Monday 30th of November 2020 01:26:22 PM

সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে শোক সভায় বক্তারা

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি সাংবাদিক অঙ্গনে কখনো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন নি। সাংবাদিকতা পেশায় একজন পরিচ্ছন্ন ও পরিপাঠি মানুষ ছিলেন। শক্তিমান লেখনীর মাধ্যমে তিনি জাগিয়ে তুলতেন এবং কুখ্যাত ব্যাক্তিদের শায়েস্থা করেছেন এমনও উদাহারন রয়েছে।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি আইন পেশায় বিনা পয়সায় অসহায়দের আইনী সহায়তা দিতেন। কোর্ট থেকে ফেরার সময় বাসায় খালি হাতে ফিরতেন। তিনি মানব কল্যাণকামী ও সদা হাস্যজ্বল মানুষ ছিলেন। গত শুক্রবার (১৩জুলাই) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে শোক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি ও দৈনিক সুনামকন্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায়ে’র সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক মাহবুর রহমান পীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক সুনামগঞ্জ ডাক’র সম্পাদক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ।

শোকবার্তা পাঠ করেন প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও বাংলাভিশন প্রতিনিধি মাসুম হেলাল। শোকবার্তা পাঠ শেষে অতিথিবৃন্দ মরহুম আজিজুল ইসলাম চৌধুরী’র ছেলে ইহতেশাম মোহাম্মদ রাহিব ও ভাই শফিউল ইসলাম,কামরুল ইসলামের হাতে শোকবার্তা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, সিনিয়র আইনজীবী ও লেখক অ্যাডভোকেট হোসেন তৌফিক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী সাফি, সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জহুর আলী, সিনিয়র আইনজীবী ও লেখক বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির সিহাব, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি রওনক আহমেদ, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, দৈনিক আজকের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আবেদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা পত্রিকার সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সুনামগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক সেলিম আহমদ তালুকদার, দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী, আজিজুল ইসলাম চৌধুরী’র ছোট ভাই শফিউল ইসলাম চৌধুরী।

“বিরামহীন কাজ করে শিল্পসম্মত ও নিপুণভাবে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে”

আক্কেলপুরে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির অপরূপ শিল্প বাবুই পাখির বাসা

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০মে,নিশাত আনজুমান, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) থেকে: ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়ুই, কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে’ কবি রজনী কান্ত সেনের এই অমর কবিতাটি এখন এদেশে ৩য় শ্রেণীর বাংলা বইয়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের কবিতা পড়েই এখনকার শিক্ষার্থীরা বাবুই শিল্পের অলৌকিক কথা জানতে পারছে। এখন আর চোখে পরেনা বাবুই পাখি ও তার নিজের তৈরী দৃষ্টিনন্দন সেই ছোট্ট বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য।

হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির বয়ন শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়, তালপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে বাসা বাঁধে। সেই বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা পরে যেতনা। বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসাটি শিল্পের এক অনন্য সৃষ্টি যা টেনেও ছেঁড়া সম্ভব নয়।

একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামা লে সারি সারি উঁচু তালগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা যেত। এখন তা আর সচরাচর চোখে পরেনা। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই দৃষ্টি ভোলানো পাখিটিকেও তার নিজের তৈরী বাসা যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে আরও ফুটিয়ে তুলত, তা আজ আমরা হারাতে বসেছি। বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য নানাভাবে ভাব-ভালবাসা নিবেদন করে এরা। বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে সে বাসা দেখায়।

বাসা পছন্দ হলে কেবল সম্পর্ক গড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকী কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুই পাখির সময় লাগে চারদিন। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই মনের আনন্দে শিল্পসম্মত ও নিপুণভাবে বিরামহীন কাজ করে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। প্রেমিক বাবুই যত প্রেমই দেখাক না কেন, প্রেমিকা ডিম দেয়ার সাথে সাথেই প্রেমিক বাবুই আবার খুঁজতে থাকে অন্য সঙ্গী। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। ক্ষেতের ধান পাকার সময় হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পরপরই বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য স্ত্রী বাবুই ক্ষেত থেকে দুধ ধান সংগ্রহ করে।

বর্তমানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গ্রামা ল থেকে হারিয়ে যেতে বসছে প্রকৃতির এক অপরূপে সৃষ্টি বাবুই পাখি। প্রকৃতির বয়ন শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের কারিগর নামে সমধিক পরিচিত বাবুই পাখি ও তার অপরূপ শিল্পসম্মত বাসা এখন আর চোখে পরেনা।

এ বিষয়ে উপজেলার সচেতন মহল মনেকরেন , প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের আগ্রাসী কার্য্যকলাপের বিরুপ প্রভাবেই আজ বাবুই পাখি ও তার বাসা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে দেশের কিছু কিছু জায়গায় এখনো চোখে পড়ে বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখি ও তার বাসা টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc