Friday 4th of December 2020 05:30:11 AM

র‍্যাবের অভিযানে সাড়ে ২৬ কোটি টাকার অধিক টাকাসহ মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। ক্যাসিনো কাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার পুরনো ঢাকার দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রূপনের যে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ নগদ টাকা পেয়েছে র‌্যাব।
এছাড়া অভিযানে বাড়িটি থেকে এক কোটি টাকার সোনা, পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর, ডলারসহ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা এবং অনেক ক্যাসিনো সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান শেষে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিককের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য দেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রকিবুল হাসান।
অভিযানের সমাপ্ত ঘোষণা করে রকিবুল হাসান বলেন, গতকাল রাত থেকে বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৬ কোটি  ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অভিযানে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।
এনামুল-রুপনদের অপর একটি বাসায় অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও তেমন কোনো আলামত না পাওয়ায় সেই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।
এক প্রশ্নের জবাবে রকিবুল হাসান বলেন, ‘এই টাকা কিসের, তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বের করতে হবে। আমরা মাত্রই সন্ধান পেলাম। তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।’
এর আগে গতকাল গভীর রাত থেকে পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিট রোডের ১১৯/১ বাসাটিতে অভিযান চালাতে যায় র‌্যাব। অভিযানে এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়ার ছয়তলা বাসাটির নিচতলার ছোট্ট বাসা থেকে পাঁচটি সিন্দুক উদ্ধার করা হয়। এসব সিন্দুতেই ছিল কোটি কোটি টাকা। সিন্দুকে এসব টাকা থরে থরে সাজানো ছিল। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়া এখন কারাগারে। ক্যাসিনো কারবারি এই দুই ভাইকে গত জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত বছরের সেপ্টম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর এই দুই ভাই আলোচনায় আসেন। শুরু থেকেই তাঁরা পলাতক ছিলেন। পরে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল, রূপন এবং তাঁদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে কোটি টাকা এবং ৭৩০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়। এরপর সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।
এনামুল ও রূপন গত ছয় থেকে সাত বছরে পুরান ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন কমপক্ষে ১২টি। ফ্ল্যাট কিনেছেন ৬টি। পুরোনো বাড়িসহ কেনা জমিতে গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ইমারত। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, এই দুই ভাইয়ের মূল পেশা জুয়া। আর বাড়ি কেনা ছিল নেশা।

প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান আমেরিকান ডলারের পরিবর্তে মুসলিম মুদ্রাগুলো জাতীয় মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে বাণিজ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার মতে, ইসলামী বিশ্বের জন্য একটি নতুন লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত কারণ এটি অর্থনৈতিক ও আর্থিক ধাক্কা এবং হেরফেরের জন্য আরও প্রতিরোধী হতে পারে।

তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ তবে সমাধান সন্ধান করা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। আমাদের কী করতে পারি সেদিকে আমাদের ফোকাস করতে হবে।

এরদোগান বলেন, আপনি জানেন যে বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে একমত হওয়ার জন্য কিছু সময়ের জন্য কথা বলছি। বিদেশি মুদ্রা ব্যবহার করে বাণিজ্য করার পরিবর্তে আমরা আমাদের নিজস্ব জাতীয় মুদ্রার সাথে বাণিজ্য করতে চাই। আর্থিক বাজারগুলো ধাক্কা এবং হেরফের থেকে ভঙ্গুর।

এটি এড়াতে আমাদের নতুন ট্রানজেকশন সিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করা উচিত ।

যেহেতু আজ বাণিজ্য যুদ্ধ একটি সমস্যা, তাই বাণিজ্যের বিষয়গুলোকে অবশ্যই অগ্রাধিকার নিতে হবে। আমাদের ইসলামিক ফিনান্সকে আমাদের এজেন্ডার অংশ করতে হবে এবং মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে বিকল্প ইসলামী অর্থ সংস্থার ভূমিকা অগ্রণীকরণ শুরু করেছে বলেও বলেছেন এরদোগান।

ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি এরদোগানের কিছু মতামত ভাগ করেছেন, বিশেষত মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের জন্য মার্কিন ডলারের পরিবর্তে জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়ে।

তবে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে মুসলিম দেশগুলোর নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আসা উচিত, তিনি বলেন যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তুন ডাঃ মাহাথির মোহাম্মদের ইসলামিক দিনারকে ব্যবসায়ের জন্য ব্যবহারের পূর্বের স্বপ্নটি ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে সত্য হতে পারে।

তিনি বলেন, নতুন ব্লকচেইন প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সহযোগিতায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে সংযুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করতে সক্ষম হব।

“অতীতে ডাঃ মাহাথির ইসলামী দিনার প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন। এ জাতীয় প্রযুক্তি চালু থাকায় আমরা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি নতুন মুদ্রা স্থাপন করতে পারি। ক্রিপ্টোকারেন্সির সুবিধা হ’ল এটি আমলাতান্ত্রিক এবং বাজারের ওঠানামার মধ্য দিয়ে কাটতে পারে” হাসান বলেন।

তিনি আরও যোগ করেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সী বা জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করা এই দেশগুলোকে মার্কিন ডলারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে আরও স্বাধীনতা পেতে পারে।

হাসান রুহানি ব্যাংকিংসহ আর্থিক শিল্পে থাকা মুসলিম দেশগুলোর জন্য পাঁচটি সহযোগিতামূলক পদক্ষেপেরও রূপরেখা দিয়েছেন, প্রযুক্তির ভাগ, ব্যবসা ও বাণিজ্য, আন্তঃদেশীয় ট্রানজিট এবং পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটন এর উপর।

অন্যদিকে ডঃ মাহাথির স্বীকার করেছেন যে, মুসলিম বিশ্বের অগ্রগতি ও বিকাশের ধারাবাহিকতা অক্ষম রাখার ফলে দেশগুলো এক ঝাঁকুনিতে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী এমন মুসলমানদের মধ্যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে যারা অমুসলিমদের করুণা ও সদকায়েও নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে সৃষ্টি হওয়া বিঘ্ন মোকাবেলায় উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কৌশলগুলো আঁকানোর সময় আমরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি।

তিনি আরও যোগ করেছেন যে, মুসলমানরা যদি নিজস্ব প্রযুক্তি বিকাশ না করে তা চিরকাল পশ্চিমা সভ্যতার সাথে জড়িত হয়ে উঠবে ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc