Wednesday 21st of October 2020 02:00:27 PM

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ  ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিজপাট লামাপাড়া এলাকা হতে বিপুল পরিমান মটরশুটি ও মটর ডাল আটক করেন ৷ এসব মটর ডাল ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এনে জৈন্তাপুর এলাকায়  মজুদ করা হয়৷ যার কারনে দেশের অভ্যন্তরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে ।
এ অপরাধের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কৃষি বিপনন আইন ২০১৮ এর ১৯ ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযান করে ২টি মামলায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
উপজেলা জুড়ে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। দেশকে ভাল বেশে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা থেকে বিরত থাকার অাহবান জানান। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ওমর ফারুক এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনার সময় অারও উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত ওমর ফারুক, এস অাই জাকির হোসেন, জৈন্তাপুর ষ্টেশন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সহ পুলিশের বিশেষ টিম ৷
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট মোঃ ওমর ফারুক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে খবর পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২টি মামলায় জরিমানা করি৷ কৃত্রিম সংকট তৈরী করে অবৈধ মজুদ কারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান উপজেলা জুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানান ৷

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামে রাজিব দওের পুকুরে বিষ ফেলে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। মঙ্গল বার (৪ আগষ্ট) ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ সদর ইউপির মুরাদপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী জানান,বুধবার (৫ আগষ্ট) সকালে পুকুর পাড়ে গেলে দেখতে পান মাছ মরে পানির উপর ভাসছে। এতে রাজিব দওের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। কে বা কারা আমার ক্ষতি সাধনের উদ্দ্যেশে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।

রাজিব দও বদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। রাজিব দও জানান,আমার কারো সাথে মনোমালিন্য নেই।স্হানীয় লোকজন বলেন,রাজিব দওের ক্ষতি করার জন্য কে বা কারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।আমরা তার নিন্দা জানাই।

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ  সিলেটের জৈন্তাপুরে পাহাড় ধষে বসত ঘর ধ্বংস, দেড় লক্ষাধীক টাকার ক্ষয়ক্ষতি, শুধুমাত্র মৃত্যুই বাকী ছিল।

সরেজমিন ঘরে দেখা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ৫নং ফতেপুর ইউপি’র উৎলাপর গ্রামের বাবুল মিয়ার বসতবাড়ীর একটি কাটা টিলার বিরাট অংশ ধষে পড়ে। গত ১৩ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে পাহাড় ধষের ঘটনায় একটি বসত ঘরের ধ্বংস হয়। বসত ঘরের সদস্যদের মৃত্যুটাই বাকী ছিল।

যদি বাসিন্ধারা প্রাণে রক্ষা পেলেও বসত ঘরের আসবাবপত্র কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পাহড়ি ধষের ঘটনার পর হতে পরিবারটির সদস্যরা অন্য এক পরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। বসতঘর মেরামত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বৃত্তবান ও হৃদয়বানদের সহযোগিতা পাওয়ার দাবী জানায় পরিবারের সদস্য বাবুল মিয়।

সাদিক আহমদ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২০)  শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ও সাতগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুটি ইউনিয়নের ১৬ টি স্পটে আনুমানিক ১,৮৪,৯০১ ( এক লাখ চুরাশি হাজার নয়শো এক) ঘনফুট উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে জব্দকৃত বালু নিলামে বিক্রয় করে রাজস্ব আদায়পূর্বক নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রকাশ্য নিলামের জন্য মাইকিং ও নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।

প্রকাশ্য নিলামে ১২ জন দরদাতা অংশগ্রহণ করে। অভিযান শেষে ৫ টি লটে আলাদা নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নিকট সর্বমোট ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় সমুদয় বালু বিক্রয় করা হয়।

তাছাড়া অভিযানের সময় আটক একটি ট্রাকের মালিককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বালু সরবরাহের লক্ষাধিক টাকার পাইপ ও মেশিন তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম।সাথে আরো ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার মামুনুর রহমান মামুন,শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই রোকন উদ্দীনসহ শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশের একটি টিম।

অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান উপজেলা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম।

পূর্বের সংবাদের লিঙ্ক দেখুন-

শ্রীমঙ্গল ইউএনও’র অভিযানে পৌনে দুই লক্ষাধিক ঘনফুট বালু জব্দ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেল। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও ছাড়াল অর্ধলাখ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার পরপরই দুর্ভাগ্যজনক এই রেকর্ড অর্জন করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এ মরণব্যাধিটি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সার্বক্ষণিক হিসাব রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ১৭৭ জন। মারা গেছেন ৫১ হাজার ৩৫৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে দুই লাখ ১০ হাজার ১৯৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭ হাজারের (মোট আক্রান্তের ৫ শতাংশ) অবস্থা গুরুতর বা সংকটাপন্ন।

এর আগে বুধবার এক দিনে একাধিক রেকর্ড গড়েছে এ রোগটি, ভেঙেছে আগের রেকর্ড। এদিন সারাবিশ্বে এক লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ছয় হাজারের বেশি। তিন মাস আগে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এর আগে এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হননি কিংবা মারা যাননি। যুক্তরাষ্ট্রে এদিন আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার মানুষ আর মারা গেছেন এক হাজার ৪৯ জন। এ রোগে এর আগে অন্য কোনো দেশে এক দিনে এত মানুষের আক্রান্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এর আগে ইতালিতে এক দিনে মারা গিয়েছিলেন ৯৭৯ জন। স্পেনে গতকাল সর্বোচ্চ ৯৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যেও মারা গেছেন রেকর্ডসংখ্যক ৫৬৯ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, করোনায় মার্চের শেষ সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন সংক্রমিত হয়েছেন ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষ। গড়ে প্রতিদিন মারা গেছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। গত এক সপ্তাহের করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে যে, কোনো সংস্থাই এ নিয়ে পূর্বাভাস দিতে পারছে না। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা শুধু ভবিতব্যই জানে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা দিনদিনই খারাপ হচ্ছে। দেশটির একটি গবেষণা সংস্থা এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মধ্য এপ্রিল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক দুই হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। হোয়াইট হাউসও বলেছে, করোনায় দেশটিতে এক লাখ থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতালির পথেই অগ্রসর হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বিভাগ মরদেহের জন্য এক লাখ ব্যাগ চেয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে ৬৬ লাখ মানুষ বেকার সুবিধার জন্য আবেদন করেছেন। এর আগের সপ্তাহে চেয়েছিলেন আরও ৩৩ লাখ মানুষ। মাত্র দুই সপ্তাহে প্রায় এক কোটি মানুষ বেকার ভাতার আবেদন করেছেন। ১৯৮২ সালের পর এ সংখ্যা সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হোয়াইট হাউসে এক গোপন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীন সরকার দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা গোপন করেছে। এর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সরকারি সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বেইজিং সেখানকার অবস্থা বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে ‘ভালো দেখাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই ব্রিফিংয়ে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেছেন, চীনের দেওয়া আক্রান্ত ও মৃতের হিসাব ঠিক কিনা, তা জানার কোনো উপায় নেই।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রই এখন সবার ওপরে। দেশটিতে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৭ জনের দেহে কভিড-১৯ ধরা পড়েছে। মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে পাঁচ হাজার ৬২০ জনে। করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এখনও ইতালিতে। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ২৪২ জন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ হাজার ৯১৫ জন। করোনাভাইরাস সংক্রমণে এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক লোকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্পেনে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ২৩৮ জনে।

ফ্রান্সে গতকাল ৪৭১ জন মারা গেছেন। দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৫০৩ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৫ জন। ইরানে গতকাল আরও ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন তিন হাজার ১৩৬ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ৪৬৮ জন। তবে এর মধ্যে ১৬ হাজার ৭১১ জন সুস্থ হয়েছেন। ইরানের সংসদের স্পিকার আলী লারিজানি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে বুধবার পর্যন্ত দুই হাজার ৯২১ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৭১৮ জন। দেশের পরিস্থিতি দেখে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘দুঃখজনক, খুবই দুঃখজনক ঘটনা।’ জনসন নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনাভাইরাসে বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের ৩৬ হাজার কর্মীর চাকরি সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে কোম্পানিটি তাদের কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড স্টাফ, প্রকৌশলী ও সদর দপ্তরে কাজ করা কর্মীদের ৮০ শতাংশের চাকরি সাময়িক স্থগিতের কথা বলেছে; কাউকে পুরোপুরি ছাঁটাই করা হবে না। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে ৪৫ হাজার কর্মী রয়েছেন।

হু-হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জার্মানিতেও। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ২৬৪ জন আর মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৭৪ জনের। আক্রান্তের সংখ্যায় গতকাল চীনকেও ছাড়িয়েছে জার্মানি। এক কোটি ১৪ লাখ জনসংখ্যার বেলজিয়ামে গতকাল করোনায় মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৮ জন। রাশিয়ায় এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৫৪৮ জন আর মারা গেছেন ৩০ জন। রাশিয়ায় সবেতনে ছুটির মেয়াদ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় অজরুরি কাজে নিয়োজিত সবাইকে বাসায় থাকতে হবে। মস্কোয় আংশিক লকডাউনের মেয়াদ ১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তুরস্কে বুধবার ৬৩ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৭৭ জনে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ১৪৮ জন। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ পবিত্র মক্কা ও মদিনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে। কানাডায় এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১১৫ জন বেড়ে পৌঁছেছে ১০ হাজার ১৩২ জনে। মৃতের সংখ্যা ২২ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭-এ।

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় বৃহস্পতিবার আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭০ জনের। ফলে এশিয়ায় এখন চীনের পরেই করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ দেশটিতে। ১৬৯ জনের মৃত্যু নিয়ে এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ইন্দোনেশিয়ায় মোট আক্রান্ত এক হাজার ৭৯০ আর দক্ষিণ কোরিয়ায় নয় হাজার ৯৭৬ জন। ভারতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। গতকাল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২৩৫ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে দুই হাজার ৬৯ জনে।

থাইল্যান্ডে শুক্রবার থেকে কারফিউ জারি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মালয়েশিয়ায় মধ্য এপ্রিলে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ হবে। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ১১৬ জন, আর মারা গেছেন ৫০ জন। ফিলিপাইনে গতকাল মারা গেছেন আরও ১১ জন। দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৩৩ জন।

করোনাভাইরাস সংকটে চাহিদা কমে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম এক লাফে কমেছে অনেকটাই বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠন (এফএও) জানিয়েছে। এফএওর মাসিক খাদ্য মূল্যসূচক অনুযায়ী, সিরিয়াল, তেলবীজ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস এবং চিনির গড় মূল্য মার্চ মাসে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

স্পেনে লকডাউন শুরু হওয়ার পর গত ১২ মার্চ থেকে প্রায় নয় লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। ব্রিটেনেও সাড়ে নয় লাখ মানুষ সরকারের কাছে আর্থিক সুবিধা চেয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে পিছিয়ে গেল জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। ২০২০ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে সম্মেলন হতে পারে আগামী বছর। সিঙ্গাপুরের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, করোনাভাইরাসের উৎসস্থল আবার এশিয়ায় ফিরে আসতে পারে। সূত্র :বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি, রয়টার্স, সিএনবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমস।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে এক চা শ্রমিক ও সিএনজি অটোরিক্সা চালকের বাসার কলাপসিবল গেইট ও দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে নারী পুরুষ সবাইকে বেধে রেখে এক শিশুর গলায় দা ধরে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকতাদল ঘরের সব কিছু তছনছ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে শমশেরনগর ৬ নম্বর শ্রমিক বস্তিতে এ ঘটনাটি ঘটে। অপর ঘটনাটি মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় পাশ্ববর্তী কানিহাটি চা বাগানে নারায়ন বীনের বাসায় একইভাবে ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ডাকাত আক্রান্ত শমশেরনগর সিএনজি অটোরিক্সা চালক অন্তর রাজভর বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত দেড়টার দিকে ১৬ থেকে ১৭ জনের মুখোশপরা সশস্ত্র একদল ডাকাত প্রথমে বাসার কলাপসিবল গেইট ভাঙ্গে। পরে তারা ঘরের সামনের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় তিনি ঘুম থেকে উঠে পড়লে তাকে ও তার বাবাকে এক রঁশিতে বেধে ফেলে। তার মাসহ ঘরের নারীদেরও বেঁধে এক পর্যায়ে একটি শিশুর গলায় লম্বা একটি দা ধরে ঘরের আলমারী ভেঙ্গে তছনছ করে। সে সময় পরিবারের তিন সদস্যের কষ্টের সঞ্চিত নগদ ৩০ হাজার টাকা, আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৫টি মুঠোফোন, একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, সিলিন্ডারসহ গ্যাসের চুলা ও একটি ডিভিডি লুটে নেয় ডাকাতদল। ডাকাতদল ঘরের আইপিএস সংযোগ খুলে নিলেও বাসার বাইরে ফেলে যায়। সব মিলিয়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। অন্তর রাজভর আরও বলেন ডাকাতদলের দুই এক জনের হাতে পিস্তল ও বাকিদের সবার হাতে লম্বা দা ছিল।
কানিহাটি চা বাগানের নারায়ন বীনের ছেলে সঞ্জীব বীন বলেন, একইভাবে ডাকাতদল এ বাসারও দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে বাসার সবাই বেধে রেখে ডাকাতি করেছে। তারা ব্যবসার নগদ ৬০ হাজার টাকা, ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ব্যবহারীসহ বিক্রির জন্য রাখা ১৫টি মুঠোফোনসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে।
কানিহাটি চা বাগনের ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, একইভাবে পাশাপশি দুটি চা বাগানে ডাকাতি ঘটনায় সাধারণ চা শ্রমিক পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত সপ্তাহেও আলীনগর চা বাগানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছিল।
শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, যেভাবে ডাকাতি হয়েছে তাতে বাঁধা দিলে বাসার লোকজন হতাহত হতেও পারতেন। ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এম এস জিলানী আখনজী, চুনারুঘাট:  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একটি পোল্ট্রি ফার্মে অগ্নিকান্ডের ঘটনায়
পুড়ে গেছে ১ হাজার মুরগি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে ওই ফার্মের মালিক মোঃ মুহিত মিয়া।

২৯ জুন শনিবার দুপুর ২টায় উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কোনাগাওঁ গ্রামের রাইছমিল বাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রউফের ছেলে মুহিত মিয়ার পোল্ট্রি ফার্মে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকার পাড়া-প্রতিবেশী সুমন মিয়া জানান, আজ (২৯ জুন) শনিবার বেলা ২টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি ফার্মে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর স্থানীয়রা আসার পূর্বেই অগ্নিকান্ডে সব কিছু পুড়ে তছনছ হয়ে যায়।

ফার্ম মালিক মুহিত মিয়া জানান, ১০ থেকে ১২ বছর যাবত এ ব্যবসা আমি করে আসছি কিন্তু কোনদিন এ ধরনের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, মুরগির পাশাপশি ফার্মের ভিতরে থাকা ফ্যান, আসবাবপত্র ও মুরগির খাদ্যের বস্তাসহ কোন কিছুই রক্ষা পায়নি আগুন থেকে।

ক্ষয়ক্ষতির বিষয় ও কিভাবে আগুন লেগেছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১ হাজার মুরগিসহ ফার্মের অবকাঠামো পুড়ে গেছে। আগুন কিভাবে লেগেছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে এলাকাবাসী বলছে, হতে পারে বিদ্যুতের তার থেকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখন তার পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ শহরে একটি ক্যামিকেলের দোকানে অগ্নিকাণ্ডে ভীস্মভূত হয়েছে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ভোর রাতে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের জে, কে হাই স্কুল মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।
জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার রাজাবাদ গ্রামের বাজার ব্যবসায়ী হারুন মিয়ার (নিয়ন মোটরস) দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় দোকানে থাকা একটি টমটম’সহ আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু এর আগেই দোকানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুনের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষনিক সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন করি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুতের শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৮জুন,এমএম সামছুল ইসলাম, জুড়ীঃ    টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এতে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অত্রা লের বন্যার পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি এখন ভয়াবহতার রূপ ধারণ করেছে।

বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ অসহায় ও দুর্ভোগের সাথে যুদ্ধ করে কোনো রকমে বেঁচে আছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আ লিক মহাসড়কসহ প্রায় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে মৌলভীবাজার সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু ত্রাণ সহায়তার দরকার তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বন্যার্তদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন তা তাদের পক্ষ থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেনা বলে অভিযোগ অত্রা লের বন্যার্তদের। বন্যার পানিতে বেশিরভাগ বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থান তলিয়ে গেছে। বন্যায় শতশত ফিশারির মাছ ভেসে গেছে।

আর খামারীসহ অন্যান্য মানুষের গরু-বাছুর নিয়ে থাকার ব্যবস্থা দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্রা লের বেশিরভাগ মানুষজন মাথা পেতে কোনো রকমে দুর্যোগের মধ্যে বেঁচে আছেন। বন্যায় উপজেলার প্রায় ছোট বড় সব সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম বিশেষ করে বেলাগাঁও, সোনাপুর, গরেরগাঁও, নিশ্চিন্তপুর, শাহ্পুর, ইউসুফনগর, শিমুলতলা, নয়াগ্রাম, বাছিরপুর, কালনীগড়, মানিকসিংহ, দিঘলবাগ, খাগটেকা, এলাপুর, কাশিনগর, পাতিলাসাঙ্গন, কোনাগাঁও, বটুলীসহ প্রায় গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে পড়ে সৃষ্টি হয়েছে উত্তাল ঢেউ। তারপরও হাওর পাড়ের মানুষজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাচায় বাস করছেন।

গতকাল রোববার উপজেলার পূর্ব বেলাগাঁও গ্রামের মরহম আলীর ছেলে আলী হোসেন (৪) পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়াও যারা বাড়ি-ঘরে থাকতে পাড়ছেন না, তারা তাদের গরু-বাছুর, পরিবার পরিজন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বন্যা দুর্গোতদের জন্য প্রশাসনিকভাবে যে সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র ও ত্রাণ সামগ্রী ব্যবস্থা করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এছাড়াও বন্যার পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসিম চন্দ্র বণিক এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ অবস্থায় বন্যা দুর্গোতদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থান দেয়ার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানিয়েছি।

বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যাপারে সরকারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭মে,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:   নওগাঁর আত্রাইয়ে মাত্র ২০০ গজ রাস্তা পাকা করণের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। সামনে পাকা পশ্চাতে পাকা মাঝে মাত্র ২০০ গজ রাস্তা পাকা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে যারপর নাই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ পথচারীদের।

আত্রাই-নাটোর ভায়া বাঁকিওলমা খাজুরা রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এ রাস্তাদিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন চলাচল করে থাকে। এ ছাড়াও সিএনজি, অটোচার্জার, রিক্সাভ্যানসহ ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে থাকে। নাটোরের নলডাঙ্গা ও নওগাঁর আত্রাই এ দুই থানা ও জেলার মধ্যে সেতুবন্ধনে আত্রাই নদীর উপর বাঁকিওলমাতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও এর সুফল থেকে বি ত রয়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, আত্রাই হতে নাটোরের সাথে রেলপথের বিকল্প হিসেবে এ একটি মাত্র সড়ক পথ ছাড়া আর কোন যোগাযোগের পথ নেই। এদিকে এ রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে বেশ কয়েক বছর আগে আত্রাই হতে বাঁকিওলমা পর্যন্ত পাকা করণ করা হয়। বাঁকিওলমাতে ব্রিজ নির্মাণের পর ২০০ গজ রাস্তা পাকা করে ব্রিজের সাথে যোগাযোগ করে দেয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছরেও এ রাস্তা পাকা করণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমক্ত হয়ে যায় রাস্তাটি। ফলে যানবাহনতো নয়ই পায়ে হেঁটে চলাও সম্ভব হয়না এ রাস্তা দিয়ে।

উপজেলার গোপালবাটী গ্রামের জালাল উদ্দিন বলেন, সামান্য একটু বৃস্টি হলে এরাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এমনকি আমরা এ রাস্তা দিয়ে কৃষি পণ্য নিয়ে যেতে পারিনা।

উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল মুমিন বলেন, বৃষ্টির পর মোটরসাইকেল নিয়ে নাটোর থেকে এ রাস্তা দিয়ে আত্রাই আসার সময় ব্রিজ পার হওয়ার পর চরম দুর্ভোগে পড়ে যাই আমি। আমার মোটরসাইকেলও চলে না, পায়েও হাঁটা যায় না। স্থানীয় কয়েকজন লোক সহযোগিতা করে কোন রকমে এ ২০০ গজ রাস্তা আমাকে পার করে দেয় তার পর আমি আত্রাইয়ে আসি। তারা সহযোগিতা না করলে মোটরসাইকেল রেখেই আমাকে চলে আসতে হতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সামান্য একটু রাস্তার জন্য হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে এটা হয় না। বৃহত্তর জনস্বার্থে দ্রুত অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা প্রয়োজন।

ইউপি চেয়ারম্যান আফছার আলী বলেন, আমিও জানি এখানে লোকজনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাটি পাকা করণের কাজ প্রথমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়র কর্তৃপক্ষ ও পরে এলজিইডি করেছে। তারা কেন এতটুকু কাজ অবশিষ্ট রেখেছে তা আমার বোধগম্য নয়। তবে অবশ্যই আমি দ্রুত কাজটুকু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২মেঃকমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃকমলগঞ্জের ইসলামপুরে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গৃহপালিত গরু ছাগল,আসবাবপত্র,কাপড়চোপড়,স্বর্ণালংকার,মুল্যবান কাগজপত্র ও নগদ টাকাসহ বসতঘর। পবিত্র শবেবরাতের দিন মংগলবার (১মে) রাত দেড়টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরি গ্রামে ছয়ঘরি প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন কাঠমিস্ত্রী মিলন আহমেদের বসতঘর পুড়ে যায়।

বুধবার সকালে সরজমিন গিয়ে ও মিলন আহমেদ (২৬),তার ছোট ভাই হীরক আহমেদ (২৪) ও মা রোকেয়া বেগমের (৫০) সাথে কথা বলে জানা যায়,এ সময় দুই ভাই স্থানীয় নইনারপার বাজারের মসজিদে শবেবরাত উপলক্ষ্যে মিলাদ মাহফিল ও ইবাদত বন্দেগীতে ছিলেন এবং তাদের মা একা ঘরে নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎ ঘরে আগুন লাগলে তিনি চিৎকার দিলে প্রতিবেশী মহিলারা তাকে ঘর থেকে বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে মিলন ও হীরক বাড়ীতে ছুটে এসে দেখেন সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তারা দুই ভাই জানান,বাড়ীতে পুরুষ না থাকার সুযোগে সম্ভবত কেউ পেট্রোল বা কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিযেছে। ফলে মুর্হুতেই একটি গাভী, তিনটি ছাগল, বিক্্িরর জন্য তৈরি করা সোফাসেট, খাটসহ অন্যান্য আসবাবাপত্র, স্বর্ণালংকার, পরিধেয় পোষাক, মূল্যবান কাগজপত্রসহ পাচঁ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মিভূত হয় ।

তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানেন না। ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,এটি একটি অমানবিক ঘটনা। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে সার্বিক সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকতাদির হোসেন পিপিএম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০ফেব্রুয়ারি,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:    সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে প্রতিদিন লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার মালামাল পাচাঁর করা হচ্ছে। এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১১জনের একটি সিন্ডিকেড তৈরি করে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও মদ পাচাঁর মামলার জেলখাটা আসামীদের বিজিবির লাইনম্যান ও সোর্সের দায়িত্ব দিয়ে নামে-বেনামে প্রকাশ্যে চাঁদা উত্তোলন করছে। এর ফলে প্রায়ই ঘটছে নানান প্রকার অপ্রীতিকর দূঘটনা। কিন্তু এসব অনিয়ম দেখার কেউ নেই।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানায়,লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের ১২০৪এর ৩এস পিলার সংলগ্ন যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রায় ৭শত গজ ভারতের ভিতরে প্রতিদিন প্রায় ২হাজার শ্রমিক ও চোরাচালানীদেরকে ভারতে পাঠানো হয়। তারা ভারত থেকে প্রতিদিন নৌকা ও লড়ি দিয়ে ৩হাজার মে.টন পাথর ও কয়লাসহ মদ,গাজা,হেরোইন,গরু,ঘোড়া,কাঠ,নাসিরউদ্দিন বিড়ি ও অস্ত্র পাচাঁর করছে।

এর বিনিময়ে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের নামে চাঁদাবাজি মামলার আসামী লাউড়গড় গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আনসারুল ও সামসুল হকের ছেলে সেলিম মিয়া ১লড়ি (৬টন) পাথর থেকে ২শত টাকা,১বস্তা(৫০কেজি)কয়লা থেকে ১শত টাকা,১ নৌকা পাথর ৫শত টাকা,১টি গরু থেকে ২হাজার টাকা,১টি ঘোড়া থেকে ৩হাজার টাকা,নদীর পাড় কেটে ১নৌকা বালু থেকে ১৫শত টাকা,১টি সেইভ মেশিন থেকে ২হাজার টাকা ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য থেকে মাসিক ও সাপ্তাহিক ২০থেকে ৫০হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিচ্ছে। অন্যদিকে ১২০৩নং পিলারের পূর্বদিকে প্রায় ৩শত গত ভারতের ভিতরে প্রায় ১হাজার শ্রমিক পাঠিয়ে ৩০০টি অবৈধ মৃত কুপ (কোয়ারী) তৈরি করে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

গত বছর এই সময় মৃত্যু কুপ থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে ২জনের মৃত্যু হয়েছে। আর পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বেলা নামক এনজিও চোরাচালান ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেডের বিরোদ্ধে মামলা করেছে। তারপরও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ কার্যক্রম। গত ২৮.০৮.১৭ইং সোমবার রাত ১০টায় ১২০৩নং পিলার সংলগ্ন বারেকটিলা এলাকা দিয়ে গরু ও মদ পাচাঁর করার সময় চোরাচালানীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজেস (২৫) নামের এক চোরাচালানীর মৃত্যু হয়। এঘটনায় চোরাচালানী ফিরোজ মিয়া (২৭)কে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। গত ১৮.০১.১৮ইং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ২টি পিস্তলসহ চোরাচালানী সুজন মিয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

এছাড়াও পাথর,কয়লা,মদ,গরু, কাঠ ও ঘোড়া পাচাঁর করতে গিয়ে যাদুকাটা নদীতে ডুবে এই পর্যন্ত ১৫জন শ্রমিক ও চোরাচালানীর মৃত্যু হয়েছে। এব্যাপারে জানতে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার কেরামতের সরকারী মোবাইল নাম্বার(০১৭৬৯-৬১৩১৩০) ও এফএস মাহফুজের মোবাইল নাম্বারে (০১৭২০-২৭৭৩২৫) বারবার কল করার পরও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫নভেম্বর,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:  র‌্যাব-৯এর সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি  দল শহরের সিন্দুরখান বাজার বস্তিতে অভিযান চালিয়ে তিন লক্ষাধিক টাকার মাদকসহ এক নারী ও পুরুষকে আটক করেছে। এসময় অভিযানের খবর পেয়ে অন্যান্য অপরাধীরা পালিয়ে যায়। আজ বুধবার দুপুরে  শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কোম্পানী কমন্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার ও সহকারী পুলিশ সুপার পিযূষ চন্দ্র দাস এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়।
আটককৃতরা হলেন সিন্দুর খান বাজার বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ফটিক মিয়ার স্ত্রী খেলা বেগম (৩৫) এবং সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মেঘরিকান্দি গ্রামের মৃত দিরেন্দ্র চন্দ্র রায় এর পুত্র দিগেন্দ্র চন্দ্র রায় (৬০)।

এসময় তাদের ঘর থেকে দুইটি প্লাষ্টিকের বস্তায় ৪৪ টি ফেন্সিডিল, ৯২ বোতল বিয়ার এবং ৬৮ টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশী হুইস্কি উদ্ধার করে। যার সর্বমোট আনুমানিক মূল্য তিন লক্ষ সাইত্রিশ হাজার আটশত টাকা।

র‌্যাব সুত্র জানায়, অভিযুক্ত মোছাঃ খেলা বেগম ও তার স্বামী মোঃ ফটিক মিয়া মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার বিমান চন্দ্র কর্মকার এ খবর নিশ্চিত করেন।

“সিলেট হাই-টেক পার্ক,শেরপুর স্পেশাল ইকোনমিক জোন,হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক,বাল্লা স্থল বন্দর”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪অক্টোবর,মিনহাজ তানভীর,বিশেষ প্রতিবেদকঃ বৃহত্তর সিলেট যেমন পর্যটকদের আকর্ষণীয় এলাকা তেমনি বৈদেশিক আয়ের ও উজ্জ্বল সম্ভাবনার দ্বার।ঠিক তেমনি দেশের অন্যান্য এলাকার সাথে বর্তমান সরকার আধুনিক নানা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে এই অঞ্চলে।বিগত সময়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্য প্রকল্পের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে “হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।সিলেটের পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নাটোর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকায়ও হবে আইটি পার্ক।

এসব জেলায় মোট ১২টি আইটি পার্ক (হাই-টেক পার্ক) স্থাপন করত ‘জেলা পর্যায়ে আইটি পার্ক/ হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২ জেলায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

জানা গেছে “হাই-টেক পার্ক, সিলেট–এর প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ডিসেম্বর ২০১৮ সালের মধ্যে যা জানুয়ারি ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে।  এটি সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খলিতাজুরি বিলেরপাড় মৌজায় ১৮৭১২.৫৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে হতে যাচ্ছে,বিগত ০৮ মার্চ ২০১৬ খ্রি. হাই-টেক পার্ক/ ইলেক্ট্রনিক্স সিটির সহায়ক প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়েছে যা বিশ্ব মানের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সুযোগ সুবিধাদি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশী-বিদেশী আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইটি/আইটি এস প্রতিষ্ঠান এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে এ পার্কে আকৃষ্টকরণসহ আইসিটি পেশাজীবীদের জন্য চাকুরীর ক্ষেত্র তৈরী করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে শুধু সিলেটেই এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০০০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে সরকারি সুত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ২০২১ সাল নাগাদ আমরা যে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও ডিজিটাল ইকোনমি গড়ে তোলার চেষ্টা করছি এবং আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় ও ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছি, জেলা পর্যায়ে ১২টি আইটি পার্ক (হাই-টেক পার্ক) প্রতিষ্ঠার আজকের এই প্রকল্প অনুমোদন সে সব উদ্যোগকে অন্যতম ভিত্তি দেবে।

উল্লেখ্য করা যেতে পারে যে,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ আইসিটি বিভাগ পরিদর্শনকালে আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রথমে দেশের প্রতিটি বিভাগে এবং পরবর্তীতে প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে হাই-টেক পার্ক স্থাপন করার নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে আইটি পার্ক (হাই-টেক পার্ক) স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং “হাই-টেক পার্ক সিলেট এরই অংশ।

সিলেট এর সম্ভাবনা শেরপুরে স্পেশাল ইকোনমিক জোনঃ

মৌলভীবাজারের শেরপুরে স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রকল্পের সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এ সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, শেরপুরে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হলে এখানে বিভিন্ন শিল্পকরখানা স্থাপন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার ৭০৬ জন লোকের কর্মসংস্থান হবে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন অথরিটি একটি কর্মশালায় এ তথ্য দেন। এতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বিশেষ অতিথি ছিলেন। কর্মশালায় পূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বোচ্চ গুরম্নত্ব দিচ্ছে। অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ গোটা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার মধ্যমণি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর নদীবন্দর এলাকা। সরকারের ঘোষণা অনুসারে এ এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকল্প বাসস্তবায়নের লক্ষে সাপোর্ট টু ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী শেরপুর নদীবন্দর ও পার্শবববর্তী এলাকার বাহ্যিক ও সামগ্রিক অবস্থা পরিদর্শন করেছেন। জানা যায়, ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে দেশের পাঁচটি স্থানে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিদ্ধানত্দ গ্রহণ করা হয়। এই বিশেষ অঞ্চলগুলোর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর একটি ছিল।এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের শেরপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লৰ্যে সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেৰণে প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) ট্রান্সপোর্ট এঙ্পাট চিনশাল রাউনিয়ার, জাপান ডেভেলপমেন্টের চিফ ইকোনমিস্ট ড. সুইচি চোবায়াশিসহ ৬ জন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কামরম্নল হাসান। তারা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পর্যবেৰণ করেন। ব্যবসায়ীরা জানান, শেরপুর নৌবন্দর এলাকাকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হলে বিভাগের সব কটি জেলার মানুষ বিভিন্নভাবে লাভবান হবে। বিশেষ করে, সিলেটের বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগনন্নাথপুর, দিরাই, শালস্না; হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী মৌলভীবাজারের শেরপুর নদীকেন্দ্রিক যাতায়াত করে থাকেন। প্রবাসী বিনিয়োগ ও ব্যবসাবন্ধব পরিবেশ বিবেচনায় দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর বন্দর এলাকাকে দ্রুত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন মৌলভীবাজার চেম্বারের নেতারা।

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কঃ

অপরদিকে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বাড়ছে কর্মসংস্থান সম্ভাবনা। পার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত তিন বছরে ১৮ হাজার  মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে। বর্তমানে কারখানাতে ৩৭টি ‘প্রোডাকশন লাইনে’র মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, আগামী বছর নাগাদ আরো ৮ থেকে ১০টি প্রোডাকশন লাইন কারখানায় যুক্ত হবে। এতে অতিরিক্ত আরো প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে আগামী বছর এই কারখানার কর্মীসংখ্যা ২৫ হাজার হতে পারে।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হবিগঞ্জের ওলিপুরে ২১৭ একর এলাকাজুড়ে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলে। কারখানায় বর্তমানে নানা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে।

চুনারুঘাট বাল্লা স্থল বন্দরঃ

২০১৭ সালের মাঝামাঝি বাল্লা স্থল বন্দর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী।উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাল্লা সীমান্তের কেদারাকোট নামকস্থানে বাল্লা স্থল বন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই তিনি এসেছেন বলে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজাম মুনিরা, স্থানীয় চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাঁন ও বাল্লা স্থল বন্দর আমদানি রপ্তানি কারক সমিতির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তপন চক্রবর্তী বলেন, বাল্লা স্থল বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই একনেকে পাশ হয়েছে।একনেকের প্রস্তাব হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হবে এবং ২০১৮ সালের শুরুতে অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হবে।সেখানে ও বহু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।সচেতন মহলের প্রত্যাশা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এবং  প্রকল্প গুলোর কাজ সম্পূর্ণ হলে বৃহত্তর সিলেট একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক  জোনে পরিনত হবে সাথে সাথে দেশের লক্ষাধিক দক্ষ অদক্ষ নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮অক্টোবর,শংকর শীল,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রীজ এলাকায় ইউসুফ আলীর মার্কেটে বিদ্যুৎ শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ৬ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ৮ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬ টার দিকে এঘটনাটি ঘটেছে। এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্হানীয় লোকজন প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান গুলো হচ্ছে,
লাকী হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট, চা-স্টল, পাইপ স্টার টায়ার সেন্টার, নুরু মিয়া টায়ার সেন্টার, শাহজাহান ভেরাইটিজ স্টোর, লাল বানু চা-স্টল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে পাওয়া, রবিবার সকাল ৬ টার দিকে লাকী হোটেলে বিদ্যুৎ শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তৎক্ষণাৎশায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট দেড় ঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নজরুল ইসলাম সত্যতা স্বিকার করে জানিয়েছেন, আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৬টি দোকান পুড়ে গেছে এবং প্রায় কোটি টাকার মালামাল আগুন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc