Wednesday 21st of October 2020 04:46:33 AM

এম ওসমান,বেনাপোল প্রতিনিধি:  “ক্ষুধা লাগলে খেয়ে যান “এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণে পথ শিশু ও ভারসাম্যহীন (পাগল)সহ ফ্রী খাবার বাড়ীতে খাবার খেল ৩ শতাধিক মানুষ।
মানবসেবা হেল্প ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের উদ্যোগে ও এক প্রবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে শার্শা উপজেলার নাভারন রেল বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে এ খাবার খাওয়ানো হয়।
উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, করোনা ভাইরাস সবাইকে কি শিক্ষা দিয়েছে আমার জানা নাই, তবে এই করোনা আমাকে অনেক ভাল কিছু দিয়ে গেছে। করোনাকালে অনাহারে থাকা পথ শিশু ও রাস্তার ভারসাম্যহীন পাগলদের জন্য খাবার খাওয়াতে এদের জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান তিনি।
একই সাথে মানবসেবা হেল্প ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরণায় এ খাবার বাড়ি। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন অনাহারির পাশে থেকে এই ভাবে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করে যাবো।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজের প্রভাষক ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, সারসা বার্তা পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক আব্দুস সালাম গফফার, শার্শা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়ানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি বেনাপোল প্রতিনিধি এমএ রহিম, চ্যানেল এস টিভির সিনিয়র রিপোর্টার ইসমাইল হোসেন, এশিয়ান টিভি বেনাপোল প্রতিনিধি মিলন হোসেন, কালের কন্ঠের ঝিকরগাছা প্রতিনিধি এম আর মাসুদ, নবীবনগর মিতালী সংঘর্ষের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আলমগীর হোসেন, তরুন সমাজ সেবক আকিব খাঁনসহ  বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান শুরুতে আর্থিক সহযোগিতা কারী প্রবাসী ও তার পরিবারসহ বিশ্বের সকল মুসলীমদের জন্য দোয়া করা হয়।

নজরুল ইসলাম তোফা: মানুষ মানুষেরই শত্রু হয়। এই মানুষের ভেতরে যে শত্রুতা জন্ম হয়, তা চিহ্নিত করাটা খুুবই কঠিন। পৃৃথিবীতে ‘কে- শত্রু’ আর ‘কে- মিত্র’ তাকে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে উপলব্ধি করা যায় না। কেবলই প্রয়োজনের সময় কিংবা বিপদের মূূূহুর্তেই সত্যিকারের শত্রু-মিত্র চেনা যায়। গৌতম বুদ্ধ একটা কথা বলেছেন,- ”জগতে শত্রুতার দ্বারা কখনো শত্রুতার উপশম হয় না, মিত্রতার দ্বারাই শত্রুতার উপশম হয়।” খুব গোপন শত্রু প্রকৃত বন্ধু বা কাছের ও দূরবর্তী মানুষের নিকটেই যেন একটা মুখোশে চিত্র। বিদ্রূপ যাকেই করা হোক না কেন তা অবশ্যই নেতিবাচক। এসমাজের ব্যক্তিত্ববান কোনো মানুষকে যদি ঠাট্টা-মশকরা করে অপমান করা হয়, তা হলে সমাজে তিনি যা দিতে পারতো তা থেকে এ সমাজ বঞ্চিত হবে। সুতরাং এতে সমাজের যে ক্ষতি হয় তাকে সচেতন নাগরিকদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। শত্রুরাই নিজ ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই যেন কৌশলে মিত্রকে ঘায়েল করে শত্রুতার পথ বেছে নেয়। তাদের কাছে এই কঠিন কাজ সহজভাবেই করতে যেন বাধেনা। মনে মনে বা প্রকাশ্যে ঘৃণা করে বা ক্ষতি সাধন করে, এ ব্যক্তিরাও মানুষ মানুষের শত্রু হয়।
আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয় হলো শত্রু। শত্রু শব্দটা’কে বাংলা প্রতিশব্দের মাধ্যমে নানা ভাবেই যেন মানুষ চিনে থাকে। যেমন:- বৈরী, অরি, দ্বিষৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিপক্ষ, বিপক্ষ অথবা বিদ্ধিষ্ট ব্যক্তি। শত্রুতা করা, শত্রু ভাবাপন্ন ব্যক্তি’রা কখনো সমাজের বৃহৎ কর্মকান্ডে থাকতে পারে না। অবশ্য তাদের কখনো না কখনই পতন ঘটেছে। তাই সাক্ষী ইতিহাসের পাতায় আছে। অনেক শাসকের পতন ঘটেছে তাদের নিকট বন্ধু রূপেই লুকিয়ে থাকা শত্রুতার কারণে। ধণ-সম্পদ, প্রাসাদ বা রাষ্ট্র ষড়যন্ত্রের কথা তো হরহামেশাই মানুষের মুখে শোনা যায়। এ ধরনের শত্রুরা নিজ ইচ্ছা বা ক্ষমতাসীনদের দ্বারাই নিয়োজিত এজেন্ট এবং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাতে নিজ সহ ক্ষমতাধর ব্যক্তির ফায়দা হাসিল করার জন্যই গোপনে ও প্রকাশ্যে সংবাদ আদান-প্রদানের কাজে নিয়োজিত থাকে। তাই, মানুষের কল্যাণে এরা কমই আসে, চতুরতা বা কৌশল খাটিয়েই যেন শত্রুতা করে। সুতরাং প্রয়োজনের সময়ে কেবল সত্যিকার মানুষের কেমন পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার গভীর মনে সেটা উপলব্ধি করলেই জানা যায়।
সুতরাং এরা সমাজ এবং দলের নীতিনির্ধারকদের অতি আপন জন হয়ে খুব সহজে গুপ্তচর বৃত্তির কাজেই লিপ্ত থাকে। বিপুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও অনেক সময় এ সব শত্রুর কারণেই সমাজে বা দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তকে ফলপ্রসূ করতে পারে না। এই মানুষরা সর্বক্ষণ অপরের খুঁত ধরতে থাকে। তাদের কাছে অন্যদের চিন্তা-ভাবনা, রুচি-পছন্দ, কাজ, পোশাক-আশাক, আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের মতো অনেকে অপছন্দ করে। এক কথায় সব কিছুতে তাদের চোখেও খারাপ লাগে। পরশ্রীকাতর প্রতিহিংসাপরায়ন লোকেরা গোপণ শত্রুতা পোষণ করে থাকে। ওদের থেকে অনেক দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। তাদের কর্ম ও আচার-আচরণে দৃষ্টি দিলে অনেকাংশে পরিষ্কার হয়। তবে গভীর জলের মাছ ধরতে হলে গভীরে নামতে হবে। তাদের কথা বার্তা ,আচরণ এবং গতিবিধির মধ্যে সর্বপ্রথমেই চলে আসে টাকা বিষয়ক ব্যাপার। কৌশলে টাকা নিতে পারলেই লেনদেন চুকিয়ে দেওয়াটাই তাদের কু-চরিত্রে বিরাজ করে।
বর্তমানে বাংলাদেশে মানব সমাজের সব চেয়ে বড় শত্রু হিসাবে গন্য করা যেতেই পারে দু’জাতির মানুষকে,- ১ম হলো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তারা তো সুযোগ পেলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ৩/৪ গুন বৃদ্ধি করে। ২য় হলো অসাধু ডাক্তার, তারাও নিজেদের স্বার্থে- চিকিৎসা ভিজিট ৮০০/১০০০ করেই দরিদ্র মানুষের পেটে কুড়াল মারে। আর অযথা টেস্ট বানিজ্য এমন পেশার মানুষের আচরণ যেন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কতটা নিকৃষ্ট হয় এই গুলো মানুষ বলাই বাহুল্য। প্রতিটা স্তরের মানুষ কম হোক বা বেশিই হোক কোনোনা কোনো ভাবেই যেন শত্রুতা করে। ইদানিং পশু-পাখি, বনজঙ্গল কিংবা নানা বস্তুুর উপরে কোনো না কোনো মানুষ- শত্রুতার জেরেই প্রতিশোধ নেয়া শুরু করেছে। এটাও একেবারেই নিকৃষ্ট মানসিকতার পরিচয়। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে নিজ সহ সকল শ্রেণীর মানুষের ক্ষতির সম্মুখীন হবে নূন্যতম সে জ্ঞান নেই।
বাঙালি আবেগ প্রবণ, আর এমন আবেগপ্রবণতাই যেন তাদের আত্মত্যাগের জন্যেই উদ্বুদ্ধ করে। ভালোবাসাতে যেমন আপ্লুত হতে পারে এ-জাতি, তেমনই- নিষ্ঠুরতা বা শত্রুতার চরম রূপও দেখাতে পারে। অদ্ভুত এক দ্বান্দ্বিক চরিত্র ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আছে মানুষের মধ্যে। চরিত্রের এ বৈপরীত্য দৃশ্যমান হয় কিছু স্বার্থ হাসিলের জন্যেই তা অকপটে বলা যায়। সুতরাং, খুব ভালো মানুষ হতে হলে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। আর প্রতিটা মানুষের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুন্দর ভাষা বা শিষ্টাচারপূর্ণ ব্যবহারের প্রভাব অনস্বীকার্য। যদি ধর্মের যুক্তি দেখাতে চেষ্টা করি- তাহলে বলা যেতেই পারে যে, পবিত্র কোরআনে রয়েছে, শত্রুর সঙ্গে সুন্দর ভাষায় কথা বলা। আরো বলা আছে, ‘মানুষের উচিত শত্রুর নোংরা কথার জবাব খুবই সুন্দর কথায় দিয়ে দেওয়া।’ সূরা, ফুসসিলাতের- চৌঁত্রিশ নম্বর আয়াতে বলাই আছে,- ‘‘সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান নয়। তুমি অসৎ কাজকে সেই নেকি দ্বারাই নিবৃত্ত করো যা সবচেয়ে ভালো। তা হলেই দেখা যাবে যে,- আপনার সাথে শত্রুতা যাঁর ছিল তিনি অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়েও গেছে।’’ শত্রুতা নয়- আপোষ করতেই হয়, সেটাই তো জ্ঞানীদের সঠিক কাজ। সফলতার অর্জনের পাথেও- বলা যেতেই পারে। ‘ভালোবাসা’ দিয়েই হবে জয়, আর শত্রুতা দিয়েই হবে পরাক্ষয়। আরও যদি বলি মহাত্মা গান্ধীর উক্তি, তা হলে- “ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করার সৎসাহস যার ভিতরে আছে সেই প্রকৃত মানুষ।
পৃথিবীতে মানুষ একা বাস করতে পারে না। মিলেমিশেই বসবাসের পাশাপাশি তারা যার যার ধর্ম পালন করে। এ বসবাসের সূত্রে আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরেও অনেক মানুষের সাথে মানুষের নানারকম সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে মধুর ও পবিত্র সম্পর্ক বলা যায় ‘বন্ধুত্ব’।কারণ, মানুষ তার বন্ধুর কাছে সুখ-দুঃখের বিভিন্ন কথা অকপটে ব্যক্ত করে। মানুষ তার বন্ধুর বিপদে- আপদেই সবার আগে এগিয়ে আসে এবং বিপদে-আপদে আশার বাণী শোনায়, তারাই তো- সুখের মুহূর্তগুলো ভাগা ভাগি করে উপভোগ করে।
অপর দিকে আবার বলা যায় যে, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য, স্বার্থের আকর্ষণ বা টাকা-পয়সা এবং জায়গা-সম্পদের বিরোধের কারণেই পরস্পরের মধ্যে শত্রুতার ভাব জন্ম নেয়। সেই শত্রুরাই তো চায়, সব সময়ে মানুষদের ক্ষতি হোক। ইবনুল ফুরাত বলেছিলেন, ‘শত্রুকে যদি একবার ভয় কর তবে বন্ধুকে অন্তত দশবার ভয় করিও। কারণ- বন্ধু যদি কোনো সময় শত্রু হয়, তখন তার কবল হইতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হইবে না’। সুতরাং প্রকৃত মানুষ এবং ভালো বন্ধু চেনা বড়ই দায়। বিপদে না পড়লে খুবভালো মানুষ বা প্রকৃত বন্ধু অথবা শত্রু চেনা যায় না। এমন বহু লোক আছে যারা অপরকে- তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্য, বিদ্রূপ করার জন্য, মানে তার ব্যক্তিত্বটাকে ছোট করার জন্য হাসি-তামাশারও আশ্রয় নেয়। যেকোনো মজলিশে বা বন্ধুদের মাঝে ঠাট্টা-মশকরা করে কথা বলে। ইশারা- ইঙ্গিতে যেন অন্যের গ্রহণযোগ্যতায় আঘাত হানার চেষ্টা করে। হাসি ও মজার মধ্য দিয়েই সে আপাতদৃষ্টিতে তার বন্ধু এবং শ্রোতাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করলেও আসলে তার মনের মাঝে আছে খুবই হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিশোধ প্রবণতা।
পৃথিবীর ইতিহাসেই এ রকম অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন:- মক্কায় ইহুদিরা ইসলাম ধর্মের শেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর যে ক্ষতি সাধন করেছে, তার চেয়ে অনেকাংশেই যেন ক্ষতি সাধন করেছে- মুসলমান নামধারী মোনাফেকরা। যেকোনো ব্যক্তিকে আঘাতহানা কিংবা কাউকে অবমাননা করাটাকে জুলুম বলে উল্লেখ করেছে ইসলামে। জ্ঞান ও সভ্যতার ‘বাহ্যিক উন্নতি’ যদি আপাতদৃষ্টিতে সমৃদ্ধির উচ্চশিখরে আরোহন করে, তার পরও সে সমাজকে মানবীয় পূর্ণতায় সমৃদ্ধ সমাজ বলা যাবে না। যে সমাজের লোক জন একে- অপরের কাছে অনিরাপদ বোধ করে কিংবা একে-অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ ও পরস্পরের মঙ্গল কামনা করে না বরং ভেতরে ভেতরে শত্রুতা এবং ক্ষতি কামনা করে, ষড়যন্ত্র করে, অপরের ধণ-সম্পদের প্রতি ‘লোভ-লালসা’ লালন করে, সেই সমাজে কোনো রকম শান্তি বা স্বস্তির অস্তিত্ব নেই।
বিপদের বন্ধুই প্রকৃত ‘বন্ধু’। আর যে ‘বন্ধু’ বন্ধুর বিপদের সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখে সে বন্ধুরূপী শত্রু। তাই বন্ধু নির্বাচনে সদা সতর্ক থাকতেই হবে। প্রচলিত সার্বজনীন মূল্যবোধ, আইন এবং অধিকার-বিরুদ্ধ কর্ম কান্ড যখন সংঘটিত হয় তখনই মানুষের প্রতি মানুষের শত্রুতা এবং অবিচার সৃষ্টি হয়। শুধু মাত্র  ন্যায়নীতির পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমেই সর্বস্তরের শত্রুতাকে দমন করে “শান্তি প্রতিষ্ঠা” করা সম্ভব। অভিজ্ঞতার আলোকেই বলতে হয়, যেখানে ন্যায়নীতি আছে সেখানেই শান্তি আছে। আবার যেখানে ন্যায়বিচার নেই কিংবা আদর্শবোধ বা সহনশীলতা নেই, সেখানে কখনো শান্তি বিরাজ করতে পারে না। নিজ ঘর হতে শুরু করে গোষ্ঠী এবং জাতি সকল ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য।
সর্বশেষে বলতে চাই যে, ‘আমার হাতে কোন পাথর নেই, আমার সাথে কারও শত্রুতা নেই। আমি কারও সাথে যে দূর্ব্যবহার করি না, কেননা আমি গোলাপ বাগানের মতই সুমিষ্ট’। মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি’র এমন নান্দনিক কিংবা শৈল্পিক কথার সাথেই সৎ সাহস নিয়ে আজকের বর্তমান সমাজের মানুষ নিজকে উপস্থাপন করতে পারে না। কারণ দেখা যায় তারা কখনো না কখনো যেকোনো ভাবেই যেন শত্রুতা করে। আবার ”শত্রুরা শত্রুতা করতে কৌশলে ব্যর্থ হলে তারপর বন্ধুত্বের সুরত ধরে”। এ কথা হযরত আলীর (রাঃ) উক্তি।
সুতরাং মানুষের এই চরিত্রের পরিবর্তন করানোটা খুবই কঠিন। তবুও- বুদ্ধির জোরেই শত্রুকে জয় করা প্রয়োজন। নেলসন ম্যান্ডেলার সাথেও একমত পোষণ করে বলা যায়, “আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তি চান,.. আপনাকে আপনার শত্রুদের সাথেই কাজ করতে হবে, তাহলেই তিনি আপনার সহকর্মী হতে পারবে। তবুও একটি কথা বলতেই চাই যে হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা বা গুজবের মতো শত্রুতা না করে সত্য, সুন্দর এবং মঙ্গল পথে সততা দিয়েই নিজেকে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। সুতরাং শত্রুতার উপরেই দাঁড়ানো মানুষদের  মনোবল কিংবা নিজকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া নিকৃষ্ট মনের পরিচয়।
লেখক:নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

নজরুল ইসলাম তোফা: অনেক ধর্মাবলম্বীর মানব মানবীরাই প্রথমে পৃথিবীতে এসেই শুরু করলেন ভাল-মন্দের খেল। কেউ কেউ আবার আসারও আগেই ঘটিয়েছিল ঘটনা। তবে সেই মানব-মানবী পথ ধরে আজকের শাখা প্রশাখায় বা বিভিন্ন ধর্ম মতেই এ মানুষ, তারা নিজেরা যেমন অন্যকে ঠিক তেমনি মনে করে। মানুষ হিসেবে যে ভালো, সে অন্য মানুষের মন্দ দিকটি ঢেকে রেখে ভালো দিকটি তুলে ধরে। আর যে মানুষ নিজে মন্দ, সে অন্যের ভালো দিকটির পরিবর্তে মন্দ দিকটিই তুলে ধরে। মুলত এভাবেই মানুষ তার প্রকৃত রূপটি প্রকাশ করে।জীবনযাপনে সর্বক্ষেত্রেই এক একটা সময়ের অনেক গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে যেমন বদলে যায় সব কিছু, ঠিক তেমনি অনেক বেশিই পরিবর্তন হয়, যেমন: দৃঢ় হয় মানুষের ভাবনা, বিশ্বাস কিংবা উদ্যম। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কিংবা দশকের পর দশক এ মানুষরাই অতিক্রান্ত করে অনেক কিছু। ঘুষ-দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচার, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, জীবনের চাহিদায় অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, শিক্ষান্তে কর্মসংস্থান, প্রয়োজনে নানাবিধ আইন কানুন কিংবা তার প্রয়োগ এবং অপ্রয়োগ প্রায় সব গুলোই প্রত্যক্ষ করছে মানুষ। সেই মানুষ গুলো ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায় যে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী কিংবা ধর্মাবলম্বীর মানুষের মধ্যেই কম হোক বা বেশিই হোক সবকিছুতেই যেন অবক্ষয়ের মাত্রাটা লক্ষ করা যায়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝেই কিছু মানুষ নিরাবতায় থাকে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকট অস্থিরতা তাদের মাঝে বিরাজ করে। যুগে যুগে এই অস্থিরতা সৃষ্টিকারীরাই যেন উপঢৌকন প্রাপ্তির জন্য অথবা লোভ-লালসার আশায় হয়তো এমন কাজ গুলো করে আসছে। সত্তর হাজার বছর আগেও মানুষ ছিল প্রাণী জগতের মধ্যে বন্যপ্রাণীর মতো আবারও সেই মানুষের মতোই মানুষ হিংস্র হয়েই উঠছে। দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ, কবি সাহিত্যিক, সাহিত্য সংস্কৃতি, ছাত্র শিক্ষক, মওলানা মুন্সী, কর্মকর্তা কর্মচারী, গ্রগতিশীল সুশীল নাম ধারী মানুষ, অনেক বড় বড় গডফাদার বা দুর্নীতিবাজ, রাজনীতিবিদ কিংবা আমলারাই যেন তার মধ্যেই পড়ে। তাঁরা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এমন ভাব দেখিয়ে চলে, আবার সুযোগ পেলেই অন্যকে অকপটে দোষ দেওয়ারও প্রবণতা সৃষ্টি করে।
বন্য মানুষের বিচরণ ও সীমাবদ্ধ ছিল কেবল মাত্রই যেন আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে আর এখন সেই সব মানুষের মতো মানুষ হিংস্র হয়ে উঠছে সারা বিশ্বে। অবশ্য সেই সময়ের পরে ধীরে ধীরে সমস্ত পৃথিবীর শাসক হয়েছিল। কিন্তু এখনকার মানুষ নিজেই ঈশ্বর হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে, চিরজাগ্রত তারুণ্যকে কেবল গ্রাসই করতে চাচ্ছে না, সৃষ্টি কিংবা ধ্বংসের মতো স্বগীর্য় ক্ষমতা গুলোকেও নিজের আয়ত্তে আনার জন্যই বদ্ধপরিকর। জানা যায় যে, প্রাণী কুলের মধ্যে এমন মানুষরাই ধীরে ধীরে সামাজিক জীব হয়ে উঠে, পৃথিবীর শুরুতে এই মানুষ এতোটা চতুরও ছিল না। তারা সকল প্রাণীর চেয়েও তীক্ষ্ম এবং গভীর বুদ্ধি সম্পন্ন ছিল তা স্বীকার করতেই হয়। জীবতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন মানুষেরাই পৃথিবীতে প্রাণী কুলের মধ্যেই যেন বংশ বিকাশে কৌশলে চৌকশ ছিল, বলা যায়, প্রাণী কুলের একটি পরিপূর্ণ রূপ এই মানুষ। সুজন-কূজন, ভালো-মন্দ সব ধরণের মানুষকে নিয়েই তাদের হয়ে উঠে মানব সংসার। এমন প্রাণী জগতের একমাত্র মানুষই বিবেক সম্পন্ন আর আস্তে আস্ত কথা বলতেও সমর্থ হয়। কিন্তু এই পৃথিবীতে তাঁরা প্রথমেই বনে জঙ্গলে, গাছের নিচে কিংবা বিভিন্ন গুহায় বসবাস করে আসছিল। সেই মানুষ ধীরে ধীরেই পছন্দ মতো নিজস্ব পরিবার গঠন করে, গোষ্ঠী বা সামাজিকতা তৈরি করে ফেলে। চৌকশ বুদ্ধি দিয়েই তাঁরা সেই আদি কাল থেকেই নানান কর্ম করে আসছে। তখনকার যুগকে এখনকার মানুষরা বলছেন, তখন ছিল বর্বর বা অসভ্য যুগ। কিন্তু জানা যায় যে, সেখান থেকেই তো এমন মানুষের বংশ বিস্তারের সৃষ্টি। এখনও কি সেই মানুষই ফিরে আসছে। এই সময়ের মানুষের অর্জিত বিপুল ক্ষমতা মানুষের জন্য নিয়ে এসেছে কান্না-হাহাকার এবং ধ্বংসযজ্ঞ। মানুষের নিজের মানসিকতার উন্নতি যেন হয়ই নি, বরং মানুষের কারণেই দিনে দিনে বাড়ছে মানুষের মৃত্যু এবং অন্যান্য প্রাণীর জীবন ক্রমাগত দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
আরো জানা দরকার আছে এমন মানুষ সম্পর্কে, সৃষ্টি কর্তা মনের মাধুরী দিয়েই যেন আদমকে সৃষ্টি করে তাঁর সঙ্গী হিসাবে হাওয়াকে সৃষ্টি করে দিলেন। এই মানব আর মানবী স্রষ্টার সৃষ্টির কৌশল ধরেই পৃথিবীতে এলেন। কিন্তু কি  কৌশলে তাঁরা এলেন সে দিকে আর যেতেও চাই না। বলতে চাই যে, মানব জাতির পিতা আদম (আ:) ও মাতা হাওয়া (আ:) থেকেই তো মুসলমানরা বলছেন মানব জাতির সৃষ্টি। আসলে এ আলোচনায় বিস্তারিত জানানো না গেলেও বলতেই হয়, হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া (আ:) উভয়ে জান্নাতের মতো সুুুুসজ্জিত এক বাাগানে বসবাস করে ছিল। আর সেখানেই নাকি পিছু লাগলো এক ‘ইবলিশ’ নামক পাপিষ্ঠ শয়তান। তাঁর প্ররোচনায় পড়ে এই পৃৃথিবীতে উভয়ে এলেন। তাদের জোড়ায় জোড়ায় সন্তান জন্মের শুরুতেই হযরত আদম ও হাওয়া (আ:) পৃথিবীতে প্রথম প্রজনন ও বংশ বিস্তারে বিবি হাওয়া (আ:) যমজ একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। তখন ভাই বোন ছাড়া হযরত আদম (আ:) এর আর কোন সন্তান ছিল না। পরে আরো একটি পুত্র ও কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করান। এখন বংশ বিস্তারের জন্য আল্লাহ তাআলার নির্দেশেই প্রয়োজনের তাগিদে একটি নির্দেশ জারি করলেন যে, ভাই-বোন পরস্পর বিবাহ করতে পারবে না সেহেতু একই গর্ভ থেকে যে যমজ পুত্র ও কন্যা সন্তান তাঁরা পরস্পর সহোদর ভাই বোন বলেই গন্য হবে আর পরবর্তী গর্ভ হতে জন্মগ্রহণকারী পুত্রের জন্যে সম্পর্ক প্রথম গর্ভ হতে জন্মগ্রহণকারী কন্যা সহোদরা বোন হিসেবেই নাকি তাঁরা গন্য হবে না। তাদের মধ্যে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটা ছিল বৈধ। কিন্তু ঘটনাচক্রে কাবিলের সহজাত সহোদরা বোনটি ছিল পরমা সুুুন্দরী এবং হাবিলের সহজাত বোনটি ছিল কুশ্রী এবং কদাকার। বিবাহের সময় হলে শর’য়ী নিয়মানুযায়ী হাবিলের সহজাত কুুশ্রী বোন কাবিলের ভাগে পড়লো। এতেই কাবিল অসন্তুষ্ট হয়ে হাবিলের শত্রু হয়ে গেল। কৌশলী এই জেদ আমার সহজাত বোনকেই আমি কাছে পেতে চাই এবং তাকে আমিই বিবাহ করবো। আর হযরত আদম (আ:) তাঁর সৃষ্টি কর্তা কিংবা শরীয়তের আইন অনুযায়ী কাবিলের আবদার প্রত্যাখান করলেন। এখানেই ঘটনার শেষ হবার নয়, একপর্যায়ে ঘটিয়ে ফেলে কাবিল এক ভয়ানক মৃত্যু, মানে কাবিলের হাতেই হয়ে যায় হাবিলের মৃত্যু। কারণটা হলো তাঁদের পছন্দ অপছন্দ নিয়ে। বলাই যায় যে, কাবিলের নারীর রূপ সৌন্দর্যের প্রতি ছিল লোভ  লালসা। এই আলোচনায় তাদের ঘটনাটিকে অনেক দীর্ঘ না করেই বলা প্রয়োজন যে, মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই ইতিহাসের শিক্ষা দিয়ে মন্দ মানুষ আর ভালো মানুষকে বুঝতেই একটি উদাহরণ। কিন্তু অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষরা এমন এই ইসলাম ধর্মের আলোকে বিশ্বাস করবেন।
 
আসলেই এখানে মানব জাতির বিশ্বাস অবিশ্বাসের একটি তর্ক বিতর্ক, মানা না মানার এক বৃহৎ সংঘাত। কারণটা এই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মুখেই শুনা যায় যে, তাদের আদি মানব মানবী “এডাম ও ইভ”। কিন্তু মুসলিমরা বলছেন আদম (আ:) কেই “এডাম” বলছেন। আর হাওয়া (আ:) কে “ইভ” নামে তাঁরা  স্মরণ করছেন। এখানেই এই মানব জাতির তর্কের শেষ হবার নয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও বলছেন, প্রথম আদি সৃষ্টি মানব “মহর্ষি মনু” আর প্রথম মানবী হচ্ছে “শতরূপা”। তারাও বিশ্বাস করেন, এক পুরুষ আর এক নারীর মাধ্যমেই মানব জাতির সৃষ্টি। আসলেই কি হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ কিংবা মুসলমান দিয়েই এ আলোচনা শেষ করা সম্ভব। হয়তো বা সম্ভব নয়? মৌলিক চারটি ধর্ম দিয়ে আলোচনাকে দাঁড় করানোতে গিয়েই চলে আসছে আরো ধর্ম। তাঁদের ধর্মের মধ্যেও ছিল সংঘাত, ধর্ষণ, মৃত্যুর মতো অজস্র কাহিনী। সুতরাং বর্তমানের এই মানুষ কি পিছনের দিকেই ফিরে যাচ্ছে। একটু পরিস্কার আলোচনা না করলেই নয়, এই মানুষ সৃষ্টির রহস্য বা ধর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণ ভাবে না জানতেও এক সময় জেনে ছিলাম যে, শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ (দঃ)। আরো ধীরে ধীরে আরও জানা যায় যে, অন্যান্য ধর্মেরও প্রবর্তক আছে। খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক “যীশু খ্রিষ্ট বা ঈসা নবী”, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক “গৌতম বুদ্ধ”, তাঁর আগেও ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক “মুসা”। আবার হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক ছিল “ভগবান শ্রীকৃষ্ণ”। এই প্রবর্তকের হাত ধরেই ধর্মের শৃঙ্খলা বা মানুষ জীবন যাপনের পূর্ণ বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল। তখন ছিল অসভ্য বা বর্বর যুগ থেকে বাহির হয়ে সভ্য যুগে পদার্পণ করার জন্যেই মানুষের আপ্রাণ চেষ্টা। কিন্তু বর্তমানের মতো তখন তো কোনো শক্তিশালী আইনও ছিলো না। এই সকল প্রবর্তক ছাড়া তখন সেই রকম দুর্নীতিবাজ বা অন্যায়কারীর কোনো বড় গোষ্ঠী কিংবা কোনো বড় অসাধু নেতাও ছিলো না। ছিল শুধু মাত্রই ধর্মের প্রবর্তক আর তাদের কথাতেই নিজস্ব গোষ্ঠী বা সমাজে যথারীতি চলতো ঈশ্বর প্রদত্ত বা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত একমাত্র আইন। আস্তে আস্তেই এমন আইনের পাশা পাশিই তাদের গভীর সম্পর্কের মধ্যেই যেন সমগ্র পৃথিবীর মানুষজন ব্যক্তিগত ধন-সম্পদের চাহিদা বাড়াতে শুরু করে। উদ্ভব হওয়া বিভিন্ন ‘ফসল’ এই মানুষরাই চিহ্নিত করে এবং তা অরো বেশি ফলন ঘটিয়ে খারাপ চাহিদা পূরণ করতেও শুরু করেছিল। মানুষের চিন্তা চেতনার মাত্রা দিনে দিনেই যেন বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু আজকের এই মানুষ কেন এমন চিন্তা চেতনা থেকে দূরে সরে পড়ছে। শুধুই কি নিজের আমিত্ত্ব বা লোভ লালসাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। পৃথিবী জোড়া অনেক গুলো প্রচন্ড ক্ষমতাবান বা অতৃপ্ত এবং দ্বায়িত্ব জ্ঞানহীন ঈশ্বররূপী মানুষ নিজেরাই জানে না কী যে চায়, তাদের চাওয়ার শেষটাই কোথায়।
 
জানা যায় যে, এক সময় মানুষ বন্যপ্রাণীকে ব্যবহারে ফসল উৎপাদন ও তাদের খাওয়ার প্রক্রিয়া শিখে নিতো, পাশাপাশিও এই মানুষ জন হারাম হালাল কিংবা তাদেরকে কোনো কোনো ধর্মাবলম্বীরাও যেন নিজ পুজা অর্চনার ভিতরে প্রবেশ ঘটিয়ে আদর্শের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। তাদের মৃত্যুও চায় নি। কিন্তু এখন পাষন্ড পিতা কি করেই নিজের সন্তানকে পশুর মতো জবাই করছে। আসলেই ইতিহাসে যা হয়েছিল তাতো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশেই হয়েছিল। এমন পাষন্ড গুলোর কে নির্দেশ দাতা হয়। অতীতে এ মানুষের আচার-আচরণ নির্ধারিত হয়েছিল বিভিন্ন ধর্মীয় অবকাঠামোকে লালন করে। তাদের চিন্তা, আবেগ, ইচ্ছা এবং সামাজিক ও প্রাকৃতিক নিয়ম সম্পর্কে জ্ঞানের স্তরের দ্বারাই। মানুষের সঙ্গে প্রাণী জগতের বিভিন্ন সদস্যদের মূল পার্থক্যটা হলো, মানুষ প্রকৃতিকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে ছিল, যা অন্য যেকোনো প্রাণীরা তা পারেনি। মার্কসীয় মতে, মানুষের চেতনা, আধ্যাত্মিকতা এবং বিচিত্র ধরনের শ্রমের হাতিয়ার ব্যবহার এবং বন্যপ্রাণী ব্যবহার করার ক্ষমতা সবকিছুই হলো সামাজিক শ্রমের ফসল। যখন থেকে মানব সভ্যতার সূচনা, তখন থেকেই রয়েছে মানব ধর্ম। সেই ধর্ম আজকের মতো এত প্রাতিষ্ঠানিকও ছিল না। যা যুগে যুগেই যেন বিকশিত হয়েছে, রূপান্তরিত হয়েছে, পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত বা বিলুপ্ত হয়েছে। অনেক ভাঙ্গা গড়ার মধ্য দিয়েই যেন এসেছে বিভিন্ন ধর্ম ও মানুষ। আজও এই পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মানুষের জীবন যাপন বা তাদের পরলৌকিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
 
বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান ৪৩০০ ধর্মের বাইরেও একটি ধর্ম রয়েছে যার অনুসারী প্রধান ৪টি ধর্মের মতোই বলা যায়। সেটি হলো ধর্মনিরপেক্ষ বা নাস্তিক মানুষজন, যাদের সংখ্যা ১২০ কোটিরও বেশি। এর বাইরে বিভিন্ন ধর্মের আকার নির্ধারণ করা হয় সেই ধর্মের অনুসারী সংখ্যার বিবেচনায়। মানুষ সৃষ্টিগত ভাবে যেমন রঙ-চেহারায় আকার-আকৃতিতেও বিচিত্র, যেমনটি মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা, কাজ-কর্মে এবং ধর্মীয় মতাদর্শেও বিচিত্র। কারো কারো মধ্যে পাশবিকতার প্রাধান্য কারো মধ্যে মানবিকতার প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। এককথায় নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ, নির্দোষ মানুষ যেমন পাওয়া কঠিন তেমনি প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু সুন্দর বা ভালো দিক রয়েছে। আর তার হয়তো প্রয়োজনও রয়েছে। কারণ, ভালো না থাকলে মন্দ চেনা যেত না। অনুরূপ মন্দ না থাকলেও ভালোত্ব বুঝা যেত না। ভালো-মন্দ আছে বলেই আমরা একটিকে অন্যটিকে সাথে তুলনা করে নিজেকে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করি, পাশবিকতা পরিহার করে মানবিক বোধ অর্জনের চেষ্টা করি। কিন্তু সমাজে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের কাজই হলো পরচর্চা, পর নিন্দা, পর ছিদ্রোন্বেষণ করা, অন্যের দোষ-ক্রটি খুঁজে বের করা। তারা নিজেরা যেমন মন্দ চরিত্রের অধিকারী অন্যকে তেমনি মন্দ চরিত্রের মনে করাও তাদের কাজ। 
 
বর্তমান পৃথিবীতে মানব সভ্যতার জয়জয়কার ঘোষিত হলেও তার মাঝে অনেক দুর্নীতি নামক কীট বাসা বেঁধেছে। শট, অসৎ ও প্রচারমুখী মানুষ আজ নেতৃত্বের আসনে। এ ক্রান্তিকালে মহৎ ও মঙ্গলকামী মানুষেরা নির্বাক, জ্ঞান ও আলোকিত জনও যেন অন্ধ। মানব সভ্যতার ব্যাপক বিকাশ সাধিত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। ফ্যাসিবাদের উদ্ভবে মানসিক সম্পর্কের অবনতি এবং সততার  অভাব দেখা দিয়েছে। বিদগ্ধ মানুষকে এমন অবস্থা ভীষণ ভাবনায় ফেলেছে। মানুষ আজ তার নৈতিকতা ছুঁইয়ে লাজ-লজ্জারও মাথা খেয়েছে। যুদ্ধ-বিগ্রহ, ক্ষুধা, রোগশোকে একদিকে সাধারণ মানুষরাও কষ্ট পাচ্ছে অন্যদিকে নেতৃত্বাধীন কালো টাকাধারী নেতাদের ঘরে চলছে সুখের উৎসব। বিপন্ন মানুষকে যেন দেখেও দেখে না। মানুষের  হৃদয়ে নীতিবোধ ও মমতা যেন লোপ পেয়েছে। যাদের শরীরে চর্মচক্ষু কার্যকর তাদের মনের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। তাই তারা ভালোমন্দের ব্যবধান ভুলে গেছে। জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের আলোকরশ্মি তাদের অন্তরে প্রতিফলন হয় না। অথচ মূর্খ, অসৎ লোকেরাই পৃথিবীর পরিচালক। কিন্তু ইতিহাস বলছে প্রতিটা ধর্মের প্রবর্তক বা পরিচালক এমন ছিল না।  আজকের এই পরিচালক গুলো প্রকৃত সত্য ও সুন্দরকে জানে না, অন্তরে কোনো গভীরতা নেই, প্রতিনিয়ত মানবতাকে পদদলিত করতে কুন্ঠিত হয় না। 
 
তারা যেন সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যাওয়া এক একটি বর্রবর যুগের মানুষ। জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মানুষের কাছ থেকে কুটকৌশলে ক্ষমতা হরণ করে আধিপত্যবাদিরা নির্বিচারে অন্যায় অবিচার চালাচ্ছে, মানবাধিকারের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সত্যের অন্তরালে অন্যায়ের লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছে নিজ দেশসহ পৃৃৃথিবীর বুকে। এরাই বুুুুদ্ধিমান, বুদ্ধিজীবী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় মূর্খের মতো। সত্য, সুন্দর ও মঙ্গল বিষয়কে অন্ধকারের আড়ালে লুুকিয়ে রেখে মিথ্যাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। এমনতর মূর্খ এবং অসৎ লোকের পরামর্শ কিংবা নেতৃত্বে আজ পৃথিবী বিপন্ন। এরা পেশিশক্তির মাধ্যমেই নিজেদের জ্ঞানের প্রকাশ ঘটাতে চাচ্ছে। জাগতিক সকল সমস্যার সমাধান নিজের মতামতকেই যেন প্রাধান্য দিয়ে অন্ধকারময় এক পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এমন ধরার মধ্যে পড়ে না সেই মানুষের হৃদয় নিষ্কলুষ, দৃষ্টি তাদের প্রসারিত, তাদের সত্য ও ন্যায় লাঞ্ছিত ও অপমানিত। ফলে জ্ঞানীই নয়, শক্তিমানরাই আজকের সময়ে কোনো এক লোভ লালসায় অমানুষ হয়েই যেন নিজ থেকে দার্শনিকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।
লেখক:নজরুল ইসলাম তোফা, ‘টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক’। 

নজরুল ইসলাম তোফা: ধন সম্পদ গড়ে তুলতে দরকার হিসেবি মানসিকতা। যা ইনকাম করছেন বা কামাচ্ছেন তার সবটুকু খরচের চিন্তা না করে তাকেই ‘পরিবার তথা অর্থনৈতিক’ লক্ষ্য অর্জনে কাজে লাগানোর চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন। দেখা যায় বেশির ভাগ মানুষই প্রয়োজন মাফিক খরচ করে। আর বাকি অর্থ জমায়। টাকা পয়সা এবং ধন-সম্পদ এমনিতেই জমালে চলবেনা। উন্নতির একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতেই হবে। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সমস্যা হলেও হিসেবের জায়গাতে ক্ষতি মনে করা যাবে না। হিসাবে আপনি অভস্ত হয়ে উঠতে পারলে তাড়াতাড়ি উপার্জন করছেন, যদি আপনি অবসরের জন্যে এখনো সঞ্চয় করা শুরু করেননি।
এমনটা হলে অবশ্যই বোঝা যাবে আপনার সঞ্চয়ের কোনো সুযোগ নাই। আপনার যা জমানো অর্থ সব বেহিসাবী মতোই যেন খরচ করে ফেলছেন। এরজন্য যেখানেই কর্মরত এবং যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেখানে প্রোভিডেন্ট ফান্ডে সঞ্চয় করুন। সবচেয়ে ভালো হলো হিসাব করেই উপার্জন মাত্রই এমন কাজটি শুরু করুন।আসলে সেদিকে এ আলোচনা নয় কথা হলো যে বেহিসাবি মানুষ কারা কিংবা তাদেরকে চেতনার উপায় নির্ণয় করা উচিত।
দৈনন্দিন মানুষের জীবনের জন্যেই অত্যাবশ্যক চাহিদা পুরণেই যে মন ব্যস্ত তা হলো হিসেবি মন। এ জীবন পরিক্রমায় নিত্যদিনের হিসাব মেলাতে গিয়েই এ ধরনের মন মানসিকতা বাঁধা পড়ে যেন ছক বাঁধা বাধ্যবাধকতা মধ্যে। ফলে সেই জীবনে থাকে না স্বচ্ছন্দে বিচরণের স্বাধীনতা। আপনার নিজ সহজাত যৌক্তিক মনটাকে কাজে লাগান। দামি গেজেট না কিনে নিত্যদিনের কাজ চলতেই যা যা দরকার তা কেনা কিংবা ভাবার কথা চিন্তা করুন। এতে অর্থ সাশ্রয় হবে। আর কাজটি যেন আটকেও থাকবে না। অর্থ ব্যবস্থাপনাতে নিজের সিদ্ধান্ত মতো চলতে পারবেন। নিজস্ব যেকোনো  চিন্তা আদর্শের হলেই কৌশলগুলো খুব কার্যকর হয়। অপ্রয়োজনীয় কাজে অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বেহিসাবি মনে কখনোই চলবেন না।
জানা দরকার, বেহিসাবি মানুষরা বাধ্যবাধকতার গন্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চায় না। সে মানুষরা যেন স্বভাব- বৈশিষ্ট্য দেখলেই চেনাা যায় বা মোটা মুটি তারা একই রকমের আচরণের। এদের না থাকে স্বাধীনতা, না বুঝা যায় এদের বিচিত্র মন ও সেই মনের খেয়ালের স্বরূপ। আর সেই মানুষ হিসাবি মনের চেয়ে বেহিসাবি স্বভাব-বৈশিষ্ট্য একেবারেই হয় আলাদা। মানুুষের এ বেহিসাবিয়ানার মধ্যেই খোঁজে পাওয়া যায় দৈনন্দিন নেতিবাচক স্বভাব-বৈশিষ্ট্যকে। সংসারের ছক বাঁধা জীবনটা এদের আকর্ষণ করে না। এই মানুষদেরই কেউ বা কেউ একতারা হাতে পথে-প্রান্তরে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। সংসার-বিরাগী উদাসী বাউলও হয়ে যান। আবার কেউ নিজ অর্থ-সম্পদ উজাড় করে দেয় মানবকল্যাণে। এমন মানুষগুলো স্বভাবেই কৃপণ হয় না, আত্ম স্বার্থপর নন। আবার কেউ বা কেউ যদি নিছক বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেওয়া জন্য বাজে বাজে খরচে- ধন-সম্পদ উজাড় করে দেন তবে তাতে আবার প্রকাশ পায় উচ্ছৃঙ্খলতা।
সুতরাং দেখাও যায় সৌন্দর্য পিপাসু, সংস্কৃতিবান মানুষেরা অভাব-অনটনের মধ্যেই যেন বেহিসাবি খরচ করে দেশ ভ্রমণ করে, পুস্তক কেনায় কিংবা ভালো লাগা ছবি ও পুরাকীর্তি সংগ্রহের জন্যেও উপার্জিত অর্থ বেহিসাবি ভাবেই খরচে নষ্ট করে। বস্তুত বেহিসাবি খরচের মধ্যেই যেন এই মানুষের মানসিকতার পরিচয় স্পট হয়ে উঠে। ফুটে উঠে তার ব্যক্তিগত মানব প্রবণতা, তার ঝোঁক কিংবা তাদের স্বাতেন্ত্র্যর যথার্থ পরিচয়। সুতরাং- মানুষ অপব্যয় করে নিজ খেয়ালেই, কোনো বাঁধা ধরা নিয়মের অনুসারী হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় যার যা খরচের চেয়ে বাজে খরচেই মনোনিবেশ করে। এ স্বভাবের মানুষকে দেখলেই চেনা যায়।
বলতে চাই তা হলো এই, অনেক মানুষের মধ্যেই সঞ্চয়ের গুণটি নেই তা বলবো না। অবশ্যই দেখা যায় তারা সঞ্চয়ী। কিন্তু তারা আবার যেন হিসাব রাখেন না যে টাকা কোথা থেকে আসছে আবার কোথায় যাচ্ছে। লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হলে আপনার কী করতে হবে সে বিষয়ে প্রায়ই উদাসীনতা বহু জনের দেখা যায়। খরচের সঠিক হিসাব অনেক সময়ই থাকে না তাদের কাছে। আসলেই অর্থের আসা-যাওয়ার হিসাবটা স্পষ্ট থাকতে বেহিসাবি স্বভাবটা আস্তে আস্ত দূর হবে। নয়তো বেহিসাবি হয়ে যাবেন।
মানুষদের আয় বৃদ্ধি হলে, আবশ্যই সেই ধরনের বেহিসেবি মানুষের চিন্তা ধারারও পরিবর্তন হবে।এটি সবচেয়ে ভালো সমাধান। অর্থ সঞ্চয় বৃদ্ধির চেয়ে যেন আয় বৃদ্ধি ভালো সমাধান বয়ে আনে। আবার আয় বাড়লে সে মানুষের অর্থ ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়ে আসে। সঞ্চয়ও বাড়ে তাছাড়া জীবন যাপনও উন্নত হতে পারে। তাই- বেহিসাবি স্বভাব দূর করে যে অর্থ সঞ্চয় করবেন। সেটাকে কাজে লাগিয়েই নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করা অবশ্যই সম্ভব। তবে বিনিয়োগে সাবধান হতে হবে। বাজে খরচের দিকে মনোনিবেশ না করে সেই মনটাকে অবশ্যই হিসেবে মধ্যেই আনা প্রয়োজন।
লেখকঃ  নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

যারা খাদ্যে বিষ প্রয়োগ করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে তিলে তিলে মারছে আবার যারা নকল ঔষধ প্রস্তুত করে পয়জনিং-এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তারা উভয়ই হত্যাকারী।

শনিবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর চ্যারিটি মানব কল্যাণ সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ‘খাদ্যে ভেজাল ও নকল ঔষধ প্রস্তুতকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি’ নিয়ে করা মানববন্ধন কর্মসূচীতে এমন মন্তব্য করেন লেখক, গবেষক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মকসুদ বলেন, আজকে সমাজের খাদ্যে ভেজাল ও নকল ঔষধ প্রস্তুতকারীর সাথে যারা জড়িত তারা ফৌজধারী অপরাধে অভিযুক্ত। তাদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রদান করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের অপরাধ থেকে জাতির মুক্তি অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ খাদ্যে ভেজাল ও নকল ঔষধ প্রস্তুতকারী নিজের ব্যক্তিগত মুনাফা লাভের আশায় আজ পুরো মানবজাতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

মানববন্ধনে প্রধান বক্তা বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও নকল ঔষধ প্রস্তুতকারী ব্যক্তি দেশ ও জাতির শত্রু। তারা ব্যক্তিগত মুনাফার লোভে এই দেশের জনসাধারণকে পয়জনিং এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে হত্যায় লিপ্ত আছে। সরকারের উচিত হবে, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই ধরনের অপরাধের যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে-এটির মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অপরাধীর মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শুধু খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লক্ষ লোক ক্যান্সোরে, ডায়াবেটিসে ১ লক্ষ ৫০ হাজার, কিডনি রোগে ২ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা দেশে প্রায় ১৫ লক্ষ। কেমিক্যাল মিশ্রিত বা ভেজাল খাদ্যের কারণে পেট ব্যাথা, বমি হওয়া, মাথাঘোরা, বদ হজম, শরীরে ঘামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া-কমে যাওয়া, এলার্জী, অ্যাজমা, চর্মরোগ, ব্রেইনস্ট্রোক, কিডনি ফেলিউরসহ মানবদেহে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়।

মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন আজাদ।

সংগঠনের সভাপতি এম নূরুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য খায়রুজ্জামান কামাল, সিনিয়র সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম বিলু, বাকশালের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম কাঈয়ূম, আসক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহবুদ্দিন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজ মোল্লা, সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম পিন্টু, মোহাম্মদ ইলিয়াস, জাকির হোসেন, আকাশ খান, রশিদ ফলান প্রমুখ।

রাজধানী ঢাকার এফ আর টাওয়ারে আগুন,আটকা পড়েছে বহু মানুষ।বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এফআর টাওয়ারের ৯ তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন।

খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও ভবনের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা অবস্থান করছেন। ভবনের অধিকাংশ লোকই নিচে নেমে অবস্থান নিয়েছে।

তবে ভেতরে অনেকে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বহুতল ভবনটির পাইপ বেয়ে অনেককে নিচে নামার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।

ভবনটি বনানীর ১৭ নং সড়কে অবস্থিত। ভবনটিতে দ্যা ওয়েভ গ্রুপ, হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড ছাড়াও অর্ধশতাধিক অফিস রয়েছে।

এম ওসমান, বেনাপোল (যশোর) : যশোরের শার্শায় এনজিও’র প্রত্যারনার ফাঁদে পড়ে সর্ব শান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ। প্রতিনিয়িত এনজিও গুলো গ্রাহকদের সাথে প্রতারনা করে চলেছে। এসব নামী-বেনামী এনজিও গুলোর অতিদ্রুত লাগাম ধরতে না পারলে সর্বশান্ত হবে এ এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ। অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার পরেও এনজিও ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরিবার গুলোর উপর চালানো হচ্ছে অমানবিক অত্যাচার। তবে এ এলাকার এনজিও গুলো কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছে অনেকে! স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করার পিছনে ইন্দন দিচ্ছে ইউএনডিপিসহ দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থা। তার ধারবাহিকতায় যশোরের শার্শায় এনজিও গুলোর দুর্নীতির আখড়া পরিণত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এনজিও ব্যুরো নিয়ন্ত্রণ নেই।

গত কয়েক বছর থেকে সরকারের বিভিন্ন উপজেলায় এনজিও গুলোর উপর নজরদারীর নির্দেশ দিলেও বাদ পড়েছে যশোরের শার্শা। সরকারি ভাবে এনজিও গুলোর উপর তেমন কোন নজরদারী নেই। আর এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে এনজিও গুলো দুর্নীতির আখড়া পরিণত করেছে। মানব সেবার আর্দশ নিয়ে গঠিত হলেও বাস্তবে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে এসব এনজিও গুলো। এ কারনে দরিদ্র জনগোষ্ঠির ভাগ্য পরিবর্তন না হলেও এনজিও প্রতিষ্ঠাতাদের আর্থ-সামাজিক ও অবস্থান গত মর্যাদার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে যশোরের শার্শা এলাকায় সুনিদিষ্ট নীতিমালা প্রনয়নের বিষয়টি সরকারের নজরদারী না থাকার ফলে এনজিও গুলোর দুর্নীতি সীমাহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। এনজিও গুলোর স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়নি। এসব এনজিও রেজিস্ট্রশন হয় দ্য সোসাইটিজ রেজিস্ট্রশন আক্ট, ১৯৮০ এর অধিনে। এ আইনে স্বচ্ছতা, জবাবদিতিা নিশ্চিতকরণও দুর্নীতিরোধের কোন দিকনির্দেশনা নেই।
সুত্রে জানায়, আন্তর্জাতিক সাহায্যে সাহায্যেকারী এনজিও গুলো দ্যা ফরেন ডোনেশনস রেগুলেশন রুলস-১৯৭৮ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের ২০০১ সালের ২৯ মে জারিকৃত পরিপত্রের অনুয়ায়ী চলে আসছে। উক্ত আইনে নিবন্ধনের পর হতে পাচঁ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক বেসরকারি এনজিও কে নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করার বিধি নিষেধ রয়েছে। এবং আবেদনের সঙ্গে এনজিও’র পাঁচ বছরের কার্যক্রম, বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরিক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করার বিধান রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বছরের পর বছর যশোরের শার্শা এলাকার এনজিও গুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিং ও তদারকি হচ্ছে না। যার ফলে এনজিও গুলো নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে চলেছে। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অনিয়ম দুর্নীতি করে চলেছে। শার্শায় এনজিও ঋণের জালে জড়িয়ে সর্বসান্ত হচ্ছে এলাকার মানুষ। ভিটে মাটি বিক্রি করেও এনজিওর টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পথে বসেছে উপজেলার শত শত পরিবার।

অনেকে এনজিওগুলোর উপর্যুপরি চাপে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মানুষের দরিদ্রতাকে পুঁজি করে এ অঞ্চলে এনজিও সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বেশকিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমিতি সমাজসেবা থেকে নিবন্ধন নিয়ে রীতিমত প্রতারণায় নেমে পড়েছে। এরা পল্লী কর্ম সংস্থান ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে ৬ শতাংশ হারে সুদে অর্থ সংগ্রহ করে এনজিওর আদলে মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ২৫ থেকে ৪২ শতাংশ সুদ আদায় করছে।

ফলে এ অঞ্চলের মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধেই এনজিও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে দরিদ্র জনগণ ঋণ পরিশোধে নিজের সহায় সম্বল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে, আবার অনেকে ঋণ পরিশোধ করতে অন্য এনজিও থেকে নতুন ঋণ নিচ্ছে, আবার পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে এনজিও কর্মীদের অব্যাহত চাপের মুখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে কিস্তির টাকা যোগাড় করতে এখন সুদী মহাজনদের দারস্থ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এনজিও হলো অলাভজনক, অরাজনৈতিক, সেবামূলক সংস্থা। অথচ স্বল্প সংখ্যক এনজিও বাদে সব এনজিওই লাভজনক সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

ক্ষুদ্র ঋণের নামে এনজিও গুলো দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণজালে জড়িয়ে ফেলছে। বর্তমানে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে এনজিও গুলোর দৌরাত্ম্য কাবুলিওয়ালাদের দৌরাত্ম্যকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে শার্শায় ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, রুরাল রিকন্স্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আর,আর,এফ), জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, বন্ধু কল্যাণ ফাউন্ডেশন, নওয়াবেকী গণমুখী ফাউন্ডেশনসহ কয়েক ডজন এনজিও এবং সমিতি প্রতিষ্ঠান তাদের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ এনজিও ক্রম হ্রাসমান পদ্ধতির স্থলে সমন্তরাল পদ্ধতির মাধ্যমে ৪২ শতাংশ সুদ আদায় করছে আর নওয়াবেকী গণমুখী ফাউন্ডেশন সুদ আদায় করছে ৪৪ শতাংশ। এরা কোন নিয়মনীতির ধার ধারে না। এর মধ্যে কোন কোন এনজিওর মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম ছাড়া অন্য কোন প্রোগ্রাম নেই। কোন কোন এনজিওর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পশুপালন বিষয়ক প্রোগ্রাম থাকলেও তা নিতান্তই অপ্রতুল।

নিয়মানুযায়ী কোন এনজিওকে মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম চালু করতে হলে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটার অথরিটি আইন ২০০৬ এর সনদ প্রাপ্ত হতে হয়। অথচ বর্তমানে শার্শায় হাতেগোণা কিছু এনজিও ছাড়া অনেক এনজিওর মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি আইন ২০০৬ এর সনদ নেই। তারা স্থানীয়ভাবে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে সমিতি নিবন্ধন করে এনজিওর আদলে সুদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। ঋণ গ্রহীতা মোট ঋণের বিপরীতে যে পরিমাণ টাকা প্রথম কিস্তিতে পরিশোধ করছে সেই সম পরিমাণ টাকা শেষ কিস্তিতেও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে এনজিও গুলোর সর্বোচ্চ ৭% হারে সুদ নেয়ার বিধান থাকলেও এরা শতকরা ২৫ থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। আর এই হিসাব গ্রামের অশিক্ষিত, সহজ-সরল অনেক মানুষ জানে না।

ফলে শার্শায় ফ্রি-স্ট্রাইলে চলছে মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রাম। আর এনজিওগুলো সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজেরা রাতারাতি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার এনজিওর ঋণদান কর্মসূচি শুধু মহিলা কেন্দ্রীক। শুধু মহিলা সদস্যরাই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। ফলে এনজিও কর্মীরা কৌশলে এ সকল মহিলাদের কিস্তির টাকা ও সঞ্চয়ের টাকার হিসাবে গড়মিল সৃষ্টি করে ঠকানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ গ্রহীতাকে এনজিও কর্মীদের হাতে চরম লাঞ্চিত হতে হয়। এছাড়া একটি প্রতারকচক্র বিভিন্ন এনজিওর নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে গ্রামের এসব অশিক্ষিত, অসহায় মহিলা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে সাংবাদিক-শিশুসহ আহত অর্ধশত

বেনাপোল প্রতিনিধি:  যশোরের শার্শায় ব্যাপক হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপ। প্রতিদিন এসব বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ফলে রাস্তা ঘাটে মানুষ ভয়াভহ আতংকের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিন সরকারী ভাবে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন না থাকায় বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুর নিধন না করায় শুধু শার্শা উপজেলা নয় দেশ জুড়ে অলি-গলিতে বেওয়ারিশ কুকুরে ভরে গেছে।

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপে রাস্তা ঘাটে চলাচল করতে হিমসিম খাচ্ছে পথচারী সাধারণ সাধারন মানুষ। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই উপজেলায় সাংবাদিক ও শিশুসহ প্রায় অর্ধশত মানুষের কামড় দিয়েছে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর। এখন এক প্রকার কুকুর আতংকে বিরাজ করছে এই উপজেলার মানুষের মনে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য সেবালয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকার বাসিন্দা রফিক আহমেদ জানান, কুকুর নিধন করতে না পারলে এ বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা দিনে দিনে আরো বেড়ে যাবে।

কুকুরের কামরে আক্রান্ত হবে অনেকেই, আহতদের সংখ্যা দীর্ঘ হবে। তাই কুকুর নিধন করা খুবই দরকার। শার্শার আহসান হাবিব বলেন, তারা রাতে পায়ে হেটে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এতো পরিমানের কুকুর যে কে কোথা থেকে আক্রমন করে বোঝা যায় না। ওই এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে বলে তিনি জানান। এই উপজেলায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের আক্রমনের কথা শোনা যাচ্ছে।

এব্যাপারে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও এনামুল হক জানান, প্রতিদিন কুকুরে কামড়ানো আহত রোগী ভ্যাকসিনের জন্য আসছে। এর সংখ্যা এত বেশি হয়ে গেছে যে এ মুহুর্তে আমাদের ভ্যাকসিনও শেষ হয়ে গেছে। তবে স্থানীয় বিভিন্ন ফার্মেসী থেকে কুকুরে কামড়ানো রোগীরা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে শোক সভায় বক্তারা

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি সাংবাদিক অঙ্গনে কখনো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন নি। সাংবাদিকতা পেশায় একজন পরিচ্ছন্ন ও পরিপাঠি মানুষ ছিলেন। শক্তিমান লেখনীর মাধ্যমে তিনি জাগিয়ে তুলতেন এবং কুখ্যাত ব্যাক্তিদের শায়েস্থা করেছেন এমনও উদাহারন রয়েছে।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি আইন পেশায় বিনা পয়সায় অসহায়দের আইনী সহায়তা দিতেন। কোর্ট থেকে ফেরার সময় বাসায় খালি হাতে ফিরতেন। তিনি মানব কল্যাণকামী ও সদা হাস্যজ্বল মানুষ ছিলেন। গত শুক্রবার (১৩জুলাই) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে শোক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি ও দৈনিক সুনামকন্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়ে’র সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক মাহবুর রহমান পীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক সুনামগঞ্জ ডাক’র সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ।

শোকবার্তা পাঠ করেন প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও বাংলাভিশন প্রতিনিধি মাসুম হেলাল। শোকবার্তা পাঠ শেষে অতিথিবৃন্দ মরহুম আজিজুল ইসলাম চৌধুরী’র ছেলে ইহতেশাম মোহাম্মদ রাহিব ও ভাই শফিউল ইসলাম,কামরুল ইসলামের হাতে শোকবার্তা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, সিনিয়র আইনজীবী ও লেখক অ্যাডভোকেট হোসেন তৌফিক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী সাফি, সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জহুর আলী, সিনিয়র আইনজীবী ও লেখক বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির সিহাব, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি রওনক আহমেদ, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আবেদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা পত্রিকার সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সুনামগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক সেলিম আহমদ তালুকদার, দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী, আজিজুল ইসলাম চৌধুরী’র ছোট ভাই শফিউল ইসলাম চৌধুরী।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৩জুন,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, আমাদের মত সকল সুযোগ- সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে প্রতিবন্দ্বিদের। তারাও আমাদের মত মানুষ, তারা আমাদের ভাই বোন স্বজন অথবা নিকট আত্মীয়। আমাদের যেমন সমাজে অধিকার রয়েছে, তাদেরও রয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিবন্দ্বিদের সামাজিক, অর্থনেতিক, শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। যার সুফল ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে তারা। প্রতিটা উপজেলা তাদেও জন্য খোলা হচ্ছে প্রাথমিক বিধ্যালয় ও থেরাপি সেন্টার। দেশের জনগন জানেন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী কন্যা সাইমা ওয়াজেদ পুতুল অটিজমের পরে কাজ শুরু করেছেন। যা বিশ্ব দরবারে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শনিবার সকালে ১০নং শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে প্রতিবন্ধি¦দের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় ও থেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপজেলা প্রতিবন্দ্বি কল্যান সংস্থার সভাপতি আবু বক্করের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক অসিত কুমার শাহা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব প্রমুখ।

আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ সালেহ আহমেদ মিন্টু, অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, ১০নং শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন, শার্শা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক মোরাদ হোসেন, যুবলীগ নেতা আজাদ, আনার হোসেন, মুক্তার হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহিম সরদার, বাস্তহারা লীগ নেতা আবুল হোসেন, ইউপি সদস্য নাছিম রেজা, আব্দুল খালেক, মমিনুর রহমান, শিরিনা খাতুন প্রমুখ।

এর আগে প্রতিবন্ধি¦দের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় ও থেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৭মে,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:   নওগাঁর আত্রাইয়ে মাত্র ২০০ গজ রাস্তা পাকা করণের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। সামনে পাকা পশ্চাতে পাকা মাঝে মাত্র ২০০ গজ রাস্তা পাকা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে যারপর নাই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীসহ পথচারীদের।

আত্রাই-নাটোর ভায়া বাঁকিওলমা খাজুরা রাস্তাটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এ রাস্তাদিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন চলাচল করে থাকে। এ ছাড়াও সিএনজি, অটোচার্জার, রিক্সাভ্যানসহ ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে থাকে। নাটোরের নলডাঙ্গা ও নওগাঁর আত্রাই এ দুই থানা ও জেলার মধ্যে সেতুবন্ধনে আত্রাই নদীর উপর বাঁকিওলমাতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও এর সুফল থেকে বি ত রয়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, আত্রাই হতে নাটোরের সাথে রেলপথের বিকল্প হিসেবে এ একটি মাত্র সড়ক পথ ছাড়া আর কোন যোগাযোগের পথ নেই। এদিকে এ রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে বেশ কয়েক বছর আগে আত্রাই হতে বাঁকিওলমা পর্যন্ত পাকা করণ করা হয়। বাঁকিওলমাতে ব্রিজ নির্মাণের পর ২০০ গজ রাস্তা পাকা করে ব্রিজের সাথে যোগাযোগ করে দেয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছরেও এ রাস্তা পাকা করণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমক্ত হয়ে যায় রাস্তাটি। ফলে যানবাহনতো নয়ই পায়ে হেঁটে চলাও সম্ভব হয়না এ রাস্তা দিয়ে।

উপজেলার গোপালবাটী গ্রামের জালাল উদ্দিন বলেন, সামান্য একটু বৃস্টি হলে এরাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এমনকি আমরা এ রাস্তা দিয়ে কৃষি পণ্য নিয়ে যেতে পারিনা।

উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল মুমিন বলেন, বৃষ্টির পর মোটরসাইকেল নিয়ে নাটোর থেকে এ রাস্তা দিয়ে আত্রাই আসার সময় ব্রিজ পার হওয়ার পর চরম দুর্ভোগে পড়ে যাই আমি। আমার মোটরসাইকেলও চলে না, পায়েও হাঁটা যায় না। স্থানীয় কয়েকজন লোক সহযোগিতা করে কোন রকমে এ ২০০ গজ রাস্তা আমাকে পার করে দেয় তার পর আমি আত্রাইয়ে আসি। তারা সহযোগিতা না করলে মোটরসাইকেল রেখেই আমাকে চলে আসতে হতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সামান্য একটু রাস্তার জন্য হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে এটা হয় না। বৃহত্তর জনস্বার্থে দ্রুত অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা প্রয়োজন।

ইউপি চেয়ারম্যান আফছার আলী বলেন, আমিও জানি এখানে লোকজনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাটি পাকা করণের কাজ প্রথমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়র কর্তৃপক্ষ ও পরে এলজিইডি করেছে। তারা কেন এতটুকু কাজ অবশিষ্ট রেখেছে তা আমার বোধগম্য নয়। তবে অবশ্যই আমি দ্রুত কাজটুকু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬আগস্ট,ডেস্ক নিউজঃ দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি এখন পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রন্ত হয়েছেন প্রায় ৩২ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। অন্যদিকে বন্যা কবলিত ২১ জেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৭ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিবের চলতি দায়িত্বে থাকা মো. গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।

তবে গোলাম মোস্তফা ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর জানালেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত তিন দিনে বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানিতে ডুবে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গোলাম মোস্তফা জানান, প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য ১ হাজার ৫৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। এগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার।

তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে ৯ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ। আর ১৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম দাবী করেছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৬আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের কষ্ট বেড়েই চলেছে। নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যা কবলিত অনেক এলাকায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌছাতে না পারায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনাহারে থাকতে হচ্ছে অনেক বানভাসী মানুষকে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নওগাঁর আত্রাইয়ে গত কয়েকদিন থেকে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানি হুহু করে বেড়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদী এলাকার শত শত জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফলে হাজার হাজার জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অপরদিকে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পরিবার পরিজন ও গবাদী পশু নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। চারদিক জলাবদ্ধতার কারনে কোন কাজকর্ম করতে না পারায় চরম অভাবে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। এদিকে গত সোমবার উপজেলার মালিপকুর নামক স্থানে আত্রাই-সড়ক ভাঙ্গার সাথে সাথে সিংড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে রোগবালায় খাদ্য ও ঔষধ সঙ্কট।
ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী রানীনগর উপজেলার মাল ী ও ঘোষগ্রামের তিনটি স্থানে ভাঙ্গার ফলে নওগাঁ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রবলবেগে যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে শাহাগোলা ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। নওগাঁ-আত্রাই সড়ক ভাঙ্গনের কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন থাকায় সল্পকিছু সিএনজি, ভুটভুটি, চার্জার ভ্যান বিপরীত পথ শাহাগোলা হয়ে রানীনগর দিয়ে নওগাঁ জেলা শহরে চলাচল করলেও অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বলেও যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে বন্যার ফলে উপজেলার শাহাগোলা, কালিকাপুর, আহসানগঞ্জ, পাঁচুপুর, হাটকালুপাড়া ও মনিয়ারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের, ঘরবাড়ি, স্কুল, কলেজ, মন্দিও, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চলতি রোপা আমন ধান থৈ থৈ পানিতে ভাসছে। সাথে সাথে শতাধিক মাছ চাষির পকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার কয়েকটি স্কুল ডুবে যাওয়ায় ওই সকল স্কুলে লেখাপড়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এবিষয়ে ১নং শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আমাদের শাহাগোলা ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ইউনিয়নের উদনপৈয়, মিরাপুর, ফুলবাড়ি, পূর্বমিরাপুর, রসুলপুর, জাতোপাড়াসহ বেশ কয়েকটা গ্রামের মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিনি আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এক টন পরিমান ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছি তা সকলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তবে তিনি আরও বেশি করে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এব্যাপারে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রীঃ দিনেশ কুমার পাল বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। সেই সাথে বানভাসি পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ত্রাণ তৎপরতা সচল রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে আত্রাই কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত বন্যার পানিতে দ্রুত তলিয়ে গেছে আত্রাই উপজেলার প্রাই ২ হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেছি। বানভাসী মানুষদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে স্থায়ীভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আত্রাই উপজেলার বন্যার্ত বানভাসী মানুষের মাঝে যে পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন অসহায় বানভাসী মানুষেরা।

সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়না-আলহাজ্ব মতিউর রহমান

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪আগস্ট,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সরকার এদেশে বারবার ক্ষমতায় এসে দেশে হত্যা খুন রাহাজানীসহ পরিকল্পিত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসহ দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল। এচক্রটি শুধু জাতির জনককে স্বপরিবারে খুন করেই ক্ষান্ত থাকেনি। তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের গভীর ষড়যন্ত্র করছে।

কিন্ত বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আর কখনও স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়না। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব মতিউর রহমান আজ সোমবার দুপুরে জাতির জনকের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আয়োজক সংগঠনের জেলা সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলালের সভাপতিত্বে ও সদর থানা শাখার সভাপতি কাজী জসিম কামালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবুল কালাম,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাহান,বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান,মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়্যুম,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ছাদিয়া বখত সুরভী,সাংগঠনিক সম্পাদক আশকর আলী,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এম.ডি স্বপন মিয়া,সাধারন সম্পাদক ছিদ্দিক আহমদ,সদর উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি নেছার আহমদ শফিক,সুলতান মিয়া,দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতিনিধি জিতেন্দ্র দাস,মালারানী দাস,সুরমা ইউনিয়ন প্রতিনিধি আব্দুল মালেক,রঙ্গারচর ইউনিয়ন প্রতিনিধি সমুজ আলী,হাবিবুর রহমান হাবু,জালাল উদ্দিন,বাউল আব্দুল কাইয়্যুম,মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছমা খাতুন,সালমা জাহান,লায়লা নুর,মো: এনামুল হক,আব্দুল বারিক,জাহাঙ্গীর আলম,শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার ও মাফরোজা সিদ্দিকা বুশরাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯জুলাই,আশরাফ আলী:মৌলভীবাজার জুড়ে চলছে হাহাকার। বন্যা স্থায়ী রুপ নেওয়ায় দূর্গত এলাকায় বেড়েই চলেছে হাহাকার। বন্যাদূর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্যা ওদের পিছু নিয়েছে। বন্যায় সবকিছু গিলে খেয়েছে। ঘরে চাল, ভাত, পানি কিছুই নেই।  নেই জিনিষ  ছাড়া আছে জিনিষ বলতে কিছুই নেই। শুধুই নেই আর নেই। চারদিকে আছে শুধু হাহাকার। দফায় দফায় বন্যায় হাওর পারের মানুষগুলো নিঃস্ব।

মৌলভীবাজার জেলার হাওর পারের মানুষের করুণ চিত্র।  হাকালুকি হাওর পারের শাহপুর, সাদিপুর, মিরশংকর, মহেশঘরি, ভূকশিমুল, বেলাগাঁও, জাঙ্গিরাই, ইউসুফ নগর, নয়াগ্রাম ও বাছিরপুর  গ্রামের মানুষগুলো হয়ে পড়েছে নির্বিকার। বন্যা ওদের মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে। ওদের পিছু ছাড়ছে না বন্যা।

হাওর পারের মানুষদের সাথে কথা হলে অনেকেই তাদের দুর্ভোগের কথাগুলো তুলে ধরেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানালেন তাদের চরম অসহায়ত্বের কথা। বোরো ধান হারানোর পর থেকে এবছর কিভাবে একের পর এক বন্যায় তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। সব হারিয়ে কিভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ৩য় দফার এই বন্যা প্রায় মাস দিন। কিন্তু পানি কমার কোনো লক্ষণই নেই। উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বন্যা।

হাকালুকি হাওর পারের বাসিন্দারা জানান, দিনে পানি কিছু কমতে দেখা গেলে রাতের বৃষ্টিতে আবার যেই সেই। কিছু কিছু এলাকায় পানি কমলেও নিচু এলাকায় পানি আগের মতোই রয়েছে। আবহাওয়ার অবস্থাও বেশ ভালো নয়। এ অবস্থায় বন্যার কিছুটা উন্নতি হলে, বৃষ্টির কারণে আবারো অবনতি হচ্ছে। হাকালুকি হাওর পারের ৩ উপজেলার বন্যার পানি আগের মতোই রয়েছে।

জেলার কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার প্রায় ২৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রামের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, ঘরবাড়ি, মসজিদ-মন্দির পানির নিচে রয়েছে। প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বেলাগাঁও এলাকায় গেলে দেখা যায় রাস্তায় বুক পানি। এবং অনেক বাড়ি পানির নিচে রয়েছে।

ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের কষ্টের শেষ নেই। বন্যার কারণে যেমন তাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, তেমনি রান্নাঘর, টিউবওয়েল আর টয়লেটও পানিতে তলিয়ে গেছে। হাকালুকি হাওর পারের মানুষগুলো চৈত্রের ভয়াবহ অকাল বন্যার ধকল সামলে ওঠার আগেই পর পর বন্যা। এভাবে বন্যার কারণে তারা একের পর এক সব কিছুই হারিয়েছেন। আর এ বন্যায় তাদের শেষ আশ্রয়স্থল বাড়িঘরও পানিতে তলিয়ে গেছে।

এখন হাকালুকি হাওরের চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানি আর পানি। যাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেও ভালো নেই তারা। তাদের সঙ্গী হয়েছে নানা সমস্যা। হাওর পারের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কাজ না থাকায় নেই আয় রোজগারও। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে তারা এখন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। চরম অসহায় আবস্থায় পড়েছে হাওর পারের মানুষগুলো।

মানুষের মতো অসহায় ওই এলাকার গৃহপালিত পশুগুলোও। খাদ্য আর বাসস্থান হারিয়ে তারাও পড়েছে চরম সংকটে। খাদ্যহীন, গৃহহীন মানুষগুলোর দুর্ভোগ আর মানবেতর জীবনযাপন এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। বন্যায় অসহায় মানুষগুলো রাত পোহালেই ত্রাণের আশায় পথের পানে চেয়ে থাকেন জীবন বাঁচাতে ও পেটের দায়ে। কিন্তু তারা হতাশ। কারণ তারা দুর্দিনে পাচ্ছেন না আশানুরূপ সাহায্য। সরকারি তরফে যে সহযোগিতাগুলো আসছে তা যেমন পর্যাপ্ত নয়। তেমনি যে বরাদ্দগুলো আসছে তাও পুরোপুরি ভাবে পৌঁছাচ্ছে না তাদের হাতে।

এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে  জেলার হাকালুকি ও কাউয়াদিঘি হাওর পারের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর ও মৌলভীবাজার এই পাঁচটি উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি। কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়নে বন্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। বন্যার পানি কিছুটা কমলেও তা স্থির থাকছে না। প্রতিদিনই বৃষ্টি হওয়ায় তা আগের অবস্থায় চলে আসছে।

জানা যায়, জেলার ৩০টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক পরিবার। এছাড়া ২ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত থাকায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক শতাধিক মৎস্য খামার। বন্যায় মৌসুমি সবজি, আউশ ও রোপা আমনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সবাই আশা প্রকাশ করেন আবহাওয়া ভালো হলে, বৃষ্টি থামলে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc