Saturday 24th of October 2020 03:46:07 AM

গাউসিয়া কমিটির মানবিক সেবা কার্যক্রম দেশব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে”

রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, হাদিয়ে দ্বীন ও মিল্লাত গাউসে জমান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলাম ও সুফিবাদের যে মূল দর্শন ‘মানবিক সেবা’ তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ মাসের অধিক সময় ধরে গাউসিয়া কমিটি করোনাকালীন দাফন-কাফন কার্যক্রম-এর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি চট্টগ্রাম আদালত অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন অভিযান, ঈদ উল আযহার সময় সড়ক ও মহল্লায় জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো কর্মসূচী দেশ ও জাতির বিবেকে পরিবেশ সচেতনতার নব-জাগরণ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি গরীব-দুঃখী ও অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ফ্রি চিকিৎসা সেবা ইসলামের মূল দর্শন তথা সুন্নিয়তের চেতনায় এবং দেশপ্রেমে মানুষকে উজ্জীবীত করবে। গতকাল ২২ আগস্ট শনিবার নগরীর বহদ্দারহাটস্থ আর. বি. কনভেনশন হলে আয়োজিত গাউসে জমান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এর সালানা ওরশ মোবারক উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.রেজাউল করিম চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলন, গাউসিয়া কমিটিই একমাত্র ইসলামিক ও আধ্যাত্মিক সংস্থা যারা করোনাকালে নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে মানবতার কল্যাণে সবকিছু উজাড় করেছেন। তারা মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলেছেন, আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তিনি নিজেকে গাউসিয়া কমিটির কার্যক্রমে সবসময় সহযোগি হিসাবে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ হলে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমূক্ত নগরী গড়ে তোলায় হবে আমার প্রথম কাজ । এসময় তিন, প্রয়াত নগর পিতা চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নীতিতে হোল্ডিং টেক্স সহনীয় পর্যায়ে রেখে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে ফ্রি চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনটের সহযোগিতায় গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চান্দগাঁও থানা শাখা কর্তৃক দিনব্যাপী আয়োজিত ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন বিএমএ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্রীয় বোর্ড সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ডা. শেখ শফিউল আজম। সংগঠনের চান্দগাঁও থানা শাখার সভাপতি তছকির আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ’র স ালনায় অনুষ্ঠিত চিকিৎসা ক্যাম্প ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুহাম্মদ মুঈনউদ্দিন আশরাফী, আনজুমানের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এস.এম. গিয়াস উদ্দিন মোহাম্মদ শাকের, চট্টগ্রাম কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. নু.ক.ম. আকবর হোসেন, শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ সোলাইমান আনসারী, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, মহাসচিব শাহজাদ ইবনে দিদার, যুগ্ম মহাসচিব এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, দৈনিক পূর্বদেশের সহকারী সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক, মীর মোহাম্মদ সেকান্দর মিয়া, সদস্য সচিব সাদেক হোসেন পাপ্পু, উত্তর জেলা গাউসিয়া কমিটির প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক আহসান হাবীর চৌধুরী হাসান, কেন্দ্রীয মিডিয়া সেল সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ খতিবী, অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন রুমেল, মিশর আল-আযাহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আল-আযাহারী, চসিক. মাদরাসা পরিদর্শক, মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, গাউসিয়া কমিটি দাওয়াতে খায়ের সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান হাসান আলকাদেরী, মোহাম্মদ আবদুস ছালাম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কোম্পানী, মোহাম্মদ শামসুল আলম সও, মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন মানিক, হাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন খোকন প্রমুখ । চিকিৎসা ক্যাম্পে ১২জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেডিসিন, কার্ডিওলেজি, কিডনি, নাক, কান, গলা, শিশু, গাইনি, দন্ত, চক্ষু, বাত ও ব্যথায় আক্রান্ত ৪ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসহ ফ্রি ঔষধ বিতরণ করা হয়। এসময় চিকিৎসায় দায়িত্ব পালন করেন, ডা. মেজবাহ উদ্দিন, ডা. সালমা আক্তার, ডা. মহিউদ্দিন, ডা. শেখ সানজানা সামরিন, ডা. ইফতেষার হোসেন, ডা. মোহাম্মদ সায়েম, ডা. আকিল ইবনে তাহের, ডা. মানিক. ডা. ইমরাতুল ফাতেমা এমি, ডা. ফাহমিদা আক্তার, ডা. আশরাফুল ইসলাম সজিব, ডা. তাহমিদ বিনতে জসিম, ডা. শাহাদাত হোসেন পাটোয়ারি, ডা.ওমর ফয়সল, ডা. বদিউল আলম, ডা. মোহাম্মদ সামশুল আরেফিন আজিম। সহযোগিতায় ছিলেন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত জেমিসন হাসপাতালের চীপ আশরাফ উদ দৌলা সুজন, ইউনিট অফিসার আবদুর রশীদ খান, যুব রেডক্রিস্টে অ্যালামনি সদস্য সাইফুল কাদের বিদ্যুৎ, যুব প্রধান ফয়সল, ইমু, কৃ ও তুহিন প্রমূখ।
ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প শেষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তিনশতাধিক পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এরপর বিকালে রাহনুমায়ে শরীয়ত ও ত্বরীকত, হাদিয়ে দ্বীন ও মিল্লাত গাউসে জমান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর জীবন-কর্মের উপর আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত ও তাবরুক কিতরণ করা হয়।প্রেস বার্তা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোমবার ২৯শে জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় গ্রহন করেছেন এবং বিকেলে পুলিশ সুপারের অফিসিয়াল পেইজে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন মৌলভীবাজারের বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল (পিপিএম,বিপিএম)।তিনি ৪ বছরের অধিককাল এই জেলাতেই কর্মরত ছিলেন।

নিম্নে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ –

“মৌলভীবাজারের সুপ্রিয় নাগরিকবৃন্দ, অবশেষে বিদায় বলার ক্ষণ সমাগত। তাই, বিদায়!!! বিগত চার বছর জুড়েই আপনাদের ভালবাসায় সিক্ত ছিলাম আমি , কিন্ত গত দুই সপ্তাহ যাবৎ আপনারা আমার প্রতি যে অভূতর্পূব ভালবাসার অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন, তা আমৃত্যু আমার অন্তরকে আলোড়িত করবে। এত দিন মনে হতো মৌলভীবাজারের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। কিন্ত আজ যাবার বেলায় আপনাদের এ অনুভূতির সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, আমি এ ভালবাসার যোগ্য নই, আমার আরো অনেক কিছু করা উচিৎ ছিল। এ অর্পূণতার আক্ষেপ আমাকে তাড়িত করবে চিরদিন। মৌলভীবাজারকে হয়তো বেশি কিছু দিতে পারিনি, কিন্ত মৌলভীবাজারের মানুষকে, মৌলভীবাজারের মাটি, পানি, প্রকৃতি সবকিছুকে প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছি, এতে কোন ফাঁকি নেই। আমি চলে যাচ্ছি, এ সত্যিই ‘প্রস্থান নয়’। আমার অন্তর চিরদিন আপনাদেরই অন্তরে ঠাঁই খুঁজে বেড়াবে। আমি হব ‘আপনাদেরই একজন।

শুভেচ্ছান্তে

মোহাম্মদ শাহ জালাল বিপিএম, পিপিএম

বিদায়ী পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার।”

প্রসঙ্গতঃ ২০১৫ সালে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন মোহাম্মদ শাহ জালাল। এ সময় তিনি মানবিকবোধ ও দক্ষতায় সর্বমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অপরদিকে পুলিশের নতুন কর্মকর্তা ফারুক আহমদ (পিপিএম) দায়িত্ব গ্রহন করে আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করার কথা রয়েছে।

ডেস্ক নিউজঃ বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. শাহ আলমগীর বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে ২০১৩ সালের ৭ই জুলাই যোগদান করেন।

বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের জুলাই মাসে পিআইবি মহাপরিচালকের চাকুরির মেয়াদ আর ও এক বছর বৃদ্ধি করেছে। বর্তমান মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে তিনি ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ০৭ তারিখ পর্যন্ত পিআইবি মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকবেন।

ছাত্রজীবন থেকেই শাহ আলমগীরের সাংবাদিকতা পেশার শুরু। ৩৫ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একাধিক ইলেক্ট্রনিক ও প্রিণ্ট মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পিআইবিতে যোগদানের পূর্বে তিনি সর্বশেষ এশিয়ান টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। এখানে তিনি সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদ-এ। প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সাথে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা-সম্পাদক-এর দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন। চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জনাব আলমগীর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিশু কল্যাণ পরিষদ এবং শিশু ও কিশোরদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান ‘‌‌‌‌চাদের হাট’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী’র পরিচালনা বোর্ডেরও সদস্য তিনি।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, ‘ চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক ২০০৫’, ‘রোটারি ঢাকা সাউথ ভোকেশনাল এক্সিলেন্স এওয়ার্ড ২০০৪’ এবং ‘কুমিল্লা যুব সমিতি এওয়ার্ড ২০০৪’ পেয়েছেন।

পেশা ও ব্যাক্তিগত কাজে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-রাশিয়া, আজারবাইজান, লাতভিয়া, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কেনিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স ও জার্মানী।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন।

এর বাইরে মস্কো ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম থেকে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা  ও থমসন ফাউন্ডেশন পরিচালিত সাংবাদিকতায় উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তাছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- করাচিতে সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া আয়োজিত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিষয়ক কর্মশালা, ফিল্ম আর্কাইভস আয়োজিত ফিল্ম এপ্রিশিয়েসন কোর্স ও ভারতের গোয়ায় UNDP আয়োজিত “South Asian media and its role in attaining the Millennium Development Goal” শীর্ষক সম্পাদকদের কর্মশালা।

পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ফৌজিয়া বেগম কাজ করেন একটি ঔষধ কোম্পানীতে। ছেলে আশিকুল আলম দীপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ পাশ করে কাজ করছেন এইচএসবিসি ব্যাংকে। মেয়ে অর্চি অনন্যা আইইউবি’তে পড়ছেন সাংবাদিকতা বিভাগে। জনাব শাহ আলমগীরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তবে বাবার চাকরির সুবাদে তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ কাটে বৃহত্তর ময়মনসিংহে।সুত্রঃ বা,প্রে,ই,

“কিতাব আল রেহালা:ইবনে বতুতার সফরনামা থেকে শেখ জালাল উদ্দিন আল তাবরিজী যিনি আমাদের কাছে হজরত শাহ জালাল মুজাররদে ইয়ামেনি (রহঃ)”
হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহঃ)-র সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বাঙলায় ইবনে বতুতা: আমি (বতুতা) সাদকাওয়ান ত্যাগ করে কামরূপ পর্বতমালার দিকে যাত্রা করি।এই পার্বত্য অঞ্চলে আমার যাবার উদ্দেশ্য ছিল একজন দরবেশের সাথে সাক্ষাত করা, যিনি সেখানে বাস করতেন। তিনি ছিলেন শেখ জালাল উদ্দিন আল তাবরিজী। তিনি প্রধান দরবেশদের মধ্যে গণ্য হতেন এবং অনন্যসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি অনেক মহৎ কাজ করেছিলেন এবং অনেক অলৌকিক ক্রিয়াকাণ্ড (কারামত) সম্পাদন করেছিলেন। তিনি খুবই বৃদ্ধ। আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি বাগদাদে আব্বাসিয় খলিফা মুসতাসিম বিল্লাহকে দেখেছিলেন এবং খলিফার হত্যার সময়ে (১২৫৮ সালে হালাকু খা কর্তৃক বাগদাদ ধ্বংসের সময়) বাগদাদে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর মুরিদগণ আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি (হজরত শাহজালাল) ১৫০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে রোজা পালন করেন। লাগাতার দশদিন পর ছাড়া তিনি রোজা ভঙ্গ কর‍তেন না। তাঁর একটা গরু ছিল। এর দুধ পান করে তিনি রোজা ভাঙতেন। তিনি সারারাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করতেন। তিনি পাতলা ও দীর্ঘদেহী ছিলেন। খুবই সামান্য দাঁড়ি ছিল তাঁর। এই পাহাড়ি এলাকার অধিবাসীগণ তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এ কারণেই তিনি তাদের মধ্যে বাস করতেন।
শেখের কারামত (অলৌকিক ঘটনা): তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকেই আমাকে বলেছেন, তিনি মৃত্যুর আগের দিন তাঁদের অনেককে ডেকে পাঠান ও আল্লাহকে ভয় করতে উপদেশ দেন। বলেন, “এ সত্য যে, আল্লাহ চান তো আগামিকাল আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো এবং তোমাদের মধ্যে আমার উত্তরাধিকারী তারাই হবে, যাদের এক খোদা ছাড়া অন্য কোন খোদা থাকবে না।” পরবর্তী দিন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সর্বশেষ সিজদারত অবস্থায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। যে গুহায় তিনি বাস করতেন তার পাশেই শিষ্যগণ একটা কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান যার কাছেই ছিল কাফন এবং সুগন্ধি। তারা তাঁকে গোসল করিয়ে কাফন পরিয়ে জানাজা পড়ে উক্ত কবরে দাফন করেন। আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন।
শেখের (হজরত শাহজালাল) অন্যান্য অলৌকিক ঘটনা: আমি যখন শেখের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলাম, তাঁর বাসস্থান থেকে দুইদিনের দূরত্বে তাঁর চারজন শিষ্য আমার সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং আমাকে জানান যে, তাদের পীর তাঁর কাছে উপস্থিত মুরিদদের খবর দেন যে, “পশ্চিম থেকে একজন ভ্রমণকারী তোমাদের কাছে আসছেন। তাকে অভ্যর্থনার জন্য যাও।” তাঁরা আরও বলেন যে, শেখের নির্দেশে সে উদ্দেশ্যে তারা আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছেন। ঘটনা হলো শেখ আমার সম্বন্ধে কোনকিছু জানতেন না, কিন্তু এগুলি তাঁকে অলৌকিকভাবে জানানো হয়েছিল।
এই লোকদের সঙ্গে আমি শেখের দর্শনের জন্য যাত্রা করে তাঁর আস্তানায় (গুহার বাইরে অবস্থিত) উপস্থিত হই। তাঁর আস্তানার কাছে কোন জনবসতি ছিল না। তবু দেশের লোকেরা, মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে, শেখকে দর্শনের জন্য আসতো। তাঁর জন্য উপহার উপঢৌকন আনতো। এসব সামগ্রির উপরই শেখের শিষ্য ও মুসাফিরগণ জীবন ধারণ করতেন। শেখের সম্পদ বলতে একটি গাভী ছিল যার দুধ পান করে দশদিন পর পর তিনি রোজা ভাঙতেন, যা আমি আগেই বলেছি। তাঁর দরবারে আমি উপস্থিত হলে তিনি উঠে দাঁড়ান। আমাকে আলিঙ্গন করেন। আমার দেশ এবং ভ্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি তাঁকে আমার বৃত্তান্ত বলি। তিনি আমাকে বলেন, “প্রকৃতই আপনি আরবদের পরিব্রাজক।” সেখানে উপস্থিত তাঁর শিষ্যগণ যোগ করেন, “এবং অনারবদেরও পরিব্রাজক, হে আমাদের শেখ।” জবাবে তিনি বলেন, “এবং অনারবদেরও। সুতরাং সেভাবে তার সেবা যত্ন কর।” আমাকে তাঁর আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমি তিন দিন আতিথেয়তা গ্রহণ করি।
শেখের অলৌকিক বিস্ময়কর সত্য ঘটনাবলীর বিবরণ: যেদিন আমি শেখের আস্তানায় সাক্ষাত করতে গেলাম, তাঁর গায়ে ছাগ চর্মে তৈরি একটি পোশাক দেখতে পাই। এ আমার খুব পছন্দ হয়। আমি মনে মনে বলি, “আল্লাহ করুন যেন শেখ ওটি আমাকে দেন।” যেদিন আমি তাঁর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত করি, তিনি উঠে দাঁড়ান এবং তাঁর আস্তানার এক কোণে যান। তাঁর পোশাকটি শরীর থেকে খুলে আমাকে পরিয়ে দেন। একটা উঁচু টুপিও তিনি তাঁর মাথা থেকে খুলে আমাকে দেন। তিনি নিজে একটা ছেঁড়া ও তালিযুক্ত জামা গায়ে দেন। উপস্থিত শিষ্যরা আমাকে জানান যে, শেখ সাধারণত এই পোশাক (ইতিপূর্বে ইবনে বতুতার আকাঙ্ক্ষিত ছাগ চর্মের পোশাকটি) পড়েন না। আমি যাওয়ার আগে তিনি এটি পড়েছিলেন এবং তাদের বলেছিলেন, “মাগরিবের অধিবাসী লোকটি এই পোশাকটি চাইবে। একজন বিধর্মী রাজা তার কাছ থেকে এটি নিয়ে নেবে এবং এটি আমাদের ভাই বোরহানউদ্দিন আসাগারজিকে দিয়ে দেবে। এটি তাঁরই এবং তাঁর ব্যবহারের জন্যেই তৈরি হয়েছে।” যখন শেখের শিষ্যরা আমাকে এসব বললো, তখন আমি তাদের বললাম, “আমি শেখের দোয়া পেয়েছি, কারণ তিনি তাঁর পোশাক আমাকে পরিয়েছেন। আমি এই পোশাক পরে কখনোই কোন রাজদরবারে যাবো না, সে মুসলিম বা বিধর্মী যে কোন সুলতানই হোক না কেন!”
আমি শেখের কাছ থেকে বিদায় নিই। এর অনেক পরে আমি চীনে যাই এবং খানসা শহরে পৌঁছি। ভিড়ের কারণে আমার সাথী আমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমার পরনে আলোচ্য পোশাকটি ছিল। আমি রাস্তায় চলছিলাম। উজির এক লম্বা মিছিল নিয়ে এলেন। আমার প্রতি তাঁর নজর পড়লো। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমার হাত ধরলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কখন এসেছি। আমাকে যেতে দিলেন না যতক্ষণ না আমরা রাজপ্রাসাদে পৌঁছলাম। আমি তখন তাঁর কাছ থেকে আলাদা হতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে আটকালেন এবং যুবরাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি আমাকে মুসলিম সুলতানের (ভারতের) সম্পর্কে জিজ্ঞাদাবাদ করলেন। আমি যখন জবাব দিচ্ছিলাম তখন তিনি আমার পোশাকের দিকে দৃষ্টি দিলেন ও প্রশংসা করলেন। উজির আমাকে এটি খুলে ফেলতে বললেন! আমার পক্ষে ঐ নির্দেশ অমান্য করা সম্ভব ছিল না। রাজা পোশাকটি নিলেন এবং আমাকে দশটি মূল্যবান পোশাক, একটি সুসজ্জিত ঘোড়া এবং কিছু মুদ্রা দেবার নির্দেশ দিলেন। এই ঘটনায় আমি মনে খুব আঘাত পাই। পরবর্তীকালে আমার শেখের (হজরত শাহজালাল) কথা স্মরণ হয়। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, একজন বিধর্মী রাজা পোশাকটি নিয়ে নেবে! এই ঘটনায় আমি খুব হতবাক হই।
এক বছর পর আমি চীনের রাজা খান বালিকের পিকিং প্রাসাদে পৌঁছি এবং বুরহানউদ্দিন আসাগারজীর আস্তানায় যাই। আমি তাঁকে পাঠরত দেখি। তাঁকে সেই একই পোশাক (আমার থেকে যেটি নিয়ে নেওয়া হয়েছিল) পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই। এই ঘটনায় আমি খুবই অবাক হই। বারবার আমি হাত দিয়ে উল্টেপাল্টে সেটি দেখতে থাকি। তিনি (শেখ বোরহানউদ্দিন) আমাকে প্রশ্ন করেন, “তুমি এতে এত কী দেখছ? তুমি তাহলে এটা চেন?” আমি জবাবে বললাম, “হ্যাঁ, এটা সেই পোশাক, যা আমার কাছ থেকে খানসার রাজা কেড়ে নিয়েছিলেন।” তিনি বললেন, “এই পোশাক আমার ভাই জালালউদ্দিন আমার জন্যই তৈরি করেছেন। তিনি আমাকে লিখেছেন যে, পোশাকটি অমুক অমুকের হাত ঘুরে আমার কাছে আসবে।” অতঃপর তিনি আমাকে চিঠিটি দেন (হজরত জালালউদ্দিনের)। আমি সেটি পড়ে এবং শেখের অব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণী দেখে আশ্চর্যান্বিত হই। আমি শেখ বোরহানউদ্দিনকে কাহিনীর শুরুটা বলি। তিনি আমাকে বলেন যে, “আমার ভাই জালালউদ্দিন এখন এসবের ঊর্ধ্বে। তিনি ইহলোক ত্যাগ করেছেন।” তিনি আরও বললেন যে, “তিনি প্রতিদিন ফজরের নামাজ মক্কাতে পড়তেন এবং প্রতিবছর হজব্রত পালন করতেন। তিনি আরাফাতের দিন এবং কোরবানির ঈদের দিন- এই দুদিন গায়েব (নিরুদ্দেশ) হয়ে যেতেন। কেউ জানতো না তিনি কোথায় গিয়েছেন।”
.
উল্লেখ্য, মরক্কোর বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ভারতে আসেন এবং আট বছর সুলতানের দরবারে কাজির পদে নিযুক্ত থাকেন। ১৩৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের সময়ে বাঙলায় আসেন শুধুমাত্র হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহঃ) এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে। বাঙলার সম্পর্কে তিনি যে বিবরণ রেখে যান তা দীর্ঘ পরিসরের না হলেও তৎকালীন বাঙলার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে আমরা জানতে পারি। উপরের লেখাটি বাঙলা বিষয়ক বৃত্তান্তের অংশমাত্র।
এ মাসেই ইন্তেকাল করেছিলেন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহঃ)। তাঁকে উৎসর্গ করেই এটি লিখা।ইবনে বতুতার সফরনামা থেকে অনুবাদ মোহাম্মদ নাসির আলি ও সম্পাদনায় মোহাম্মদ রায়হান কাদেরী

প্রেম দিয়ে সকল অজয়কে জয় করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২সেপ্টেম্বর,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ভাটি বাংলার বাউল সাধক একুশে পদক প্রাপ্ত্য বাউল শাহ আব্দুল করিমের ৮তম মৃত্যু বার্ষিকী মঙ্গলবার। শুধু আধ্যাতিকতা নয় সমাজ,রাষ্ট্র,অবহেলিত মানুষের সুখ,দুঃখ,হাসি কান্না প্রেম-বিরহ আর ভাটি বাংলার সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কথা ফুটে তুলেছিলেন তার কাল জয়ী গান গুলোতে। গানের মাধ্যমে সহজ,সরল ভাষা আর হ্নদয় কাড়া মায়াবী সুরে বাউল শাহ আব্দুল করিম স্থান করে নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষের অন্তরে। তার সকল সৃষ্টিই হাওরাঞ্চলবাসীর কল্যানে কাজ করছে এখনও। তিনি ছিলেন শোষকের বিরোদ্ধে প্রতিবাদী রুপ।

প্রেম দিয়ে সকল অজয়কে জয় করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

১৯১৬সালের ১৫ফেব্রুয়ারী সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে সাধারন এক কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। আর ২০০৯সালে ১২ই সেপ্টেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। বাউল শাহ আব্দুল করিমের ৮তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে তার জন্মস্থান উজানধল গ্রামে তার নিজ বাড়িতে নানান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্টানের শুরুতেই বাউল শাহ আব্দুল করিমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন,মিলাদ মাহফিল,আলোচনা সভা ও করিম গীতির অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় শিল্পীগন সংগীত পরিবেশন করবেন।

ইমাম আহমদ রেযা শাহ শামছুদ্দীন আখঞ্জী (রহঃ) সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪জুন,চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সুনামধন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইমাম আহমদ রেযা শাহ শামছুদ্দীন আখঞ্জী (রহঃ) সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ৩টি ট্যালেন্টপুল ও ২টি সাধারণ বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় ১ম স্থান অধিকার করেছে। পাশাপাশি জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ ফলাফল সুনামের সহিত অর্জন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৬ সনে অনুষ্ঠিত ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১. মোছাঃ তায়্যিবা আখঞ্জী, ২. মোছাঃ তানিয়া জান্নাত বিথি, ৩. মোঃ আল-আমিন ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ১. রিয়াজ উদ্দিন নয়ন ও ২. মোঃ আবুল খায়ের।

উক্ত ইমাম আহমদ রেযা শাহ শামছুদ্দীন আখঞ্জী (রহঃ) সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটি সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। উক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার পীরজাদা আলহাজ্ব মাওলানা শাহজালাল আহমদ আখঞ্জী। মাদ্রাসাটি ১২ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপারসহ শিক্ষকবৃন্দরা ও এলাকার সচেতন মহলসহ বর্তমান সরকারের প্রতি, ইসলামী শিক্ষার প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের জন্য  জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৮মার্চ,জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুরে মেলা থেকে ফিরে: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তের লাউড়েরগড় ও রাজারগাঁও গ্রামে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যাদুকাটা নদীর ২৩কিলোমিটার এলাকার দুই তীরে দু ধর্মের তিন দিন ব্যাপী ২৫মার্চ থেকে ২৬ ও ২৭মাচর্ (১১,১২,১৩চৈত্র)পর্যন্ত চলে শেষ হয়েছে দুইধর্মের-এই দুইধর্মীয় উৎসব। একটি হল-হিন্দু ধর্মালম্বীদের পনাতীর্থ বা গঙ্গাস্নান আর অন্যটি হল মুসলমানদের হযরত শাহ আরোফিন (রঃ) এর ওরস মোবারক।

এই দুই উৎসবের মধ্য দিয়ে ঘটে সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা সহ দেশ-বিদেশের দুই ধর্মের দেশ,বিদেশের প্রায় ৮লক্ষাধিক মানুষের মিলন মেলায় যাদুকাটা নদী কানায় কানায় পরিপূর্ন হয়ে উঠেছিল। দুইধর্মের পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় ভক্তদের মাধ্যমে সেচ্চা শ্রমের ভিত্তিত্বে  প্রতিটি পয়েন্টে কাজ করে দু-ধর্মের স্থানীয় যুবক বক্তগন। ৭৫০বছর ধরে চলে আসা হিন্দুধর্মালম্বীরা যাদুকাটা নদীতে গাঙ্গা স্নানের মাধ্যমে তাদের সারা বছরের পাপ মোচনসহ পুণ্য লাভের জন্য এখানে আসেন মা,বাবা,স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আসেন। আর মুসলমান ধর্মালম্বীরা তাদের মনোবাসনা পূরণ ও সিদ্ধি লাভের আশায় শাহ আরোফিন (রঃ) এর ওরসে যান। তথ্য নিয়ে জানাযায়,প্রতি বছরের ন্যায় ৩দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় দুইধর্মের দুই উৎসব।

ওরস ও মেলায় অংশ গ্রহন কারীদের চিত্র।

মুসলমানদের ৩৬০আওলিয়ার অন্যতম ছিলেন হযরত শাহ আরেফিন (রঃ)। সবাই জানে শাহ আরোফিন (রঃ) একজন জিন্দা পীর। তিনি ভারতের মেঘালায় পাহাড়ের বড়বড় পাথরের গুহায় বসে আল্লাহ ইবাদত করতেন। ওইটাই ছিল তার একমাত্র আস্তানা,বাংলাদেশে কোন আস্তানা নেই। কিন্তু ভারতের সেই আস্তানায় ভক্তদের যেতে দেয় না ভারতীয় বিএসএফ। তাই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লাউড়েরগড় এলাকায় জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে শাহ আরোফিন (রঃ) এর আস্তানা তৈরি করে সেখানেই ওরস পালন করা হয়। সেখানে বক্তরা এই আওলিয়ার জীবন দর্শনের উপর আলোচনা,মিলাদ মাহফিল,খতমে কোরআন পড়ানো ও দেশবাসীর সুখ সমৃদ্ধী কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে তিনদিন ব্যাপী বার্ষিক ওরস মোবারক শেষ হয়েছে।

এছাড়াও আগত বক্তগন তিন দিন ব্যাপী বাউল,জারী,সারি,মারফতি,আদ্ধাতির্ক,বাউল শাহ আব্দুল করিম,হাসন রাজা,রাধারমন সহ বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া গান পরিবেশন করে গানে গানে মুখরীত করে তুলেছিল চারপাশ। অন্য দিকে ১৫১৬খিষ্টাব্দে পনাতীর্থের সূচনা করেন মহাপুরুষ শ্রীমান অদ্বৈত আর্চায প্রভু। তার জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের নবগ্রামে। কিন্তু সেই গ্রাম যাদুকাটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বহু বছর আগেই। এজন্য নদীর তীর সংলগ্ন রাজারগাঁও গ্রামে অদ্বৈত আর্চায মন্দির ও আখড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছরের চৈত্র মাসে এই তৃথীতে  গঙ্গাস্নানের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে হিন্দু ধর্মাবলাম্বীরা যাদুকাটা নদীতে ছুটে আসেন।

শাহ আরোফিন (রঃ) এর ওরস ও পনাতীর্থকে কেন্দ্র করে যাদুকাটা নদীর দুই তীর রাজারগাঁও ও লাউড়েরগড়ে বসে বিরাট বারুনী মেলা। মেলায় লক্ষলক্ষ দোকানপাট বসে। এ সময় পূণার্থী ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে প্রায় ২৩কিলোমিটার দৈর্ঘ্য যাদুকাটা নদীর চারপাশ লোকে লোকারন্যে পরিনত হয়। বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও উপজেলার সচেতন মহল সহ আগত দর্শনার্থীরা জানান-এবার দু-ধর্মের দুটি মেলায় সকল প্রকার অবৈধ কার্মকান্ড প্রতিরোধে প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়ায় কোন অপ্রতিকর ঘটনা গঠেনি। তাহিরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্য নন্দন কান্দি ধর জানান,মেলা ও পর্নতীর্থ এলাকায় ও আসা-যাওয়ার পথে সকল প্রকার অনিয়ম ও আইনশৃংখলা বজার রাখার সবোর্চ্চ চেষ্টা করেছি।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তাই শুষ্ট ও শুশৃংখল ভাবে দু-ধর্মের মিলন মেলা সম্পন্ন হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামন কামরুল জানান-এবার দু-ধর্মের দুটি মেলায় আসা লোকজনের নিারাপত্তার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। যার জন্য এই মেলায় শান্তিপূর্ন ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সত্যিই এ মেলা যেন দু-ধর্মের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলা উন্মুক্তো রাখা হয়েছিল।

এছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের উপর কড়া নজরদারীর জন্য পুলিশ,র‌্যাব ও বিজিবি সহ আইন-শৃংখলাবাহিনীর সকল স্থরের বিশেষ নজরদারী করায় এবং সবার সহযোগীতায় মেলা শান্তির্পূন ভাবে সম্পন হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc