Friday 23rd of October 2020 12:17:20 PM

কমলগঞ্জে শতাধিক কৃষকের মুখে ফসলের হাসি

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জঃ  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ছোটবড় ১৪টি চা বাগান।এসব চা বাগানের অনেক জমি চা চাষের অনুপযোগী হওয়ায় অথবা ভিন্ন কারণে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী দলই চা বাগান ও পাত্রখোলা চা বাগানে এ রকম কয়েকশো একর জমি বছরের পর বছর ধরে অনাবাদী রয়ে আছে।

বাগান সংলগ্ন আদমপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন নিজেও বারো মাস কৃষি কাজ করেন।তিনি ২০১৪ইং সালে পাত্রখোলা চা বাগানে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, স্থায়ী চা শ্রমিকদের কৃষিকাজের জন্য বরাদ্দকৃত এসব জমিতে কোনকালেই কোন চাষাবাদ হয়নি।তিনি বার্ষিক চুক্তি চা শ্রমিকেদরে কাছ থেকে লীজ নিয়ে প্রথম বছরে ৪০ একর জমিতে টমেটো চাষ শুরু করেন। বছর শেষে লাভের মুখ দেখে পরের বছর আরও জমি বাড়িয়ে সারা বছরচাষ করা যায় এমন প্রজাতির টমেটোর সাথে অন্যান্য সবজী-ফসলের আবাদ শুরু করেন। অনাবাদী জমিতে ফসল চাষে তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরের বছর থেকে প্রতি বছরই আশেপাশের গ্রাম থেকে আসা কৃষকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে এ বাগানের অনাবাদি বা পরিত্যক্ত ২০০ একর জমিতে আব্দুল মতিনসহ প্রায় দেড়শো কৃষক সারা বছর টমেটো,শসা, শিম,করলা,মরিচ, ফুলকপি,বাঁধাকপিসহ নানা জাতের সবজী চাষ করে থাকেন।

গত বছর ১০ একর জমিতে চাষ করে আব্দুল মতিনের লাভ হয় ছয় লক্ষ টাকার উপরে। এ বছর তিনি নিজে ১৫ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজীর চাষ শুরু করেছেন।এছাড়া এখানে তার নার্সারীও রয়েছে। এ নার্সারী থেকে কমলগঞ্জ ও আশেপাশের উপজেলার শতশত সবজী চাষী চারা ক্রয় করে নেন। প্রতিদিন তার জমিতে ৪০জন বাঙালী ও বেকার নারী পুরুষ চা শ্রমিক কাজ করেন।পাত্রখোলা চা বাগানের পরিত্যক্ত এসব জমিতে প্রতিদিন নারী পুরুষ মিলিয়ে দেড়শতাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সিকন্দর আলী,সুহেল মিয়া,রেজাক মিয়া,জয়নাল মিয়া প্রমূখ চাষীরা জানান,করোনার ক্রান্তিকালে ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখে তারা কৃষিকাজে উৎসাহিত হয়ে চা বাগানের অনাবাদী জমিতে বছর জুড়ে চাষাবাদ শুরু করেন,যাতে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতিকে আরও চাঙা করতে পারেন এ আশায়।তবে আব্দুল মতিন ও সাদেক হোসেন বলেন, শস্যভান্ডার খ্যাত কমলগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপন করা গেলে আমরা উৎপাদিত কৃষিপন্য সংরক্ষণ করে সারা বছর বিক্রি করতে পারতাম।

এছাড়া গভীর নলকূপ না থাকায় আমরা সময়মতো পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা পাই না। তারা পাত্রখোলা চা বাগানের উক্ত জমিতে সরকারিভাবে কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবী জানান। সম্প্রতি , কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক,উপজেলা কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান আব্দুল মতিনদের সবজী খেত পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি চাষীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনে তাদের জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন।

সৌদি আরবের প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেট ভবনে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এবং সৌদি সরকারের বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পরও তারা শাস্তি এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়েছেন।

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট ভবনে জামাল খাশোগি তার বিয়ের জন্য জরুরি কাগজপত্র আনার জন্য গিয়েছিলেন কিন্তু সেখান থেকে আর কখনো বের হননি। প্রথমদিকে সৌদি সরকার এ হত্যাকাণ্ডের কথা সরাসরি নাকচ করলেও পরবর্তীতে নানা তদন্তের ভেতর দিয়ে তা পরিষ্কার হচ্ছে।

এছাড়া, সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ বিন সালমান নিজেই বলেছেন, যেহেতু তার নজরদারিতে সমস্ত সবকিছু হয়েছে অতএব তিনি এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না।

তুরস্ক সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই খাশোগি হত্যার প্রথম থেকেই সৌদি যুবরাজ বিন সালমানের দিকে আঙ্গুল তুলে ছিলেন। খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ সদস্যের ভেতরে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সৌদি সরকার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং নিন্দাবাদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছেন কিন্তু বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে কেউই ভুলে যান নি। irna

“একত্ববাদীদের প্রথম ইবাদত কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)”

আজ হতে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে ৫ জ্বিলহজ মহান আল্লাহর নির্দেশে মহান নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর প্রথম পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) মক্কায় পবিত্র কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করেন।এটিই ছিল একত্ববাদীদের প্রথম ইবাদত কেন্দ্র যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রথম মানব মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)

এর এক হাজার ১৮৭ বছর আগে হযরত নুহ (আ)’র যুগ সংঘটিত মহাপ্লাবনে ধ্বংস হয়ে যায় এই পবিত্র কাবা ঘর। বন্যার ফলে কিউব বা চারকোনা আকৃতির এই ঘর লাল বর্ণের একটি ঢিবিতে পরিণত হয়েছিল। পবিত্র হজরে আসোয়াদ বা কালো পাথরটি উদ্ধার করা হয় নিকটবর্তী আবু কুবাইস পর্বত থেকে। পিতা ও পুত্র এ পাথরটি স্থাপন করেন কাবার এক কোনায়।

পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে কাবাঘরের ভিত্তি গড়ে তোলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)। এ প্রসঙ্গে সুরা বাকারার ১২৭ নম্বর আয়াতে এসেছে: স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাইল কা’বা ঘরের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিলঃ হে পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে (এ কাজ) কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।

পবিত্র কাবা ঘর মুসলমানদের ইবাদতের কেবলা। এমন কোনো সেকেন্ড বা মুহূর্ত নেই যখন মুসলমানরা মহান আল্লাহর এই প্রতীকী ঘরের দিকে মুখ করে মহান আল্লাহর উদ্দেশে রুকু ও সিজদা করছেন না।  পবিত্র কাবা ঘরের ভেতরে জন্ম-নেয়া একমাত্র ব্যক্তি হলেন আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (রাঃ)। সুত্র পার্সটুডে  থেকে নেওয়া ও কিছুটা সম্পাদিত।

মোহন রবিদাস: আজ ২০ মে ঐতিহাসিক “চা-শ্রমিক হত্যা দিবস”।ব্রিটিশদের মিথ্যা প্রলোভনে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা (১৮৩৪-৩৫ সালে) চা-শ্রমিকরা ব্রিটিশ চা-বাগান মালিক কর্তৃক অত্যাচার-নিপীড়ন,অবহেলা-নির্যাতন সইতে না পেরে ১৯২১ সালের এই দিনে নিজ মুল্লুকে (আবাসভূমিতে) ফিরে যাবার জন্য “মুল্লুকে চলো আন্দোলন” সংগঠিত করেছিল। যেহেতু তাদের কাছে কোন টাকা-পয়সা ছিল না তাই পায়ে হেঁটেই সিলেট থেকে চাঁদপুরের মেঘনা ঘাঁটে পর্যন্ত আসে। এখানে ব্রিটিশরা তাদেরকে বাঁধা দেয়। বাঁধা অতিক্রম করে চা-শ্রমিকরা মেঘনা নদী পার হয়ে নিজের মুল্লুকে যেতে চাইলে এ ব্রিটিশ গুর্খা বাহিনী তাদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হাজার হাজার চা-শ্রমিককে পেট কেটে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে। চা-শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় মেঘনা নদীর পানি। চা-শ্রমিকদের রক্তেমাখা এই ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য প্রতি বছর পালিত হয় ২০ মে “চা-শ্রমিক হত্যা দিবস”।
প্রসঙ্গত, ইংরেজরা অতি কৌশলের মাধ্যমে কম দামে শ্রম কিনে যাতে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায় সেই লক্ষ্যে আজীবন কাজের শর্তে চুক্তিবদ্ধ করে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে (গাছ হিলায়ে গা তো পাইসা মিলেবে- গাছ নাড়লে টাকা মিলবে) ১৮৩৪ সালের দিকে ভারতের বিহার, মাদ্রাজ,উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে কানু,তেলেগু, লোহার,রবিদাস,গোয়ালাসহ প্রায় ১১৬ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে শ্রমিক হিসেবে সংগ্রহ করে। কিন্তু চা-শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এসে দেখে গাছ নাড়লে টাকা পাওয়া তো দূরের কথা হিংস্র জীব-জন্তুর প্রতিকূল পাহাড়-জঙ্গলময় পরিবেশে নিজের জীবন বাঁচানোই দুঃসাধ্য ব্যাপার। অনাহারে-অর্ধাহারে,অসুখে-বিসুখে এক বীভৎস জীবনের সম্মুখীন হয়ে পরে তাঁরা। সে সময় আড়কাঠি ও গিরমিট প্রথার কারনে চা ম্যানেজার এই অসহায় মানুষগুলোর উপর একচ্ছত্র নির্যাতন করার অধিকার পায়। কোন শ্রমিক ইচ্ছে করলেই চাকরি থেকে ইস্তোফা দিতে পারতো না। বাগান থেকে পালিয়ে গেলে তাদের ধরে আনা হতো। দেয়া হতো আমানবিক শাস্তি যা অপরাধ হিসেবে গন্য হতো না। চাবুক বুটের লাথি ছিল এই নিরীহ মানুষ গুলোর নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এভাবে মালিকদের হাতে শ্রমিকের মৃত্যুকেও সাধারণ ঘটনা হিসবে দেখা হতো। মালিকদের কথাই সেখানে রাষ্ট্রিয় আদেশ হিসেবে গণ্য হতো। শ্রমিকদের ইচ্ছা আনিচ্ছা বলতো কোন কিছু কল্পনাই করা যেতনা। বাগানের ভিতরে ছাতা মাথায় দিয়ে হাটাও আপরাধ হিসেব গন্য হতো। পুরুষ শ্রমিকদের বেতন চার আনা,মহিলাদের বেতন তিন আনা এবং শিশুদের বেতন দুই আনা। তখন চা বাগানে শিশু শ্রম বৈধ ছিল (যা বর্তমানেও আছে) কি পরিহাস ! এই ইংরেজরা কৃতদাস প্রথা বাদ দিয়ে চালু করে এমনই বিভৎস আইন।
ওলন্দাজ বণিকরা ১৬১০ সালে প্রথম চীন থেকে চা আমাদনি শুরু করে।ইংরেজরা প্রথম চা আমদানি করতো চীন থেকে। চীন জাপান যুদ্ধের কারনে চীনের সাথে সম্পর্ক অবনতি হলে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ইংরেজরা বিকল্প চা উৎপাদনের জন্য তাদের ভারতবর্ষের উপর নজর পড়ে। ১৮৩৫ সালে বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করেন। তার নাম “রয়েল সোসাইটি” ভারতবর্ষে চা উৎপাদনের করার জন্য অনুসন্ধান করাই এই কমিশনের কাজ। এই কমিটি কাজ শুরু করার আগেই শিলচর এবং করিমগঞ্জে চা গাছের সন্ধান পাওয়া এই বছরই প্রথম চীনের বাইরে বাণিজ্যিক ভাবে চা এর উৎপাদন কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। ১৮৩৮ সালে সিলেট ও কাছাড়ে পরীক্ষামূলক ভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়। ভারতবর্ষে আসামের লখিমপুরে, সিলেট ও কাছাড় জেলায় চা এর উৎপাদন ব্যাপকতা পায়।
চা শিল্প যেহেতু শ্রমঘন শিল্প। চা বাগান গড়ে তুলতে প্রচুর শ্রমিকের দরকার হয়। পাহাড়ি জঙ্গল পরিস্কার করা,রাস্তাঘাট নির্মাণ গৃহ নির্মাণ করা প্রাথমিক কাজ। তাছাড়াও দ্রুত বর্ধণশীল আগাছা নিয়মিত পরিস্কার করতে দরকার হয় অনেক শ্রমিক।
আসামে ১৮২৬ সালে লোকসংখ্যা প্রতিবর্গমাইলে ৯জন এবং ১৮৫৩ তা বেড়ে হয় প্রতিবর্গমাইলে ৩০জন। সেই সময়ে আসামের সকল প্রাপ্তবয়স্ক লোক দিয়েও তার চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিলনা। সিলেটে ১৮৫৩ সালে লোক সংখ্যা ছিল প্রতিবর্গমাইলে ২০০জন।এ ছাড়া ও আসাম বা সিলেটের মানুষ চা বাগানে কাজ করাকে অসম্মান মনে করায় তারা কাজ করতে অনাগ্রহী ছিল।
চা বাগান করতে হলে লোকজন তো লাগবেই।সহজ উপায়ে শ্রমিক সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে, শুরু করে লোক সংগ্রহের অনৈতিক কর্মকান্ড। স্থানীয় জনগণকে কাজে লাগানোর জন্য ১৮৩৪ সালে উল্লেখ যোগ্য দুটি পদক্ষেপ নেয়। এক ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ্ত করণ এবং কৃষকদের খামারে উচ্চ হারে কর আরোপ। এমনকি পান সুপারির উপরও কর আরোপ করে। তবু শ্রমিক সংগ্রহের ক্ষেত্রে তা খুব প্রভাব ফেলতে পারেনা। চা রপ্তানির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ১৮৬৪–৬৫ সালে রেল লাইন স্থাপন করে এবং প্রসারিত করে ১৯০৪ সালে চটগ্রামের সাথে সংযুক্ত করে। এই কারনে স্থানীয় শ্রমিকদের তোষামোদের চেয়ে বাহির থেকে শ্রমিক আমদানি অনেক সহজ হয়ে যায়।
তাই বলেই তো শ্রমিকরা রেল চেপে চা বাগানে কাজ করতে আসবার কোন কারন নাই। সেই সময়ে শ্রমিক বলতে মূলত কৃষিতে উদ্বৃত্ত শ্রমিকেই বোঝানো হত। তখন মালয়েশিয়া এবং পশ্চিম ভারতের দ্বীপ পুঞ্জে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক রপ্তানি করা হতো। চা করেরা এই তথ্য অবগত থাকায় নতুন করে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের টোপ ফেলে।
বিহারের রাঁচী,হাজারিবাগ,সাঁওতাল পরগণা, ডুমকা ও গয়া, উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ, গঞ্জাম,সম্বলপুর ও চাইবাসা এবং মধ্য প্রদেশের রায়পুর, রামপুরহাট ও জব্বলপুর প্রভৃতি জেলা থেকে মূখ্যত শ্রমিক সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়াও উত্তর প্রদেশ,পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি প্রদেশ থেকেও শ্রমিক সংগ্রহ করার হয়। নেপাল থেকেও এক পর্যায়ে শ্রমিক সংগ্রহ করা হয়।
১৮৪১ সালের দিকে শ্রমিক প্রেরণ কার্যক্রম বেগবান করার জন্য“ফ্রি কনট্রাক্টরস” পদ্ধতি তৈরি করে। এই আইনের বলে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে কুলি সংগ্রহ করার জন্য চা–করেরা চুক্তি করেন স্থানীয় এজেন্টদের সাথে। লোভী এজেন্টরা ( এদেরকেই আড়কাঠি বলা হয়,এবং এই প্রক্রীয়াই আড়কাঠি আইন।) স্থানীয় কিছু ধুর্ত লোককে আড়কাঠি হিসেবে বাছাই করে। তারা অধিক মুনাফার আশায় নিজেদের মধ্যে শুরু করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শ্রমিকদের দেখাতে থাকে নানান প্রলোভন। করতে থাকেন নানা রকমের মিথ্যাচার। তারা গ্রামে গ্রামে সুসজ্জিত বেশে গিয়ে চা শ্রমিকদের সুখের জীবন ফুলিয়ে,ফাঁপিয়ে,বানিয়ে বলত। বলা হতো, চা-বাগানে নাড়ালে টাকা পড়ে। গরিব গৃহস্থের ছেলেমেয়েরা এসব শুনে সুখের স্বপ্ন দেখতো। তার পর ঐ আড়কাঠির হাত ধরে একদিন বাড়ি ছেড়ে পা বাড়াত। ছাগল গরুর ব্যবসার মতো শ্রমিক সংগ্রহের ব্যবসা তখন জমজমাট। কোন ভাবে তাদের জাহাজের ঘাটে এনে দিতে পারলেই হাতে পেত কচকচে টাকা।
আড়কাঠিদের কাজ হচ্ছে কুলিদের জাহাজ ডিপোয় এনে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া ।একবার স্বাক্ষর করাতে পারলেই চা মালিকদের জিম্মায় চলে যেত। ততক্ষন পর্যন্ত তাদের আদর আপ্যায়ন ভালই হতো। হাত বদলে তারা এসে পড়তো জাহাজের কতৃপক্ষের কাছে।শুরু হতো তাদের উপর অমানবিক আচরণ। কুলিদের জন্য তো আর জাহাজের বাড়তি যোগান দেয়া যাবে না তাই ছাগল গরুর মতো তাদের জাহাজে উঠানো শুরু হল। জাহাজের ধারন ক্ষমতা যেখানে ২০০ জন সেখানে তোলা হতো ১০০০–১২০০ জন ।
শুয়ে থাকা তো দুরের কথা বসবার মতোও কোন স্থান ছিলনা। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তাদের দিন কাটাতে হতো। খাওয়া দেওয়া হতো খুবই কম,যে টুকো খাবার না দিলেই নয়। জাহাজে ভ্রমনের ধাক্কার সাথে যোগ হতো রোগবালাই।কলেরা বসন্ত মহামারি রুপে দেখা দিল। তাদের জন্য জাহাজে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তা কেউ মনে করেনি। কাতারে কাতারে লোক জাহাজে মারা যেত। জাহাজ এসে ভিড়ল বদরপুর বা কাঠিগড়ায়(পূর্বে এই দুটিই ছিল জাহাজ বন্দর)।জাহাজ যখন খালাস করা হচ্ছিল তখন অর্ধেক জীবন্তু এবং অর্ধেক নামছে লাশ হয়ে। রোগ বিস্তারের অজুহাতে লাশ গুলো ফেলে দেয়া হতো পানিতে। চোখের সামনে দেখতো সৎকার বিহীন ভাই,বাবা,চাচা,বন্ধুর লাশ পানিতে ফেলা হচ্ছে ঝুপ–ঝাপ শব্দ করে।
যারা বেঁচে থাকল তাদের নিয়ে আসা হল শ্বাপদ সংকুল জঙ্গলে। যে সুখের দিনের কথা তারা চিন্তা করে জাহাজে উঠেছিল তা খুব দ্রুতই মিলিয়ে যেতে লাগল। জঙ্গলেই তাদের থাকতে হবে। এখানেই কাজ করতে হবে। মারতে হবে সাপ,বাঘ,ভাল্লুক, হাতি, বিষাক্ত পোকামাকর আথবা তাদের হাতেই হবে তাদের মৃত্যু। জীবজন্তুর সাথে এবং জঙ্গলের সাথে লড়াই করে কমে যেতে থাকে তাদের সংখ্যা। ম্যালেরিয়া,কালা জ্বর তাদের নিত্য সঙ্গী। চিকিৎসা বলতে কোন ব্যাপার তখন শ্রমিকদের জন্য ছিলনা।এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে চা চাষের জন্য ১৮৬৩-১৮৬৬ সালে এ অঞ্চলে ৮৪,৯১৫ শ্রমিক আনা হয় যার মধ্যে অনাহারে-অর্ধাহারে,অসুখে-বিসুখে ৩০,০০০ শ্রমিক মারা যান Griffiths(1967-70)।
আধিকাংশ চা বাগানের মালিকই তখন বৃটিশ কোম্পানি। ভারতবর্ষে তখন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন দানা বাধতে শুরু করে। এই আন্দোনলের কিছুটা বাতাস পায় চা শ্রমিকরাও। ক্ষুধা,রুগ ভোগ,মৃত্যু, নিজ আপনজন থেকে দূরে থাকা, এবং আদৌ ফিরে যাবার অনিশ্চয়তা তাদের বিদ্রোহী করে তোলে।
তখন ১৯২০ সাল। শ্রমিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বাগান থেকে বাগানে। বিদেশি মালিকদের সব রকমের ব্যবসা বাণিজ্যে ও চা বাগান বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। রাজনৈতিক আন্দোলনের মতো শ্রমিক আন্দোলনের হাল ধরার মতো বলতে গেলে কেউ ছিলনা। অদক্ষ ভাবে আন্দোলন গড়াতে থাকে। রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে তারাও চা বগান থেকে বের হয়ে আসে। ১৯২১ সালে ব্রিটিশ–বিরোধী আন্দোলন ও গণজাগরণ চা শ্রমিকদের অনুপ্রাণিত করে। এ সময় থেকে চা শ্রমিকদের শোষণ–বিরোধী সংগ্রাম সম্রাজ্যবাদ–বিরোধী জাতীয় শক্তি সংগ্রামের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। চরগুলা অঞ্চলের চা–শ্রমিকগণ ঐক্যবদ্ধভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করে চা বাগান থেকে বের হয়ে স্ত্রী,পুত্র,পরিজন, নিয়ে রেলপথ ধরে হাঁটতে থাকে। এ চা শ্রমিক আন্দোলনকে চরগোলা এক্রডাস বলা হয়। সিলেট ও কাছাড়ের প্রায় ত্রিশ হাজার চা–শ্রমিক এ অন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তাদের দাবি ছিল একটি – ইংরেজ মালিকেদর অধীনে কাজ করবেন না। তাদের নিজের আবাসভূমিতে (মুল্লুকে) ফিরে যাবে।
১৯২১ সালের ৩ মার্চ অনিপুর চা বগান থেকে ৭৫০ জন শ্রমিক বেরিয়ে আসলে শ্রমিকদের মধ্যে বাগান ছাড়ার তৎপরতা দেখা যায়।দলে দলে শ্রমিকরা বাগান থেকে বের হতে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই নিজের মুল্লুকে ফিরে যাবে। সেসময়কার অসহযোগ আন্দোলন তাদেরকে পুরনো গ্রামের সেই কথা আবার মনে করিয়ে দেয়। চা-শ্রমিকরা বুঝতে পারে, চা মালিকরা তাদের প্রতারণা করে জঙ্গলে বন্দি করে রেখেছে। তাদের সোনালী অতীতে ফিরে যাওয়ার বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস অনুভব করে। পাগলের মতো কোন চিন্তা না করে বেরিয়ে যায় মাথা গোজার ঠাঁই ছেড়ে। কি ভাবে যাবে? কি খাবে? এসব চিন্তা তাদের একটি বারের জন্যও থামাতে পারে না। তারা বেরিয়ে পড়ে অজানার গন্তব্যে। কি হবে আর থেকে এখানেও তো ধুকে ধুকে মরছি তো একবার বেরিয়ে দেখি না কি হয়। বন্দি জীবনের কারনে তাদের বাহিরের পৃথিবীটাও ছিল অপরিচিত। এই অপরিচিত পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসে স্ত্রী,পুত্র, কন্যার হাত ধরে। কি ভাবে যাবে ? রাস্তাঘাট চিনবে কি করে? তারা তো কেবল জানে চাঁদপুর জাহাজ ঘাট। সেখানে যেতে পারলেই জাহাজে চড়ে বাড়ি ফিরা যাবে। জাহাজ ঘাট যাবে কি করে? সবাই জড়ো হতে থাকে রেলস্টেশনে। তখন চা-বাগান মালিক ব্রিটিশরা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে শ্রমিকদের রেলের টিকেট না দেওয়ার নির্দেশ দেয়। উপায় খুব সহজে বেরিয়ে যায়। হাঁটা। এই রেল লাইল ধরেই হাঁট। সবাই সেই রেল লাইল ধরেই হাঁটতে থাকে চাঁদপুর জাহাজ ঘাটের উদ্দেশ্যে।
তাই এই আন্দোলন “মুল্লকে চলো“ আন্দোলন হিসেবে বেশি পরিচিত।
ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হাজার হাজার শ্রমিকরা এসে জড়ো হয় জাহাজ ঘাটে। জনপ্রিয় নেতা হরদয়াল নাগের নেতৃত্বে এদের জন্য চিড়া ও চাউল ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শ্রমিকদের রান্না করার মনোবল এবং শক্তি কোনটাই ছিলনা। তারা কাঁচা চাউল চিবিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেন।
যখনই স্টিমার ঘাটে এসে ভীড়ে অমনি প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠে। সবাই ধাক্কা ধাক্কি করে স্টিমারে উঠতে ব্যস্ত হয়ে যায়। জাহাজ কর্মচারীরা চায় টিকেট। টিকেট কাটতে লাগে টাকা চা-শ্রমিকদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। কোথায় পাবে টাকা? কোথায় টিকেট? অনেক অনুনয় বিনয় করেও জাহাজ কর্মীদের মন টলানো যায়না। এক পর্যায়ে জাহাজ তাদের সাথে ধাক্কা ধাক্কি শুরু হয়। সিঁড়ি দিয়ে একসাথে উঠতে গিয়ে ঝপাঝপ পড়ে পানিতে।
পরিস্থিতির উপর সরকারেরও তীক্ষ্ম দৃষ্টি ছিল।তাই প্রস্তুত রেখেছিল পুলিশ বাহিনী। হুইসেল বাজতেই একদল সশস্ত্র পুলিশ এগিয়ে আসে। জাহাজের সিঁড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়তে থাকে। জাহাজের সিঁড়ি থেকে শ্রমিকদের রক্তাক্ত দেহ পরতে থাকে পানিতে।শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। অল্প সময়েই জাহাজ ঘাট শুন্য হয়ে যায়।
এই আক্রমনে কত জন শ্রমিক নিহত হয়েছিল? কত জন আহত হয়েছিল। তার কোন হিসাব নেই। লোকজন শুধু নদীতে লাশের সারি ভেসে যেতে দেখেছে।
সবচেয়ে পাশবিক ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর রেলস্টেশনে। রেলইয়ার্ডে ৩,০০০–৪,০০০ শ্রমিক জড়ো হয়েছিল। ২০ মে তাদেরও জাহাজ ঘাটে পৌঁছনোর কথা। রাতের অন্ধকারে গুর্খা রেজিমেন্টের সৈন্যরা রেলওয়ে ইয়ার্ড ঘিরে ফেলে। সরকার পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ এলাকায় কোন লোকজনকে যেতে নিষেধ করা হয়। সরলপ্রাণ ক্লান্ত শ্রমিকরা রহস্যটা বুঝতে পারেনি। গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে অচেতন । কমিশনার কে.সি দে-এর নির্দেশে গুর্খা সৈন্যরা ঘুমন্ত শ্রমিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে। শ্রমিকদের আর্তচিৎকারে আকাশ বতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে। রাতের অন্ধকারে অনেক লাশ গুম করে ফেলে গুর্খা বাহিনী।
এখানেও কতজন নিহত ,কত জন আহত হয়েছে তারও কোন হিসেব করা হয়নি। বাগান মালিকরা ভেবেছিল ত্রাসের সঞ্চার করে তাদের আবার বাগানে নিয়ে যাওয়া হবে। তাই একটি অতিরিক্ত কামরাসহ রেলগাড়ী স্টেশনে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু উদ্দেশ্য খুব একটা সফল হয়নি। আক্রমনের ফলে সমস্ত শহরে ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকরা। মাড়োয়ারী পাট ব্যবসায়ীরা তাদের পাটের গুদামে এবং মানুষজন তাদের বাড়ি ঘরে আশ্রয় দেয়।
চাঁদপুরে চা শ্রমিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে ডাকা হলো হরতাল। রেল ও জাহাজ কোম্পানির কর্মীরা এই হরতালে সমর্থন জানায় এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে। ধর্মঘট পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। রেল কর্মচারীদের এই ধর্মঘট আড়াই মাস স্থায়ী হয় এবং ৪,৫০০ কর্মী চাকরিচ্যুত হয়। জাহাজ কর্মীদের ধর্মঘট চলে ছয় সপ্তাহ। এদিকে চা-শ্রমিকদের খাদ্য যোগানোর জন্য হারাধন নাগের নেতৃত্বে রিলিফ কমিটি গঠন করা হয়। জনসাধারণ উদার ভাবে সাহায্যে হাত বাড়ান। এক পর্যায়ে সরকার শ্রমিকদের খাদ্য সরবরাহ করতে চাইলে শ্রমিকরা তা নিতে অস্বীকার করে। কিছুদিন পরেই শ্রমিকদের মধ্যে কলেরা মহামারী আকারে দেখা দেয়। বহু শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। এই মহামারী নিয়ন্ত্রন আনতে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাণান্ত পরিশ্রম করে।
রেলস্টেশন থেকে পন্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিতসহ নেতৃস্থানীয় শ্রমিক নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। জেলখানা কতৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে পন্ডিত গঙ্গা দয়াল দীক্ষিত অনশন করে প্রাণ বিসর্জন দেন।
তারপর কি হয়??? তারপর রাজনীতি।
১) এ মর্মান্তিক ঘটনার পরও যেসব শ্রমিক নিজ মুল্লুকে যতে একান্ত ইচ্ছুক, কোম্পানি তাদের যাবার ব্যবস্থা করবে।
২) কিছু কংগ্রেস কর্মী গিয়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে।
৩) বাকীরা আসামে ফিরে গিয়ে আবার কাজ পাবে।
৪) কোম্পানি তাদের কাজ পেতে কোন অসুবিধার সৃষ্টি করবে না।
ছেলে ভোলানো চার দফার আপোষের মাধ্যমে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
উপরের ঘটনা্টি হলো ব্রিটিশ আমলের কিন্তু আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে চা-শ্রমিকরা কেমন আছে তা নিচের আলোচনা থেকে বুঝা যাবেঃ
বাংলাদেশের ২৪১টি (ফাঁড়িসহ) চা বাগানে প্রায় ১৫ লক্ষ চা জনগোষ্ঠী ১৮০ বছর ধরে বসবাস করছে (বিটিবি,২০১৫) । যদিও এই চা শ্রমিকরা বাংলাদেশের নাগরিক কিন্তু পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। চা শিল্পের মাধ্যমে এই চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে কোন ধরণের সরকারি উদ্যোগ পরিলিক্ষিত হচ্ছে না। শিক্ষা,স্বাস্থ্য,চিকিৎসা, বাসস্থান ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা যেমন বঞ্চিত তো হচ্ছেই অপরদিকে নিজ জমির কোন দলিল-দস্তাবেজ না থাকায় তাদের বসত-ভিটা-কৃষি জমিও প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে। এই গবেষণার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকারসহ তাদের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
চা বাগানের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল দারিদ্র্য। যেহেতু অতি দারিদ্র্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,যে ব্যক্তির দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারের কম এবং দৈনিক ১৮০০ কিলোক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণ করে তাকে অতি-দারিদ্র্য বলে সেহেতু চা শ্রমিকরা অতি দারিদ্র্যের পর্যায়ভূক্ত। কেননা,তাদের দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারের কম (৮৫ টাকা)এবং তারা ১৮০০ কিলোক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণ করে। অথচ চা-শ্রমিকের অতি-দারিদ্রতার বিষয়টি তো দূরের কথা দারিদ্র্যের বিষয়টিও পিআরএসপি,সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা ইত্যাদিতে উল্লেখ করা হয় নি। যার ফলে দেশের চা-শ্রমিকদের সমন্বিত উন্নয়ন ব্যবস্থা ছিটকে পড়ছে।
চা বাগান অঞ্চলে শিক্ষার হার খুবই কম। যে শিশুদের স্কুলে যাবার কথা তারা কাজ করে চা বাগানে। ২৪১ টি চা বাগানের মধ্যে কোন চা বাগানে কলেজ নেই, হাই স্কুল রয়েছে মাত্র দুইটি, আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে হাতেগোনা কয়েকটি। একদিকে যেমন ৫-৬ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে হয় অন্যদিকে শারীরিক অবয়ব ও ভাষাগত সমস্যার কারণে তারা মূল ধারার ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা বিভিন্ন ধরণের লাঞ্ছনার শিকার হয়। যে কারণে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হবার আগেই অনেক শিশুই ঝরে পরে। দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চাকুরী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন কোটা সুবিধা রয়েছে, চা-জনগোষ্ঠীর জন্য তেমন কোন বিশেষ কোটা ব্যবস্থা নেই। অথচ চা-জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চাকুরী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন কোটা সুবিধা রয়েছে, চা-জনগোষ্ঠীর জন্য তেমন কোন বিশেষ কোটা ব্যবস্থা নেই।
বাংলাদেশের চা বোর্ডের হিসাবমতে স্থায়ী চা শ্রমিকের সংখ্যা ১,১৯,০০০ জন অথচ মাত্র ৯৩৫০০ চা শ্রমিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা পাচ্ছে (সুত্রঃপ্রভিডেন্ট ফান্ড অফিসের সিটিজেন চার্টার)। শ্রম আইন অনুযায়ী যেখানে ৩ মাস কাজ করার পর একজন চা শ্রমিক স্থায়ী শ্রমিক হবার অধিকার রাখে সেখানে ২০-২৫ বছর কাজ করার পরেও প্রায় ২৫০০০০ চা শ্রমিককে অস্থায়ী রাখা হচ্ছে না যারা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা থেকে।
চা-বাগানগুলোতে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার মানের অবস্থা খুবই নাজুক কারণ এখানে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলে রসিকতা। অধিকাংশ চা-বাগানগুলোতে হাসপাতাল নেই আবার হাসপাতাল থাকলে ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই,প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নেই।এই নেই নেই এর মধ্যে চলছে বাগানগুলোর স্বাস্থ্যসেবা। অভিজ্ঞ বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী না থাকায় চা-বাগানগুলোতে মাতৃ হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। ১৯৬২ সালের টি প্লান্টেশন লেবার অডিন্যান্স এবং ১৯৭৭ সালের প্লান্টেশন রুলস-এ চা বাগানগুলোতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা মালিকের দায়িত্ব থাকলেও তা করা হচ্ছে না।যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ,রক্তশুন্যতা,ডাইরিয়া ইত্যাদি চা-শ্রমিকদের নিত্য দিনের সঙ্গী।
বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী মাত্র ৮৫ টাকা।সম্প্রতি দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। সেই সাথে বেসরকারি খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।যার ফলে স্বাভাবিকভাবে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের চা-শ্রমিকদের মজুরী ৬৫০-১০০০ টাকা বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা পাচ্ছে মাত্র ৮৫ টাকা। স্বল্প মজুরীপ্রাপ্ত এই চা শ্রমিকরা বাজারের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে তাদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
চা-শ্রমিকরা প্রজন্মনের পর প্রজন্ম চা-বাগানে বসবাস করলেও তারা তাদের বসতভিটার মালিকানা পায়নি। তারা যেন নিজ ভূমে পরবাসী। চা-বাগানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি আবাসন ও পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাগান মালিকের থাকলেও এটি নিয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই। চা-শ্রমিকরা ৮/১২ ফুট মাপের একটি ঘরে অন্তত তিনটি প্রজন্ম বাস করে; যা পুরো মানব সভ্যতার জন্য লজ্জাজনক। একটি ঘরে তিন প্রজন্ম বাস করা যেমন অস্বাস্থ্যকর তেমনি মানহানিকর ওই ঘরের সবার জন্য, সমাজের জন্য তো বটেই। এতে করে বাগানের শিশুদের আত্মসম্মান ও মানসিক বিকাশ হচ্ছে না।
দেশের বেশির ভাগ চা বাগান পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কূপ খনন বা নলকূপ স্থাপন তুলনামুলকভাবে ব্যয় বহুল। যার কারণে চা শ্রমিকরা গাং বা ঝর্নার পানি পান করে।
চা শ্রমিকরা যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের বাসিন্দা।বেশিরভাগ বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় চা শ্রমিকরা বাইরের জগৎ সম্পর্কে তেমন ধারণা পায় না (টেলিভিশন দেখতে পারে না)। অপরদিকে চা শ্রমিক সন্তানরা কুপী বাতির সাহায্যে পড়াশোনা করে যা তাদের চোখের জন্য ক্ষতিকর।
শিশু শ্রমঃ বাংলাদেশের প্রতিটি চা বাগা্নেই শিশু শ্রমিক নিয়োজিত আছে যেখানে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী {অধ্যায় ৩, ধারা-৩৪(১)} শিশুশ্রম নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী (অধ্যায় ২, ধারা-৫) চা বাগান কর্তৃপক্ষ কাজে নিয়োগদানের পূর্বে একজন চা শ্রমিককে নিয়োগপত্র দিতে বাধ্য।প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোন চা শ্রমিককে নিয়োগপত্র দেয়া হয় না।
আজীবন কাজের শর্তে চুক্তিবদ্ধ করে ভারতের বিহার, মাদ্রাজ,উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে কানু,তেলেগু, লোহার,রবিদাস,গোয়ালাসহ প্রায় ১১৬ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে শ্রমিক হিসেবে সংগ্রহ এ অঞ্চলে নিয়ে আসা হয় । যাদের প্রত্যেকের ভাষা, সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, ধর্মীয় রীতিনীতি, পূজা-উৎসব, বিবাহপ্রথা,সমাজ কাঠামো দেশের মূল ধারার জনগোষ্ঠী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।নৃ-তাত্ত্বিক সংজ্ঞানুসারে চা জনগোষ্ঠীর কেউ প্রাক-দ্রাবিড়ীয়,কেউ আদি অষ্ট্রালয়েড, কেউবা মঙ্গোলীয় আদিবাসীর অন্তর্ভুক্ত।কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এদেরকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত তো দে-ই নি, এমনকি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর তালিকায়ও এদেরকে অন্তর্ভুক্ত করেনি,যে কারণে এরা কোটা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বরঞ্চ এদেরকে অন্তর্ভুক্ত করলে এরা দেশের সরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও চাকুরী ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারতো এবং নিজেদের দুরাবস্তার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখতে পারতো।
চা চাষের জন্য সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট মেয়াদে ১,১১,৬৬৩.৮৩ হেক্টর জমি লীজ মঞ্জুর করা হয় যার ৫১.১১ % জমিতে চা চাষ করা হয়। একর প্রতি বাৎসরিক লীজের পরিমাণ ৫০০ টাকা। অপরদিকে প্রতি একর কৃষি জমি ব্যবহারের জন্য চা শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে ৩ কেজি রেশন কর্তন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রসাশক এই লীজ দেখভাল করেন।
চা-শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৮০ বছর ধরে চা বাগানে বসবাস করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ভূমির অধিকার পায় নি – তারা যেন “নিজভূমে পরবাসী”। চা শ্রমিকদের ভূমির কোন দলিল-দস্তাবেজ না থাকার কারণে তাদেরকে নিম্নরূপ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়ঃ
বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ জরুরী হওয়া সত্ত্বেও ভূমির দলিল-দস্তাবেজ না থাকার কারণে চা শ্রমিকদের কোন প্রকার ঋণ দেয়া হয় না। যার ফলে চা শ্রমিকদের পক্ষে বৃহত্তর ব্যবসা উদ্যোগ গ্রহণ,কৃষি কাজে বিনিয়োগ ইত্যাদি।
চা বাগান মালিক কর্তৃক নির্ধারিত ঘর (৮ ফুট/১২ ফুট) ব্যথিত ঘর নির্মাণ করতে চাইলে বেশির ক্ষেত্রেই অনুমতি দেয়া হয় না। ভূমির অধিকার না থাকার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে।
ভূমি অধিকার না থাকার কারণে চা শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত জমি দখলের শিকার হচ্ছে। সরকার,চা-বাগানের মালিক, প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে সাধারণত চা শ্রমিকরা জমি দখলের শিকার হয়। চান্দপুর-বেগমখান চা বাগানের ১২৫০ টি চা শ্রমিকরা পরিবারের ৫১১.৮৩ একর কৃষি-জমি দখল করে সরকার “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। এই জমি দখল করার পূর্বে সরকার চা শ্রমিক পরিবারগুলোকে কোন প্রকার পুনর্বাসন, ক্ষতি-পূরণ দেয়া তো দূরের কথা তাদের সাথে কোন আলোচনায় করে নি। তার কারণ একটাই চা শ্রমিকদের ওই জমির কোন কাগজ-পত্র নেই। লাখাই চা বাগানের ৭০ টি চা শ্রমিক পরিবারের প্রায় ১০০ একর কৃষি জমি দখল করে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চা গাছ লাগানো হয়েছে। লাক্কাতুরা চা বাগানের চা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়েই তাদের জমিতে প্রভাবশালী মহল কর্তৃক নির্মিত হয়েছে “সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। জমি দখলের এ রকম চিত্র প্রায় প্রতিটি চা বাগানেই দেখা যায়।
কোন চা শ্রমিক পরিবার চা বাগানে কাজ না করলে তাকে চা বাগান থেকে উচ্ছেদ করে দেয়া হয়।নিজভূমে পরবাসী এই চা শ্রমিকরা চার প্রজন্ম ধরে বসবাস করেও চা বাগান থেকে তথাকথিত “কালো আইন” নামে উচ্ছেদ হচ্ছে।

চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি (কমপক্ষে ২৫০ টাকা), বিদ্যমান ভুমিসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন অতীব প্রয়োজন। চা-শ্রমিকদের নিম্নলিখিত দাবী আদায়ের লক্ষ্যে প্র্তিনিয়ত বিভিন্ন চা বাগানে আন্দোলন সংগ্রাম চলছেঃ
১।চা বাগানে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তভূক্ত করা ;
২।দেশের সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষঠা্ন ও সরকারি চাকুরীতে কোটা সংরক্ষণ করা ;
৩।চা জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা ;
৪।চা জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য একটি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা ।
৫।চা বাগানে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, কলেজ প্রতিষ্ঠা করা ;
৬।জাতীয় বাজেটে চা জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ দেয়া ;
৭।চা বাগানের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একটি কমিশন বা মন্ত্রণালয় গঠন করা;
৮। চা বাগান এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা ।
৯। চা বাগানের ছাত্র-ছাত্রীদের কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা ।
সবশেষে বলা যায়, নিজ মুল্লুকে ফিরে না গিয়ে এই অঞ্চলে চা শ্রমিকরা যে প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে জীবন-যাপন শুরু করে আজ ৯৮ বছর পরেও তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।আজও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলে চা-শ্রমিক হত্যা দিবসের।
লেখকঃমোহন রবিদাস,বিএসএস (সম্মান),এমএসএস(লোক-প্রশাসন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রুশ ও জাপানি বিজ্ঞানীরা পুনরায় ম্যামথকে ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজে পেয়েছেন বলে ধারণা করছেন। বড় পশমে আবৃত ম্যামথ বা ‘অতিকায় হাতী’ প্রায় ১০ হাজার বছর আগে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

সাইবেরিয়ার পার্মাফ্রস্ট বা স্থায়ী বরফাবৃত অঞ্চল থেকে আট বছর আগে ‘ইউকা’ নামের একটি কিশোর বয়সী ম্যামথের হিমায়িত দেহ উদ্ধার করা হয়েছিলো। এর একটি পা থেকে সংগ্রহ করা হয় কিছু হিমায়িত কোষের নমুনা। এগুলোকে কোষ বিভাজনের প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

২৮ হাজার বছর আগের ম্যামথ ইউকার কোষ কেন্দ্রকগুলো বা নিউক্লি প্রতিস্থাপন করা হয় ইঁদুরের দেহ কোষরাজিতে। জাপানের কিনদাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেই মিইয়ামোতো হলেন আন্তর্জাতিক এ গবেষকদের অন্যতম। তিনি জানান, এতে কোষরাজির জৈব তৎপরতা শুরু হয়েছে। হাজার হাজার বছর ধরে হিমায়িত থাকার পরও এটি শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

অবশ্য, জৈব তৎপরতা শুরু হলেও এখনো কোষ বিভাজনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কোষ বিভাজন ঘটলেই কেবল ম্যামথকে ক্লোন করে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিভাজনের উপযোগী কোষমালা খুঁজে পেতে হিমায়িত ম্যামথের শরীর নিয়ে গভীর অনুসন্ধানে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। হাজার হাজার বছর হিমায়িত থাকার পরও কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যামথের এমন কোষ দরকার – যার অনুসন্ধান করছেন তারা।

এছাড়া ইউকার যে সব স্বজনকে হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া গেছে, তাদেরও তল্লাসি করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এ অভিযান কবে সফল হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি তারা। তবে তারা আশা করছেন। সূত্র: পার্সটুডে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায় হাইকোর্টে ১০ বছর বাড়িয়ে দিল বিজ্ঞ আদালত। এ মামলার আপিলের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার বিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করে দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল আবেদনে তার খালাস চেয়েছেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন চেয়েছেন। কিন্তু আদালত রায়ে অন্যান্য আসামিদের সাথে একই সমান সাজার রায় দিলেন।

এর আগে এদিন দুপুরে এ মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তিতে সময় বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ। ফলে আগে নির্ধারণ করে দেয়া ৩১ অক্টোবর সময়ের মধ্যেই আপিল শুনানি শেষ করতে হচ্ছে। এছাড়া এ মামলায় অর্থের উৎস স্পষ্ট করতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়ে খালেদা জিয়ার যে আবেদনটি হাইকোর্টে নথিভুক্ত রাখা হয়েছে, সেটিও একদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয় আদেশে।

কিন্তু আপিল বিভাগের এ আদেশের পর বিকালে শুনানি শেষ করে রায়ের জন্য আজ (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। সোমবার আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন ও ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিকালে খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে এবং দণ্ড বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের করা রিভিশন আবেদনের রায় ঘোষণা হবে মঙ্গলবার (আজ)। বিকালে এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত এ দিন ধার্য করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। ২৮ মার্চ খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের করা আবেদনে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও খালেদা জিয়াকে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তবে আদালত বলে দেন, রুলের ওপর শুনানি হবে খালেদা জিয়ার আপিলের সঙ্গে। আদালত আদেশে বলেন, দুদক আইনে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের রিভিশন বা আপিল দুদক করতে পারে কি না, সে বিষয়টি আলোচনা ও ব্যাখ্যার দাবি রাখে। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত। ১২ জুলাই আপিল ও রুল শুনানি শুরু হয়।

ডেস্ক নিউজঃ  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও তাদেরকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ নিয়ে পৃথক দুটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড হলো। এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ৫ বছরের সাজা দেয় একই আদালত।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে মুন্না ও মনিরকে আদালতে হাজির করা হয়। আর হারিছ চৌধুরী বিচারের শুরু থেকেই পলাতক। এর বাইরে খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য ছিলো। তবে তা নির্ভর করছিলো আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের উপর। কারাবন্দি আসামির অনুপস্থিতিতে চ্যারিটেবল মামলার বিচার চলবে-আদালতের এমন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। শুনানি নিয়ে ওই আপিলের ওপর আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ। সেখানে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকায় আজ রায় ঘোষণা করতে কোনো আইনি বাধার মুখে পড়তে হয়নি।
গত ১৬ অক্টোবর পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান চ্যারিটেবল মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করে দেন।ইত্তেফাক

প্রিতম পাল শ্রীমঙ্গল থেকেঃ আলিয়াছড়া চার্চটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্টিত হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আলিয়াছড়া পুঞ্জির প্রেসবিটারিয়ান চার্চ মন্ডলীর ৫০ বছর পুর্তি উদযাপন করা হয়েছে। রোববার সকালে চার্চে এই ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠান ও ফলক উন্মোচন করা হয়।

চার্চের ডিকন আরন মানার এর সঞ্চালনায় ও শ্রীমঙ্গল বড়লেখা প্রেসবিটারিয়ান চার্চের মডারেটর রেভাঃ এব্রিসন প্রতাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের মেঘালয়ের জৈয়ন্তিয়া প্রেসবিটারিয়ান এর রেভা: ড. জে এফ জরুয়া।

বিশেষ অতিথি সিলেট প্রেসবিটারিয়ান সিনড এর মডারেটর যাকব কিসকু, রেভা: ডেলিনসন বারৈ, আলিয়াছড়া পুঞ্জির হেডম্যান উটিয়ান তংপের, খাসি লেখক রুস পতাম।

এসময় বিদেশী অতিথি ড. পলসহ বিভিন্ন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন প্রেসবিটারিয়ান চার্চ মন্ডলীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ডেস্কঃ বিশ্ব মানবতার মুক্তির দুত ইহ-পরকালের গোনাহগার উম্মাতের কাণ্ডারি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পথ ধরে জগতের মুসলিম সম্প্রদায় স্মরণকালের অধিক উষ্ণতা ও তাপদাহ  থাকার পরেও ছিল এবারকার হজের মৌসুমে প্রাণ চঞ্চল হজ্জ যাত্রীগণ।এরই মধ্যে প্রাণের টানে সারাবিশ্বের ১২২টি দেশ থেকে বিশ লাখেরও অধিক মুসলমান নারী-পুরুষ ছুটে আসেন পবিত্র ঐতিহাসিক ভূমিতে। ৭ জিলহজ্জ থেকে তারা মিনায় সমবেত হতে থাকেন। ৮ তারিখে হয় মরুভূমিতে প্রচন্ড বালুঝড়। মক্কা মিনা মুজদালিফা ও আরাফাতের এই ১৬ কিলোমিটার মরুঝড়ে প্রচন্ডভাবে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সকল বাধা ছিন্ন করে, হৃদয়ের গহীন কন্দরে প্রিয় আকা নবীয়ে দু’জাহান এর দেখানো রাহে মহান সৃষ্টি ও পালন কর্তা রাব্বুল আলামিনের প্রতি কঠিন ভালোবাসায় অদম্য লাখো হজ পালনার্থী প্রেমিক বান্দা-বান্দীরা ছুটে আসেন আরাফাতের ময়দানে।

মানব জাতির আদি পিতা ও মাতা হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহাস সালাম-এর স্মৃতিবিজড়িত আরাফাতের ময়দানে গতকাল ছিল লাখো আদম সন্তানের ভিড়। পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত থেকে যারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে মিশে ছিলেন মানবতার সর্বপ্রাচীন ও তাৎপর্যময় এই মিলন মেলায়। হজ মানেই আরাফাত- একথা বলেছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের।এর পাশাপাশি মক্কা-মিনা-মুজদালিফা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম, হজরত হাজেরা আলাইহাস সালাম, হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর জীবন স্মৃতির সাথে জড়িত। হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হজ সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ রূপ ও চূড়ান্ত তাৎপর্য লাভ করে সাইয়্যিদুল মুরসালিন হজরত মুহাম্মদ সা.-এর যুগে। আজ থেকে ১৪২৯ বছর আগে ৯ জিলহজ শুক্রবার বিদায় হজ পালনের মাধ্যমে বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য রেখে যান আজকের এই মহান হজ্জ কার্যক্রম। তার পবিত্র পদরেখা অনুসরণেই শুরু হয় হজ্জের কাজ। ৭ তারিখ মক্কায় খুতবা, ৮ তারিখ মিনায় এসে ৬ ওয়াক্ত নামাজ তাঁবুতে পড়া, ৯ তারিখ আরাফায় অবস্থান করা, দিবাগত রাত মুজদালিফায় অবস্থান, ১০ তারিখ কঙ্কর নিক্ষেপ শুরু এসবই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার নির্দেশিত হজ কার্য।

তওহীদ ও রেসালতে বিশ্বাসী বিশ্ব নবীর উম্মতরা ছুটে এসেছিলেন আরাফাতের মাঠে। কণ্ঠে তাদের একই ধ্বনি, পরনে একই কাপড়, মনে একই ভাবনা, চোখে একই স্বপ্ন। আল্লাহর দয়া, ক্ষমা, করুণা ও মুক্তির আশায় মানব জাতির অন্তর নিংড়ানো আওয়াজই যেন ভাসছিল গতকালের আরাফাত প্রান্তরে। হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি উপস্থিত। তোমার কোন শরীক নেই। নিশ্চয় সকল প্রসংশা, সকল নেয়ামত ও সকল সাম্রাজ্য শুধুই তোমার। তোমার কোন শরীক নেই।
এভাবেই লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দানে বিশ লক্ষাধিক হাজীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল পবিত্র হজের প্রধান কার্যক্রম ওকুফে আরাফা। গতকাল সউদী তারিখ ৯ জিলহজ দুপুরে হজের নিয়মানুযায়ী মসজিদে নামিরায় পবিত্র হজের খুতবা প্রদান করেন পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম শায়েখ হোসাইন বিন আবদুল আজিজ আলুশ শায়েখ। খুতবা শেষে যথারীতি এক আজান ও দুই ইকামতে পড়া হয় জোহর ও আসরের কসর নামাজ। নামাজ শেষে সূর্যাস্ত পর্যন্ত লাখো হাজী দোয়া, দুরুদ, জিকির ও মুনাজাতে রত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সাধনা করেন। সূর্য ডোবার পর তারা রওয়ানা হন মুজদালিফার পথে। সেখানে পৌঁছার পর একসাথে আদায় করেন মাগরিব ও এশা। মুজদালিফার খোলা প্রান্তরে রাত কাটিয়ে (এটি হজের একটি ওয়াজিব) তারা আজ ভোরে গিয়েছেন মিনায়। বড় জামারায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে হাজীরা কোরবানি দেবেন। মিনায় অবস্থান করে পরবর্তী দুই দিন তিনটি জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ শেষে তারা ফিরবেন মক্কা শরীফে।

এর মধ্যে তাদের করতে হবে ফরজ তওয়াফ। এরপর বিদায়ী তওয়াফ শেষে হাজীদের দেশে ফেরার পালা। যারা আগে মদীনা শরীফ যাননি, তারা হজের পরে সেখানে যাবেন।
ইমাম সাহেব তার খুতবায় বলেন, হজ হচ্ছে মানব জাতির স্বীকৃতির ঘোষণা, যেখানে তারা এক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব তথা তওহীদ ও রেসালতের স্বীকৃতি দেয়। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবন, পরিবেশ ও বিশ্বকে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভ মানুষের কর্তব্য। এক আল্লাহয় বিশ্বাসী মানুষ এভাবেই বিশ্ব শান্তির প্রত্যয় পোষণ করে। একথা মনে রাখতে হবে এবং পৃথিবীকে জানাতে হবে যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ভালোবাসার ধর্ম, অপরের কষ্ট বোঝার ধর্ম, সহানুভ‚তির ধর্ম, উদারতার ধর্ম, মানবতার ধর্ম। মুসলমান সেই ব্যক্তি যার কথা কাজ ও আচরণে কোনো মানুষ কষ্ট পায় না। এবারকার আরাফাতের খুৎবা বিশ্ব মিডিয়ায় সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সউদী কর্তৃপক্ষ যে থিম বেছে নেন সেটি ছিলো ‘মানবতা’। সবশেষে ইমাম সাহেব বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি ও সুন্দর সহাবস্থান কামনা করে দোয়া ও রহমত বরকতের বাণীর মাধ্যমে  পবিত্র খুতবা শেষ করেন। মহানবীর প্রদর্শিত পথ ধরে হাজার বছর ধরে চলছে হজ্জের চেতনা যা কেয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে ইনশা আল্লাহ!

বেনাপোল প্র‌তি‌নি‌ধি: অবৈধপ‌থে ভার‌তে পা‌ড়ি দেওয়ার ১৩ বছর পর বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া শাহাজান আলী (৩০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশ শাহাজানকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়। এর আগে গত ১৩ জুলাই সকালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আইনে ভারত থেকে তাকে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু তার ঠিকানা সঠিক না থাকায় এতোদিন বাড়িতে পৌঁছানোর সুযোগ হয়নি। শাহাজান রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজ উদ্দিন জানান, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শাজাহান। তিনি নিজের অজান্তে ১৩ বছর আগে ভারত সীমান্তে ঢুকে পড়েন। এ সময় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ তাকে আটক করে জঙ্গি ভেবে জেলে পাঠায়। এর ১৩ বছর আগে তিনি বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়।

বাড়ির সবাই জানতো এতোদিনে তিনি মারা গেছেন। গত পাঁচদিন আগে ভারত থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তিনি অগোছালো ভাবে দু’একটা কথা বলতে পারেন। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিলো না।

এছাড়া কাগজপত্রেও তার ঠিকানা সঠিক ছিলো না। অবশেষে তার চুল, দাঁড়ি কাটিয়ে বিভিন্ন থানাতে ছবি পাঠানো হয়। পরে অনেক চেষ্টায় তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

স্টাফ রিপোর্টারঃচুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের কেউন্দা গ্রামের মীর নূর আহাম্মদ ওরফে সিরাজ মিয়ার পুত্র মামুন মিয়া (১৬) কে হত্যার ঘটনায় তার বাবা নিরীহ কৃষক মীর নূর আহম্মদ বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সম্প্রতি মামলার বিবরণে জানা যায়, কিশোর মামুন হত্যার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক ৮ আসামীকে এখনও ধরতে পারেনি। মামুন হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত পলাতক ৮ আসামীরা হলেন- উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের কেউন্দা গ্রামের মৃত আঃ নূর ওরফে কনা মিয়ার পুত্র প্রধান আসামী সবুজ মিয়া (৩৫), মৃত মিছির উদ্দিনের পুত্র ফজলু মিয়া (৪০), মৃত আব্দুর রুশনের পুত্র দুলাল মিয়া (৪০), মৃত আঃ রেজ্জাকের পুত্র ফজলে আহাম্মদ ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬৭), মৃত আঃ মতিনের পুত্র আরজু মিয়া (৫০), মৃত জহুর হোসেনের পুত্র ভিংরাজ মিয়া (৪২), মৃত আঃ রেজ্জাকের মেয়ে মোছাঃ রাজিয়া বেগম (৬৫), শাইলগাছ গ্রামের মৃত আঃ মন্নাফের পুত্র নূরুল হক (৪৫)।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৪ জুলাই সোমবার সকাল অনুমান ৮টায় কেউন্দা গ্রামের ছুরুক মিয়ার পুকুর পাড় থেকে কিশোর মামুন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে চুনারুঘাট থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে মামুন মিয়ার পিতা নূর আহম্মদ ওরফে সিরাজ মিয়া ওই দিন রাতে ১৬ জনকে আসামী করে চুনারুঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার জি.আর মামলা নং- ৩৭, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৩০ তৎসহ ৩০২/২০১/৩৪ দঃ বিঃ।

মামুন মিয়া হত্যার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও পুলিশ পলাতক ৮ আসামীকে গ্রেফতার করতে পারে নি ? এ নিয়ে মামলার বাদী নূর আহম্মদ প্রতিদিনই হবিগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে পলাতক ৭ আসামীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি ডিবি শাহ আলমকে তাগিদ দিলেও এখন পর্যন্ত ৭ পলাতক আসামী ধরা ছোয়ার বাহিরে।

এ নিয়ে কেউন্দা এলাকার সাধারণ মানুষের জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ? নিহত মামুন মিয়ার পরিবারের কান্নার হাহাজারি এখন পর্যন্তও থেমে নেই। মামলার বাদী মীর নূর আহাম্মদ ও তার পরিবার পলাতক আসামীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন।

নিহত মামুন মিয়ার পিতা অসহায় দরিদ্র কৃষিক মীর নূর আহাম্মদ তার পুত্র হত্যার সুবিচার পাওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২২জুন,সানিউর রহমান তালুকদার,নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ক্যান্সারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬ বছর পূর্বে ইউপি সদস্য আব্দুল হক পঞ্চাশ বৎসর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি হওয়ায় আব্দুল হকের কবরে দেখা দেয় ভাঙ্গন।  এতে করে বেড়িয়ে আসে ইউপি সদস্যের অক্ষত মৃতদেহ।

অলৌকিক হলেও সত্য ৬ বছর পরও মরদেহ রয়েছে অক্ষত।  আব্দুল হকের অক্ষত মরদেহ এক নজর দেখতে কবরের পাশে ভীড় জমান স্থানীয় লোকজন।  এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্রজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে ৬ বছর পূর্বে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন ইউপি সদস্য আব্দুল হক।  পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত্যুর প্রায় ৬ বছর পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির পানিতে কবরে ভাঙ্গন দেখা দিলে আব্দুল হকের মরদেহ বেড়িয়ে আসে।  ৬ বছর পরও অক্ষত অবস্থায় মরদেহ থাকায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।  এক নজর দেখার জন্য কয়েক শতাধিক লোকজন ভীড় করেন।

পরে গতকাল সকালে স্থানীয় দুর্লভপুর মসজিদের ইমামসহ আব্দুল হকের পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া কবরস্থান ভরাট করেন।  দুর্লভপুর মসজিদের ইমাম বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত্যুর এত বছর পরও উনার লাশ অক্ষত রয়েছে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৪মে,গীতি গমন চন্দ্র রায়,পীরগঞ্জ,ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে জন্মের ১৭ বছর পর পিতৃ পরিচয় পেল পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সুমি আক্তার। বাবাকে কাছে পেয়ে অতীতকে ভুলে গিয়ে আনন্দে ভাসছে সুমীসহ তার আতœীয় স্বজনেরা।

তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে পীরগঞ্জ পৌরসভাস্থ রঘুনাথপুর গ্রামের আমিরুল্লার কন্যা শেফালী বকুল এর সহিত সাটিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের বিবাহ হয়। বিবাহের তিন বছর পর শেফালীর কোল জুড়ে আসে শিশু সন্তান সুমি আক্তার। আর এর পরেই তাদের সংসারে নেমে আসে অশান্তি। এক পর্যায়ে সুমির বয়স যখন ৬ মাস তখনই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তারপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে মানুষ করার যুদ্ধ চলতে থাকে শেফালীর।

বর্তমানে সুমি আক্তার পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। এতদিন পিতৃ পরিচয় না থাকায় সুমি আক্তার মানবাধিকার কর্মী নাহিদ পারভীন রিপার সহযোগীতায় তার বাবা শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্তান হিসেবে পারিবারিক সকল সম্পর্ক ও দায়-দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়।

এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি নিরসনের জন্য পীরগঞ্জ থানার ওসি আমিরুজ্জামানের উপর দায়িত্ব অর্পন করেন। ওসি আমিরুজ্জামানের প্রচেষ্টায় গত শনিবার বিকেলে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে শরিফুলের কন্যা সুমি আক্তারকে নিজ জন্মদাতা মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন তার পিতা শরিফুল ইসলাম। তাই এখন আনন্দে ভাসছে সুমির পরিবার। সুমি আক্তার জানায়, আগে আমি আমার পিতৃ পরিচয় দিতে পারতাম না কিন্তুু এখন থেকে পারবো। তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ ও ওসি আমিরুজ্জামান সাহেবের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, মানবিক বিবেচনায় উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তার বাবার হাতে সুমিকে তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, সুমি আক্তার তার পিতৃ পরিচয় পেয়েছে এবং মেয়ে হিসেবে সকল প্রকার অধিকার ও ভরন পোষন পাবে।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০১মে,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি:  সিলেটের জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ অবৈধ হলেও তিনি এ পদে বহাল রয়েছেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা টিম অধ্যক্ষের নিয়োগ অবৈধ বলে প্রতিবেদন দেয় এবং নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকে এমপিও বাবদ উত্তোলিত সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে৷

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নির্দেশনাটি ধামাচাপা দিয়ে অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকছেন মফিজুর রহমান। গত ১৮ বছরে মাত্র একবারের অভ্যন্তরীন অডিটে নানা আর্থিক অনিয়ম ও কেলেংকারির চিত্র ফুটে উঠে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগ অনুসন্ধানে যানা জানা যায় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন লোকমান হোসেন।

তিনি কর্মরত থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় ভুয়া নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুলাই মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী অধ্যক্ষ পদে অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বৈধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর পুনরায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এ নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী নিজেই দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান দেখালেও ২০০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি এইচএসসি ও বিকম তৃতীয় শ্রেণী এবং মাস্টার্স পূর্ব ভাগে তৃতীয় শ্রেণী ডিগ্রীধারী।

অর্থাৎ তার একাধিক তৃতীয় বিভাগ আছে। নিয়োগ কালে ভুয়া তথ্য প্রদান করেছেন এবং কাম্য অভিজ্ঞতা না থাকায় মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ প্রতিবেদনের জবাব দাখিলের পর ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্রডশিট জবাব অনুমোদনে অনেক গুলো সিদ্ধান্ত প্রদান করে। ব্রডশিট জবাবে দেখা যায়, অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় উত্তোলিত সমুদয় বেতন ভাতার সরকারি অংশের অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমেন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়।

এমনকি অর্থ জমাদানের চালানের সত্যায়িত ছায়ালিপি পত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। ব্রডশিটে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান চৌধুরী তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজে যোগদানের পর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ থেকে অতিরিক্ত উত্তোলিত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দানের নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
এদিকে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারীর চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ১৮ বছর ধরে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করলেও তার মেয়াদকালে কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট হয়েছে মাত্র ১বার। অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ কলেজের গভর্নিং বডিকে ব্যবহার করে এসব অনিয়ম করে যাচ্ছেন। সূত্র জানায় ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়ে নিয়োগ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মরহুম রশিদ হেলালী অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু অধ্যক্ষের সহোদর ও রাষ্ট্রপতির তৎকালীন প্রেস সচিব মোখলেছুর রহমান চৌধুরীর সুবাদে তিনি এ যাত্রায় পার পেয়ে যান।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমানের নিয়োগ বিধি সম্মত নয় মর্মে তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রাপ্তির পর তারা সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী এবং অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে তারা এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি মাস্টার আব্দুর রহিম জানান কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির আগামী সভায় আলোচনা হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী এ মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করার কথা স্বীকার করলেও এসব আপত্তি পরবর্তীতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান। তবে নিস্পত্তির কোন ডকুমেন্ট দেখাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুক আহমদ জানান অধ্যক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত বেতনের টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফেরত দানের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ উপেক্ষা করে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বহাল তবিয়তে আছেন।

“ফ্রান্সে বসবাসরত সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্যারিসে ‘এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সাবেক স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ফ্রান্স’ গঠিত, সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমা দাস”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩০জানুয়ারী,প্যারিস,ফ্রান্সঃ     বাংলাদেশ এর প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ সিলেট এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’র ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সে বসবাসরত সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্যারিসে ‘এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সাবেক স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ফ্রান্স’ গঠিত হয়েছে। প্যারিসের গার দ্যু নর্দে এক মতবিনিময় সভায় সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সাবেক ছাত্র আলী আশরাফ মাসুমকে সভাপতি, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদকে সাধারণ সম্পাদক ও সুমা দাসকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ৩১সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানে এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ছাত্র আফসার উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আবু তাহিরের পরিচালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন আলী আশরাফ মাসুম, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, খালেদ আহমদ, মাহবুব আহমদ, সালাহ উদ্দিন, সুমা দাস ,শাহ সুহেল, ফাহিম বদরুল হাসান, আশরাফ হোসেন মাসুদ সহ এমসি কলেজের সাবেক ছাত্রছাত্রীরা।

এসোসিয়েশনের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়, সেটি হচ্ছেঃ

সভাপতি- আশরাফ আলী মাসুম, সহ-সভাপতি- খালেদ আহমদ, বদরুজ্জামান, মাহবুব আহমদ, আবু সাঈদ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ আবদুল হামিদ , সহ-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমদ, বুলবুল আহমেদ, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ইকবাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমা দাস, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ সোহেল আহমদ, অর্থ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী, সহ-অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহিনুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক সাইদুর রাহমান, সহ-প্রচার সৈয়দ অলিউর রাহমান , অফিস সম্পাদক ফাহিম বদরুল হাসান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশরাফ হোসেন মাসুদ, সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা মহিনুল ইসলাম মুহিত, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রাজু আহমদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জয় প্রকাশ দেব, ক্রীড়া সম্পাদক জাকির আহমদ শোয়াইব, মহিলা সম্পাদক এলিনা চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বদরুল ইসলাম, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শালিক উদ্দিন।

কার্যকরী কমিটির সদস্য আবু তাহির, সামসুল ইসলাম ,সুশীল বণিক ,জাহিদুল ইসলাম ,আক্তার হোসেন ,নাজমুল হোসেন ,নজরুল ইসলাম মাছুম। এবং উপদেষ্টা হিসাবে আফসার উদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ সাজিদুল আলমকে নির্বাচিত করা হয়।

কমিটি গঠনের পর সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৮ জুলাই এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ১২৫ বছর পূর্তি প্যারিসে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc