Friday 23rd of October 2020 02:06:07 AM

মিনহাজ তানভির,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ টি ইউনিয়নের উপ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপ-নির্বাচন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কার্যালয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ কারী প্রার্থীদের নিয়ে আইন শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী বিধি নিয়ে একটি সভা রোববার বিকালে (৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা  নির্বাচনি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র এএসপি আশরাফুজ্জামান আশিক (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল)। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুস ছালেকসহ বিজিবি প্রতিনিধি ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন ও ভূনবীর ইউনিয়নের মৃত্যুবরণকারী সাবেক চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান চৌধুরী ও চেরাগ আলীর মৃত্যুতে ও মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক এক ইউপি সদস্যের মৃত্যুতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
জানা যায় আগামী ২০ শে অক্টোবর ২০২০ তারিখ সকাল ৯ ঘটিকা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। সে উপলক্ষে ৪ অক্টোবর রোববার তারিখে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে উপ নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন। উপনির্বাচনে ১ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুইজন, ২ নং ভূনবীর ইউনিয়নে ৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই সময়ে মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। উপনির্বাচনে ১ নং মির্জাপুর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চেয়ারম্যান পদে ২ জন, তারা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অপূর্ব চন্দ্র দেব,নৌকা মার্কা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে মোঃ সুফি মিয়া ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন।
অপরদিকে ২ নং ভূনবীর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা মার্কায় লড়ছেন সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রশিদ, স্বতন্ত্র থেকে কবির আহমদ প্রতীক মোটরসাইকেল, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আবুল বাশার প্রতীক চশমা, স্বতন্ত্র মোঃ কাওছার আহমেদ প্রতীক অটোরিকশা, মোঃ জলিল মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রতীক আনারস।
অপরদিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের এক ওয়ার্ড সদস্য মারা যাওয়ায় এই ওয়ার্ডে মেম্বার পদে পাঁচজন নির্বাচনী প্রতিযোগিতা করছেন তারা হচ্ছেন, উত্তম দাস টিউবওয়েল, জাহের মিয়া ফুটবল, বিজয় কৃষ্ণ দেবনাথ বৈদ্যুতিক পাখা, মোঃ কলিম উল্লাহ তালা, মোঃ ফারুক আহমেদ মোরগ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জানা যায়,নির্বাচনী অফিসের সুত্রে জানা গেছে, ২ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা রয়েছে মোট ২০৫৪৯ জন এবং ২ নং ভূনবীর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৫৬৪৮ জন। অপরদিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছে মাত্র ২৪৭৭ জন।
উপ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের নিয়ে আইন শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী বিধি নিয়ে একটি সভায় উপজেলা কর্মকর্তা যে কোন আইন বিরোধী কাজের জন্য সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেন এর ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না সে যে দলেরই হা।,আপনারা সোজা আমরা সোজা,আপনারা আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। এ সময় সিনিয়র এএসপি আশরাফুজ্জামান বলেন যেহেতু মাত্র ২ টি ইউনিয়নে নির্বাচন আপনাদের মনে রাখতে হবে এই নির্বাচনে পুলিশের লোকবলের অভাব হবে না,সুতরাং ভুলেও বাক্স নিয়ে দৌর দেওয়ার কল্পনা ও করবেন না।

 

নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে পুলিশ সুপারের আইন শৃংখলা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইল পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) বলেন, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার’ এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে সারা দেশের সাথে নড়াইলের পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো দাবি করে বলেন, এখন পুলিশ জনগনের দোর গোড়ায় গিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এক সময় অনেকেই থানা পুলিশদের দালালি করতো, তদবির করতো। এখন সেটা বন্ধ হয়েছে। জেলার হত্যাকান্ড আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম।

এছাড়া হত্যাকান্ড পরবর্তী অনেক সহিংস ঘটনা ঘটতো সেটাও অনেক কমে এসেছে। কিভাবে আরও ভালো করা যায় সে জন্য চেষ্টা পুলিশ করে চলেছে। এ সময় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং ৩৯টি ইউনিয়নে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের নতুন মোবাইল ফোন নম্বর প্রদান করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ ইমরান, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবির টুকু, সাধারণ সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলু সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক গণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

সৈয়দ আরমান জামী,শ্রীমঙ্গল থেকেঃ অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক আধুনিক ও সমৃদ্ধ  বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে’। আজ ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় পুস্পস্তবক অর্পন শেষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌর শাখা এবং অারপি নিউজের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান এই কথা বলেন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানার সঞ্চালনায় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন এবং ও পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক রোহেল আহমদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গিয়াসুদ্দিন, মোঃ রুবেল মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, নাজমুল হোসেন, হাবিবুর রহমান ও মোঃ দেলওয়ার হোসেন প্রমূখ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, ‘’তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের। তিরিশ লাখ মানুষের জীবনদানসহ এ দেশের স্বাধীনতার জন্য সরকারি হিসাবে লাখ, বেসরকারি হিসেবে প্রায় পাঁচ লাখ নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন, পনের লাখেরও বেশি মানুষ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দলের বিভিন্ন ঘাতক বাহিনীর হাতে নানাবিধ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এক কোটি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে প্রতিবেশী ভারতে গিয়ে শরণার্থীর বিড়ম্বিত জীবন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
১৯৭১-এর ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এরই ভিত্তিতে এক পক্ষকাল সময়ের ভেতর ’৭১-এর ১০ এপ্রিল প্রণীত হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, যা ছিল নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত ভিত্তি।
’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিছক একটি ভূখণ্ডে লাভ কিংবা পতাকা বদলের জন্য হয়নি। নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধ। দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন সার্বিক মুক্তির আশায়। জনগণের এই আকাক্সক্ষা মূর্ত হয়েছিল ’৭২-এর সংবিধানে।
পাকিস্তানি শাসকচক্র ২৩ বছরের শাসনকালে বাঙালির যে কোনো ন্যায়সঙ্গত দাবি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করেছে ধর্মের দোহাই দিয়ে।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্তে¡র ভিত্তিতে জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের। জন্মলগ্নেই এই কৃত্রিম অস্বাভাবিক রাষ্ট্রটির মৃত্যুঘণ্টা বেজেছিল যখন ’৪৮-এর ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আইনসভার সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছিলেন। কারণ বাংলা ছিল পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের মাতৃভাষা। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দাবির ভেতর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিচ্ছিন্নতা ও ভারতের ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করে তাঁকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিল। ধর্মভিত্তিক কৃত্রিম রাষ্ট্র পাকিস্তান সম্পর্কে বাঙালির মোহভঙ্গ হতে সময় লেগেছিল মাত্র সাত মাস। ’৪৮-এর মার্চে পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঢাকা সফরে আসেন, তখন বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।
১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যে আন্দোলনের সূচনা হয় ’৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারিতে তার চূড়ান্ত রূপ আমরা প্রত্যক্ষ করি রফিক, জব্বার ও বরকতসহ অগণিত ভাষাশহীদের আত্মদানে। এই ভাষা আন্দোলনের পলল জমিতে বেড়ে উঠেছে নব আঙ্গিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালিত্বের পরিচয় ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবলম্বন করে বেড়ে উঠলেও অচিরেই বাংলার রাজনীতিও এই চেতনায় উদ্ভাসিত হয়।
ইউরোপে জাতীয়তাবাদকে মূল্যায়ন করা হয় সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক চেতনা হিসেবে। ইউরোপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেছে। হিটলারের নাৎসিবাদের জন্ম হয়েছিল জার্মান জাতীয়তাবাদের উগ্রতা থেকে। এই জাতীয়তাবাদের প্রধান প্রতিপক্ষ সেমেটিক ইহুদিরা হলেও যা কিছু প্রগতি ও উদারনৈতিকতার সমার্থক সবই নাৎসিদের আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়। আধুনিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম উন্মেষ ঘটেছিল ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে। বাঙালিত্বের চেতনা মূর্ত হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের রচনা ও গানে, যখন তিনি লিখেছেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি,’ ‘বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু বাংলার ফল’, আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’ প্রভৃতি গানে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা নানারূপে উদ্ভাসিত হয়েছে। নাৎসি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সব সময় বিদ্বেষ নয় সম্প্রীতির কথা বলেছে। ছয়শ বছর আগে বাংলার কবি চণ্ডিদাস লিখেছিলেন ‘শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ দেড়শ বছর আগে বাংলার আরেক মরমী কবি লালন শাহ লিখেছেন ‘এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে/ যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ আর খৃস্টান/ জাতিগোত্র নাহি রবে।’ প্রায় একশ বছর আগে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোনজন/কাণ্ডারী বলে ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার।’ বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল এই অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী বাঙালি জাতীয়তাবাদ।
পাকিস্তানের অভ্যুদয়ের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক পাঞ্জাবি শোষক চক্র বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক শোষণের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। ২৩ বছরের সীমাহীন শোষণে পশ্চিম পাকিস্তানের উষর মরুভ‚মি হয়েছে শস্য শ্যামল এবং সোনার বাংলা পরিণত হয়েছিল শ্মশানে। সোনার বাংলা শ্মশান কেন এই প্রশ্নের উত্তর বাঙালি খুঁজে পেয়েছে মধ্য ষাটে আওয়ামী লীগের ছয় দফায়। বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের আকাক্সক্ষা মূর্ত হয়েছে সত্তরের নির্বাচনে। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয় পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সকল হিসাব ও চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিল। সত্তরের নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতাকে দলের অন্যতম নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে অসাম্প্রদায়িক বাঙালিত্বের চেতনা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি তাঁর পক্ষপাত বিভিন্ন অধ্যায়ে বিধৃত হয়েছে। ষাটের দশকে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনে বামপন্থীদের ব্যাপক প্রভাব সমাজতন্ত্রের ধারণা জনপ্রিয় করেছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি, ন্যাপ (ভাসানী ও মোজাফফর)সহ অংশগ্রহণ ও ভূমিকা বিশাল।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা, বাঙালি জাতিসত্তার বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং বাংলাদেশে গণহত্যার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে যখন বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ৭ মার্চের অবিস্মরণীয় ভাষণে ঘরে ঘরে দুর্গ তৈরি করে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবার আহ্বান জানান। ৭ মার্চের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব।’ তারপরই বলেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই একটি আহ্বান সমগ্র জাতির চেতনায় স্বাধীনতা ও শোষণ-পীড়ন মুক্তির যে বোধ সঞ্চারিত করে তা মূর্ত হয়েছে পরবর্তী নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে, যা ছিল সার্বিক অর্থে একটি গণযুদ্ধ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত রাখবার জন্য নৃশংসতম গণহত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও জনপদ ধ্বংসসহ যাবতীয় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। তাদের এই নৃশংসতার প্রধান দোসর ছিল জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম নামক উগ্র মৌলবাদী ও ধর্মব্যবসায়ীদের দল। ইসলামের দোহাই দিয়ে এই সব দল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে যেভাবে গণহত্যা ও নারী নির্যাতনসহ যাবতীয় ধ্বংসযজ্ঞে প্ররোচিত করেছে নিজেরাও উদ্যোগী হয়ে গঠন করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী। এইসব ঘাতক দলের নেতা গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও কামরুজ্জামানরা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বাঙালিদের হত্যা করতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং দলের কর্মীদের প্ররোচিত করেছে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে সেই সময় প্রকাশিত জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর প্রতিদিনের পাতায়। জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম পাকিস্তানকে ইসলামের সমার্থক বানিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তান না থাকলে দুনিয়ার বুকে ইসলামের নাম নিশানা থাকবে না। পাকিস্তান রক্ষার দোহাই দিয়ে জামায়াতিরা তখন যাবতীয় গণহত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞ সাধন করেছে ইসলামের নামে। এভাবেই তারা ইসলামকে হত্যা, ধর্ষণ নির্যাতন ও ধ্বংসের সমার্থক শব্দে পরিণত করতে চেয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমান যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন তারা জামায়াতের গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের ইসলামকে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানের ৯০ হাজারেরও বেশি নৃশংস সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়েও জামায়াতিরা তাদের প্রাণপ্রিয় পাকিস্তান রক্ষা করতে পারেনি। পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা তালিকা তৈরি করে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের আগেই জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যারা সুযোগ পেয়েছিলেন পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন অন্যরা দেশের ভেতর আত্মগোপন করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ী জামায়াতিদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের কবর রচিত হয়েছিল।
’৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে স্বদেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে ফেরার পথে দিল্লিতে যাত্রাবিরতিকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর জন্য এক বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করেন। এই সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধু এবং ইন্দিরা গান্ধী দুজনের ভাষণই ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংক্ষিপ্ত এক ভাষণে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহান বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন আমি আপনাদের তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশের শরণার্থীদের আমি সসম্মানে ফেরত পাঠাব। আমার দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে আমি সবরকম সহযোগিতা করব। আমার তৃতীয় প্রতিশ্রুতি ছিল শেখ মুজিবকে আমি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনব। আমি আমার তিনটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি।… শেখ সাহেব তাঁর দেশের জনগণকে একটিই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি তাদের স্বাধীনতা এনে দেবেন। তিনি তাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।
এর জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাকে বলা হয়েছে ভারতের সঙ্গে আপনার কীসের এত মিল? আমি বলেছি ভারতের সঙ্গে আমার মিল হচ্ছে নীতির মিল। আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায়। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীও তাই বিশ্বাস করেন। আমাদের এই মিল হচ্ছে আদর্শের মিল, বিশ্বশান্তির জন্য…। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু একই দিনে দেশে ফিরে রমনার বিশাল জনসমুদ্রে আবারও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’
’৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে। বাংলাদেশের মূল সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রের এই চার মূলনীতিকে আমরা বলি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে। এই সংবিধানে ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল গঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কিন্তু ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মপালন ও প্রচারের অবাধ স্বাধীনতা ছিল। বাংলাদেশের মতো অনগ্রসর মুসলমানপ্রধান দেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক আদর্শের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
৪ নভেম্বর (১৯৭২) গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু এক অনন্যসাধারণ ভাষণ দিয়েছিলেন। আমার মতে, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ১৯৭২-এর ৪ নভেম্বরের এই ভাষণ, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা প্রতিফলিত হয়েছে। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘গণতন্ত্র’, ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র নতুন ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞা দিয়েছেন। গণতন্ত্র সম্পর্কে এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছেন ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র সেই গণতন্ত্র যা সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করে থাকে। মানুষের একটা ধারণা আছে এবং আগেও আমরা দেখেছি যে, গণতন্ত্র যে সব দেশে চলেছে, দেখা যায় সে সব দেশে গণতন্ত্র পুঁজিপতিদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য কাজ করে এবং সেখানে প্রয়োজন হয় শোষকদের রক্ষা করার জন্যই গণতন্ত্রের ব্যবহার। সে গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, শোষিতের গণতন্ত্র এবং সেই শোষিতের গণতন্ত্রের অর্থ হলো আমার দেশের যে গণতন্ত্রের বিধিলিপি আছে তাতে সেসব বন্দোবস্ত করা হয়েছে যাতে এদেশের দুঃখী মানুষ রক্ষা পায়, শোষকরা যাতে রক্ষা পায় তার ব্যবস্থা নাই। সেজন্য আমাদের গণতন্ত্রের সাথে অন্যের পার্থক্য আছে। সেটা আইনের অনেক সিডিউলে রাখা হয়েছে, অনেক বিলে রাখা হয়েছে, সে সম্বন্ধে আপনিও জানেন। অনেক আলোচনা হয়েছে যে, কারোর সম্পত্তি কেউ নিতে পারবে না। সুতরাং নিশ্চয় আমরা কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হাত দিচ্ছি না। কিন্তু যে চক্র দিয়ে মানুষকে শোষণ করা হয়, সেই চক্রকে আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করতে চাই। তার জন্য আমরা প্রথমেই ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, কাপড়ের কল, পাট কল, চিনির কারখানা সবকিছু জাতীয়করণ করে ফেলেছি। তার মানে হলো, শোষকগোষ্ঠী যাতে এই গণতন্ত্র ব্যবহার করতে না পারে। শোষিতকে রক্ষা করার জন্য এই গণতন্ত্র ব্যবহার করা হবে। সেজন্য এখানে গণতন্ত্র সম্পর্কে আমাদের সংজ্ঞার সঙ্গে অনেকের সংজ্ঞার পার্থক্য হতে পারে।’
সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তাঁর ৪ নভেম্বরের ভাষণে বলেছেন ‘আমরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি; এবং বিশ্বাস করি বলেই আমরা ঐগুলি জাতীয়করণ করেছি। যারা বলে থাকেন, সমাজতন্ত্র হলো না, সমাজতন্ত্র হলো না, তাদের আগে বুঝা উচিত, সমাজতন্ত্র কি? সমাজতন্ত্রের জন্মভ‚মি সোভিয়েত রাশিয়ায় ৫০ বছর পার হয়ে গেল, অথচ এখনও তারা সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে। সমাজতন্ত্র গাছের ফল নয় অমনি চেখে খাওয়া যায় না। সমাজতন্ত্র বুঝতে অনেক দিনের প্রয়োজন, অনেক পথ অতিক্রম করতে হয়। সেই পথ বন্ধুর। সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করে সমাজতন্ত্রে পৌঁছা যায়। এবং সেজন্য পহেলা স্টেপ- যাকে প্রথম পদক্ষেপ বলা হয়, সেটা আমরা গ্রহণ করেছি; শোষণহীন সমাজ। আমাদের সমাজতন্ত্রের মানে শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র আমরা দুনিয়া থেকে হাওলাত করে আনতে চাই না। এক এক দেশ এক এক পন্থায় সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। সমাজতন্ত্রের মূল কথা হলো শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই দেশের কি আবহাওয়া, কি ধরনের অবস্থা, কি ধরনের মনোভাব, কি ধরনের আর্থিক অবস্থা, সবকিছু বিবেচনা করে ক্রমশ এগিয়ে যেতে হয় সমাজতন্ত্রের দিকে, এবং তা আজকে স্বীকৃত হয়েছে। রাশিয়া যে পন্থা অবলম্বন করেছে, চীন তা করেনি সে অন্যদিকে চলেছে। রাশিয়ার পাশে বাস করেও যুগোশ্লাভিয়া, রুমানিয়া, বুলগেরিয়া নিজ দেশের পরিবেশ নিয়ে, নিজ জাতির পটভূমি নিয়ে সমাজতন্ত্রের অন্য পথে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যান, দেখা যাবে, ইরাক একদিকে এগিয়ে চলেছে, আবার মিসর অন্যদিকে চলেছে। বিদেশ থেকে হাওলাত করে এনে কোনোদিন সমাজতন্ত্র হয় না; তা যারা করেছেন, তাঁরা কোনোদিন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। কারণ লাইন, কমা, সেমিকোলন পড়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না যেমন তা পড়ে আন্দোলন হয় না। সেজন্য দেশের পরিবেশ, দেশের মানুষের অবস্থা, তাদের মনোবৃত্তি, তাদের রীতিনীতি, তাদের আর্থিক অবস্থা, তাদের মনোভাব, সবকিছু দেখে ক্রমশ এগিয়ে যেতে হয়। একদিনে সমাজতন্ত্র হয় না। কিন্তু আমরা ৯ মাসে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি, তা আমার মনে হয় দুনিয়ার কোনো দেশ, যারা বিপ্লবের মাধ্যমে সোশ্যালিজম এনেছে তারাও সেগুলো করতে পারেননি, এ ব্যাপারে আমি চ্যালেঞ্জ করছি। কোনো কিছু প্রচলন করলে কিছু অসুবিধার সৃষ্টি হয়ই। সেটা প্রসেসের মাধ্যমে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়।’
অনেকে বলেন ১৯৭২-এর সংবিধানে বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্র যুক্ত করেছেন মস্কোপন্থী কমিউনিস্টদের প্রভাবে। কমিউনিস্ট না হয়েও যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি গ্রহণ করা যায় এটি বঙ্গবন্ধুর ৪ নভেম্বরের ভাষণে স্পষ্ট। সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন ‘আমি নিজে কমিউনিস্ট নই। তবে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। একে আমি শোষণের যন্ত্র হিসেবে মনে করি। এই পুঁজিপতি সৃষ্টির অর্থনীতি যতদিন দুনিয়ায় থাকবে ততদিন দুনিয়ার মানুষের ওপর থেকে শোষণ বন্ধ হতে পারে না। পুঁজিপতিরা নিজেদের স্বার্থে বিশ্বযুদ্ধ লাগাতে বদ্ধপরিকর। নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত জনগণের কর্তব্য বিশ্বশান্তির জন্য সংঘবদ্ধভাবে চেষ্টা করা। যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে যারা আবদ্ধ ছিল, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যাদের সর্বস্ব লুট করেছে তাদের প্রয়োজন নিজের দেশকে গড়া ও জনগণের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির দিকে সর্বশক্তি নিয়োগ করা। বিশ্বশান্তির জন্য জনমত সৃষ্টি করা তাই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’
বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে সমাজতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে তাঁর অবস্থান একাধিক স্থানে স্পষ্ট করেছেন ‘আওয়ামী লীগ ও তার কর্মীরা যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে। আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক নেতা ও কর্মী আছে যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে; এবং তারা জানে সমাজতন্ত্রের পথই একমাত্র জনগণের মুক্তির পথ। ধনতন্ত্রবাদের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করা চলে। যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা কোনোদিন কোনো রকমের সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করতে পারে না। তাদের কাছে মুসলমান, হিন্দু, বাঙালি, অবাঙালি সকলেই সমান। শোষক শ্রেণিকে তারা পছন্দ করে না। পশ্চিম পাকিস্তানেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এ রকম অপপ্রচার করা হয়েছে।’
বঙ্গবন্ধু গণপরিষদে প্রদত্ত ৪ নভেম্বরের ভাষণে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে বলেছেন ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবো না। … মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রে কারো নাই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নাই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম করবে তাদের কেউ বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি, ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেইমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, খুন, ব্যাভিচার এই বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলবো ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি। কেউ যদি বলে গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নাই, আমি বলবো সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যদি গুটিকয়েক লোকের অধিকার হরণ করতে হয়, তা করতেই হবে।’
’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের শুধু সামরিক পরাজয়ই হয়নি, তাদের ধর্মের নামে রাজনীতি, হানাহানি, হত্যা ও ধ্বংসের দর্শনেরও পরাজয় ঘটেছিল। এটি সম্ভব হয়েছিল সকল ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালিত্বের চেতনায় জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালিত্বের এই চেতনার প্রধান রূপকার, যার ভিত নির্মাণ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাঙালির এই ঐক্য পাকিস্তান ভেঙেছে, ধর্মের নামে রাজনীতির অমানবিক ধারণা ভেঙেছে। পরাজিত পাকিস্তান এবং তাদের এদেশীয় দোসররা বাঙালির এই ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সহযোগীদের হত্যা করে পাকিস্তানের সেবকদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, ’৭২-এর সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলে বাঙালিত্বের চেতনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ধর্মকে, যা তারা পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা থেকেই করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি ও সন্ত্রাসের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির জনক জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য জাতিকে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা, বাঙালি-বাংলাদেশী, ধর্মনিরপেক্ষতা-ইসলাম (রাজনৈতিক), সমরতন্ত্র-গণতন্ত্র প্রভৃতি দ্বন্দ্বে বিভক্ত করেছেন। ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দি পলিটিশিয়ানস’ এই ঘোষণা দিয়ে জেনারেল জিয়া বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ বলে রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক আদর্শকে ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিনাশ ঘটানোর পাশাপাশি ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির এই বিভাজন ঘটানো হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে অধিকাংশ সময় এ দেশটি শাসন করেছে পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। ’৭৫-এর পর বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির যে পাকিস্তানিকরণ/মৌলবাদীকরণ/ সাম্প্রদায়িকীকরণ আরম্ভ হয়েছে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি প্রায় এক যুগ একটানা ক্ষমতায় থাকার পরও আমরা ’৭১-এর চেতনায় ফিরে যেতে পারিনি। ’৭২-এর সংবিধানে জেনারেল জিয়া কর্তৃক বাতিলকৃত রাষ্ট্রের চার মূলনীতি পুনঃস্থাপিত হলেও এখনও সাম্প্রদায়িকতার কলঙ্ক থেকে সংবিধানকে সম্পূর্ণ মুক্ত করা যায়নি। সেখানেও বাধা হচ্ছে বিভাজনের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রাবল্য।
’৭২-এর সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে ধর্মের নামে এত নির্যাতন, হানাহানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, রক্তপাত হতো না। বাংলাদেশের ৪৮ বছর এবং পাকিস্তানের ৭২ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যাবতীয় গণহত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসের জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমগোত্রীয় মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক দলগুলো, যা তারা করেছে ইসলামের দোহাই দিয়ে। ’৭২-এর সংবিধান এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শ মান্য করতে হলে ধর্মকে রাজনীতি ও রাষ্ট্র থেকে বিযুক্ত রাখতে হবে ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও হত্যা বন্ধের পাশাপাশি ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য।
বাংলাদেশ যদি একটি আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, যদি আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়, যদি যুদ্ধ-জেহাদ বিধ্বস্ত বিশ্বে মানবকল্যাণ ও শান্তির আলোকবর্তিকা জ্বালাতে চায় তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ দৃঢ়ভাবে অনুসরণ ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।।”

সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ  শ্রীমঙ্গল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে বিউটিফিকেশন ও ফ্যাশন ডিজাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে সার্টিফিকেট ও চেক প্রদান করা হয় ।
মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা আক্তারের সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মল্লিকা দে।
অনুষ্ঠানে ২৫ জন বিউটিফিকেশন ও ২৫ জন ফ্যাশন ডিজাইনে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেককে ৬০০০ টাকার চেক ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

আবুতাহের,ফ্রান্স থেকেঃ  গাজীপুর জেলা সমিতি ফ্রান্সের উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকারের  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী  আ ক ম মোজাম্মেল হক,কে প্যারিসে সংবর্ধনা প্রদান  করা হয়েছে। প্যারিসের ক্যাথসীমায় অফিওরা সেন্টারে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত গাজীপুর জেলার প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর জেলা সমিতির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা জিয়াউল হক নাসির এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক খানের পরিচালনায় এসময় মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবুল কাশেম।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী  আ ক ম মোজাম্মেল হক ছাড়াও এসময় বক্তব্য রাখেন সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান , ফ্রান্স আওয়ামীলীগ সভাপতি বেনজির আহমদ সেলিম , সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগ এর সাবেক সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকি , ফ্রান্স আওয়ামী লীগ এর প্রধান উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আহমদ , গাজীপুর জেলা সমিতি ফ্রান্সের সাবেক সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা মনিরুল হক  মনু , ইউরো বাংলা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাহির , গাজীপুর জেলা সমিতি ফ্রান্সের সহসভাপতি কাওসার মোড়ল, জুয়েল আহমদ , সাংগঠনিক সম্পাদক তপন দাস , সিদ্দিক , আমজাদ , আবুল কালাম আজাদ , কৌশিক রাব্বানী।

সংবর্ধনা সভার শুরুতে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান গাজীপুর জেলা সমিতি , ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাব , ইপিবিএ ফ্রান্স শাখা , অফিওরা সেন্টার সহ ফ্রান্সের বিভিন্ন সংগঠন।

এসময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে গাজীপুর জেলা সমিতি ফ্রান্সের ভূয়সী করে বলেন দল মতের উর্দ্ধে উঠে ফ্রান্সে  বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে।  বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে ফ্রান্সের মূলধারায় প্রকাশ করার দায়িত্ব সকল প্রবাসীদের ।

এসময় তিনি বলেন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দিবেন না।  প্রবাসীদের কল্যানে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক।

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্নীতি বিরোধী ও নৈতিকতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের মাল্টিপারপাস রুমে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগিতায় এই মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এসময় নড়াইল সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোঃ আজিম উদ্দিন, দুদক সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারি পরিচালক মোঃ মাহফুজ ইকবাল, সহকারি পরিদর্শক মোঃ মনিরুল ইসলাম, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মল্লিক, সাধারন সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান, দুপ্রক জেলা কমিটির সদস্য, কলেজের শিক্ষক মন্ডলী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনে অতিথি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্নীতি বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

এসময় বক্তারা দুর্নীতি বিরোধী বক্তব্য রাখেন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দুর্নীতি মুক্ত মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার আহবান জানান।

আইইউবির স্কুল অফ বিজনেস বিভাগের উদ্যোগে  রোহিঙ্গা সলিডারেটি নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা বিষয়ক সেমিনার এবংফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবুর দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

১২ জুন বুধবার দুপুর আড়াইটায়

 আইইউবির স্কুল অফ বিজনেস বিভাগের ৩০০২ নম্বর রুমে দুই দিনব্যাপী এই সেমিনার  আলোকচিত্রপ্রদর্শনী শুরু হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূত বেনওয়া প্রেফন্টেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতছিলেনআইইউবির ভিসি প্রফেসর মিলান পাগনকানাডার লাউরেন্টয়িান ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর এন্ড চেয়ার সাদেকুল ইসলামআইইউবির স্কুল অফ বিজনেস বিভাগের ডিন প্রফেসর মোঃ আমিনুল করিমসাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদহোসাইনপ্রফেসর ইমতিয়াজ  হোসাইনসাবেক বিদ্যুৎ সচিব ফয়জুল কবির খানদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা  ত্রাণ মন্ত্রণালয়েরঅতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম (এনডিসিসহ অন্যান্য অতিথিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সারা বিশ্বের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং সামনের দিকে সারা বিশ্বকে রোহিঙ্গাসমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেনবিশ্বের মোড়ল দেশগুলো রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে না।যার ফলে দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। তাই এখনি সময় বিশ্বকে সজাগ করার। সেই সাথে রোহিঙ্গাদেরব্যাপারে এই ধরণের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তারা।

আলোচনা সভা শেষে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয়।পরে অতিথিরা আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরেদেখেন।

এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবুর ৩৭টি ছবি স্থান করে নেয়। প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফোজিত শেখবাবু বিশ্ববাসীর কাছে দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেনকানাডিয়ান রাষ্ট্রদূতের উপদেষ্টা সাবিনা ইয়াসমিন সিদ্দিকসহ অনেকই।

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং নির্মূলে ওপেন হাউজ ডে ও কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের আয়োজনে উপজেলার ভবানীপুর বাজার চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তারাটিয়া মাষ্টার মাইন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ডিএস জাহিদের স ালনায় আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ্উপস্থিত ছিলেন, আত্রাই থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি শ্রী নৃপেন্দ্রনাথ দও দুলাল, ১নং শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম বাবু, আত্রাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, শাহাগোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শামসুল আলম, আত্রাই প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নাজমুল হক নাহিদ, থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সুতসোম, মো: মুনির, ভবানীপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর খাঁন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন প্রমূখ।

হৃদয় দাশ শুভ,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)  শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আয়োজনে  শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃহরিপদ রায়।

শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু রঞ্জন দেবনাথ এর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন , শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল, ওসি (অপারেশন) সোহেল রানা,  নিসচা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি আমজাদ হোসেন রনি,  সিনিয়র সহ সভাপতি মো. ছালেহ আহমদ প্রমুখ ৷

সেমিনারে সড়ক নিরাপদ বিষয়ক বিভিন্ন দূর্ঘটনা সহ রাস্তাপারাপারের সচেতনতা মূলক ভিডিও প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেখানো হয়।

এ সময় বিদ্যালয়ের ৩শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

নড়াইল   প্রতিনিধি: নড়াইলে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক মা’য়েদের এক উদ্ধুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সোমবার পৌর এলাকার হাটবাড়িয়া ইসলামিক মিশন আদর্শ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সভা কক্ষে একটি বেসরকারি সংস্থা ( প্রচেষ্টা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ) নড়াইলের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী এতে  প্রধান অতিথি ছিলেন ।

প্রচেষ্টা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা বেগমের সভাপতিত্বে সিভিল সার্জন ডাঃ আসাদ-উজ-জামান মুন্সি, সদর উপজেলা  স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শামীম রেজা,পৌরসভার কাউন্সিলর  মাহবুবুর রহমান,সরকারি কর্মকর্তা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও হাটবাড়িয়া ইসলামিক মিশনের কর্মকর্তা,কর্মচারি, এনজিও প্রতিনিধি এবং  শতাধিক  মায়েরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 সভায় মায়েদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে কি কি করণীয় এবং শিশু স্বাস্থ্য ভাল রাখতে কি কি করণীয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৫এপ্রিল,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: বুধবার(২৫এপ্রিল) কমলগঞ্জে শিশু অধিকার বিষয়ক প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন দুপুর বারোটায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুড নেইর্বাস বাংলাদেশ,মৌলভীবাজার সিডিপির উদ্যোগে উপজেলার আদমপুরস্থ সংস্থার কনফারেন্স হলে শিশু পরিষদ সভাপতি সুপ্তিমণি দেবীর সভাপতিত্বে ও ড্রিম স্কুলের শিক্ষিক আমিনা আক্তারের স ালনায় প্রচারাভিযান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক শাব্বির এলাহী,গুড নেইর্বাস মৌলভীবাজার সিডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার রিমো রনি হালদার, এডমিন অফিসার মর্নিংটন ¤্রাে, ইউপি সদস্য সন্ধ্যা রাণী সিন্হা,হেনা বেগম,শামছুন নাহার বেগম,রেজাউল করিম ও ইয়ুথ কাউন্সিল লিডার সাজু আহমেদ।অনুষ্ঠানে একে বাংলা স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩অক্টোবর,নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে জেলা ব্রান্ডিং ও কিশোর বাতায়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম ( এটুআই-) প্রধান মন্ত্রীর কার্যালযের সহযোগীতায় জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তথ্য অফিসার মোঃ মেহেদি হাসানের সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিং এ প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগ নড়াইলের উপ-পরিচালক মোঃ সিদিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলঅ প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ কামরুল আরিফ, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডঃ আলমগীর সিদ্দিকীসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, চিত্রা নদীকে কেন্দ্র কওে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নড়াইল জেলার ইইতহাস, ঐতিহ্য খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিকে সম্পৃক্ত করে জেলা ব্য্যান্ডিংএর বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে। কিশোর বাতায়নের মাধ্যমে শিশু কিশোরদের মাঝে নিজ জেলার অপার সম্ভাবনাকে তুলে ধরা এবং প্রচারনায় তাদের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে“আমার জেলা আমার অহংকার” প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। ৩টি ক্যাটাগরীতে শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করতে পারবে। এর মাধ্যমে জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা,শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ ও প্রতিভা অন্বেষণ,আইসিটির ইতিবাচক ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও উদ্ভুদ্ধকরণ করা এর মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

এখন আমাদের যে যুদ্ধ সেটা হচ্ছে,দারিদ্র্যের বিরুদ্ধেঃতথ্য সচিব মরতুজা আহমদ

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৮জুলাই,মামুন আহমেদঃ বর্তমান সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক মহিলা সমাবেশ আজ ৮ জুলাই শনিবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্টিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব মোঃ মরতুজা আহমদ,বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম,শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান শ্রী রনধীর কুমার দেব,জেলা তথ্য কর্মকর্তা জনাব ইমরানুল হাসানসহ শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি,মহিলা কর্মকর্তা এনজিও নেতৃবৃন্দ।

শ্রীমঙ্গলে শৈশবে চন্দ্রনাথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করায় সচিব মহোদয়কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ।শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে মাননীয় তথ্য সচিব মহোদয়কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রেসক্লাব এর নেতৃবৃন্দ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব বলেন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে,আশ্রয় পাবে,শিক্ষা পাবে,উন্নত জীবনের অধিকারী হবে-এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টই বলেছেন,আমরা শত্রুকে পরাজিত করে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি।এখন আমাদের যে যুদ্ধ সেটা হচ্ছে,দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে।বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্রমুক্ত করতে চাই।

তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ব্রান্ডিংয়ের জন্য নির্ধারিত একটি বাড়ী একটি খামার,আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ,শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি,নারীর ক্ষমতায়ন,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ,ও পরিবেশ সুরক্ষা। এই ১০ টি উদ্যোগ যেন দেশের দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধি এক পথ নকশা।

আরও বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে এত বৃহৎ জনগোষ্ঠী কল্যাণ সাধন ও কাঙ্খিত উন্নয়ন সরকার চালিয়ে যাচ্ছেন।আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ,যৌতুক,জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ ও দারিদ্র্যেমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এই প্রত্যাশা করি।

সভায় জেলা প্রশাসক,উপজেলা চেয়ারম্যান,ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখেন।সভায় একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০১জুন,নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব, পিআইসি মেম্বার ও ট্যাগ অফিসাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতি বার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এসএনএসপি প্রকল্প- ডিডিএম ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এবাদুর রহমান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে মূল আলোচনা উপস্থাপন ও অংশ গ্রহনকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন, ডিপিসি-ডিটিসিএল প্রধান প্রশিক্ষক জাফর আলী খান ।
তিনি সামাজিক প্রকল্পের প্রকৃতি, প্রকল্প নির্বাচন প্রক্রিয়া, পরিবেশগত ও সামাজিক নিরাপত্তা, উপকারভোগি নির্বাচন ও তালিকাভুক্তির মানদন্ড, মজুরি পরিশোধ পদ্ধতি ও প্রাপ্যতা, মানবিক সহায়তা কর্মসূচি, অভিযোগ ও এসএনএসপি প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ক নিয়ে আলোচনা করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মেহেদি হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান একরামুল বারী রঞ্জু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

জ্ঞান বিকাশে প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই,ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১০মেঃ সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেছেন,   আয়কর ও ভ্যাট আইন বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে কর দাতাদের সহায়তা করা সম্ভব। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করে  শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করতে কর ও ভ্যাট প্রদানের বিকল্প নেই এবং জ্ঞান বিকাশে প্রশিক্ষন খুবই গুরুত্বপুর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে  সিলেট চেম্বার মিলানয়তনে সিলেট জেলা কর আইনজীবি সমিতির উদ্যোগে পেশাজীবিদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়কর ও ভ্যাট আইন বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আবুল ফজল এর স ালনায় কর্মশালায় আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কর অ লের কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ, কাস্টমস্্ এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত কর কমিশনার মোহাম্মদ হায়দার খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির। শুরুতে কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মো: সাইদুর রহমান।
অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আয়কর সম্পর্কে আলোচনা করেন কর অ ল সিলেটের কর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ এবং পাওয়ার পয়েন্টে সহায়তা করেন উপ কর কমিশনার আখেরীজ্জামান এবং কর বিষয়ে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন অবসরপ্রাপ্ত কর কমিশনার মো. হায়দার খান। পরবর্তীতে ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন কাস্টমস্ এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর কমিশনার  মো. শফিকুল ইসলাম এবং ভ্যাট অনলাইন এবং ভ্যাট বিভিন্ন আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন  কাস্টমস্ এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর কমিশনারেট এর অতিরিক্ত কমিশনার রাশেদুল আলম। কর্মশালায় সিলেট,সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভী বাজার এর শতাধিক কর আইনজীবী অংশ গ্রহন করেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc