Sunday 1st of November 2020 07:52:51 AM

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দীন মারা যাওয়ার সাত দিন পর জানা গেছে তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন।

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোকসানা হ্যাপি জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধের পাঠানো নমুনায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুন সকালে মফিজ উদ্দীন অন্য রোগের চিকিৎসা করার জন্য উপজেলা হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। ওইদিন তার চিকিৎসা করার সময় করোনায় আক্রান্ত সন্দেহ হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে তাকে ২০ জুন বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরের দিন ২১ জুন (রবিবার) সকালে তিনি মারা যান। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার মারা যাওয়ার পর ২৮ জুন (রবিবার) নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে তার রিপোর্ট পজিটিভি এসেছে।

এদিকে, একইদিন আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের কর্মরত ১জন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এই উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪ জন।

“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট”

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ ছয়জনকে আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ রোববার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ছয়জনের জামিন আবেদনের শুনানির দিন ঠিক করেছে আগামীকাল।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবরটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম।

বার্তা সংস্থা এপির খবর নিজেদের অনলাইনে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ও ‘ওয়াশিংটন টাইমস’। এতে বলা হয়, একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে স্কুলছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের প্রখ্যাত সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পত্রিকা তিনটির খবরে বলা হয়, প্রথম আলো বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী পত্রিকা এবং দেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে পত্রিকাটির ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সমালোচনার মুখে আজ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টির সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ, তাই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু হওয়ার পর যদি সেটা লুকানোর অপচেষ্টা করা হয় বা ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা হয়, এগুলো তো নিশ্চয়ই অপরাধ।’

গত ৬ নভেম্বর আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা।

প্রথম আলো সম্পাদক প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিকে গুরুত্বহীন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন আছে ।বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের ব্যাপারে চেষ্টা করেছে এ সংস্থাটি।পার্সটুডে

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুরে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর প্রায় ৭ বৎসর পর কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসাবে ভাতার টাকা নিতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বিয়ের তথ্য গোপন রাখে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ডিবির হাওর গ্রামের মৃত হায়দর আলীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ অলি আহমদ বিগত ২১ অক্টোবর ২০১২ ই্ংরেজী তারিখে মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুকালে ২য় স্ত্রীসহ ১০জন সন্তানাদি রেখে যায়।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা অলি মিয়া মৃত্যুর ৭ বৎসর পর চলতি মাসের ৪ জুন ২য় স্ত্রী আলেয়া বেগম উরফে আলফা বেগম ১টি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর প্রায় ৭ বৎসর পর কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করলে মুক্তিযোদ্ধার ২ পরিবারসহ এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। উপজেলা জুড়ে এ ঘটনা নিয়ে চলে আলোচনা ও সমালোচনা।

সরেজমিনে অলি মিয়ার ছেলে নুরুল হক, আজিজুল হক, ময়জুল হক, আয়নুল হক সহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে আলাপকালে তারা জানান- আমাদের পিতা মারা যাওয়ার বেশ কয়েক দিন পর আমাদের সৎ মা আলেয়া বেগমকে আমমোক্তার নিয়োগ করি। তিনি পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদী ভোগ করে আসছি। প্রায় তিন বৎসর পূর্বে আমাদের সৎ মা ও আমাদের ১ সৎ বোন, ১ সৎ ভাই নিয়ে উপজেলার সারীঘাট ডৌডিক গ্রামে বসবাস করতে শুরু করে আমরাও যাওয়া আসা করি।

এদিকে সৎ মা হঠাত করে লোক মাধ্যমে জানতে পারি সৎ মা উপজেলার নিজপাট গ্রামের চুনাহাটি গ্রামের মরহুম তোফাজ্জুল মিয়ার ২য় ছেলে রাজু আহমেদকে বিয়ে পূর্বক স্বামী হিসাবে গ্রহন করে। সৎ মায়ের কাছে বিয়ের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন এবং মামলা হামলাসহ নানা ধরনের কুৎসা রটাবেন বলে হুমকী ধমকী দেন। তাতে মান সম্মানের  ভয়ে  লোক লজ্জার ভয়ে আমরা কিছু বলিনি। গত ৪জুন মঙ্গলবার আমাদের সৎ মা ১ টি কন্যা জন্ম দিলে তোলপাড় দেখা দেয়, কিন্তু শিশু জন্ম দেওয়ার বিষয়টি সৎ মা অস্বীকার করে আমোদের জানান বাচ্ছাটি তিনি দত্তক নিয়েছেন। কোথায় হতে তিনি দত্তক নিয়েছেন তা বলতে অস্বীকার করেন। আমাদের দাবী সৎ মা আমাদের পিতার মুক্তিযোদ্ধের ভাতা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহনের জন্য তিনি ২য় বিয়ে বা স্বামী গ্রহন এবং নিজ সন্তানের জন্মের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। আপনারা তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।

প্রতিবেদক সরেজমিনে ডৌডিক গ্রামে গিয়ে আলেয়া বেগম উরফে আলফা বেগমের সাথে বিয়ে সন্তান বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। প্রশ্নের একপর্যায়ে আলেয়া বেগম স্বীকার করেন প্রায় ২বৎসর পূর্বে তার পরিচিত নিজপাট চুনাহাটি গ্রামের ছেলে রাজু আহমদকে বিয়ে করেন এবং নবজাতকটি রাজু আহমদের সন্তান, তবে তাদের বিয়ের রেজিষ্টি (কাবিন) করেনি বর্তমানে সন্তানটিই তার কাবিন। তিনি প্রতিবেদকে বলেন যেহেতু আমি স্বামী গ্রহন করেছি তাই অচিরেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তিনি পূর্বের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি মিয়ার মুক্তিযোদ্ধার ভাতা গ্রহন করবেন না, তবে মুক্তিযোদ্ধার ২সন্তান যাতে ভাতা বঞ্চিত না হয় যে জন্য লিখিত আবেদন করব।
এবিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এ.কে.এম আজাদ ভূইয়া সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আলোয়া বেগম যদি সেচ্ছায় ভাতা কার্ডটি জমা দেন তাহলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। অথবা মুক্তিযোদ্ধার ছেলেরা উপযুক্ত প্রমানসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আবেদন করে তাহলে যাচাই বাছাই পূর্বক আলোয়া বেগমের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এম ওসমান, বেনাপোল:  মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নিলো অগ্নিদগ্ধ শিশু মারিয়া। পরাজয় বরণ করে মা বাবা আত্মীয় স্বজন এবং তার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসা দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে  চলে গেল না ফেরার দেশে। বুধবার সকালে ঢাকাস্থ বার্ণ ইউনিটের ২য় তলায় এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি আর সহ্য করতে পারছিনা, আমার চিকিৎসা হতে অনেক টাকা পয়সা লাগবে, এত টাকা আবার বাবা কনে পাবে, আমার বাবা গরীব লোক, আমি বাঁচতে চাই..! আপনারা আমাকে বাঁচান! কথা গুলো এখনো কানে বাজে..! অগ্নীদগ্ধ হওয়ার দীর্ঘ ৬ মাস পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে এই আকুতি গুলো করেছিলো ঝিকরগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের অগ্নিদগ্ধ শিশু মারিয়া.! ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নের নায়ড়া গ্রামের ভাটার ট্রলি চালক হত দরিদ্র রুবেল হোসেনের শিশু কন্যা মারিয়া (৭) এবং স্থানীয় নায়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী ছিলো সে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আগুন পোহাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে পুরো শরীর ঝলসে যায় মারিয়ার। অসহায় পিতা ট্রলি চালক মেয়ের চিকিৎসার্থে আত্মীয় স্বজন ও গ্রামবাসীর সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে সে সময় চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। সেসময় মেয়ের চিকিৎসার জন্য যশোরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। কিন্তু অবস্থার তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ১৫দিনে খরচ হয় প্রায় দু’লক্ষ টাকা। অসহায় পরিবারের জন্য এই ব্যায় বহুল খরচ যোগাতে না পেরে সেখান থেকে বাড়ীতে ফেরত নিয়ে আসেন মারিয়ার দরিদ্র পিতা রুবেল।
অবশেষে শার্শার সাংবাদিক সমাজ ও বেনাপোল সীমান্ত প্রেসক্লাবের কাছে মারিয়ার ঘটনাটি সামনে আসলে মারিয়াকে সাংবাদিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে পুনরাই ঢাকার বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ফেসবুক প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় মারিয়ার খবর প্রকাশ হলেই মুহুর্ত্বের মধ্যে ভাইরাল হয় মারিয়ার খবর। চিকিৎসার জন্য হাত বাড়ায় দেশ ও বিদেশের বিত্তবান সহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। মারিয়ার চিকিৎসার জন্য উঠে আসে  ৬ লক্ষ টাকারও বেশি। পুরোদমে  চিকিৎসা চলতে থাকে মারিয়ার। প্রাথমিক পর্যায়ে শিশু মারিয়া কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতেই হলো তার।
বুধবার সকাল ৭টা বাজে। হঠাৎ মারিয়ার বাবার ফোনে রিং আসে ঢাকা থেকে। ফোনটি রিসিভ করতেই ফোনের ও পাশ থেকে ভেসে আসে আধো আধো কাাঁদো কাঁদো কন্ঠে মারিয়া আর নেই। কথাটা বিশ^াস যোগ্য না হলেও চরম সত্যটাকে মানিয়ে নিয়েই অঝরে কেঁদে উঠে মা বাবা। সাথে সাথে এই হৃদয় বিদারক কান্নার রোল পড়ে যায় মারিয়ার বাড়িতে। মুহুর্ত্বের মধ্যে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে যায় শোকে ছায়া নেমে আসে পুরো নায়ড়া গ্রাম। মারিয়ার মৃত্যুর খবর সাংবাদিক মহল সহ গোটা এলাকায় ছড়িয়ে যেতে সময় লাগলো না। মা বাবা আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি শোকে কাতর হয়ে পড়ে মারিয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম দেওয়া সাংবাদিক মহল।
আজ তুমি নেই..! ভাবতেই অনেক কষ্ট হচ্ছে..!চলে গেলে না ফেরার দেশে..! তোর জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে! কিছুই করতে পারলাম না তোর জন্য! ওপারে ভাল থাকিস! আমাদেরকে ক্ষমা করে দিস। এমন শত শত স্টাটাসে ফেসবুকের পাতায় নিজেদের কষ্টের কথা প্রকাশ করে সাংবাদিক সমাজসহ কাছের মানুষেরা। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় ঢাকা থেকে মারিয়ার গ্রামের বাড়ি ঝিকরগাছার নায়ড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় মারিয়ার নিথর দেহ বহনকারী এ্যাম্বোলেন্সটি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে নিহতের চাচাত ভাই রফিক মিয়া নিরাপত্তার ঘাটতি ও অবহেলা জনিত কারণে তার ভাইয়ের মৃত্যুর হয়েছে দায়ী করে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন-গণপূর্ত অধিদফতর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আয়ন আবিল,স্টার লাইন প্লানার টাওয়ারের ঠিকাদার আব্দুল হামিদ,সাইট ম্যানেজার আল আমিন।

নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ মোস্তফা মিয়া (৪৮)। তিনি গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার রুপাবান্দা গ্রামের গাউসুল মিয়ার ছেলে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নির্মাণ শ্রমিকের লাশ তার পরিবারের নিকট থানা পুলিশ হস্তান্তর করেছে।

মামলা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টার লাইন প্ল্যানার টাওয়ারের একজন নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে শুক্রবার সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৮ম তলায় ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ছিলেন শ্রমিক মোস্তফা মিয়া। ওই দিন বিকালে ঢালাই কাজে থাকা অবস্থায় কোন ধরনের শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ৮ম তলার ছাদ ঢালাই কাজে থাকা অবস্থায় নিচে পড়ে গিয়ে শ্রমিক মোস্তফা মিয়া ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে রাতেই মর্গে পাঠায়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন,ছাদ ঢালাই কাজে শ্রমিকদের যতটুকু নিরাপক্তা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার ছিল সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবহেলা করেছেন। যার ফলে ওই শ্রমিক ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করায় অবহেলা জনিত কারণ দেখিয়ে গণপূর্ত’র নির্বাহী প্রকৌশলী সহ তিন জনের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন 

সাইফুর রহমান চৌধুরী: মৌলভীবাজারে শ্রমিক ধর্মঘটে অরাজকতা সৃষ্টিকারী ও নবজাতক শিশুদের মৃত্যুর জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন পালন করেছে ইয়ুথ সোস্যাল অর্গানাইজেশন।

শ্রমিক ধর্মঘটে অরাজকতা ও নবজাতক শিশুদের মৃত্যু, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন পালন করেছে ইয়ুথ সোস্যাল অর্গানাইজেশন।

আজ বুধবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০। ঘটিকায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধনে ইয়ুথ সদস্যরা হাতে প্লে-কার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
শ্রমিকদের আন্দোলনে নারী নির্যাতন, শিশুহত্যা এবং সাধারণ মানুষদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়। এসময় তিনটি দাবির কথা জানিয়েছেন ইয়ুথ সদস্যরা । দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে, আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য রোগী বহনকারী গাড়ি চলাচল করতে দিতে হবে।

এসময় ইয়ুথ সেক্রেটারি শেখ হাবিবুর রহমান হাবিবের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ সভাপতি ওয়াসিম আহমেদ নিশান, বিআইএস এর সভাপতি এম. মুহিবুর রহমান মুহিব, সনাফ সেক্রেটারি শরীফ খালেদ সাইফুল্লাহ, শাহ মোস্তফা রক্তসেবা’ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান চৌধুরী, ইয়ুথ এর এক্সিকিউটিভ মেম্বার জাবেদুর রহমান সৌরভ, ডাঃ অংকন, এস.এম. বশির, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, হাসান জুবেল, এস এ ফাহিম, এনায়েত হাবিব, সাগর কর, ফয়েজ আহমেদ, বাবলু দাস, মাহবুবুর রহমান অপু, মনজুর আলম, তানভীর, সামীত, সাদিকুল ইসলাম অপু, সালমান আহমেদ, জুয়েল আহমেদ, মোহাম্মদ সাকিব, ফারহাম এ বকর, মাহরিয়ার আলম, মাহদি হাসান, হাসান আহমেদ, কনক পাল সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মৃত শিশুর চাচা হাজী আকবর আলী ফুলু মিয়া।

ইয়ুথ সভাপতি ওয়াসিম আহমেদ নিশান বলেন, সংবিধান যেকোনও রাষ্ট্রের নাগরিকদের আন্দোলন করার অধিকার দিয়েছে। এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে আন্দোলনের নামে কোনও নাগরিকের চলাফেরা করার অধিকার এবং তাদের পথ অবরোধ করার অধিকার তাদের দেওয়া হয়নি। শ্রমিক ধর্মঘটে অরাজকতার কারনে যে শিশুটি মারা গেছে, এটাকে আমরা মৃত্যু বলতে পারি না। এটা একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। আমরা শ্রমিকদের আন্দোলনের বিপক্ষে না। কিন্ত এধরনের অরাজকতা কোনও শ্রমিক করতে পারে না। আমরা এই স্বাধীন বাংলার নাগরীক হিসেবে এসব অরাজকতা মেনে নিতে পারি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
ইয়ুথ সোস্যাল অর্গানাইজেশন সদস্যরা বলেন, দাবি আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা চাইলে একজন নারীকে লাঞ্ছনা করতে পারেন না। শ্রমিক ধর্মঘটে আমরা যেধরনের দৃশ্য দেখতে পেয়েছি, তা খুবই নৃশংস। আমরা মনে করি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে তারা আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে না। এধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইয়ুথ সোস্যাল অর্গানাইজেশনের সদস্য হিসেবে আমরা নিন্দা জানাই।

ডেস্ক নিউজঃ সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে সাড়া দেশে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পথে পথে অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের গাড়ি, বিদেশ যাত্রী, পরীক্ষার্থীর যানবাহনও আটকে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বড়লেখায় ধর্মঘটের সময়ে চিকিসার অভাবে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় আটকা পড়া অ্যাম্বুলেন্সে সাত দিনের এক কন্যা শিশু মারা গেছে। আজ রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রাম এলাকায় এই নির্মম ঘটনা ঘটেছে।
নিহত শিশুর পরিবার থেকে  অভিযোগ করা হয়েছে, বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার সাত দিনের শিশু কন্যাকে অসুস্থ অবস্থায় রবিবার সকালের দিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
তাৎক্ষনিক শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাওয়ার পথে উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি বারবার পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম নামক স্থানে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি আটকে চালককে এলোপাতারীভাবে মারধোর করে। এ অবস্থায় এখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা পড়ে থাকে।
পড়ে দুপুর দেড়টার দিকে গাড়িটি ছাড়া পেলে শিশুটিকে দ্রুত নিকটস্থ  বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শিশুর চাচা আকবর আলী ওরফে ফুলু মিয়া  সাংবাদিকদের জানান, “আমার ভাতিজী মায়ের দুধ খাচ্ছিল না। এজন্য তাকে বড়লেখা হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তাররা তাকে সিলেট ওসমানীতে রেফার করেন। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে সিলেট রওনা দিই। প্রথমে দাসেরবাজারে গাড়ি আটকে চালককে মারধর করেন পরিবহন শ্রমিকরা। পরে অনুরোধ করলে গাড়ি ছাড়ে। চান্দগ্রামে আবার অ্যাম্বুলেন্স আটকে গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। ৫০০ টাকা দাবি করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা এখানে আটকে ছিলাম। এখানে মেয়েটা মারা গেছে। আমরা বড়লেখা থানায় গিয়ে অভিযোগ দিছি।”
এ ব্যাপারে সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন বড়লেখা উপজেলা শাখার সাঃ সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেন,  “সিএনজি শ্রমিকরা যেখানে যেখানে ব্যারিকেড দিয়েছিল সকালেই তা তুলে দিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্স আটকানোর সঙ্গে কোনো সিএনজি শ্রমিক জড়িত না।”
সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
তবে বড়লেখা থানার ওসি ইয়াসিনুল জানান, “একটি শিশু মারা যাওয়ার কথা শুনেছি কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৮ ডিসেম্বর,গীতিগমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ প্রতিনিধিঃঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গর্ভবতী মহিলা সিজার করিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ায় বেগতিক অবস্থায় রোগীকে বাড়িতে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন। রোগীর লোকজন ওষুধপত্র আর সেবার মধ্যদিয়ে ঐ ক্লিনিকে আবার নিয়ে আসে। অবস্থার অবনতি দেখে রোগীর লোকজনকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন। রোগী নিয়ে দিনাজপুরে যাওয়ার পথে গর্ভাবতি রুনা বেগমের মৃত্যু ঘটে।

মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌছালে ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তার গাঁ ঢাকা দিয়ে লাপাত্তা হয় এবং মৃত রোগীর লোকজনদের সাথে রফাদফা করে। তৎসঙ্গে প্রশাসন, স্থানীয় নেতা ও সাংবাদিককে মেনেজ করে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশের দাফন সম্পন্ন করে। জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার কেউটগাও গ্রামের জনৈক ব্যাক্তির কন্যা ও হরিপুর উপজেলার মহারাজা গ্রামের সফিকুলের স্ত্রী রুনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তার পরিবারের লোকজন জগথা মহল্লার নানার বাড়িতে নিয়ে আসে। তারা পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার চেষ্টা করা হলে হাসপাতালে দায়িত্বরত স্টাফ ও ক্লিনিকের দালাল কমিশনের আশায় ঐ ক্লিনিকে ভর্তি করে। ২০ শে ডিসেম্বর রুনা বেগমকে সিজারের জন্য সেবা ক্লিনিকে ভর্তি হলে ঐ ক্লিনিকেই পীরগঞ্জ স্বাস্খ্য কমপ্লেক্সের কসাই ডাক্তার নজরুল রুনা বেগমের সিজার করে রোগীর বেগতিক অবস্থা ঘটায়।

২০ শে ডিসেম্বর থেকে ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫ শে ডিসেম্বর দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে, সেবা ক্লিনিকের মূল হোতা ফারুককে মোবাইল ফোনে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তিনি বললেন বর্তমানে আমি নিজ বাড়ি নিলফামারি জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় আছি। তার কাছে রোগীর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঐ রোগীর মৃত্যু সম্পর্কে বলেন, রুনা বেগমের মৃত্যুর জন্য তাদের পরিবারের লোকেরাই দায়ী । এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার গর্ভবতী মহিলারা কসাই ডাক্তার নজরুলের কান্ড শুনে আতঙ্কে বিরাজ করছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৩জুন,ডেস্ক নিউজঃ পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এক বাঙালি যুবলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের বাড়িঘর-দোকানপাটে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে শুক্রবার।

লংগদু এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, চলছে গ্রেপ্তার অভিযান।
রাঙ্গামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো: শাফিউল সারোয়ার বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তারা ৭ জনকে আটক করেছেন। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আজ বেলা ১১টায় তারা এক বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন সারোয়ার।

যদিও সকালে লংগদুর একজন স্থানীয় সাংবাদিক আরমান খান জানিয়েছিলেন ওই ঘটনায় ১০ জনকে আটক করার খবর তারা জানতে পেরেছেন।

খান বলছিলেন, “সবার মনেই এখন একটা আতঙ্ক কাজ করছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমনকি বিভিন্ন গুজবও ছড়ানো হচ্ছে যে ওই জায়গায় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, কোনো জায়গায় আক্রমণ করা হবে।”

এর আগে স্থানীয় পুলিশ জানায়, নুরুল ইসলাম নয়ন নামে এক যুবলীগ কর্মীর লাশ বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের পাশে পাওয়া যাবার পর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তার জানাজার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাঙালিরা মিছিল বের করলে আক্রমণের সূত্রপাত হয়।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লংগদু উপজেলার একাধিক গ্রামে পাহাড়িদের বেশ কিছু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা এবং হতাহতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পাহাড়িদের কাছ থেকেও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫-১৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামলায় আড়াইশো ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে’।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা মো: শাফিউল সারোয়ার আজ শনিবার সকালে জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে ৫০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু সঠিক সংখ্যাটা তারা এখনো জানতে পারেননি।

লংগদু এলাকায় হামলার আশঙ্কায় অনেক পাহাড়ি বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং হামলার পর আরো অনেকে পালিয়ে যান। তারা এখনো বাড়ি ফেরেননি।

সাংবাদিকআরাম খান বলছিলেন যারা পালিয়ে গেছেন তারা এখনো ফেরেননি।

“যারা পরিবারসহ পালিয়ে গেছে তাদেরতো ফেরার জায়গা নেই। সবতো পুরিয়ে দিয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে-আপনারা ফিরে আসেন, ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

ঘটনার পর গতকাল বিকেলেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা দু’পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেওয়া হয় ওই বৈঠকে। বিবিসি

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২১এপ্রিলঃ  ভারতের ইউরেনিয়াম খনির সঙ্গে বাংলাদেশে জলজপ্রাণীর মৃত্যুর সম্পর্ক কতটুকু? হাওর অঞ্চলে মৃত কয়েকটি হাঁস (ফাইল ফটো) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের রসায়ন বিভাগের প্রধান ড. বিলকিস আরা বেগম গণমাধ্যমকে বলেছেন, “ভারত থেকে ইউরেনিয়াম মিশ্রিত পানি বাংলাদেশের হাওরগুলোতে আসার সম্ভাবনা অনেক। আর যদি তাই ঘটে তাহলে তা আমাদের জন্যে অনেক বিপদজনক হবে।” তবে কোনো পরীক্ষা না করে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এছাড়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেছেন, “হাওর অঞ্চলে জলজপ্রাণীদের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে (ইউরেনিয়ামের) বিষয়টির সংযোগ থাকতে পারে। যদি ইউরেনিয়াম মিশ্রিত পানি হাওরে এসে পড়ে তাহলে তা আমাদের জন্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।” সম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে সিলেট অঞ্চলে হাওরে মাছ, ব্যাঙ ও হাঁসের মৃত্যু ঘটেছে।

এর ফলে সেখানকার জনমনে বেশ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কেন জলজপ্রাণী মারা যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইউরেনিয়াম খনি থেকে বিষাক্ত উপাদান হয়তো বন্যার পানিতে মিশেছে এবং ওই পানি হাওরে এসে জমেছে। বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে রয়েছে ওপেনপিট ইউরেনিয়াম খনি। গত মার্চে আকস্মিক বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে সুনামগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের হাওর এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেইসব অঞ্চলে ধান নষ্ট হয়। চাষিদের ফসল নষ্ট হওয়ার পর হাওরের মাছ, ব্যাঙ এমনকি হাঁসের মড়ক তাঁদের আতঙ্ককে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ভারতের ইউরেনিয়াম খনির সঙ্গে হাওরের জলজপ্রাণীর মৃত্যুর সম্পর্ক থাকার আশঙ্কার একটি বড় কারণ হলো, মেঘালয়েই সেখানকার ইউরেনিয়ামের মাধ্যমে পানি দূষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ডিসেম্বরে মেঘালয়ের স্থানীয় খাসি জনগোষ্ঠী সেই এলাকার রানিকর নদীর পানির রঙ নীল থেকে বদলে সবুজ হয়ে যেতে দেখেন। এর প্রেক্ষিতে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (কেএসইউ) একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। সংগঠনটি সেই নদীর মাছ মরে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করে। এমনকি, জলজপ্রাণীহীন নদীটি এখন মৃত-প্রায় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

খাসি নেতা মারকনি থঙনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সন্দেহ ইউরেনিয়াম খনি খননের ফলে এর থেকে নিঃসৃত ইউরেনিয়াম পানিতে মিশে নদীর পানির রঙ বদলে গেছে এবং নদীর মাছ মরে গেছে।” অবশ্য মেঘালয় রাজ্য সরকার বলছে, তাদের দেশে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাটির সঙ্গে ইউরেনিয়াম খনির কোনো সম্পর্ক নেই।

রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিন্দো এম লানোঙ বলেন, “যদি তাই হতো তাহলে অন্যান্য জলজ প্রাণীগুলোও মারা যেত।” ভারতের যে নদীর পানিতে ইউরেনিয়াম মিশে যাওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদী থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে।ইরনা

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০মার্চঃ কুমিল্লায় পুলিশের ধাওয়ার খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসে আগুন দিয়েছেন। আটক করেছেন তিন পুলিশ সদস্যকে। শুক্রবার ভোরে জেলার সদর উপজেলার বালুতোপা বাজারের পাশের সীমান্তমূখী একটি রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯টার দিকে আটককৃতদের উদ্ধার করে জেলা সদরে নিয়ে যায়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ভুল বুঝে গাড়িতে আগুন দেন।
পুলিশ জানায়, সদর দক্ষিণ মডেল থানার এএসআই জহিরের নেতৃত্বে পুলিশ রাস্তায় টহল দিয়ে ভোরে থানায় ফেরার পথে সদর উপজেলার চাপাপুর এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাওয়া করলে তিনি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে নিহত হন। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসও রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটকে যায়। এ ঘটনায় সকালে উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কনস্টেবল কামাল ও খোরশেদকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দুই পুলিশ কনস্টেবলকে উদ্ধার করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ রাস্তা থেকে প্রায় ৩শ ফুট দূরে একটি ধানের জমিতে নিহত ওই যুবকের লাশ গুম করতে চেয়েছিলেন, তাই তাদের আটক করা হয়।
এদিকে জনতার কবল থেকে উদ্ধার হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ওই যুবক নিহত হয়েছে, অন্য কারণে নয়। কিন্তু এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাল মর্গে নেয়া হয়েছে।ইত্তেফাক

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc