Wednesday 21st of October 2020 01:44:50 PM

লালমনিরহাট থেকেঃ   লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনের কারনে ও বিরোধের জেরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় জাকির হোসেন নামে একজনকে কুপিয়ে যখম সহ অন্তত চার জন নেতা-কর্মীকে আহত করেছেন হারুন ও তার সঙ্গে থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯ টায় কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা নেতাকর্মীরা, ছাত্রলীগের কালীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হারুন উর রশিদ (৪২) এর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
এ ঘটনায় হারুন উর রশিদ (৪২) সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।উক্ত ৭ জনের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে , কালীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকতা জানান,তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।

নূরুজ্জামান ফারুকী  নবীগঞ্জ থেকেঃ  হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিলারকে দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা, মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তি, একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার, বরাদ্ধকৃত চাল সঠিক ব্যক্তির কাছে বিতরণ না করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী গত ৭ জুলাই স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৪৬.০০.০০০০.০১৭.০০২.২০২০ (অংশ-২)-৬৪৩ এর প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে।
অপর এক পত্রে কেন ইমদাদুর রহমান মুকুলকে চুড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না মর্মে কারণদর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিলারকে দিয়েপ তালিকা প্রস্তুত করা, মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্তি, একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার, বরাদ্ধকৃত চাল সঠিক ব্যক্তির কাছে বিতরণ না করার অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এবং জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জে বনিৃত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।
যেহেতু নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল এর খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিলারকে দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা, মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্তি, একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার, বরাদ্ধকৃত চাল সঠিক ব্যক্তির কাছে বিতরণ না করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোন সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে।
সেহেতু নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমুলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) অনুযায়ী চেয়ারম্যান কে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।
এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল বরখাস্তের খবর প্রচার হলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
অপর দিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন-১ শাখা স্মারক নং ৪৬.০০.০০০০.০১৭.০০২.২০২০ (অংশ-২)-৬৪৪ এর কারণ দর্শাও নোটিশে বলা হয়েছে, খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিলারকে দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা, মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্তি, একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার, বরাদ্ধকৃত চাল সঠিক ব্যক্তির কাছে বিতরণ না করার অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জের প্রস্তাব মোতাবেক জনস্বার্থে আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কেন আপনাকে স্বীয় পদ থেকে চুড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান ইউপি চেয়ারম্যান মুকুলের বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল প্রাপ্তির তালিকায় মোট উপকারভোগী ১ হাজার ১৮৫ জনের নাম রয়েছে। ২০১৬ সালে ওই তালিকাটি প্রণয়ন করা হয়। তখন থেকে উপকারভোগীদের চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই এখনও পাননি সে সুবিধা। একটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানে নেমে পাওয়া গেছে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র।
তালিকা যাচাইয়ে দেখা যায়, কোন নাম ৪ বার, কোন ৩ বার করে তালিকায় রয়েছে। এদেরই একজন কুটি মিয়া। বাড়ি সাতাইহালে। তার নাম রয়েছে তালিকার ক্রমিক নং ৬৬৬, ৬৮০, ৭২০, ১০৭৩ অর্থাৎ ৪ বার। এরকম আরো অনেকের নাম আছে। একাধিকবার নাম প্রায় ৫০টির মতো রয়েছে তালিকায়। প্রাথমিক যাচাইয়ে পাওয়া গেছে এর সত্যতা। রয়েছে কয়েকজন মৃত ব্যক্তির নামও। কয়েকটি গ্রামে হিন্দু পরিবার না থাকলেও দেয়া হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভূয়া নাম। তালিকায় রয়েছেন অথচ একবারও চাল পাননি, এমন লোকের সংখ্যাও অনেক।
আলোচিত এই তালিকাটিতে তারালিয়া গ্রামের প্রায় ২২ জনের নাম আছে তালিকায়, বাস্তবে চাল পায় ৩ জন। ৪৯৯ নং থেকে ৫০৮ পর্যন্ত সরকার সম্প্রদায়ের বেশ কয়েক জনের নাম রয়েছে সুবিধাভোগী হিসেবে। রাইধনী সরকার, বিজু সরকার নামের পাশে গ্রাম লেখা রয়েছে তারালিয়া।
তালিকাটি নিয়ে তারালিয়া গ্রামে গিয়ে জানা গেল- গ্রামটিতে গোপ সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস। তালিকায় যে সরকার সম্প্রদায়ের নাম রয়েছে – গ্রামবাসী কাউকেই চিনেন না। তাদের দাবী নামগুলো ভূয়া। ভূয়া নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্টরা চাল আত্মসাৎ করেছেন এমনটাই অভিযোগ গ্রামবাসীর।
তালিকায় রয়েছে বেশ কয়েকজন মৃত ব্যক্তির নাম। তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও আলাপ করে জানা গেছে তারা জীবিত থাকতেও কোন সময় চাল পাননি, মারা যাবার পরও তারা জানেনই না যে তালিকায় নাম আছে।
যে গ্রামের নামে ইউনিয়নের নাম, সেই গজনাইপুর গ্রামে নেই কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস। ওই তালিকায় অনিয়মগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অনিয়ম হিসেবে যেটা নিয়ে মানুষ সমালোচনা করছেন সেটা হলো- স্বামী মুসলমান-স্ত্রী হিন্দু, পুত্র হিন্দু- পিতা মুসলমান। অনেকেই হয়তো ভাবছেন এটা কি করে সম্ভব ? বাস্তবে এমন অসম্ভবকেও সম্ভব করা হয়েছে গজনাইপুর ইউনিয়নের এই তালিকায়। তালিকার ৫৮২ নং থাকা নাম আঃ আহাদ, পিতা: পিরিজা সরকার। ৫৮৬ নং মহেশ সরকার পিতা: সুনুজ উল্লা। ৫৯২ স্বরসতী সরকার, স্বামী আকবর মিয়া। অর্থাৎ এই পরিবারের দুই সম্প্রদায়ের লোক ! বাস্তবে না হলেও এই তালিকাতে এমটাই লেখা হয়েছে।
গজনাইপুর ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা ৫০টি করে নাম দিয়েছেন। নিজ এলাকার ভূয়া নাম তালিকায় দেখে তারা হতবাক।
এ ব্যাপারে গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল বলে ছিলেন, সকলের (সদস্যদের) সমন্বয়ের মাধ্যমেই করা হয়েছে এ তালিকা। তবে তালিকায় ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছিলেন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হামানের নির্দেশে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করা হয়।
অনিয়মের অভিযোগে ওই এলাকার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার লিটন চন্দ্র দেবের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়।
আলোচিত ঘটনা ধামাচাপা দিতে একাধিক বৈঠকেও পরিষদ সদস্যদের ঐক্যমত হয়নি।

ভারতের কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় গুলিতে তিন জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু শহরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলার সময় পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দুইজন নিহত হয়েছে। উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়েও গুলিতে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বৃহস্পতিরার অন্তত ১০টি রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এর আগে নাগরিক সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর অসমে বিক্ষোভের সময় ৫ জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ম্যাঙ্গালুরুতে চার পুলিশ সদস্যকে গুলি চালাতে দেখা গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের একটি দলকে লক্ষ করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কর্মকর্তারা আহত দুইজনের মৃত্যুর খবর জানান।

স্থানীয় একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, এদিন বিকাল থেকেই শহরটিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভে নামা বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে।

ওদিকে উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌয়ে বৃহস্পতিবার একজনের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে বিক্ষোভকারীরা বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন পুলিশের গুলিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কথা অস্বীকার করেছে।

সহিংসতার আশঙ্কায় বুধবার রাত থেকেই গোটা উত্তরপ্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। চারজনের বেশি লোকের জমায়েতের উপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্গালুরুসহ কর্ণাটকের বিভিন্ন স্থানেও।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ২১ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যাঙ্গালুরুতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাস্তায় নামে জনতা।পার্সটুডে

এম ওসমান, বেনাপোল :  যশোরের শার্শার উপজেলার সব মাঠ জুড়েই রয়েছে সোনালি ফসল পাকা ধান। আর কয়েকদিন গেলেই এই আমন ধানে গোলা ভরবেন কৃষকরা। ফুটবে তাদের মুখে হাসি। কত আশাই-না ছিল কৃষকদের। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব এক নিমিষেই সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। জমির ধান শুয়ে পানির নিচে যাওয়ায় তাদের মুখে এখন হতাশার ছাপ। ধান নষ্ট হবার আশঙ্কায় সোনালি স্বপ্ন এখন ফিকে হতে চলেছে কৃষকের।
বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়া ও টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় সব মাঠেই আমন ধান শুয়ে পানিতে তলিয়েছে।
রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া, কায়বা, গোগা, শার্শা ও নাভারনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শুক্রবার দুপুর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত শার্শা এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। আর শনিবার রাতভর বৃষ্টির পাশাপাশি বয়েছে ঝড়ো হাওয়া।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ২১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে সব মাঠে। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার সব এলাকায় চাষকৃত ধানের শতকরা ৯০ ভাগ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ধান শুয়ে পানির নিচে চলে গেছে।
শার্শার পাশ্ববর্তী শালকোনা গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছি। এখন সব শুয়ে পানির নিচে চলে গেছে। কী করে সারের দাম শোধ করব, খাবো কী।বেনাপোল ভবেরবের গ্রামের কৃষকেরা বলেন আমাদের মরণ ছাড়া কোনো পথ নেই।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, বুলবুলের প্রভাবে দুই দিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১০ ভাগ ধান মাটিতে শুয়ে গেছে। যদি আর বৃষ্টি না হয় তাহলে পড়ে যাওয়া ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। সব ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিন কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গতকালের বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে বলে কোনো কোনো সূত্র দাবি করেছে।

নেতানিয়াহু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নিজের জন্য দায়মুক্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা খর্বের ষড়যন্ত্র করছেন বলে খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এই বিক্ষোভ হলো।

বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, নেতানিয়াহু হচ্ছেন দুর্নীতিবাজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি এখানে এক ব্যক্তির শাসন চালুর চেষ্টা করছেন। তবে তাকে এ সুযোগ দেওয়া হবে না।

নেতানিয়াহু

গত এপ্রিলে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নেতানিয়াহু। নতুন মেয়াদ শুরুর পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলো। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি মামলা চলছে। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতেই দেশটির পার্লামেন্টকে কাজে লাগিয়ে তিনি সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছেন বলে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন।

আগামী অক্টোবরে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে হাজির হতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, নেতানিয়াহু নিজে ঘুষ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যকেও ঘুষ দিয়েছেন।পার্সটুডে

ঠাকুরগাঁও চাপড়াগঞ্জ  বিদ্যালয় মাঠে কবির পালা গানের মঞ্চে-অধ্যাপক ইয়াসিন আলী এমপি
গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।স্টাফ রিপোর্টারঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মঙ্গলবার রাত ১২ঃ৪৩মিঃ ঘটিকায় চাপড়াগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কবির পালা গানের মঞ্চে এক বক্তব্যে বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে এবং দেশ এখন অনেক উন্নত হয়েছে।
বক্তব্য শেষে ঐ মঞ্চে গান গাইয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন। সেসময় পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিভূতি ভূষণ রায় ও ৯ নং সেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

৫ লক্ষ টাকা যৌতুক ছাড়া ঘরে তুলবেন না শ্বশুরবাড়ীর লোকজন

গীতি গমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোঃ হাফিজুর রহমান বীরমুক্তি যোদ্ধার মেয়েকে ৫লক্ষ টাকা যৌতুক ছাড়া ঘরে তুলছেন না বিলকিস বেগমের শ্বশুড় বাড়ীর লোকজন।

এই বিষয়ে গত শুক্রবার বিলকিস বেগমের পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৭/০৭/২০১৮ইং তারিখে ১। মোঃ করিমুল ইসলাম (৩৮), ২। মোঃ আঃ রহমান (৪০), উভয়ের পিতা- মোঃ আঃ লতিফ, ৩। মোছাঃ খতেজা বেওয়া (৫৮), স্বামী- মৃত আঃ লতিফ, ৪। জবাতুন খাতুন (৩৫), স্বামী- মোঃ আঃ রাহমান, ৫। মোছাঃ রহিমা খাতুন (২২), পিতা- মোঃ আঃ রহমান, ৬। নেন্দ দাই (৫৫), পিতা- মৃত টুনু দাই, সর্ব সাং একান্নপুর (বাগান বাড়ী) আসামি দ¦য়ের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিলকিস বেগমের বিয়ে হয় পীরগঞ্জ উপজেলার একান্নপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে করিমুল ইসলামের সাথে ১৩/১৪ বছর সংসার জীবনে একটি কন্যা সন্তান ও একটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহন করে করিমুলে ১ম সন্তান মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন (১২) প ম শ্রেণি একান্নপুর কেজি স্কুল এবং মেয়ে মোছাঃ কাসমিরা আক্তার (৭) বোর্ডহাট সোনামনি কিন্ডারগাডেনে পড়ে। করিমুল মেয়ে লোভী হওয়াতে তাদের সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো। ১নং আসামী করিমুল গভীর রাতে বাড়ীতে এসে আমার কন্যাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। আমার মেয়ে গভীর রাতে আসার কথা জিজ্ঞাসা করলে করিমুল আমার কন্যাকে হত্যার উদ্দ্যেশে মুখে বালিশ চাপা দেয় এবং ঘরে থাকা লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি দিয়ে আমার কন্যাকে বেধম মারপিট করে।

পরে অনান্য আসামীদের কুবুদ্ধিতে করিমুল ইসলাম আমার কন্যাকে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে মারপিট করে বাড়ি থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দেয় এবং গোপনে একটি বিয়ে করার কারণে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে উভয়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। অনুমানিক ২-৩ মাস পরে ১ নং আস্বামী করিমুল আমার কন্যার সহিত সুকৌশলে যোগাযোগ করে আমার কন্যাকে বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে আবার বিবাহ করে এবং বাড়িতে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার করিমুলকে বিবাহটি কাবিননামা হিসাবে রেজিষ্ট্রি করার কথা বলিলে সে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। এরই এক পর্যায় গত ২৬শে জুলাই, ২০১৮ ইং তারিখে তার শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন যৌতুক হিসেবে ৫ লক্ষ যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ে বিলকিস বেগমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করে তাকে বেধম মারপিট করিতে থাকে এবং আহত অবস্থায় তার বড় বোন মোছাঃ লাকি বেগমকে মুঠো ফোনে বিষয়টি অবগত করলে ও বিলকিস বেগমের চিৎকারে আমি, আমার বড় মেয়ে, আমার ছেলেসহ এলাকাবাসীরা দ্রুত ছুটে এসে লাকী বেগমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, আমাকেও তারা মারধর করে আমিও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই।

এ ব্যাপারে ৭নং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, মেয়েটি করিমুলের বাড়িতে ছিল আমাকে কেউ জানায় নি, করিমুল মেয়েটিকে তালাক দেওয়ার পর আবার বাড়িতে নিয়ে আসলেন এটি নিঃসন্দেহে খারাপ কাজ। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বজলুর রশিদ জানান, এজাহারের কাগজ পেয়েছি তবে দুই পক্ষে মিমাংসা হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে।

আমারসিলেট  টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২জুন,ডেস্ক নিউজঃ সৌদি আরবের মন্ত্রিসভায় ফের ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে দেশটির শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। বেকারত্ব দূর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।খবর রয়টার্স

জানা গেছে, শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন নাসের আল গুফাইসকে সরিয়ে দিয়েছেন বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন সৌদ। তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দেশটির বেসরকারি খাতের সফল ব্যবসায়ী আহমাদ বিন সুলাইমান আল রাজেহীকে। আহমাদ বিন সুলাইমান সৌদির ঐতিহ্যবাহী ব্যাবসায়ী পরিবার আল রাজেহী’র অন্যতম সদস্য। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী।

দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আল উলা প্রদেশের গভর্নর প্রিন্স বদর বিন মোহাম্মদ বিন ফারহান আল-সৌদ। ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ধর্মীয় পুলিশ প্রধান শেখ আব্দুল আতিফ আল-শেখকে।

আগামী ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে ১২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছেন যুবরাজ সালমান। এদিকে মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানসমূহের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। জুবেইল ও ইয়ানবুর রয়্যাল কমিশনের প্রধান করা হয়েছে আব্দুল্লাহ আল-সাদানকে।

এছাড়া সৌদি যুবরাজের আদেশক্রমে একটি নতুন পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে জেদ্দা ঐতিহাসিক প্রকল্প বিভাগ। এটি নিয়ন্ত্রণ করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৬মে,নড়াইল প্রতিনিধিঃনড়াইলে কাল বৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে গাছ পালা, ঘরবাড়ি, মৌসুমী ফল এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে কয়েক হাজার গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে গেছে ও উপড়ে গেছে গাছ, কাঁচা ও আধা পাকা ঘর পড়ে গেছে, উঠতি বোরো ফসল এবং আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার (৫ মে) সন্ধ্যায় ও রাত ২টার দিকে জেলার ওপর দিয়ে প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপি কাল বৈশাখী ঝড় এবং বৃষ্টিপাত হয়।

এ ঝড়ে জেলার প্রায় প্রত্যেক গ্রামে হাজার হাজার গাছের গাল ভেঙ্গে যায় এবং গাছ উপড়ে পড়ে। কয়েক’শ কাঁচা ও আধা পাকা ঘরের টিন ও বেড়া পড়ে গেছে। এছাড়া উঠতি বোরো ধানের গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে এবং জমিতে কাটা ধানের ওপর বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে আম ও লিছু ঝরে গেছে।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসরণ অদিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেছেন, প্রায় ৭০ ভাগ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে। যদি আর কোনো দূর্যোগ না হয় এবং পানি টেনে যায় তাহলে বোরো ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫ডিসেম্বর,ডেস্ক নিউজঃ     মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ধোয়া মোছা শেষে রং তুলির আঁচড়ে বর্ণিল রূপ ধারণ করেছে মহান এই স্থাপনাটি। ইটের দেয়াল থেকে শুরু করে বাগানের ঘাসকেও সাজানো হয়েছে পরিপাটি রূপ দিয়ে।

ফুলে ফুলে অন্যরকম এক পরিবেশ বিরাজ করছে গোটা স্মৃতিসৌধে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃংখলা বাহিনীও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মহান বিজয় উদযাপনের জন্য দুই সপ্তাহ ধরে অর্ধ শতাধিক পরিছন্নকর্মী স্মৃতিসৌধে নিয়োজিত রয়েছে। ধোয়া মোছা থেকে শুরু করে এখন সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। এজন্য ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন শুধুই মূল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।

আগামীকাল (শনিবার) বিজয় দিবসের প্রত্যুষেই শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর। এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেত্রী, মন্ত্রী-সাংসদ, বিচারক, কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানাবেন শহীদদের প্রতি।

শ্রদ্ধা নিবেদন নির্বিঘ্ন করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন স্থানীয় পুলিশ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান জানিয়েছেন, পুরো জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকা থাকবে নিরাপত্তার চাদরে। সিসি টিভি ক্যামেরা দিয়েও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

আগামীকাল (শনিবার) শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর পালা শেষ হলে সর্ব সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক। এরপর স্মৃতিসৌধের মূল বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন সাধারণ মানুষ।

 

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ধান, আলুসহ শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নি¤œচাপের কারনে গত শুক্রবার রাত থেকে কমলগঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসময়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর আমন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১৭ হাজার ২শ’ হেক্টর। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তাছাড়া প্রায় সতেরশ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি আবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের কারনে কাটা ধান ও শুকানোর জন্য অপেক্ষমান ধান এবং আলু সহ শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
কৃষকরা বলেন, এবছর বৃষ্টিপাত, বন্যা আর জলাবদ্ধতায় গত বোরো, আউশ ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমন ফসল ঘরে তোলার এই অসময়ে বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে থাকা ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ছে। নিচু জমিতে পানি জমায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ধান কাটার পর মাড়াই দেয়া ও সিদ্ধ করা ধান ঘরে থাকায় সেগুলোতেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তারা আরও বলেন, টানা বৃষ্টিতে রোপিত আলুর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। অন্যদিকে টমেটো, ফরাস, সরিষা, পুঁইশাক, লাল শাক, লাই শাক সহ শীতকালীন শাক-সবজিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বার বার ফসল ও সবজি ক্ষেতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, এখন শুষ্ক মৌসুমে নি¤œচাপ জনিত কারনে দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাতে কৃষকদের কিছু আমন ধান ও কিছু শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি এখনও পুরোপুরিভাবে নিরূপন করা সম্ভব হয়নি।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৭আগস্ট,ডেস্ক নিউজঃ   মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের তিনটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শহর মংডু, রাথিডং ও বুচিডংয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের উখিয়া ও ঘুমধুম ঢেকুবনিয়া এলাকায় গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা থেকে আবারও ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও রাখাইন নির্যাতন থেকে বাঁচতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা। অনেকেই মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশে ঢুকবে বলে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এসব শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ এখনো চলমান রয়েছে বলে জানান শুক্রবার গভীর রাতে নাফনদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা জাহিদ হোসেন (২২)। জাহিদ মিয়ানমারের মংডু থানার ধনখালী গ্রামের দিল মোহাম্মদের ছেলে। মিয়ানমারে বোমার আঘাতে জাহিদের শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিয়ানমার বাহিনীর বোমা হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে জাহিদ পূর্বকোণকে বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। তখন আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। পরিবারের অন্যান্য চার সদস্য কোথায় আছে জানি না। আমি শুক্রবার রাতে টেকনাফের নাফ নদী হয়ে শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে ট্রলার নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এসময় ঐ ট্রলারে ছিল বোমার আঘাতে ক্ষত–বিক্ষত আরও ২৭ জন রোহিঙ্গা। তারা সবাই বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। তবে কে কোথায় গেছে কোথায় অবস্থান করছে জানি না। হয়ত অনেকেই হ্নীলার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতে পারে। কারণ ওখানে অনেক স্বজন রয়েছে।
জাহিদের সাথে পালিয়ে আসা বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত আরেকজন মোহাম্মদ সাদেক (২০)। তিনি একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর ছেলে। আহত সাদেক জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। সে বোমার আঘাতেই ক্ষতবিক্ষত হন সাদেক। গুরুতর সাদেক পালিয়ে আসেন নাফ নদীর কিনারায়। তারপর একটি ট্রলারে এরকম নির্যাতনের শিকার আরও ২৭ জনের সাথে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
টেকনাফের হ্নীলা অনিবন্ধিত লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি–ব্লকের ১২০ নং বাসার বাসিন্দা ও আহত জাহিদের ভাগিনা মোহাম্মদ হোসাইন জানান, শুক্রবার রাতে খবর পেয়েছিলাম বৃহস্পতিবার মিয়ানমার বাহিনীর বোমার আঘাতে মামা জাহিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। এরপর শুক্রবার গভীর রাতে মামা শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে আমি মামাকে প্রথমে টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের এনজিও সংস্থার একটি হসপিটালে ভর্তি করি। ওখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এরপর বিকালের দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহীন মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে জাহেদ ও সাদেককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তারা মিয়ানমার থেকে বোমায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পালিয়ে এসেছেন বলে জানান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের ৫ম তলায় ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের উখিয়া ও ঘুমধুম ঢেকুবনিয়া এলাকায় গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার থেকে প্রচ– গুলিবর্ষণে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। মিয়ানমারের আইন–শৃংখলাবাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে উখিয়ার সীমান্ত এলাকা বালুখালী, ঘুমধুম, তুমব্রু, ঢেকুবনিয়া এলাকা ও সীমান্তের জনপদ জুড়ে সাধারণ লোকজনের মাঝে উদ্বেগ ও অজানা আতংক দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক জরুরি সভায় প্রশাসনসহ আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর সকলকে কড়া সতর্ক অবস্থায় থেকে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য জড়ো হওয়া লোকদের মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেছে। শনিবার ভোরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাফেজ হারুন (৩৫) নামের গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি মিয়ামারের মংডু ফকিরা পাড়ার শামশুল আলমের ছেলে। তাছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মংডু এলাকার মুসা নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রাত থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর বরাত দিয়ে মাইকিং করে সাগরে মাছ ধরার ট্রলারসমূহ না যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে বলে মাইকে এমন প্রচারণা চালানো হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করে সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, শুক্রবার রাতে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে মিয়ানমারের মেরুল্লা ও হাইসসুরাতা এলাকায় ব্যাপক আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। বঙ্গোপসাগরে দেখা গেছে মিয়ানমার নৌ–বাহিনীর ৩টি জাহাজ। এ কারণে কোনো মাছ ধরা নৌকাকে পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ ও পুর্বে না যেতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মঞ্জুর হেলালী জানান– বালুখালী, ঘুমধুম তুমব্রু বেতবনিয়া এলাকার বাসিন্দারা মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনীর মুহূর্মুহূ প্রচ– গুলিবর্ষণের ঘটনায় সীমান্ত আতংকিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিচ্ছে। বালুখালী গ্রামের মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, শনিবার বিকালে মিয়ানমারের বাহিনী একের পর এক গুলিবর্ষণ শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণের ভয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিচ্ছে। ওপারের গুলিতে এপারে আতংক দেখা দিয়েছে বেশি।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান জানান, সীমান্তের যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে মুসলিম রোহিঙ্গারা। রাতের আঁধারে বিভিন্ন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দলে দলে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে তারা। বিজিবির কড়া নজরদারির মাঝেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গতকাল শনিবার ভোরে উখিয়ার বালুখালী, পালংখালী, উলুবনিয়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যং, লম্ববিল, উনছিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলার পুলের ডেইল, রঙ্গীখালী ও চৌধুরী পাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। শুক্রবার বিকেলে নাফ নদী পাড়ি দেওয়া প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা নারী–পুরুষকে বিজিবি ঠেকাতে পারলেও রাতের বেলা তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
গতকাল শনিবার ভোরের আলো ফোটার পর থেকে ওই এলাকায় তাদের আর দেখা যায়নি। হোয়াইক্যং এর সিএনজি ট্যাক্সিচালক নুর মোহাম্মদ জানান, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সিএনজি, মাহিন্দ্রা ও টমটম যোগে দলে দলে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছে।
এদিকে লেদা শরণার্থী ক্যাম্পের বস্তি কমিটির নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে ইতোমধ্যে ৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তারা টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা, উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পেগুলোতে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি ।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৮৯ জনের মৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে ৭৭ জন রোহিঙ্গা মুসলিম এবং বাকি ১২জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা পুলিশ পোস্টে হামলা এবং একটি সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষ বাঁধে বলে জানা যায়। এরপর শুক্রবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়।সুত্রঃপুর্বকোন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৫আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,নওগাঁঃ নওগাঁর রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীর তিনটি স্থানে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে নদী তীরবর্তি এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । এতে ওই এলাকার বাড়ী-ঘড় পানিতে অর্ধ নিমজ্জিত হওয়ায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে । ক্ষতি হয়েছে মাছ ও ফসলের ।

এছাড়া ছোট যমুনা নদীর নওগাঁ সদরের সাথে রাণীনগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা আত্রাই উপজেলার যোগা-যোগের একমাত্র পাকা রাস্তার প্রায় চারটি স্থানে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে ।
জানা গেছে, গত ক’দিনের একটানা ভারি বর্ষন ও উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে হঠাৎ করেই আত্রাই ছোট যমুনা নদীতে হু হু করে পানি বাড়তে থাকে । পানির চাপে রবিবার রাতে রাণীনর উপজেলার কৃষœপুর সরদার পাড়া,আলাউদ্দীনের ইট ভাটা,ঘোষগ্রাম ঠাকুর পাড়া ও মেরিয়া নামকস্থানে যমুনা নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায় । এতে এক রাতেই ওই এলাকার কৃষœপুর,ঘোষগ্রাম,নান্দাইবাড়ী,মালি ,আতাইকুলা,হরিশপুর কুজাইল,মেরিয়াসহ নদী তীরবর্তি এলাকার প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে । এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে ।

বন্যার পানি বাড়ী-ঘড়ে প্রবেশ করায় এলাকার উঁচু রাস্তা এবং কয়েকটি স্কুলে স্থান নিয়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। সংশ্লিষ্ঠ সুত্র মতে ওই এলাকার প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপিত ধান পানিতে তলে গেছে । পাশা-পাশি ওই এলাকার পুকুর ডুবে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে । বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল । এছাড়া নওগাঁ-আত্রাই পাকা রাস্তার রাণীনগর উপজেলার কুজাইল স্লুইচ গেইট,দূর্গাপুর,প্রেমতলি ও নান্দাইলবাড়ী নামকস্থানে ব্যপক ফাটল দেখা দিয়েছে।

এই সকল স্থানে কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও গোনা ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এলাকার জনপ্রতিনিধসহ স্থানীয় লোকজন বালির বস্থা ভরাট করে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছেন। যে কোন সময় রাস্তা ভেঙ্গে গেলে এলাকার হাজার,হাজার হেক্টর জমির ফসলহানীসহ পানি বন্দি হয়ে পরবে প্রায় লক্ষাধীক মানুষ । বন্ধ হয়ে যাবে নওগাঁ সদরের সাথে আত্রাই উপজেলার যোগা-যোগ ব্যবস্থা।
এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড: আমিনুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকায় পরিদর্শন করে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এবং সবাইকে বন্যার্তদের পার্শ্বে দ্বাড়ানোর আহ্বান জানান ।
এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান,ঝুঁকি পূর্ণ স্থানে ব্যাপক নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে । এছাড়া ওই এলাকায় চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে । তাছাড়া বন্যা কবলিত লোকজনের জন্য জরুরি ভাবে ৩ মেট্রিকট্রন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪আগস্ট,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই-সিংড়া সড়কের মালিপকুর নামক স্থানে গতকাল সোমবার ভোর রাতে ভেঙ্গে যাওয়ায় আত্রাই-সিংড়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সকল প্রকার যানবাহন  চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই এলাকার শতশত হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এদিকে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

গত বেশ কয়েকদিন থেকে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে আত্রাই নদীর পানি হুহু করে বেড়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদী এলাকার শত শত জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ গুলো হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। এ সড়কটি ভাঙ্গার ফলে উপজেলার মালিপকুর, জগদাশ, গুড়নই, শিকারপুর, মধুগুড়নই, সাহেবগঞ্জ, খঞ্জর, জয়সাড়া, নবাবের তাম্বু, পবনডাঙ্গা, বিপ্রবোয়ালিয়া, ক্ষুদ্রবোয়ালিয়া, বাকিঅলমাসহ আশপাশের এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ও মাটির কাঁচা বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অপর দিকে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ১নং শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ, জাতোপাড়া, মিরাপুর, ফুলবাড়ি, পূর্বমিরাপুর, জাতআমরুল জিয়ানীপাড়া, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের সন্নাসবাড়ি, পারশিমলা, চকশিমলা, হাটকালুপাড়া, হাটুরিয়া, দরগাপাড়া, দ্বিপচাঁদপুর, পাহাড়পুর, বড়াইকুড়ি, পাইকারা, নন্দনালী, কুসুম্বাসহ প্রায় ২৫ টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আফসার আলী প্রামানিক বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছি। এটি যাতে দ্রুত মেরামত করা যায় সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমান জানান, আমি সকালে নিজে গিয়ে ভাঙ্গা স্থানটি দেখেছি এবং বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন আত্রাইয়ের বন্যা পরিস্থিতি আমরা নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সকল জনপ্রতিনিধিদের সজাদ থাকতে বলা হয়েছে। কোন জায়গায় যেন বাঁধ ভেঙ্গে জনগণের জানমালের ক্ষতি না হয় এ জন্য আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২জুলাই,মিজানুর রহমান সৌদি আরব থেকেঃ সৌদি আরবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জড়িত পদগুলোতে ব্যাপক রদ-বদল এনেছেন বাদশা সালমান। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন।

রাজকীয় নিরাপত্তা দেখ-ভাল করার কাজে নিয়োজিত বাহিনীর প্রধানকেও সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নতুন আরেকজনকে।ক’দিন ধরেই রদবদলের খবর আসছে তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব থেকে। ভ্রাতুষ্পুত্রের জায়গায় নিজের পুত্রকে আকস্মিক যুবরাজ ঘোষণার খবর পুরনো হতে না হতেই এবার এসেছে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার খবর। রাজ-নিরাপত্তার সাথে জড়িত উঁচু পদগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। নতুন করে গঠন করেছেন একটি নিরাপত্তা এজেন্সি বা ‘সিকিউরিটি কাউন্সিল’।
এই এজেন্সিতে, একই ছাতাতলে কাজ করবে কাউন্টার টেররিজম এন্ড ডোমেস্টিক ইন্টেলিজেন্স বা সন্ত্রাস বিরোধী ইউনিট এবং সৌদির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা-বাহিনী।রাজ-নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর প্রধানকে-ও তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে নতুন আরেকজনকে। বাদশাহ সালমানের ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফ-এরই যুবরাজ এবং ভবিষ্যতে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর দায়িত্ব পান বাদশার নিজের পুত্র সালমান। বাদশাহ সালমানের ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফ-এরই যুবরাজ এবং ভবিষ্যতে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর দায়িত্ব পান বাদশার নিজের পুত্র সালমান। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান, যিনি মাত্র ক’দিন আগেই আকস্মিকভাবে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন, তার টিমেও এসেছে পরিবর্তন। বাদশাহ সালমানের ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফ-এরই যুবরাজ এবং ভবিষ্যতে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু হঠাৎ করেই সিংহাসনের উত্তরাধিকারীর দায়িত্ব পান বাদশার নিজের পুত্র সালমান।
সৌদি নিরাপত্তাখাতে যে ব্যাপক রদবদল এসেছে, তা জানা গেছে বৃহস্পতিবারে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর প্রকাশিত খবরের বরাতে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যে সব পরিবর্তন এসেছে তার সাথে সঙ্গতি রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি রাখতেই আনা হয়েছে এই পরিবর্তন।
নতুন যে সিকিউরিটি এজেন্সি গঠিত হয়েছে এর প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুলাজিজ বিন মোহাম্মদ আল-হাওয়াইরিনি।
নতুন এই এজেন্সির সকল তথ্য জানিয়ে এই জেনারেল সরাসরি সৌদি বাদশার কাছে রিপোর্ট করবেন। রয়াল গার্ডের জেনারেল হামাদ আল-আওহালীর জায়গায় স্থালিভিষিক্ত হয়ে নতুন প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন জেনারেল সুহেইল আল-মুতিরি। আর এজেন্সি প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আল-কুয়ওয়াইজ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc