Friday 30th of October 2020 10:20:14 AM

এম ওসমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ   করোনা দুর্যোগের কারণে সরকারি নির্দেশে দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সকল শিক্ষকরা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যশোরের শার্শা উপজেলার কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের পরিবারে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ।
শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় চলা এসব শিক্ষকদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে এ সমস্ত শিক্ষকদের।
যশোরের শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে প্রায় ৫৬ টি কিন্ডারগার্টেনে ৫ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োজিত রয়েছেন। এরা প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় পরিচালিত হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। এটা দিয়ে আর প্রাইভেট টিউশনের ফি দিয়ে চলত শিক্ষকদের অস্বচ্ছল পরিবারের ভরণপোষণ।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন যেমন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট টিউশন। ফলে কোনোদিক দিয়েও তারা উপার্জন করতে পারছে না। পারছেন না মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে।
এমতাবস্থায় সরকারী ভাবে আর্থিক অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণ পেতে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন করতে রাস্তায় দাড়িয়েছেন তারা।
শিক্ষকরা বলেন, আমরা কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে কোন রকম পরিবার নিয়ে চলতাম। এমনিতেই ঠিকমতো বেতন পাই না, তার উপর করোনায় লকডাউন। পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপদে রয়েছি।
অভিভাবকরা জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা বাড়িতে লেখা পড়া করছেনা। এজন্য যে সমস্ত এলাকায় শুধুমাত্র রেড জোন এলাকা হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে।
সে সমস্ত এলাকা বাদে অন্যান্য এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে বিশেষ ভাবে আহবান করছি।
কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের শার্শা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহারাব হোসেন জানান, একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষকরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শত শত পরিবার।
কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের শার্শা উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কোনো বেতন দিচ্ছে না। ওরা বেতন না দিলে তো শিক্ষকদেরও বেতন হবে না। তাছাড়া কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষকরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনা।
এই দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় আমাদের পরিবারে হাহাকার বিরাজ করছে। অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সরকারি অনুদান এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে আবেদন করছি।

“পীরগঞ্জ বনুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন স্কুল বন্ধ রেখে ব্যক্তিগত কাজে লিপ্ত থাকায় কৈফিয়ত তলবের চিঠিঃ ৩জন শিক্ষক দিয়ে ২৮জন শিক্ষার্থীর দ্বায়সারা পাঠদান,শিক্ষকের ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতি”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২জানুয়ারী,গীতি গমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ পীরগঞ্জ উপজেলার বনুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-১৫০০ প্রকল্প’র শিক্ষকগন শিক্ষার কার্যক্রম বন্ধ রেখে ব্যক্তিগত কাজে লিপ্ত থাকায় কৈফিয়ত তলবের চিঠি প্রদান করছেন উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে। ২৮জন শিক্ষার্থী নিয়ে দ্বায়সারা পাঠদান করছে প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শিক্ষকগন। সরকারি নিয়ম-নীতিমালা তোয়াক্কা না করে খেয়াল খুশিভাবে চালিয়ে আসছে পাঠদানের কাজ। ফলে সরকারের শিক্ষার কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল। জানা যায় গত ২১ জানুয়ারী, ২০১৮ তারিখে উক্ত বনুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫০০ প্রকল্প’র প্রতিষ্ঠানটিতে দুপুর ২ঘটিকায় স্থানীয় ক’জন সাংবাদিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সমূহ সরেজমিনে জানতে গেলে বিদ্যালয়টি বন্ধ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ র’ নিকট দুপুর ২টায় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা মুঠো ফোনে জানালে তিনি বিষয়টিতে আচমকে উঠে বলেন একটু দেখার সময় দেন ।

ঐ সময়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের নিকট বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি হতবিবহল হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এরপর ২.৫০মিনিটে প্রধান শিক্ষক বিপদভঞ্জন অধিকারী, সহকারী শিক্ষক বেলাল, সহকারী শিক্ষক তাপসী রাণী স্কুলে এসে দুঃখ প্রকাশ করে সাংবাদিক দ্বয়ের নিকট দুপুর ২টায় স্কুল বন্ধ রাখার ভূলের কথা স্বীকার করেন। এরপরই শুরু হয় বিভিন্ন ভাবে ভূলের তদবির সুধরানো। কিন্তু ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এ প্রতিবেদককে জানান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বৈকাল ৪.৩০মিনিট পর্যন্ত স্কুলর কার্যক্রম চালানোর কথা। অথচ শিক্ষকগন দুপুর ২টায় স্কুল বন্ধ রেখে তাদের ব্যাক্তিগত কাজে লিপ্ত রয়েছেন।

এতে শিক্ষার মান ব্যাঘাত সহ সরকারের স্ব-প্রণোদিত শিক্ষার খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়েও কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা মনে করছেন। এ নিয়ে গত ২২ জানুয়ারী উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর কার্যালয়ে শিক্ষা অফিসারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি অনুষ্ঠানে থাকায় সহকারী অফিসার (এটিও) শাহাজাহান আলী সাংবাদিকদের দেখে তিনি বলেন ঐ স্কুলটির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৈফিয়ত তলব প্রসঙ্গের স্বারক নং জাবর:ক্লা:/পীর/ঠাক/১৮/১ তারিখ:২২.০১.১৮ খ্রিঃ স্বাক্ষরিত পত্রটি ধরিয়ে দেন। কৈফিয়ত তলব পত্রে উল্লেখ করেছেন গত ২১.০১.১৮ খ্রিঃ তারিখে সাংবাদিক মারফত জানতে পারে বনুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন ২.১০মিনিটে শিক্ষার কার্যক্রম বন্ধ রেখে তাদের পারিবারিক কাজে চলে গেছেন যা চাকরী বিধির পরিপন্থি এবং অনিয়মের জন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট কেন সুপারিশ করা হবে না তার সন্তোষজনক জবাব পত্র সাত কার্য দিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাজাহান আলীর নিকট দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ প্রসঙ্গে অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে উপজেলা সরকারী শিক্ষা অফিসার শাহাজাহান আলীর স্বাক্ষরিত স্বারক নম্বর জাবর:ক্লা:/পীর/ঠাক/কৈফিয়ত/১৮/১ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঠাকুরগাঁও, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, সভাপতি বনুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও বরাবরে কৈফিয়ত তলব প্রসঙ্গে অনুলিপি প্রেরণ করেছেন।

উল্লেখ যে চলতি বছরে ঐ স্কুলে নিয়োজিত শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে ২জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৭জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ৩জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ৬জন, পঞ্চম শ্রেণীতে ৮জন, ও প্রাকশিশু শ্রেণীতে ২জন সহ মোট ২৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী ২জন শিক্ষক সহ মোট ৩জন শিক্ষক নিয়োজিত থাকলেও তিনারা ডেপুটেশনে রয়েছেন বলে উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়। তাছাড়া বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বরাদ্দে ১৫০০ প্রকল্পটি’র একটি উন্নীত তিন তলা বিশিষ্ট সৌন্দর্য বিল্ডিং নির্মাণ হলেও শিক্ষার কার্যক্রমের মান নিয়ে সংশয় চলছে।

এ দিকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী গত ২২ জানুয়ারী,২০১৮ এক সেমিনারে বিবৃতি দিয়েছেন যে ঘুষ বা আইন বিরোধী কাজের সুযোগ নেই। শিক্ষার কার্যক্রমে ও শিক্ষামন্ত্রনালয়ে তবুও দূর্ণীতি হয়। তবে তিনি দূর্ণীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন। এরপরও চলছে ঘুষের কারবার।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬জানুয়ারীঃ  টানা ৮দিন কনকনে শীতে আমরণ অনশনের পর দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর হোসেনের শিক্ষকদের অনশন স্থলে এসে শিক্ষকদের অনশন ভাঙালেন।

জাতীয়করণের দাবিতে গত পয়লা জানুয়ারি (সোমবার) থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৭এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ  ইংরেজি শিক্ষার শিক্ষকদের চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকরা মেধাবী বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষক দার্শনিক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার লোকেরা লেখাপড়া জানে না এমন প্রচারণা সঠিক নয়। বরং আমি চ্যালেঞ্জ করব আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ৫ জনও পাবেন না যে তারা মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে যুক্তি-তর্কে পারবেন। মাদ্রাসা শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব হয়েছেন আমাদের দেশে ও উপ-মহাদেশে এমন দৃষ্টান্ত  রয়েছে অনেক। তাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার ব্যাপক। গত ১২ এপ্রিল রাতে দীপ্ত টিভির টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন।ইনকিলাব।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc