিন সেনাপ্রধান, সিডিএস বিপিন রাওয়াত, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর সকালে এক দফা আলোচনা করেন। বিকালে ফের আলোচনা হয় রাজনাথ সিংয়ের বাড়িতে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে পুরো বিষয়টি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাজনাথ সিং।

হিন্দুস্তান টাইমস আরও জানিয়েছে, ভারতীয় সীমান্তে চীনের বসানো একটি পোস্ট সরিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

এদিকে, লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাপারে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়, ‘সোমবার দুই বার সীমান্ত পার হয়ে চীনে ঢুকে পড়ে ভারতীয় সেনারা। চীনা নাগরিকদের আক্রমণ করেছিল তারা। ফলে দুই সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তিন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন’।

চীনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভারতীয় উস্কানির জেরেই সীমান্তে হানাহানি হয়েছে। একইসঙ্গে গালওয়ান উপত্যকা চিরকালই তাদের ছিল বলে দাবি জানিয়েছে চীনের সেনা।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালে ভারত-চীন সীমান্তে সর্বশেষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় অরুণাচল প্রদেশের নিয়ন্ত্রণরেখায় টহলরত চারজন ভারতীয় সেনাকে গুলি করে হত্যা করে এক চীনা সেনা। এর আগে, ১৯৬৭ সালে নাথু লা-সীমান্তে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল।পার্সটুডে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও কঠোর হচ্ছে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসেবে দেশের সকল স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে সেনাবাহিনী। সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলী অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে অন্য দেশের মতো দেশেও জনজীবনে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে এরই মধ্যে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী।

কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বাত্তাল সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে আজ (শুক্রবার) আরও এক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ছয় পাকিস্তানি নিহত হলে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গাফুর এসব তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল দুই বেসামরিক ব্যক্তিসহ পাঁচ পাকিস্তানির মৃত্যুর খবর দিয়েছিলেন তিনি। আজ এক টুইটে তিনি বলেছেন, ‘বাত্তাল সেক্টরে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে মুহাম্মাদ শিরাজ নামে আরও এক সেনা শাহাদাতবরণ করেছেন।’

গতকালের টুইটে পাকিস্তানিদের পাল্টা হামলায় ৫ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার খবরও দিয়েছিলেন জেনারেল গাফুর। তবে ভারতের সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের কোনো সেনা নিহত হয়নি।

ভারতের বিজেপি সরকার তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে সেখানে কারফিউ জারি করার পর থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাক-ভারত উত্তেজনা বেড়েছে।পার্সটুডে

মিশরি সেনাবাহিনী মুহম্মদ মুরসির জন্মস্থান ও গ্রাম আল-এদওয়াহে হানা দিয়ে সেখানকার বহু মানুষকে আটক করেছে এবং গ্রামটি এখনও অবরুদ্ধ করে রেখেছে।। মুরসির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর গ্রামবাসী যেনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করতে না পারে, সেজন্যে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মুরসির মৃত্যুর পর মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে জরুরি অবাস্থা জারি করে।

মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে গত ছ’ বছরের বেশিরভাগ সময় নির্জল সেলে বন্দি রাখা হয়। এছাড়া, তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়নি বলে তার পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। মুরসি নিজে আদালতে এর আগের শুনানির দিন বলেছিলেন, চিকিৎসার অভাবে তার শরীরের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে এবং তার জীবন হুমকির মুখে। কিন্তু সিসি’র সাজানো আদালতের পক্ষ থেকে তার এ কথাকে আমলে নেয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনে মুরসির মৃত্যু হয়। সূত্র: আল- জাজিরা।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৮জুন,ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ। এর ফলে তিনি জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদকে ২৫ জুন থেকে জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

আজিজ আহমেদ অষ্টম বিএমএ দীর্ঘদেয়াদি কোর্স শেষে ১৯৮৩ সালের ১০ জুন সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে জিএসও-৩ (অপারেশন), পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর, সেনাসদর প্রশিক্ষণ পরিদফতরের গ্রেড-২ এবং সেনাসদর, বেতন ও ভাতা পরিদফতরের গ্রেড-১ স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি একটি আর্টিলারি ইউনিট, একটি বিজিবি ব্যাটালিয়ন, বিজিবির একটি সেক্টর, স্বতন্ত্র এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডসহ মোট দুইটি আর্টিলারি ব্রিগেড এবং একটি পদাতিক ডিভিশন দক্ষতার সঙ্গে কমান্ড করেন।

তিনি দীর্ঘদিন স্কুল অব আর্টিলারি এবং স্কুল অব মিলিটারি ইনেটলিজেন্সের প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আজিজ আহমেদ ২০১২ সালের ৭ মে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছর ৫ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০১৬ সালের নভেম্বরে বিজিবির মহাপরিচালক থেকে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হন।

২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে নিয়োগ পান আজিজ আহমেদ। ওই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

“মৌলভীবাজারের বন্যা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে : ৩ লাখ মানুষ পানি বন্দী : শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুকিপূর্ণ”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬জুন,বিক্রমজিত বর্ধন,নিজস্ব প্রতিনিধি:        মৌলভীবাজারের বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অভ্যাহত থাকলে যে কোন মুহুর্থে প্রতিরক্ষা বাঁধ (গাইড ওয়াল) উপচিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারে।

গত কয়েকদিন থেকে ভারতের উত্তর ত্রিপুরা এলাকায় বৃষ্টিপাত অভ্যাহত থাকায় মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনু ও ধলাই নদীর এ পর্যন্ত ২২টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি প্রবেশ করে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। তলিয়ে গেছে এ সব বাড়ি ঘর সহ রাস্তাঘাট। পানি বন্দী রয়েছে জেলায় প্রায় ৫ শত গ্রামের ৩ লাখ মানুষ।

বন্যায় তলিয়ে যাওয়া এলাকায় আটকা পড়া মানুষ উদ্ধারে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগরে সেনাবাহিনী কাজ করছে। শহরের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিরাপদ স্থানে অনেকেই সরিয়ে নিচ্ছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ন এম সাইফুর রহমান সড়ক দিয়ে সকল প্রকার যাবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারী ও বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের মুল্যবান কাগজপত্র উঁচু স্থানে নিয়ে রাখা হচ্ছে।

মনু নদী মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাটের কাছে বিপদ সীমার ১৫৯ সেঃ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে কুশিয়ারা নদী শেরপুরে কাছে ৪০ সেঃ মিঃ ও কমলগঞ্জে ধলাই নদী বিপদ সীমার ৫৯ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় শহরবাসীকে শতর্ক থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম জানান, জেলার ৩টি উপজেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুকিপূর্ণ স্থান গুলো শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর একটি টিম পরিদর্শন করেছে। আজ দূপুরে দিকে মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষায় সেনাবাহিনী নামবে।  এ পর্যন্ত ১৪৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নগদ ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, এ পর্যন্ত ২২টি স্থানে ভাঙ্গন দিয়েছে। ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টি পাত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অভ্যাহত থাকলে মনুনদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে শহর তলিয়ে যেতে পারে।

পালাতে গিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে ৭ হাজার রোহিঙ্গা অবরুদ্ধ

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৮অক্টোবর,ডেস্ক নিউজঃ  রাখাইন রাজ্যে আবারও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের গ্রাম পোড়াচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ অবস্থায় নতুন করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়। সংস্থাটির বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা-নির্যাতন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ অবসস্থায় রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং তাদের নিজ ভূখ-খণ্ডে ফেরত পাঠানোর পরিবেশ সৃষ্টির কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের দুই কার্যালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম।

ইউএনএইচসিআরের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ রোহিঙ্গাই জানিয়েছেন, রাখাইনে হত্যার হুমকি নিয়েও তারা অবস্থান করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের আর থাকা হলো না। তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার পর তারা গ্রাম ছেড়েছেন। একই তথ্য দিয়েছেন ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মেহেসিসও। তিনি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রোববার রাত থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, তারা হত্যার হুমকি সত্ত্বেও রাখাইনে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ায় তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘের বরাত দিয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক চ্যানেল নিউজ এশিয়া মঙ্গলবার জানায়, এক সপ্তাহে রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪৫ হাজার। ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে নতুন করে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে দমনপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সোমবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ইউরোপে আমন্ত্রণ জানানো হবে না বলে জানায়। রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান : বিডিনিউজ জানায়, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্যাতিত এ জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টির কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের দুই কার্যালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম। সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় ইউএনএইচসিআর, মানবতাবিষয়ক কাজে জাতিসংঘের সমন্বয়কারী কার্যালয় ওসিএইচএ এবং আইওএম এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ২৩ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ তিন সংস্থার আয়োজনে হতে যাচ্ছে ‘প্লেজিং কনফারেন্স’, যার উদ্যোগে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কুয়েত সরকার। মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানানো হয় ওই যুক্ত বিবৃতি থেকে। এতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের অসহায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে, দলে দলে দেশান্তরী হওয়া বন্ধে এবং চূড়ান্তভাবে নিরাপদে ও মর্যাদা নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেয়া সম্প্রদায়গুলোর সমর্থনে প্রচেষ্টা জোরদার করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।’ ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি, ওসিএইচএর প্রধান মার্ক লওকক এবং আইওএমের প্রধান উইলিয়াম ল্যাসি সুইং বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমার থেকে; এর সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারেই।

শাহপরীর দ্বীপে একজনের লাশ উদ্ধার : চট্টগ্রাম ব্যুরো ও কক্সবাজার সংবাদদাতা জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে এক রোহিঙ্গা কিশোরীর লাশ ভেসে এসেছে। টেকনাফ উপজেলায় সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া ভরাখালে মুখভাঙা এলাকায় সোমবার ভোর রাতে ওই নৌকাডুবি ঘটে।

পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১২টার দিকে মিয়ানমারের মংডুর দংখালী গ্রাম থেকে নৌকাটি ছেড়ে আসে। নৌকায় ৬০ থেকে ৬৫ জনের মতো রোহিঙ্গা ছিল। এদের মধ্যে ছিল ৩০টি শিশু।

সেনাবাহিনীর হাতে ৭ হাজার রোহিঙ্গা অবরুদ্ধ : বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, হত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতা শুরু করেছে। প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জন্য বাংলাদেশের সীমান্তে জড়ো হয়েছে।আলোকিত বাংলাদেশ

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ  রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ থেকে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নিচ্ছে।শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসাইন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, শরণার্থী ও ত্রাণ বিষয়ক হাইকমিশনার আবুল কালাম, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আব্দুল রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯মার্চ,হৃদয় দাশ শুভঃ মৌলভীবাজারের দুই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মৌলভীবাজারের যে জায়গা দুটি ঘিরে রাখা হয়েছে সেখান নারী জঙ্গি আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে সেখান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা রয়েছে। ঢাকা থেকে সোয়াত ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী নামানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এসব কাজ করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনগণের আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে যদি ৫০ জন জঙ্গি থাকে তা নিয়ন্ত্রণ করা সক্ষমতা সরকারের আছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জনগণের যানমালের নিরাপত্তা সরকার দিতে পারবে-এটুকু আস্থা আপনারা রাখতেই পারেন।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত থেকেই মৌলভীবাজারের দুটি বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দুটির বাড়ির একটি হচ্ছে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় অবস্থিত। অপর বাড়িটির অবস্থান সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার নাসিরপুর গ্রামে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc