Friday 23rd of October 2020 11:35:42 AM

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১০এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ   ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহুলালোচিত তিস্তা চুক্তিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকল্প যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা নাকচ হয়ে গেছে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় যৌথ বিবৃতিতে মমতার দেয়া তোর্সা ফরমুলার কোনো উল্লেখই নেই। বরং তিস্তা চুক্তির দ্রুত রূপায়নে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের কথা বলছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

রোববার সন্ধ্যায় ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতির একাংশে বলা হয়েছে, ‘২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে দুই সরকারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি সই করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ করেছেন। মোদি জানিয়েছেন, ওই চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তার সরকার সংশ্লিষ্ট মহলগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন।’

ওই বিবৃতিতে প্রকাশ, ‘ফেনি, মানু, ধরলাসহ ৭টি নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি সইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে দুই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গুমটি, ধরলা ও দুধকুমারের পানি ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এর আগে বলেছিলেন, ‘আপনার তো পানি দরকার। তোর্সা ও আরও যে দু’টি নদী উত্তরবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে গেছে, তার পানির ভাগ ঠিক করতে দু’দেশ কমিটি গড়ুক। শুকনো তিস্তার জল দেয়াটা সত্যিই সমস্যার।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, মমতার দেয়া বিকল্প প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

মমতার প্রস্তাবে যে কেন্দ্রীয় সরকার অখুশি তা আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় এক মন্ত্রী। তার মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালীন সময়ে এরকমভাবে একটি বিকল্প প্রস্তাব গণমাধ্যমে প্রকাশ করা কূটনীতির পরিপন্থি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেছেন,  ‘তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন বিবৃতি দিয়েছেন, ঠিক সেই সময়ে প্রকাশ্যে এই নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তিন বার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাজ্য সরকারকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা নিয়ে যে এগোবে না, তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ওই বিবৃতি দেয়ার সময় বাছাটা ঠিক হয়নি। এর ফলে বাংলাদেশকে যে বড় হারে সহায়তা দেয়া হয়েছে, তা চাপা পড়ে গেল।’

সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর মন্তব্য, ‘এতদিন পর্যন্ত তিস্তার কথা শুনছিলাম, এখন মুখ্যমন্ত্রী তোর্সা এবং আরও কিছু নদীর কথা বলছেন। খাল, বিলকে নদী বলা যায় না! প্রধানমন্ত্রী বলছেন তিনি তিস্তা চুক্তি করবেন, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আমাকে ছাড়া হবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কোনো দর কষাকষির চেষ্টা করছেন বলেও অধীর চৌধুরী মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার তোর্সা প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কারণ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে  আনুষ্ঠানিকভাবে ওই প্রস্তাব আসেনি। বরং এটিকে মমতার ব্যক্তিগত মত বলেই মনে করছেন তারা।

তাছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং মতামতকেই দ্বিপক্ষীয় অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আগেই অবশ্য দৃঢ়তার সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনাকে হয়তো এ যাত্রায় মোদির দৃঢ় আশ্বাসকে সম্বল করেই দেশে ফিরতে হতে পারে।ইরনা

 

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,এপ্রিল,ডেস্ক নিউজঃ  ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অমীমাংসিত তিস্তা সমস্যার সমাধানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছে।

মিজ ব্যানার্জির প্রস্তাব হল, তোর্সা বা ধরলার মতো উত্তরবঙ্গের অন্য নদীগুলো থেকে বাড়তি জল এনে তিস্তার প্রবাহ বাড়ানো যেতে পারে – কিন্তু তার জন্য যে খাল কাটতে হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মধ্যে আশঙ্কা আছে।

তা ছাড়া পদ্ধতিটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ, কাজেই এটাকে অনেকে চুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

আর বাংলাদেশ মনে করছে, জল বাড়ানোটা পরের কথা – কিন্তু যা জল আছে সেটার অর্ধেক ভাগ হওয়াটা আগে জরুরি।

মমতা ব্যানার্জির কৌশল ?

শনিবার মাঝরাতে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে নৈশভোজ সেরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরোনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, তিস্তার জল ভাগাভাগিতে তার আপত্তি নেই, যদি ওই অঞ্চলের আরও কয়েকটি নদীর জল তিস্তায় এনে জলের পরিমাণ বাড়ানো যায়।

তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে তো জল দিতেই চাই। এখানে আমি দুই সরকারকেই (ভারত ও বাংলাদেশ) একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। আর সেটা হল, আমাদের কয়েকটা ছোট ছোট নদী আছে, যেগুলো আগে কখনও তেমন নার্চার করাই হয়নি। এই নদীগুলোর বাংলাদেশ সংযোগও আছে। এখন যদি আমরা দুই দেশ মিলে ওই নদীগুলো স্টাডি করে ভায়াবিলিটি দেখতে পাই, তাহলে কিন্তু আমরা কিছুটা ভাগাভাগি করতেই পারি”।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “তিস্তায় সমস্যা আছে সবাই জানেন। পানীয় জলের অভাব, কৃষকদের জলে টান- কিন্তু এই যে তিন-চারটে ছোট নদী, যেমন তোর্সা, মানসাই বা ধরলাকে কাজে লাগাতে পারলে হয়তো একটা সমাধান বেরোতে পারে। আর এই নদীগুলোও কিন্তু বাংলাদেশে গিয়েই মিশছে” ।

মুখে বলা যতটা সহজ, কাজে করা ততটাই কঠিন

এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে, তোর্সা বা ধরলার মতো নদীগুলো থেকে খাল কেটে বাড়তি জল তিস্তার দিকে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেটা মুখে বলা যতটা সহজ, কাজে করা ততটাই কঠিন- এমনটাই মনে করেন নদী-বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদ কল্যাণ রুদ্র। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে তিস্তা রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন তিনিই।

ড: রুদ্রর কথায়, “ডুয়ার্সের গহীন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এই খাল কাটতে হবে, আর তাতে পরিবেশ ও ইকোলজির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেই আমার অনুমান। আর তা ছাড়া বর্ষায় এই নদীগুলো সব ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে – তাই সে সময় এই পশ্চিমমুখী খাল চালু রাখতে গেলে ভায়াডাক্ট বা অ্যাকোয়াডাক্টও তৈরি করতে হবে।”

“ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রযুক্তির দিক থেকে হয়তো এই ধরনের খাল কাটা সম্ভব, কিন্তু কাজটা খুব কঠিন। সার্বিক ইকো-হাইড্রোলজির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে, এবং এর প্রভাব কী হবে সেটা সমীক্ষা না-করে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না বলেই আমি মনে করি।”

পরিবেশগত ছাড়পত্র যদি বা মেলেও, প্রকল্পটা শেষ করতেই আসলে অনেকটা সময় লাগবে, বলছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিদ্যার অধ্যাপক সুবীর সরকার।

এই অধ্যাপক বলছিলেন, “সময় কত লাগবে তা নির্ভর করছে অর্থায়নের ওপর, সরকারের ইচ্ছা কতটা জোরালো তার ওপর। খুব তাড়াতাড়িও যদি করা হয়, তার পরেও এই প্রকল্প শেষ হতে বছর-কয়েক তো লাগবেই। খাল কাটা ছাড়াও তার আগে গবেষণার প্রশ্ন আছে, পরিবেশগত সমীক্ষার কাজ আছে – এটা আসলে একটা বিরাট প্রকল্প!”

অঙ্গীকার পূরণ আদৌ সম্ভব?

এই প্রেক্ষাপটে তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারের মেয়াদের মধ্যেই তিস্তা চুক্তি করবেন বলে যে অঙ্গীকার করেছেন, সেটা কি আদৌ রাখা সম্ভব?

উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক এমপি ও এমএলএ দেবপ্রসাদ রায় অবশ্য মনে করেন মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিকল্প প্রস্তাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।

তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, “ভারতের তিস্তা ব্যারাজের মতো বাংলাদেশও কিন্তু তাদের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার ওপর একটি প্রকল্প নিয়েছিল, যার নব্বই শতাংশ কাজ শেষ হয়ে আছে। ভারত থেকে যথেষ্ট পরিমাণে তিস্তার জল পাওয়া যাবে, এই ভরসাতেই তৈরি হয়েছিল সেই ডালিয়া প্রোজেক্ট।”

তিস্তার জল দিয়ে বাংলাদেশ নয় লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জল সরবরাহ করবে, আর ভারত প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিতে জল দেবে, তেমনই ছিল পরিকল্পনা।

দেবপ্রসাদ রায়ের কথায়, “এখন তিস্তায় খাল কেটে ডালিয়া প্রোজেক্টে যদি জল ফিড করা যায়, সেটা হয়তো খুব কঠিন না আর আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের এতে অসুবিধা হওয়ারও কোনও কারণ নেই। আর তোর্সাকে বলা যায় ভার্জিন নদী, কোনও সেচ প্রকল্পও এই নদীর বুকে নেই – তাই আমার মনে হয় তোর্সার যে কোনও জায়গাতেই এটা করা যায়।

তবে তিস্তা শুধু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হলেও তোর্সার উৎপত্তি কিন্তু ভুটানে – ফলে তোর্সার জল ভাগাভাগির ক্ষেত্রে তৃতীয় আর একটি দেশের (ভুটান) মতামতও গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন দেবপ্রসাদ রায়।

বাংলাদেশ অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তিস্তায় জল কতটা আছে সেটা বড় কথা নয় – জলের আধাআধি ভাগ করে চুক্তি সেরে ফেলাটাই আগে বেশি দরকার।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও আশঙ্কা

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলিও সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, “তিস্তায় পানি যদি আট আনা থাকে তাহলে চার আনা-চার আনা ভাগ হবে। আর যদি ছ’আনা থাকে, তাহলে আমরা পাব তিন আনা, ভারত পাবে তিন আনা – এটা তো খুব সহজ যুক্তি!”

কিন্তু মমতা ব্যানার্জি আগে তিস্তায় জলের পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলে আসলে চুক্তির প্রক্রিয়ায় আরও দেরি করিয়ে দিতে চাইছেন, যথারীতি এই আশঙ্কাও বাংলাদেশের তরফে তৈরি হচ্ছে।বিবিসি থেকে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc