Saturday 24th of October 2020 03:17:52 AM

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জের সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সাঈদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাঈদ বলেন, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পেয়েছি। আজ তা প্রস্তুত করে মৃত্যু পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি।

ট্রাইব্যুনালের লাইব্রেরিয়ান তাপস রায় ও ডেসপাস শাখার রাসেল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর এ পরোয়ানা পাঠান। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ১৪ জানুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সৈয়দ কায়সারকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, চারটিতে যাবজ্জীবন ও তিনটিতে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সৈয়দ কায়সার। পরে আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিনটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। এছাড়া চারটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বায়ে অভিযুক্ত মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।

আসামিদের মধ্যে আকমল আলী তালুকদার (৭৩) ছাড়া বাকি তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন- একই উপজেলার আব্দুন নূর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া, আনিছ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়া। রায় ঘোষণার সময় আকমল আলী তালুকদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর শেখ মুশফিক কবীর জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ৫৯ জনকে হত্যা, ছয়জনকে ধর্ষণ, ৮১টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৩ সাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাদের মধ্যে তিনজন ধর্ষণের শিকার বলে জানা গেছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২সেপ্টেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ  আন্তর্জাতিক গণআদালতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং দেশটির সেনাপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত আট সদস্যের বিচারক প্যানেলে এ রায় দেন।

আর এ রায়ের মধ্য দিয়ে গণআদালতে সুচিই প্রথম কোনো নোবেলজয়ী, যিনি ব্যতিক্রমী এ আদালতে বিচারের সম্মুখীন ও দোষী সাব্যস্ত হলেন।

১৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল (পিপিটি) নামে ওই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুনানিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল অংশ নেয়।

গণআদালতের এ রায় জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হবে।

শুনানিতে রোহিঙ্গা ও কাচিন সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অপরাধের বর্ণনা দেন।

আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোসাইড স্ট্যাডিজ অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটনও জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, অন্যান্য বৌদ্ধ মিলিশিয়া এবং দেশটির বর্তমান বেসামরিক সরকার অভিযুক্ত।

রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা মিয়ানমারের সর্বস্তরে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার।

শুনানিতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকও অংশ নেন।

ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারে মুসলিম নিপীড়ন বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমাপনী বক্তব্য শেষে বিবাদী পক্ষ বক্তব্য রাখেন। আর বৃহস্পতিবার দিনভর বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা তাদের বক্তব্য পেশ করেন।

পিপিটি মালয়েশীয় শাখার সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি চন্দ্র মোজাফফর বলেছেন, পাঁচ দিনের অধিবেশনে বিচারকরা প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক, বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের মতামত, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি বিচার বিশ্লেষণ করে এ রায় দেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১১এপ্রিল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৭১’সালে পাক হানাদার বাহিনীর সহায়তায় একাধিক মুক্তিযোদ্ধা সহ অন্তত ২০ নিরীহ স্বাধীনতাকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা,ধর্ষন, অপহরন ও বাড়ী-ঘরে অগ্নিসংযোগ সহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হবিগঞ্জের রাজাকার শিরোমনি আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে গ্রেফতার করেছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নাজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টের মুলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জেলার নবীগঞ্জস্থ নিজ বাড়ী থেকে গোলাপকে নিয়ে আসে পুলিশ। ৭১’সালে সুন্দরী রমনীদের জোর পূর্বক উঠিয়ে পাকি সেনা ক্যাম্পে সরবরাহকারী হিসেবে সংশ্লিস্ট এলাকায় পরিচিত এই গোলাপের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন জনৈক গেদু মিয়া।
কিন্তু তারপরপরই এই মামলার বাদী আকস্মিক বাস চাপায় নিহত হন।
পরবর্তীতে গোলাপের বিরুদ্ধে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার নিকট জনৈক সুককরী বেগম সহ আরও ২/১ জন একাধিক অভিযোগ দাখিল করেন। mail.google.com এরই প্রেক্ষিতে সংশ্লিস্ট ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আইজিপি আব্দুল হান্নান খান পিপিএমএ’র নির্দেশে গোলাপের অপর্কমের সন্ধানে মাঠে নামেন এএসপি নুর হোসেনের নেতৃত্বে ওই টীম।

উল্লেখ্য, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল খায়ের গোলাপ নৌকা প্রতীক পেয়ে আওয়ামীলীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হন। তবে তার বিরুদ্ধে ৭১’সালে ওই ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এমন একটি সংবাদ প্রকাশ হলে কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষনিক তার মনোনয়ন বাতিল হয়।

তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে গোলাপ আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে ওই নির্বাচন করলেও আওয়ামীলীগ সমর্থিত নতুন প্রার্থী ইমদাদুর রহমান মুকুলের কাছে তিনি ধরাশায়ী হন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc