Wednesday 28th of October 2020 09:00:11 PM

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জুয়া খেলার সময় হানতেন আটক করে সাত জুয়াড়িকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার ভূমি আয়েশা আক্তার এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বেলঘর গ্রামের মৃত আব্দুল হাই এর ছেলে মো: কুতুবউদ্দিন (৫০), মৃত আবুল মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (২৮) মৃত ধনু মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন (৩৮), জগদীশপুর চা বাগানের মৃত মালি হোসেনের ছেলে মো:জানু মিয়া (৪৫) উত্তর সন্তোষপুর গ্রামের মো:ছালেক মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৮), চারাভাঙ্গা গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে মো:মাসুম মিয়া (২৪) ও মর্তুজ আলীর ছেলে মো:লায়েছ মিয়া (৩০)।
এর আগে দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জগদীশপুর বাজারের পশ্চিম দিকের খোলা মাঠে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত সাত জুয়াড়িকে আটক করে। ইন্সপেক্টর গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ডেস্ক নিউজঃ  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও তাদেরকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ নিয়ে পৃথক দুটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড হলো। এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ৫ বছরের সাজা দেয় একই আদালত।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে মুন্না ও মনিরকে আদালতে হাজির করা হয়। আর হারিছ চৌধুরী বিচারের শুরু থেকেই পলাতক। এর বাইরে খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য ছিলো। তবে তা নির্ভর করছিলো আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের উপর। কারাবন্দি আসামির অনুপস্থিতিতে চ্যারিটেবল মামলার বিচার চলবে-আদালতের এমন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। শুনানি নিয়ে ওই আপিলের ওপর আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ। সেখানে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকায় আজ রায় ঘোষণা করতে কোনো আইনি বাধার মুখে পড়তে হয়নি।
গত ১৬ অক্টোবর পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান চ্যারিটেবল মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করে দেন।ইত্তেফাক

ডেস্ক নিউজঃ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার রায়কে ‘ফরমায়েশি’ ও ‘প্রতিহিংসার’ উল্লেখ করে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। সেইসাথে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বুধবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ রায় দেয়া হয়েছে। বিএনপি মনে করে এ রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়। আমরা এ রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা প্রকাশ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতির জন্য দুর্ভাগ্য এ রায়ের মাধ্যমে সরকার আরো একটি নোংরা প্রতিহিংসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেভাবে ‘মিথ্যা’ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছিল, সেভাবে আরেকটি মামলায় বিএনপির নেতাদের সাজা দেয়া হলো।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো এ দেশে সাধারণ কোনো মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন সাব জেলে ছিলেন, তখন মামলার সাক্ষী তারেক রহমান বা বিএনপির কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তখন তিনি এ ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করেছেন। অথচ ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অবসরে যাওয়া পুলিশ কমকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে নিয়োগ দিয়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কথা বলতে হয়, যে দেশে প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পান না, সে দেশে নাগরিকদের ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা করা যায় না। আমরা দেশের জনগণকে আহ্বান জানাব, রাজপথে এসে এ অনির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে। কোনো কর্মসূচি দেবেন কিনা, জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কমসূচি থাকবে, পাশাপাশি আইনি কর্মসূচিও থাকবে। তবে সেটি পরে জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপি মনে করে এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণেদিত এবং ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নগ্ন প্রকাশ। আমরা এই ফরমায়েসী প্রত্যাখান করছি। জাতির দুর্ভাগ্য এই যে, সরকার তার এই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো-যেমনটি করেছে মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দিয়ে। দেশবাসী জানেন যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারই সেসময় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার জন্য মামলা দায়ের করেছে। স্থানীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর পাশাপাশি এফবিআই এবং ইন্টারপোলকে তদন্তে সম্পৃক্ত করেছে। বিএনপি সরকারই এই ঘটনার সুষ্ঠূ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এসব তদন্ত এবং আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১ এর সরকারের আমলের তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এমনকি ওই সময় ১৬১ ধারা অনুযায়ী তখন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে কারারুদ্ধ শেখ হাসিনাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। ৬২ জন সাক্ষীর কেউই তারেক রহমান কিংবা বিএনপির নামও উচ্চারণ করেননি। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে হেয়, ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত করার লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে চাকুরীতে পূণরায় নিয়োগ দিয়ে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করার মাধ্যমে এটিকে একটি রাজনৈতিক মামলায় রূপান্তরিত করে।

বিএনপি সরকারের আমলে অবসরে পাঠানো পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে প্রকাশ্যে সভা, সমাবেশ, মিছিল করেছেন, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। এসবই তৎকালীন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের একজন নেতা জেনেই ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার তাকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল। এই নতুন তদন্ত কর্মকর্তাই মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নিয়ে, সীমাহীন ও অকথ্য অত্যাচার করে তারেক রহমানকে জড়িয়ে বানানো এক জবানবন্দীতে মুফতি হান্নানের স্বাক্ষর নিয়ে তারেক রহমানকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তী পর্যায়ে মুফতি হান্নান আদালতে লিখিতভাবে তার সেই কথিত জবানবন্দী এই মর্মে প্রত্যাহার করেন যে, তিনি তারেক রহমানকে চেনেন না, তার সাথে কোনো কথা হয়নি এবং অত্যাচার করে তাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে। এই মামলায় অন্য কোনো সাক্ষী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কিছু না বলায় এবং মুফতি হান্নান তার জবানবন্দী প্রত্যাহার করায় গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের আর কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আজ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, এদেশে কোনো নাগরিকেরই আর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা দেশবাসীকে সরকারের এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ এবং আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করার নোংরা কৌশল সম্পর্কে সজাগ হয়ে অনির্বাচিত এই সরকারকে হটিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

কর্মসূচি :
এদিকে বিএনপির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আগামীকাল ১১ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশের মহানগর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ১৩ অক্টোবর ছাত্রদলের সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর যুবদলের সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, ১৫ অক্টোবর সেচ্ছাসেবক দলের সারা দেশে বিক্ষোভ। ১৬ অক্টোবর বিএনপি ঢাকাসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল করবে। এ ছাড়া ১৭ অক্টোবর মহিলা দল ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধন ও ১৮ অক্টোবর শ্রমিক দল ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হৃদয় দাশ শুভ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাত জুয়াড়িকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

আটককৃত জুয়াড়িরা উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাত জুয়ারিকে আটক করেছে জেলার ডিবি পুলিশ।

জুয়া খেলার অপরাধে আটক কৃতরা হলেন,মো: আব্দুর রউফ (৪০),মো: সুমন মিয়া (৩১),ইমরান মিয়া (৩৮), রহিম মিয়া (৩৩),মো: নুরুল ইসলাম (৩৭) ইমরান আলী ( ২৯) ও মাহমুদ মিয়া (৩৬)। তাদের বাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ৫ ভান্ডিল তাস ও নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম  এ প্রতিনিধি জানান,আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে৷

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১১মে,ডেস্ক নিউজঃ শুক্রবার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অসমিংটন এলাকার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সাত জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ কমিশনার ক্রিস ডাওসন বলেছেন, গ্রামের একটি ভবনের বাইরে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির ‍লাশ এবং ভবনের ভেতর থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অবশ্য, এ ঘটনায় জননিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডাওসন বলেন, প্রাণহানি দুর্ভ্যাগ্যজনক কিন্তু চার শিশু ও তিন প্রাপ্তবয়স্কের এই প্রাণহানি একটি উল্লেখযোগ্য দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

মৃতদেহের পরিচয় জানানোর মতো পরিস্থিতিতে আমি নেই বলেও জানান তিনি।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনা ব্যাপক আকারে তদন্ত করা হবে এবং হত্যার শিকার ওই ব্যক্তিদের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

“আল্লাহর অলিগণের নামে ছলচাতুরীকারি প্রতারক মুতাহিরচক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ভুয়া ও কাল্পনিক মাজারের কারনে প্রকৃত মাজারের সম্মান হুমকির মুখে পরবে এবং সরলমনা মাজারভক্তরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬আগস্ট,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্র্ব শ্রীমঙ্গল (লালবাগ) গ্রামের মনাইউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পশ্চিম পাশের বাড়ির মৃত নূর মিয়ার ছেলে বিদেশ ফেরত “মোতাহির” একটি অপরাধীচক্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার নিজের বসত ভিটায়  স্থানীয় ও বহিরাগত রাজ মিস্ত্রিদের দিয়ে দিনে ও রাতে কাজ করে পুর্ব পশ্চিম ও উত্তর দক্ষিন বিভিন্ন মুখী ৭টি কবরাকৃতি বানিয়ে তার পিতার নামানুসারে নূরে দরবারিয়া সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে কল্পিত ৭ পীরের মাজার নাম ধারণ করে কথিত মাজার  ব্যবসা গড়ে তুলে অর্থ আত্মসাৎসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতনমহলের অভিযোগ উঠে।

পরে স্থানীয় সচেতনমহল চলতি বছরের গত ২২ ফেব্রয়ারী পুর্ব শ্রীমঙ্গল (লালবাগ) এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত ৭ পৃষ্ঠা সম্বলিত ভূয়া মাজার ও ভন্ড পীরের নানান কু-কর্মের বিরুদ্ধে এবং ভূয়া মাজার উচ্ছেদের জন্য মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার,শ্রীমঙ্গলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, কমান্ডিং অফিসার শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ৯, শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনর্চাজ ও ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে পৃথক পৃথক অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছিল।

এলাকাবাসির অভিযোগে জানা যায় যে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের পূর্ব শ্রীমঙ্গল (লালবাগ) গ্রামের মৃত নূর মিয়ার ছেলে মোতাহির ৪/৫ বছর আগ থেকে তার বসত ভিটায় কপ্লিত ৭টি কবরস্থান বানিয়ে ৭ পীরের মাজার নাম ধারণ করে একটি মিথ্যা ও ভূয়া মাজার রাতের আধাঁরে তৈরী করে।লোকমুখে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে এই ভূয়া মাজারের আকর্ষণ সৃষ্টি করে উক্ত মাজারের কবর গুলো পীরের বংশধর ও জ্বীনের বাদশা হিসেবে নিজেকে জাহির  করছে। পূর্ব শ্রীমঙ্গল এলাকার মৃত নূর মিয়ার ৩য় ছেলে মতাহির মিয়া পূর্ব পরিকল্পীত প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষে একটি মিথ্যা ভূয়া মাজার তৈরী করে লোকমুখে প্রচার করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা।

ভন্ড মোতাহিরের পূর্ব পরিকল্পীত পরিকল্পনা অনুযায়ী মাজার নামধারী ভূয়া মাজারকে ৭ পীরের মাজার হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসলাম ধর্মের নামে প্রতারণা করছে। ভন্ড মোতাহির ভূয়া মাজারে ৪/৫ টি কুকুর লালন পালন করে । আর এই কুকুর গুলো তার কল্পিত মাজারের ভিতরে বাহিরে অবস্থান করে,দুরদূরান্ত থেকে কল্পিত মাজারে আসা বিভিন্ন প্রকার শিন্নী কুকুর গুলোকে আগে দেন তার পরে ভক্তদের দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি মকবুল মিয়া জানান,৫/৭ বছর আগে ভন্ড পীর নামক মোতাহিরের একটি টং দোকান ছিল আর এই টং দোকানে বসেই সে আমাদের এলাকার অনেকের সাথে বেশি কামাইয়ের (রুজি) পরামর্শ করত। বলতো তার কু-বুদ্ধিমত্তার কথা। বিদেশে গিয়েও কিছু না করার ব্যর্থতার কথা। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পায়তারায় বারবার চাপ প্রয়োগ করেন অন্য ভাইদের। তড়িৎ গতিতে পিতৃ সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করার জন্য। তার চাপের কারনে বিগত ৫/৭ বছর আগে তাদের পিতৃ সম্পদ ভাইদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। আর তখন থেকেই জিনের বাদশা ভন্ডপীর মোতাহিরের নানান রূপ প্রচার পেতে থাকে।

এই বছরের ফেব্রয়ারী থেকে শ্রীমঙ্গলে কল্পিত ৭ পীরের ভূয়া মাজার নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকাবাসির পক্ষ থেকে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। তখন এ ঘটনার খবর পেয়ে গত ২৬ ফেব্রয়ারী রবিবার ৪.৩০ মিনিটে তাদের চক্রের একজনের আমন্ত্রণে সংবাদ সংগ্রহের জন্য  গেলে আলাপচারিতায় কল্পিত ভূয়া ৭ পীরের মাজারের প্রমান মিলে,এক পর্যায়ে আরও তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে আমার সিলেট টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সম্পাদক মোহাম্মদ আনিছুল ইসলাম আশরাফী,জাতীয় দৈনিক আমার বার্তা শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও আমার সিলেট টোয়েন্টিফোর ডটকম’র নিজস্ব প্রতিবেদক মো: জহিরুল ইসলাম এবং আমার সিলেট টোয়েন্টিফোর ডটকম’র নিজস্ব প্রতিবেদক কাজল শীল প্রমুখ হেনস্তার শিকার হন।

পরে স্থানীয়রা ও প্রশাসন খবর পেয়ে অবরুদ্ধ সাংবাদিকদের ক্যামেরাসহ উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়ার পর ঐ দিন রাতে সাংবাদিকরা ঘটনার বিবরণ দিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হলে অভিযোগটি পুলিশ আমলে নিলেও তখনকার দায়িত্বরত তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা আজও গ্রহণ করেনি। বরং উল্টো মাজারের পক্ষে নানান ভূমিকা নিয়েছিল প্রশাসনের কিছু লোক।

অপরদিকে ভন্ড মোতাহির তার সঙ্গবদ্ধ অসাধু চক্র ও অবৈধ সুবিধাভোগিদের যোগসাজশে কল্পিত ৭ মাজারের পক্ষে সাফাইনামা তৈরী করে ২৭ ফেব্রয়ারী স্থানীয় একটি প্রেসক্লাবে মিথ্যা,ভিত্তিহীন ও সাজানো তথ্য তুলে তাদেরই আমন্ত্রনে  সংবাদ সংগ্রহকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এদিকে ঘটনার দীর্ঘ পাঁচমাস অতিবাহিত হওয়ার পর  ৫ আগষ্ট শনিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল থানার এস আই ফজলে রাব্বি,এ এস আই নূরে আলমসহ তিন সদস্যের একটি দল কল্পিত ৭  মাজার পরিদর্শন করেন। ভুয়া মাজার পরিদর্শনকালে পুলিশের সাথে ভন্ড মোতাহিরের মাজার বন্ধের বিষয়ে কথা হয় বলে এস আই রাব্বি জানান,এসময় উল্টো পুলিশকে  মুতাহির তার হাতের আঙ্গূল উপর দিকে তাক করে জানান সব তিনি জানেন?

পরিশর্দন শেষে সাংবাদিকদের  প্রশ্নের জবাবে  ওই তদন্ত কর্মকর্তা জানান,”বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় অতীতে পূর্ব শ্রীমঙ্গলে কোন ৭ পীরের মাজারের অস্তিত্ব ছিল না এটি একটি কল্পিত ও ভূয়া মাজার। এর কার্যক্রম বন্ধের নিদের্শে রয়েছে। তাই  পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে কল্পিতমাজার বন্ধের বিষয়টি মোতাহিরসহ তার অনুসারীদের  জানাতে এসেছি।”

এলাবাসির দাবী এই ভন্ড মোহাতির ও তার কল্পিত ভূয়া ৭ পীরের মাজারে সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।এবং অবিলম্বে কল্পিত সাজানো ৭ পীরের মাজার উচ্ছেদ করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

এ ব্যাপারে প্রকৃত মাজার ভক্তদের দাবী “আল্লাহর অলিগণের নামে ছলচাতুরীকারি প্রতারক মুতাহিরচক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ভুয়া ও কাল্পনিক মাজারের কারনে প্রকৃত মাজারের সম্মান হুমকির মুখে পরবে এবং সরলমনা মাজারভক্তরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।”আপডেট

পূর্বের একটি সংবাদ  নিম্নে দেখুন-

শ্রীমঙ্গলে কল্পিত সাত মাজার বানিয়ে অর্থআত্মসাতের অভিযোগ

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২মার্চ,হৃদয় দাস শুভ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা দুটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়ি ভাড়া নেয়া হয় বেসরকারি কোম্পানির ম্যানেজার পরিচয়ে। তিন মাস আগে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকার বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়। ভাড়া নেয়ার সময় ওই জঙ্গি নিজের নাম বেলাল বলে বাড়ির কেয়ারটেকারকে জানিয়েছিল।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুর এলাকার জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখার সময় সেখানে দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার রওশওউজ্জামান সিদ্দিকী এমন তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে বড়হাট এলাকার বাসাটি ভাড়া নেন বেলাল। বাড়ির কেয়ারটেকার জুয়েল মিয়ার কাছ থেকে তিনি মাসিক সাত হাজার ২০০ টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন। এসময় বেলায় নিজেকে আরএফএল কোম্পানির ম্যানেজার পরিচয় দেন। বাড়িটিতে বেলালের সঙ্গে তার শ্বশুর ও তিন শিশু থাকতেন।

আরও দেখুনঃ মৌলভীবাজার জঙ্গি আস্তানার আশে পাশে ১৪৪ ধারা জারী– See more at:

পুলিশ কর্মকর্তা রওশনউজ্জামান আরও বলেন, বেলালের মাধ্যমে নাসিরনগরের গ্রামের বাড়িটি ছয় হাজার ৬০০ টাকায় ভাড়া নেন মাহফুজ নামে একজন। সেখানে তার সঙ্গে আছে শ্বশুর শাশুড়ি ও চার শিশু।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পুলিশ, র্যাব ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। অভিযান চালানোর জন্য সোয়াটের অপেক্ষা করা হচ্ছে। তারা পৌঁছলেই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রাত তিনটা থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে দুটি বাড়ি থেকে গোলাগুলি ও গ্রেনেড বিস্ফোরনের শব্দ শোনা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই দুই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৪মার্চ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সঙ্গবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত ৭ টি কবরাকৃতিতে ৭ পীরের মাজার নূরে দরবারিয়া নামে জৈনক মোতাহিরের তৈরীকৃত মাজার পরিদর্শন করলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেল আশফাকুজ্জামান  খন্দকার।

৩ নং শ্রীমঙ্গল ইউপির লালবাগের (পুর্ব শ্রীমঙ্গল) মৃত নূর মিয়ার ছেলে মোতাহির মিয়ার দাবী তিনি ঐশী ইশারা পেয়ে নিজ বাড়িতে ৭ বছরে ৭ টি মাজার পেয়েছেন,যা নাম বিহীন  ৭ পীরের কল্পনায় ৭ টি কবর দিয়ে মাজারাকৃতি তৈরী করে ব্যবসা করে যাচ্ছেন।মোতাহির চক্র ওলি আওলিয়াদের নামে সাজানো মাজার তৈরী করে  পবিত্র মাজার ও ইসলাম ধর্মের  অবমাননা করে চলেছেন এমন অভিযোগ দীর্ঘ ৩/৪ বছরের।তিনি নিজেকে কল্পিত মাজারের খাদেম ও ঐশী ইঙ্গিতের বাহক হিসেবে দাবী করে কখনো জিনের বাদশা কখনো স্ব-ঘোষিত অলি বলে প্রচার করে বেরাচ্ছে এবং পুকুর ঘাঁটের পাথরে ভক্তদের চুমু দিতে উতসাহ যোগাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের থেকে অভিযোগ উঠেছে। মোতাহির কর্তৃক ভূয়া ৭টি কবরস্থান বানিয়ে ৭ পীরের মাজার নাম ধারন করে জনগণের সাথে প্রতারনা করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের   অভিযোগ। এই অভিযোগ এনে  প্রশাসনের কাছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সম্মিলিত এলাকাবাসি  ৭ পৃষ্ঠার স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এখানেই সাতটি কবরের আকৃতিতে কল্পিত সাত মাজার!ছবি আমার সিলেট

এই অভিযোগের পরিপেক্ষিতে শুত্রুবার সকাল ১১ টায় ঘটনাস্থলে পুর্ব পরিকল্পিত ৭ পীরের তৈরী মাজার পরিদর্শন করতে আসেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেল আশফাকুজ্জামান খন্দকার,শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম , শ্রীমঙ্গল থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই সৈয়দ মাহবুবুর রহমান,এসময় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদের ইমাম মাওঃ মো: জয়নুল আবেদীন,শ্রীমঙ্গল ৩ নং ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়,লাল বাগ এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম রাজা,বিভিন্ন  মিডিয়ার সাংবাদিক এবং লালবাগ এলাকার গণ্যমান্য  মুরুব্বিসহ শতাধিক লোক।

এ সময় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেল আশফাকুজ্জামান  খন্দকার কথিত ৭ পীরের নূরে দরবারিয়া মাজারের প্রতিষ্ঠিাতা মোতাহিরকে কথিত মাজার ও ৭ পীরের  ৭টি কবর সম্পর্কে  বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। কিন্ত  প্রশ্নের উত্তর পাশ কাটিয়ে স্ব ঘোষিত মাজার প্রতিষ্ঠাতা  মোতাহির উপরের দিকে ঈঙ্গিত করে বলেন তিনি জানেন(মানে আল্লাহ জানেন) “?” । অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোতাহির তার পিতার নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেননি এসময় মোতাহির তার চোখ বন্ধ করে আধ্যাত্মিক ভাব দেখিয়ে কথা বলেন। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তিনি এলাকাবাসিকে বলেন “আমরা দুই পক্ষকে থানাতে ডেকে বসে বিষয়টার সমাধান করবো।এ বিষয়ে  কেহ যেন  আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করেন তিনি অনুরোধ করেন ।

পরে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম এলাকাবাসিকে উদ্দেশ্য করে শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে বলেন, “কেউ মাজার নিয়ে বিশৃঙ্খলা করলে আমি যদি এই চেয়ারে বসা থাকি তাহলে তার মাঝা ভেঙ্গে দেবো, সে যেই হউক।তিনি আরোও বলেন ,দু-পক্ষের লোকজন নিয়ে শান্তি পূর্ণ ভাবে এই সমস্যার সমাধান আমরা করবো।কিছু দিন পুর্বে নাসির নগর এলাকার উদাহরন টেনে তিনি বলেন কোন সমস্যা তৈরি হলে কারো জন্যে সুফল হবেনা।”

এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় বলেন-মন্দির বা মাজার তৈরির পদ্ধতি আছে আমি হয়তো জানিনা,যে কোন ধর্মে নিয়মের বাইরে কিছু করলে অন্যরা অসন্তুষ্ট থাকবে তাই আমরা এক স্থানে বসলে  ঘটনাটা পরিস্কার হবে।পরে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা প্রশাসন গ্রহন করবে।

এসময় এলাকাবাসি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেলকে জানায় , আমরা কথিত ৭ পীরের মাজার তৈরীকারী মোতাহির ও তার সহযেগীদের আইনী শাস্তি চাই। কথিত মাজার তৈরীকারীর বাড়ির সামনে আজ থেকে ৪/৫ বছর আগে যে জায়গাতে ৭ পীরের মাজার তৈরী করেছে মোতাহির এর বাড়ির সামনে অতীতে গোবরের গর্ত ছিল এবং গোবরের গর্তের সামনে একটি টং দোকান ছিল।

এসময় পূর্ব শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদের ইমাম মো: জয়নুল আবেদীন জানান. এখানে অতীতে কোন কারো কবর ছিল না । সে নিজের মনগড়া রাতের আধাঁরে ভূয়া মাজার তৈরী করে। তাকে অনেক বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে যে এই জায়গাতে কাদের কবর রয়েছে ? এবং এই ৭ পীরের নাম কি ? মোতাহির কথিত ৭ পীরের নাম বলতে নারাজ । তার সকল উত্তর সব কিছু আল্লাহ জানেন বলে ইশারা দেন। তিনি কোন পীরের মুরিদ সে নিজেও জানে না,মাজার সম্পর্কে তার কোন ধারণা নাই এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ,ভূয়া নিজের মনগড়া। ভূয়া মাজার  তৈরী করে ধর্মের নামে সাধারণ ওলি মনা মানুষকে ঠকাচ্ছে । আমরা এলাকাবাসি ওলি আওলিয়া ও মাজার ভক্ত কিন্ত এধরণের মিথ্যা ভূয়া মাজারের নামে প্রতারণা কখনোও মেনে নিতে পারি না । তাই প্রসাশনের প্রতি আমাদের এলাকাবাসির দাবী বিষয়টির সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে কথিত মাজার ভন্ড পীরের মাজার উচ্ছেদ পূর্বক মোতাহিরের শাস্তি চাই ।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলঃদ্বিতীয় পর্ব আসছে

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭ফেব্রুয়ারী,কাজল ও জহির,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ   মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের লালবাগ এলাকায় ৭ বৎসরে ৭ আকারের কল্পিত সাতটি কবরের আকৃতি তৈরি করে ৭ পীরের মাজার বানিয়ে একটি  সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সরলমনা অলিভক্ত নারী পুরুষের কাছ থেকে অর্থআত্মসাত,কাল্পনিক ফতুয়া ও অনৈতিক কর্ম কাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কল্পিত মাজার তৈরি চক্রের সদস্য ও প্রচারক,স্কুল মাস্টার দাবীদার আলতাফুর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার আশিদ্রোন এলাকার পরিচয়দানকারী,পিতা অজ্ঞাত (০১৭৭১-৭১৪৩৯৬) এই নম্বারধারি ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ হলে তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ১৭ ইং তারিখ থেকে মোবাইলে ও ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৮ টায় আমার সিলেট কার্যালয়ে সাক্ষাতে তার কথিত পীর মোতাহির মিয়ার সাথে সরেজমিনে সাক্ষাত করে সংবাদ প্রচারের অনুরোধে আমার সিলেটের ৩ জনের একটি টীম ২৬ তারিখ রবিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় ঘটনা স্থলে যান।

সেখানে মাজার কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে কল্পিত মাজারের চিত্র ধারণ করার এক পর্যায়ে কল্পিত মাজারের প্রতিষ্ঠাতা মোতাহির মিয়ার সাথে সাক্ষাতের কথা বললে মাজার তৈরি চক্রের সদস্য আলতাফুর রহমানসহ আরও ১০/১২ জন নারী পুরুষ এ প্রতিনিধিদের বাড়ির ভিতরে নিয়ে যান এবং কল্পিত মাজার প্রতিষ্ঠাতা মোতাহের মিয়ার সাথে সাংবাদিকদের পরিচয় করিয়ে দিলে তিনি প্রতিনিধিদের বসার সুযোগ দেন এবং আলোচনার অনুমতিদেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি এ প্রতিনিধিদের জানান “তিনি সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করতেন।২০০২ সালে একদিন হজ্জ করতে গিয়ে পাথরে চুমু খেয়ে  পাথরের পাশে ঘুমিয়ে পরেন এ সময় তার বুকে ইংগিত আসে যে, তার নিজ বাড়িতে ৭ টি মাজার তৈরি করে এর নাম নুরে দরবারিয়া রাখার জন্যে,একই সময়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন ৭ বৎসরে এখানে ৭ টি মাজার ক্রমান্বয়ে এসেছে!”তাদের এখনো নাম রাখা হয়নি?

কিভাবে এসেছে এর উত্তরে বলেন,ভক্তরা যে দিন যে মাজারের নকশা স্বপ্নে দেখেন এর পরেই তিনি তা প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসলামে এভাবে কল্পিত মাজার প্রতিষ্ঠার নমুনা অতীতে ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি অন্যান্য অলিদের কথা বলেন উদাহরন দিতে পারেন নি বলেন এইন জানেন।

মাজার তৈরি করার জন্যে একজন বুজুর্গ ব্যাক্তির মৃত দেহ এবং ওই স্থানে দাফন করা জরুরী শর্ত, তাহলে শুধু মাত্র স্বপ্নে পেয়ে মাজার তৈরি করা কি শরিয়ত সম্মত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আল্লাহ জানেন।আল্লাহ যেভাবে বলেন আমি সে ভাবেই করি।

তার পীরের নাম কি জিজ্ঞাসা করলে তিনি শ্রীমঙ্গল শহরের মৃত বারিক মিয়া বলে জানান তবে পীরের তরিকার নাম জানেন না।তার নিজের তরিকার নাম জানতে চাইলে তিনি মুজাদ্দিদ  ও রাসুলের তরিকা বলে উত্তর দেন।লেখা পড়া কতটুকু জানতে চাইলে ৮ম শ্রেণি বলে জানান তবে কত সালে লেখাপড়া শেষ করেছেন বললে তিনি বলেন,বড়  হুজুর যে বৎসর হজ্জে গেছিলেন।

মহিলারা কেন আসেন এর জবাবে তিনি জানান তাদের মঙ্গল হয় তাই তারা আসেন এ সময় বেশ কয়েকজনের নাম ধরে তাদের কারো ৫ লাখ টাকা পাওয়ার,কারো সন্তান পাওয়ার কথা,বিদেশে যাওয়ার কথা তিনি নিজেই বর্ননা করেন।আপনার এখানে আসা সরলমনাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে ? তিনি বলেন ভক্তরা আসেন তাদের ফল পান,আমি মাটি,কাগজ দিয়ে তাদের তাবিজ দিয়ে দেই।তারা নিজ থেকেই টাকা পয়সা দিয়ে যান।

স্বপ্নে প্রাপ্ত ৭ মাজারের আওলিয়াদের নাম কি নির্ধারন করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মতাহির মিয়া জানান ভক্তরা স্বপ্নেপ্রাপ্ত যে যে নাম দিবেন আমি তা ঘোষণা করবো আমি নিজে কিছু করিনা সব আল্লাহ করেন।কল্পকাহিনী নির্ভর অসংলগ্ন উত্তরের এক পর্যায়ে আপনার মাজার বানানোর প্রক্রিয়া ইসলাম সম্মত কিনা এবং ইসলামের ইতিহাসে এ ভাবে মাজার তৈরির কোন নমুনা পৃথিবিতে কোথাও আছে বলে কি আপনি জানেন ? জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে উপরের দিকে ইঙ্গিত করে দেখান তিনি (আল্লহ)জানেন।(চলবে)

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc