Saturday 5th of December 2020 02:46:04 PM

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ:  “দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ” বৃহত্তর সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা” কঠোর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যরে মধ্যদিয়ে সোমবার দুপুর ১টা থেকে রাখালনৃত্যের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী রাসলীলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার মাধবপুর জোড়া মন্ডপ প্রাঙ্গনে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের ১৭৮ তম ও আদমপুরের মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স ও তেতইগাঁও সানাঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গণে মনিপুরী মী-তৈ সম্প্রদায়ের ৩৫তম রাসলীলা শুরু হয়েছে। তুমুল হৈ-চৈ, আনন্দ-উৎসাহ, ঢাক, ঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল এবং শঙ্খ ধ্বনির মধ্যদিয়ে রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে সোমবারের দিনটি বছরের অন্য সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর জীবনে।

বৈশি^ক মহামারী করোনার কারণে এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে করার কথা থাকলেও সোমবার সকাল থেকে রাসোৎসব দেখতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষের ঢল নামে। তবে এ বছর মেলা হচ্ছে না।মাধবপুরের জোড়ামন্ডপ ও আদমপুর মন্ডপে সোমবার দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনু্ষ্িঠত হয়েছে রাখাল নৃত্য। রাখাল নৃত্যের বিভিন্ন ধাপে রাধাকৃষ্ণের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকালের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। নিজস্ব পোশাকে সজ্জিত হয়ে মণিপুরী তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেন।

এরপর রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মণিপুরী নৃত্যের ধ্রুপদ ভঙ্গিমায় রাধাকৃষ্ণের রাসনৃত্য চলবে।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শৈশব এবং শ্রীমতি রাধিকার সঙ্গে প্রেমের কাহিনী নিয়ে রাসোৎসবের আয়োজন। মাধবপুরের শিববাড়ি থেকে শুরু করে গ্রামের তিনটি মন্ডসহ পুরো এলাকা সেজেছে বর্ণিল সাজে।

মাধবপুর মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামন্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্প সমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে। স্কুল শিক্ষিকা অঞ্জনা সিন্হা বলেন, বংশ পরম্পরায় নান্দনিকতার পূজারী মণিপুরীদের মেলবন্ধন এই রাস উৎসব। এটি এখন জাতিধর্ম নির্বিশেষে সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস সিংহ জানান, এখানে সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এটি উৎসবে রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসবে যোগ দিতে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী এখানে এসেছেন।

সাদা কাগজের নকশায় নিপুন কারু কাজে সজ্জিত করা হয় মন্ডপগুলো। রাস উপলক্ষে সোমবার মহারাত্রির পরশ পাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষের মিলনতীর্থ পরিনত হয় মাধবপুর জোড়া মন্ডপ আর আদমপুরের মন্ডপগুলো। মন্ডপে মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে একদিনের এই আনন্দে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা দেশের বিভিন্ন স্থান হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার মানুষের পদচারনায় সোমবার সকাল থেকে মুখরিত হয়ে উঠে মণিপুরী পল্লীর এ দুটি এলাকা।

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ: আজ (৩০ নভেম্বর) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহত্তর সিলেটের ক্ষদ্র নৃ-তাত্ত্বিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব রাসপূর্ণিমা । বৈশ্বিক মহামারির করোনার করাল আক্রমণের শ্কংায় এবার উৎসব বিহীন থাকছে ভরা কার্ত্তিকের রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি খেলায় মণিপুরী ঐতিহ্যের সুমহান ধারায় ১৭৮তম রাসপূর্ণিমা।ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে নান্দনিক এ মহাযজ্ঞ। বংশ পরম্পরায় নান্দনিকতার পূজারী মণিপুরীদের প্রাচীনতম সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রাসলীলা। প্রতি বছর কার্ত্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয় বলে একে রাস পূর্ণিমা বা পূর্ণিমারাসও বলা হয়। প্রেমের পূণ্যবাঁধনে বিকশিত হবার দিন রাস পূর্ণিমা। চিরাচরিত এ উৎসবের মধ্য দিয়ে সব বয়সী মণিপুরীরা একত্রিত হয় সংস্কৃতি লালনে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে বৈচিত্রময় ও সমৃদ্ধশালী করার অঙ্গীকারে।
নাগর কানাইয়া লালমে
কুঞ্জ কালিলমে আওত হে
বংশী মূরলী বাজাও হে
রাধা রাধা আওত হে
ব্রজবুলী এসব পদাবলী কন্ঠে এ প্রজন্মের রাধাকৃষ্ণ, বৃন্দা ও গোপীগণের অপূর্ব সুরের আবেশে কমলগঞ্জের প্রকৃতি মাতাল হলেও মানুষের পদভারে মুখরিত হবে না।। রাসলীলা ১৮৪২ সাল থেকে মাধবপুর জোড়ামন্ডপে প্রতি কার্ত্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে খুবই ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হয়ে আসছে। যদিও একই উপজেলার তেতইগাঁও সানাঠাকুর মন্ডপে ১৯৮৬ সাল থেকে এ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। শ্রীমদ্ভাগবতের দশমস্কন্ধের রাস প ধ্যায়ের উপর ভিত্তি করে রাস কেন্দ্রিক মণিপুরী সংস্কৃতি ও প্রথা অনুযায়ী প্রাচীন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে পূজা অর্চ্চনার মধ্য দিয়ে রাস পূর্ণিমা অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। রাসলগ্নে রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহকে রাসচক্রে প্রদক্ষিণ করিয়ে মন্দিরে স্থাপন করা হয়। দুপুর থেকে শুরু হয় রাখাল নৃত্য। হাতে বাঁশি কপালে চন্দ্রের তিলক, মাথায় ময়ুরপালকের চূড়া ও ধুতি পরিহিত কিশোরেরা ঘুঙুর পায়ে-
রায় ধবলীরে কালি কেওলী
হিংগুলি জিংগুলি সুরভীরে…………. রায় ধবলী।
গাইতে গাইতে পরিবেশন করবে মনোরম রাখালনৃত্য। নৃত্যপ্রধান এ উৎসবে রাখাল নাচ রাধাকৃষ্ণ অভিসার থাবলচঙবা ছাড়াও মধ্যরাতে চাঁদের মায়াবী আলোতে শুরু হবে মাধুর্য্যরসে আস্বাদিত রাধা ও সখীগণের মুখ্যরাস বা মহারাসলীলা। প্রথমেই পরিবেশিত হয় রাসধারীদের অপূর্ব মৃদঙ্গ নৃত্য তারপরে প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ হাতে রাধিকারূপে মণিপুরী তরুনীরা মে আবির্ভূত হলে উপস্থিত ভক্তরা উলুধ্বনি তুলে স্বাগত জানাবে। গোপীনৃত্য, কৃষ্ণলীলা, মণিপুরী বন্দনা কলস নৃত্য চলবে রাতভর সুবর্ণ র্ককন পরিহিতা সুন্দরী গোপিনীদের নুপূরের সিঞ্জনে। রাসমেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, মহারাসলীলাল মূল উপস্থাপনা শুরু হবে দুপুর থেকে ‘গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য’ দিয়ে। গোষ্ঠলীলায় রাখাল সাজে কৃষ্ণের বালকবেলাকে উপস্থাপন করা হবে।

এতে থাকবে কৃষ্ণের সখ্য ও বাৎসল্য রসের বিবরণ। গোধূলি পর্যন্ত চলবে রাখালনৃত্য। রাত ১১টা থেকে পরিবেশিত হবে মধুর রসের নৃত্য বা শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ। এই রাসনৃত্য ভোর (ব্রাহ্ম মুহুর্ত) পর্যন্ত চলবে। এই রাসনৃত্যে গোপিনীদের সাথে কৃষ্ণের মধুরলীলাই কথা, গানে ও সুরে ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পীরা।মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ‘আমাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। এখন পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ। নতুন কাপড়চোপড় কেনা হয়েছে। আমাদের কাছে হেমন্তকাল মানেই রাস-পূর্ণিমা, রাস উৎসব।কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক ও কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার জন্য দুই জায়গাতেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্টানে নিরাপত্তায় পুলিশের তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।

তবে এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিাধ মেনে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে মণিপুরী রাসলীলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার অনুমতি দেয়া হয়নি। লোকসমাগম সীমিত করা হবে।রাসলীলায় মণিপুরী নৃত্য শুধু কমলগঞ্জের নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্য কলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। ১৯২৬ সালের সিলেটের মাছিমপুরে মণিপুরী মেয়েদের পরিবেষ্টিত রাস নৃত্য উপভোগ করে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরে কবিগুরু কমলগঞ্জের নৃত্য শিক্ষক নীলেশ্বর মুখার্জীকে শান্তি নিকেতনে নিয়ে প্রবর্তন করেছিলেন মণিপুরী নৃত্য শিক্ষা।

কমলগঞ্জে প্রায় এক মাস আগ থেকেই চলছে রাসোৎসবের প্রস্তুতি। মণিপুরী সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি কুমারী কিশোরদের রাস লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে নৃত্য ও সংগীতের তালিম নেয়ার ধুম পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে তাবৎ বাড়িতে রাসধারী ও রাসলীলার উস্তাদ এনে শিক্ষা দেয়ার রেওয়াজ প্রচলিত। আনুমানিক ৪০/৫০ জন কিংবা ততোধিক সংখ্যার কিশোরী এ রাস লীলায় অংশগ্রহণ করে থাকে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: ক্ষেতের সবজি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মনিপুরী সংখ্যালঘু নারীর উপর হামলা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত নারী কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ঘটনার পর মণিপুরী পল্লীতে আতংক বিরাজ করছে।

জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল লতিবের পুত্র উমেদ মিয়া (৫০) কর্তৃক মনিপুরী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ভুক্ত নারী চাউবিহান দেবী (৬০) এর উপর এলোপাতাড়ি মারধরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ঐদিন বিকেলে উমেদ মিয়া তার ক্ষেতের সবজি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাউবিহান দেবীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে সবজি ক্ষেতের মধ্যে লাঠি দিয়ে এলোপাতারি মারতে থাকে। তখন চাউবিহানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে চাউবিহানকে রক্তাক্ত ও মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (কমলগঞ্জ থানার জিডি নং ৯০১, তারিখ: ২০/০৯/২০২০ইং) করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, উমেদ মিয়া কর্তৃক মনিপুরী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকিসহ কাটাবিল গ্রাম থেকে মণিপুরী সম্প্রদায়কে বিতারিত করবে বলে হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কাটাবিল গ্রামে সংখ্যালঘু মণিপুরী পল্লীতে আতংক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা সংখ্যালঘু মনিপুরী সম্প্রদায়ভুক্ত নারীর উপর নির্যাতনকারী উমেদ মিয়াসহ তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত মণিপুরী নারীকে সোমবার কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে যান। ঘটনাটি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ মণিপুরী যুব কল্যাণ সমিতি তেতইগাঁও শাখার উদ্যোগে আট দিন ব্যাপী ফুটবল , ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন সহ ১০টি ইভেন্টে ১৪তম আন্তঃ মণিপুরী যুব ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিত সিংহ।

শিক্ষক ভূবন মোহন সিংহের সভাপতিত্বে ও কৃষ্ণ কুমার সিংহের স ালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডাঃ স্বপন কুমার সিংহ , সহকারী কমিশনার,(কাস্টমস) রবীন্দ্র কুমার সিংহ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক বজেন্দ্র কুমার সিংহ, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, সাধারণ সম্পাদক কমলাবাবু সিংহ, প্রমুখ । সমাপনী খেলা ফুটবল প্রতিযোগীতায় ঘোড়ামারা মণিপুরী ফুটবল দলকে দুই শূন্য গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় । সারা দেশের ১৩ টি মণিপুরী দলের নারী পুরুষের অংশগ্রহণে আন্তঃ মণিপুরী যুব ক্রীড়া প্রতিযোগীতার ১৪তম পর্বের উদ্বোধন করেনকমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিসদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যাপক রফিকুর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ তফাদার রিজুয়ানা ইয়াছমিন, মৌলবীবাজার জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন,কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ মণিপুরী যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রদীপ কুমার সিংহ প্রমূখ।

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে ঢাকঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খধ্বনি ও আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা আর বর্ণাঢ্য আয়োজনে মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব “মণিপুরী মহারাসলীলা” মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। বুধবার ঊষালগ্নে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটবে। মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে রাখালনৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মন্ডপ প্রাঙ্গনে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের ১৭৭তম ও আদমপুরের মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মনিপুরী মী-তৈ সম্প্রদায়ের ৩৪তম এবং নয়াপত্তন যাদু ঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গণে ৪র্থ বারের মতো মহারাসোৎসব শুরু হয়েছে।

তুমুল হৈ-চৈ, আনন্দ-উৎসাহ, ঢাক, ঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল এবং শঙ্খধ্বনির মধ্যদিয়ে রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরে মঙ্গলবারের দিনটি বছরের অন্য সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর জীবনে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাস উৎসবে প্রতিবারের মত এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে বসেছে রকমারি আয়োজনে বিশাল মেলা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে কমলগঞ্জের মণিপুরী অ লগুলো। ভিড় সামলাতে

আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা যায়।
দামোদর মাস খ্যাত কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে গৌড়িয় বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মণিপুরীদের প্রধান ধর্মীয় মহোৎসব শ্রীশ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণ। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়া মন্ডপ প্রাঙ্গনে মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের উদ্যোগে বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরী সম্প্রদায়ের ১৭৭তম শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরন উৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে শুরু হয়েছে রাখাল নৃত্য (গোষ্ঠলীলা)।

অপরদিকে রাসোৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে আদমপুর মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ ও নয়াপত্তন যাদু ঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গণে মন্ডপে মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় রাখাল নৃত্য। রাখাল নৃত্যের বিভিন্ন ধাপে রাধাকৃষ্ণের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকালের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। নিজস্ব পোশাকে সজ্জিত হয়ে মণিপুরী তরুণ-তরুণীরা এতে অংশ নেন। সন্ধ্যায় গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত মণিপুরী নৃত্যের ধ্রুপদ ভঙ্গিমায় রাধাকৃষ্ণের রাসনৃত্য চলবে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শৈশব এবং শ্রীমতি রাধিকার সঙ্গে প্রেমের কাহিনী নিয়ে রাসোৎসবের আয়োজন। মাধবপুরের শিববাড়ি থেকে শুরু করে গ্রামের তিনটি ম-পসহ পুরো এলাকা সেজেছে বর্ণিল সাজে।
রাসলীলা উপলক্ষে কমলগঞ্জের তিনটি স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় খৈ, মুড়ি, বাতাসা, ছোটদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ ও প্রসাধনী, শ্রীকৃষ্ণের ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির ছবিসহ বাহারি পণ্য শোভা পাচ্ছে। এ ছাড়া মাধবপুর ললিতকলা একাডেমির সামনে বসেছে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বইপত্রের কয়েকটি স্টল।

মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, মাধবপুর জোড়ামন্ডপে রাসোৎসব সিলেট বিভাগের মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন। এখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের আগমন ঘটে। বর্ণময় শিল্প সমৃদ্ধ বিশ্বনন্দিত মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে সবার মহামিলন ঘটে। মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস সিংহ জানান, এখানে সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এটি উৎসবে রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসবে যোগ দিতে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী এখানে এসেছেন।

সাদা কাগজের নকশায় নিপুন কারু কাজে সজ্জিত করা হয় মন্ডপগুলো। রাসোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার মহারাত্রির পরশ পাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষের মিলনতীর্থ পরিনত হয় মাধবপুর জোড়া মন্ডপ আর আদমপুরের মন্ডপগুলো। মন্ডপে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে একদিনের এই আনন্দে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা দেশের বিভিন্ন স্থান হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা পেশার মানুষের পদচারণায় সোমবার সকাল থেকে মুখরিত হয়ে উঠে মণিপুরী পল্লীর এ দুটি এলাকা।

অতীতের সেই ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই কোন রূপ বিকৃতি ছাড়াই কমলগঞ্জে উদযাপিত হয়ে আসছে মনিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী কৃষ্ণের মহা রাসলীলা। ঢাক, ঢোল, মৃদঙ্গ, করতাল এবং শঙ্খ ধ্বনির সঙ্গে ব্যাপক আনন্দ উল্লাসের মধ্যদিয়ে রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরেই এ দিনটি বছরের অন্য সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর জীবনে।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শুক্রবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে মণিপুরী জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।

বেলা সাড়ে বারোটায় তেতইগাঁও মণিপুরী কমপ্লেক্সে সংস্থার সভাপতি অরুণ কুমার সিংহের সভাপতিত্বে ও সদস্য অশোক মীতৈর স ালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরী কালচারেল কমপ্লেক্সের আহবায়ক এল জয়ন্ত সিংহ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শৈল বাবু সিংহ, মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল ইবুংহাল শামল , মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রমাকান্ত সিংহ।

উল্লেখ্য মণিপুরী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বিগত পাঁচ সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বত্রিশ জন মণিপুরী জেএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস নেওয়া হয় ।

অনুষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সমরজিত সিংহ । অন্যান্যেদর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৃন্দা রাণী সিন্হা, সমরেন্দ্র সিংহ, শাম বাবু সিংহ, প্রমূখ।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ক্রয়কৃত ভূমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষের হামলা মামলায় চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তোলে জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সংখ্যালঘু মণিপুরী পরিবার সদস্য। শনিবার দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের শান্ত কুমার সিংহ। তবে প্রতিপক্ষের বাহার উল্ল্যা নিজে তিন শতক জমি পান বলে দাবি করেন।

তিনি জানান,আমি নিরীহ সংখ্যালঘু পরিবারের লোক হওয়ার কারণে বাহার উল্ল্যা সহ সংশ্লিষ্টরা আমার জমি জোরপূর্বক দখলের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রায় তিন বছর পূর্বে একই এলাকার ইমানী ও আইন উদ্দিন এর নিকট থেকে দূঘর মৌজাস্থিত আট শতক ভূমি ক্রয় করে দখলদার বিদ্যমান ও চাষাবাদ করে আসলেও পাশের প্লটের মালিক এলাকার চিহ্নিত বাহার উল্যাসহ কতিপয় ব্যক্তিরা খরিদকৃত এই জমি দখলে নিতে চেষ্টা চালায়। এর জের ধরে গত বছরের ২১ জুন বাহার উল্যা আমার বাড়িতে এসে এক লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার লোকজনকে দিয়ে আমার খরিদকৃত জমি দখল করে নেয়ার হুমকি দেয়।

বিষয়টি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাহার উল্যা ও তার লোকজন গত ১৯ জুলাই দুপুরে আমার জমিতে কোপানো শূরু করে। ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে এসে জমিতে উভয়পক্ষের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পুলিশী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ২৩ জুলাই বাহার উল্যা অপর সহযোগী মাসুকের নেতৃত্বে ট্রাক্টর নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে হালচাষ শুরু করে, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে লাঠি নিয়ে আক্রমণ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হালচাষ বন্ধ করে। আমি জানমাল ও সম্পত্তির হেফাজত চেয়ে গত ২৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন দাখিল করি।

গত ৪ আগষ্ট সালিশী বৈঠকে উপস্থিত সালিশীগণ প্রতিপক্ষকে দোষী সাব্যস্থ করলে বাহার উল্ল্যারা জায়গাটি বাজারমূল্যে খরিদ করে নেওয়ার মত প্রকাশ করে। পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেই বাহার উল্যা নিজে বাদী হয়ে মৌলভীবাজারস্থ আদালতে গত ৩১ জুলাই মামলা দায়ের করে।

সালিশী বৈঠকে উপস্থিত সালিশদার, মামলার তদন্তকারী দারোগাসহ শান্ত কুমার সিংহকেআসামী করে গত ৬ আগষ্ট মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে একটি চাাঁদাবাজীর হয়রানীমূলক আরও একটি মামলা দায়ের করে। এ বিষয়ে জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ এলাকায় শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য তিনি প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান।

অভিযোগ বিষয়ে বাহার উল্ল্যা বলেন, এখানে আমার তিনশতক জমি রয়েছে। আমার জমির দাবি করেছি। শান্ত কুমার সিংহ ও তার পরিবার বর্গকে কোন হুমকি প্রদান করা হচ্ছে না। আমার বাবা রোয়াব উল্ল্যা দুটি মামলা করেছেন।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শনিবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১ ঘটিকায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী অডিটোরিয়ামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মণিপুরী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হকের সভাপতিত্বে ও গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র সিংহর স ালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা সিদ্দিকা। বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক-গবেষক ড. রণজিৎ সিংহ, লোক গবেষক আহমদ সিরাজ, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, মণিপুরী ভাষা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি রসমোহন সিংহ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র সিংহ। আলোচনায় অংশ নেন প্রভাষক রাবেয়া খাতুন, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমলা বাবু সিংহ, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, মোনায়েম খান, নির্মল এস পলাশ, মণিপুরী পত্রিকা পৌরীর সম্পাদক শিক্ষক সুশীল কুমার সিংহ, শিক্ষক রানা রঞ্জন সিংহ , মল্লিকা দেবী প্রমুখ।

সেমিনারে বক্তারা মাতৃভাষার পাশাপাশি দেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সকল জাতিসত্তার নিজস্ব ভাষা রক্ষা, বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া এবং মণিপুরী মীতৈ ভাষাকে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী করে বলেন, প্রাথমিক স্তরে প্রতিটি শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করা একটি ন্যায্য অধিকার।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও মণিপুরী ললিতকলা একাডেমীর আয়োজনে এ সেমিনারে মণিপুরী জনগোষ্ঠীর সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

“ভারতের সাথে সিলেট অঞ্চলের সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে-রিভা গাঙ্গুলী দাস,ভারতীয় হাই কমিশনার” 

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: ভারতের সাথে  সিলেট  অঞ্চলের  সংস্কৃতির  নিবিড় সম্পর্ক  রয়েছে ।   শুক্রবার  মৌলভীবাজারের  কমলগঞ্জে দেশের  স্বনামধন্য  নাট্য  সংগঠন  মণিপুরী  থিয়েটারের   স্টুডিও  নটমণ্ডপের উদ্বোধন  করে  একথা  বলেন,   বাংলাদেশে  নিযুক্ত  ভারতীয়  হাই  কমিশনার  রিভা গাঙ্গুলী  দাস।

বিকাল  সাড়ে  চার টায়  ঘোড়ামারা গ্রামে  স্টুডিও  প্রাঙ্গণে  আয়োজিত  উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানে  সম্মানিত  অতিথি  হিসেবে  উপস্থিত  ছিলেন  সাবেক  সংস্কৃতি  মন্ত্রী  ও নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূর । মণিপুরী  থিয়েটারের   সভাপতি  সুভাশীষ সিনহা  সমীরের  সভাপতিত্বে   অনুষ্ঠানে  বিশেষ  অতিথি  ছিলেন মৌলভীবাজারের  জেলা  প্রশাসক  তোফায়েল ইসলাম, বাংলাদেশে  নিযুক্ত ভারতীয়  ডেপুটি  হাই  কমিশনার এল,  কৃষ্ণ  মূর্তি ,
কমলগঞ্জ উপজেলা  পরিষদের  চেয়ারম্যান  অধ্যাপক  রফিকুর রহমান,  মৌলভীবাজার সদর  উপজেলা  পরিষদের  চেয়ারম্যান  ও  চেম্বার  অব কমার্স এর  সভাপতি  কামাল  হোসেন ও  প্রখ্যাত  নৃত্য  শিল্পী  তামান্না রহমান ।
এছাড়াও  উপস্থিত  ছিলেন  বাংলাদেশ  গ্রুপ  থিয়েটার  ফেডারেশনের  সাধারণ সম্পাদক  কামাল  বায়েজীদ,  কমলগঞ্জ  উপজেলার  সহকারী  কমিশনার  (ভূমি  ) সুমি  আক্তার,  কমলগঞ্জ  থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  আরিফুর রহমান  প্রমুখ ।

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মণিপুরী সংস্কৃতির নানা বৈচিত্র্যের অন্যতম হলো মণিপুরীদের নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’। অপেক্ষাকৃত সংখ্যালঘু মৈতৈ মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী নববর্ষ (চেরাউবা কুম্মৈ ৩৪১৭) উৎসব মৗলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মণিপুরী কালাচারাল কমপ্লেক্সে গত শনিবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাতে অনুষ্টানের সমাপ্তি ঘটে। এ উৎসবকে ঘিরে তেতইগাঁওসহ আশপাশের মণিপুরী পল্লীগুলোতে সাজ সাজ রব দেখা গিয়েছিল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মণিপুরীদের নিজস্ব একটি বর্ষগণনারীতি রয়েছে। ‘মালিয়াকুম’ নামের এই চান্দ্রবর্ষের হিসেবে ৩৪১৭ তম বর্ষ ৬ এপ্রিল শুরু হল। অন্যান্য বছরের মতো এবারও এই দিন মণিপুরী নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউব কুম্মৈ ৩৪১৭’ উদযাপনের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়।

উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল শনিবার সকালে আদমপুর মণিপুরী কালাচারাল কমপ্লেক্সে প্রাঙ্গণ থেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও উপকরণ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, পতাকা উত্তোলন, সারোইখাংবা, দুপুরে প্রসাদ বিতরণ, বিকাল ৪টায় মণিপুরি নারী-পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী লিকোন শান্নবা (কড়ি খেলা), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় মণিপুরীদের নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’ উপলক্ষে চৈরাউবা উদযাপন পর্ষদ এর আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কবি ও গবেষক এ কে শেরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপু, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ এলাহী কুটি, কবি ও গবেষক চৌধুরী বাবুল বড়ুয়া, এনআরবি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রশান্ত সিংহ, তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল মতিন, আদমপুর ইউপি সদস্য কে. মনিন্দ্র সিংহ, কবি সনাতন হামোম, ইবুংহাল শ্যামল প্রমুখ। রাতে মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মণিপুরী যুবক-যুবতীদের অংশগ্রহণে থাবল চোংবা নৃত্য (উন্মুক্ত স্থানে অনেক যুবক-যুবতীর অংশগ্রহণে মণিপুরিদের বর্ণাঢ্য লোকনৃত্যের পরিবেশনা) অনুষ্ঠিত হয়।

 

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩মে,কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ   জাতীয় শিশু প্রতিযোগীতায় জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহন করে মণিপুরী নৃত্যে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে কমলগঞ্জের আম্বিয়া কে,জি স্কুলের৫ম শ্রেনীর ছাত্রী অর্থি সিনহা।

শনিবার ১২ মে ঢাকা জাতীয় শিশু একাডেমী তে ৮টি বিভাগের সেরা ৮জনের মধ্য এ প্রতিযোগীতা অনুষ্টিত হয়। অর্থি সিনহার বাবা অমুল্য কুমার সিংহ,শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসের সিএ ও মা মমতা রানী সিনহা আম্বিয়া কে,জি স্কুলের অধ্যক্ষ।

বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে অর্থি ছোট বেলা হতে নৃত্যের প্রতি আগ্রহী।আগামী ১৫ মে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের হাত থেকে সে পুরস্কার গ্রহণ করবে বলে মা মমতা রাণী সিনহা জানান। মেয়ের এমন সাফল্যে তারা গবির্ত।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc