Thursday 22nd of October 2020 03:15:09 AM

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৮নং সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের কাজিরখিল খনকারিগাঁও দিয়ে বয়ে যাওয়া করাঙ্গী নদীর সাঁকো ভেঙ্গে লাশসহ ৬ জন নদীতে ভেসে যায়৷ এঘটনায় ৬ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৮টার দিকে খনকারিগাঁও গ্রামের স্বর্গীয় নিরঞ্জন পালের পুত্র দুলাল পাল (৪০) হঠাৎ বুকে ব্যাথায় চটপট করতে থাকলে তাকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পথিমধ্যে দুলাল মারা গেলে বিকাল ৩ টায় তার মৃতদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে ফেরার পথে করাঙ্গী নদীর সাঁকো ভেঙ্গে দুলালের লাশসহ ৬ জন নদীতে ভেসে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী আধাঘণ্টা খোজাখুজির পর দুলালের লাশসহ আহত ৬ জনকে উদ্ধার করেন।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিৎ রায় দাসকে এবিষয়টি জানানো হলে তিনি জানান,  এবিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এই সাঁকোটি নির্মাণের নির্দেশনা দিলেও প্রতিনিধিগণ যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। কিছু দিনের মধ্যেই সাঁকোটি পুনঃর্নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

মিনহাজ তানভীরঃ  গত রাতের দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিপর্যস্তের মুখে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা। রাত বারোটার পর থেকে প্রায় আড়াই ঘন্টার মুসুলধারে বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।ফলে শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। শশা,ঝিঙ্গেসহ কয়েকটি ফসল ও রাস্তার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ ঘন ঘন বজ্রপাতের কারণে  আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে।

মুশলধারে বৃষ্টির কারনে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাতে পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি ছড়া গুলো দিয়ে প্রবাহিত না হওয়ায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর এলাকার সিরাজনগর গ্রামের একটি রাস্তায় ৫০/৬০ ফুট জায়গায় ভাঙ্গন ঘটে এতে প্রায় অর্ধশত একর জমিতে বালির আস্তর পড়ে থাকতে দেখা যায়।অপরদিকে রাস্তা ভাঙ্গনের ফলে কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।বিদ্যুৎ অনিয়মিত থাকার কারনে রোজাদারদের সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।সরেজমিনে দেখা যায় পানির তোরে একটি বাঁশঝাড়  রাস্তা থেকে জমিনে ভেসে গেছে।স্থানিয়রা আশঙ্কা করেন দ্রুত রাস্তাটি মেরামত না হলে একদিকে চলাচল অপরদিকে শতাধিক একর জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হবে না,কেননা ছড়ার পানি সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এবং বালিতে তলিয়ে যাবে ধান গাছ।

এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে জানা যায়,ভাঁটিতে সরু ভাঙ্গা ব্রীজ ও ছড়ার পানির রাস্তা বাঁধ দিয়ে আটকের ফলে উজান থেকে নেমে আসা তীব্র পানির স্রুোতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো এলাকার শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।গ্রামীণ অবকাঠামোর বিশাল ক্ষতি হয়েছে বিশেষ করে পাকা রাস্তা ভেঙ্গে গেছে, ইট সলিং ভেঙ্গে গেছে।কাঁচা রাস্তার স্থানে স্থানে ভাঙ্গন ধরেছে।

এ বিষয়ে ৫ নং কালাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন।রাস্তা ভাঙ্গার কথা স্থানীয় মেম্বার মুকিদ মিয়া আমাকে জানিয়েছে।আমি উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করবো।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২মে,রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃ তামাবিল স্থল বন্দরের সংরক্ষিত প্রাচীর ভেঙ্গে অবৈধ রাস্তা নির্মাণ এবং মালামাল পরিবহনের ফলে বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অবৈধ রাস্তা বন্দের দাবী।

সিলেটের সর্ববৃহত আমদানী রপ্তানির বানিজিক পোর্ট ছিল তামাবিল। পোর্টের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার পোর্টকে আধুনিকায়ন করে আর্ন্তজাতিক স্থল বন্দরে রুপান্তর করে। শতকোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন সহ অত্যধুনিক সুযোগ সুবিধা এবং নিরাপদ স্থল বন্দর স্বার্থ রক্ষায় চর্তপার্শ্বে স্থায়ী প্রাচীর নির্মাণ করে বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারন ব্যবসায়িদের দাবী একটি প্রভাবশালী চক্র অতি সম্প্রতি স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজেসে অবৈধ ভাবে দেওয়াল ভেঙ্গে পাথর পরিবহন ও ড্রাম্পিং করছে। যাহার কারনে বন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন দূর্বল হয়ে পড়ে, তেমনি অবৈধ পথে নিয়ে আসা মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। সরকার হারাবে রাজস্ব, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হবে চক্রের সদস্যরা।

আর্ন্তজাতিক মান বিবেচনায় স্থল বন্দনেরর অবকাঠামো পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় কিংবা দপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন। এছাড়া বন্দর এরিয়া বর্ধিত কিংবা সংযোজন করা হলে নতুন এরিয়া চিহ্নিত এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে সীমানা প্রচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়। কিন্তু এখানে কর্তৃপক্ষ তা না করেই অবৈধ ভাবে প্রাচীর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণ সহযোগিতা করে আসছে। সরেজমিনে দেখা যায় সংরক্ষিত এরিয়া দক্ষিণ-পূর্বদিকে অপরিকল্পিত ভাবে প্রভাবশালীরা বন্দরের দেওয়াল ভেঙ্গে মালামাল পরিবহন ও ড্রাম্পিং করছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানায় এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে নবনির্মিত স্থল বন্দরের উদ্বোধনের ১বৎসর পূর্ণ হওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আতাত করে বন্দরের নিরাপত্তা দূর্বল করে রাস্তাটি তৈরী করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এলাকার সচেতন মহল মনে করেন চোরাকারবারিরা এই অবৈধ রাস্তা দিয়ে পন্যবাহী পরিবহন ব্যবহার করে নিরাপদে ভারত হতে মাদক, মাদকজাত পন্য, ভারতীয় শাড়ী সহ অন্যান্য মালামাল নিরাপদে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সম্বাবনা রয়েছে।

ইতোপূর্বে এভাবে ট্রাকযোগে মালমাল পরিবহনের সময় থানা ট্রাক সহ পুলিশ ভারতীয় মালামাল আটক করে। স্থলবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করে অবৈধ ভাবে নির্মিত রাস্তা বন্দ করার দাবী জানান সাধারন ব্যবসায়ীরা।
এবিষয়ে তামাবিল স্থল বন্দরের সিকিউরিটি ইনচার্জ জয় কুমার প্রতিবেদককে জানান- অপরিকল্পিত ভাবে প্রাচীর ভেঙ্গে গেইট নির্মাণ না করে উন্মুক্ত রাস্তা তৈরীর ফলে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হয়। বৃষ্টিপাতের অ ল হিসাবে খ্যাত মেঘালয়ের পাদদেশে স্থলবন্দরটির অবস্থান হওয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ভয়ে অরক্ষিত অবস্থায় রাতের বেলা সিকিরিটির ব্যবস্থা নিয়ে আমাদেরকে আশংঙ্কায় থাকতে হয়। তাই বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন প্রশ্ন বিদ্ধ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থলবন্দরের ইনচার্জ পার্থকরের সাথে আলাপকালে তিনি জানান- ব্যবসায়ীরা আমাদের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে মৌখিক অনুমতি নিয়ে প্রাচীর ভেঙ্গে মালামাল পরিবহন ও ড্রাম্পিং করা হয়েছে। তাতে স্থলবন্দরের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৬এপ্রিল,চুনারুঘাট প্রতিনিধি: চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের দৌলতখা আবাদ  গ্রামের মৃত আঃ রউফ মিয়ার পুত্র দিনমজুরী রাজমেস্ত্রী সারাজ মিয়া (৩৮) কে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আপন বড় ভাইরা পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙ্গে দিয়েছে। জানা যায়, গত রবিবার ভোর ৬টার দিকে সারাজ মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বোরো ধান্য জমি দেখতে যায়।

এসময় তার আপন বড় ভাই ওয়াহিদ মিয়া, রাহিদ মিয়া, মারাজ মিয়া সহ একদল দূর্বত্তরা পূর্ব জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের ছোট ভাই সারাজ মিয়াকে দৌড়াইতে দৌড়াইতে সাহিদ মিয়ার বসতবাড়ির সামনে একা পেয়ে বেধড়ক পিটিয়ে সারাজ মিয়ার দু’পা ভেঙ্গে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

এসময় আহত সারাজ মিয়ার আত্মচিৎকারে স্থানীয় আশপাশের লোকজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মূমুর্ষ আশাংকাজনক অবস্থায় চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার সারাজ মিয়ার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলেও গরীব অসহায় বলে সারাজ মিয়া উন্নত চিকিৎসা না নিতে পেরে চুনারুঘাট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গগণ সারাজ মিয়াকে হাসপাতালে দেখতে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সারাজ মিয়া বাদী হয়ে ০৩ ভাই ওয়াহিদ মিয়া (৪৫), রাহিদ মিয়া (৩০), মারাজ মিয়া (২৫) দের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য যে, সারাজ মিয়ার সৎ ভাই সাহিদ মিয়া (৩৫) এর সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওয়াহিদ মিয়া, রাহিদ মিয়া ও মারাজ মিয়ার মামলা মোকদ্দমা চলে আসছিল। কিছুদিন পূর্বে সাহিদ মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে একটি ৭ ধারা মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় রাহিদ মিয়া, মারাজ মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া সহ ০৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। সৎ ভাই সাহিদ মিয়ার সাথে সারাজ মিয়ার মিল থাকায় তার আপন ভাইরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন হামলা চালিয়ে সারাজ মিয়াকে পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙ্গে দেয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪মার্চ,নড়াইল প্রতিনিধি:  নড়াইলের লোহাগড়ায় ওষুধের দোকানসহ ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে লোহাগড়া থানা সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ক্ষতিগ্রস্থ ওষুধ ব্যবসায়ী এস এম জাকির হোসেন ও নাজমা বেগমসহ অন্যরা জানান, নিয়মনীতি মেনে প্রায় ২০ বছর যাবত লোহাগড়া থানা সড়কে জেলা পরিষদের জায়গায় নিজেদের খরচে দোকানঘর তৈরি করে তারা ব্যবসা করে আসছিলেন। এখানে ছয়টি ওষুধের দোকান, ইলেকট্রনিক্স দোকান, দন্ত চিকিৎসা কেন্দ্রসহ ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বিনা নেটিশে অতর্কিত ভাবে শুক্রবার ভোরে ১২টি দোকান ভেঙ্গে দেয়া হয়। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষীপাশার গোলাম মোরশেদ, মনিরুজ্জামান বাচ্চু, সালেক মুন্সী, আরিফ শেখসহ প্রায় ২০ জন অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে তাদের দোকানঘর ভেঙ্গে দেয়। এ সময় দোকান থেকে ওষুধসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

ক্ষতিগ্রস্থরা আরো জানান, অভিযুক্তরা বিনা নোটিশে তাদের দোকানঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। এখন নিজ স্থানে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষীপাশা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি গোলাম মোরশেদসহ অন্যরা দাবি করে বলেন, ওই ব্যবসায়ীদের আমরা ছয় মাস আগে নোটিশ দিয়েছি। এই জায়গাটি কিছু অংশ মসজিদের এবং কিছু অংশ জেলা পরিষদের। মসজিদ মার্কেট নির্মাণের জন্য দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) সিদ্দিকুর রহমান জানান, বেআইনি ভাবে দোকানঘরগুলো ভেঙ্গে ফেলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার লোহাগড়া থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমামুল হাসান বাদী হয়েছেন।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৯মার্চ,চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ    চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাগিয়ারগাঁও গ্রামের ছিদ্দিক আলীর মেয়ে একডালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার (১৫) কে একদল বখাটেরা উত্ত্যক্ত করায় মেয়ের বাবা ছিদ্দিক আলী বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত রবিবার সকাল ৯টার দিকে বাগিয়ারগাঁও গ্রামের ছিদ্দিক আলীর মেয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার একডালা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি হইতে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে আছকির মিয়া সাহেব বাড়ির দক্ষিণের রাস্তায় পৌছামাত্রই পূর্ব হইতে ওৎ পেতে থাকা বখাটে দুলাল ও তার দলবল মাহমুদা আক্তারকে উত্ত্যক্ত করে।

মাহমুদা আক্তারের সাথে বখাটে দুলাল মিয়ার ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বখাটেরা মাহমুদা আক্তারের হাতে আঘাত করলে তার হাতটি ভেঙ্গে যায়। তার শোর চিৎকারে পরিবারের লোকজনরা এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে বখাটেরা মাহমুদার পিতা ছিদ্দিক আলীর বাম হাতটিও ভেঙ্গে দেয়।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা আক্তারের মাতা পেয়ারা খাতুন সোমবার সকালে বাদী হয়ে একই গ্রামের আজগর আলীর পুত্র  দুলাল মিয়া, মৃত ইসাদ উল্লার পুত্র আঃ হামিদ ওরফে জিরা মিয়া, আজগর আলী, মৃত আঃ ছত্তারের পুত্র সামছুল হক সহ ০৪ জনকে আসামী করে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। চুনারুঘাট থানার এস.আই ওমর ফারুক সোমবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি কে এম আজিমরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল সিলেট বিভাগের কর্মকর্তা নূরুল হক ও ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ চুনারুঘাট হাসপাতালে মাহমুদা আক্তার ও তার পিতা ছিদ্দিক আলীকে দেখতে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনার দ্রুত বিচারের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

জৈন্তাপুর সাবষ্টেশনের দেওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫আগস্ট,রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঘুষ দূর্নীতির অপর নাম হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। হর হামেশা চলছে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি, যেন দেখার কেউ নেই। নতুন সাব ষ্টেশন স্থাপন হলেও ১ বৎসরের মধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে প্রতিরক্ষা দেওয়াল।
১৯৮৩ ইং সনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জৈন্তাপুর উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরন ও সরবরাহ শুরু করে। সেই থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় বিদ্যুৎ নির্ভর কলকার খানা সহ পাথর ক্রাশিং জোন গড়ে উঠে। লাগামহীন ভাবে বিদ্যুৎ বিতরনের ফলে গ্রাহকরা লো-ভেল্টেজ সমস্যায় পড়তে হয় জৈন্তাপুরবাসীকে।

বিদ্যুতের দূর্ভোগ নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের দারস্থ হন উপজেলাবাসী। দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সনের শেষ দিকে সংসদ সদস্য প্রচেষ্ঠায় জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরীঘাট এলাকায় জাইকার অর্থায়নে সাবষ্টেশন নির্মানের কাজ শুরু হয়। তৎকালীন জৈন্তাপুর উপজেলা আবাসিক নিজের ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে এসি রুমের মার প্যাচে ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জটিলতা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে কাজ ফেলে চলে যায় জাইকা।

বিদ্যুতের ভোগান্তি নিয়ে ২০১৬ সনের মে মাসের শেষ সাপ্তাহে সিলেটের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পর তড়ি গড়ি করে আবাসিক প্রকৌশলী জৈন্তাপুরের তত্তাবধানে ধীর গতিতে শুরু হয় সাব ষ্টেশন নির্মাণ কাজ। কিন্তু আবাসিক প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে সাবষ্টেশনের কাজ থাকার ফলে নতুন নতুন সার্ভিস ব্যাকার স্থাপন না করে পুরাতন জংধরা, রিকন্ডিশন সার্ভিস ব্যাকার ও ট্রান্সফরমার, নিম্ন মানের রড় সিমেন্ট ব্যবহার করে সাব ষ্টেশন স্থাপন কাজ করেন। সচেতন মহল প্রশ্ন কোটি কোটি টাকা সাভাড় করতে সাবষ্টেশন নতুন স্থাপন হলেও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে রিকন্ডিশন।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ইট রড় সিমেন্ট ব্যবহার করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবাসিক প্রকৌশলী জৈন্তাপুর একাধিক কর্মচারী বিষয়টি জানিয়ে বলেন- যে কোন সময় এই ষ্টেশনের দেওয়াল সহ বেকার স্থাপনের যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে পড়বে এবং এই ষ্টেশন নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের করা হচ্ছে। সে সময় নির্মাণ কাজে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকরা বলেন বিদ্যুৎ বিতরন কর্তৃপক্ষের আবাসিক প্রকৌশলীর নির্দেশনা মোতাবেক রিকন্ডিশন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সাবষ্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। তাই চালু হওয়ার পরেও গোলাযোগ দেখা দিতে পারে।

এছাড়া যেখানে পিলার স্থাপন করা হয়েছে তাও নিম্ন মানের। স্থাপনের আগেই পিলার গুলোতে দেখা দিয়েছে ফাটল। সেই ফাটল পিলার এর উপর স্থাপন করা হচ্ছে এসকল যন্ত্রপাতি। তারা আরও জানান এই ষ্টেশনে কোন অবস্থায় পুরাতন জংধরা যন্ত্রপাতি, এবং নিম্ন মানের ইট বালু ব্যবহারের নির্দেশনা নাই। কিন্তু আমরা যা পাচ্ছি তা দিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আর ষ্টেশন চালু হওয়ার পর সার্ভিস ব্যাকার গুলো বিকল হলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে এবং ভোগান্তি শিকার হবে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

তৎকালীন আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ উদ্দিন পারভেজ এর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাছাড়া সরাসরি আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে থাকে পাওয়া যায়নি। গত ১২আগষ্ট বৃষ্টিপাত হলে ষ্টেশনের পশ্চিম দিকের পুরো দেওয়াল ধষে পড়ায় ষ্টেশনটি ঝুকি পূর্ণ হয়ে উঠে।
এবিষয়ে জানতে বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বাবলু দেওয়াল ধর্ষের পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিবেদককে জানান- অতি বৃষ্টির ফলে ষ্টেশনের পশ্চিম দিকের দেওয়ালটি ভেঙ্গে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন ষ্টেশনের নির্ধারীত জায়গা ছাড়া পশ্চিম পাশ্বে অতিরিক্ত কোন জায়গা নেই। তাই নতুন করে দেওয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে ক্ষতি গ্রস্থ অংশ মেরামত করা হয়েছে। ফলে ষ্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহে আর কোন সমস্যা হবে না। নির্মাণ কাজে অনিয়ম দূর্নিতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই-সিংড়া সড়কের মালিপকুর নামক স্থানে গতকাল সোমবার ভোর রাতে ভেঙ্গে যাওয়ায় আত্রাই-সিংড়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সকল প্রকার যানবাহন  চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই এলাকার শতশত হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এদিকে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

গত বেশ কয়েকদিন থেকে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে আত্রাই নদীর পানি হুহু করে বেড়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদী এলাকার শত শত জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ গুলো হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। এ সড়কটি ভাঙ্গার ফলে উপজেলার মালিপকুর, জগদাশ, গুড়নই, শিকারপুর, মধুগুড়নই, সাহেবগঞ্জ, খঞ্জর, জয়সাড়া, নবাবের তাম্বু, পবনডাঙ্গা, বিপ্রবোয়ালিয়া, ক্ষুদ্রবোয়ালিয়া, বাকিঅলমাসহ আশপাশের এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ও মাটির কাঁচা বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অপর দিকে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ১নং শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ, জাতোপাড়া, মিরাপুর, ফুলবাড়ি, পূর্বমিরাপুর, জাতআমরুল জিয়ানীপাড়া, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের সন্নাসবাড়ি, পারশিমলা, চকশিমলা, হাটকালুপাড়া, হাটুরিয়া, দরগাপাড়া, দ্বিপচাঁদপুর, পাহাড়পুর, বড়াইকুড়ি, পাইকারা, নন্দনালী, কুসুম্বাসহ প্রায় ২৫ টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আফসার আলী প্রামানিক বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছি। এটি যাতে দ্রুত মেরামত করা যায় সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমান জানান, আমি সকালে নিজে গিয়ে ভাঙ্গা স্থানটি দেখেছি এবং বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন আত্রাইয়ের বন্যা পরিস্থিতি আমরা নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সকল জনপ্রতিনিধিদের সজাদ থাকতে বলা হয়েছে। কোন জায়গায় যেন বাঁধ ভেঙ্গে জনগণের জানমালের ক্ষতি না হয় এ জন্য আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০জুন,শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জঃ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা ভারী বৃষ্টিতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আদমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলকপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে চারটি গ্রামের বসত বাড়ি ও ফসলি জমি নিমজ্জিত করেছিল। পরবর্তীতে একে একে তিন দফা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে এ ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করলে ফসলি জমির সাথে সবগুলো বাড়িতে ২ থেকে ৩ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত ছিল।

সরকারীভাবে দক্ষিণ তিলকপুর গ্রামের ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ উন্নয়নে কাজ করার কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ করে ভেঙ্গে যাওয়া ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত শুরু করেন। ঈদের ছুটি আসা গ্রামের চাকুরীজীবিরা, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সবাই মিলে ২৮ জুন থেকে প্রায় ২০০ লোক মিলে বস্তায় বালু ভরে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) বেলা দুইটায় দক্ষিণ তিলকপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, চাকুরীজীবি, কলেজ ছাত্র সবাই মিলে প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতরে কাজ করছেন। আর এ কাজে এগিয়ে আসেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দীন।

জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন সম্প্রতি বিতরণকৃত ভিজিএফ চালের খালি ২০০ বস্তা, প্যানেল চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন তার মৎস খামারে মাছের খাবারের খালি আরও ৩০০ বস্তা দিয়ে সহায়তা করেন। নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে আলাপে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দু বিজয় শঙ্কর চক্রবর্তী আরও ১০০০ খালি বস্তা দিয়ে সহায়তা করেন। তাছাড়া গ্রামবাসীরা নিজেরাও ২ টা থেকে শুরু করে ৫টি করে বস্তা নিয়ে আসেন।
বাঁধ এলাকায় দেখা যায় কেউ কেউ খালি বস্তা বালু ভর্তি করছেন। আর যুবক ও ছাত্ররা এসব বালু ভর্তি বস্তা নিয়ে বাঁধের কাছে স্থাপন করছেন। কাজের সুবিধার্থে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরের সবার খাবারের ব্যবস্থা করেন।
ইউপি সদস্য মো: হেলাল উদ্দীনও স্বেচ্ছাশ্রমে কর্মরত গ্রামবাসীরা জানান, এ বাঁধ ভেঙ্গে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিনবার দক্ষিণ তিলকপুর গ্রামের ১৩০ বাড়ি, উত্তল তিলকপুর গ্রামের ৮৫টি বাড়ি, ঘোড়ামারা গ্রামের ১৫০টি বাড়ি ও হুমেরজান গ্রামের ১০০টি সব মিলিয়ে ৪৬৫ টি বাড়িসহ চারটি গ্রামের ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। আবহাওয়ার অবস্থায় বোছা যায় আরও টানা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তখন আবারও এ ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করে চারটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ চিন্তা ভাবনায় গ্রামবাসীরা মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করেন।
স্বেচ্ছঅশ্রমে কাজে যোগ দেওয়া ঈদের ছুটিতে আসা পুলিশ সদস্য সাইফুর রহমান, সেনা বাহিনীর সদস্য জসিম উদ্দীন, ঢাকা সুপ্রীম কোর্টের অপিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন, সেনা সদস্য আব্দুস শহীদ, প্রাথমিক শিক্ষক আরিশ উদ্দীন, কলেজ ছাত্র আবুল হোসেন ও সাব্বির আহমদ বলেন, নিজেদের বাড়ি ঘর, ফসল রক্ষার তাগিদে তারা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষার কাজে যোগ দিয়েছেন। এখানে সবাই খুবই আন্তরিকভাবে গত দুই দিন ধরে কাজ করছে। উপজেলঅ নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ যারাই তাদের এ কাজে সহায়তা করছেন তাদের সবাইকে গ্রামবাসীরা ধন্যবাদ জানান।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, দক্ষিণ তিলকপুর গ্রামের ৬০০ ফুট ভাঙ্গন এলাকা সরকারীভাবে মেরামত করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তার আগে আরও কয়েক দফা ধলাই নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ভাবনায় গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি সম্মান জানিয়ে তাদের সাথে কাজে সহায়তা করতে এসেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, গ্রামবাসীরা নিজেদের রক্ষায় নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে এত বড় কাজ শুরু করেছে তা শুনে তিনিও বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে তাদের কাজে সহায়তা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলায় তিনি ১০০০ খালি বস্তা পাঠিয়েছেন। তাছাড়া আগামী প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষায় স্থায়ীভাবে কি কাজ করা যায় তা নিয়ে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দু বিজয় শঙ্কর চক্রবর্তী এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে বলেন, এটি একটি ভাল কাজ। এজন্য কাজে অংশগ্রহনকারী গ্রামবাসীদের ধন্যবাদ জানাতে হয়। তিনিও খালি বস্তা দিয়ে সহায়তা করেছেন। আগামী শুষ্ক মৌসুম ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষা বা উন্নয়নে কোন কাজ করতে পারবে না। ইতিমধই দুটি প্রস্তাবনা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে। তা অনুমোদন হলে পরবর্তীতে কাজ শুরু হবে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪জুন,এম এস জিলানী আখনজীঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও খোয়াই নদীর পানির স্রুোতে তে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১০নং মিরাশী ইউনিয়নের নালমূখ বাজার সংলগ্ন ছড়ার ব্রীজটি ভেঙ্গে ধসে যায়। ফলে ১০-১২টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। ব্রীজটি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা মারাত্মক ঝঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

জনগুরুত্বপুর্ন ব্রীজটি দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রীসহ নালমূখ বাজারে আসতে পারছেনা কেউ’ই। লাদিয়া, রাখী, পাচঁগাও, কাকাউস, মহদীর কোনা, একঢালাসহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্য্যায়ে। অতিদ্রুত ব্রীজটি নির্মান করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলকাবাসী।

এ ব্যাপারে মিরাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন জানান, পাহাড়ী ঢল ও খোয়াই নদীর পানির স্রুোতে ব্রীজটি ভেঙ্গে ধসে যায় ফলে ইউনিয়নের দক্ষিনাঞ্চলের সাথে কেন্দ্রীয় হাঠের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরকারী বরাদ্দ অপ্রতুল্ল্য হওয়ায় ব্যয়বহুল কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অচিরেই ব্রীজটি নির্মান করার দাবী জানান।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৯এপ্রিল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটি সড়ক দুর্ঘটনা ভেঙ্গে যাচ্ছে স্বপনের স্বপ্ন। বিত্তবানদের সহযোগীতা পেলে আবারও হাটতে পারবে স্বপন, পারবে কাজ করতে।
মা-বাবা ও ১ ভাই মিলে চার জনের সংসার স্বপনের। এই সংসারে স্বপনই একমাত্র উপার্জনকারী। বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় কাজে যেতে পারেন না। ৫ বোনের বিয়ে হয়েছে। বড় ৩ ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার।
আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া হাইস্কুলের গন্ডি পেড়োতে পারেনি স্বপন। শেষ পযর্ন্ত ট্রাক ড্রাইভিং শিখতে চালকের সহযোগী হিসেবে চাকুরী নেয়।
আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাইনবোর্ড নামকস্থানে ট্রাক দুর্ঘনায় দুই পায়ে মারাত্মক আঘাত পায় স্বপন মিয়া (১৮)।
২০১৫ সালের জুন মাসে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন স্বপন মিয়া ট্রাকে হয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার বিরামচর গ্রামের মোস্তফা আলীর ছেলে স্বপন মিয়া।
দুর্ঘটনার দিন তাকে প্রথমে ঢাকার রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচদিন চিকিৎসা শেষে নেয়া হয় আরো একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। ঢাকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে হবিগঞ্জ ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সবশেষে ভর্তি করা হয় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানেও দীর্ঘদিন চলে স্বপনের চিকিৎসা।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নেয়া হয় হাড়ভাঙ্গা বিশেষজ্ঞ ডাঃ আর আর কৈরীর কাছে।
ডাঃ আর আর কৈরীর বরাত দিয়ে স্বপনের পিতা মোস্তফা আলী জানান, ডাঃ কৈরী আশ্বস্থ করেছেন স্বপনের দুই পায়ে অপারেশ করা হলে ভাল হবার সম্ভাবনা বেশি। আগামী এক মাস পরে স্বপনের পায়ে অপারেশন হবে।
তবে, চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারছে না স্বপনের পরিবার। তাই বিত্তবানদের প্রতি স্বপনের পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে।
স্বপনের পিতা মোস্তফা আলী বলেন, ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাড়ীর ভিটে ছাড়া একমাত্র সম্বল জমিটুকু বিক্রি করতে হয়েছে। এ পযর্ন্ত ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে ছেলের চিকিৎসার জন্য।
সহায় সম্বলহীন পিতা ছেলের পা অপারেশন করানোর অর্থ যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই সহযোগীতা চেয়েছেন বিত্তবানদের কাছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৭এপ্রিল,শিমুল তরফদারঃ শ্রীমঙ্গলের জনপদ থেকে পাহাড়ী ঢলের পানি সরে গেছে। কিন্তু শ্রীমঙ্গলকে দিয়ে গেছে এক বিদ্ধস্ত এলাকার রুপ।
সম্প্রতি ভারি বর্ষন ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে নিমজ্জিত হয় শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলীসহ উপজেলার কয়েক হাজার বাড়িঘর। ঘরের ভিতরে পানি প্রবেশ করে নষ্ট হয় সাধারণ জনগণের কোটি কোট টাকা মুল্যের বিভিন্ন মুল্যবান সামগ্রী। ক্ষতিগস্থ হয় কাঁচা ঘর বাড়ি। আর পানি কমে যাওয়ার পর শ্রীমঙ্গলের সদর ইউনিয়নসহ ৯টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়।

এ অবস্থায় শ্রীমঙ্গলের বর্তমান রুপ যেন কোন বিদ্ধস্ত নগরীর রুপ। এর ফলে মানুষের চলা ফেরায় মারাত্মক আকারে বাঁধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পড়েছেন ভুগান্তিতে।
এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল পূর্ব শ্রীমঙ্গল এলাকার বাসিন্দা ডা: আশিষ চক্রবর্তী জানান, এবারের ফ্লাস ফ্লাডে তার ঘরের ভিতরে কোমর সমান পানি হয়। এতে তার ঘরের ফ্রিজ, কম্পিউটার, টেবিল ফ্যান, আইপিএস সহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। তিনি জানান, এ অবস্থা শুধু তার নয় এলাকার সবকটি বাসা বাড়িতে। এর প্রধান প্রতিবন্দকতা হিসেবে তিনি জানান, তাদের এলাকার উপর দিয়ে বয়ে চলা ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার নাব্যতা কমে গেছে এবং দুইপাড় দখল হয়ে সরু হয়ে গেছে।
এ সময় আরও এক ভুক্তভোগী সুশান্ত দাশ গুপ্ত ভজু জানান, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মানও এর আরও একটি কারণ।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় জানান, গত ৫/৬ দিনের ভারি বর্ষনে তার ইউনিয়নের সকল মাটির কাজ পানিতে বাসিয়ে নিয়ে গেছে। চার দিক থেকে জনগনের চাপ আসছে। কিন্তু বরাদ্ধ না আসলে কোন কাজ করাই সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যে তিনি অধিক জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নিজের টাকায় মেরামত করছেন।
এদিকে সরজমিনে দেখা যায় সবুজবাগ থেকে শ্রীমঙ্গল বালুচর এলাকায় মাহমুদ আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাটির প্রায় ৫০ ফুট সম্পুর্ন রুপে ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম বেশ কিছু রাস্তাঘাট ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আপাদত ক্ষতিগস্থ পরিবারে চাল ও নগদ টাকা দিচ্ছেন। তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিনি ১৯ টন চাল ও নগদ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্ধ পেয়েছেন। যার ৫০ ভাগ ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৫এপ্রিল,জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া,সুনামগঞ্জ থেকেঃ অক্লান্ত কর্মপ্রচেষ্টা ব্যর্থ করে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার এই হাওরটিও শেষ পর্যন্ত তলিয়ে গেল। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পাগনার হাওরের ফসল বাঁধ রক্ষায় সব চেষ্টাই করেছিলেন হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক। সোমবার ভোর ৫টার দিকে হাওরের উরারবন্দ বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরটি। এটি ছিল জেলার সর্বশেষ সুরক্ষিত হাওর। এ হাওরে জামালগঞ্জসহ জেলার দিরাই উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি উপজেলার অনেক কৃষকদের বোরো জমি রয়েছে।

জানা গেছে, হাওরের ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল রক্ষায় প্রায় একমাস ধরে শেষ লড়াই করে আসছিলেন এলাকার কৃষক। তবে হাওরের এত বড় দুর্যোগে এ পর্যন্ত পাউবোর কোন কর্মকর্তা বাঁধে উকিও দেননি বলে জানিয়েছেন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ সামছুল আলম তালুকদার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বাঁধরক্ষা কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই জেলার একমাত্র সুরক্ষিত হাওরটিও রক্ষা করা গেল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসুণ কুমার চক্রবর্তী ও কৃষি অফিসার ড.শাফায়াত আহমদ সিদ্দিকী বলেন, রবিবার থেকে বাঁধরক্ষা কাজে ১৭৪ জন শ্রমিক ও ৫০ জন পাহাড়াদার নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রশাসনের নজরদারিও রাখা হয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। সোমবার ভোরে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

পাউবো অফিস জানায়,জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩টি করে পৃথক পৃথক কার্যাদেশ পায় সুনামগঞ্জের মেসার্স নূর ট্রেডিং। উক্ত ফার্মের অনুকূলে বরাদ্ধ হয় ১৪২.৯৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ৪০% বিল আগাম প্রদান করা হয়েছে। তারা চেষ্টা করেছে বাঁধের কাজ সুচারুরুপে সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু বাঁধের উচ্চতার চাইতে পানির উচ্চতা বেশী হওয়ায় বাঁধটি আর ঠিকেনি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান,জামালগঞ্জ উপজেলার জোয়ালভাঙ্গা হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১১৭ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ গোলাম আহাদ,ডাকুয়ার হাওরের ডুবন্ত বাধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১১৮ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন একই পরিষদের সদস্যা মোছাঃ সোহেনা বেগম,শনির হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১১৯ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা মনেছা বেগম, ১২০ নং পিআইসির সভাপতি একই পরিষদের মেম্বার মোঃ খোকন মিয়া, ১৩৭ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার প্রণয় কান্তি রায়,পাগনার হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১২৯ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার গোলাম হোসেন, ১৩০ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুনাসিন্ধু তালুকদার, ১৩১ নং পিআইসির সভাপতি একই পরিষদের মেম্বার আলী আহমদ, ১৩২ নং পিআইসির সভাপতি সদস্যা আক্তার বানু, ১৩৩ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন মেম্বার অজিত সরকার, ১৩৪ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার মোশাররফ হোসেন, ১৩৫ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার আসাদ আলী,১৩৬ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়া,মহালিয়া হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১২১ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার,হালির হাওরের ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ১২২ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার কামরুল ইসলাম,১২৩ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ মনু মিয়া, ১২৪ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন একই পরিষদের মেম্বার সুফিয়ান,১২৫ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার মশিউর রহমান, ১২৬ নং পিআইসির সভাপতি মেম্বার আব্দূল হাশিম, ১২৭ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জালাল উদ্দিন, ১২৮ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ মনোয়ার হোসেন শাহ, ২৪১ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা রাসেদা আক্তার, ২৪২ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন একই পরিষদের মেম্বার অজিত রায় প্রমুখ। এরা নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কেউই কোন বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ হরেনি। জামালগঞ্জের স্থানীয় সরকারী ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ কোন হাওরেই বাঁধের কাজ করেনি ঠিকাদার-ভাগীদার,পিআইসি ও তাদের লোকজন। উল্লেখ্য, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬৩৪ কোটি টাকা। ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৬৮ কোটি টাকা ৮০ লাখ টাকার বাঁধের কাজ চলছিল। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এবং ৪৮কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। কৃষকদের অভিযোগ, পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসির ও ঠিকাদারের কাজ সময়মত শেষ হয়নি,আবার কোথাও বাঁধের কাজ শুরু করাই হয়নি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৪এপ্রিল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টানা ৫ দিনের বৃষ্টি ও ভারতীয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে হবিগঞ্জ মাধবপুরের আন্দিউড়া ইউনিয়নের কুটানিয়া এলাকায় সোনাই নদীর উপর নির্মিত ব্রীজের মধ্যের পিলার দেবে গেছে। ফলে ব্রীজটি বিধ্বস্ত হয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে কুটানিয়া, হরিশ্যামা গ্রামের জনসাধারনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকার নিচু অঞ্চলের উঠতি বুরো ফসল তলিয়ে গেছে। আবার কৃষকরা আধা পাকা ধান জমি থেকে কেটে বাড়ীতে নিয়ে আসলেও বৃষ্টির কারনে তা গোলায় তুলতে পারছেন না। উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় সবজির ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। অনেক কৃষক ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বুরো ধান ও সবজি চাষ করেছিলেন। লাভের টাকায় দেনা পরিশোধের কথা থাকলেও কৃষকদের আশায় গুড়োবালি।
আন্দিউড়া আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান-জানান ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওায়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারন সমস্যায় পড়েছে। তাই ব্রীজটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান-টানা বৃষ্টিতে উপজেলা প্রান্তিক কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকগ্রস্থ কৃষককের তালিকার কাজ চলছে।

বাড়ি ঘরে উঠেছে পানি, পরিদর্শনে ইউএনও  

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৭এপ্রিল,মতিউর রহমান মুন্না,নবীগঞ্জ থেকে: কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় গতকাল নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কুশিয়ারার বাধ ভেঙ্গে নতুন করে অনেক জমি তলিয়ে গেছে। বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় নদীর পানিতে ওই ইউনিয়নের বেশ কিছু নদী তীরবর্তী অনেকের বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তলিয়ে গেছে প্রায় ১৭০ হেঃ জমি। বাধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা। এছাড়াও পুরো উপজেলায় মোট ২০৫০ হেঃ জমি তলিয়ে গেছে বলে কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, কসবা এলাকার কৃষকরা তাদের জমির ফসল রক্ষার্থে নিজেরাই কসবা এলাকায় বাধ দিয়েছিলেন। কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে বাধের উপর দিয়ে অল্প করে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গতকাল বাধটি পুরোপুরি ভেঙ্গে গিয়ে জমিতে পানি প্রবেশ করে এতে প্রায় ১৭০ হেঃ জমি তলিয়ে গেছে। এবং অনেক বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠে যাওয়ায় অনেকেই আতঙ্কে আছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া রাধাপুর গ্রামের মূল বাধ ভেঙে গেলে নবীগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে কুশিয়ারা নদীর ওই ডাইকের মেরামত করে অকাল বন্যার হাত থেকে নবীগঞ্জবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা আরো জানান, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে এ অ লের মানুষের দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হয়। নদীর তীরবর্তী গ্রাম হওয়ায় এ দুর্ভোগের শিকার হতে হয় তাদেরকে। অনেক পরিবারের লোকজনকে হাঁটুপানিতে ভিজে ঘরে আসা যাওয়া করতে হয় তাদের। প্রতিবছরই নদী ভাঙনের শিকার হয়ে শতশত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। এছাড়াও অতিবৃষ্টিতে নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার সন্ধা পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে মোট ২০৫০ হেঃ জমি অতি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি অধিদপ্তরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় প্রেরিত অতিবৃষ্টিতে বোরো ধান নিমজ্জিত হওয়ার প্রতিবেদনে কৃষি কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন ‘৪নং দীঘলবাক ইউনিয়নে বাধ ভেঙ্গে নতুন করে কিছু জমিতে পানি প্রবেশ করেছে’ মর্মে মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, বাধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে গতকাল আমরা সরজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি। বাধ ভেঙ্গে কিছু জমি ও কয়েকটি বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠে গেছে। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক দেয়া না, বাধটি স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষার্থে নিজেরা দিয়েছিলেন। তবে পানি না কমা পর্যন্ত বাধ মেরামত করা যাবেনা বলে জানান ইউএনও।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc