Thursday 29th of October 2020 02:03:14 PM

নূরুজ্জামান ফারুকী নবীগঞ্জ থেকে :    নবীগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের ঘটনার পর এবার গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযাগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই মহিলা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযােগ দায়ের করেন। এ খবর দৈনিক আমার হবিগঞ্জকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছ। আলােচিত ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।

লিখিত অভিযাগে স্থানীয় সূত্রে জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল প্রায় দেড় বছর ধরে ভিজিডির সুবিধাভােগী দুই নারীর নাম বরাদ্দকৃত (প্রতিমাস ৩০ কেজি) ভিজিডির চাল আত্মসাত করে আসছেন।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের শাহেলা আক্তার সালমা ও সালেহা বেগম প্রায় দেড়বছর পূর্বে ভিজিডির চালের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের কাছে ছবি ও ভােটের আইডি কার্ড দেন।

এ সময় চেয়ারম্যান তাদেরকে বলেন, তালিকাটি অনুমােদন হয়ে আসলে তারা চাল পাবে। চেয়ারম্যানের এমন আশ্বাসে আনন্দিত হন দরিদ্র পরিবারের এ দুই নারী। এরপর তালিকাভুক্তদের চাল বিতরণ শুরুর খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের নিকট যান। চেয়ারম্যান মুকুল তাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেন।

অনেকদিন অতিবাহিত হলে দুই নারী চালের জন্য চেয়ারম্যানর সাথে যােগাযােগ করেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান মুকুল তাদেরকে বলেন, তাদের নাম তালিকায় উঠেনি, তাদেরকে চাল দেয়া যাবেনা।

সুবিধাবঞ্চিত এই দুই নারী বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পারে তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। তাদের নাম বরাদ্দকৃত চাল উত্তােলন করে আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান মুকুল। পরে গজনাইপুর ইউনিয়নের ভিজিডির তালিকা সংগ্রহ করে দেখা যায়, তালিকায় ক্রমিক নং ৫২ শাহেলা আক্তার সালমা ও ৫৬ নম্বর সালেহা বেগম নাম রয়েছে। স্বামীর নাম, গ্রামসহ সব মিলিয়ে দেখা যায় তাদের নাম আসা সরকারী চাল আত্মসাৎ হয়েছে।

বর্তমান করােনা ভাইরাস পরিস্তিতির মধ্যে অসহায় অবস্থায় পরিবার নিয়ে না খেয়ে অনাহারে দিন কাটছে তাদের। এমন অভিযােগ তুলে ভুক্তভােগী দুই নারী মঙ্গলবার (২৩জুন)  বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত অভিযাগ দেন।

উল্লেখ্য, গজনাইপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে তেলেসমাতির ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে নতুনভাবে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযােগ নিয়ে তুমুল সমালােচনার ঝড় উঠেছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০মার্চ,মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে গরীবের ভিজিডি কার্ডের তালিকা তৈরী ও চাল বিতরণে সীমাহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভিজিডি কার্ডের অনিয়মের বিষয়টি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা হলেন-উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভীন ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প কর্মকর্তা মনু লাল রায়। এর আগে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫জন সদস্য তাদের চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার ভিজিডির তালিকায় অসহায় দুস্থদের নাম না দিয়ে তার ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ও তার নিজস্ব কিছু লোকজনের নামের তালিকা করেন এবং গোপনে চাল বিতরণের লক্ষ্যে তাহিরপুর খাদ্য গোদাম থেকে ১৫মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেন।

এঘটনা জানতে পেরে ইউপি সদস্যরা লিখিত অভিযোগ করেন। ইউপি সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়নের ১০গ্রাম পুলিশসহ ৯২জনের ৫মেট্রিকটন চাল বিতরণ না করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে নির্দেশ দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।

এব্যপারে তদন্ত কর্মকর্তা মনু লাল রায় বলেন,ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার সরকারের বরাদ্ধকৃত ২৬০টি ভিজিডি কার্ডের মধ্যে ২২১টি কার্ড ইস্যুর বিষয়ে ইউপি সদস্যদের পরামর্শ গ্রহন করেন এবং ৪১টি কার্ড চেয়ারম্যান তার নিজের মত করে তালিকাভুক্ত করেন। সেই সাথে ১০জন গ্রাম পুলিশের নামেও তিনি ভিজিডি কার্ড প্রদানকরা সহ একই পরিবারের ২-৩জনকে ভিজিডি কার্ড করে দিয়েছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা পারভীন বলেন,অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সরেজমিন তদন্ত করে জানতে পেরেছি অনিয়মের কিছু চাল এখনও বিতরণ করা হয়নি,এব্যাপারে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেব।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন,আমার বিরুদ্ধে যা লিখেন তা ভাল ভাবে বুঝে শুনে ও যাচাই-বাচাই করে লিখবেন। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc