Friday 30th of October 2020 07:38:23 PM

দেশব্যাপী তৃণমূলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আ’লীগ সরকার। এতোদিন মহামারি করোনার কারণে রাজনীতি ঘরে বন্ধ থাকলেও ফের মাঠে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি। এরইমধ্যে আসন্ন স্থানীয় ইউপি নির্বাচনসহ কয়েকটি উপনির্বাচনকে ঘিরে দলটি করোনার প্রভাব কাটিয়ে কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। যার কারণে তৃণমূলে পুরোপুরি নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগের কমিটি গুলোকে কেন্দ্র করে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে আ’লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সংসদ সদস্য ও জেলার প্রভাবশালী নেতারা নিজস্ব বলয় ও শক্তি বৃদ্ধিতে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে তাদের অনুগত ও ম্যাসলম্যানদের জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূলের কমিটিতে স্থান দিয়েছে। এই সুযোগে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের হটিয়ে আওয়ামী লীগে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোনসহ আত্মীয়-স্বজনদের তৃণমূল আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে দেখা গেছে। এতে ক্ষোভ-দুঃখ-হতাশায় তৃণমূলের অনেক পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারা সংগঠন বিমূখ হয়ে পড়েছেন।

অপরদিকে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দল ও সরকারকে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। এদিকে, মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের নিজ এলাকায় নিজস্ব বলয় সৃষ্টিতে ত্যাগী-পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে ‘একক নিয়ন্ত্রণের কোন কমিটিকে’ অনুমোদন দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবার তৃণমূলের কোথাও কাউকে কথিত ‘পকেট কমিটি’ করতে দেবে না দলটি। তৃণমূলে কমিটি গঠনে স্থানীয় এমপি ও জেলার প্রভাবশালী নেতাদের নিজস্ব বলয় ভাঙতে এবং সুযোগসন্ধানী ও বিতর্কিতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার আগে থেকেই সতর্ক দলটির নীতিনির্ধারকরা।

দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে সম্মেলন হওয়া জেলাগুলোর মধ্যে অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে তালিকা জমা দিয়েছে। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতাদের স্থান করে দিতে কেন্দ্রে জমা পড়া জেলা কমিটিগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এজন্য ৮ বিভাগের জন্য ৮টি শক্তিশালী পৃথক কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিগুলো ভালভাবে যাচাই-বাছাই করেই কমিটিগুলো অনুমোদন দেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। যেসব জেলা এখনও কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়নি, তাদের এ মাসের মধ্যেই জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে জমা পড়া জেলা কমিটিগুলো অতীতের মতো ঢালাও অনুমোদন না দিয়ে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিগত সময়ের মতো নিজ এলাকায় নিজস্ব বলয় বা পকেট কমিটি যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য এবার অধিক সতর্ক আওয়ামী লীগ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সারাদেশের সম্মেলন হওয়া অধিকাংশ জেলা-মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়েছে। দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে জমাকৃত কমিটিগুলো ভালভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। সেখানে কোন কমিটিতে বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা অনুপ্রবেশকারী থাকে তাদের বাদ দিয়ে এবং বাদ পড়া ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে কিনা, সেসব যাচাই-বাছাই করেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলা ও মহানগরের কমিটির তালিকা দলের সভাপতির (শেখ হাসিনা) জমা দেবেন। এরপরই জমাকৃত কমিটিগুলো অনুমোদন পাবে। এজন্য কিছুটা সময় অবশ্যই লাগবে।

দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে জমা পড়া জেলা-মহানগর কমিটিগুলো ভালভাবে যাচাই-বাছাই করে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী স্থান করে দিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে আট বিভাগের আটটি টিম গঠন করা হচ্ছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কমিটিগুলো অনুমোদনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। জানা গেছে, এবার আওয়ামী লীগের নীতিগত অবস্থানই হচ্ছে, জমা পড়া কমিটিগুলো থেকে সুযোগ-সন্ধানী, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের জায়গা করে দেয়া। এক্ষেত্রে যেসব জেলার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসবে, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক মহলের।

সূত্র জানায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সভায় জেলা কমিটি অনুমোদন এবং কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, বিতর্কিতদের দলে স্থান দেয়া যাবে না। দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের দলের নেতৃত্বে আনতে হবে। এ সময় তিনি জমা পড়া কমিটিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কথাও বলেন।

ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্রে জমা পড়া জেলা-মহানগর কমিটি এবং সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা নিজস্ব বলয় সৃষ্টিতে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ‘মাইম্যানদের’ নিয়ে পকেট কমিটি কোনভাবেই করতে না পারে সেজন্য দলের পাঁচ সদস্যের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে একেকটি টিম গঠন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ৮ বিভাগে পৃথক পাঁচ সদস্যর ৮টি পৃথক টিমে নেতৃত্ব দেবেন ৮ সিনিয়র সভাপতিম-লীর সদস্য। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে একজন সভাপতিম-লীর সদস্য, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দুই জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থাকবেন। এই আট কমিটি ৮ বিভাগভুক্ত যেসব জেলা-মহানগর কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছে, সেগুলো ভাল করে যাচাই-বাছাই করবেন। প্রয়োজনে অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিতদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে কমিটিতে স্থান পাওয়া সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেবেন। আবার কোন জেলা বা মহানগরে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টিতে সুযোগ-সন্ধানীদের স্থান দেয়ার অভিযোগ উঠে, সেগুলোও যাচাই করে বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হবে।

দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তৃণমূলের নেতৃত্বে দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এবার অধিক সতর্কতা অবলম্বন করছে। যাচাই-বাছাই করছে কেন্দ্রে জমা পড়া তৃণমূলের কমিটিগুলো। পর্যালোচনা চলছে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য এবং সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটির তালিকাও। দলের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এসব কমিটি যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঁচ সদস্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যাদের বাড়ি যে এলাকায়, তারাও নিজ নিজ এলাকার কমিটিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজে সহযোগিতা করবেন।

জেলা সম্মেলনগুলোতে এবং সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনেও পকেট কমিটি না করতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছিলেন, ‘এবার পকেট কমিটি চলবে না। ঘরের মধ্যে ঘর, মশারির মধ্যে মশারি, ত্যাগীদের বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে পকেট কমিটি করার চেষ্টা করবেন না। পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, কমিটি করতে গিয়ে দল ভারি করার জন্য খারাপ লোক টেনে আনবেন, এটা চলবে না। বসন্তের কোকিল আমরা চাই না, দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে।

বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের জেরে জনগণের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। দেশটির মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করার পর তিনি সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাঁর মন্ত্রিসভার সব সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির সরকার ভেঙে গেল।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে পদত্যাগ করেন দেশটির বিচারমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রী। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। পরে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা জনগণের ইচ্ছাকে ‍অনুসরণ করছি। জনগণ সাত বছর ধরে লুকিয়ে রাখা এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চায়। তারা সত্যিকারের পরির্তন চায়। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমি আজ এই সরকারের পদত্যাগ ঘোষণা করছি।” তিনি বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
৪ আগস্টে বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। ওই ঘটনায় লেবাননে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ব্যবহার ও লাঠিপেটা করে। বিক্ষোভকারীরা গতকাল রোববার দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবরোধ সৃষ্টি করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। এর আগে শনিবার বিক্ষোভকারীরা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার জের ধরে এর আগে লেবাননের আইনমন্ত্রী মারিয়া ক্লাউদে নাজিম, তথ্যমন্ত্রী মানাল আব্দেল সামাদ ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ড্যামিয়ানোস কাত্তার নিজ নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। ওই বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরকারকে নিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে সে ঘোষণাই দিলেন হাসান দিয়াব।পার্সটুডে

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গৌতম আইচ সরকার। ভুগছিলেন কিডনির জটিলতায়। মেয়ে ডা. সুস্মিতা আইচ সরকারের স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ৩৩৩ হটলাইনে দায়িত্ব পালন করছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরেও কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ে সুস্মিতা আইচ। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তার হয়েও কিছু করতে পারলাম না।’

অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন গৌতম আইচ সরকার। তার কিডনির সমস্যাও ছিল। ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তার জ্বর, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এই সরকারি কর্মকর্তাকে। সেখানেই আজ শনিবার সকালে গৌতম আইচের মৃত্যু হয়।

গৌতম আইচের মেয়ে ডা. সুম্মিতা জানান, ‘কোভিড-১৯ এর কোনো উপসর্গ না থাকলেও অন্য কোনো উপায় না পেয়ে অনেক কষ্টে বাবাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। বাবার আইসিইউ সাপোর্টটা খুব দরকার ছিল কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। বাবার চিকিৎসাই হলো না, তিনি মারা গেলেন।’

বাবার অবস্থার অবনতি হওয়ার পর হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো সহায়তা পাননি বলেও অভিযোগ করেন সুস্মিতা।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তার বাবা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কি না, তা জানার চেষ্টাও করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে স্বভাব কবি বিপিন সরকারের ৯৬তম জন্মজয়ন্তী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন, প্রার্থনা সংগীত, কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বভাব কবি বিপিন সরকার স্মৃতিরক্ষা পরিষদ ও এলাকাবাসীর আয়োজনে বিকাল জন্মস্থান পৌরসভার বাহিরডাঙ্গায় বসতভিটায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অতিথিবৃন্দ, স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সদস্য ও এলাকাবাসী।
পরে আলোচনা সভায় স্বভাব কবি বিপিন সরকার স্মৃতিরক্ষা পরিষদের আহবায়ক ডাঃ মায়া রানী বিশ^াসের সভাপতিত্বে কবির জীবন ও কর্মের ওপর বক্তব্য দেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার কুন্ডু, চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম আহবায়ক এসএম আকরাম শাহীদ চুন্নু, সদর থানার ওসি (তদন্ত) হরিদাস রায়, জেলা পরিষদের সদস্য রওশন আরা কবির লিলি, নারী নেত্রী আঞ্জুমান আরা, পৌর কাউন্সিলর ইপি রানী, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম টুলু, প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বভাব কবি বিপিন সরকার স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব গোলক চন্দ্র বিশ^াস।
বক্তারা, স্বভাব কবির স্মৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, স্বভাব কবি বিপিন সরকার এ পর্যন্ত ৮টি কাব্যগ্রন্থ, ২০টি অষ্টকযাত্রা পালা, ১৪টি পালা গান, এক াহজারের বেশি কবিতা, এক হাজার হালুই গান, দুই শতাধিক ধুয়া-বারাসিয়া গান লিখেছেন। নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমা লে এই স্বভাব কবির যাত্রাপালা, অষ্টক গান, কবিতা, হালুই গান, ধুয়া-বারাসিয়া গান নৌকার মাঝি,কৃষান-কৃষাণীদের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয়। কবি বাংলা ১৩৩০ সনের ৫ পৌষ নড়াইল পৌরসভার বাহিরডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর বার্ধক্যজণিত কারনে পরলোক গমণ করেন।

আলী হোসেন রাজন,জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজারঃ  জঙ্গিবাদ আরও গভীর সমস্যা, আজকে মাদক,সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী এম এ মান্নান (এমপি)।

তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন তোমরা কিছু মনে করবেনা জঙ্গিবাদ এখানেই উৎপওি হচ্ছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে, তিনি বলেন তোমাদের সামনে আদর্শ আছে, তোমরা অনেকে অবহেলা করে সেই আদর্শের দিকে তাকাওনা, এই মুহূর্তে তোমাদের জন্য আদর্শ হচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তোমাদের আদর্শ লক্ষ ঠিক করতে হবে। মন্ত্রী বলেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য বড় দুটি বাস দেয়ার বিষয়ে তিনি মন্ত্রনালয়ে কথা বলবেন। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে সন্ত্রাস,মাদক,জঙ্গিবাদ ও গুজব বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
শনিবার (৩০) নভেম্বর দুপুরে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড.মো:ফজলুল আলীর সভাপতিত্বে সন্ত্রাস,মাদক,জঙ্গিবাদ ও গুজব বিরোধী এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার তিন আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মল্লিকা দে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, পুলিশ সোপার ফারুক আহমদ, পৌর সভার মেয়র ফজলুর রহমান,সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: কামাল হোসেন।
এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারি কলেজে ১০তলার দুটি একাডেমিক ভবন ,দুটি বাস ও একটি হোস্টেল বরাদ্ধ দেয়ার দাবি জানান মন্ত্রীর কাছে। এরআগে সকাল সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজার পৌরসভার সকল কর্মকর্তাদের সাথে নগর সমন্বয় কমিটির সভা করেন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী এম এ মান্নান।

নজরুল ইসলাম তোফাঃ  পরিচালক শিমুল সরকার। সময়ের তরুণ জনপ্রিয় একজন পরিচালক। শত শত পর্বের নাটক নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন টেলিভিশন মিডিয়াতে। তার জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে আছে ডাইরেক্টার (বাংলাভিশন), চোরকাব্য (আরটিভি), মামার হাতের মোয়া (একুশে টিভি), হানিমুন ঠ্যালাগাড়ি (আরটিভি), জবের ব্যাপার (আরটিভি) এবং দর্শক প্রশংসিত একক নাটক ও টেলিফিল্মের মধ্যে সায়াহ্নে সূর্যোদয় (চ্যানেল আই), বউ চুরি (একুশে টিভি), আগুনের ফুল (বাংলাভিশন), শাস্তি (বাংলাভিশন), মা কে আমার পড়ে না মনে (বিটিভি), অচ্ছুত (আরটিভি), ওয়ান লাখ ইলেভেন হাজার (আরটিভি), আরজু (আরটিভি), কেস নম্বর ৯৯ (একুশে টিভি) উল্লেখযোগ্য। বেশ কিছুদিন থেকেই তিনি নাটক থেকে একটু দূরে আছেন কেননা এই সময়ে তিনি ৩ টি চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি সারছেন। খুব শিঘ্রই চলচ্চিত্রগুলির কাজ শুরুও হয়ে যাবে একে একে। হুট করেই ভাল একটা গল্প মাথায় আসাতে তিনি  এবার নাকি সেটি চ্যানেল আই এর জন্য নির্মাণ করেছেন।
টেলিফিল্মের নাম ‘গুপ্তধন এবং একজন বৃদ্ধের গল্প’ যেটি ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টায় প্রচারিত হবে।অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু ও আ খ ম হাসান। সাথে আছেন নির্মাতা শিমুল সরকার নিজেও। ক্যামেরায় অভিনয় এটি তার ২য়। প্রথমটি ছিল তার নিজের অনলাইন টেলিভিশন লাভ টিভির জন্য নির্মিত রাজকাহিনী HD . কেন অভিনয়ে আসা ? প্রশ্নের উত্তরে শিমুল সরকার জানান – অভিনয়টা আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে। মঞ্চে কাজ করছি দীর্ঘ ২৩ বছর। এসময়টাতে নির্দেশনার পাশাপাশি প্রায় ৪০ টি নাটকের চার শতাধিক শোতে অভিনয় করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিতার্কিক এবং অভিনেতা হিসেবেই বেশ খ্যাতি হয়েছিল বলতে পারেন।
কিন্তু টেলিভিশনে আমার সব সময় ক্যামেরার পিছনে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে হয়েছে।নির্মাতা হতেই লাইট ক্যামেরা একশানের এই মাঠে আসা আমার। কিন্তু বলতে পারেন অনেকটা ক্ষোভ নিয়েই অভিনয়টা শুরু করা এবার ক্যামেরার সামনে। আমাদের টিভি নাটক এবং চলচ্চিত্রে ভাল অভিনয়টা খুব কমে গেছে। কমে গেছে ভাল অভিনেতা অভিনেত্রীদের সংখ্যাও। এখন যারা অভিনয় করছেন তাদের শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি অদক্ষ এবং ততটাই বাণিজ্যিক। এই বাণিজ্যিক মনোভাবটাকে আবার প্রফেশনালিজমের সাথে মিলিয়ে ফেলা যাবে না।
এটা নিছক টাকা কামানোর মাঠ হয়ে গেছে কারো কারো কাছে। সেটে আসবেন দুপুর ১ টায়। এসেই আবার বলবেন আমি কিন্তু ৮ টার পরে কাজ করিনা। আমি কিন্তু উত্তরার বাইরে হলে ৯ টা পর্যন্ত কাজ করি। আমি কিন্তু ১০ টার পর ১ সেকেন্ডও থাকবো না জাতীয় বাণী প্রণেতা এরা। ৯৮% ই স্ক্রিপ্ট পড়েন না বাসায়। সেটে এসে মোবাইলে কথা বলতে বলতে এক দুইবার রিহার্সেল, এবং তারপরের ডাইলগ হলো পুরোটা তো মাস্টারে যাওয়া যাবে না, কেটে কেটে নেন। একটা করে সংলাপ বলে দেন আর ক্লোজ নেন। দিয়ে দিচ্ছি।
এই শতকরা ৯৮ জনই কিন্তু ক্লোজ শটের খেলোয়াড়। অথচ দেখুন আমাদের একজন ফেরদৌসী মজুমদার আছেন, আছেন এটিএম শামসুজ্জামান, মামুনুর রশিদ, আলী যাকের, আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর।
ফেরদৌসী দিদিকে নিয়ে একটা ঈদের নাটক করছি, একটা দৃশ্য ছিল ৭ মিনিটের। একা একাই কথা বলবেন। আমি বলেছিলাম দিদি আমি এই দৃশ্যটা এক টেকে নিতে চাই। উনি বললেন আমাকে ২ মিনিট সময় দাও আমি শুধু একবার রিভাইজ টা দিয়ে নিবো। তারপর দুই ক্যামেরায় তিনি আমাকে বিস্ময়ের সাগরে ফেলে এক টেকে শট দিলেন। হাসি কান্না ভালবাসা অভিমান কত রকম অভিব্যক্তিই না ছিল সেখানে। শুটিং এর আগে তিনি অন্তত ১০ বার আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন শিমুল এই যায়গাটা কেমন হবে একটু বলো তো ভাই, আমি এরকম ভাবছি ঠিক আছে কী? কোথায় পাবেন য়ার একজন ফেরদৌসী মজুমদারকে? প্রফেশনালিজম এর কথা বলবেন? উনি অনেক বেশি প্রফেশনাল। ফাইনাল মিটিং এ সম্মানী নিয়েও কথা পাকা করে নিয়েছেন। জিজ্ঞাসা করে বলেছেন একজন স্ক্রিপ্ট টা দেখে বললো এটি তো টেলিফিল্মের মত বড়। তুমি কি টেলিফিল্ম করবে নাকি? টেলিফিল্মের সম্মানী নাকি নাটকের চাইতে বেশি? আমি মুগ্ধ হয়েছি তার সারল্যে। বিনয়ের সাথে বলেছি যাদেরকে দেবতা জ্ঞান করে বড় হয়েছি তাদের কাছে কী ভক্তরা কিছু লুকোয় দিদি? উনি আদর করে দিয়েছেন।উনি কিন্তু সেটে গিয়ে বলেননি আমি স্যান্ডুইচ ছাড়া নাস্তা করি না !! বলেননি কারন তার বাসায় ভাতের অভাব নেই। যারা বাসায় পান্তা ভাত খেয়ে বের হয় ঐসব মুখেই ওগুলো মানায় ইদানীং।
এটিএম শামসুজ্জামান কে নিয়ে শত শত পর্বের নাটক করেছি। জীবনে একবার দেখিনি যে কোন শট শেষ করে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে ভুলেছেন- শিমুল ঠিক ছিল তো? না হলে আবার দিই। আর আমাদের তথাচকথিত তারকারা সেকেন্ড টেক নিতে চাইলে আরে না ঠিকই তো ছিল। আর ঐটা তো মাস্টারে আছেই, এই যায়গায় মাস্টারে চলে যাইয়েন।
এগুলোই আমার অভিনয় শুরু করার পিছনের কিছু ক্ষোভ বলতে পারেন। অভিনয়টা নিয়মিতই করতে চাই কেননা আমি জানি যে অভিনয়টা আমি মোটামুটি পারি। তবে তারকা হবার জন্য অভিনয় করা আমার ইচ্ছা নয়। কিন্তু করতে চাই যদি সুযোগ আসে ভাল কিছু করার।
আমার এই গল্পটা সবার আশা করি ভাল লাগবে। এখানে গুপ্তধনটাই আসল রহস্য। সবার গতানুগতিক যে ধারনা গুপ্তধন সম্পর্কে সেখানে একটা হোচট খাওয়াতে চেয়েছি আমি। গল্পটা লিখার পর এখানে অসাধারন কিছু ইনপুট দিয়েছেন হাসান ভাই (ইবনে হাসান খান)। কৃতজ্ঞতা তার প্রতি।ও হা এখানে কাজও করেছেন দুজন অসাধারন অভিনেতা যারা আমার খুবই প্রিয় মানুষ এবং প্রিয় অভিনেতা। আশা করি দর্শক নিরাশ হবেন না।

“জনসেবার সর্বোত্তম পন্থা হলো রাজনীতি-মৌলভীবাজারে সুজন সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার”
 
সাদিক আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার:“দেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতি এখন সংকটাপন্ন।অথচ এই রাজনীতিই হলো জনসেবার সর্বোত্তম পন্থা।কেননা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কল্যানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যায় সহজেই।দেশের গণতন্ত্র এখন মারাত্মক হুমকীর মুখে।নির্বাচন এখন প্রহসন।নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা নেই।এই সংকটময় অবস্থা থেকে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে”।
রোববার ০৮ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আয়োজনে বিকাল ৪ টা থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে এসব কথা বলেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
এসময় জেলার ওয়েস্টার্ন রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে সুজন জেলা কমিটির উদ্যোগে “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দিলীপ কুমার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকলে দাড়িয়ে সম্মিলিত কন্ঠে  জাতীয় সংগীত পাঠ করা হয়।
সংগঠনটির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে ও সম্পাদক জহর লাল দত্ত ও সাংবাদিক কাওসার ইকবালের যুগ্ন সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো: শাহাবুদ্দিন,কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান,”সুজন” শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কাউসার ইকবাল,”সুজন” শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ আনিছুল ইসলাম আশরাফী,শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি রুম্মান আহমেদ চৌধুরী শিপুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ, মৌলভীবাজার জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সঞ্জীব কুমার দেব,সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি খালেদ চৌধুরী,বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি জেলা শাখার সদস্য ও দ্বারিকাপাল মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জলি পাল প্রমুখ।
গোলটেবিল বৈঠকের স্বাগত বক্তব্য রাখেন “সুজন” জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহর লাল দত্ত।
বৈঠকে সুজনের পক্ষ থেকে ২০ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।সংস্কার প্রস্তাবগুলে হলো:রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন,নির্বাচনী সংস্কার,কার্যকর জাতীয় সংসদ,স্বাধীন বিচার বিভাগ,নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন,সাংবিধানিক সংস্কার,গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল,স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান,দুর্নীতি বিরোধী সর্বাত্মক অভিযান,যথাযত প্রশাসনিক সংস্কার,বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,শক্তিশালী নাগরিক সমাজ,মানবাধিকার সংরক্ষন,একটি নতুন সামাজিক চুক্তি,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা,আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা,শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন,তরুণদের জন্য বিনিয়োগ,নারীর ক্ষমতায়ন।

ভারতীয় সংসদে তাৎক্ষণিক তালাক বিল পাসকে ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি কালো দিন’ বলে অভিহিত করল মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোর্ডের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়েছে।

সংসদের উভয়কক্ষে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) ট্রিপল তালাক বিল পাসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড বলেছে, অবশ্যই এটা ভারতীয় মুসলিম নারীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও মোদি সরকার সংসদের নিম্ন ও উচ্চকক্ষে ট্রিপল তালাক বিল পাস করেছে। আমরা লাখো নারীর পক্ষ থেকে ওই পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছি।

মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘অবশেষে ট্রিপল তালাক বিল সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হয়ে গেল। এই বিলের মধ্যে যথেষ্ট অসঙ্গতি, অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিল পাসের মধ্য দিয়ে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারি মানসিকতা ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকার বার বার করে মুসলিম নারীদের সুরক্ষার কথা বলে ট্রিপল তালাক বিল নিয়ে আসার জন্য সাফাই দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা মুসলিম নারীদের সুরক্ষা নয়, বরং মুসলিম পরিবারগুলোকে ধ্বংস করার একটা ষড়যন্ত্র। কেননা এই বিলে বলা হয়েছে তাৎক্ষণিক ট্রিপল তালাক দিলে সেই তালাক গ্রহণযোগ্য হবে না। অথচ স্ত্রী যদি আদালতে অভিযোগ করে তাহলে স্বামীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, তালাক যখন সংগঠিত হল না, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যখন থাকবে তখন স্বামীকে তিন বছর যদি কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে হয় তাহলে তিন বছর পরে সেই পরিবার আবার কীভাবে সুখের পরিবার থাকবে ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তারা সংসার করতে পারবে?’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, মুসলিম নারীদের সুরক্ষার জন্য মুসলিম যে ধর্মীয় বিধান বা কুরআনের যে শরীয়া ল’ সেই শরীয়া ল’তে তালাকের যে অপশন দেয়া হয়েছে, তালাকের বৈধ-অবৈধ দিকের কথা বলা হয়েছে, কোন তালাক হবে, কোন তালাক হবে না তার উল্লেখ রয়েছে। মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ ভারতীয় ল’য়ের মধ্যে সংযুক্ত করা আছে। এবং সেই বিধান মুসলিম পরিবারগুলোকে যথেষ্ট শান্তি দিতে সক্ষম হয়েছে এবং হিন্দু ও অন্যান্য সমাজের থেকে মুসলিম সমাজের মধ্যে পারিবারিক শৃঙ্খলা, পারিবারিকা আইন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। অথচ আমরা প্রতিবেশি বিশেষ করে হিন্দু বোনদের ও হিন্দু ভায়েদের দেখছি তাদের পারিবারিক জীবনে চরম অশান্তি, নারীদের উপরে চরম অত্যাচার, দৈহিক নির্যাতন, নারীদেরকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা, বধূ নির্যাতন অহরহ ঘটছে। কিন্তু তাদের ব্যাপারে সরকার কোনও ভূমিকা গ্রহণ করেনি। সরকার শুধু মুসলিম নারীদের সুরক্ষার জন্য এধরণের বিধান পাস করতে চলেছে। এটা আসলেই একটা ছলনা। ভারতে তারা (বিজেপি) যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে সুতরাং তারা তাদের যে লক্ষ্য, সেই লক্ষ্যে তারা পৌঁছে যেতে চায়। মুসলিম নারী সুরক্ষার  নামে মুসলিম পরিবারগুলোতে ধ্বংস ডেকে আনা এবং মুসলিম সমাজের মধ্যে একটা অশান্তি তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।’

মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন বলেন, ‘আমি ভারতীয় মুসলিম সমাজের কাছে আবেদন জানাতে চাই যে, সরকার যে বিধান নিয়ে এসেছে আমরা সর্বোতভাবে এর নিন্দা করি। কিন্তু আমরা যেন কোনোভাবেই সরকারের ওই প্ররোচনায় পা না দিই। আমরা আমাদের পারিবারিক জীবন যদি শরীয়া মোতাবেক চালাই, আমরা আমাদের স্ত্রীদের অধিকার দিই, তাদের সঙ্গে সুষ্ঠু সুসম্পর্ক রক্ষা করি এবং আমাদের পারিবারিক বিবাদগুলো শরয়ী ল’য়ের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেয়ার চেষ্টা করি তাহলে সরকারের ওই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে, তারা মুসলিম পরিবার গুলোতে কোনও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারবে না। সেজন্য আমি ওই বিলের বিরোধিতা করার পাশপাশি মুসলিম সমাজের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন নিজেদের ধর্মীয় বিধানে আনুগত্যের মধ্য দিয়ে ওই বিলের প্রতিবাদ করে এবং ওই বিল যেন অকেজো হয়ে যায়।’

সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় গত ২৫ জুলাই ট্রিপল তালাক বিল পাস হয়। অন্যদিকে, গতকাল ৩০ জুলাই (মঙ্গলবার) সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিরোধীদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকারপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিতর্কিত ওই বিল পাস হয়ে যায়।পার্সটুডে

বিক্রমজিত বর্ধন, নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘সবার জন্য বাসস্থান’ প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার সব গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবারকে সরকারি খরচে ঘর বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২৬২টি পরিবার নতুন ঘর পেয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ও বেজায় খুশি তারা।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর, আশিদ্রোন ও শ্রীমঙ্গল সদর এই তিন ইউনিয়নের ২৬২টি পরিবারকে সরকারি খরচে ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে আনন্দ আর অবেগে উৎফুল্ল এ সব পরিবারের সদস্যরা। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিকে জানান, ‘সবার জন্য বাসস্থান’ প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার সব গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং হবে। এখন পর্যন্ত জমি আছে ঘর নেই এমন ২৬২ পরিবারকে ঘর এবং স্যানেটারি ল্যাট্রিন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রকল্পের আওতায় ধারাবাহিক ভাবে স্থানীয় প্রশাসন ২৬২টি ঘর নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছে। গৃহহীন পরিবার পেয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। ঘরের সঙ্গে পেয়েছেন স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ল্যাট্টিন। এ উপজেলায় ঘরের চাহিদা অনেক। তবে যাদের ঘর করার মতো জায়গা রয়েছে কেবল আমরা তাদেরই ঘর করে দিয়েছি। এবং আগামীতে এই কর্যক্রমকে আরো প্রসার করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির সরকার-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন ‘প্রাথমিক তদন্তের’ বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ‘এক মারামারির ঘটনায়’ খাশোগি নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় টিভি আরো জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সৌদি আরবের উপ গোয়েন্দা প্রধান আহমাদ আল-আসিরি এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র সহকারী সৌদ আল-কাহতানিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে আরো বলা হয়েছে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে ১৮ সৌদি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এই প্রথম সৌদি রাজতন্ত্রের পক্ষ থেকে জামাল খাশোগির নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করা হলো।

মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন

সৌদি রাজা সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় টিভির নিউজ বুলেটিনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগির সঙ্গে কয়েকজন ‘সাক্ষাৎপ্রার্থী ব্যক্তির মারামারি’ হয় এবং এর জের ধরে তার মৃত্যু হয়েছে।

খাশোগি হত্যার দায়ে বরখাস্ত হওয়া সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা। এ ছাড়া, মেজর জেনারেল আহমাদ আল-আসিরি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে রাজতান্ত্রিক দেশটির শীর্ষ মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সৌদ আল-কাহতানি সৌদি রাজপ্রাসাদের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সিনিয়র উপদেষ্টা

জেনারেল আসিরি ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের ওপর সৌদি বর্বরতা সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তারা শুরু থেকে এই দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলে আসলেও রিয়াদ সেসব অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করে আসছিল।

গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে গুম হয়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি রাজা সালমান, যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানসহ দেশটির সরকার দাবি করে আসছিল, খাশোগি তার কাজ শেষ করে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন। রাজা এবং যুবরাজ খাশোগিকে হত্যা বা এ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি জোর গলায় অস্বীকার করে আসছিলেন।

যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের নির্দেশেই জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারনা করা হচ্ছে

শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে আরো বলা হয়েছে, সৌদি রাজা সালমান দেশটির গোয়েন্দা বিভাগকে ঢেলে সাজানোর জন্য খাশোগি হত্যার মূল হোতা যুবরাজ বিন সালমানকে প্রধান করে একটি মন্ত্রিপরিষদীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।পার্সটুডে

আবু তাহির,ফ্রান্স: বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীন সমস্যা মোকাবেলার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পুনরায় নির্বাচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ফরাসী সংসদ সদস্য জ্য ফ্রাসোয়া এমবায়ে।

গত ২ অক্টোবর মঙ্গলবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি অভিজাত সেমিনার কক্ষে ‘রোহিঙ্গা শরনার্থী এবং শেখ হাসিনার মানবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে এ কথা বলেন তিনি।

ফ্রান্স ভিত্তিক গবেষনা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্স-বাংলা সেন্টার ফর কম্যুনিকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এফবিসিসিডি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিখি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরাসী জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য জ্য ফ্রাসোয়া এমবায়ে। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন। সেমিনারে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ফারুক নওয়াজ খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্য ফ্রাসোয়া বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। তাদের জন্য স্থায়ী পরিচয়পত্র দেয়া হলেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফর হবে বলে মনে করেন তিনি। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সে দেশে প্রত্যাবাসনের পর যেন আবার তাদের ফেরত পাঠানো না হয় সেদিকটি নিশ্চিত করার দরকার।

ফ্রান্স সরকার ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে এ সংসদ সদস্য বলেন, আমরা এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান চাই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সে দেশের উপকুল অঞ্চলে দশ লাখের বেশী রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মানবতার অঙ্গনে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ফ্রান্স সরকার সেটা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরন করে। এ সমস্যা সমাধানে ফ্রান্স সরকার সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি বলেন, দেশটির রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পুননির্বাচিত হলে ভাল হয়। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল বলে মনে করেন তিনি।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, বাংলা্দেশের সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য কুটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে এ বিষয়ে যে সব প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন সেগুলোর ভিত্তিতেই সমাধান হওয়া দরকার বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রদুত বলেন, শরনার্থীদের জন্য তিনটি রাস্তা খোলা থাকে। তাদের ফিরিয়ে দেয়া, তৃতীয় কোন দেশে পাঠিয়ে দেয়া অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের মুল স্রোতে মিলিয়ে দেয়া। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এ তিনটির একটিও প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। মিয়ানমারের সৃষ্ট এ সমস্যা তাদেরই সমাধান করতে হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদুত বলেন, আমাদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে যথেষ্ট মানবিক তবে এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান কৃটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথেই এগোচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদুত বলেন, আমরা সকলের বন্ধু, কারো সঙ্গে কোন বৈরীতা নেই। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এ পথেই আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মুল প্রবন্ধে প্রবাসী সাংবাদিক ও রাজনীতিক ফারুক নওয়াজ খান বলেন, বাংলাদেশের সরকার এবং জনগন যদি মিয়ানমারের মতো অমানবিক হতো তাহলে এ বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রান হারাতে হতো। তারা পেতো না কোন আশ্রয়। প্রতিটি মানুষের রয়েছে বেচে থাকার অধিকার। কিন্তু মিয়ানমানর সরকার রোহিঙ্গাদের এ অধিকার হরন করছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধ স্বত্বেও।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে আসা বিশাল জনস্রোতকে অবহেলা করেননি। তিনি মাতৃস্নেহে তাদের আলিঙ্গন করেছেন। মানবতার আদর্শে উদ্দীপ্ত হয়ে তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। নিজ দেশের সীমিত সামর্থ্যের পর ও তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা সব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন্ পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে এ বিষয়টিকে তুলে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন।
২০১৭ সালে ১০ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দান করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন প্রকৃত নেতৃত্ব যে কোন সমস্যায় কখনো বিচলিত হন না।

একদিকে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের চাপ অন্যদিকে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আনয়নের যে অঙ্গীকার শেখ হাসিনা করেছিলেন তাতে তিনি সফল হয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের মাধ্যমে যে মানবতার দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন সেটা বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য অনুকরনীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে ফারুক নওয়াজ খান বলেন, সে আশ্রয় দান একটি সাময়িক সময়ের জন্য বিবেচনা করে বিশ্ব নেতৃত্ব রোহিঙ্গা শরনার্থীদের তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর অধিক কুটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশাকরি।

সেমিনারের সফলতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মানবতা নিয়ে টেলিফোনে বক্তব্য রাখেন সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ সেলিম, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রানা চৌধুরী, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহীন আরমান চৌধুরী, ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক অধ্যাপক শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের গণমানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে যুগান্তকারী উদ্যোগ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা প্রান্তিক ও গরীব জনসাধারণের মনের ভাষা বোঝেন। শেখ হাসিনা যেসব যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাচ্ছেন,তা অবিস্মরণীয়।

প্রত্যন্ত এলাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছে,তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। তথ্যবহুল সংবাদের পাশাপাশি বয়ষ্কভাতা, বিধবাভাতা, মুক্তিযোদ্ধাভাতা, দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিসহ আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড দেশের মানুষকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।

শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার বান্ধাইখারা বধ্যভ’মি প্রঙ্গণে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ছানাউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্রনাথ দও দুলাল, ইউপি চেয়ারম্যান আফসার আলী প্রামানিক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম চ ল, প্রজন্মের আলো প্রত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী, রাণীনগর থানা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান পিন্টু, রাণীনগর আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুজ্জান নুরুল, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস শুকর সরদার, বান্ধাইখারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমূখ।

ডেস্ক নিউজঃ সম্প্রতি বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর সড়ক ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন আনতে ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষিত ৯ দফা দাবির সবগুলোই মেনে নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। তার পরও কেন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে? এরকম প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা ও রাজনৈতিক সচেতন মহল।

আন্দোলনের আড়ালে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারবিরোধী মহল ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উস্কে দেওয়ার প্রমানও পেয়েছে দেশের গোয়েন্দারা।

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য দিয়ে বলছে, সরকারের কাছে খবর রয়েছে, আগামী চার মাসে রাজপথ দখলসহ নানা ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে একটি মহল তৎপরতা শুরু করেছে। বিশেষ করে এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ প্রশ্নে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ নিয়ে পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে টহল বাড়ানোর জন্য দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। প্রস্তুত থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনে একটি মহল ছাত্রদের ওপর ভর করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে।
দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র ছিল বলে একাধিক সংস্থার প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা করছে সরকার। সামাজিক বিষয়সহ নতুন নতুন ইস্যুতে এ ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
সে জন্য সরকারের সব সংস্থাকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এসব আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করবে সরকার। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে কোনো মূল্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নির্দেশনা এসেছে নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে টহল বাড়াতে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা।
নবগঠিত পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি আছে। যারা যা করছে, এর কোনো কিছুই আমাদের চোখের বাইরে নয়। জাতীয় নির্বাচনসহ অন্য সব অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অন্য ইউনিটগুলো মাঠে দায়িত্ব পালন করলেও এটিইউর সদস্যরা মাঠে এবং মাঠের বাইরে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন। কেউ কোনো কিছু করতে চাইলে ধরা না পড়ে কোনো উপায় থাকবে না।’
গতকাল ঢাকা রেঞ্জের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপ-মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন জাতীয় শোক দিবস ও ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেন। জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাদক নির্মূলের জন্য পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেন তিনি।
জানা গেছে, কোটা আন্দোলনের পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছিল সরকার। তবে আন্দোলনের সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সরকার-সমর্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে হার্ডলাইনে রয়েছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ গুজব সৃষ্টি করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে পারে। অসংখ্য মামলায় অনেক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ বিভিন্ন পেশাজীবীকে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন করে যাতে কোনো আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে একটি বার্তা দিতে চায় সরকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। সে জন্যই তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে যারা আন্দোলনের ছক কষছেন তাদের একটি বিশেষ বার্তা দিতে চায় সরকার। তা হলো সাধারণ ছাত্র, সাধারণ জনগণ এবং সর্বোপরি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবস, ঈদুল আজহার নিরাপত্তায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। এর বাইরেও যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন র্যাবের সদস্যরা।’
ডিএমপির ক্রাইম কনফারেন্স : জাতীয় শোক দিবস এবং আসন্ন ঈদুল আজহায় আরও সতর্ক থাকার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, কেউ যেন ষড়যন্ত্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে পারে। উঠান-বৈঠকের মাধ্যমে নগরবাসীকে সতর্ক করতে হবে। গতকাল ডিএমপি সদর দফতরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের এসব কথা বলেন তিনি। অপরাধ সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সবগুলো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
অপরাধ সভায় বক্তব্য রাখেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মনিরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। সাম্প্রতিক আন্দোলন দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ডিএমপির প্রত্যেক সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তারা। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকেন্দ্রিক রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উঠান-বৈঠকের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করতে হবে। অভিযানের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে নগরবাসী যাতে হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। আংশিক সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১জুন,ডেস্ক নিউজঃ  জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় ২০০ কমিয়েছে সরকার। এছাড়া কমিয়ে আনা হয়েছে তিনটি বিষয়। চলতি বছর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার এনসিসির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন।

অষ্টমের সমাপনী এই পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হত শিক্ষার্থীদের। এখন বাংলা ও ইংরেজির দুটি এবং চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা আর দিতে হবে না।

শিক্ষার্থীদের উপর থেকে চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব।

পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেএসসিতে এখন ৮৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৬৫০ নম্বর এবং জেডিসিতে ১০৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষার্থীদের।

বাংলা ও ইংরেজির বিষয় কমায় ১০০ নম্বরের জন্য সিলেবাস নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সোহরাব হোসাইন বলেন, এমন হতে পারে এমসিকিউ এক লাইন লিখতে হবে।

এনসিসির সভায় উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ইনামুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহারিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক ছাড়াও এনসিসিসির সদস্যরা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৯এপ্রিল,সিডনি থেকে: অ্যামেরিকা ভিত্তিক একটি এনজিও গ্লোবাল সামিট অফ উইম্যান এর সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার সিডনীতে আসলে তার আগমনের প্রতিবাদে সম্মেলন স্থলের বাইরে বিএনপি পন্থিদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

২৭ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার বিকেল ৫ টায় ডার্লিং হারবার এলাকায় কনভেনশন সেন্টার চত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অষ্ট্রেলিয়া শাখার ও অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত এ উদ্যোগের সাথেসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও একাত্ততা ঘোষণা করে যোগদান করেছেন বলে দাবী করেন প্রতিবাদকারীরা।

এসময় কনভেনশন সেন্টারের বাইরে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। প্রতিবাদকারীরা সমস্বরে শেইম অন হাসিনা,সে নো টু ডিক্টেটর শেখ হাসিনা, কিলার হাসিনা ইজ নট ওয়েলকামড ইন অস্ট্রেলিয়া,ফ্রি মাদার অফ ডেমোক্রেসি, আমার নেত্রী আমার মা বন্দি রাখতে দেবনা ইত্যাদি স্লোগানে উপস্থিত সবাই প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শেখ হাসিনার মত একজন স্বৈরাচারী শাসককে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মুক্তচিন্তা ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির দেশ অষ্ট্রেলিয়াতে স্বাগত জানানো সম্ভব নয় বলে সমাবেশে আগতরা দাবী করেন। তারা বলেন প্রত্যেক বাংলাদেশীর উচিত শেখ হাসিনার প্রকৃত রুপ ও বাস্তবতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করে তোলা।

সকলের হাতে এসময় শোভা পাচ্ছিল গুমখুনের স্বীকার হওয়া মানুষদের ছবি, খালেদা জিয়ার ছবি, শেখহাসিনার ব্যাঙ্গাত্বক ছবি সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লিখা  প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার।  সবচেয়ে লক্ষণীয় ছিল একটি বিশাল বিজ্ঞাপনী মোবাইল ট্রাক যার চার পাশ ইংরেজি ভাষায় লিখা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান, ছবি ও কার্টুন দিয়ে সাজানো ছিল।
বিক্ষোভকারিদের শান্তিপুর্ন কিন্তু সরব উপস্থিতির কারণে শেখ হাসিনা কনভেন্সন সেন্টারের মূল দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে পেছনের সার্ভিস এন্ট্রি দিয়ে প্রবেশ করেন।  এরপর আয়োজকরা বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘোষণা  করে জানান গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে শেখ হাসিনা যেখানেই যাবেন সেখানেই তাকে প্রতিরোধ করা হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া ও কমিনিউটি সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো:দেলোয়ার হোসেন,মনিরুল হক জর্জ, আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামিম,শিবলি আব্দুল্লাহ,মোঃ মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ,ডঃ হুমায়ের চৌধুরী রানা,মোহাম্মদ লুতফুল কবির,নাসিরুল্লাহ,সাইফুল্লাহ খালিদ, লিয়াকত আলী স্বপন, ডাঃ আব্দুল ওহাব, হাবিব মোহাম্মদ জকি,মোহাম্মদ রাশেদুল হক, আবুল হাসান, মোহাম্মদ হায়দার আলী, কুদরতরউল্যাহ লিটন, আরিফুল হক,একে এম ফজলুল হক শফিক,এসএম নিগার এলাহী চৌধুরী, খন্দকার নাফিস আহমেদ, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ,তৌহিদুল ইসলাম, সোহেল ইকবাল,আবু সাইয়েদ শিবলু গাজী, মোঃ রেজাউল হক,মোঃ মোবারক হোসেন,জাকির আলম লেনিন,ওলি আহমেদ,আলমগীর হোসেন,মোঃফারুক খান,নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ,এএন এম মাসুম,সাইয়েদা খানম আংগুর, তোরাব আহমেদ,ইলিয়াস,ইয়াসির আরাফাত সবুজ,জাকির হোসেন,হাবিবুর রহমান,আব্দুস সামাদ শিবলু,জাকির লিটন,মোঃরুহুল আমিন,আবুল কালাম আজাদ,খাইরুল কবির পিন্টু,আব্দুল মতিন, ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম শামীম,আশরাফুল আলম রনি,আজাদ কামরুল হাসান,জাহাংঙ্গীর আলম,আশিক সরকার,জাকির হোসেন রাজু,আবু সায়েম সুমন,আব্দুল্লাহ আল মামুন,মোহাম্মদ জুম্মন হোসেন,জেবল হক জাবেদ,ফেরদৌস অমি,মুন্নি চৌধুরী,মিতা কাদরী,মোহাম্মদ ইউসুফ,মোঃআবুল কাশেম,আনিসুর রহমান,সালাম মিয়া,নজরুল ইসলাম,শফিকুল ইসলাম,মোঃরাশেদ খান,হুমায়ুন কবির,আব্দুল করিম,মিজানুর রহমান,রিপন মিয়া,ইয়াসির আরাফাত অপু প্রমুখ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc