Thursday 3rd of December 2020 09:40:42 AM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ   র‍্যাব-৯ ‘র সেই এএসপি আনোয়ার শামিম এখন চট্টগ্রাম পুলিশে। তিনি সিলেট,মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অত্যান্ত সুনামের সহিত করোনা কালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিধি আইন পালনসহ পুলিশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা রক্ষক হিসেবে দিন রাত কাজ করে নেটিজেন জগতে সারা ফেলে। আজ শনিবার মধ্যরাতে  https://web.facebook.com/shamim.anwar.9889 ফেইজ বুকে একটি স্ট্যাটাস থেকে জানা যায় তিনি র‍্যাব থেকে এএসপি (রাঙুনিয়া সার্কেল) হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে যোগদান করেছেন । নিম্নে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“আলহামদুলিল্লাহ গর্বিত নীলের প্রথম আবাহন !
প্রায় আড়াই বছরের র‍্যাব অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। নতুন কর্মস্থল- এএসপি (রাঙুনিয়া সার্কেল), চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। দায়িত্বাধীন এলাকা- রাউজান ও রাঙুনিয়া থানা, চট্টগ্রাম।
র‍্যাবের এই নাতিদীর্ঘ কর্মকালে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন, নানাভাবে আমার পাশে থেকেছেন, নাম উল্লেখ না করেই তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা। চাকুরী জীবনে প্রথম পোস্টিংটাই ছিলো র‍্যাবে। সে হিসেবে, ট্রেনিংয়ের সময়টা যদি হিসাবের বাইরে রাখি, লীল পোশাক গায়ে জড়ানো এই প্রথম। অনেকেই অবাক হতে পারেন, কিন্তু সত্যি কথা হলো, কোন রকম, সুযোগ-সুবিধা বা তথাকথিত ক্ষমতার মোহে নয়, এই নীল ইউনিফর্মের প্রতি ভালবাসা- ভাললাগা থেকেই বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডার ফার্স্ট চয়েস দিয়েছিলাম।
ভবিষ্যতেও আপনাদেরকে পাশে পাব, আগেরই মতো, এই প্রত্যাশা করছি। দোয়া ভিক্ষা চাইছি, গায়ে যে রংয়ের কাপড়ই জড়ানো থাকুক, বাহিরে যত পরিবর্তনের ছোঁয়াই লাগুক, আলী আকবর মুন্সী এবং সুরুজ মিয়ার পৌত্রটির অন্তর্জাগতিক রং যেন অপরিবর্তিত থাকে সবসময়, আজীবন।
এ মহা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মহান অধীশ্বর, মহামহিম প্রভুর নিকট আপনাদের সবার সুখ, শান্তি ও কল্যানময় জীবন প্রার্থনা করছি।”

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ র‍্যাব-৯ সিলেট থেকে এএসপি আনোয়ার শামিম ঢাকায় চলে গেছেন।এটাই স্বাভাবিক, সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন নতুন কিছু নয়।তবে র‍্যাব-৯ সিলেট এর এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিমের বিদায় অন্যান্য বিদায়ের মতো নয় এর কিছুটা চিত্র ভিন্ন।তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও এমন একজন জনপ্রিয় কর্মবীর নেটিজেন,হাজারো নেটিজেন তার কর্মকাণ্ডে এতটায় ভক্ত যে তার ফেইসবুকের কমেন্ট গুলোর পোস্ট মর্টেম ছাড়া বুঝা মুশকিল।

সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে তার সাথে সাক্ষাতের সূত্রে তার গুনের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুনটি লক্ষ্য করা গেছে তা হচ্ছে, সে কথা দিয়ে কথা রাখে,মানুষকে সম্মান করে।আর এই গুন তাকে সবসময় সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মনে আজীবন স্থান করে রাখবে। নিম্নে তার নিজের ফেইসবুক থেকে  একটি স্ট্যাটাস উল্লেখ করছি যা পড়েই তার সম্পর্কে ধারনা করা সহজ হবে।

Md. Anwar Hossan     এই আইডিতে তিনি যা বলেছেন তা হুবহু কপি করে দেওয়া হলো। 

      

                                                                       “অবশেষে বিদায় সিলেট!”

“র‍্যাব-৯ এ দীর্ঘ দুই বছর কর্মরত থাকাকালীন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের কমান্ডার, করোনা রেসপন্স টিমের টিম লিডার, র‍্যাব-৯ এর অপারেশন অফিসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর শেষপর্যন্ত বিদায় সিলেট। আজ থেকে নতুন পরিচয়, নতুন গন্তব্য র‍্যাব সদর দপ্তর, ঢাকা।

আমার জন্য বিষয়টা যুগপৎ হরিষে বিষাদ অনুভূতির। বেশ কিছুদিন আগে র‍্যাব-৯ এর সম্মানিত অধিনায়ক স্যার আমাকে করোনা রেসপন্স টিমের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে যে গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম, তার প্রথম ফল এসেছে গতকাল গভীর রাতে। ১৩ জন পজিটিভের মধ্যে সকলেরই নেগেটিভ ফল এসেছে। আগামীকাল আরো বেশ কয়েকজনের দ্বিতীয় টেস্ট, আশা করি তারাও আমাদের জন্য মঙ্গল বারতাই বয়ে নিয়ে আসবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি/মার্চে যখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব হয়, আমি তখন শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার। এরপর সেখান থেকে নিয়ে এসে আমাকে করা হয় র‍্যাব-৯ এর মহাগুরুত্বপূর্ণ করোনা রেসপন্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই দায়িত্বে থেকে আমি গত বেশ কিছু দিন সরাসরি করোনা রোগীদের নিয়ে ডিল করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব বর্তেছিলো এই অধমের কাঁধেই। অধিনায়ক মহোদয়কে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ যে, এই সেন্সিটিভ দায়িত্বটি প্রতিপালনে তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছি, সেই মূল্যায়নে যাব না। শুধু এটুকুই বলবো, প্রথম লটে পজিটিভ হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই দ্বিতীয় টেস্টে নেগেটিভ হওয়া আমার এবং আমার টিমের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলো।

স্বস্তির বিপরীতে খারাপ লাগছে আমার রোগীদের জন্য। তারা আমাকে মিস করবেন কিনা জানি না, কিন্তু র‍্যাব-৯ এর শেষ রোগীটি সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত আমি তাদের কথা ভাবব, প্রতিমুহূর্তে তাদের কথা মনে করব। আর সিলেটের এই দুই বছরে অসংখ্য ভাই, বন্ধু, শুভার্থীর (নাম উল্লেখ করলাম না) ভালবাসা, সমর্থন পেয়েছি, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনারা আমার ওপর এমন নিঃশর্ত আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা বজায় রেখেছিলেন বলেই আমি জীবনের সিলেট অধ্যায়ে অর্জনের খাতায় সামান্য কিছু হলেও যোগ করতে পেরেছি।

র‍্যাব-এর ঊর্ধ্বতন স্যারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, তাঁরা জরুরিভাবে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আমাকে আজ বিকেলেই ঢাকায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন।
সবাই ভাল থাকবেন। ভাল থাকুক পুণ্যভূমি সিলেট। স্বাগতম ঢাকা।”

 

কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪ – ১৯০৭) ছিলেন বাঙালি জগতে এক স্বনামধন্য কবি।যার রেখে যাওয়া সোনালি অক্ষরে লিখিত কবিতার কিছু অংশ শত বৎসর পরেও আমাদের প্রেরণা যোগায়। এই প্রেরণার প্রতিফলন যেন ফুটিয়ে তুলেছেন এক মানব প্রেমী কবি শ্রীমঙ্গল র‍্যাব-৯ ক্যাম্পে কর্মরত খাগড়াছড়ি জেলার কৃতি সন্তান এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ভাষায়-

“ চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে ” 

সরকারী একজন কর্মকর্তা হিসেবে দেশের জনগণের সুখ-দুঃখ বুঝার শক্তি তার নিম্নের লেখার মাঝে ফুটে উঠেছে। তিনি ব্যথিতদের ব্যথা বুঝতে সক্ষম কতটা তা তার নিজের ভাষায় লেখা একটি স্ট্যাটাসই সচেতন পাঠকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে নেটিজেনরা বিশ্বাস করে।নিম্নে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

“ধ্বংসস্তূপবাসী পরিবার এবং একটি ‘বাংলাদেশ কুটির’এর গল্প”

“২৫ এপ্রিল মধ্যরাত। স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন আব্দুল কাদির। হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় এসে পুরো ঘরটিকে নিমিষেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। সপরিবারে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়ে যান কাদির। প্রতিবেশিরা ছুটে এসে বিধ্বস্ত ঘরের এক কোন উঁচু করে ধরে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। কি, ভাবছেন পরিবারটির দুর্দশার এখানেই ইতি? ভুল। অভাগা কাদিরের জন্য এ ছিলো কলির সন্ধ্যা মাত্র।

শ্রীমঙ্গলের পুরানগাও গ্রামের বাসিন্দা কাদির পেশায় দিনমজুর। করোনা পরিস্থিতির কারনে কাজকর্ম না থাকায় হাতও একদম ফাঁকা। কিন্তু যত যাই হোক, ঘর বিধ্বস্ত হবার পর এখন মাথাগোঁজার ঠাঁই তো লাগবে। স্ত্রী সন্তানের মুখে দুমুঠো ডালভাত তুলে দেওয়াই যেখানে দায়, সেখানে নতুন করে ঘর তৈরির বিষয়টা কাদিরের জন্য চিন্তারও অতীত। অগত্যা আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শিদের কাছে আশ্রয় সন্ধান। কিন্তু লাভ নেই। এই করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের দিনে বাড়িতে কোন অতিথি দেখতে নারাজ সবাই। সব চেষ্টা বিফল হওয়ায়, একে একে সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পরিবার সমেত ফের এই বিধ্বস্ত কাঠামোর মধ্যেই এসে ঢোকেন নিরুপায় কাদির। আগের রাতে যেই জীবন বাঁচাতে ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হয়ে এসেছিলেন, পরদিন সেই জীবনের তাগিদেই ফের সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হলো। হায় নিষ্ঠুর করোনার দিন, হায় মানবতা!!!

সেই থেকে এখন ( ১২ মে) পর্যন্ত প্রায় ১৮টি দিন স্ত্রী সন্তানসহ এই ধ্বংসস্তুপের ফাঁকফোকরেই জীবন হাতে নিয়ে তার বসবাস। কখনো বৃষ্টির পানি রাতের ঘুমে বাগড়া দিয়েছে, কখনো সাপ- বিষাক্ত পোকামাকড় চলে এসেছে রাতের ঘুমের সঙ্গী হতে, অনন্যোপায়, অসহায় কাদির সেখানেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন, পড়ে থাকতেই হয়। এর মধ্যেই একদিন প্রসব বেদনা ওঠে কাদিরের সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা আর কি। এখন কি করা। এই ঘরে নবজাতক জন্ম দেওয়া আর তাকে গলা টিপে নিজ হাতে মেরে ফেলা সমান কথা। বাধ্য হয়ে কাদির নির্লজ্জের মতো সেই ফিরিয়ে দেওয়া প্রতিবেশিদের দ্বারস্থ হন আবারো। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর এক প্রতিবেশী শুধু স্ত্রীকে থাকার জায়গা দিতে সম্মত হন। আর কাদির তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে পড়ে থাকেন আগেরই ঠিকানাতেই।

গতকাল বিকেলে সিভিল পোশাকে ঘুরেঘুরে এলাকার কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখছিলাম। তখনই হঠাৎ ঘর(!!)টি নজরে আসে আমার। প্রথম দেখায় মনে হবে পরিত্যক্ত কোন জঞ্জাল। কাছে গিয়ে কয়েকটি বাচ্চাকে ভেতর থেকে উঁকি দিতে দেখে অবাক না হয়ে পারিনি। এরা এই বিপদসংকুল জায়গায় কি করে!!! জঞ্জালটির সামনে যেতেই ভেতর থেকে এক প্রকার হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসেন চল্লিশোর্ধ্ব আব্দুল কাদির। শোনালেন তার দুর্ভাগ্যের ইতিকথা। কৌতূহলবশতঃ আমিও একটু ঢুকেছিলাম (অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে) জঞ্জালের স্তুপটির মধ্যে। দুই মিনিটেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসাতে দ্রুত বেরিয়ে এলাম। না, কোন মানুষের পক্ষে একদিনও এই জায়গায় থাকা সম্ভব নয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়, কাদিরের তিন শিশু সন্তান সুমাইয়া(৯), নাহিদ(৭) ও সামিয়া(৪); যাদের এখন কেবল খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকার কথা, তার বদলে তারা সারাক্ষণ শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। সর্বনাশা কালবোশেখী যেভাবে তাদের ঘরটিকে মুহূর্তে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছিল, জঞ্জালের মধ্যে এই দীর্ঘ জীবন শিশুগুলোর মনোজগতকেও কি প্রতিনিয়ত একইভাবে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে চলেছে!!!

আমি ও আমাদের শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প পরিবার কাদিরের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আমার নিজের ১০ হাজার টাকার সাথে ক্যাম্পের অন্যান্য সদস্যদের স্বেচ্ছায় দেওয়া ২ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১২ হাজার টাকা সন্ধ্যার আগেই কাদিরের হাতে তুলে দিয়ে আসি। ঘর নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয়ে যাক। প্রতিবেশিদেরকেও সাধ্যমতো পাশে দাড়ানোর অনুরোধ করে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ আগে আজ আবার গিয়ে দেখি, এর মধ্যে নির্মানকাজ শুরু হয়ে গেছে। নির্মানে যুক্ত শ্রমিকেরা কোন টাকা নেবেন না বলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবেশী অনেকেই বিভিন্ন নির্মানসামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যারাই কাদিরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছেন, তাদেরকে আমি ১০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট উপহার হিসেবে দিয়ে এসেছি।
এছাড়াও কর্মহীন কাদিরের পরিবারকে কিনে দিয়ে এসেছি ৫০ কেজি চালসহ পরিমাণমতো ডাল, সেমাই, চিনি, আলু, তেল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। আপাতত কিছুদিন পরিবারটা খাবারের টেনশন থেকে মুক্ত থাকুক। আরেকটি কাজ করে এসেছি- কাদিরের ঘরটির নামকরণ। কাজ সম্পন্ন হবার পর এই ঘরের নাম হবে ‘ বাংলাদেশ কুটির’। বিপদের মুহূর্তে আমরাসহ তার অন্যান্য প্রতিবেশীদের সহায়তায়ই এই ঘরের নির্মাণ। আর পরস্পরের প্রতি এই সহমর্মিতাই আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ। এই নামকরণের পেছনের কারন এটাই।

আশা করি, দুয়েক দিনের মধ্যেই ধ্বংসস্তুপের উপর সগর্বে মাথা তুলবে আব্দুল কাদিরের ‘বাংলাদেশ কুটির’। দুঃস্বপ্নের প্রহর পেরিয়ে ঘরের মেঝেতে আবার নানারকম খেলায় মেতে উঠবে খুদে সুমাইয়া, নাহিদেরা। সকলের নিকট অনুরোধ- এই করোনার দিনে আপনাদের নিজ নিজ এলাকাতেও একটু খোঁজখবর রাখুন। সেখানেও আছে কি কোন আব্দুল কাদির পরিবার? করোনার এই বৈশ্বিক মহামারির দিনে কাজ হারিয়ে অর্থাভাবে এমন ভয়াবহ দুর্দশায় পতিত আছেন যারা, প্লিজ তাদের পাশে দাঁড়ান।” 

কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে প্রায় আড়াই’শতের অধিক কমেন্ট থেকে একটি কমেন্ট নিম্নে উল্লেখ করছি, তিনি বলেন  NaZmuL HaSaN LinKoN আমাদের ডিফেন্সে এমন কোনো বাহিনী আছে যানা ছিল না।।।।। এমন একটা কারণে আমার ইচ্ছে ছিল আর্মিতে যাওয়ার কিন্তু বাগ্যে জুটে নায়। কিন্তু আমার এমন বাহিনীর জন্য আমার কিছু বলার থাকে না। আমার এমন আরও অনেক এমন কিছু কথা শুনে বাহিনীতে যোগদানে অনুপ্রাণিত হবে ইনশাল্লাহ।।।।। হয়ত এটার ফল আপনি এহন না ও পেতে পারেন? কিন্তু এটার আনন্দ সব কিছুর থেকে বেশি।
বাহিনী যোগদানের মানে এটা না যে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য যোগদান করবেন। 

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc