Saturday 24th of October 2020 09:42:21 AM

এম ওসমান, বেনাপোল:  মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নিলো অগ্নিদগ্ধ শিশু মারিয়া। পরাজয় বরণ করে মা বাবা আত্মীয় স্বজন এবং তার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসা দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে  চলে গেল না ফেরার দেশে। বুধবার সকালে ঢাকাস্থ বার্ণ ইউনিটের ২য় তলায় এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি আর সহ্য করতে পারছিনা, আমার চিকিৎসা হতে অনেক টাকা পয়সা লাগবে, এত টাকা আবার বাবা কনে পাবে, আমার বাবা গরীব লোক, আমি বাঁচতে চাই..! আপনারা আমাকে বাঁচান! কথা গুলো এখনো কানে বাজে..! অগ্নীদগ্ধ হওয়ার দীর্ঘ ৬ মাস পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে এই আকুতি গুলো করেছিলো ঝিকরগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের অগ্নিদগ্ধ শিশু মারিয়া.! ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নের নায়ড়া গ্রামের ভাটার ট্রলি চালক হত দরিদ্র রুবেল হোসেনের শিশু কন্যা মারিয়া (৭) এবং স্থানীয় নায়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী ছিলো সে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আগুন পোহাতে গিয়ে আগুনে পুড়ে পুরো শরীর ঝলসে যায় মারিয়ার। অসহায় পিতা ট্রলি চালক মেয়ের চিকিৎসার্থে আত্মীয় স্বজন ও গ্রামবাসীর সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে সে সময় চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। সেসময় মেয়ের চিকিৎসার জন্য যশোরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। কিন্তু অবস্থার তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ১৫দিনে খরচ হয় প্রায় দু’লক্ষ টাকা। অসহায় পরিবারের জন্য এই ব্যায় বহুল খরচ যোগাতে না পেরে সেখান থেকে বাড়ীতে ফেরত নিয়ে আসেন মারিয়ার দরিদ্র পিতা রুবেল।
অবশেষে শার্শার সাংবাদিক সমাজ ও বেনাপোল সীমান্ত প্রেসক্লাবের কাছে মারিয়ার ঘটনাটি সামনে আসলে মারিয়াকে সাংবাদিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে পুনরাই ঢাকার বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ফেসবুক প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় মারিয়ার খবর প্রকাশ হলেই মুহুর্ত্বের মধ্যে ভাইরাল হয় মারিয়ার খবর। চিকিৎসার জন্য হাত বাড়ায় দেশ ও বিদেশের বিত্তবান সহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। মারিয়ার চিকিৎসার জন্য উঠে আসে  ৬ লক্ষ টাকারও বেশি। পুরোদমে  চিকিৎসা চলতে থাকে মারিয়ার। প্রাথমিক পর্যায়ে শিশু মারিয়া কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতেই হলো তার।
বুধবার সকাল ৭টা বাজে। হঠাৎ মারিয়ার বাবার ফোনে রিং আসে ঢাকা থেকে। ফোনটি রিসিভ করতেই ফোনের ও পাশ থেকে ভেসে আসে আধো আধো কাাঁদো কাঁদো কন্ঠে মারিয়া আর নেই। কথাটা বিশ^াস যোগ্য না হলেও চরম সত্যটাকে মানিয়ে নিয়েই অঝরে কেঁদে উঠে মা বাবা। সাথে সাথে এই হৃদয় বিদারক কান্নার রোল পড়ে যায় মারিয়ার বাড়িতে। মুহুর্ত্বের মধ্যে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে যায় শোকে ছায়া নেমে আসে পুরো নায়ড়া গ্রাম। মারিয়ার মৃত্যুর খবর সাংবাদিক মহল সহ গোটা এলাকায় ছড়িয়ে যেতে সময় লাগলো না। মা বাবা আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি শোকে কাতর হয়ে পড়ে মারিয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম দেওয়া সাংবাদিক মহল।
আজ তুমি নেই..! ভাবতেই অনেক কষ্ট হচ্ছে..!চলে গেলে না ফেরার দেশে..! তোর জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে! কিছুই করতে পারলাম না তোর জন্য! ওপারে ভাল থাকিস! আমাদেরকে ক্ষমা করে দিস। এমন শত শত স্টাটাসে ফেসবুকের পাতায় নিজেদের কষ্টের কথা প্রকাশ করে সাংবাদিক সমাজসহ কাছের মানুষেরা। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, বুধবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় ঢাকা থেকে মারিয়ার গ্রামের বাড়ি ঝিকরগাছার নায়ড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় মারিয়ার নিথর দেহ বহনকারী এ্যাম্বোলেন্সটি।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৭এপ্রিল,নড়াইল  প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ- নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মারিয়া হোসেন (নৌকা প্রতীক) বে-সরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছে।  ১৬ এপ্রিল রবিবার   এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের মারিয়া হোসেন রুমা নৌকা প্রতিক নিয়ে ৩৩৬৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি খান জাহাঙ্গীর আলম মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে ২৬৬২ ভোট পেয়েছেন।

উল্লেখ্য কোটাকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম হেমায়েত হোসেন হিমু”র মৃত্যুতে এ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ায় , এ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মারিয়া হোসেন (নৌকা প্রতীক )  প্রয়াত চেয়ারম্যান বিএম হেমায়েত হোসেন হিমু”র স্ত্রী।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc