Wednesday 28th of October 2020 08:00:57 PM

নজরুল ইসলাম তোফা: মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব ও অহংকার। এ মুুুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর- সেই সোনার বাংলাদেশ এবং দিনেদিনেই এসে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশের নিকট থেকে এদেশের জনগণ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পাকিস্তানের- দুই প্রদেশের মধ্যে যেন বিভিন্ন প্রকার ইস্যু নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, সেগুলোর মধ্যে কিছু তুলে ধরা যেতে পারে যেমন ভূূমিসংস্কার, রাষ্ট্রভাষা, অর্থনীতি বা প্রশাসনের কার্যক্রমের মধ্যে দু’প্রদেশের অনেক বৈষম্য, প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসন, পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও নানা ধরনের সংশ্লিষ্ট বিষয়েই সংঘাত ঘটে।

মূলত ভাষা আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের মুুুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা বলা যায়। বাঙালিরা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ক্ষমতায় গিয়েও পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলাকে শাসন করার অধিকার পায়নি। তখন পূূর্ব বাংলার জনগণ মূলত “২১-দফা” প্রণয়ন করেই জনগণকে সংঘবদ্ধ করে রাজনৈতিক আন্দোলনের চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। আবার ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আজকের আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করলে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সেই সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের জননেতা- শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাতেই যেন অস্বীকার করে।

সুতরাং, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ তার প্রতিবাদে ‘অসহযোগ আন্দোলনের ডাক’ দেয়। তিনি ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অর্থাৎ বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জন-সমুদ্রে ঘোষণা করেছিল এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তাঁরই এই ঘোষণায় সাধারণ মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এর পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে আবারও বঙ্গবন্ধু ”স্বাধীনতার ডাক” দিলেই বাংলার মুক্তিকামী মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মুুুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ ‘নয় মাস’ রক্ত ক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়। অর্জিত বাংলার স্বাধীনতা।
২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর দুটি দিবস কিংবা দিনকে বুঝতে বা বুুঝাতে একটু হয়তো বা অনেকের সমস্যা হয়। ‘স্বাধীনতা দিবস’ ২৬ মার্চ আবার ‘বিজয় দিবস’ ১৬ ডিসেম্বর। “স্বাধীনতা” ও “বিজয়” দিবসকে নিয়ে বহুজনেরই উলটাপালটা হয়ে থাকে এবং অনেকের দুই জায়গার কথাগুলোকেই গুলিয়ে একাকার করে ফেলে। পরিস্কার ধারণার আলোকেই বলতে হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হচ্ছে ২৬ মার্চ তারিখে পালিত হওয়া এক ‘জাতীয় দিবস’। এটিকেই ১৯৭১ সালের “২৫ মার্চ” রাতে তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ’ আনুষ্ঠানিকভাবেই স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। আর সেই মুহূর্তের “২৬ মার্চ” ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলতে, “২৬ মার্চের রাত- ১২টা” থেকে স্বাধীনতাকেই এ দেশের জনতার ধরে আসছে।

কারণটা হলো যে:- বারোটার ঠিক পর মুহূর্তে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা এই বাংলাদেশের জমিনে যতধরণের পাকিস্তানী সেনারা ছিলো তারাই যেন হয়ে গেলো বিদেশী হানাদার শত্রু বাহিনী এবং তাদের নিজস্ব “জন্মভূমির মাটি” থেকে তাড়াতেই যে যুদ্ধ শুরু হলো- সেটাই হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার যুদ্ধ কথাটা- “একটু ভুল”। আর ‘২৬ মার্চ’ থেকে যদি আমরা শুরুর প্রক্রিয়াতে “স্বাধীন” না হই তাহলে, মুক্তিযুদ্ধটা কিন্তু আর- “মুক্তিযুদ্ধ” থাকে না, পাকিস্তানের সহিত গৃহ যুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং, এমন বিদেশী দখলদার বাহিনীদের সহিত দীর্ঘ- ”নয় মাস”
আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশে ‘বিজয়’ আনে, তাই তো আমরা পেয়েছি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।
পৃথিবীতে মাত্র দুইটি দেশ ‘স্বাধীনতার ‘ডাক বা কথা’ ঘোষণা দিয়েই স্বাধীন হয়েছে। এই ‘বাংলাদেশ’ আর আমেরিকা। সে হিসেবে ‘২৬ মার্চ’ থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন, তা সাংবিধানিক ভাবেই প্রতিষ্ঠিত, এটা নিয়ে আদৌ তর্কের কোন অবকাশ নেই। বলা দরকার যে, পাকিস্তানের শাসকরাই চেয়ে ছিল ক্ষমতা সব সময় পশ্চিম পাকিস্তানীদের কাছে থাকুক। সুতরাং তারাই দিনে দিনে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মানুষকে যাঁতাকলে বন্দি রাখার কৌশল অবলম্বন করে। পূর্ব পাকিস্তানের ‘পাট’, ‘চামড়া’ আর ‘চা’ রপ্তানি করে যে বিদেশি মুদ্রা আয় হতো তাকেই পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে চতুরতা সঙ্গে তারা ব্যয় করতো।

পূর্ব পাকিস্তানের চাষ করা ফসলের বাজার দাম পশ্চিম পাকিস্তানে কম আর পূর্ব পাকিস্তানে বেশি। এই সব অসংখ্য তথ্য রয়েছে যা পূর্বপাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশের জনগণ মেনে নিতেই পারেনি। ভেতরে ভেতরে একধরনের ক্রোধ সৃৃষ্টি হয়েছিল এই দেশের জনগণের। সারা পূর্বপাকিস্তান বা আজকের এদেশ তখন মিছিলের নগরী হয়ে ছিল। ১মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘ইয়াহিয়া খান’ সাহেব জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পর থেকে কার্যত পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মুখো-মুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়।পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠির “মুখোশ উম্মোচিত” হয়।

পূর্ব বাংলার মানুষ বুুঝতেই পারে এই বার আলাদা জন্ম ভূমি গড়তে হবে। তারপর এদেশের পরিস্হিতি যেন আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে ৩ মার্চ ঢাকায় কারফিউ জারি হলো। এমন খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার বাইরের যারা তাদেরও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে ছিল। সেই সময় মিছিল মিটিংয়ের নতুন গতি পায়। ২ মার্চে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান ডাকসুর ভিপি- “আ স ম আব্দুর রব” আর ৪ মার্চ ঢাকায় ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করে ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ। তাইতো এদেশে “কারফিউ”। আসলেই- মার্চ থেকে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। আওয়ামীলীগের ডাকেই সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দু’টা পর্যন্ত হরতালও পালিত হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এর নির্দেশে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যেন অতিজরুরি কাজ করার জন্য সরকারি বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংক খোলে রাখার নির্দেশ দিয়ে ছিল। তা ছাড়াও, তিনি- জরুরি সার্ভিস, হাসপাতাল, ঔষধের দোকান অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদ পত্র কিংবা সংবাদ পত্রের গাড়ি, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন এসব সে হরতালের বাহিরে রেখে ছিল । এক কথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যা যা বলেছিল তাই ঘটেছিল। তাঁর নির্দেশেই পূর্ব বাংলার সকল জনতা একীভূত হয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছে।আরো জানা দরকার ৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘ইয়াহিয়া খান’ রেড়িওতে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেয়। এতে ”২৫ মার্চ” জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসার ঘোষণা ছিল। আর তার সাথে বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, এক প্রকার হুমকি বা ধমক দিয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তা একেবারেই যেন সহ্য করতে পারেন নি, তিনিও ৭ মার্চের ভাষণেই তার বহু জবাব দিয়েছিল।

আবার ১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আমাদের পূর্ব পাকিস্তান আসে এবং ১৬ মার্চ মুজিব -ইয়াহিয়ার গুরুত্ব পূর্ণ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কাজ না হলে বঙ্গবন্ধু- শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ছাড়ার ডাক দেন। ক্ষুব্ধ “ইয়াহিয়া” রাগেই যেন ফোঁস ফোঁঁস করে। এমন ধরনের আরও ‘বৈঠক’ হয়। কিন্তু কোন আর কাজ হয় না। অনেক কালক্ষেপণের মধ্য দিয়ে যেন পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই গোলা বারুদ, সৈন্য-সামন্ত এই দেশে আসতে থাকে। তখনই পূর্ব বাংলার মানুষরা যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে উঠে স্বাধীনতা অর্জনের নেশায় উম্মত্ত হয়ে যায় এবং যা ছিল- গাইতি, বল্লম, রামদা, বর্শা, লাঠি এই সব নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। সুতরাং তাঁরাই তো আমাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’, তাঁরা এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে।
“স্বাধীনতা সংগ্রাম” ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে। ১৮ মার্চ এক অসহযোগ আন্দোলনে ১৬ দিনে পদার্পণ করে। এআন্দোলনের ঢেউ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। সংকটাপন্ন অবস্থায় এ দেশ, যুদ্ধ চলছে, চলছে লাশের মিছিল।২০ মার্চ জয়দেব পুর এর রাজ-বাড়ীতে অবস্থিত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দক্ষ ব্যাটালিয়ন তাদের হাতিয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রকেই ‘নস্যাৎ’ করে দেয়। তার পরপরে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ একত্রিত হয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবাই মিলে টঙ্গী বা জয়দেব পুর মোড়ে অনেক ব্যারিকেড গড়ে তোলে নব নির্বাচিত ‘জাতীয় পরিষদের সদস্য’ শামসুল হকের নেতৃত্বে। ২২ মার্চেও শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য বাঙালী সংগ্রামে গর্জে ওঠে। এমন ভাবে যতই দিন গড়াচ্ছিল, ‘রাজনৈতিক সঙ্কট’ ততই গভীরতর হয়ে যাচ্ছিল।

এরপর আরও আসে ইতিহাসের ভয়ালতম কালো রাত্রি। সেই কালো রাত বাঙালির ইতিহাসে সব থেকে যেন আতংকের রাত। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সরকার থেকেই- “গণ হত্যার নির্দেশ” আসে। তখন ব্যাপক পরিমাণেই যেন পশ্চিমপাকিস্তানি সৈন্যের সমাগম ঘটে। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু হয় এমন রাতেই। ২৫ মার্চ কালোরাত ও অপারেশন সার্চলাইট অপারেশনে নেমেছিল সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্বিচার হত্যার সঙ্গে যেন জ্বালাও-পোড়াও স্বাধীনতাকামী বাঙালীর কণ্ঠ বুলেট দিয়েই চিরতরে স্তব্ধ করার আনুষ্ঠানিক যাত্রা।

এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিলো ইপিআর- (“ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস”, বর্তমানে বিজিবি) এবং এদেশের পুলিশসহ বাঙালী সেনা সদস্যদের নিরস্ত্র করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামীলীগ এর নেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৬ জন ব্যক্তির বাসায় হানা দিয়ে তাদের গ্রেফতার। জ্বলছে ঢাকা, মরছে বাঙালী। একই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার প্রথম প্রহর।
এমন ভাবেই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ চলতে চলতে যখন হানাদার পাকবাহিনী বুঝে গেল যে পরাজয় তাদের অনিবার্য, তখন তারা এ পূর্ব বাংলাকে মেধা-শূন্য, পঙ্গু, কিংবা নেতৃত্বহীন করার জন্যেই চোদ্দ ডিসেম্বর ‘রাজাকার’, ‘আল-বদর’, ‘আল-শামস’ বাহিনীর সহযোগিতাতেই অন্ধকার রাতে হত্যা করেছে- অধ্যাপক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, আইনজীবী, শিল্পী ও কবি-সাহিত্যিকদের।তথ্যের ভিত্তি আলোকেই প্রথম সারির দুই শতাধিক বাঙালি বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল তারা।

এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই প্রায় দু’ লাখ মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়েই যেন এমন স্বাধীনতা৷ আবার বহু জন তাঁদের মূল্যবান সহায়, সম্পদকেও হারিয়ে ছিল। ‘অগ্নি সংযোগ’, ‘নারী ধর্ষণ’, ‘গণহত্যা’, ‘সংঘর্ষ’ বা ‘হামলা’, আবার লুটতরাজের মতোই বহু অপ্রীতিরক ঘটনা- ঘটে যাওয়ার পরপরই বাঙালির চেতনায় যেন স্বাধীনতা ছিল। ইশতেহারে বলা আজ থেকে “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ” এমন ঘোষণার কথা পূর্ণ বাংলার মানুষের প্রাণশক্তি , আর তাই তো ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ‘৭ কোটি’ মানুষদের আবাস ভূূমির নাম পাবে ‘বাংলাদেশ’, এতেই বাঙালি গর্বিত।

মুক্তিযোদ্ধারা “যুদ্ধের পর যুদ্ধ” সু-কৌশলে চালিয়েই পাক-বাহিনীর আত্ম সমর্পণের মধ্য দিয়েই “৭১” এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় করেছে। সুতরাং, অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন বাংলাদেশের। সারা বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় ‘নতুন ও স্বাধীন’ দেশ, ”গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ”। এ বাংলার জনপ্রিয় নেতা, জেল থেকে বাহির হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনিই এদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই যুুুুগে যুগেই এমন কালজয়ী, সর্বশ্রেষ্ঠ মহা-নায়কের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছিল- লাল সবুজের জাতীয় পতাকা আর পেয়ে গেছে বাংলার এই “স্বাধীনতা”।
লেখক: নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় এই পরিবেশনা

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭মার্চ,নড়াইল প্রতিনিধিঃবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় নড়াইলে হাজারো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শহরের সুলতান মে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩৬ ফুট ফুট বিশাল জাতীয় পতাকা এবং শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের তৈরীকৃত বাংলাদেশের ম্যাপের আদলে দাড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইলের আয়োজনে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মে এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌরমেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু, সাধারন সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।###
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবালের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নড়াইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
নড়াইল প্রতিনিধি
সিলেট শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^ বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবালেরর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে নড়াইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নড়াইল জেলা শাখার আয়োজনে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান ম এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানবন্ধন চলাকালে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবালেরর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং হামলাকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ও মদদ দাতাদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু, সাধারন সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলামসহ অনেকে।
মানববন্ধনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে জঙ্গীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।##
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে নড়াইলে চিত্রাঙ্কন ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
নড়াইল প্রতিনিধিঃ
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে নড়াইলে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও বঙ্গবন্ধুর ৭ইমার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭মার্চ) সকালে জেলা শিশু একাডেমী কার্যালয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা শিশু একাডেমীর আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিশু ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী প্রমুখ।
এসময় শিশু ও তাদের অভিভাবক, শিক্ষক সাংবাদিক সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫মার্চ,ডেস্ক নিউজঃ  অগ্নিঝরা উত্তাল মার্চের পঞ্চম দিন আজ। ঢাকায় চতুর্থ দিনের মতো টানা হরতাল পালিত হয়। বাঙালির আন্দোলন ক্রমেই সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নিতে শুরু করে। এদিন পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে টঙ্গী শিল্প এলাকায় চার শ্রমিক শহীদ হন।

আহত হন ২৫ শ্রমিক। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকাসহ সারা দেশের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনরোষের মুখে সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিন চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কবি-সাহিত্যিক, লেখক-সাংবাদিকরা পৃথক ব্যানারে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রতিটি দৈনিক সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতার চিত্র ও খবর প্রকাশ করে।

সরকারি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী এদিনও দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত বন্ধ ছিল।

তবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংক এবং অন্যান্য অফিস ২ ঘণ্টার জন্য খোলা রাখা হয়। রাজপথে বিক্ষুব্ধ জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে অনেকটাই অসহায় ছিল সরকারি বাহিনী। পূর্ব পাকিস্তানের গণবিস্ফোরণের অভিঘাতে আন্দোলিত হয় পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশও।

রাওয়ালপিন্ডিতে পিপিপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যে ৫ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা বঙ্গবন্ধু ও তার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। গণ আন্দোলন ও নেতৃত্ব সম্পর্কে ভুট্টো-ইয়াহিয়ার কটূক্তিতে বিপুল তেজে জ্বলে ওঠে ঢাকা অঞ্চল।

গণবিস্ফোরণ প্রশমন করতে না পারার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান চাকরিতে ইস্তফা দেন। তার পদে নতুন নিয়োগ পান জেনারেল টিক্কা খান। এদিকে, এদিন বিকালে করাচি থেকে ঢাকায় আসেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আসগর খান।

ঢাকায় নেমেই তিনি চলে যান বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাসভবনে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠক শেষে আসগর খান বলেন, সংখ্যাগুরু দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের সংহতি রক্ষা করা অপরিহার্য। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আসগর খানের এ বক্তব্য উপেক্ষা করেন।

পাকিস্তান সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত রাখার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া যেভাবেই বিচার করা হোক না কেন, তা অত্যন্ত অবাঞ্ছিত এবং আদৌ যুক্তিযুক্ত নয়।

এদিন ১১ দফা আন্দোলনের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমদ ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দান থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য ঢাকা বেতার কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানান।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৫নভেম্বর,নড়াইল প্রতিনিধিঃ    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন ইউনেস্কোর “ মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার” এ অন্তভুর্ক্তি এবং “ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের” স্বীকৃতি পাওয়ায় নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ষ্টেডিয়াম থেকে আনন্দ শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

পরে  জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় । র‌্যালীসহ এ সব অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ^াস, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ^াস, সিভিল সার্জন ডাঃ আসাদুজ্জান মুন্সি, পৌর মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ^াস, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারি, রাজনীতিবিদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিক, ব্যাবসায়ি, সাংস্কৃতি কর্মিসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৫নভেম্বর,হাবিবুর রহমান খানঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন ইউনেস্কোর “ মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার” এ অন্তভুর্ক্তি এবং “ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের” স্বীকৃতি পাওয়ায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালীতে স্থানীয় এমপিসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারি, রাজনীতিবিদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিক, ব্যাবসায়ি, সাংস্কৃতি কর্মিসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।…….

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩১অক্টোবর,ডেস্ক নিউজঃ  বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। সোমবার প্যারিসের ইউনেস্কো সদরদপ্তরে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী তথ্যচিত্রের তালিকা ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্তের ঘোষণা দেন।

৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম প্রেরণাদায়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইরিনা বোকোভা বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল (ওয়ার্ল্ডস ডক্যুমেন্টরি হেরিটেজ) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক তাৎপর্য রয়েছে এমন বিষয়গুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মেমোরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়।’

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইএসি)। গত ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৈঠক করে এই কমিটি ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘এখন বিশ্ববাসী বঙ্গবন্ধুকে এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে আরও বড় পরিসরে জানতে পারবে।’

এ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ আন্তর্জাতিক দলিলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২৭টি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২মার্চ,নাহিদ হাসানঃ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোঃ আখতারুজ্জমান বলেছেন,“২৫ মার্চের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে”।

২৫ মার্চ শনিবার বিকাল ৪টায় জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন চেতনা পরিষদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া মিলনায়তনে “২৫মার্চঃবিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যা” শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও  বলেন, ২৫ মার্চের কালোরাত বিশ্বের ইতিহাসের কলঙ্কজনক ঘটনা।নিরস্ত্র মানুষের উপর পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা সেদিন গণহত্যা চালিয়েছিলো তা নজিরবিহীন।তাই সার্বিক বিবেচনায় এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

আলোচনা সভায়,বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির উপ-মহাপরিচালক(যুগ্ন-সচিব) ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ,ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই নিউজ সম্পাদক আলী নিয়ামত,অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিডিভিউ ২৪ ডট কমের প্রধান সম্পাদক জনাব মোতাহের হোসেন চৌধুরী রাশেদ।

আলোচনা সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশ্লেষক কাজী তিউনি বিনতে জিন্নাত।

চেতনা পরিষদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোঃ দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চেতনা পরিষদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম নাহিদ হাসান নয়ন।

এরপর ৬ টায় শহিদদের স্মরণে স্মৃতি চিরন্তনে “মোমবাতি প্রজ্বালন” আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক,বীর মুক্তিযোদ্ধা,কবি,সাংবাদিক,সংগঠক ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মার্চ,ডেস্ক নিউজঃ  স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুত্তিযুদ্ধের সময়ে নানা কারণে মার্চ মাস ঐতিহ্যমন্ডিত। অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস।

উনিশ শত একাত্তরে এই মাসের পঁচিশে মার্চে বর্বর পাকবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে গ্রেফতার হবার আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

এর আগে জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “সাতকোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো- ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”

১৯৭১ এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান- আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া এই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারতি হতে থাকে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। । ঢাকাসহ গোটা দেশে পত পত করে উড়ছিল সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য যে আগুন জ্বলে উঠছেলি- সে আগুন যেন ছড়িয়ে পরে বাংলার সর্বত্র। এর পরে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয়দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথানের সিঁড়ি বেয়ে একাত্তরের মার্চ বাঙ্গালির জীবনে নিয়ে আসে নতুন বারতা। এ বছরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এর আগে ২৫ মার্চ রাত একটার অল্প পরে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রেফতার করে তার বাড়ি থেকে।

২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙ্গালির কন্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার লক্ষ্যে ‘অপারশেন সার্চলাইট’ নামে বাঙালি নিধনে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যরা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্নি শিক্ষা প্রতষ্ঠিানে হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে।

এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা হয়। আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। র্দীঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বের বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা।

এ মাসেই জাতি এবার পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৪৬ বছর। এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে মুখরিত থাকবে গোটা দেশ।বাসস

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc