Wednesday 21st of October 2020 10:32:11 AM

আগামী ১৬ জানুয়ারি সার্ক মানবাধিকার চট্টগ্রাম অঞ্চল শাখার অভিষেক অনুষ্ঠান, এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক আবেদ আলী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট কলামিস্ট,লেখক ডক্টর মাসুম চৌধুরী।অ

ওইদিন সন্ধ্যা ৬ টায় আগ্রাবাদ হোটেল চট্টগ্রামে কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে সকল সদস্যদের পরিচয় পত্র ও সনদ প্রদান করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 

সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: ‘‘মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুণ্যের অভিযাত্রা’’ এই শ্লোগান নিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ সময় র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) আশরাফুজ্জামান, শ্রীমঙ্গল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক, মাধ্যমিক শিক্ষা কমৃকর্তা দিলীপ কুমার বর্ধন, সদর ইউনেরর চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, কালিঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ ঘোয়ালা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুছাদ্দিক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো: আমজাদ হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।

এতে অংশগ্রহন করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, সাকসেস হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।

সোলেমান আহমেদ মানিক,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৮ টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার কার্যালয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি সরফরাজ আলী বাবুলের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মোসলেহ উদ্দীন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি, দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি আবু জাফর সালাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি আবুজার বাবলা, চা শ্রমিক নেতা পরিমল সিং বাড়ই, বিশিষ্ট সমাজ সেবক শামছুল ইসলাম রেনু,  দৈনিক করতোয়ার প্রতিনিধি আব্দুস শুকুর, দৈনিক আমার সংবাদ ও জয়যাত্রা টিভির শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সোলেমান আহমেদ মানিক, আনন্দ টিভি ও দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি তোফায়েল পাপ্পু, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শ্রীমঙ্গল শাখার কোষাধ্যক্ষ শাহ নেওয়াজ মোল্লা, অফিস সম্পাদক প্রণয় দেবসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন’র মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী

সম্প্রতি জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয় হতে আবরার হত্যাকান্ড নিয়ে প্রকাশিত বিবৃতির বিষয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক আবেদ আলী জানান, জাতিসংঘ ও যুক্তরাজ্যের এহেন মন্তব্যে বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা বিব্রত বোধ করছে এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

আবরার হত্যাকান্ড নিঃসন্দেহে একটি দুঃখজনক ঘটনা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উক্ত ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান আছে। তদুপরি বাংলাদেশের সরকার প্রধানও উক্ত বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত এবং দুঃখজনক হলেও এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের আভ্যন্তরিণ বিষয় যা নিয়ে জাতিসংঘ বা যুক্তরাজ্যের মন্তব্য প্রদান দুঃখজনক। একটি স্বাধীন দেশের আভ্যন্তরিণ বিষয়ে এহেন মন্তব্য কুটনৈতিক শিষ্ঠাচার বহিঃর্ভূত বলে মন্তব্য করেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব।

“জাতিসংঘ ও যুক্তরাজ্যের বিবৃতিতে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং ঐ ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্য হাই কমিশনের এক বার্তায় জানান যে বুয়েটে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তারা বিস্মিত ও মর্মাহত। যুক্তরাজ্য বাকস্বাধীনতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রসঙ্গে নিঃশর্তভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

তদন্তাধীন একটি বিষয় সম্মন্ধে “ব্যক্তিগত মত প্রকাশের কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে” বলে মন্তব্য করা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য না। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসন অন্য যে কোন সময়ের চাইতে উন্নততর অবস্থায় বিদ্যমান। বর্তমান সরকার জঙ্গী দমনের ন্যায় সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ও যুক্তরাজ্যে হাই কমিশনের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করেছে। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উক্ত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলো পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিশ্বাসের সাথে একযোগে কাজ করতে হবে:আফগান রাষ্টদূত

বাংলাদেশ আফগানিস্তানের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার পর থেকে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বীপাক্ষিক সম্পর্ক অনেক ভাল। বর্তমান সরকারের আমলে এ সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সামঞ্জস্যর সাথে সাথে ধর্মীয় মিলগুলো আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি। বর্তমান সরকারের আমলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে আছে। পাশাপাশি সাংষ্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধেরও উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থায় আছে এবং বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় এবং তৎপর। আগামী দশকে বিশে^ একটা বিপুল পরিবর্তন আসবে। আর এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলো পারষ্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিশ্বাসের সাথে একযোগে কাজ করতে হবে।

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন অধিকার বঞ্চিত মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংস্থাটি আ লিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আফগানিস্থান সহ সার্কভুক্ত সকল দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুধুমাত্র মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নেই নয়; সংষ্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতেও এই সংস্থাটির কার্যক্রম প্রশংসনীয়। আমি এই সংস্থা সম্পর্কে আফগানিস্থানের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবগত করেছি। অদ্য ১২ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রামস্থ ওয়েল পার্ক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাকায় নিযুক্ত আফগানিস্তানের মাননীয় রাষ্ট্রদূত আবদুল কাইউম মালিকজাদ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পি.পি.এড. ফখরুদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, বিচারহীনতার সংষ্কৃতির কারণে দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। অপরাধীরা গ্রেফতার পরবর্তী বিচারকার্যের দীর্ঘসুত্রতার কারণে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আইনের ফাঁকফোকড় গলে বের হয়ে আসে। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমাদের দাবি সম্প্রতি আবরার হত্যাকান্ড সহ তনু, নুসরাত, বিশ^জ¦ীতের হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটবে। উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন এম. জাফর উল্লাহ, মহানগর উপদেষ্টা আলহাজ¦ মোহাম্মদ ইকবাল, সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল হক শাহ্। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নোমান লিটন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আজাদ খান, বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি এস. এম. আজিজ, মহানগর সহ-সভাপতি আবেদ আলী ভুইয়া, মনোয়ারা বেগম হেনা, আসিফ মাহমুদ, সাদেক হোসেন পাপ্পু, সাইদুল আরেফিন, নিয়াজ আহমেদ খান, আবদুল হান্নান বাবু, নাজমুল কবির খোকন, যুগ্ম সম্পাদক নাজিম আক্তার আমিরি, আবু নাসের রনি, জিন্নাত আরা লিপি, সাংগঠনিক সম্পাদক, মোহাম্মদ সেলিম, রাশেদ উল্লাহ, রাজিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আরিফ রায়হান, আইন সম্পাদক এড. মেজবাহ উদ্দিন, সমাজ কল্যান সম্পাদক মোঃ মুসা খান, ধর্ম সম্পাদক শাহজাদা সৈয়দ গোলাম মোরশেদ, সংষ্কৃতি সম্পাদক শ্রাবণী দাশ গুপ্তা প্রমুখ।

“দেশী ও বিদেশী পর্যবেক্ষক ও বিশিষ্টজনদের অভিমত শীর্ষক বৈঠক আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৯”

বাংলাদেশের বৃহত্তম নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম এর পৃষ্ঠপোষকতায় ফোরামের অন্যতম সহযোগী সংস্থা “সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন” এর ব্যবস্থাপনায় আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে দেশী ও বিদেশী পর্যবেক্ষক ও বিশিষ্টজনদের অভিমত শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

উক্ত গোল টেবিল বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণকারী ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল হতে আগত বিদেশী পর্যবেক্ষকবৃন্দ সহ দেশের বিভিন্ন পেশার সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ ও পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৫জুন,লুৎফুর রহমান তোফায়েলঃ আমাদের দেশে বীভৎস আর পৈশাকি নির্যাতন-হত্যাকা- যেন দিনদিন বাড়ছেই। ঘটনাগুলোর কোনো কোনোটির স্থিরচিত্র, ভিডিও চিত্র কিংবা অডিও ক্লিপ প্রকাশ হওয়ায় নৃসংশতার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। এর মধ্যে সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য দু’তিনটি ঘটনা; শিশু রাজন হত্যার ভিডিও, এমসি কলেজে খাদিজার উপর বদরুলের রাম দা’র কুপ, শিশু রবিউলের পেট ফুলা মৃতদেহের ছবি আমরা দেখেছি এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রকাশিত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হত্যার অডিও ক্লিপ শুনেছি। অমানবিক এসব ঘটনাগুলো দেখতে দেখতে আমরা এতোটাই পাষাণ হয়ে গেছি যে, এসব মৃত্যু বা হত্যাকা- আমাদের মনে আর তেমন একটা নাড়া দেয় না। তবে একরামুলের অডিও ক্লিপটি আমাদের সেই পাষাণ দিলকেও নাড়িয়ে দিয়েছে প্রবলভাবে! ঘুম হারাম করে দিয়েছে কোটি জনতার। সামাজিক মাধ্যমে অডিও ক্লিপটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থেকে তা-ই বুঝা যায়।

“যাচ্ছি মা…” বলে নিজের শেষ পরিণতির দিকে দাবিত হচ্ছিলেন একরামুল। ফোনের অপরপ্রান্তে প্রিয় বাবাকে গুলি করার শব্দ শুনছে মেয়ে, প্রিয়তম স্বামীর বুক ঝাঝরা করা বুলেটের শব্দ শুনছেন স্ত্রী! সেসময় “আব্বু, তুমি কাদতেছো যে!”, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই” এরকম বুক ফাটা আর্তনাদ ছাড়া কিছু করার ছিল না তাদের। মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত। তাই বলে এতো বীভৎসভাবে, এতো নির্দয়ভাবে প্রিয়জনের মৃত্যুর সাক্ষী হতে হবে আমাদের! কেউ কখনও না ভাবলেও, না কামনা করলেও তা-ই ঘটেছে-ঘটছে। মানবতা-মানবাধিকারের প্রশ্ন এখানে কি অবান্তর?

রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও আমরা দেখেছি, কীভাবে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল তা দেখিনি। খাদিজার উপর নৃসংশ হামলার ভিডিও দেখেছি, কিন্তু ভাগ্যগুণে তিনি বেঁচে ফিরেছেন। রবিউলের বায়ু পথে গাড়ির পাম্পার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার ফুলা পেটে লাশের ছবি দেখেছি। নির্যাতনের চিত্র দেখিনি। কিন্তু একরামুলকে হত্যার পুরো প্রক্রিয়া আমরা কান দিয়ে শুনেছি।

গত ২৬ মে, শনিবার দিবাগত রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একরামুলের পরিবার দাবি করছে, একরামুল নির্দোষ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ডকরা অডিও প্রকাশ হওয়ার পর সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একরামুলের পরিবার বলছে, তাঁকে বাসা থেকে র‌্যাব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা ডেকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময়কার ফোনকলের এই অডিও সাংবাদিকদের শুনিয়েছে তার পরিবার । সেই অডিওতে শোনা যাচ্ছে যে, একরামুল নিহত হওয়ার ঘটনার সময় এবং তার আগমুহুর্তে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনে তিনবার কল এসেছিল। শেষ ফোন কলটি রিসিভ হলেও ঘটনাস্থল থেকে ফোনটিতে কেউ উত্তর দিচ্ছে না। যিনি ফোন করেছেন, প্রথমে তার কিছুটা কথা আছে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল বা সেই প্রান্ত থেকে একটা ভয়াবহ পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায় এই অডিওতে।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার আগমুহুর্তে তার দুই মেয়ে প্রথমে একরামুলের মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে অল্প সময় কথা বলেছিল। এই কথোপকথনে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় সাথে সাথে আয়শা বেগম নিজে ফোন করেন। তার ফোন কলটি রিসিভ করা হয়, কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো জবাব পাননি। তিনি গুলি এবং ঘটনাস্থলের সব শব্দ শুনতে পেয়েছেন। প্রথমে মেয়ের কল রিসভি করে একরামুল বলেছিলেন, “যাচ্ছি মা…“। কেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “জরুরি কাজে”। এসময় তার কণ্ঠ ভারি শুনে মেয়ে প্রশ্ন করে, “আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে!”। তখন একরামুলের স্ত্রী মোবাইল নিয়ে কথা বলতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে গুলির শব্দ আর গুঙ্গানির আওয়াজ শুনা যায়। তখন মা-মেয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই যে। আমার স্বামী নির্দোষ।”

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ৪ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই অভিযানে ১২৭ জন নিহত হয়েছেন। (বৈশাখী টিভি অনলাইন,  ৩১ মে ২০১৮)। তবে এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুরু থেকেই বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকা-গুলো নিয়ে প্রশ্ন ছিলো। আজও রয়ে গেছে। সচেতন সমাজ সবসময় এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদ ও এ ধরণের ঘটনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ একরাম হত্যার অডিও প্রকাশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের দশজন শীর্ষ বুদ্ধিজীবি। (বিবিসি বাংলা, ২ জুন ২০১৮)। তারা বলেছেন, এই অভিযানে প্রতিদিন অনেক মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। যা পুলিশ বন্দুক যুদ্ধে নিহত বলে বর্ণনা করছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যাবস্থায় এমন মৃত্যু কখনই গ্রহনযোগ্য নয়। সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেয়া যায় না।

রাজন, খাদিজা বা রবিউলদের হত্যা-নির্যাতনকারী ছিলো সাধারণ মানুষ। তাদের ঘটনাগুলো প্রকাশের প্রতিবাদ-ক্ষোভ আর সমালোচানার ঝড় উঠেছিল দেশে-বিদেশে। সব ঘটনায়ই অভিযুক্তরা বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। যদিও সব ঘটনার বিচার এখনও শেষ হয়নি। এবার একরামুলের ঘটনায় অভিযোগ খোদ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। তাই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ঘটনাটি দেশের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। মাবাধিকারকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মাদকদ্রব্যগুলো মানুষের জীবন বিধ্বংসী বস্তু। আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রতিবন্ধকও এটি। তাই এটাকে নির্মুল করার বিকল্প নেই। সকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চলমান অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা এই অভিযানকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করবে না এর সাফল্যকেও ম্লান করে দিতে পারে। তাই সরকারের উচিৎ, মাদকের সাথে জড়িত সকল শ্রেণির লোকদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা।লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০ডিসেম্বর,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তাহিরপুর উপজেলায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে। বুধবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আয়োজনে তাহিরপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন,জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষনিক সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,সিলেট জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মতিউর রহমান,সুনামগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ ইমরান হোসেন,উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যার ফেরদৌস আলম আখঞ্জি,তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব,সহকারী পুলিশ সুপার তাহিরপুর সার্কেল কানন কুমার দেবনাথ,থানা অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর,ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন,হাজী খসরুল আলম,সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমাকান্ত দেবনাথ,প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম,সাংবাদিক বাবরুল হাসান বাবলু,অধ্যক্ষ জুনাব আলী,উন্নয়ন কর্মী চন্দ্র শেখর দাস প্রমূখ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১০ডিসেম্বরঃ  নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজী খুলনায় অবস্থিত আমেরিকান কর্ণার খুলনার উদ্যোগে “সবাই মিলে এগিয়ে চলি নারী নির্যাতন বন্ধ করি” এই প্রতিপাদ্য নিয়েআন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আজ বিকেলে নগরীর হাদিস পার্কে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মো: আমিন উল আহসান জেলা প্রশাসক খুলনা
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব এ.এইচ.এম.মনজুর মোরশেদ, রেজিস্ট্রার নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি খুলনা, জনাব মো. রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এনইউবিটি খুলনা,সরদার শাকিল আহমেদ,বিভাগীয় প্রধান আর্কিটেকচার বিভাগ এনইউবিটি খুলনা ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন,আমেরিকান কর্ণার খুলনার কো-অডিনেটর ফারজানা রহমানসহ কর্ণারের অনন্য কর্মকর্তাগন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো বেসরকারী সংস্থা রুপান্তর।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৯ডিসেম্বর,জাহাঙ্গীর হোসাইন চৌধুরীঃ   মানবাধিকার শব্দটিকে ভাঙ্গলে দু’টি শব্দ পাওয়া যাবে, একটি মানব ও অন্যটি অধিকার। মানবাধিকার শব্দের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে মানুষের অধিকারকে। মানবাধিকার মানুষ হিসাবে তার মৌলিক অধিকার গুলোকে বুঝায়, সহজ ভাষায় মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের সহজাত অধিকার যা যে কোন মানব সন্তান জন্মলাভের সাথে সাথে অর্জন করে। মূলত যে অধিকার মানুষের জীবনধারণের জন্য, মানুষের যাবতীয় বিকাশের জন্য ও সর্বোপরি মানুষের অন্তরনিহিত প্রতিভা বিকাশের জন্য আবশ্যক তাকে সাধারণ ভাবে মানবাধিকার বলা হয়। জীবনধারণ ও বেঁচে থাকার অধিকার এবং মতামত প্রকাশের অধিকার, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে মানবাধিকার বলতে পারি।

জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত বিশ্বশান্তি প্রতিষ্টা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০টি ধারা সংবলিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ঘোষণাপত্র অনুমোদন করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস পুরানো, যুগে যুগে লঙ্ঘিত হয়েছে মানবাধিকার, তবে ১৯১৪ সাল হতে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলতে থাকে যেখানে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নিহত হয়। এরপর ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয় যেখানে প্রায় ছয় থেকে আট কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। তখন থেকে মানবাধিকার প্রতিষ্টার জন্য সারা বিশ্বের মানুষ নতুন করে চিন্তা ভাবনা শুরু করল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় থেকে মিত্রশক্তি মানবাধিকারের কথা চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। ১৯৪১ সালের ১৪ই আগষ্ট আটলান্টিক চার্টার ও ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘের গৃহীত ঘোষণায় এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। ১৯৪৫ সালে সান-ফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে মানবাধিকারের ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট নীতিমালা ছিল না, যদিও একটি মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্জাতিক অধিকারসমূহের বিল প্রণয়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি হতে এর কাজ শুরু হয়। অতঃপর ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৩৮টি দেশের সম্মতিতে সর্বপ্রথম মানবাধিকার সনদ প্রণয়ন করা হয়। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৫০ সালে সাধারণ পরিষদের ৩১৭তম প্লেনারি সভায় ৪৩২ (ভি) প্রস্তাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বছর ১০ই ডিসেম্বর যথাযথ মর্যাদায় বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনসমূহ সহ অনেক সামাজিক সংগঠন।
মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। নাগরিক জীবনের বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না, পারবে না। মানুষ জন্মগত ভাবেই স্বাধীন। ফরাসী দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাঁক রশো বলেছেন, প্রতিটি মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে। ব্যক্তি সমাজ জীবনে যে সকল সুযোগ সুবিধার দাবিদার হয় এবং যে সকল সুযোগ সুবিধা ছাড়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা বিকাশিত হয় না, তাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানুষ জন্মগত ভাবেই এ মর্যাদার অধিকারী।
বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার বিযয়টি সর্বাধিক আলোচিত। জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয়েছে, মানবাধিকার ভোগের বেলায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব যে ধরণের নাগরিকই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক মতার্দশ ও পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, সে যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে কোন তারতম্য বা পার্থক্য করা হবে না। প্রতিটি রাষ্ট্রের নাগরিক যাতে অধিকার ও স্বাধীনতা সমমর্যাদার সাথে ভোগ করতে পারে তার জন্যেই জাতিসংঘ মানবাধিকারের ঘোষণা করে।
মানবাধিকার সনদে এসব ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও আজ বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মিয়ানমারে বছরের পর বছর রোহিঙ্গা মুসলমারদের উপর অবর্ণনীয়ন নির্যাতন চলছে। রোহিঙ্গারা আজ তাদের আদি নিবাসে বহিরাগত। মানবাধিকার সনদে ১৫ অনুচ্ছেদে বর্নিত জাতীয়তা সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দেশটির সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব পুর্নবহাল করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির সরকার। কয়েক লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হাজার হাজার রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশে পালিয়ে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আবার অনেকেই দেশটির সামরিক জান্তার হাত হতে হয়েছে চরম নির্যাতনের শিকার। ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনিরা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রে উদ্বাস্তু হিসাবে বসবাস করছে। আর যারা ভুমি কামড়ে পড়ে আছে তারা ইসরাইলি বর্বরতার শিকার হয়ে সর্বদা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বসবাস করছে।
অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও অসংখ্য মানুষ মানবাধিকার ভোগ করতে পারছে না, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। একটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার দিকে নজর রাখলেই চলে। খুন, গুম, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, লুটপাট, দুর্নীতি, দলীয়করণ, বাল্য বিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন, বাড়ি ও ধর্মীয় উপাসনালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ও ভাংচুরের মতো ঘটনার খবর মিডিয়াগুলোতে প্রতিদিনই আসছে। বিনা বিচারে সাজা ভোগ করছে অসংখ্য মানুষ, নিরপরাধ মানুষেরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের হাতে নিরীহ মানুষেরা যেমন নির্যাতিত হচ্ছে নিপীড়িত হচ্ছে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে তেমনি সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কিংবা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হাতেও নিরীহ মানুষ প্রাণ দিচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। এর কোন বিচারও তারা পাচ্ছে না। আশ্রয়হীন অসংখ্য মানুষ অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা সহ জীবনধারণের অন্যান্য মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আইনের অপব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিরীহ জনসাধারণকে নির্যাতন ও হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। বাক স্বাধীনতা হরণ, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন ও হয়রানির মতো ঘটনা সহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য দায়িত্ব সর্বোপরি মানবতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হচ্ছে মানবাধিকার ঘোষণার মূল মন্ত্র। আমাদের দেশের সংবিধানেও মানবাধিকার সংরক্ষণের কথা থাকলেও মানুষ প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বিশ্বে যে সকল দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, আর্ন্তজাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন গুলো।

বাংলাদেশে নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় আইন রয়েছে, রয়েছে মানবাধিকার কমিশনও। কিন্তু আইনের যথাযথ ব্যবহার, মানবাধিকার কমিশনের উদাসহীনতার কারণে নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষা হচ্ছে না। মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, কারণ আইন প্রয়োগের ভিত্তিটা যদি সুদৃঢ় হয় তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনেকটা হ্রাস পাবে। মনে রাখতে হবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যদি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন না করে তাহলে মানবাধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়ন হবে না, কারণ মানবাধিকার আইন দ্বারা রক্ষিত হয়। মানবাধিকার রক্ষায় জনসাধারণের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, তাই মানবাধিকার সর্ম্পকে জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে হবে, মানবাধিকারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সর্ম্পকে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে দেশের অভ্যন্তরে গড়ে উঠা মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে আরও তৎপর হতে হবে, আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। মানবাধিকার সর্ম্পকে সৃষ্ট জনসচেতনতাই সরকারকে বাধ্য করবে মানবাধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়ন করতে। আমাদের মনে রাখা উচিৎ ব্যক্তি হিসাবে প্রতিটি মানুষ তার মানব অস্তিত্বের ভিত্তিতে নিশ্চিত ভাবে মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান হলো মানুষের মৌলিক অধিকার এ অধিকারগুলি নিশ্চিত, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন বাস্তবায়ন এবং মানুষের জান-মালের সুরক্ষা করতে পারলেই নিশ্চিত হবে মানবাধিকার। পৃথিবীর সকল দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হোক, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ তার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকুক, এটাই আজকের বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে আমাদের প্রত্যাশা।লেখকঃ সাহিত্য সম্পাদক, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্ট অব বাংলাদেশ, সিলেট বিভাগ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২সেপ্টেম্বরঃ জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী বিশ্বের সকল দেশের তথা ভারত উপমহাদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও আইনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত এক কনভেনশনে এই সংস্থার আত্মপ্রকাশ।যার রেজিস্ট্রেশন ১৯০৩০০৭১২।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকাস্থ শিশু কল্যাণ সেমিনার কক্ষে এক বিভাগীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এ কমিশনের বাংলাদেশ চ্যাপটারের ঢাকা বিভাগীয় কমিটি ঘোষনা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে মোঃ আব্দুল মোন্নাফ মিয়াকে সভাপতি ও মোঃ এনামুল কবীর লিঠু সাধারণ সম্পাদক, মো: মনিরুজ্জামান মনির পাঠানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট ২০১৭-২০১৯ মেয়াদে এ কমিটি ঘোষনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের বাংলাদেশ চ্যাপটারের কার্যকরী সভাপতি এটিএম মমতাজুল করিম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চ্যাপটারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড: আব্দুস সালাম মোল্লা, বাংলাদেশ চ্যাপটারের সাংগঠিন সম্পাদক খন্দকার শাহিন প্রমূখ।

নবগঠিত সভাপতি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ভাবে যে ভূমিকা রেখে চলছেন তা খুবই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ সরকারের পজিটিভ দিকগুলো জনগণের নিকট প্রচারের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষা ও প্রতিষ্ঠা করার ভূমিকা রাখার বিষয়ে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

এসময় কেন্দ্রীয় বক্তরা বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশে সাহায্যের ব্যাপারে কমিশনের সকল সদস্যদের এগিয়ে আসতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন আইনের শাসন ও সবস্তরের শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে নিবেদিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সংগঠনের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সভাপতি হয়েছেন সাবেক মহানগর সভাপতি এডভোকেট আবুল হাশেম, নির্বাহী সভাপতি গোলাম ফারুক মামুন, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ফেরদৌস খান আলমগীর।প্রেস বার্তা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,ফেব্রুয়ারী,ডেস্ক নিউজঃ  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আমেরিকাকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, এ পরিষদ ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতপূর্ণ। মার্কিন গণমাধ্যম ‘পলিটিকো’ এ খবর দিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্র্রী রেক্স টিলারসন ও জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন নতুন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি। আলোচনার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় অনুরোধ আসছে যাতে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে থাকার মূল্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে টিলারসন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সারা বিশ্বে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর জন্য এ পরিষদ কাজ করে যার সদস্য সংখ্যা ৪৭টি দেশ।পার্সটুডে

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc