Saturday 31st of October 2020 01:53:58 AM

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ  জৈন্তাপুরে নিজস্ব পতিত ভূমি বোরো ধানের আওতায় নিয়ে আসতে সোটারী সেনগ্রাম কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে ৭১টি পরিবারের প্রায় ৫শত একর ভূমি প্রথম বারের মতন বোরা ফসলের আওতায় নিয়ে আসতে নিজ উদ্যোগে ১০হাজার ফুট বেড়ী নির্মাণ ও বাধঁ রক্ষায় বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী পালন করে।
সরেজমিনে ঘুরে যানাযায়, হিঙ্গারীকোন (শিংকুড়িকোনা) এলাকার সোটারী সেনগ্রামের কৃষকদের নিজস্ব ভূমি পতিত হিসাবে হাওরে পড়ে রয়েছে বিশেষ করে বেড়ী বাঁধের অভাবে কোন সময় পতিত ভূমিগুলো কৃষি চাষাবাধঁদের আওতায় আসেনি। এবার নিজ উদ্যোগে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথম বারের মত প্রায় ৭১টি পরিবারে সদস্যরা প্রায় ৪০লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১০হাজার ফুট বেড়ী বাঁধ নির্মাণ করে প্রায় ৫শত একর ভূমি বোরোধান চাষাবাদের উপযোগী করে তুলে। বাঁধটি বন্যার পানি এবং ফসল রক্ষার জন্য সোটারী সেনগ্রাম কৃষক সংগঠন বাঁধটির উপর ১৫হাজার বৃক্ষের চারা রোপনের উদ্যোগনেন।

২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১১টায় সংগঠনের সভাপতি আহমদ আলীর সভাপতিত্বে জৈন্তাপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেব আহমদ, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নোমান আহমদ, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির উপস্থিতিত হয়ে বৃক্ষের চারা রোপন উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত আরও উপস্থিত ছিলেন সোটারী সেনগ্রাম কৃষক সংগঠনের সদস্য কলিম উল্লাহ, আহমদ আলী, হানিফ আলী, নুরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, হাজী নজির হোসেন, কুদ্রত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে বাঁধটি নির্মাণ করার ফলে স্বাধীনতার পরবর্তীতে প্রথমবারের মত আমাদের নিজস্ব পতিত ভূমিগুলো চাষাবাঁধের আওতায় নিয়ে আসায় আমাদের ৭১টি পরিবারের ৮শতাধীক সদস্যরা নিজ উৎপাদিত ধানে দিয়ে পুরো বৎসর চলে গিয়ে আরও বিক্রয় করতে পারব। আমরা আশাবাদি জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিস যদি কৃষকদের মধ্যে বোরো ধান চাঁষের পরামর্শ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তাহলে আমরা চাহিদার চাইতে আরও বেশি ফলন পাব। উপজেলায় সর্ববৃহত বোরো ধানের একটি বড় প্রকল্প হবে হিঙ্গারী কোন (শিংকুড়িকোনা) বোরো ধান প্রকল্প।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি তাদের নিজস্ব ভূমিতে বাঁধ নির্মাণ করে বোরো ধান চাষের আওতায় নিয়ে আসার কারনে ফাল্লি বিলের ইজারাদার আব্দুল খালিক, জয়নাল মিয়া, আব্দুল্লাহ ও তোতা মিয়া গংরা শত্রুতা শুরু করেছে। তারা বাঁধটি ভাঙ্গার পায়তারা করতেছে। ইতোমধ্যে ইজারাদার গংরা ফাল্লি বিল ইজারা নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে তাদের বাঁধটি তিনটি অংশে কর্তন করে। এই বাঁধ কর্তনের কারনে চাষাবাধেঁর ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক আইনি সহযোগিতা কামনা করেন।

ভরা মৌসুমে কৃষকের চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠেছে

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে এবারে বোরো ধানের যেমন ফলন হয়েছে তেমনি দামও পাচ্ছে কৃষকরা। ধান কাটার ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বিগত কয়েক বছর থেকে বোরো ধানে লোকসানের শিকার হয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। এবারে ধানের ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় তারা আর হতাশ নয় বরং তারা কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
জানা যায়, গত বেশ কয়েক বছর থেকে আত্রাইয়ে বোরো ধানের চাষ করে কৃষকরা লোকসানের শিকার হচ্ছিল।

ধান পাকার মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া, পানিতে ধান ডুবে যাওয়া, শ্রমিক সংকট ও নানাবিধ সমস্যার কারনে বোরো চাষে কৃষকদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। যার ফলে এবারে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তারপরও যেহেতু এ আবাদই এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসার আবাদ তাই প্রতি বছরই তাদের বোরোচাষ করতে হয়। এবারে বোরো চাষ করে বাম্পার ফলন ও বাম্পার মূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক আজাদ আলী সরদার বলেন, বিগত দিনের তুলনায় এবারে আমরা বোরো ধানের সর্বাধিক ফলন পেয়েছি। আমাদের এলাকায় সকলেই জিরাসাইল ধানের আবাদ করে। এ ধানের চাল চিকন, ভাত খুব মজাদার তাই এলাকাজুড়ে এখন এ ধানেরই চাষ করা হয়। আমার এবং আমাদের মাঠে অন্যান্য কৃষকের জমিতে এবারে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ২৮ মণ হারে বোরো ধান উৎপন্ন হয়েছে।
বজ্রপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান রুবেল বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারনে আমরা ধান কাটা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ছিলাম। কিন্তু ধান পাকার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ধান কাটা শ্রমিকদের আসা নিশ্চিত করায় এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন আমাদের পাশে দাঁড়ানোর ফলে আমাদের কোন দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। এবারে আমরা ধানের যে দাম পেয়েছি তাতে বোরো চাষে আমরা লাভবান হয়েছি। বর্তমানে আমাদের এখানে জিরাসাইল ধান ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, এবারে বোরো চাষের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া, যথাসময়ে ধানের চারা রোপন, সঠিক পরিচর্যা সবকিছু মিলে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে ধান কাটার সময় আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং ধানকাটা শ্রমিক যথাসময়ে পৌঁছানো নিশ্চিত করায় কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। বর্তমানের বাজারে ধানের যে দাম রয়েছে প্রতি বছর ধানের এমন দাম পেলে কৃষকরা বোরাে চাষে আরও ঝুঁকবে।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ   সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বোরো ধান কাটা উদ্বোধন করেন,তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শনির হাওরে এসময় তিনি কৃষক ও ধান কাটা শ্রমিকদের মাঝে মাঝে মাস্ক ও জীবানুনাশক সাবান বিতরণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দোলা,তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন,তাহিরপুর উপজেলা আ,লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম,তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন পলাশ,কৃষি সম্প্রসারন অফিসার একরামুল হোসেন,উপসহাকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিমা আক্তার,ছাত্রলীগ নেতা ধীমান চন্দ্র,মনিরাজ শাহসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষক,শ্রমিক প্রমুখ।
এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দোলা বলেন, এবার বেরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওরে ৩শত হেক্টর বোরো ধান পেকেছে আর ২০হেক্টর ধান কাটা হয়েছে। যারা ধান কাটেন তাদের নিয়ে ১০৬টি টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের সাথে কথা হয়েছে। আমাদের ধান কাটা মেশিন আছে,এছাড়াও গ্রামে থেকে যারা শহরে গিয়ে কাজ করত তারা শহর থেকে ফিরে এসেছে,বালু মহল,শুল্ক ষ্টেশন বন্ধ থাকার শ্রমিকগন বাড়িতেই অবস্থান করছে। তাদের ধান কাটায় লাগাতে পারলে শ্রমিক সংকট হবে।
এসময় উপজেলার নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানাজি বলেন,কৃষক,শ্রমিক সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে করোনা মোকাবেলা করতে হবে। তাই ধান কাটার সময় সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ধান কাটা,মাস্ক ও সাবান বিতরণ করেছি কৃষক ও শ্রমিকদের সচেতন করতে। আর শ্রমিক সংকট দুর করতে বালু মহল,শুল্ক ষ্টেশনের শ্রমিকদের আহবান জানিয়েছি।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার খাদ্যশস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত আত্রাই উপজেলার প্রতিটি মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান রোপনের জন্য কৃষকের জমি প্রস্তুতির কাজ। উত্তরের হিমেল হাওয়া, হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, রাইপুর, কালিকাপুর, ভবানীপুর, রসুলপুর মাঠসহ বিভিন্ন মাঠে চলছে বোরো ধানের চারা রোপনের কাজ। তবে ধান রোপনে বিলম্ব হওয়ায় ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশায় বোরো বীজতলা তৈরি করা থেকে শুরু করে চারা রোপন করা পর্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে চাষিদের। ইতিমধ্যে নানা সমস্যার মধ্যেও বোরো চারা রোপনের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। এখন গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপনের কাজ চলছে। কোনো জমিতে চলছে চাষ, বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে বীজ, চলছে রোপন সব মিলিয়ে মাঠে মাঠে জোরেশোরে চলছে বোরো ধান রোপনের কাজ।

কৃষকরা বলছেন, এক ফসল বিক্রি করে অন্য ফসল আবাদ করা হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে ধান চাষে বার বার লোকশান হওয়ায় কৃষকরা ধান চাষ থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। লোকশানের কারণে উপজেলার কৃষকরা পাইকারী হারে কৃষিজমিগুলো লিজ দিয়ে তৈরি করছেন মাছ চাষের পুকুর। এতে করে স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ৩ফসলী কৃষি জমি। বাজারে এখন ধানের দাম কম। অন্যদিকে আবাদের উপকরনের দাম বাড়তি। ফলে চাষীরা নিজেরাও আবাদের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে ধানের দাম না থাকায় সবচেয়ে বিপাকে আছেন বর্গাচাষীরা।

কাহাগোলা গ্রামের চাষি আজাদ সরদার বলেন, গত বছর তিনি ৮বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এবার করছেন ৫বিঘা জমিতে। প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশাকে উপেক্ষা করে প্রায় জমি তৈরির কাজ শেষের দিকে। আর ক’দিনের মধ্যে চারাগাছ রোপন করা শুরু করবো।

তিনি আরোও বলেন, লাগাতার ধানের দাম না থাকার কারণে আবাদি জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। আবার যতদিন যাচ্ছে আবাদ খরচও বেড়ে যাচ্ছে। গত বছর বিঘা প্রতি আবাদে খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এবার বিঘা প্রতি খরচ ৬হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ কারণে শ্রমিকের মজুরি ৩৫০টাকার উপরে দিতে হচ্ছে। ড্যাপ সার প্রতি বস্তা ৭৮০ থেকে ৭৯০ টাকা। আমদানি কম হলে দাম বেড়ে যাবে। ইউরিয়া সার বস্তা প্রতি ৮০০, এমওপি ৭৫০টাকা। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য খরচ। এবছর শুধুমাত্র ডিএপি সারের দাম কমেছে। বাকি সারগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সারগুলোর দাম কমলে উৎপাদন খরচ কমতো। এছাড়া কীটনাশকের দাম কখন বাড়ে আর কখন কমে তা বলা অসম্ভব।

ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী বলেন, পৌষ মাসের শুরুতেই বোরো ধান রোপন করা শেষ হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু প্রচন্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে কৃষকরা মাঠে নামতে পারেননি। তাই চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপনে কিছুটা বিলম্ব হয়ে গেলো। এতে করে ফলনও একটু ব্যাহত হতে পারে। এবছর তিনি ১০বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত মৌসুমে তিনি ১৭ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছিলেন। মূলত ধানের দাম না থাকার কারণে আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। বাজারে ধানের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মণ বিক্রি করতে হচ্ছে। ধানের এমন দামে আবাদ করলে চাষাবাদের খরচও উঠবে না বরং ঋণের বোঝা আরো বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাউছার হোসেন বলেন, ধানের দাম না থাকায় গত কয়েক বছর থেকে বোরো ধানের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কম হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য ফসলের তুলনায় বোরো ধানে অধিক পরিমাণে সেচ দিতে হয়। আর সেচ দেয়ার জন্য গভীর নলকূপের উপর ভরসা করতে হয়। ফলে ভূগর্ভস্থ পানি অধিক পরিমাণে উত্তোলনের কারণে পানির স্তরও নীচে নেমে যাচ্ছে। বাড়াতে হবে আমন, আউশ, গম, আলুসহ বিভিন্ন লাভজনক রবি শস্যের আবাদ। এতে করে একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

তিনি আরোও জানান, উপজেলায় চলতি বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৮হাজার হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় শতকরা ৪৫শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপন করা সম্পন্ন হয়েছে। অতিদ্রুত পুরো উপজেলার সকল মাঠের জমিতে বোরো ধান রোপন করা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদি। এছাড়াও উপজেলার কৃষকদের বোরো বীজতলা তৈরি করা থেকে শুরু করে জমিতে চারা রোপন করা পর্যন্ত সকল পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। কৃষি অফিস যে কোন প্রয়োজনে যে কোন সময় কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে হাওর জুড়ে বোরো মওসুমে সোনালী ধানের শীষ দেখে নতুন স্বপ্ন আর মৌ মৌ গন্ধে মাতুয়ারা হাওর পাড়ের কৃষকগন। বছরে একটি মাত্র ফসলকে ঘিরেই হাওরা লের মানুষের যত স্বপ্ন আশা। ভাল ফলন হওয়ায় সোনাঝরা হাঁসি ফোটেছে তাদের মুখে। বহু প্রত্যাশীত সোনালী ফসল ঘরে তুলতে কৃষকর-কৃষকরা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে। বোর ফসলের উপর নিভর্রশীল এ অ লের কৃষকরা বৈশাখ মাসে ধান গোলায় উঠাতে পারলে কৃষকদের পরিবার আনন্দময় হয়ে উঠবে। নতুবা বিষাদের ছায়া নেমে আসবে দেশের ধান ভান্ডার খ্যাত সুনামগঞ্জে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়,চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ১১টি সুনামগঞ্জ,জামালগঞ্জ,ছাতক,জগন্নাথপুর,তাহিরপুর,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা,বিশ^ম্ভরপুরসহ ১১টি উপজেলার-মাটিয়ান হাওর,শনির হাওর,সোনামোড়ল হাওর,খরচার হাওর দেখার হাওর,পাকনা হাওর,হালির হাওর,আঙ্গারুলী হাওর,কালিকোট হাওর,ধারাম হাওর,ধানকুনিয়া হাওরসহ ছোঠ বড় ৪৬টি হাওরের বিস্তৃর্ণ ফসলী মাঠ এখন সোনালী ধানের শীষ বাতাশে দোল খাচ্ছে।

উপজেলার ছোট বড় সবক’ টি হাওরে ২লাখ ২৪হাজার ৫শত ৫২হক্টর বোরো জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৬হাজার ৬৯হেক্টর,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ২২হাজার ৩শত ২৯হেক্টর,জামালগঞ্জে ২৪হাজার ৬শত ৯হেক্টর,ধর্মপাশা ৩১হাজার ৭ শ ৯৬হেক্টর,তাহিরপুর ১৮হাজার ৩শত ৩৫হেক্টর,দিরাই ২৭হাজার ৯শত ৫৪হেক্টর,শাল্লা ২১হাজার ৯শত ৯৯,জগন্নাথপুর ১৫হাজার ৩৫হেক্টর,বিশ^ম্ভরপুর ১১হাজার ৩শত ৩৫হেক্টর,ছাতক ১৪হাজার ১শ ৯৯হেক্টর,দোয়ারাবাজার ১৩হাজার ৬শত ৩৯হেক্টর। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে হাওর থেকে প্রায় ৪হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এসব হাওর জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বছরের পর বছর ধরে।

জেলার সচেতন হাওরবাসী জানান,গত ১৬-১৭সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লাগামহীন দূর্নীতি আর অনিয়মের কারণে মার্চের শেষ ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের বৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে একের পর এক হাওর ডুবে ফসল হারিয়ে এজেলার লাখ লাখ কৃষকরা স্বর্বশান্ত হয়েছিল। হাওর পারের মানুষ কাজের সন্ধানে ছুটে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। ফসল বিপর্যয়কে সামনে রেখে কৃষকদের আন্দোলনে ২০১৮সালে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় বাঁধ নির্মানে নতুন নীতিমালা করে ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে। সরাসরি সংযুক্ত করা হয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে। কিন্তু এতেও হাওর বাচাও সুনামগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও কৃষকরা বলেছেন গত বছরের চেয়েও এবার কাজের মান নিন্ম মানের হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে গাফিলতি হওয়ায় হাওর বাচাও,সুনামগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের ব্যানারে জেলা-উপজেলায় মানব বন্ধন হয়েছে।
হাওর পাড়ের কৃষক সাকিব মিয়া,সাইদুল,আহসান জানান,এবার ফসল ভাল হয়েছে। হাওরের সোনালী ধানের দিকে তাকালে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। কিন্তু মেঘলা আকাশ দেখলেই উৎবেগ,উৎকণ্ঠা আর বজ্রপাত,শীলাবৃষ্টির ভয়ে কৃষকগন থাকেন সারাক্ষন আতংকের মাঝে। এবারও বাঁেধ দূর্নীতি হওয়ায় আমরা কৃষকরা সারাক্ষনেই ভয়ের মাঝে আছি বাঁধ ভাঙ্গার আতœংক নিয়ে। কোন রখমে কষ্টের ফলানো বেরো ধান গোলায় তুলতে পারলেই হল।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান,এবারও হাওরে সামন্য কিছু ক্ষতি হয়েছে শুধু সময় মত বৃষ্টি না হওয়ায় কারনে। আশা করি কৃষকরা তাদের কষ্টের ফলানো সোনালী ধান এবার ভাল ভাবেই তাদের গোলায় তুলতে পারবে। সবাইকে দ্রুত ধান কাটার জন্য বলা হয়েছে আবহাওয়ার অবস্থা বিবেচনা করে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুবকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,বাঁধের কাজ শেষ। সার্বিক দিক থেকে বলা যায় এবারো ভালো কাজ হয়েছে। বৃষ্টিতে প্রকল্পের কাজে মাটি লেভেলিং,ড্রেসিং,মজবুতকরনসহ দূর্বাঘাস লাগানো হচ্ছে। চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জের ৪২টি হাওরে ৫৭২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৪৫০কিলোমিটার ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করেছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৯৭কোটি ৫৫লাখ টাকা।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০জানুয়ারী,নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ): শস্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এবার ইরি বোরো চাষ প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে থমকে দাঁড়িয়েছে। চলমান শৈত্যপ্রাবাহ আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বীজতলার চারা গাছগুলো লালচে আর হলুদ হয়ে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সময়মতো বোরো আবাদ করতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন- চলমান শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যের আলো না পাওয়ায় বীজতলার চারা গাছগুলো ‘কোল্ড ইনজুরি’তে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। এদিকে তীব্র শীতের কারণে দিনমজুররা মাঠে নামতে পারছে না। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ইরি বোরো রোপণে দিন দিন ভাটা পড়ছে।
প্রতিবছর ঠিক এই সময়ে ইরি বোরো চাষে কৃষকরা বীজতলা থেকে বীজ উত্তোলন, দিনরাত সেচ পাম্প খোলা এবং চারা রোপণে ব্যস্ত দেখা গেলেও এবার মাঠে সে দৃশ্য খুব অল্পই চোখে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ ইরি বোরো বীজতলা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বাড়েনি। লালচে হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঠে কৃষকদের ইরি বোরো রোপণ করতে দেখা যাচ্ছে খুব কমই। সেচ পাম্পগুলো অল্পই চালু রয়েছে। অথচ এ মৌসুমে মাঠে মাঠে ইরি বোরো রোপণে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকদের ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। দিন রাত সেচ পাম্পগুলো খোলা থাকত। ট্রাক্টরে জমি চাষের দৃশ্য ছিল অহরহ। সকালে বীজতলা থেকে চারা উঠাতে ব্যাস্ত থাকত কৃষাণ-কৃষাণীরা।
এ ব্যাপারে উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক মো: আজাদ আলী সরদার জানান, “তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে ইরি বোরোর চারা বড় হচ্ছে না। লালচে রং ধরে শুকিয়ে যাচ্ছে। চারাগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। দুর্বল চারায় ফলন ভালো হবে না।
উপজেলার ভোঁপাড়া গ্রামের বোরো চাষী রাব্বানী জানান, “এসময় প্রতিদিন দিনমজুর হিসাবে অধিক টাকায় মাঠে ব্যাস্ত থাকলেও শীতের কারণে বর্তমানে ইরি বোরো রোপণ করা যাচ্ছে না। প্রচন্ড ঠান্ডার কারনে কিছুক্ষন রোপণ করার পর হাতে আর কাজ করার মত অনুভূতি পাওয়া যায় না। তাই বসে আছি। ওই গ্রামের সেচ পাম্পের মালিক মানিক সরকার জানান, “কৃষকরা মাঠে নামছে না। তাই জমির মালিকরাও ইরি বোরো চাষের জন্য জমি তৈরি করছে খুব কম। একারণেই প্রায় সময়েই সেচ পাম্প বন্ধ থাকছে। আগে এই সময়ে দিন রাত সেচ পাম্প খোলা থাকত।
উপজেলার ভবানীপুর মির্জাপুর বাজারে কথা হলো কালিকাপুর ইউনিয়নের মদনডাঙ্গা ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের বজ্রপুর গ্রামের মো: আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে তারাও জানালেন, বীজতলা লাল এবং শুকিয়ে যাওয়ার কথা। পাশাপাশি জানালেন, তীব্র শীতে মাঠে নামতে পারছে না দিনমজুররা। তাই ইরি বেরো চাষের গতি থমকে গেছে। শীত না কমলে মাঠে নামতে পারবে না কৃষকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলার ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফি উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে এবং সূর্যের আলো কম থাকায় বীজতলার চারাগাছগুলো খাদ্য সরবরাহ না হওয়ার কারণে প্রথমে হলুদ এবং পরে লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা কৃষকদের বীজতলাগুলো সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং বীজতলায় রাতে প্রচুর পরিমাণে পানি জমে রেখে সকালে সেই পানি বদলে আবার নতুন পানি রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ছত্রাকনাশক থিয়োভিট পাউডার ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাউছার হোসেন জানান, ঘনকুয়াশা আর শীতের কারনে সূর্যের আলো না থাকায় বীজতলাগুলো লালচে হচ্ছে। ‘এখনও বীজতলায় বড় ধরণের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা করছি না। আবহাওয়া কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে গেল যে সব বীজতলার চারাগাছগুলো হলুদ ও লালচে হয়ে গেছে সেগুলো আবারও ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু চলমান শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজতলার চারাগাছ নষ্ট হয়ে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে আমাদের মাঠকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে থেকে বীজতলাসহ আক্রান্ত রবি শস্য নিবির পর্যবেক্ষণ ও কৃষকদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছে।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৬মে,হৃদয় দাশ শুভ,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কোন কাজ নেই।ঘরেও মন বসে না। তাই পঁচা ধান কাটতে আইছি। যা পাব তাতেই সন্তুষ্ট। হাওরের তীরবর্তী অংশের ডুবে থাকা আধপাকা পচা ধানেই এখন এমন স্বপ্ন চাষীদের। জেলার হাকালুকি,কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওরের সর্বস্বান্ত কৃষক এখন পঁচা ধান সংগ্রহে ব্যস্ত।

ক’দিন থেকে পানি কমেছে হাওরের তীরবর্তী কিছু এলাকায়।এতে অগ্রভাগ ভেসে উঠেছে মরা পঁচা বোরো ধানের। এমন অবস্থায় হাওর পাড়ের সর্বস্বান্ত কর্মহীন চাষী ঘরে বসে অলস সময় কাটাতে চান না। তাই নেশার টানে এখন তারা ছুটছেন ওই ধান সংগ্রহ করতে।

কৃষকরা নৌকা যোগে বুক পানি কিংবা কোমর পানি থেকে সংগ্রহ করছেন ধান। সারা দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে আনা ধান মাড়াই ও অনান্য প্রক্রিয়া শেষে প্রাপ্ত ধান দেখে শুধুই দু’চোখের জল ফেলছেন।

তারপরও ঘরে না বসে ডুবে থাকা পচে যাওয়া বোরো ধান সংগ্রহে ব্যস্ত হাওর তীরের কয়েকটি এলাকার চাষীরা। মনসান্তনা এমন করে যদি কিছু ধানও ঘরে তুলতে পারেন তাহলে ‘ঊনা উপাস’ (খালি পেটে) থাকার ছেয়ে দু’মুঠো ভাত পরিবার পরিজনের মুখে দিতে পারবেন।

সকলেই শোনান শুধু আশার ফুলঝুরি। কিন্তু উদার মনে প্রকৃত অর্থে সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেন না। যারাই আসেন অধিকাংশ লোক দেখানো জনদরদী সেজে নিজেদের ফাঁয়দা লুটতে।

গেল প্রায় মাস দিন থেকে এমনটিই আচঁ করেছেন তারা।

এশিয়ার বৃহত্তম  হাকালুকি হাওর ও কাউয়াদিঘি আর হাইলহাওরে অকাল বন্যার এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওরের শতভাগ বোরো ধান। একমাস পরও যদি কিছু ধান পাওয়া যায় এই আশায় পচা ধান সংগ্রহে প্রাণপণ প্রচেষ্ঠা চলছে হাওর তীরের কৃষকের।

 

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২৭এপ্রিল,শংকর শীল,হবিগঞ্জ থেকেঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবিরাম বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে উপজেলায় আকাশে মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন।

এতে করে গত কয়েক দিনের ভারীবর্ষণে উপজেলার আবাদি বোরো জমির পাকা ফসল বাতাসে পড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এ বৃষ্টির কারণে অনেক স্হানে কৃষকেরা জমির পাকা ধান কাটতেপারছে না।কাটলেও ধান শুঁকাতে পারছেনা।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,২১এপ্রিল,জাহাঙ্গীর আলমভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ:সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় একের পর এক হাওর ডুবে ফসলের ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই মাছে শনি ভর করেছে। এই শনির দশা শুধু তাহিরপুর উপজেলায় নয় সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় ভর করেছে। এখন মাছ মরতে শুরু করেছে। বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর তা পচেঁ বিশাক্ত গ্যাস সৃষ্টির কারনে মৎস্য সম্পদে ভরপুর এ জেলায় মৎস্য সম্পদ এখন হুমকির মুখে। বাতাশে দুগন্ধ নষ্ট করছে পরিবেশ।

উপজেলার নদ-নদী ও তলিয়ে যাওয়া কয়েক সাপ্তাহের ব্যবধানে হাওরের কাচাঁ ধান পানি পচেঁ দূর্গন্ধ ও পানি বিষাক্ত হয়ে মিঠা পানির মাছ ভেসে উঠছে। এর ফলে হাওর পাড়ের হাজার হাজার মৎস ও কৃষক পরিবার গুলোর উপর বিরুপ প্রভাব পরছে। এসব দেখে হাওর পাড়ের সচেতন মানুষের মনে উৎবেগ আর উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এই বিষাক্ত মাছ খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হচ্ছে। হাওরের চারপাশে এখন পচাঁ দূগন্ধ আর মাছ মরে পচেঁ যাওয়ার দূগন্ধ সর্বতই বিরাজ করায় পরিবেশ বিপর্যয় ঘঠাচ্ছে। বোরো ফসল হারিয়ে কৃষকরা হাওরে মাছ ধরেই এবার বাচাঁর স্বপ্ন দেখছিল তখনেই শুরু হল মাছের মরন।

এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। কৃষকের সব স্বপ-আশা এবার যেন শেষ করতেই এমন দুর্যোগ শুরু হয়েছে হাওর পাড়ে। জানাযায় জেলার তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর সহ কয়েকটি হাওরে মাছ মরে ভেঁেস উঠছে। মাছ গুলো হল,পুটি,টেংরা,ঘনিয়া,বোয়াল মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ। গত কয়েক সাপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার ২৩টি ছোট বড় হাওরের মধ্যে ২০টি হাওর ডুবে গেছে। এসব হাওরে এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। ডুবে যাওয়া বোরো ধানের জমিতে থাকা কাচাঁ ধান পচেঁ পানি দূষিত হয়েছে। এর ফলে পানিতে অস্বাভাবিক হারে হাইড্রোজেন সালফাইট ও এমোনিয়া গ্যাস তৈরী হওয়ায় কারনে পানির অক্সিজেনের মাত্র কমে গেছে।

মাছের স্বাভাবিক জীবন ধারনের জন্য পানিতে যেখানে ৫-৭ পিপিএম অক্সিজেন থাকার কথা সেখানে হাওরের দূষিত পানিতে ২-৪ পিপিএম অক্সিজেনের অভাবে মাছ ভেসে ওঠেছে। সুনামগঞ্জের মাছ,ধান সারাদেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানী হয়। কিন্তু এবার মাছও গেল ধানও গেল। অন্যান্য বছর হাওর তলিয়ে গেলেও মাছ বিক্রি করে সংসার চালানো যেত,এবার সেই আশাও নিরাশায় পরিনত হয়েছে। সরজমিনে বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায়,বিষাক্ত পানি খেয়ে কচ্ছপ,বাইম,বৌয়াল,ভূতিয়া,রুই,ঠেংরা,পুটি,গনিয়া,কালিয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা গেছে। মাছ মরে ভেসে উঠায় জেলেরা আত্মংকে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছে। পানির পচা দূর্গন্ধ বাতাসে ভেসে এসে পরিবেশ নষ্ট হয়ে উঠছে।

হাওর পাড়ের কৃষক ও মৎস পরিবারের সদস্যরা জানান,এই বার ত সব শেষ হাওর গেল,গরু গেল অহন মাছ। এইবার আর বাঁচার উপায় থাকত না। না খাইয়া মরতে হইব। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনরে পক্ষ থেকে মাইকে সতর্ক বার্তায় সাধারণ জনগনকে মাছ না খাওয়ার জন্য পরামশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জরুরী ভিত্তিত্বে পানি বিশুদ্ধ করে মৎস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আহ্বান জানান হাওর পাড়ের সর্ব স্থরের জনগণ।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার পর এখন হাওরে পচাঁ দূগন্ধ আর হাওরের মাছে ভেসেঁ উঠছে। গুরুত্ব সহকারে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১০এপ্রিল,এইচ আর খান,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সহস্রাধিক কৃষকের বোরো ধান ও মৌসুমী সবজি। এতে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। সচেতন মহল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ক্ষতি পূরণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

বড়লেখা উপজেলার বর্ণি, তালিমপুর,দাসেরবাজার, সুজানগর, বড়লেখা সদর, নিজ বাহাদুরপুর, দক্ষিণশাহবাজপুর, উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ও দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় এসব এলাকার প্রায় তিন হাজারেরও অধিক বোরো ধান রয়েছে। হাওর ও হাওর পারের বোরো ধান এবং সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এবার আগাম বন্যায় পূর্বের যেকোন সময়ের বন্যায় এবারের মতো এতো ক্ষতি হয়নি যা এ বছরের বন্যায় হয়েছে। অন্যান্য বছর বন্যা হলেও বন্যার সময় ধান ছিলো আধা পাকা বা পাকা।

বন্যার পানিতে ধান তলিয়ে গেলেও পানি চলে যাওয়ার সাথে সাথে পাকা ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এবার বন্যা আগাম হওয়ায় ধানের ফুল আসার সঙ্গে সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষক পরিবারের কান্না আর মাথায় হাত দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। কৃষকরা জানিয়েছেন, গরু,ছাগল,মহিষ বিক্রি করে ও কেউ কেউ ধার টাকা এনে আবার কেউ কেউ ধানের বিনিময়ে টাকা এনে ধান ক্ষেতে লাগিয়েছেন।

কিন্তু অনাকাংঙ্খিত ভাবে বৈশাখ আসার পূর্বেই বৈশাখী ঝড় ও বন্যার পানিতে বুরো ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সর্বসহ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে উঠেছে। এদিকে মৌসুমী সবজি চাষীরা ধান ক্ষেত থেকে অর্জিত আয় দিয়েই পুরো বছর চলে। বন্যায় ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষীদের চোখের পানিই একমাত্র সম্বল এখন।

এছাড়া উজান এলাকার কৃষকরা বলেন, ষাটমাছড়া, নিখড়িছড়া,মাধবছড়া ও ধলছড়ি দীর্ঘ্যদিন থেকে খনন না করায় ভরাট হওয়ায় ও পরিকল্পিত বাধঁ না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যাবস্থাপনা ও অবহেলার ফলে এ অঞ্চলের ঘরবাড়িতে বছরে দুই তিন দফা পানি উঠে যায়।

এবার আগাম বৃষ্টির ফলে ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় বোরো ধান, সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে মারাত্মক ক্ষতি এবং দুর্ভোগে পড়ে এলাকার কৃষকরা। এব্যাপারে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কৃষকরা।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc