Tuesday 20th of October 2020 08:37:33 PM

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮ফেব্রুয়ারিঃ রোটারী ক্লাব অব বিয়ানীবাজার এর সহযোগিতায় ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্জ বাজিদুর রহমান সন্স এন্ড ট্রাষ্টের অর্থায়নে স্থানীয় ৬০ জন প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, হ্যান্ড ষ্টিকসহ ওয়াকার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল ৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় বিয়ানীবাজার পৌরসভা সদরের ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিয়ানীবাজার রোটারী ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও রোটারী ক্লাবের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ও ক্লাব সেক্রেটারী রোটারিয়ান এমরান হোসেন দীপকের স ালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, রোটারী ক্লাব বিয়ানীবাজারে দুঃস্থ মানুষের কল্যাণে এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ক্লাব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালের সিইও এম. সাব উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকশানা বেগম লিমা, লায়ন্স রিজিওনাল চেয়ারপার্সন লায়ন আবুল হাসনাত, সিলেট এম.সি কলেজের প্রফেসর সামছুদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ আহমদ হোসেন বাবুল, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল হক, বাজিদুর রহমান সন্স এন্ড ট্রাস্টের পরিচালক আলহাজ্ব বাজিদুর রহমান, ট্রাস্টের সেক্রেটারী আমান উদ্দিন, ট্রেজারার মাওলানা মুফতি সাইফুর রহমান, রোটারী ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ফয়জুল ইসলাম সুজেল, রোটারী ক্লাবের চার্টার মেম্বার পিপি রোটারিয়ান গৌছ উদ্দিন খান খোকা, এসিসটেন্ট গভর্নর পিপি রোটারিয়ান সাব্বির আহমদ, আইপিপি রোটারিয়ান সালেহ আহমদ, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান মিজানুর রহমান, ট্রেজারার আব্দুস শুকুর বাবলু, রোটারিয়ান ডাঃ আবু ইসহাক আজাদ, রোটারিয়ান আব্দুল মতিন, রোটারিয়ান আলাল উদ্দিন, রোটারিয়ান দেলোয়ার হোসেন, রোটারিয়ান খোকন, রোটারিয়ান রাজকুমার কর রাজন, রোটারিয়ান জানে আলম, লায়ন্স ক্লাবের সেক্রেটারী সত্যজিৎ দাস প্রমূূখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে রোটারী ক্লাব ও লায়ন্স ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।প্রেস বার্তা।

“সিলেট বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটুর আপন খালাতো বোনের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে প্রকাশিত খোলা চিঠি”

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২০জুলাই,জহিরুল ইসলাম:বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে গত সোমবার গুলিতে নিহত লিটু ছাত্রলীগের কর্মী নয় বলে দাবি করেছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ এবং সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিহত ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ লিটু আসলে ছাত্রলীগের কর্মীই নয়।

গোলাগুলিতে নিহত লিটু একজন বহিরাগত ছাত্র এবং মোবাইল দোকানের স্বত্বাধিকারী বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে নিহত লিটুর খালাতো বোন রুমি বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ভিন্ন কথা। তার লেখা খোলা চিঠিটি হুবুহু নিচে তুলে ধরা হল।

#আমি #রাজনীতি করিনা আর তাই রাজনীতি নিয়ে ও আমার মাথা ব্যাথা নেই। #ভাবছিলাম লিটু হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছুই লিখবো না কিন্তু পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে না লিখলে নিজের বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাব তাই লিখলাম। কারন সে আমার ভাই আর রক্তের সম্পর্ক জড়িত! জানিনা কজনে আমার লিখা টা পড়বেন!? গতকাল যখন লিটুর লাশ টা দেখি ফেসবুকে তখন বুক ফেটে কান্না আসছিল। অনেক কাঁদছি আমি আর এখন ও কাঁদছি। এমন নির্মম নিষ্ঠুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড খুব কম ই দেখা যায়। কাল যখন নিউজ আসতে শুরু হলো দেশি-বিদেশি অনলাইন নিউজপেপার, টিভি চ্যানেল আর ফেসবুকে সবখানেই একটা কথাই স্পষ্ট করে আসছে আর এখনো আসছে যে, লিটু ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। আর এই কথাটা মিডিয়া জগতে পরিস্কার ভাবে সবাই প্রচার করেছেন সাংবাদিক বলেন আর সাধারণ মানুষ বলেন। আমার ও একি কথা যে, লিটু ছাত্রলীগ এর কর্মী ছিল আর তা যে গ্রুপ ই হক নাম দিয়ে কি বা আসে যায়। আসল কথা বিয়ানীবাজারের আপামর জনগণ সবাই সারাদিন একই কথা বলে গেছেন। তবে যারা বলেন নি তাদের দিকে সবার #আংগুল আর তাঁরা কে বা কারা স্পষ্ট করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে আসল ঘটনা শুরু হলো লিটুর জানাযার নামাজের পুর্ব মুহুর্ত থেকে। বিয়ানীবাজারের বর্তমান #নেতা ও #নেতাদের পেছনের নেতারা স্টেটাস দিতে শুরু করলেন যে-কসবা বাঘর টিলা নিবাসী খলিল উদ্দিন এর ছেলে লিটু আজ সন্ত্রাসী হামলায় মারা গেছে। উনারা ছাত্রলীগ কর্মী নামটা কেটে দিলেন। কি চমৎকার বহিঃপ্রকাশ উনাদের ওয়াও!! ওয়াও!! বেঁচে যখন ছিল তখন তো সব মিছিল মিটিং এ ঠিক অংশ গ্রহন করাতেন আর মরে গেল তখন চাঁচা আপন জান বাঁচা বলে বাচাইতেছেন প্রান। বেঁচে থাকলে ছাত্রলীগ এর #কর্মী আর মরে গেলে #সন্ত্রাসী!? উনাদের কথার সাথে মিল রেখে কাল রাতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় -লিটু #বহিরাগত সন্ত্রাসী ছিল সে নিজেই নিজের গুলিতে মারা যায়-হাউ পেথেটিক!! উনাদের কথায় মনে হয় -লিটুর পিছনে দুইটা হাত ছিল আর সেই হাত দিয়ে নিজেকে মাথার পিছনে গুলি করে চোখ সহ মগজ বের করে মরে যাবার পর বন্ধুক টা বন্ধুদের হাতে দিয়ে মোবাইল সহকারে বলেছে তোরা পালাই যা।কি হাস‍্যকর প্রেস বিজ্ঞপ্তি!!হা হা বোবার মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম। এ দিকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক জাকির হোসেন বলেছেন-লিটু ছাত্রলীগ কর্মী তার সুষ্ঠু বিচার হবে। বিয়ানীবাজার থানার ওসি সাহেব বলেছেন-আমার উপর সহানীয় (স্থানিয়), জেলা ও থানা পর্যায়ের বড় বড় নেতারা চাপ দিচ্ছেন মামলার সঠিক তদন্ত না করতে।তবে উনি বদ্ধপরিকর তদন্ত করবেন ই,তবে শেষ পর্যন্ত উনি কতটা সফল হবেন সেটা চিন্তার বিষয়।আজ সকালে বিয়ানীবাজার বাজার অনলাইন পেপার এ জানলাম। আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দুইজন প্রতিনিধির একজন ও এখন পর্যন্ত মন্ত্রীর পক্ষে কোন শোক প্রকাশ করতে দেখিনি।আর আমাদের মাননীয় মন্ত্রী সাধারণ মুদীর দোকান থেকে শুরু করে পানসুপারির দোকান ও উদ্বোধন করে থাকেন । আর লিটু উনার কর্মী পাশাপাশি আত্মীয় ও। এ জায়গায় উনার নিরবতা জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আমি বিয়ানীবাজার বাসীদের উদ্দেশ্য বলতে চাই-দলমত নির্বিশেষে লিটুর হত্যা কারী দের আসল মুখোশ উন্মোচন করতে এগিয়ে আসেন জনমত তৈরি করেন।সে তার মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল সেই মা এর জন্যে সত্যের সাথে হাত মিলিয়ে এগিয়ে আসেন। নোংরা পলিটিক্সের স্বীকার লিটু আমার ছোট ভাই কারো হয়তো বন্ধু সবচেয়ে বড় কথা সে বিয়ানীবাজারের সহানীয় (স্থানিয়) ছেলে তার মৃত্যুর পরবর্তী নাটকে আপনারা শরীক হবেন না

উল্লেখ্য গত ১৭ জুলাই সোমবার ১২টার দিকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের একটি কক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নেতা লিটুর লাশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। কলেজের একটি কক্ষ থেকে গুলির শব্দ শোনে ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। ডান চোখের উপরে গুলির আঘাত লেগে মাথার পেছন থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় কক্ষে অন্য কাউকে পায়নি পুলিশ। এমনকি কক্ষে কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট পাঠানো হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছাত্রলীগ নেতা এমদাদ, কামরান ও ফাহাদ নামের চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সুরাহা করা হবে।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ বলেন, কি নিয়ে ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পারিনি। সকাল ১১ টার দিকে বিজ্ঞান বিভাগ ও ইংরেজি বিভাগের কক্ষগুলো পরিদর্শন করে আসি। সে সময় ওই কক্ষ খালি ছিল। এরপর হঠাৎ করে বিকট শব্দ পাই। ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা শব্দ শোনে ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন,বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় কলেজের অভ্যন্তরিন সকল পরীক্ষা আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া একই সময় কলেজের সকল পর্যায়ের পাঠদান বন্ধ থাকবে। যথারীতি অফিস খোলা রাখা হবে। এছাড়া স্নাতক (পাশ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষাগুলো যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ কলেজের অভ্যন্তরিন পরীক্ষা ও পাঠদান আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার কলেজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সময়ে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীন পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে নেয়া হবে তিনি জানান।

উল্লেখ্য নিহত লিটুর খালাতো বোন তার স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ কর্মী দাবী করলেও একই  কলেজের বর্তমান ছাত্র কিনা ? তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৯জুলাই,হাবিবুর রহমান খানঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ নেতা লিটু হত্যা মামলায় আটককৃত ৪ জনকে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার রাতে কলেজ রোডের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরের মালামাল রাখার চৌকির তলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রিভলবার (৩২) উদ্ধার করে পুলিশ। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শ্রেণি কক্ষে গুলিতে নিহত লিটুর ঘাতক অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে কলেজ রোডের সবজি বিক্রেতার চৌকির তলা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। আটক তিন ছাত্রলীগ নেতাদের স্বীকারোক্তিতে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নয়াগ্রামের সাহেদের বাড়ি থেকে রাম দা এবং দেলোয়ার হোসেন মিষ্টু নামের অপর এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে। এই নিয়ে এ ঘটনার সাথে যুক্ত চারজনকে পুলিশ আটক করেছে।

ছাত্রলীগ নেতা লিটু হত্যার ঘটনায় তার পিতা মোঃ খলিলুর রহমান বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় ৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামীরা হচ্ছে,ফাহাদ, এমদাদ, কামরান, দেলোয়ার, শিপু, কাওছার ও সাহেদ। আসামীদের সবাই উপজেলা ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। মামলা নং (১৩) ১৭/০৭/১৭।

বিয়ানীবাজার টাইমস সুত্রে জানা গেছে ঘটনার সময় কলেজে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, লিটু নিজের অস্ত্র থেকে বের হওয়া গুলিতে নিহত হলে গুলির আঘাত সরল রেখায় না থেকে নিচ থেকে উপর দিকে থাকতো। লিটুর আঘাত ছিল সরল রেখায়। যার কাছে অস্ত্র ছিল সে লিটুর ডান দিকে কিছুটা আড়াআড়ি অবস্থানে সমান্তরালে ছিল বলেই গুলি সরল রেখায় লিটু ডান চোখের অল্প উপরে আঘাত করে। পুলিশ জানায়, শ্রেণি কক্ষে গুলির শব্দ শুনে কলেজে অবস্থানকারি পুলিশ কক্ষে প্রবেশ করে লিটুর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে।

এরপর অন্য ছাত্রদের সহযোগিতায় তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার লিটুকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ পুরো শহরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ পাভেল গ্রুপের তিন নেতাকর্মীদের আটক করে। থানা হেফাজতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্তত ১৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করেছে।

এসব নেতাকর্মী শ্রেণি কক্ষের ভেতর ও বাইরে অবস্থা করছিলো। তাদের দেয়া তথ্য মতে কলেজ রোড থেকে অস্ত্র উদ্ধার এবং দেলোয়ার হোসেন মিষ্টু নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে। আটককৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১৮এপ্রিলঃ   জনতার মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হলে দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনের ৫ জন মেয়র পদপ্রার্থী। একইসঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার পাশাপাশি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও কোন বিশৃংখলা ছাড়াই শেষ করবেন বলে ঘোষণা দেন তারা। মঙ্গলবার পৌরশহরের ইউছুফ কমপ্লেক্সে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত “জনতার মুখোমুখি” অনুষ্ঠানে তারা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিয়ানীবাজারে এই প্রথম এরকম অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় বেশ উৎফুল্ল ছিলেন ভোটার ও সচেতন নাগরিকরা। তারা স্বত্বস্ফুর্তভাবে উপস্থিত হয়ে উপভোগ করেন অনুষ্ঠান। যার ফলে অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই  কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল।
সুজন- আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আব্দুস শুকুর  ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু নাছের পিন্টু, জাসদ মনোনীত শমশের আলম, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আমান উদ্দিন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বদরুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রত্যেক মেয়র প্রার্থী ৫ মিনিট করে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পান। কে আগে বক্তব্য দেবেন, সেটাও নির্ধারণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। পাশাপাশি ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন তারা। মেয়র প্রার্থীরা যেসব অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন তাঁর মধ্যে অন্যতম হলো, বিয়ানীবাজার পৌরসভাকে সুন্দরভাবে সাজাতে হলে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। যানজট, জলাবদ্ধতা ও ভেজালমুক্ত আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য পৌরসভাকে গড়তে হবে একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। তারা আরো অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে প্রত্যকেই এসব বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া সুজন প্রণীত ১৩ দফা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন মেয়র প্রার্থীরা।
সুজনের অঙ্গীকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকা, আচরণবিধি মেনে চলা, পরাজিত হলে গণরায় মেনে নেয়া, জয়ী হলে সবার মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা। অনুষ্টানে প্রার্থী ছাড়াও এতে শপথ নেন ভোটাররা। দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীকে ভোট না দেয়া, টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি না করার শপথের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় অনুষ্টান।
এদিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী দীর্ঘ ১৭ বৎসর ধরে প্রশাসকের আসনে বসে থাকা তফজ্জুল হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লব, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জমির হোসেন উপস্থিত না হওয়ায় উপস্থিত হননি। মইজ আহমদ ও নূর উদ্দিন নামক দুজন ভোটার বলেন, বিয়ানীবাজার পৌরসভার বর্তমান ১৭ বৎসরের প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন আজকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন, এরকম ধারণা ছিল সকলের কিন্তু তিনি উপস্থিত না হওয়ায় হতাশ হলেন ভোটার ও উপস্থিত সকলেই। আর তিনি উপস্থিত না হওয়ায় গত ১৭ বৎসরে তাঁর বিভিন্ন কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত হতে পারলেন না কেউই।
সুজনের কেন্দ্রীয়  সম্পাদক ড. বদিউর আলম মজুমদারের স ালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট আমান উদ্দিন।
সুজন বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদুজ্জামান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী,সুজনের সিলেট এলাকা সমন্বয়কারী এএসএম আখতারূল ইসলামসহ উপজেলা আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চারখাইয়ে সরকারীরাস্তার গাছ কর্তন করে গেইট নির্মাণের অভিযোগ

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০২মার্চঃ  বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের আদিনাবাদ ইসবখানী গ্রামের সরকারী রাস্তার গাছ কেটে ফেলে জোরপূর্বক গেইট নির্মাণের পায়তারা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। গাছ ও রাস্তা কর্তনকারী আদিনাবাদ ইসবখানী  গ্রামের মৃত আনসার আলীর পুত্র জামাল আহমদ গংদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিয়ানীবাজার থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ। ফলে শত শত মানুষের চলাচলের এ রাস্তাটিতে জোরপূর্বক গেইট নির্মাণ করে প্রতিবদ্ধকতার চেষ্টা করছে ঐ চক্র।
আদিনাবাদ ইসবখানী গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর পুত্র জামাল আহমদ সরকারী রাস্তার গাছ কর্তন ও গেইট নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি  সরেজমিন গিয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। নির্দেশের প্রেক্ষিতে বিয়ানীবাজার উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রজত কান্তি দাস সরেজমিন তদন্তে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান এবং এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রিপোর্ট দেন।

ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযুক্ত জামাল, নাজিম, মানিক মিয়া, মুক্তা মিয়া,  রফিক মিয়া, আবুল আহমদ, মুনিম আলী, সুহেল, বাবুল, মখলিছ মিয়া, বদরুল, নোমান, ছালাহ উদ্দিন, জাবেদ ও কফিল আহমদ গংদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জকে লিখিতভাবে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন মৃত তজম্মুল আলীর পুত্র জামাল আহমদ। জামাল আহমদ বলেন, এটি একটি সরকারী রাস্তা। বিভিন্ন সময়ে সরকারী অনুদানে এ রাস্তার কাজ করা হয়েছে।

এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত লোক যাতায়াত করেন। তারপরও এই রাস্তায় লাগানো গাছ কর্তন করে জোরপূর্বক গেইট নির্মাণের চেষ্টা করছে জামাল আহমদ গংরা। সরকারী নির্দেশনার পরও বিয়ানীবাজার থানার ওসি আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই সাফিউলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc