Thursday 29th of October 2020 02:19:44 PM

দেশের দক্ষিণাংশে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সংকেতের আওতায় রয়েছে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলও। শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে আবহাওয়াবিদ মো. রুহল কুদ্দুস এ তথ্য জানান। শক্তি বাড়িয়ে অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ধেয়ে আসছে ‘বুলবুল’।শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালের মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে এটি। প্রতি মুহূর্তে শক্তি সঞ্চয় করে বুলবুল সুন্দরবন উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কা​ রয়েছে বলে জানান আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। 

এছাড়া,শনিবার সকাল ৮টায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ৯ ও কক্সবাজার ৪ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বলেছে, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

শুক্রবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান বলেছেন, কাল সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে এ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তিনি বলেন, ‘১৩টি জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ 

সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণাঃ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

শুক্রবার বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা নদী বন্দরের উপ-পরিচালক আলমগীর কবির এ তথ্য জানান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সারা দেশে জেএসসি–জেডিসির শনিবারের পরীক্ষা স্থগিতঃ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে সারা দেশে আজ শনিবার অনুষ্ঠেয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া জেএসসি পরীক্ষাটি আগামী ১২ নভেম্বর ও জেডিসি পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু.জিয়াউল হক  শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

“মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত,উদ্ধার কাজ চলছে,৫ টি বগি উদ্ধার”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৩ফেব্রুয়ারি,স্টাফ রিপোর্টার,জহিরুল ইসলাম,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাইনচ্যুত হয়ে পড়া ঢাকাগামী উপবন ট্রেন এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্ধার কাজ চলছে।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২ ঘন্টা সিলেটের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে আগত উদ্ধারকারী দুটি ট্রেন, দুর্ঘটনা কবলিত উপবন ট্রেনের ৫ টি বগি উদ্ধার করেছে। সিলেট ও আখাউড়ার উদ্ধারকারী দুটি রিলিফ ট্রেনে প্রায় ২০০ শতাধিক শ্রমিক নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে কখন পুনরায় ট্রেন চালু হবে তা পরিষ্কার ভাবে কেউ বলতে পারছেন না।

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান জানান, শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে ষ্টেশন ছেড়ে সাঁতগাও রেলওয়ে ষ্টেশন অতিক্রমের পর ট্রেনের পুলিং রড ভেঙ্গে লাইনের পয়েন্ট এন্ড ক্রসিংএর কয়েকটি ব্লকের মধ্যে পড়ে ব্লক ভেঙ্গে ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।এই ট্রেনে সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান তিনি সহ সহ¯্রাধিক যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে অর্থ প্রতিমন্ত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে এনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌছে দিলে সেখান থেকে তিনি প্রাইভেট গাড়ি যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন বলে জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নিবার্হী কর্মকর্তা মো: আশেকুল হক।
স্থানীয় বাজারের লীলা বই বিতানের সত্বাধিকারী অমিত দেব জানান, আমরা রাতে বিকট শব্দ শুনতে পাই এবং ট্রেন দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে এলাকার যুবকরা যাত্রীদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসি। পুলিশ ও আমাদের যৌথ সহযোগিতায়, যাত্রীরা নিরাপদে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় কেউ সেভাবে আহত হননি।

দূর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংসদ ড.মো.আব্দুস শহীদ এমপি, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন।
উপবন ট্রেনের যাত্রী জীবনবীমা কর্পোরেশন প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, রাত একটার দিকে বিকট শব্দ করতে করতে ট্রেন লাইনচ্যুত হতে থাকে। এ সময় এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে ট্রেন স্বল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায় এবং বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল সাতগাঁ রেলষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার মো.তৌফিক উদ্দিন জানিয়েছেন,এই দুর্ঘটনার কারনে সিলেট থেকে ঢাকা গামী জয়ন্তিকা আন্ত:নগর ট্রেন কুলাউড়া,ঢাকা থেকে সিলেট গামী পারারত আন্ত:নগর ট্রেন ভৈরবে,ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন শায়েস্তাগঞ্জ,চট্রগ্রাম থেকে জালারাবাদ মেইল শাহজিবাজার, চট্রগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন আন্ত:নগর ট্রেন আখাউড়াতে আটকা পড়েছে।এতে বিভিন্ন ষ্টেশনে কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানা ওসি মো. কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে ঘটনার খবর পেয়ে আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে উপবনের মহিলা যাত্রী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনি স্থানীয়দের সহযোগীতায়।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১২আগস্ট,রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ উত্তর সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর সহ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক গ্রামে। টানা কয়েক দিনের অতিবর্ষণ ও পহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জৈন্তাপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অনেক মানূষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতে ও পাহাড়ী ঢলে’র কারনে বিভিন্ন এলাকায় পানি বন্দি হয়ে জন দুর্ভোগ বাড়ছে।
এদিকে গত ৪দিনের অতি বৃষ্টি এবং পাহাড়ী ফলে সৃষ্ট বন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলার বিরাইমারা, ১নংলক্ষিপুর,২ নং লক্ষীপুর,চাতলারপাড়,বাওনহাওর,গড়েরপাড়,খারুবিল,মোয়াখাই, মুক্তাপুর, লামনীগ্রাম,তিলকইপাড়া,কাটাখাল,ঘিলারতৈল,গোয়াবাড়ী,হর্নি,বাইরাখেল,নায়াখেল,আগফৌদ,কাঞ্জর, হাজারী সেনগ্রাম,নয়াগাতি,বারগাতি,এছাড়া ফতেপুর,চিকনাগুল ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

কয়েক দিনের টানা বর্ষনের ফলে কর্মজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার কারনে না খেয়ে কোন রকমে বেচে আছে। রাতভর টানা বৃষ্টির ফলে এবং পাহাড়ী ঢলের পানিতে জৈন্তাপুর উপজেলার  বিপদ সীমার .৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে পানী বন্দি এলাকায় প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পানি বন্দি এলাকায় পরিদর্শন করতে কিংবা পানি বন্দিদের কাছে ছুটে যেতে দেখা যায়নি।

 হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের হাওড় গুলোর ধানী জমি তলিয়ে যাচ্ছে,কাঁদছে কৃষক!

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,০৬এপ্রিল,শংকর শীল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রায় ১৯ দিনের বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জ, বানিয়াচঙ্গ হবিগঞ্জ সদর,উপজেলার ভাটি অংশের ১৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা দিনরাত হাওরের ফসল রক্ষায় কাজ করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ বাধগুলোতে তারা নিজের উদ্যোগে মাটি ভরাট করছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোন সহায়তা করছেন না। হবিগঞ্জের খোয়াই নদীসহ আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কালনী, কুশিয়ারা ও ভেড়ামোহনা নদীতে গত ৪৮ ঘন্টায় ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সেখানে বিপদসীমার হবিগঞ্জে ৮.৬০ ও আজমিরীগঞ্জে ৭.৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর এক ফুট পানি বাড়লেই বাধ তলিয়ে যাবে। এতে হুমকির মুখে কৈয়ারঢালা প্রকল্পের ১১ হাজার হেক্টর জমি। পাশাপাশি আশপাশের হাওরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (৫ এপ্রিল) কাকাইলছেও ইউনিয়নের মাহতাবপুর এলাকায় বাধের উপর দিয়ে পানি হাওরে ঢুকে হাওরের জমি তলিয়ে গেছে। কৃষকরা তাৎক্ষণিক বাধটি বাধেন। পানি আরো বাড়লে বাধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, উপজেলার নিচু এলাকার অধিকাংশ জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার সাতগাঁও বাধ, বছিরা নদীর খালের বাধ, কাটাগাঙ্গের বাধা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়া জানান, কৃষকরা যে আশা নিয়ে তাদের জমিতে ফসল ফলিয়েছিলেন সে ফসল আজ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মাহতাবপুরে বাধের উপর দিয়ে পানি উঠলে তাৎক্ষণিক কৃষকরা বাধটি বাধলেও বুধবার বাধটি ছুটে গেছে। এতে কাকাইলছেও শিবপাশা ইউনিয়নসহ বানিয়াচঙ্গ উপজেলার মুরাদপুর পৈলারকান্দি, সুজাতপুর ইউনিয়নের নিচু জমিগুলো তলিয়ে গেছে। তিনি স্থানীয়ভাবে বাধগুলো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
বুধবার সন্ধ্যায় বানিয়াচং ইকরাম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঢলের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। অনেকে কৃষকরা তাদের কাচাঁ জমি কেটে ফেলেছেন। ইকরাম গ্রামের সামছুর রহমান জানান, এবার আমি ৮০ কের জমিতে বোরো ধান চাষ করছিলাম। কিন্তু ৬০ কের জমি পানিতে তলি গেছে। আর মাত্র ২০কের জমি বাকি রয়েছে। পানি বাড়লে এ জমিগুলো কাটতে পারবো না। তিনি বলেন-ওই এলাকার কাতিয়া, হুগলী, জিনারজুড়ী, হিজলীসহ বেশ কয়েকটি হাওরের সম্পন্ন সফল তলিয়ে গেছে। সরকারের কাছে একটাই দাবি আমাদের সফল যাতে রক্ষা পায় সে দিক বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার। কুমড়ী গ্রামের বাসিন্দা শচীন্দ্র কলেজের ছাত্র মাহফুজুল ইসলাম জানান, তাদের ৫ একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া এলাকার শত শত হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আজমিরীগঞ্জের নোয়াগরের কৃষক শাহজাহান মেম্বার জানান, কাটাগাঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ খনন না হওয়ায় পলি পড়ে তা ভরে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাওর হুমকিতে পড়ে যায়। এছাড়া বেড়ি বাধ না থাকায় ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে কি-না বলা মুশকিল। তিনি সরকারের কাছে খাল খনন ও বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানান।
কৃষক রেনু মিয়া জানান, এই ফসল হল তাদের একমাত্র অবলম্বন। যদি ফসল রক্ষা করা না যায় তাহলে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ দায় হয়ে পড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় নলাইর হাওর,
কোদালিয়া হাওর, ঝিনুয়া হাওর ও মাকালকান্দি হাওরের ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ দিচ্ছেন।নোয়াগাওড় হাওরে অনেক কৃষককে কাঁচা ধান কেটে নিতে দেখা যায়।
কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তার বেশ কিছু জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সেগুলো তিনি কেটে আনছেন গরুকে খাওয়ানোর জন্য। গফুর মিয়া জানান, বৃষ্টি আসার আগেই যদি বাধ নির্মাণ করা যেত তাহলে জমির ফসল রক্ষা করাএসম্ভব হত। কৃষক আব্দুর রহমান জানান, এই হাওরে তার ৮ একর জমি রয়েছে। এবার ধান পাকার আগেই জমি তলিয়ে গেছে। ফলে এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না।
কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ধার-দেনা করে অনেক কষ্টে দুই একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু পানিতে পুরো হাওরই তলিয়ে গেছে।কৃষক সুমন মিয়া জানান, ধানে সবে রঙ ধরেছে। এর মাঝেই তলিয়ে গেছে।এগুলো কেটে আনলে গরুকেও খাওয়ানো যাবে না। সবুজ মিয়া জানান, তিনি ৯ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।জমির সামনে দাঁড়ালে চোখ জুড়িয়ে যেতো। কিন্তু সর্বনাশা বানের পানি তার সব আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে দিয়েছে।রাত সোয়া ১১টার দিকে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৬০ ও আজমিরীগঞ্জে ৭.৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বাল্লা এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। এ হিসেবে খোয়াই নদীর পানি ও কমে যেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বাধ রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও জানান, যদি বাঁধ রক্ষা না করা যায় তাহলে কৈয়ারঢালা প্রকল্পের ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হবে।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছিল। কিন্তু টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমি হেক্টর জমির ফসল
নষ্ট হয়েছে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান জানান, আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে করে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, লাখাই উপজেলার হাওরগুলোতে পানি এসেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা থেকে এবং আজমিরীগঞ্জের কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মাহতাবপুর এলাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

অপরদিকে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামের কৃষক সোহেল তালুকদার  আমার সিলেট প্রতিবেদককে জানান,”সিলেট থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বড় হাওড়ের হাজার হাজার একর ধানের জমি পানির ধীরে ধীরে চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে,এখনও ধান পাকেনি,কাটার কোন সুযোগ নেই তিনি আরও জানান গত চার বছর ধরে অষ্টগ্রাম বড় হাওড়ের কৃষকরা কখনো শিলায় কখনো অসময়ে বন্যার কারনে এলাকার একমাত্র জীবিকার মাধ্যম বোরো ধান হাড়িয়ে দিশেহারা।তিনি আরও বলেন আমাদের ক্ষতির প্রচারও নেই”।
এদিকে বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলো পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc