Tuesday 20th of October 2020 06:55:04 AM

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চারজনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ভূবন চন্দ্র হালদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।
এছাড়া এ মামলায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ১০ আসামির মধ্যে মুসা পলাতক এবং মিন্নি জামিনে। মুসা ছাড়া বাকিরা রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের ভিড়ে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। এ মামলায় মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য,চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা-ের পরপর নিহত রিফাতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বায়েজিদ সামাজিক যোগাযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেই স্ট্যাটাসের বাস্তবতা অনেকটা প্রমাণিত হয়েছে মামলার রায়ে। এজন্য তার সেই স্ট্যাটাসটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে বায়েজিদ লিখেন, ‘রিফাত শরীফের হত্যার ভিডিওটাতে দেশবাসী যা দেখছে সেটাতে রিফাত ভাইয়ের বউ মিন্নি নির্দোষ। কিন্তু ভেতরের খবরটা সবারই অজানা! এই মিন্নি গত ঘটনার দিন সকাল ১০টায় রিফাত শরীফকে বরগুনা সরকারি কলেজে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুনি নয়নের সঙ্গে নিজের স্বামীকে হত্যা করে।’ বায়েজিদ আরও লিখেন, ‘প্রথমে কলেজের ভেতরে বসে রিফাত শরীফকে নয়ন, রিফাত ফরাজি, রিশাদ ফরাজি ও অন্যান্য সহযোগীরা লাঠি ও চটপটি ভ্যানের লম্বা চামচ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তখন মিন্নি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিল। মারামারির এক পর্যায় মারতে মারতে রিফাত শরীফকে কলেজ গেটের সামনে নিয়ে যায় এবং চলন্ত রাস্তার মধ্যে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তখন মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর যে নাটকটা করেছে সেটার কারণে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাবলিসিটি পেয়ে যায়। কিন্তু পাবলিসিটি দেয়া মানুষগুলো জানে না এই মিন্নি খুনি নয়নের সাথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’ বায়েজিদ লিখেছেন, ‘আপনারা খেয়াল করেছেন চাপাতি দিয়ে রিফাতকে কোপানোর সময় মিন্নিকে একটা আঘাতও করেনি সন্ত্রাসীরা! কারণ নয়নের সঙ্গে মিন্নি পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। দুজনে এক সাথে ইয়াবা সেবন করত। বলে রাখা ভালো নয়ন বরগুনা জেলার মাদক সিন্ডিকেটর মূল নায়ক। যার নামে বরগুনা সদর থানায় কমপক্ষে ২০টা মামলা আছে। কলেজের ভেতরে মারামারি হওয়া আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফ মিন্নিকে নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে চাইলে মিন্নি বিভিন্ন বাহানায় রিফাতকে আটকে রেখেছিল। রিফাত ভাই যদি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করত তাহলে হয়তো বেঁচে যেত। হায়রে ভালোবাসার মেয়েটাকে ভাই ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দা, চাপাতির যন্ত্রণা সহ্য করেছে। শেষে রক্তাক্ত রিফাত ঘাড় হতে গলা পর্যন্ত গুরুতর জখম নিয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালে যায় এবং মিন্নি বরগুনা সদর হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে যায়।’ আলোচিত এ মামলার রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই মিন্নিকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। ফাঁসির দ-প্রাপ্ত সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা ০১ মিনিটেই কার্যকর হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি। কারা অধিদফতরের তথ্যে জানা গেছে। এ নিয়ে ছয় অপরাধীর রায় কার্যকর হল।

এর আগে বিকেলে ফাঁসি কার্যকরের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তার আগে বিকেলে ফাঁসির মঞ্চে ইট-বালির বস্তা ঝুলিয়ে মহড়া সম্পন্ন করেন জল্লাদরা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, সব প্রস্তুতি রয়েছে। রাত ১২টার পরপরই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

এর আগে শুক্রবার রাতে মাজেদের পরিবারের পাঁচজন সদস্য তার সঙ্গে ৩০ মিনিট সাক্ষাৎ করেন।

গত বুধবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন মাজেদ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বৃহস্পতিবার তার আবেদন নাকচ করে দেন। ওই দিনই তার মৃত্যু পরোয়ানার ফাইল রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই ফাইল কারা কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এরপর কারাবিধি ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে আ’লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলির মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুস্তম আলী এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রায়ে ২৫ জনের যাবজ্জীবন, ১২ জনের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী গোলাম হাসনায়েন ও আহাদ বাবু বিষয়টি জানান।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- মাহবুবুর রহমান পলাশ, শামছুল আলম, মোখলেছুর রহমান বাবলু, একেএম আখতারুজ্জামান, জাকারিয়া পিন্টু, মোস্তাফা নুরে আলম শ্যামল, শহিদুল ইসলাম অটল, শামসুজ্জামান ও মুজিবুর রহমান। গত সোমবার পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এ মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপির ৩০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক রোস্তম আলী এ মামলার রায়ের জন্য  বুধবার দিন ধার্য করেন। এদিকে মামলার রায়ের আগে পলাতকদের মধ্যে হুকুমদাতাসহ আরও দু’জন গত মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করেন। তারা হলেন- ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু এবং বিএনপি নেতা আবদুল হাকিম টেনু। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে তিনি জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে ট্রেনে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুরের দলীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের মুহূর্তে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে আবারও ট্রেনটিতে হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় পরবর্তীতে দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার ওই সময়কার ওসি বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুনভাবে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়।

এদিকে মামলা করার পর ওই বছর কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। কিন্তু আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য তা সিআইডিতে পাঠান। পরে তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

“৪৯ জনের মধ্যে ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা,কাউকে খালাস দেওয়া  হয়নি”

ডেস্ক নিউজঃ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিস চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।জনকণ্ঠ

এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীনএই রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর আগে সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকান্ডের বিচার বিচারিক আদালতে শেষ হলো। শেষ হলো দীর্ঘ অপেক্ষারও।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সে সময়ের মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন মারা যান । আহত হন কয়েক শ জন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে তাঁর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। শুরু থেকেই নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে নানা চেষ্টা করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তাঁর ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ-সংক্রান্ত মামলার দুটির বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসে এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাঁরা জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। আহত ব্যক্তিরাসহ নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

বিএনপি সরকারের সাজানো তদন্তঃ

গ্রেনেড হামলার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে। পরদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। শুরু থেকেই তদন্তের গতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে তৎকালীন সরকার। শৈবাল সাহা পার্থ নামের এক তরুণকে আটক করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। তদন্তের নামে পুরো ঘটনাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয় সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে।

ঘটনার গুরুত্ব নষ্ট করতে হামলার শিকার আওয়ামী লীগের দিকেই সন্দেহের আঙুল তুলেছিল বিএনপি। ওই সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও নেতা তাঁদের বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রচার চালান। হামলার সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলেও তখন একটা মহল থেকে প্রচারণা চালানো হয়।

ঘটনা তদন্তে ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে চারদলীয় জোট সরকার। সেই কমিশনও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অপপ্রচারের পথ ধরেই চলেছিল। ১ মাস ১০ দিনের মাথায় কমিশন সরকারের কাছে ১৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়ে বলে, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে, এই হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত।

জজ মিয়া উপাখ্যানঃ

ঘটনার ১০ মাসের মাথায় ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীরকোট গ্রামের বাড়ি থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে সিআইডি আটক করে। ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে জজ মিয়ার কাছ থেকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে এবং তদন্তের নামে ‘আষাঢ়ে গল্প’ প্রচার করেন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি আবদুর রশিদ ও তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন। সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনিও সাজানো ছকে কথিত তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যান। এই গল্প সাজানোর ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া সেই সাজানো জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলেছিলেন, তিনি আগে কখনো গ্রেনেড দেখেননি; গ্রেনেড ও বোমার মধ্যে পার্থক্য তিনি জানেন না। পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে তিনি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন। আর বড় ভাইয়েরা হচ্ছেন সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ, মুকুল প্রমুখ।

এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই সিআইডি তাঁর পরিবারকে মাসে মাসে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছে। জজ মিয়াকে গ্রেনেড হামলা মামলায় রাজসাক্ষী করতে সিআইডির প্রস্তাবের কথাও ফাঁস করে দেন তিনি। সত্য উদ্ঘাটনের শুরু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এ মামলা তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তাতে বেরিয়ে আসে, বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সহযোগিতায় গোপন জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) জঙ্গিরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই হামলা চালিয়েছিল।

তদন্ত শেষে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ২২ জনকে আসামি করা হয়। সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ছাড়া বাকি আসামিদের সবাই হুজি-বির জঙ্গি।

অধিকতর তদন্তের আসামিঃ

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিআইডি এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে এবং ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। তাতে আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক সাংসদ শাহ মোহাম্মদ কায়কোবাদ, খালেদা জিয়ার ভাগনে সাইফুল ইসলাম (ডিউক), এনএসআইয়ের সাবেক দুই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম ও মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, পুলিশের সাবেক তিন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বকশ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাইদ হাসান ও মো. ওবায়দুর রহমান, জোট সরকারের আমলে মামলার তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশিদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ এবং হুজি-বির ১০ জন নেতা।

আসামিদের মধ্যে পুলিশের সাবেক ছয় কর্মকর্তা, খালেদা জিয়ার ভাগনে সাইফুল ইসলাম ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান ছিলেন। আদালত রায়ের দিন ধার্য করলে ওই দিন তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত। বাবর, পিন্টুসহ ২৩ জন আসামি কারাগারে আছেন। পলাতক রয়েছেন ১৮ জন। আরেক আসামি জামায়াত নেতা মুজাহিদ, মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির অন্য মামলার রায়ে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

গ্রেনেড হামলায় সরাসরি জড়িত ও আসামি ফরিদপুরের মাহাবুব মুস্তাকিম ও আনিসুর মুরসালিন। এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ভারতের নয়াদিল্লির তিহার কারাগারে আছেন। ভারত থেকে গত সাত বছরেও এই দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি সরকার।

কারাগারে থাকা ৩১ জনঃ

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর

সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু

ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ৪. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী

এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম

জঙ্গি শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল

মাওলানা শেখ আবদুস সালাম

মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট

আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, ১০. মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু উমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব

মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির

মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ

মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে ওভি

মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর

আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল

মো. জাহাঙ্গীর আলম

হাফেজ মাওলানা আবু তাহের

হোসাইন আহমেদ তামিম

মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ

আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক

মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ,

মো. উজ্জল ওরফে রতন

হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ও আবু বক ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার

লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক

সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা

সাবেক আইজিপি শহুদুল হক

সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী

তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন

সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান

এএসপি আবদুর রশীদ

সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম

ফাঁসি কার্যকর ৩

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ

জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান

শহিদুল আলম বিপুল

পলাতক ১৮

তারেক রহমান

হারিছ চৌধুরী

মাওলানা মো. তাজউদ্দিন

মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন

আনিসুল মোরসালিম ওরফে মোরসালিন

মো. খলিল

জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর

মো. ইকবাল

লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের,

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

মো. হানিফ,

মুফতি আবদুল হাই,

রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু,

লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার

মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন

উপ-কমিশনার খান সাঈদ হাসান

পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান খান

মুফতি শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার দেবরবন্দ গ্রামে দুই কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় রাজনগর থানায় অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৪ টার দিকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের দেবরবন্দ গ্রামের মৃত হিরেন্দ্র বিশ্বাসের মেয়ে রুপনা বিশ্বাস (১৪) ও একই বাড়ির সুনীল বিশ্বাসের মেয়ে মনিকা বিশ্বাস (১৬) গতকাল সোমবার দুপুরে সুনীল বিশ্বাসের শোবার ঘরের চালের কাঠের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। রুপনা পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী ও মনিকা ২০১৭ সালে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। গতকাল সোমবার ১১ টার দিকে তাদের মায়েরা বিদুৎ বিল পরিশোধ করতে রাজনগর সদরে যান।

দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মনিকা বিশ্বাসের ছোট বোন দশম শ্রেণির ছাত্রী কনিকা বিশ্বাস পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে। এসময় সে গরু ঘরের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে দু’জনকে কাঠের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে রশি ও ওড়না কেটে লাশ দুুটি বিছানায় নামায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আত্মহত্যার আলামত সংগ্রহ করে এবং লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রেরণ করে। মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ও রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষনে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং এ ব্যাপারে অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অপর দিকে এক সাথে দুই কিশোরীর ফাঁসিতে আত্মহত্যা করা নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে এবং প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এর কারণ কি হতে পারে ?

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বায়ে অভিযুক্ত মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।

আসামিদের মধ্যে আকমল আলী তালুকদার (৭৩) ছাড়া বাকি তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন- একই উপজেলার আব্দুন নূর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া, আনিছ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়া। রায় ঘোষণার সময় আকমল আলী তালুকদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটর শেখ মুশফিক কবীর জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ৫৯ জনকে হত্যা, ছয়জনকে ধর্ষণ, ৮১টি বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৩ সাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।তাদের মধ্যে তিনজন ধর্ষণের শিকার বলে জানা গেছে।

আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,২৬জুলাইঃ হবিগঞ্জের বাহুবলে একসাথে ৪ শিশু হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি ২ জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ জনকে খালাশ দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত।

জেলার বাহুবল উপজেলায় চাঞ্চল্যকর চার শিশু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে  আজ। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান রায় ঘোষণার জন্য বুধবারের দিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় চার শিশু। তারা হলেন সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) এবং আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)। এদের মধ্যে মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাতো ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে এবং তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র।

নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা দেয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া বাদী হয়ে বাহুবল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়।

২০১৬ বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন নয় জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল ও তার দুই ছেলেসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর মধ্যে আসামি বাচ্চু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। কারাগারে আছেন আরজু মিয়া, শাহেদ, আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া। আর উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক রয়েছেন।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েত আবদাল মিয়া তালুকদার ও আব্দুল আলী বাগালের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানান পুলিশ।

হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। হবিগঞ্জ আদালতে মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

গত ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে আরও সাতজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য আজকের দিন আজকের দিন ধার্য করা হয়।

আমার সিলেট টুয়েন্টি ফোর ডটকম,১২এপ্রিল,হৃদয় দাশ শুভ,স্টাফ রিপোর্টারঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মুফুতি আব্দুল হান্নান এবং তার দুই সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি আজ বুবধার রাতে কার্যকর হবে। রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দুই কারাগারে তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল রয়েছেন কাশিমপুর হাউসিকিরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে। দেলোয়ার হোসেন রিপন রয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে।
এ দিকে গতকাল কারা কর্তৃপক্ষ তাদের স্বজনদের ডেকেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে ১২ এপ্রিলের (বুধবার) মধ্যে যে কোনো সময় দেখা করতে পারবেন। এ দিকে ফাঁসি কার্যকরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। কাশিমপুর ও সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তবে গতকালই আগাম খবরে সিলেট কারাগারে দেখা করেছেন দেলোয়ার হোসেন রিপনের বাবা-মা ও ভাইসহ স্বজনরা। সিলেট কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া বলেছেন, ফাঁসি কার্যকর করার আগে তাদেরকে ডাকা হবে।
মুফতি হান্নাননের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের বাড়ি চাঁদপুরে। আর শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়।
জল্লাদ প্রস্তুত :কাশিমপুর হাউসিকিউরিটি কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করতে রাজু ও রোমানের নেতৃত্বে ৬ জল্লাদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই ভাবে সিলেট কারাগারেও ৪ জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণভিক্ষার আবেদনে মুফতি হান্নান ও শরীফ বিপুল বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশ স্বাধীনের জন্য অবদান ও জাতির জনক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথা স্বীকার করে প্রশংসামূলক বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সাথে সাথে দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শিতা ও সফলতার কথাও বলেছেন।
পেছনের কথা :২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তত্কালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী ও জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।
২০০৮ সালে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০০৯ সালে আসামিরা আপিল করেন। বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দুই আসামি মুফতি হান্নান ও বিপুল। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। আসামিরা এ রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন জানালে গত ১৯ মার্চ তা খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ২১ মার্চ প্রকাশিত হয়। পরের দিন তিন জঙ্গির মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করে কারাগারে পাঠায় বিচারিক আদালত। মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান। গত ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পর নির্বাহী আদেশ ও জেলকোড অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

  

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc