Saturday 5th of December 2020 02:22:06 AM

এমএম সামছুল ইসলাম, জুড়ী (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাগানগুলোতে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সুস্বাদু কমলা। পাহাড়ি জনপদের কমলা চাষিদের মুখে বইছে আনন্দের ঝিলিক। এ কমলাই বদলে দিয়েছে চাষিদের জীবন। কমলা পাকতে শুরু করায় ইতোমধ্যে বেচা-কেনা শুরু হয়ে গেছে। কমলা ফলন ভালো হওয়ায় ও বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় চাষিরা গাছ থেকে কমলা সংগ্রহ করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাকা, আধা পাকা কমলা সংগ্রহ ও খাঁচাবন্দি করে পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে টাকা গুনতে গুনতে প্রশান্তির হাসি মুখে ঘরে ফিরছেন চাষিরা।

এ অঞ্চল থেকে এ বছর প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি কমলা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ মৌসুমের দু’তিনগুন বেশি কমলার ফলন ও বিক্রি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও সংশ্লিষ্টরা। অধিক মুনাফা লাভের আশায় ক্রেতা ও চাষিরা পাকা ও আধা পাকা কমলা স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানী ঢাকা, ভৈরব, চিটাগাং ও সিলেটে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকযোগে নিয়ে বিক্রি করছেন।

উপজেলা গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া, শুকনাছড়া, ডুমাবারই, লাঠিটিলা, লাঠিছড়া, হায়াছড়া, কচুরগুল, সাগরনাল ইউনিয়নের পুটিছড়া, পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের কালাছড়া, টালিয়াউড়া এবং জায়ফরনগর ইউনিয়নের বাহাদুরপুরসহ অন্যান্য গ্রামের টিলা বাড়িগুলোতে কমলার পাশাপাশি বাতাবিলেবু, আদালেবু, শাসনি ও জাড়া লেবুর বাগান রয়েছে। আর এ বাগানগুলোতে সর্বদা পরিচর্যা করা ওই গ্রামগুলোর মানুষের পেশায় রূপান্তরিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এক একটি বাগান থেকে প্রায় ২/৩ লাখ টাকার ফলন পাওয়া যায়। কমলা চাষে যেমন খরচ কম, তেমন শ্রমও দিতে হয়না এমনটাই জানিয়েছেন অত্রা লের কৃষকরা। ফলে, কমলা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বিও হচ্ছেন। জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৯১ হেক্টর জমিতে ৮৪টি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। তন্মধ্যে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে শতকার ৮০ ভাগ বাগান রয়েছে। অধিকাংশ কমলা খাশি জাতের চাষাবাদ হচ্ছে।

ওই বাগানগুলো থেকে চলতি মৌসুমে ৫০০ মেট্রিকটন কমলা লেবুর ফলন প্রাপ্তির আশা রয়েছে। শুকনাছড়া গ্রামের কমলা চাষি আব্দুর রহিম (৪৮) এ প্রতিবেদককে বলেন, কমলা এক বছর বেশি হলে অন্য বছর কম হয়। প্রাকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এবারের ফলন ভালো হয়েছে, আকারেও বড়। তিনি বলেন, এবারে কমলার বাজার মূল্য গত বছরের চেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে প্রায় লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। আরো প্রায় দেড় লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় জানান, কমলা একটি ছায়া পছন্দকারী বৃক্ষ। শুধু একক বাগান হলে সানবার্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষকরা যদি সঠিকভাবে সুষম সার ব্যবহার করে এবং পোকা-মাকড় ও রোগ বালাই দমনের জন্য নিয়মিত বালাই নাশক স্প্রে/সেক্সফরমুন ফাঁদ ব্যবহার করে, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি কমলার আকাড়ও বড় হবে। তাছাড়াও অত্রা ালের কৃষকরা মাল্টা, আদা, জাড়া ও বাতাবি লেবু ফলনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৯মে,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার হাট-বাজারে পাকা আম না দেখা গেলেও উঠতে শুরু  করেছে আধাপাকা দেশি প্রজাতির লিচু। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এসব লিচু বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে লিচুর দাম কম থাকায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। এ মধুমাসে এখন গাছে গাছে লিচুর সমারোহ। পাকা লিচুর সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে ও বিভিন্ন লিচুর বাগানগুলো। মৌমাছিরাও লিচুর ঘ্রাণ নিতে বাগানে ভোঁ ভোঁ শব্দ করে এ ডাল থেকে ও ডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। এ যেন মনমুগ্ধোকর এক দৃশ্য। রসে টুইটম্বর। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়, খেতে সুস্বাদু, আকারে গোলাকার, বাতাসের তালে, গাছের পাতার ফাঁকে লাল হয়ে দোলছে আর দোলছে। দেখে যেন জিভে জল এসে যায়।

উপজেলার গাছমালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অ লের সুস্বাদু লিচু মধু বৈশাখের ১৫ থেকে শুরু হলেও জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথমেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের লিচু। দেশি প্রজাতির বোম্বে ও অন্যান্য লিচু বাজারে উঠার অপেক্ষায় রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অতিমাত্রায় ঝড় বৃষ্টিপাতের কারণে বহু বাগানে লিচুর গুটি ঝরে যাওয়ার পরও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা চাষিদের। এ আশায় বাগানমালিক ও বাগান ক্রেতা ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিচর্যা করেছে। লিচুর ফুল ও মুকুল আসা শুরু থেকেই তাদের গাছের গোড়ায়, ডাল ও আগায় পানি দিতে হয়েছে। গাছের খাবার হিসেবে জৈব ও রাসায়নিক সার এবং ফলগাছের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ স্প্রে নিয়মিত করতে হয়েছে।

আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমবেশি লিচুর গাছ রয়েছে। এসব গাছে এখন ছেয়ে গেছে মাদ্রাজি, চায়না, বোম্বাই, কাঁঠালি আর দেশি জাতের লিচুতে। বিগত বছরগুলোয় বাগান মালিকরা লিচু চাষে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় এবারও অনেকে নতুন বাগান তৈরি করেছেন।

তবে কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানগুলোতে লিচুর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কা করছে। মাঝখানে তীব্রখরায়  চায়না থ্রি, চায়না ফোর ও বোম্বে জাতের লিচু গাছে ফেটে গেছে। ফেটে যাওয়া রোধ করতে লিচু গাছে নিয়মিত পানি স্প্রে করেছিল চাষিরা।

জৈষ্ঠ মাসে প্রথম দিকে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। সবশেষে চায়না ও দেশি জাতের কাঁঠালি লিচু বাজারে আসছে। দেশি কাঁঠালি লিচু ও আঁঠি লিচু বর্তমানে বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ‘শ’ বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হয় চায়না থ্রি ও চায়না ফোর জাতের লিচু।

উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মিরাপুর গ্রামের মো: মুমিনুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি লিচুগাছের অনুকূলে রয়েছে। ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আগাম বাগান কিনে রেখেছেন।

উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের মো: রফিকুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবারে লিচু তার বাগানে অনেকটাই বেশি হয়েছে। বৃষ্টি ঝড় বেশি হওয়ায় ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ে বর্তমানে সমস্যা নেই, তবে এবার আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।

এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, আত্রাই উপজেলায় তেমন একটা লিচুর বাগান নেই তবে দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  লিচু চাষ বাড়ছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc