Sunday 25th of October 2020 09:25:42 AM

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের খড়িয়া বিল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায় দুই ব্যক্তিকে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই অর্থদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মুমিন। এ সময় বালু উত্তোলনের সরঞ্জামসহ ড্রেজার মেশিন ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা হয়।
সূত্রে জানায়, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া মুমিন, তফশিলদার বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী, আবিদ আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এ সময় সার্বিকভাবে সহায়তা করেন নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া মুমিন বলেন, জনকল্যাণে ও জনস্বার্থে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আমাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটা,মাহারাম,শান্তিপুর,চাঁনপুর ও কলাগাঁও ছড়া থেকে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারা সিন্ডিকেডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু ও পাথর বিক্রি করে হয়েগেছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। আর সরকার হারিয়েছে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব। আজ ২০.০৯.২০ইং রবিবার সকাল ১০টায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু বোঝাই ৬টি ইঞ্জিনের নৌকা আটক করেছে বিজিবি। এব্যাপারে যাদুকাটা,মাহারাম-শান্তিপুর ও কলাগাঁও এলাকাবাসী জানায়, জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গাগটিয়া জালরটেক হতে অদৈত মহাপ্রভুর বাড়ির পশ্চিমপাড় পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার ও শিমুলবাগান হতে মাহারাম নদী হয়ে শান্তিপুর ও চানপুর পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন অবৈধভাবে শতশত নৌকায় বালু ও পাথর বোঝাই করাসহ উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও-চাঁরাগাঁও এলাকায় চলছে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর বিক্রির মহাতান্ডব।

প্রতিদিনের মতো আজ ২০.০৯.২০ইং রবিবার সকাল থেকে উপরের উল্লেখিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু বোঝাই করে পাটলাই নদী দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু বোঝাই ৬টি ইঞ্জিনের নৌকা আটক করে বালিয়াঘাট ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। কিন্ত কোন লোক আটক করতে পারেনি। এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাদাঘাট ইউনিয়নের গাগটিয়া গ্রামের আব্দুল আহাদ,রানু মিয়া ও আলী চাঁদ মিয়াগং জেলা পরিষদের নামে কোন প্রকার রসিদ ছাড়াই প্রতিদিন রাতে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় নৌকা প্রতি ৫শ থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়াসহ তারা নিজেরাও অবৈধভাবে বালুু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এছাড়াও যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত জালর টেক বড়ইতলা এলাকায় আব্দুল আহাদ,আব্দুল্লা,আব্দুল হান্নানসহ আদর্শ গ্রামের খাইরুল মিয়াগং অবৈধভাবে গভীর কোয়ারী তৈরি করে লক্ষলক্ষ টাকার বালি ও পাথর বিক্রি করছে।

এছাড়াও জালরটেক এলাকার শামসুল আলম প্রতি রাতে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালি ও পাথর বিক্রি করছে বলে জানাগেছে। অন্যদিকে শিমুল বাগান সংলগ্ন যাদুকাটা নদী ও মাহারাম নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করছে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের শাহালাম ও মাজহারুল গং। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নৌকাসহ শ্রমিকদের আটক করলেও বালু ও পাথর খেকো স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার জাকির বলেন, আমার উপরস্থ কর্মকর্তার নির্দেশে অবৈধ বালু বোঝাই ৬টি নৌকা আটক করেছি,এব্যাপারে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যারা অবৈধ ভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় বৈধ ইজারা নিয়ে বিপাকে ইজারাদার

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:  পরিবহণ শ্রমিকদের দৌরাত্বের কারনে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বালু মহাল গুলো হতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। নিয়মানুয়ায়ী জেলা প্রশাসন বালু মহাল ইজারা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহন করলেও কতিপয় স্বার্থান্বেষি মহলের ষড়যন্ত্রে বরাবরই তা ভেস্তে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তিনটি বালু মহাল ইজারা দিলেও বালু মহাল নিয়ে গুটি কয়েক পরিবহণ নেতাদের চাঁদাবাজি ও ধর্মঘটের নৈরাজ্যের কারণে কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রয়েছে।
এদিকে টানা ৬দিন পরিবহন ধর্মঘট শেষে গতকাল রবিবার ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও পরিবহন শ্রমিকরা জোর পূর্বক রয়েলিটি না দিয়ে জোর পূর্বক তিনটি বালু মহাল থেকে বালু নিয়ে যাচ্ছে বলে ইজারাদার শাহীন আহমদ জানান। তিনি অভিযোগ করে জানান জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিন আলী কোন প্রকার সহযোহিতা করছেন না।
সরজমিনে ঘুরে খোঁজ নিয়ে যানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে জেলা প্রশাসন হতে জৈন্তাপুর উপজেলার সারী-১, সারী-২ এবং বড়গাং বালু মহাল হতে মেসার্স এস.এ এন্টারপ্রাইজ ইজারা গ্রহন করে। ইজারা গ্রহনের পর গত ৭ আগষ্ট ইজারাদারকে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানিক ভাবে বালু মহালের দখল সমজিয়ে দেন। এসময় প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফারুক আহমদ ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল আহমদ। এসময় তারা সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্থান হিসাবে সরফৌদ এলাকার উৎসমূখ নিদিষ্ট করে দেন। তারপর হতে বালুর গাড়ী হতে রাজস্ব আহরণ শুরু করেন ইজারাদার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সরকারি এই রাজস্বকে পরিবহণ হতে চাঁদা উত্তোলনের গুজব ছড়িয়ে সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে একটি চক্র। এই চক্রের নৈরাজ্যের প্রতিকারে গত ২০ আগষ্ট জৈন্তাপুর ১৭ পরগনা শালিস সমন্বয় কমিটি একটি বৈঠকে বসে। বৈঠকে তারা নৈরাজ্যকারীদের হাত হতে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
অপরদিকে বালু মহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধীকারী শাহীন আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসন হতে কোটি ২০ লাখ টাকায় তিনটি বালু মহাল ইজারা নেওয়ার পর একটি চক্র তার কাছে বড় অংকের চাঁদা দাবি করে। সেই চাঁদা না দেওয়ার কারনে তারা সরকারি রাজস্ব আদায়ে বাধা ও রাস্তায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ২৩ আগষ্ট হতে তারা তিনটি বালু মহাল হতে জোর পূর্বক পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় রাজস্ব না দিয়ে বালু লোট করে নিয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলেও প্রশাসন কোন কার্যকর প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং বৈধ ইজারাদারকে হুকমী ধমকী দিচ্ছে। বালু লোটের ভিডিও করতে গেলে পুলিশ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এঅবস্থায় রাজস্ব আদায় করতে গেলে চক্রের লাটিয়াল বাহিনীর সাথে রক্তক্রিয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান যেহেতু আপনারা বৈধ ভাবে ইজারা দিয়েছেন এখন রাজাস্ব আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে একটি র্স্বথানেষী মহল। তাই রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এবং সংঘর্ষ এড়াতে তিনটি কোয়ারী সৃষ্ট সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী করার আহবান জানান।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল আহমদ বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ে একটি মহল বাঁধা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন ভাবে চাঁদা আদায় বানিজ্য নিয়ে ভাইরাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে সরকারি নিয়মনীতিকেও তোয়াক্কা করছে না।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আলোচনা ক্রমে ইজারা দেওয়া মহল গুলো থেকে পূনরায় বালু উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হবে।

“বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান”

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গতকাল ১২ আগস্ট ভুনবীর ও সাতগাঁও ইউনিয়নের ১৩ টি স্পটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীমঙ্গল মোঃ নেছার উদ্দীন।

এসময় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত এবং ঘটনাস্থল থেকে আটক মোঃ মিজান মিয়া, পিতা- আইয়ুব আলী, সাং- দক্ষিণ পাচাউন, শ্রীমঙ্গলকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তাছাড়া বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় বালু পরিবহনের সাথে জড়িত এবং ঘটনাস্থল থেকে আটক ঝুমন মিয়া, পিতা- মনির মিয়া, সাং- ববানপুর, শ্রীমঙ্গল কে ৫০,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মোট ১৩ টি স্পট থেকে জব্দকৃত ৮৩,৭৫০ ঘনফুট বালু ১৩ আগস্ট প্রকাশ্য নিলাম বিক্রির মাধ্যমে ৫,৪০,০০০/- টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে হেলাল আহমদ নামে এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে অভিযান কারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,শ্রীমঙ্গলের অর্থলিপ্সু কিছু কুলাঙ্গারের কারণে  ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।বালু খেকোরা ধ্বংস করছে রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, হাটবাজার, ব্রীজকালভার্ট, সবুজ প্রকৃতি, হাজার কোটি টাকার সরকারি বেসরকারি সম্পত্তি।স্থানীয় জনসাধারণ রুখে না দাড়ালে এই ধ্বংসলীলা চলবেই। আমাদের মাথা ব্যাথা না থাকলে সরকারের লোকদের এত দ্বায় কিসের। এরাকি এত প্রভাবশালী সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তাদের লুন্ঠনের মহোৎসব চালিয়ে যাবে ? এরপরও সরকারি কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে যাবেন। আমরা যথা সম্ভব তাদের সমর্থন করে যাব। ধন্যবাদ এসব অভিযান পরিচালনার জন্য।

পূর্বের সংবাদের লিঙ্ক দেখুন

শ্রীমঙ্গল এসিল্যান্ডের অভিযানে ৮৩৭৫৯ ঘনফুট বালু জব্দ

একজনের ১৫ দিনের জেল ও ট্রাক মালিককে জরিমানা

নাইমা মজিদঃ  শ্রীমঙ্গলে নবাগত এসিল্যান্ডের সাঁড়াশি অভিযানে প্রায় ৮৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ,একজনের ১৫ দিনের জেল ও ট্রাক মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বুধবার (১২আগস্ট) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মির্জাপুর ও ভুনবীর ইউনিয়নে ১৭টি স্পট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত ৮৩৭৫৯ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়, পাশাপাশি মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আওতায় একজনকে ১৫ দিনের জেল ও বালু বহনকারী ট্রাক মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বালু চোরদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গলে নবাগত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন রুবেল,সাথে ছিলেন শ্রীমঙ্গল ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের মিউটেশন এসিস্ট্যান্ট সৈয়দ মুত্তাকিন বিল্লাহ,শ্রীমঙ্গল থানার এসআই প্রদীপসহ পুলিশের একটি টিম।

সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন রুবেল বলেন শ্রীমঙ্গলে যেভাবে অবৈধ উপায়ে পাহাড়ি ছড়া ও পাহাড় কেটে সিলিকা বালু উত্তোলন করে শ্রীমঙ্গলের জীববৈচিত্র্য এবং ভুমি ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তা অন্যায় এবং পরিবেশের জন্য হুমকি, শ্রীমঙ্গলবাসীর দাবী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক। যার প্রেক্ষিতে জাতীয় স্বার্থে শ্রীমঙ্গলের পরিবেশ রক্ষার্থে আজকের অভিযান,এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান জব্দকৃত ৮৩৭৫৯ ঘনফুট বালু বৃহস্পতিবার (১৩আগষ্ট) নিলামে বিক্রি করা হবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, প্রশাসনের এই রকম অভিযান অব্যাহত থাকলে আমাদের এলাকার অপরাধ কমে আসবে এবং ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করে তারা অভিযোগ করে বলেন শুধু বালু আটক নয় এর সাথে জড়িতদেরও পাকরাও করতে হবে।

পিন্টু অধিকারী মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ জনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে দিকে উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের বানেশ্বরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসনূভা নাশতারান বালু অবৈধভাবে পরিবহন ও উত্তোলন করার দায়ে আম্বর আলীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আম্বর আলী বুল্লা ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের আঃ ছাত্তারের ছেলে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনূভা নাশতারান জানান, মাধবপুরে বালু মহলের কোন ইজারাদার নাই, তিনি আরো বলেন এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সাদিক আহমদ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২০)  শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ও সাতগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুটি ইউনিয়নের ১৬ টি স্পটে আনুমানিক ১,৮৪,৯০১ ( এক লাখ চুরাশি হাজার নয়শো এক) ঘনফুট উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে জব্দকৃত বালু নিলামে বিক্রয় করে রাজস্ব আদায়পূর্বক নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রকাশ্য নিলামের জন্য মাইকিং ও নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।

প্রকাশ্য নিলামে ১২ জন দরদাতা অংশগ্রহণ করে। অভিযান শেষে ৫ টি লটে আলাদা নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নিকট সর্বমোট ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় সমুদয় বালু বিক্রয় করা হয়।

তাছাড়া অভিযানের সময় আটক একটি ট্রাকের মালিককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বালু সরবরাহের লক্ষাধিক টাকার পাইপ ও মেশিন তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম।সাথে আরো ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার মামুনুর রহমান মামুন,শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই রোকন উদ্দীনসহ শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশের একটি টিম।

অভিযানের সময় বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান উপজেলা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম।

পূর্বের সংবাদের লিঙ্ক দেখুন-

শ্রীমঙ্গল ইউএনও’র অভিযানে পৌনে দুই লক্ষাধিক ঘনফুট বালু জব্দ

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মোবাইল কোর্টের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চন্দ্র পাল। এসময় চুনারুঘাট থানা পুলিশের একটি ফোর্স সহযোগিতা করে।
চুনারুঘাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, বুধবার (৮জুলাই) বিকেলে চুনারুঘাট সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন দায়ে এ অভিযান পরিচালনা করে ১টি মামলায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ আমার সিলেট টোয়েন্টি ফোর প্রতিনিধিকে জানান, সরকার অনুমোদিত বালুমহাল ছাড়া অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও বালু বহনকৃত পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।

জব্দকৃত বালু নিলামে চার লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা বিক্রয় ও দুই লাখ আশি হাজার টাকা অর্থদণ্ড।

জহিুরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গতকাল  ৬ জুলাই কালাপুরের মাইজদিহি চা বাগানের এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আটকৃত বালু নিলামে বিক্রয় ও জড়িদের বিরেুদ্ধে অর্থদন্ড এবং থানাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি নামক স্থানে কতিপয় দুর্বৃত্ত চা বাগানের লিজডিডভুক্ত খাস জমির বালু উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করছে- রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এরকম তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ৬ জুলাই দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্রীমঙ্গল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে র্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর আহমেদ নোমান জাকি এর নেতৃত্বে র্যাবের এর একটি টিমের সহায়তা প্রদান করে।

অভিযান পরিচালনাকালে ঘটনাস্থলে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তোলিত স্তুপীকৃত বালু ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি ( ২টি শ্যালো মেশিন, জোড়া লাগানো বেশকিছু পাইপ, ১ টি এক্সকেভেটর ও বালুভর্তি নাম্বার বিহীন ১ টি মিনিট্রাক) পাওয়া যায়। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তরা অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উত্তোলনকৃত স্তুপ করা প্রাপ্ত বালি আনুমানিক ৪২,০০০ ( বিয়াল্লিশ হাজার) ঘনফুট বালু প্রকাশ্যে গতকাল ৬ জুলাই বিকাল ৫ টায় স্পট নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতার নিকট হতে ৪,৪৪,০০০ ( চার লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার) টাকা নিলামমূল্য পাওয়া যায়।

এছাড়া বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদির মালিককে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ২,৮০,০০০ ( দুই লাখ আশি হাজার) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়।
একইসাথে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত সামসু মিয়া, আক্কল মিয়া ও আব্রু মিয়া) এদের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৯/২০২০

উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্রীমঙ্গল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করার এসময় তিনি জানান,অত্যন্ত দুঃখজনক আমি ব্যথিত ও মর্মাহত । মহামারী দুর্যোগে মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত এসময়ে এই কালপিট চক্রটি সরকারি সম্পত্তি চুরি করে যাচ্ছে। এদের সামান্যতম ভয় নেই আমরা এতদিন অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে তারা ইচ্ছেমতো সমস্ত অবৈধ কাজ কারবার চালিয়ে গেছে আজ থেকে আর তা হবে না। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চলবে সেটা কালাপুরে হোক অথবা মির্জাপুরে, আশিদ্রোন অথবা ভূনবীর বা সিন্দুরখান। আমি সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের এখন থেকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এখন নিয়মিত মাঠে থাকবো।কালফিটরা পালিয়েছে।

যেখানেই যারা অবৈধভাবেই বালু উত্তোলন করবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করবো।কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিবো না।

পূর্বের নিউজ দেখতে ক্লিক করুন এখানে

শ্রীমঙ্গলে বালি উত্তোলনে পুকুরচুরি,উপজেলা কর্মকর্তার অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গলে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে এর মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদেরকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে  আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজপাড়া গ্রামের রিয়াছত মিয়ার ছেলে তুহিন মির্জাপুর এলাকায় বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় মনু মেম্বারের ছেলে জুয়েল বালু উত্তোলন কারী তুহিনের বেলসা (বালু উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত) নিয়ে যায়. উক্ত ঘটনার জেরে আহাদ মেম্বার জুয়েল এর পক্ষ নিয়ে একই দিন সকাল ৮ ঘটিকার সময় মনু মেম্বার এবং রিয়াছত এর লোকজনে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয় আহতরা হলেন,ফয়জুল্লাহ মিয়া (৫৮), রিয়াসাত মিয়া (৪০), দিদার মিয়া (৪৫), লিয়াকত (৩০), নানু মিয়া (৩৫) সানু মিয়া (৩০), ছনর মিয়া (৬৫),বর্তমানে দুইজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে   এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসাধীন নিয়েছেন।

অপর দিকে এ ঘটনায় ৪ জনকে পুলিশ আটক করেছে তারা হলেন, কদর মিয়া (৩৫),রিয়াজ মিয়া (৪০), শফিক মিয়া (৪০) ও হৃদয় মিয়া (১৯)।

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি,স্টাফ রিপোর্টারঃ শনিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার মসলন্দ পুর গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীতে বালু উত্তোলন কারী ট্রলির ড্রাইভার ইয়াসিন আলী নদী থেকে বালু করে আসার পথে মোঃবাবুল ইসলামের ট্রলি সহ আটক করে।পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভূমি কর্মকর্তা বালু বোঝাই ট্রলি পীরগঞ্জ ভূমি অফিসে নিয়ে আসে অটক করে রাখেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন,দীর্ঘ দিন ধরে চোরাই পথে বালু উত্তোলন করে আসছে, আজ যেহেতু ধরা পড়ছে তাদের আইন গতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে গাড়ীর মালিককে হাজীর না পেয়ে ট্রলি চালক ইয়াসিন আলী কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

চুনারুঘাট প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের হলহলিয়া থেকে অবৈধ বালু বোঝাই ৩টি ট্রাক্টর আটক করেছে চুনারুঘাট থানা পুলিশ। জানা যায়, গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলী আশরাফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু বোঝাই ৩টি ট্রাক্টর সহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এসময় ট্রাক্টর চালকরা পালিয়ে যায়। আটককৃত ট্রাক্টরের নাম- আদিল, সালমান পরিবহন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হলহলিয়া গেলানী ছড়া থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে দেদারছে সিলিকা বালু উত্তোলণ করে পাচার করছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। জানা যায়, হলহলিয়া গ্রামের ময়না মিয়ার পুত্র রুমান মিয়া, সালমান মিয়া সহ তাদের সহযোগিরা মিলে হলহলিয়া গেলানী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করে তাদের নিজস্ব ট্রাক্টর দিয়ে পাচার করে বালুখেকোরা।

এদিকে উজ্জলপুর, হলহলিয়া, হলদিউড়া, সতং ও বদরগাজী গ্রাম সহ ৪/৫ টি গ্রামের লোকজনদের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বালু বোঝাই ৩টি ট্রাক্টর আটকের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে হলহলিয়া গ্রামের গেলানী ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

এস এম সুলতান খান,চুনারুঘাটঃ  হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ১০টি ড্রেজার মেশিন আটক করে পুড়িয়ে দিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও মঈন উদ্দিন ইকবাল। এ সময় পালিয়ে যায় বালু উত্তোলনকারী প্রভাবশালী মহলের লোকজন।
মঙ্গলবার  বিকেলে স্থানীয় খোয়াই নদীতে কাজীরখিল ব্রিজের পাশে এ অভিযান পরিচালনা করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঈন উদ্দিন ইকবাল। স্থানীয় সূত্রে  যানায়, দীর্ঘদিন ব্রিজের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল প্রভাবশালী একটি মহল। পরিবেশের ক্ষতি করে এই বালু উত্তোলনে ক্ষোভ দেখা দেয় স্থানীয়দের মধ্যে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে ১০টি ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও বালুভর্তি দুইটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈন উদ্দিন ইকবাল জানান, পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় অভিযান চালানো হয়। এসময় বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। প্রভাবশালী চক্রটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদের নাম-পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান ।

চুনারুঘাট প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের উজ্জলপুর গ্রামে থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। দীর্ঘদিন ধরে উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি হতে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনুমতি ব্যতিরেকে দেদারছে সিলিকা বালু উত্তোলণ করে পাচার করছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট চক্র। প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বালু উত্তোলণ করে পাচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন লাখ টাকার বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি থেকে। এ ব্যাপারে গত ৯ মে বৃহস্পতিবার উজ্জলপুর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মো: আব্দুল আজিম মালিকানাধীন জমি হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার জন্য চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি থেকে জনৈক ছুরুক মিয়ার পুত্র হেলাল মিয়া, ময়না মিয়ার পুত্র রুমান মিয়া, আরমান মিয়ার পুত্র রহিম মিয়া, মৃত আ: আলী লস্করের পুত্র হারুন লস্কর গংরা সিন্ডিকেট বানিয়ে মালিকানা জমি থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করে বালু পাচার করছে বালুখেকোরা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। এদিকে উজ্জলপুর, হলহলিয়া, হলদিউড়া, সতং ও বদরগাজী গ্রাম সহ ৪/৫ টি গ্রামের লোকজনদের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিসাধিত হচ্ছে।

মালিকানা জমি থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু সতং-বদরগাজী রাস্তা দিয়ে পরিবহন করার কারণে ইকবাল আহমেদ সালেহ উচ্চ বিদ্যালয়, সতং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিউড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও হলদিউড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আজহারুল ইসলামের নির্দেশে ইউনিয়ন তহসিল অফিসার সুরঞ্জিত দেব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২টি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করে দেন এবং এসব মালিকনাধীন জমি হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ রাখার জন্য নিষেধ প্রদান করেন। উজ্জলপুর গ্রামের মালিকানাধীন জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

চুনারুঘাট থেকে এস এম সুলতান খানঃ চুনারুঘাটের রাজার বাজারে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে  (৩ এপ্রিল)বুধবার সকাল ১০টায় বিশাল মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে রাজার বাজারসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সনজু চৌধুরীরআহবানে উক্ত মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শত-শত শিক্ষার্থী চুনারুঘাট-বাল্লাসড়কে ঘন্টাব্যাপীমানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে।
উক্ত মানববন্ধনে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন,ডাঃ হাফিজুর রহমান বাবুল, মিরাশি ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বাজার সভাপতি আবুল কাশেম, সাংবাদিক নুরুল আমিন, রাজার বাজার সঃ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান, বাজার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল আহম্মেদ, অর্থ সম্পাদক আহম্মদ আলী মীর, ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান শামীম, ছাত্রদল নেতা আরিফ আহম্মদ রোমন, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা কার্তিক চন্দ্র দেব, ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রাজিব দেব রায়, প্রবাসি আওয়ামীলীগ নেতা সমিরন শীল, আঃ জাহির প্রমুখ।
মানববন্ধনের আহবায়ক সনজু চৌধুরী বলেন, রাজার বাজারে বালু উত্তোলনের কারনেউপজেলার একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ‘রাজার বাজার সঃ উচ্চ বিদ্যালয় ও
রাজার বাজার সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।রাজার বাজারে বসবাসরত জনগনের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ড্রেজারদিয়ে বালু উত্তোলনের কারনে খোয়াই নদী গভীর হয়ে নদীর দু’কুল ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হচ্ছে।
রাজার বাজারে খোয়াই সেতুর মারাত্মক হুমকীর সম্মুখীন।স্কুলের পাশ দিয়ে সারাদিন ট্রাক-ট্রাকটরের শব্দে মারাত্মক শব্দ দুষনহচ্ছে। এতে লেখা পড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা।এদিকে মানববন্ধন কর্মসুচী থেকে সনজু চৌধুরী ভবিষ্যত কর্মসুচী ঘোষনা দিয়েবলেন, স্কুল চলাকালিন সময়ে অর্থাৎ সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত স্কুলের পাশ দিয়ে কোন ধরনের বালুবাহি ট্রাক-ট্রাকটর চলতে পারবে না।ভবিষ্যতে রাজার বাজারে খোয়াই নদীর অংশে বালু লিজ প্রদান করলে জনগনকে সাথেনিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হবে।
মানববন্ধন কর্মসুচীর প্রতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক,শিক্ষিত মহলসহ এলাকাবাসি একাত্মতা ঘোশনা করেন।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc