Thursday 26th of November 2020 06:26:49 AM

“আটক ও জব্দকৃত এস্কেবেটর, শ্যালো মিশিন, নম্বার বিহীন ট্রাক ও বিপুল পরিমাণ বালি নিলাম হবে, মামলা ও হবে জানালেন উপজেলা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম” 

নিজস্ব প্রতিনিধি:  শ্রীমঙ্গলে বালু উত্তোলনের নামে পুকুরচুরির মত ঘটনার সন্ধান পাওয়া গেছে উপজেলার কালাপুর এলাকায়। এ সমস্ত ঘটনায় কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, ভারসাম্য হারাচ্ছে পাহাড়, ছড়া নদী। বালু উত্তোলন নিয়ে চলছে রমরমা ব্যবসা। কোথাও পাহাড়ি ছড়া থেকে, কোথাও কোথাও সমতলভূমি কেটে কোটি কোটি টাকার বালি বিক্রি হচ্ছে অবৈধভাবে আর এতে ।

উপজেলা কর্মকর্তার ভাষ্য মতে ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের জরিমানা করে সরকার প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় করলেও কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে এই সেক্টর থেকে অভিযোগ সচেতন মহলের।

জব্দকৃত এস্কেবেটর।

অভিযোগ রয়েছে বেলা নামে একটি সংগঠনের অজুহাতে বিজ্ঞ আদালতে রিটের অজুহাতে বালি খেকোরা সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকারের এই বিশাল একটি খাতের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে ।

আজ সোমবার ৬ জুলাই দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের উদ্যোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ৯ ক্যাম্প এর মেজর নোমান আহমদ জাকি’র সহযোগিতায় উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প এর নিকটবর্তী মাজদিহি বাগানে অভিযান পরিচালনা করেন।

উক্ত অভিযানে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন, বালি বোঝাই একটি নাম্বার বিহীন ট্রাক ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি এসকেবেটর, কুদাল,পাইপসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায় প্রায় দেড় একর জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবান জাতের সিলিকা বালি উত্তোলন করে অবৈধভাবে বিক্রি করে যাচ্ছে একটি চতুর সিন্ডিকেট। এতে করে ওই জমিতে শ্যালো মিশিনে সাহায্যে প্রায় ২০/৩০ ফিট পর্যন্ত গভীর গর্ত করা হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে শুধুমাত্র এই স্পট থেকেই ১০ লক্ষ বর্গ ফুটের মত বালি ও মাটি উত্তোলন করা হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তোলন করে যাচ্ছে।

জব্দকৃত নম্বার বিহীন বালি বোজাই ট্রাক । 

অভিযোগ রয়েছে এর আগেও কয়েকবার প্রশাসন হানা দিয়েছে তার পরেও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বালি ব্যবসা। এ ব্যাপারে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের নাম উঠে এসেছে। তবে বিশেষ কারণে ওদের নাম পরিচয় এখনি প্রচার করা যাচ্ছেনা।

এই অভিযানের ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক আমি ব্যথিত ও মর্মাহত । মহামারী দুর্যোগে মানুষ যখন জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত এসময়ে এই কালপিট চক্রটি সরকারি সম্পত্তি চুরি করে যাচ্ছে। এদের সামান্যতম ভয় নেই আমরা এতদিন অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে তারা ইচ্ছেমতো সমস্ত অবৈধ কাজ কারবার চালিয়ে গেছে আজ থেকে আর তা হবে না। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চলবে সেটা কালাপুরে হোক অথবা মির্জাপুরে, আশিদ্রোন অথবা ভূনবীর বা সিন্দুরখান। আমি সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের এখন থেকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এখন নিয়মিত মাঠে থাকবো। কালফিটরা পালিয়েছে।

জব্দ কৃত শ্যালো মেশিন গভীর খাদে বসিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান আমরা যাদের নাম পেয়েছি তা এখন প্রকাশ করছি না পরে অবশ্যই জানিয়ে দেবো আর এই কাজে ব্যবহৃত জব্দকৃত সকল মালামাল নিলামে দেওয়া হবে এর ম্যাজারম্যানট করে দেখবো কত সেফটি বালি এখান থেকে উত্তোলন করা হয়েছে এবং আটককৃত বালিও নিলামে দেওয়া হবে যার কাছে অধিক মুল্য পাওয়া যায় তার কাছে তা নিলামে বিক্রি করা হবে। আপাতত এ বালি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মুজিবুর রহমান মজুলের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এসময় ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজুল অবস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী সংবাদ দেখুন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের অবৈধ ভাবে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের দায়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬টি ড্রেজার জব্ধ করা হয়েছে। আটককৃত ড্রেজারের মূল্য ১৫লক্ষাধিক লাখ টাকার বেশী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ডলুরার ধোপাযান ও চলতি নদীতে অবৈধ ভাবে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের দায়ে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খানের নির্দেশনার সোমবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর রুকনুজ্জামান এসআই আমিনুল ইসলামসহ সঙ্গীয় র্ফোস নিয়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ২৬টি ড্রেজার জব্ধ আটক করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজারের মালিক ও চালকা পালিয়ে যায়।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান এঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,নদীতে অবৈধ ভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের কারনে পরিবেশ ও জনজীবন কে হুমকির হাত থেকে রক্ষা করতে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিপন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ,প্রশাসন নির্বিকার

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২মে,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দোয়ারাবাজার উপজেলার পাহাড়ি খাসিয়ামারা নদীতে কয়েক বছর ধরে অবাধে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ অবাধে বালি উত্তোলনের ফলে সম্প্রতি নদীর দুইপারের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তারপরেও থামছেনা বালি উত্তোলন।

এতে একদিকে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে অপরদিকে নদী হারাতে বসেছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপুর ও সুরমা এই দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়ে সুরমা নদীতে মিশেছে ভারত থেকে আগত পাহাড়ি খাসিয়ামারা নদী। পাহাড়ি নদী হওয়ার দরুন বছরে অর্ধেক সময় শুকনো এবং বাকি অর্ধেক সময় স্রোত থাকে খাসিয়ামারা নদীতে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির স্রোতে ভারত থেকে নিয়ে আসে প্রচুর বালি ও পলিমাটি। এই বালি নদীর দুই তীরের ভাঙন রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু একটি মহল ব্যবসায়িক ফায়দা লুটতে অবাধে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করায় সম্প্রতি খাসিয়ামারা নদীতে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে গভীর উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন নদীর দুপারের বাসিন্দারা। সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে, খাসিয়ামারা নদীতে দৈনিক অর্ধশতাধিক স্টিলবডি নৌকায় বালি বোঝায় করতে দেখা গেছে। এসব বালি বোঝায় স্টিলবডি সুরমা নদীর মুখে জড়ো হয়। পরে এখান থেকে ১০০ টাকা ফুটেরও অধিক দামে জেলাসদরের বাইরে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, উর্ধ্বতন প্রশাসন ও কিছু প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মেনেজ করেই বালি উত্তোলনের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। সুরমা ইউনিয়েনের আলীপুর বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া জানান, আমাদের স্থানীয়দের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। নদী ভাঙনে আমার অনেক সম্পদ হারিয়েছি। এখন আমার জীবিকার শেষ সম্বল একমাত্র দোকানটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
একই গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন জানান, আমার অর্ধেক ফসলি জমি খাসিয়ামারা নদীগর্ভে বিলীন হয়েগেছে। এই কয়েক বছর বালি উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন বেড়ে গেছে। বাকি জমিটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদী পারের বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, আমার বসতবাড়ির উঠান এখন নদীগর্ভে আছে।
নদীগর্ভে জমিজমা, বসতবাড়ি হারিয়েও আমরা কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি। উল্টো বালি উত্তোলনের নামে আমাদের সর্বনাশ করা হচ্ছে। সরকার নাকি লিজ দিছে। আমরা কার কাছে অভিযোগ করবো? এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, নদীর পারের সাইট থেকে বালি উত্তোলন করায় বাজার, ফসলিজমিসহ বসতবাড়ি নদীভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এতে নদীর পারের স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সামনের আরো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
এবিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশীদ বলেন, বালি মহাল লিজ দেওয়া হয়েছে।নদীর দুই পারের সাইট থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করলে নদী ভাঙ্গনের সম্ভাবনা থাকে। তবে স্থানীয়রা এতে ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিষয়টি দেখবো।
এখনো পর্যন্ত এব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে একটি বালি মহাল ঘোষণা আছে। এটি জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
কয়েকদিন আগে আমাদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। অবিলম্বে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন বন্ধ করে নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক এমনটাই দাবি খাসিয়ামারা নদী বিধৌত সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাও, গিরিসনগর, আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc